অনেকেই জানেন না কিভাবে ডিজিটাল চলচ্চিত্র প্রদর্শন করা হয়। অনেকে মনে করেন ডিজিটাল চলচ্চিত্র মানে হল কেবল ডিজিটাল ক্যামেরায় চিত্র ধারণ করা। বাস্তবে ডিজিটাল ক্যামেরার চিত্রধারণ থেকে শুরু করে প্রদর্শনী পর্যন্ত পুরো ব্যাপারটিতে ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়।
আমাদের দেশে ডিজিটাল প্রদর্শনীর ব্যবস্থা এখনও আসে নি। তবে শীঘ্রই এসে পড়বে বলেই মনে হচ্ছে। ইতিমধ্যে সরকার ডিজিটাল ফরমেটের চলচ্চিত্রের সেন্সর দেয়া শুরু করেছে।
আমাদের পাশের দেশ ভারতে অনেক আগেই এসে গেছে এই প্রযুক্তি। এমনকি কোলকাতা ও আসামে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হচ্ছে।
কিভাবে প্রদর্শিত হয় ডিজিটাল চলচ্চিত্র ?
মূলত চলচ্চিত্রটি কোন একটা সার্ভারে আপলোড করা হয়। তারপর সেটা স্যাটেলাইটের মাধ্যমে প্রজেকশন করা হয়। যেভাবে স্যাটেলাইট টেলিভিশনের প্রোগ্রাম প্রচার করা হয়, অনেকটা সে রকম। যে সব হল চলচ্চিত্রটি প্রদর্শন করবে, তাদের থাকে বিশেষ রিসিভার। সেই রিসিভারের মাধ্যমে তারা স্যাটেলাইট থেকে সরাসরি চলচ্চিত্রটি ডাউনলোড বা রিসিভ করে এবং সরাসরি তা প্রক্ষেপন করে হলের পর্দার উপর।
আমাদের দেশে কেবল ঢাকার স্টার সিনেপ্লেক্স সিনেমায় ডিজিটাল প্রজেকশনের ব্যবস্থা আছে।
ডিজিটাল চলচ্চিত্রের সুবিধা :
০১) যতবারই প্রদর্শিত হোক না কেন, প্রথমবার প্রদর্শনের সময় যে ঝকঝকে ছবি ও শব্দ পাওয়া গিয়েছিল, তা-ই পাওয়া যাবে।
০২) অতি সহজেই থ্রি ডি করা যাবে এই চলচ্চিত্র, তাতে করে খরচ খুব একটা বাড়বে না। কিন্তু দর্শক অসাধারণ একটা অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হবে।
০৩) চলচ্চিত্রের নির্মাণ ব্যয় খুবই কম। কেননা, ফিল্মের মতো ডিজিটাল ক্যাসেট অতো ব্যয়বহুল নয়।
০৪) ডিজিটাল চলচ্চিত্রের সম্পাদনায় ব্যবহৃত হয় কম্পিউটার। ফলে সম্পাদনার ব্যয়ও কম এবং অনেক উন্নতমানের।
০৫) ৩৫ এম এম ফিল্মে নির্মিত চলচ্চিত্র সিনেমা হলে মুক্তি দিতে হলে অনেকগুলো প্রিন্ট করতে হয়। ডিজিটাল চলচ্চিত্রের ক্ষেত্রে প্রিন্ট করার কোন ঝামেলা নেই। সার্ভারে আপলোড করে দিয়েই কাজ শেষ। ফলে ফিল্ম প্রিন্ট করার বাড়তি খরচ থেকে মুক্ত এই চলচ্চিত্র। এ কারণে ডিজিটাল চলচ্চিত্রের নির্মাণ ও প্রদর্শনীর ব্যয় খুবই কম।
০৬) যেহেতু কোনো প্রিন্ট পাঠাতে হয় না, প্রিন্ট ডুপ্লিকেট হওয়ার আশঙ্কা নেই।
০৭) ছবিটা ডাউনলোড হলেও ওরা সেটা আবার রেকর্ড করতে পারবে না। অর্থ্যাৎ পাইরেসির কোনো আশঙ্কা একেবারেই নেই। যদি একটা শোর জন্য নেয়, শুধু একবারই চালাতে পারবে। প্রযুক্তিটাই ওভাবে করা।
বলা যায়, আগামী দিনের চলচ্চিত্রের পুরোটাই দখল করে নেবে এই প্রযুক্তি।
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই এপ্রিল, ২০১০ বিকাল ৪:২৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


