কয়েক দিন আগে একটি জন্মদিনের অনুষ্ঠানে গিয়েছিলাম। শহরের বিশিষ্ট ধনীর মেয়ের জন্মদিন। শহরের সবচেয়ে বড় কমিউনিটি সেন্টারে এই জন্মদিনের আয়োজন। যথারীতি কেক কাটার পর হালকা নাস্তা ও শেষে রাতের খাবার দেয়া হল। তারপর শুরু হল গানের অনুষ্ঠান। প্রথমে বাংলা গান শুরু হলেও পরে শুরু হল হিন্দি গান। এক সময় গায়কদল গান গাওয়া শেষ করল।
এবার শুরু হল অন্য রকম আরেকটি পর্ব। লাউড স্পিকারে হিন্দি গান বাজিয়ে দেয়া হল। তার সঙ্গে ২টি বাচ্চা মেয়ে নাচতে শুরু করল। পরের গানে উঠতি বয়সী ২ জন মেয়ে নাচতে শুরু করল। তার পরের গানে ১ জন মহিলা এসে যোগ দিল। নাচের পর নাচ চলছে। এক সময় অনুষ্ঠানে আগত অতিথিরা নাচের অনুষ্ঠান ঘিরে দাঁড়াল। মজা করে হাততালির পাশাপাশি কেউ কেউ জায়গায় দাঁড়িয়ে নাচছিল।
রাত গভীর হচ্ছিল। কিন্তু নাচ থামছিল না। সবাই চাইছিল আরও নাচ হোক। একের পর এক হিন্দি গান বেজে যাচ্ছিল আর তার সঙ্গে নাচের বাহারও বদলে যাচ্ছিল। মনে হচ্ছিল, স্টার প্লাস বা জিটিভে দেখা কোন অনুষ্ঠান দেখছি।
আমার কথা :
সেই অনুষ্ঠান থেকে আসার পর অনেক ভেবেছি। কেন আমরা হিন্দি কালচারে আসক্ত হয়ে পড়েছি ? আমার মনে হয়, আমাদের বাংলাদেশী টেলিভিশন ও সিনেমা তার যথার্থ ভূমিকা পালন করতে পারছে না বলেই আমরা হিন্দি কালচারের দিকে ঝুঁকে পড়েছি। আমাদের টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর অনেক অনুষ্ঠান ভারতীয় চ্যানেলগুলোর নকল। আমাদের এফডিসি থেকে নির্মিত সিনেমাগুলো সরাসরি ভারতীয় সিনেমার নকল। স্যাটেলাইট চ্যানেলের সুবিধা থাকায় আমরা সরাসরি ভারতীয় টেলিভিশন অনুষ্ঠান ও সিনেমা দেখার সুযোগ পাই। ফলে টেলিভিশনে কোন কোন অনুষ্ঠান ভারতীয় অনুষ্ঠানের নকল এবং এফডিসিতে নির্মিত কোন কোন সিনেমা ভারতীয় সিনেমার নকল তা আমরা খুব সহজেই বুঝতে পারি। নকল অনুষ্ঠান ও সিনেমা নির্মাতাদের সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি করেছে আমাদের মনে। ফলে ঢাকার সিনেমা ইতিমধ্যে দর্শকশূন্য হয়ে গেছে। অন্য দিকে হাতে থাকা রিমোট টিপে আসল অনুষ্ঠান দেখার সুযোগ থাকায় নকল অনুষ্ঠান দেখতে আর কে চায় ? সিনেমা ও টেলিভিশনের এই নকল প্রবণতার জন্য আমাদের দেশীয় সংস্কৃতি ভারতীয় সংস্কৃতির কাছে মার খাচ্ছে।
হিন্দি সিনেমার গানে কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বসেরা এ. আর রহমানের মতো প্রতিভাবান সুরকাররা। আর আমাদের ঢাকাই সিনেমার গীতিকাররা টাকা পায় না, সুরকার দরকারই নাই। নকল কথা ও সুরে গান তৈরি হয়। সিনেমার গান তৈরির জন্য প্রযোজকরা কোন বাজেট রাখেন না। ফলে আমরা ঢাকার সিনেমার এমন গান পাচ্ছি না যা আমার মনের মধ্যে দাগ কাটে।
যেই গান মনে দাগ কাটে না, সেই গান কে শুনবে ? হাতের কাছে আসল গান থাকলে কে আর নকল গান শুনতে যাবে ? আসল অনুষ্ঠান ফেলে নকল অনুষ্ঠান দেখে কোন বোকা ? নকল প্রবণতার কারণেই আমাদের দেশে আজ হিন্দি কালচারের জোয়ার, বাংলাদেশী সিনেমা ও টেলিভিশন তার ধারে কাছে দাঁড়াতে পারছে না।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

