somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

তোমার জন্য খেলা, আমার জন্য জ্বালা

২০ শে মে, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:৩৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

০১. ছোটবেলার ইশপের গল্প :
সেই ছোট বেলায় শোনায় ইশপের গল্প মনে পড়ে গেল। এক জলাশয়ে অনেক ব্যাঙ বাস করত। একবার কতগুলো বালক খেলাচ্ছলে সেই জলাশয়ে পাথর নিক্ষেপ করতে লাগল। বালকদের ছোঁড়া পাথরে অনেক ব্যাঙ মারা গেল, অনেক হল আহত। অবশেষে এক সাহসী ব্যাঙ উঠে এল কিনারে। বলল, তোমরা আমাদের গায়ে পাথর ছুঁড়ে মারছ কেন ?
বালকেরা বলল, এটা তো আমাদের কাছে খেলা।
ব্যাঙ বলল, ওটা তোমাদের জন্য খেলা হতে পারে। কিন্তু আমাদের জন্য মরণ।

০২. পরিবারেই প্রথম শুরু :
ভাই ও বোন খেতে বসেছে। ভাইটা ডানপিটে। বেয়াদব। তারপরও তার পাতে বড় মাছ, দুধ, ডিম সবই যায়। বোনটার পাতেও যায়, তবে সেটা পরিমাণে কম। বোনটা মনে করে এটাই নিয়ম। মা শেখায় তাকে এ নিয়ম।
ভাইটাও মনে করে, সে ছেলে বলে তার জন্য এই বাড়তি আদর যত্ন। শুরু হল বৈষম্য । মনের ভেতর জন্ম নিল এক নিপীড়নের ইতিহাস।

০৩. পাড়ার মোড় ও স্কুলের ফটক :
পাড়ার মোড়ে দাঁড়িয়ে টাংকি মারাটা কোন খারাপ কাজ না। একটা বয়সে এটা করা যেন অধিকার। আরও একটু লায়েক হওয়ার পর সেটা চলে যায় মেয়েদের স্কুলের ফটকে। দু হাতে দুটি গোলাপ ফুল আর চোখে সানগ্লাস গুঁজে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে রোমিও। মেয়েদের স্কুল শুরুর সময় ও ছুটির সময় এই দৃশ্য সবাই দেখে। ইনিয়ে বিনিয়ে প্রেম নিবেদন শুরু হলেও শেষটায় এটাই হয়ে ওঠে নিপীড়নের প্রধান কেন্দ্র। এই ছোট ঘটনা থেকে ঘটে যায় কত বড় ঘটনা। যদি রোমিওটি হয় কোন প্রভাবশালীর সন্তান, তবে মেয়েটির মুখে এসিড পড়বে না তার গ্যারান্টি নেই। তুলে নিয়ে গিয়ে নগ্ন ছবি তোলা কিংবা শ্লীলতাহানি সব কিছু্ই ঘটতে পারে।

০৪. কলেজের রাজনীতি :
কলেজে এসে অনেকের মনে নতুন করে পাখা গজায়। তারা ভাবে তাদের যা কিছু সম্ভব সবই করে নিতে হবে। যদি সেটা হয় রাজনীতি তবে তো কলেজটাই তার। কত মেয়ে এই রাজনীতির চাপে পড়ে কলেজ ছেড়ে চলে যায় তার খবর কে রাখে ? নিঃসন্দেহে কলেজের চেয়ে দেশ বড়।

০৫. বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলন খেলা :
এখন দ্বিমুখী আক্রমণে থাকতে হয়। একজন ক্যাডার ভাই, আরেক জন চতুর শিক্ষক। তাদের দাবি না মানলে তো পড়াশোনার পাট চুকাতে হবে। সুতরাং হয় দাবি মেনে নাও, নচেৎ চলে যাও স্বপ্ন জলাঞ্জলি দিয়ে। যে যেভাবে পারছে ম্যানেজ করছে। যারা পারছে না বা শেষ পর্যন্ত সহ্য করা যাচ্ছে না, যাচ্ছে আন্দোলনে।
অভিযোগ উঠছে, প্রমাণ হচ্ছে কিন্তু কাজের কাজ হচ্ছে না কিছুই। শিক্ষক বা ক্যাডার কারোই কিছু হয় না। কেবল আন্দোলন চলে।

০৬. বস বনাম সেক্রেটারি - ইঁদুর বিড়াল খেলা :
বসেরা ধরেই নেয় সেক্রেটারি তার সেক্রেট সব কাজের সঙ্গী। সুতরাং আবারও ম্যানেজ করার খেলা। হয় ম্যানেজ কর, নয় ম্যানেজ হও। নচেৎ পাট চুকাও তোমার। নিয়মের মধ্যে থাকতে না পারলে এই অফিস তোমার নয়।

০৭. সেই পুরোনো রাস্তা, সেই পুরোনো হাত :
সেই পুরোনো রাস্তা। সেই পুরোনো বাস। সেই পুরোনো গাদাগাদি। সেই পুরোনো হাত। নিশপিশে হাত। কখন কোথায় হামলে পড়বে কোন ঠিক নেই। এই হাতের কবল থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে দাঁড়িয়ে থাক ঘণ্টার পর ঘণ্টা বাসের জন্য। কখন ভীড় কমবে বাসে, অথবা সিএনজি অটো রিক্সা ধরে বাড়ি ফেরা।

০৮. অবশেষে আইন এবং তারপর :

উচ্চ আদালত যৌন নিপীড়নের জন্য কিছু নীতিমালা দিয়েছে। সেটা নিয়ে কী হাসাহাসি ? এই দেশে এর চেয়ে বেশি মস্করা হয় নি কখনও।
বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক অনেক পণ্ডিত আছেন, মঞ্জুরি কমিশন আছে এবং সবশেষে আছে সংসদ। তারা কেউ কোন নীতিমালা করতে পারেনি। তারা একমতও হতে পারেনি।
একদিন আইন হবে সংসদে। সেই আইনে কোন কোন রোমিও আটকাও পড়বে। কিন্তু যে সমাজে সব কিছুই কেড়ে নেওয়ার বিধান, সেই সমাজে নিপীড়ক কি কমবে ? এখানে জমি দখল দিতে হয়, টেন্ডার দখল করতে হয়, চাকুরি দখল করতে হয়, প্রতিপত্তি দখল করতে হয়, নেতৃত্ব দখল করতে হয়, পুরস্কার দখল করতে হয়, রাজনীতি দখল করতে হয়, তবে কেন নারী নয় ? সব কিছু পাওয়ার জন্য জবরদস্তি করার এই যে সংস্কৃতি, এই সংস্কৃতিই বানাচ্ছে একেক জন নিপীড়ক। মনের কোণে বাসা বাঁধা সেই জবরদস্তি করার মানসিকতা থেকেই নারীর প্রতিও হিংস্র থাবা মেলে আসছে নিপীড়ক রোমিও।
যে সমাজ এই নিপীড়ক বানাচ্ছে, সে সমাজ বদলাতে হলে আমাদের আরও সংগ্রাম করতে হবে। বন্ধ করতে হবে সকল প্রকার জবরদস্তি। প্রতিদিন, প্রতি মুহূর্তে। এ এক দীর্ঘ পদযাত্রা।

সর্বশেষ এডিট : ২০ শে মে, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:৫০
১৬টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×