somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একদিকে ক্রসফায়ার, অন্যদিকে দণ্ড মওকুফ - বিচার বিভাগের দরকার কী ?

২৩ শে জুন, ২০০৯ দুপুর ১:০৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার আগে ক্রসফায়ার মানে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, এইডা বন্ধ করা দরকার ইত্যাদি ইত্যাদি গালগপপো ফেঁদেছেন অনেক আওয়ামীপন্থী সুশীলরা। টেলিভিশনে টক শোগুলোতে ক্রসফায়ারের বিরুদ্ধে কত কত যুক্তির বাহার।
বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রপ্রতিমন্ত্রীও ক্রসফায়ারের বিপক্ষে কত কত বক্তব্য রেখেছেন। কিন্তু তারপরও ক্রসফায়ার চলছে। এমনকি ক্রসফায়ারের মাধ্যমে ঢাকা পলিটেকনিক্যালের ২ ছাত্রকেও মেরে ফেলে সন্ত্রাসী বলে চালিয়ে দেওয়া হয়েছে।
অন্য দিকে দুর্নীতির দায়ে দণ্ডপ্রাপ্তদের কোনভাবেই আইনের হাত থেকে বাঁচাতে না পেরে তাদের জন্য রাষ্ট্রপতির অনুকম্পা চাওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আওয়ামী রাজনীতি করে বলে তাদের জন্য রাষ্ট্রের এই বিশেষ সাংবিধানিক ক্ষমতাকে ব্যবহার করা হচ্ছে।
এই সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন আইন প্রতিমন্ত্রীর নেতৃত্বে গঠিত একটি কমিটি। উনারা জানেন কারা কারা নির্দোষ এবং হয়রানির শিকার। উনারা সেই আলোকে বিচারকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়, যারা নির্দোষ, তাদের আদালতের মুখোমুখি হতে সমস্যা কোথায় ? তারা তো আর এমন কোন ব্যক্তি না যে, তাদের পক্ষে আদালত সামলানো কঠিন। একজন এডভোকেট নিয়োগ করার সামর্থ্্য তাদের নাই, তাও তো নয়। অন্যেদিকে তাদের নির্দোষ ঘোষণা করার এখতিয়ার কি এই ধরনের কোন কমিটির আছে ? আইনের চোখে এই রকম একটা কমিটি গঠন করে কাউকে নির্দোষ ঘোষণা করা যায় ? আমাদের সংবিধান কি সমর্থন করে এই রকম কোন কমিটি ?
বিচার বিভাগের বাইরে কোন বিভাগ কারো বিচার করার অধিকার রাখে না। নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগকে এই জন্যই পৃথক করা হয়েছে। স্বাধীনতার ৩৮ বছর পর কোন এক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় বিচার বিভাগ স্বাধীন হয়েছে। কিন্তু আসলে কি বিচার বিভাগ স্বাধীন ? রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহার সংক্রান্ত কমিটি এই নাম দিয়া এই ধরনের কমিটি তৈরি করে বিচার বিভাগের কাজ কি নির্বাহী বিভাগ নিজ কাঁধে তুলে নিতে পারে ? কোন প্রমাণ ছাড়াই কাউকে নির্দোষ, কাউকে বিচারের জন্য সোপর্দ করতে পারে ? তাইলে আর বিচার স্বাধীন মনে করি কেন আমরা ?
ক্রসফায়ারের নামে নির্বাহী বিভাগ আগে বিচার সেরে ফেলছে। আবার বিচার করে দণ্ড দেয়ার পরও সেই দণ্ড মওকুফ করার ব্যবস্থা করছে নির্বাহী বিভাগ। কার বিচার হবে, কার বিচার হবে না, সেটাও নির্ধারণ করে দিচ্ছে নির্বাহী বিভাগ। তারপরও আমাদের মনে করতে হবে বিচার বিভাগ স্বাধীন ?
Click This Link
একই দেশে সরকারী দলের লোকের জন্য বিচার নাই, বিরোধী দল করলে বিচারালয়ে যাওয়ার বিধান আর আম-জনতার জন্য কঠিন শাস্তি (ক্রসফায়ার) বিধান কি ন্যায়সঙ্গত ? আমাদের করের টাকায় দেশ চালিয়ে আমাদের সন্তানদের মেরে ফেলার অধিকার তাদের কে দিয়েছে ? কেবল রাষ্ট্র ক্ষমতা হাতে থাকাই কি শেষ কথা ? নৈতিকতা, আইন, সংবিধান - ইত্যাদি ইত্যাদি নানা কথা কি কেবলই গালভরা ভাষণ ?
নির্বাচনের আগে তারা একটা ইশতেহার দিয়েছিল। দেখি সেখানে কি লেখা । তাদের প্রতিশ্রুতিগুলো --- (এইগুলো হল তাদের ৫টি অগ্রাধিকারের অংশ)
২. দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা : দুর্নীতি দমন কমিশনের স্বাধীনতা নিশ্চিত করে শক্তিশালী করা হবে।দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধে বহুমুখী কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে। ক্ষমতাধরদের বার্ষিক সম্পদ বিবরণ দিতে হবে। রাষ্ট্র ও সমাজের সকল স্তরের ঘুষ, দুর্নীতি উচ্ছেদ, অনোপার্জিত আয়, ঋণখেলাপি, চাঁদাবাজি,টেন্ডারবাজি, কালোটাকা ও পেশীশক্তি প্রতিরোধ ও নির্মূলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। প্রতি দফতরে গণঅধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য নাগরিক সনদ উপস্থাপন করা হবে। সরকারি কর্মকাণ্ডের ব্যাপকভাবেকম্পিউটারায়ন করে দুর্নীতির পথ বন্ধ করা হবে।
৫. সুশাসন প্রতিষ্ঠা : ৫.১ সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ শক্ত হাতে দমন করা হবে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের ব্যবস্থা করা হবে।
৫.২ বিচার বিভাগের প্রকৃত স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা হবে। বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধ করা হবে। বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের রায় কার্যকর ও জেলখানায় চার নেতার হত্যাকাণ্ডের পুনর্বিচার সম্পন্ন
করা হবে। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের বিচারের ব্যবস্থা করা হবে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, স্বাধীন মানবাধিকার কমিশন গঠন ও ন্যায়পাল নিয়োগ করা হবে। মানবাধিকার লংঘন কঠোরভাবে বন্ধ করা হবে।


শেষ কথা :
এখন এই সরকার যা করছে, তা সুস্পষ্টভাবে তাদের নির্বাচনী অঙ্গীকারের লংঘন।
নির্বাহী বিভাগ যদি বিচারের আগেই ক্রসফায়ারের নামে বিচার করে দেয়, কমিটি বানিয়ে নির্ধারণ করে দেয় কার কার বিচার করা যাবে ও যাবে না এবং বিচারের পরে দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির শাস্তি মওকুফের ব্যবস্থা করে দেয়, তবে আর বিচার বিভাগের দরকার কী ?

বিঃদ্রঃ এই একই বিষয়ে আরেকটি পোস্ট
রাজনৈতিক মামলা ;) বেঁচে গেলেন আমলা :-* আমরা সবাই কামলা X( সামলা রে সামলা X((

সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে জুন, ২০০৯ দুপুর ১:৪৬
১৯টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিলেন মমতার দলকে?

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:২২


শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিয়েছেন মমতা ব্যানার্জিকে। কিভাবে? দুই দফায় পানিচুক্তি হতে দেননি মমতা। কংগ্রেসের মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন এবং বিজেপির Narendra Modi প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন দুবার দুজনই বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন, দুবারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×