এই মানুষটির প্রাণের মূল্য মাত্র ৫০ হাজার টাকা। পত্রিকায় তার ছবি দেখে আমি তাকিয়ে ছিলাম। নিষ্পাপ চেহারা একেই বলে। এই মেয়েটিকে তার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন মাত্র ৫০ হাজার টাকা যৌতুকের জন্য নির্যাতন করত। অবশেষে তাকে মেরেই ফেলেছে তার স্বামী নিজাম।
২০০৬ সালের ১৪ জুলাই নাজনিন আক্তার কণার বিয়ে হয় সিদ্ধিরগঞ্জের জালকুড়ি এলাকার মৃত মকবুল হোসেনের বাড়ির ভাড়াটিয়া মোবারক হোসেন আলীর ছেলে নিজামুর রহমান মিজানের। তাদের গ্রামের বাড়ি শরিয়তপুরের জাজিরা উপজেলার কুন্তারা এলাকায়। নিজাম গুলিস্থানে কাপড়ের ব্যবসা করে। ব্যবসার জন্য বিয়ের সময় নিজাম ৫০ হাজার টাকা যৌতুক নেয়। পরবর্তীতে আরো ৫০ হাজার টাকা যৌতুকের দাবীতে কণার স্বামী নিজাম, শ্বাশুড়ী ফিরোজা বেগম, শ্বশুর মোবারক হোসেন আলী, দেবর রানা, ননদের প্রেমিক আল আমিন মিলে প্রায়ই কণার উপর নির্যাতন চালাতো। প্রচণ্ড মারধর করতো। অসুস্থ হলে ওষুধ কিনে দিতো না। বাবার বাড়ির দেয়া কাপড় চোপড় পড়তো কণা। এ নিয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় জিডি, স্থানীয় সালিশ বিচারও হয়েছে।
গত ৮ মার্চ সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ কণার পরিবারের সবাইকে ডেকে জানায় যে, কনা আত্মহত্যা করেছে। তার লাশ উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে। কণার মা আরো জানায়, মামলার ময়না তদন্ত রিপোর্টে বলা হয়েছে কণা আত্মহত্যা করেছে। কিন্তু লাশের পিঠে মারপিটের চিহ্ন ও গলায় ক্ষত চিহ্ন ছিল। তিনি অভিযোগ করেন, অর্থের বিনিময়ে ময়না তদন্তের রিপোর্ট আসামীদের পক্ষে দেয়া হয়েছে। এ কথা বলেই কাঁদতে থাকেন কণার মা কুলসুম বেগম। কণার শ্বাশুড়ী ছাড়া অন্য কোন আসামীকে পুলিশ ধরেনি। কণার স্বামী উল্টো মামলা তুলে নেয়ার জন্য কনার পরিবারকে টেলিফোনে হত্যার হুমকি দিচ্ছে। কণার লাশের সঙ্গে পাওয়া চিরকুটে কণা তার মৃত্যুর জন্য তার স্বামী, শ্বাশুড়ী ও আল আমিনকে দায়ী করে গেছে। এছাড়াও বিয়ের পর থেকে স্বামী, শ্বশুর, শাশুড়ী, দেবর রানা, আল আমিনসহ অন্যান্যদের আচরণ, নির্যাতন সম্পর্কে নিজের হাতে কয়েক পুষ্ঠার একটি লেখা লিখে পরিবারের কাছে দিয়ে যায়।
এ ব্যাপারে কনার বাবা নুর মোহাম্মদ বাদী হয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। ফতুল্লার পাগলা আদর্শ নগর এলাকায় বসবাসকারী নিহত কণার পরিবার বর্তমানে চরম নিরাপত্তীহীনতায় দিন কাটাচ্ছে।
আজ ফতুল্লা মডেল থানায় কণার পরিবার তাদের নিরাপত্তা চেয়ে সাধারণ ডায়েরি করেছে। ডায়েরি নং - ১৪৬। ডায়েরিতে তারা উল্লেখ করেন, কুলসুম বেগমের কন্যা নাজনীন আক্তার কণা হত্যা মামলার আসামী স্বামী নিজামউদ্দিন ও তার পরিবারের সদস্যরা নানা হুমকি ধামকি দিয়ে মামলা প্রত্যাহার করতে বলছে। না হলে সবাইকে প্রাণে মেরে ফেলা হবে বলে হুমকি দেয়া হচ্ছে।
মানুষের চেহারা যতই সুন্দর হোক মনুষ্যত্ববোধ মরে গেলে , তাকে কি আর মানুষ বলা যায় ? মাত্র ৫০ হাজার টাকার জন্য একটি জীবন কেড়ে নেয় যারা, তারা কি আর মানুষ ?
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ১১:৩৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


