রোজার আমেজ উড়ে গেছে ঈদের আমেজের ঠেলায়। আমাদের দেশে রোজা যেমন সংযমের মাস নয়, ঈদও তেমন উৎসবের উপলক্ষ নয় আজকাল। বরং ঈদের ঘাঁয়ে রোজাদারের পাগল অবস্থা। কেমনে ? আসেন, জানি সেই বেত্তান্ত ---
০১) ঈদের খুশিতে ঢাকাসহ শহরগুলোর রাস্তায় দীর্ঘ যানবাহনের সারি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থেকে রোজাদাররা বুঝতে পারছেন ঈদ সন্নিকটে।
০২) ঢাকায় রাস্তা পরিষ্কার করার জন্য চলছে অপারেশন ক্লিন স্ট্রিট। এই সুযোগে কিছু অসাধু ট্রাফিক সার্জেন্ট অবৈধ গাড়িওয়ালাদের ছেড়ে দিচ্ছে । কেবল চলছে অপারেশন ক্লিন পকেট।
০৩) যানজটে জান যাবার দশা হলেও রেহাই নেই। যদি শপিং সেন্টারের সামনে যানজট হয়, তবে মাইকে পাঠানো দোকানীদের কান ঝালাপালা ঈদের শুভেচ্ছা শুনতে হচ্ছে। শব্দ দূষণ বলে একটা ব্যাপার যে আছে, সেটা কারো খেয়াল নাই।
০৪) মানবজটে আটকা পড়ে আছে ফুটপাতগুলো। অস্থায়ী দোকান ও ক্রেতার ভীড় মিলে ফুটপাত পুরো দখল। ফুটপাত ছেড়ে রাস্তায় নেমে রোজাদাররা বুঝতে পারছেন এই দেশে ঈদ আসছে।
০৫) শপিং সেন্টারগুলো এখন মানবজটের তীর্থস্থান। পুরুষের চেয়ে নারী বেশি, নারীর চেয়ে তরুণী বেশি। তাই শপিং সেন্টারে গিয়ে রোজাদারের আর রোজা মনে রাখার কোন সুযোগ নাই। সামনে ঈদ কেবল সেইটাই স্মরণ থাকে রোজাদারের।
০৬) ঈদ উপলক্ষে রোজাদাররা পরিবারের নানা বায়না মিটাচ্ছেন। রোজাদার কর্তার অপারেশন ক্লিন পকেট চালাচ্ছেন পরিবারের অন্য সদস্যরা। গিন্নি তো বারে বারেই স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন দাম্পত্য জীবনের প্রতিটি ব্যর্থ ঈদের কথা।
০৭) টেলিভিশন চ্যানেলগুলি কেউ ৫ দিন, কেউবা ৭ দিন ঈদ ঘোষণা করেছেন । এত দীর্ঘ সময় ঈদ পালনের আহবানের ফলে রোজার আমেজ কেটে গেছে। ইফতার আর সেহেরির সময় বাদে বাকি সময় দীর্ঘ বর্ণনায় ঈদের দিনলিপি শুনতে হচ্ছে রোজাদারদের।
০৮) রাতে দিনে দীর্ঘ সময় ধরে চলতে থাকা লোডশেডিং দিয়ে স্মরণ করিয়ে দেয়া হচ্ছে ঈদ এসেছে। মার্কেটে মার্কেটে আলোকসজ্জার খেসারত দিচ্ছে হচ্ছে অন্ধকারে ইফতারি করে। আর রাতের দীর্ঘ লোডশেডিং কখনও কখনও সেহেরি পর্যন্ত গড়াচ্ছে।
০৯) চলছে নানামুখী ভেজাল বিরোধী অভিযান। কেননা, রোজার মাসে শয়তান জিঞ্জিরাবদ্ধ থাকে। তাই শয়তানের দায়িত্ব পালনের জন্য বাঙ্গালি কেবল রোজার মাসেই খাদ্যে ভেজাল করে থাকে। রোজার মাস ছাড়া আমাদের দেশে ভেজালমুক্ত খাদ্য পাওয়া যায়।
১০) এখনও মাঝে মাঝে আশ্বাস শোনা যাচ্ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রীর দাম আর বাড়বে না। (বাড়ার আর বাকি আছে কী ? ) ঈদ উপলক্ষে মুদিওয়ালারা সার্বিক প্রস্তুতি নিয়া আছে। যেই রোজাদার যাবে তাকেই ধরে জবাই করে দেবে। দাম বাড়ানোর অজুহাতের কোন কমতি নাই ওদের কাছে। ঈদ নিজেই তো একটা বিরাট উপলক্ষ।
১১) আমাদের গণতান্ত্রিক রাজার সমর্থকরা জায়গায় জায়গায় সালাম আদাব পাঠাচ্ছে। যিনি সালাম আদাব পাচ্ছেন, তার রোজা ছুটে যাচ্ছে ভয়ে । কত টাকার বিনিময়ে সালামের জবাব দেয়া শুদ্ধ হবে সেটা বুঝতেই ঘাম দিয়ে জ্বর এসে যাচ্ছে। (রাজকীয় চাঁদাবাজি জিন্দাবাদ)
১২) চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, অজ্ঞানপার্টির দৌরাত্ম্যে পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে ঈদ সন্নিকটে। কার কোথায় কিভাবে কোন ঘটনার শিকার হওয়ার সুযোগ হবে সেটা উপরওয়ালাই জানে। আমাদের কেবল অপেক্ষা করা ছাড়া কোন পথ নাই । এই রাজকীয় গণতান্ত্রিক দেশে সবারই ঈদ করার অধিকার আছে। চোর, ডাকাত, ছিনতাইকারী, পকেটমার ও অজ্ঞান পার্টির লোকজনের জন্য ঈদ তো একটা বিরাট সুযোগ।
১৩) যারা ঈদে গ্রামের বাড়ি যাবেন, তাদের তো টিকেট জোগার করতে গিয়ে জানে পানি নাই। টিকেট কাউন্টারে টিকেট নাই। কালোবাজারে টিকেটের অভাব নাই। কেবল অপারেশন ক্লিন পকেট।
রোজার আমেজ কবেই গেছে। বরং ঈদের ঘাঁয়ে রোজাদার পাগল এখন। কী আর করা, যে দেশে যেই রীতি।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

