আমার একজন গৃহশিক্ষক ছিলেন। এই কাহিনীর মূলে তিনি। তিনি আমাকে যা বলেছিলেন, তা অনেকটা এ রকম ----
রবীন্দ্রনাথ না, নোবেলটা পাইত নজরুল। কিন্তু নজরুল তো গরীব, তার উপরে মুসলমান। তাই রবীন্দ্রনাথ বৃটিশদের বুঝাইয়া নোবেলটা নিয়া নিছে। আর নজরুল যাতে নোবেল প্রাইজ না পাইতে পারে, তার জন্য নিজের নাতনীরে তার পাছে লাগাইয়া দিছিল। প্রমিলা নামের ওই নাতনী নজরুলের মাথা খাইছে। পাগল বানাইয়া ফালাইছে। তাই তো নজরুল পাগল হয়া গেল আর নোবেল পাইল রবীন্দ্রনাথ। সবই ষড়যন্ত্র, গভীর ষড়যন্ত্র। কোন মুসলমান নোবেল পাউক, এইডা কেউ চায় না।
কলেজে আসা পর্যন্ত এই গুজবটা কমপেক্ষ শ খানেক লোকের কাছে শুনছি।
সর্বশেষ এক বই বিক্রেতার সাথে তর্ক হয়া গেল। উনি নজরুলের বিরাট ভক্ত। উনার মতে নজরুলের কবিতা চুরি কইরা ছাপাইয়া রবীন্দ্রনাথ কবি হইছে। নজরুল যাতে এই কথা ফাঁস কইরা না দিতে পারে, তার জন্য তারে পাগল বানাইছে রবীন্দ্রনাথ।
অবশেষে আমি নিজেই বাইর করছি হিসাবটা।
রবীন্দ্রনাথের জন্ম ১৮৬১ সালে। নোবেল পান ১৯১৩ সালে। নোবেল পাওয়ার সময়ে তার বয়স ছিল ৫২ বছর। অন্য দিকে নজরুলের জন্ম ১৮৯৯ সালে। রবীন্দ্রনাথ যখন নোবেল পান তখন নজরুলের বয়স মাত্র ১৪ বছর। সে সময় তিনি কবিতা লেখাও শুরু করেননি। আর নজরুল অসুস্থ হন ১৯৪২ সালে রবীন্দ্রনাথ মারা যাওয়ার ১ বছর পর। অন্য দিকে নজরুলের স্ত্রী প্রমীলার সাথে রবীন্দ্রনাথের আত্মীয়তার কোন প্রমাণও নাই। প্রমীলা রবীন্দ্রনাথের মেয়েও না, নাতনীও না। সুতরাং নজরুলের বিরুদ্ধে রবীন্দ্রনাথের ষড়যন্ত্রের যে সব গুজব শোনা যায়, তা পুরোপুরি ভুয়া।
তবে কেন এই সব লোকেরা এই ভুয়া জিনিস বিশ্বাস করে ? আমার কাছে মনে হয় বিষয়টা আসলে ধর্মীয় আবেগের কারণে। রবীন্দ্রনাথকে হিন্দু ধর্মের লোক মনে করে নজরুলকে মুসলমান ধর্মের প্রতিনিধি হিসেবে দাঁড় করানোর ব্যর্থ চেষ্টা করা হয়। তারা না রবীন্দ্রনাথকে জানে, না নজরুলকে জানে। তারা কোন কিছু সম্পর্কে খোঁজ খবর না নিয়াই এক ধরণের ধারণা থেকে কথা বলে।
আসলে তো কোন লেখক বা শিল্পী কেউ কারো বিকল্প হতে পারে না, সবাই যার যার মহিমায় জ্বাজ্জ্বল্যমান।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
কাজী নজরুল ইসলাম
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই মে, ২০০৯ দুপুর ১:১৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



