আমার প্রিয় পোস্ট

জীবন বুনে স্বপ্ন বানাই মানবজমিনে অনেক চাষ চাই

সংযমের মাস উপলক্ষে সামান্য সংযমের ফর্মুলা

১৬ ই আগস্ট, ২০০৯ বিকাল ৩:১৮

শেয়ারঃ
0 0 0

আসছে সংযমের মাস। নিজের প্রবৃত্তি থেকে নিজেকে বিরত রাখার মাস। সকল ধরনের ভোগ থেকে নিজেকে বিরত রাখাই তো সংযম।
স্বাভাবিকভাবে আমরা যে পরিমাণ খাদ্য বা ভোগ বিলাস করি, সংযমের মাসে তার থেকে কম পরিমাণ ভোগ করার কথা। মূলত এই মাসটির প্রচলন বা জন্ম সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে।

কেন করব সংযম ?
আমাদের ব্যবসায়ী ভাইয়েরা সরকার মানেন না। সরকারের কোন পরামর্শ মানেন না। তারা নির্দিষ্ট কিছু খাদ্যদ্রব্যের দাম বাড়িয়েছেন। আলু, চিনি, ডাল, তেলসহ রমজানে অধিক ব্যবহার হয় যে সব খাদ্য, সেগুলির দাম হঠাৎ করে বেড়ে গেছে। দাম বাড়ার একমাত্র কারণ, ব্যবসায়ী ভাইয়েরা আমাদের সংযমের নমুনা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল। তারা ভালো করেই জানেন, দাম যতই হউক, আমরা এই সব পণ্য কিনতেই থাকব। সুতরাং সংযমের মাসের এই সুযোগটুকু তারা পুরো মাত্রায় গ্রহণ করেছেন।
ধর্মীয় দিক থেকে মানুষকে ভোগ থেকে বিরত থাকার চর্চা করার জন্য সংযমের মাসটির প্রচলন হয়েছে। যারা না খেয়ে থাকে তাদের দুঃখ কষ্ট বোঝার জন্য আমরা দিনের বেলা না খেয়ে থাকি । তাই আমাদের না খেয়ে থাকা তখনই সার্থক হবে, যখন আমরা না খেয়ে থাকা দুঃখী মানুষের দুঃখ দুর্দশার সাথী হব।
অপচয় করে লাভ কী ? বরং সঞ্চয়ই একটা মানুষের ভবিষ্যৎকে নিশ্চিন্ত করে। তাই অনর্থক অপচয় করে সংযমের মাসে মূলনীতির বিপক্ষে কাজ করে আমরা আমাদের ভবিষ্যৎকেই নষ্ট করি।

খাবার-দাবারে সংযম
সেহেরী ও ইফতারে কাড়ি কাড়ি খাবার খাওয়া সংযমের মাসের শিক্ষা নয়। বরং যতটুকু না হলে চলে না, ততটুকু করাই ভালো। সামাজিকতার পাশাপাশি ব্যক্তিগত পর্যায়ে মিতব্যয়ী হলে নিজেরই লাভ। কিন্তু কিপটে হওয়া উচিত না।
ইফতারি থেকে সামান্য অংশ প্রতিদিন কোন গরীব মানুষকে দান করা উচিত। তার অংশটুকু রেখেই খাওয়া দাওয়া করা উচিত। মূলত গরীব দুঃখীর কষ্ট বোঝার জন্যই তো সংযমের মাস।
অন্য দিকে ইফতার পার্টির নাম করে কাড়ি কাড়ি খাবার নষ্ট করার রেওয়াজটি আমাদের বাদ দিতে হবে। ইফতার পার্টির মধ্যে সংযমের চেতনা ধারণ করতে হবে।

পণ্য কেনাকাটায় সংযম
মিডিয়ার কল্যাণে আমরা অনেক সময় আতঙ্কিত হয়ে কিনি। আরও বাড়তে পারে - এই জাতীয় হুংকারে আমরা নেতিয়ে পড়ি। পণ্য কিনে মজুদ করতে থাকি।
যারা ধর্ম পালন করেন এবং মানেন যে রেজেক আল্লাহর তরফ থেকে আসে, তারা তো অনর্থক আতঙ্কিত হতে পারেন না। তার মানে হল, আচরণই প্রমাণ করে দেয়, আমাদের ঈমানের জোর কতটুকু।
অন্য দিকে ব্যবসায়ীরা আমাদের এই আচরণের সুযোগ পুরোপুরি গ্রহণ করেন। সংযমের মাসে আমাদের অসংযমী আচরণের জন্য তারা অতি মুনাফা অর্জন করে ।
যে সব পণ্যে দাম বাড়ছে এবং বাড়তে থাকবে, সে সব পণ্যের বিকল্প কী হতে পারে, তা ভেবে বের করতে হবে। যেমন : বেগুনের কেজি ৮০ হলেও বেগুনী খাইতে হইবে - এই গোয়ার্তুমি বিক্রেতাকে লাভবান করে, ক্ষতি করে ক্রেতার। অথচ বেগুনের বিকল্প তরকারী বা বেগুনীর বিকল্প খাদ্য নির্বাচন করা সম্ভব।
সেহেরী ও ইফতারিতে বিকল্প খাদ্য নির্বাচন করলে সেটা সেহেরী ও ইফতারির একঘেয়েমিও দূর করবে।
একই কথা বিদেশী পণ্য কেনার সময়েও প্রযোজ্য। যে পণ্য দেশি আছে, সেটা বিদেশী কেনার কোন মানে নাই। দেশকে ভালোবাসলে দেশী পণ্যকেও ভালোবাসা উচিত। কেবল কেবল দেশকে ভালোবাসলাম কিন্তু দেশী পণ্যকে ভালোবাসলাম না, এটা এক ধরনের মোনাফেকি। তবে বিদেশী পণ্যের দাম দেশী পণ্যের চেয়ে কম ও মানে ভালো হলে মানুষ দেশী পণ্য ছেড়ে বিদেশী পণ্য কিনবেই। যারা দেশী পণ্য তৈরি করেন, তাদের এই কথাটা মাথায় রাখা উচিত।

ঈদের কেনা-কাটায় সংযম
সংযমের মাসের শেষে একটা উৎসব পালিত হয়। সেই উৎসবের কারণে সংযমের সব চর্চ ভেস্তে যায়। কে কিভাবে কত বেশি অপচয় করতে পারে তার একটা মহড়া হয়ে যায় ঈদ উৎসবে। তাহলে আর এক মাস সংযম কেন ?
তাই ঈদের কেনাকাটার ক্ষেত্রেও সংযমের মাসের ছাপ থাকা উচিত। আর থাকা উচিত সেইসব গরীব দুঃখী মানুষের জন্য একটি বিশেষ অংশ। কেননা, গরীব দুঃখী মানুষের দুঃখ দুর্দশাকে বোঝার শিক্ষা নিয়ে সংযমের মাস আসে।
অন্য দিকে রমজানের শেষ ১০ দিনে ঈদ পালন করার জন্য মানুষ কুত্তা-পাগল হয়ে যায়। চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, খুন-জখম বেড়ে যায়। ঈদের বাড়তি খরচ যোগাতে কে কোন দিক থেকে কাকে মেরে খাবে সেই চর্চা শুরু হয়। এই হল আমাদের সংযমের নমুনা । তাই অনর্থক মার্কেটে ঘোরাঘুরি না করাই ভালো। আর মার্কেটে গেলে অবশ্যই সাবধান থাকতে হবে । সেটাও একটা সংযম।

শেষ কথা :
একটা মাস সংযমের মাস হিসেবে পালন করা হয়। বাকী ১১ মাস সংযমের মাস নয়। কিন্তু বাস্তবে সংযমের মাসে আমরা অসংযমী আচরণ করি বেশি। খাবার, কেনাকাটা ও চিন্তাভাবনার দিক থেকে কোন ভাবেই সংযমী হতে পারি না। সেটা আমাদের আচরণগত সমস্যা। এই সমস্যা থেকে বেরুতে না পারলে আমরা যতই সংযমের মাস বলে রমজানকে পালন করি না কেন , সংযম পালন হবে না কোন দিনও।

 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): সংযমকেনা-কাটা ;
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই আগস্ট, ২০০৯ বিকাল ৩:২৪ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

২. ১৬ ই আগস্ট, ২০০৯ বিকাল ৩:৩৪
দুরন্ত স্বপ্নচারী বলেছেন: ভাঈযান, হডাৎ এত্তো সংজোমি হয়া পড়লেণ যে?
১৬ ই আগস্ট, ২০০৯ বিকাল ৩:৫৩

লেখক বলেছেন: শানে নুযুল : সকালে বাজারে গিয়াছিলাম।

৩. ১৬ ই আগস্ট, ২০০৯ বিকাল ৩:৩৭
তায়েফ আহমাদ বলেছেন: আমি আর কোথাও না হোক, ব্লগে লেখালেখির ক্ষেত্রে সংযমী হতে চাই।
১৬ ই আগস্ট, ২০০৯ বিকাল ৩:৫৩

লেখক বলেছেন: পারবেন না, আপনের নেশা ধরে গেছে।

৪. ১৬ ই আগস্ট, ২০০৯ বিকাল ৩:৫৫
ওরাকল বলেছেন: আমার তো মলে হয় রমজানে আমরা সাধারন মাসের চেয়ে বেশী খাবার-দাবার গ্রহন করি :(
১৬ ই আগস্ট, ২০০৯ বিকাল ৪:১৩

লেখক বলেছেন: আমিও তাই মনে করি। আর গরীব দুঃখীদের কথা ভুলেই যাই।

৫. ১৬ ই আগস্ট, ২০০৯ বিকাল ৪:০৯
kazibondhu বলেছেন: ভালো লিখেছেন + দিলাম, আমি আপনার মতো পারি না, এটা লিখেছিলাম Click This Link আরো কিছু লিখবো সংযম নিয়ে ভবিষ্যতে, ধন্যবাদ
৬. ১৬ ই আগস্ট, ২০০৯ বিকাল ৫:২৬
লাইলী আরজুমান খানম লায়লা বলেছেন: সকলেই আমরা সংযমী হই .....এই হোক আমাদের অঙ্গীকার।
কথায় নয়......কাজে প্রমান করি।
অসংখ্য ধন্যবাদ......
৭. ১৬ ই আগস্ট, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:০৪
তাজা কলম বলেছেন: আল্লাহ আপনার প্রদত্ত ব্যবস্থাপনা অনুযায়ী চলার তৌফিক দিন।
৮. ২৪ শে আগস্ট, ২০০৯ রাত ১:১৭
মাসুদ রশিদ বলেছেন: ভাই আমি সংযম করার চেষ্টা করতেছি। রাতের খাবার বাদ। শুধু ইফতার আর সেহরি।
৯. ২৭ শে আগস্ট, ২০০৯ বিকাল ৩:৩১
নবজট বলেছেন: বাঙ্গালী সারাদিন রোজা রাখে আর সারারাত খায়... এই হইলো সংযমের মাস... আর মার্কেটে কেনাকাটা দেখলে তো কথাই নাই... কার কত বেশি আছে এইটা দেখানোই আসল কথা...
১১. ২৭ শে আগস্ট, ২০০৯ বিকাল ৫:০৪
মুনিয়া বলেছেন: ভাল লিখেছেন। এভাবে যদি আরো কিছু মানুষ ভাবতো, আমরা বদলে যেতাম।
১৩. ১২ ই আগস্ট, ২০১০ দুপুর ২:৫৯
বাবুনি সুপ্তি বলেছেন: শানে নুযুল : সকালে বাজারে গিয়াছিলাম।


হি হি হি খিক খিক :P
১৪. ১২ ই আগস্ট, ২০১০ রাত ১০:৪১
সিস্টেম বলেছেন: শেষ কথা :
একটা মাস সংযমের মাস হিসেবে পালন করা হয়। বাকী ১১ মাস সংযমের মাস নয়। কিন্তু বাস্তবে সংযমের মাসে আমরা অসংযমী আচরণ করি বেশি। খাবার, কেনাকাটা ও চিন্তাভাবনার দিক থেকে কোন ভাবেই সংযমী হতে পারি না। সেটা আমাদের আচরণগত সমস্যা। এই সমস্যা থেকে বেরুতে না পারলে আমরা যতই সংযমের মাস বলে রমজানকে পালন করি না কেন , সংযম পালন হবে না কোন দিনও।

 

মোট সময় লেগেছে ০.৯৮১০ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
স্বপ্ন দেখি, স্বপ্ন দেখাতে চাই। তাই চারপাশে যা ঘটে তা ধরে রাখতে চাই কালো অক্ষরে।
ইচ্ছা করি, যত দিন স্বপ্ন...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ