somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সেই সততা গেল কোথায় ?

১৪ ই জুলাই, ২০১০ রাত ১২:২৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কোরআন পড়ার জন্য ছোটকালে আমার মা এক মৌলভীর কাছে পাঠিয়েছিল আমাকে। তিনি আমাকে ও আমার ছোট ভাইকে পড়াতেন। প্রথম দিকে তার বাড়িতে গিয়ে পড়লেও পরে তিনি আমাদের বাসায় এসে পড়াতেন।
অনেক ছোট বেলার ঘটনা হলেও তার কাছ থেকে পাওয়া অনেক নৈতিক শিক্ষা এখনও ভুলে যাইনি।
এক দিনের ঘটনা বলি। আমাদের পড়ানো শেষ হয়েছে। মা চা নাস্তা পাঠিয়ে হুজুরের কাছে আমাদের বিষয়ে খোঁজ খবর করছেন। আমরা হুজুরের সামনে বসে আছি। হুজুর অনেক হাদিস কোরআনের কথা বলে যাচ্ছেন। মা আড়ালে দাঁড়িয়ে হুজুরের কথা শুনে যাচ্ছেন।
এক সময় মা জানতে চাইলেন, হুজুর, সৎ লোক কিভাবে চিনব ?
হুজুর বললেন, খুব সহজ। তার আয় দেখবেন এবং তারপর তার ব্যয় করার ধরণ দেখবেন। যদি দেখেন তার আয়ের চেয়ে ব্যয়ের ভাগ বেশি, তাহলে বুঝবেন তিনি সৎ লোক নন। তার অসৎ আয় আছে।
আমার মা আরও জানতে চাইলেন, অসৎ লোকের সাথে আমাদের আচরণ কেমন হবে ?
হুজুর বললেন, অসৎ লোককে আঘাত দিয়ে কোন কথা বলা ঠিক হবে না। তবে তার সাথে সম্পর্ক না রাখাই ভালো। তার বাড়িতে যাওয়া, খাবার খাওয়া কিংবা তার সাথে বন্ধুত্ব সব কিছুই বাদ দিতে হবে। কেননা, অসৎ লোকের সাথে মিশতে থাকলে এক সময় নিজেই অসৎ হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা আছে।
আরেক দিন হুজুর বলেছিলেন, কোন লোক কী পোশাক পরে আছে, তাতে বোঝা যায় না, সে কেমন। সে সৎ নাকি অসৎ তা বোঝার জন্য তার সঙ্গে আর্থিক লেনদেন করে দেখতে হবে। যদি আর্থিক ব্যাপারে তার জবান ঠিক না থাকে, তবে বুঝতে হবে তিনি সৎ লোক নন।

অনেক ছোটকালের হুজুরের এই সদুপদেশগুলো এখনও আমার কাছে প্রাসঙ্গিক মনে হয়।

আমাদের সততা :
হুজুরের কাছে পড়ার সময়ই সেই ছোটকালে দাড়ি-টুপি পরা লোক দেখলেই সৎ লোক বলে ধরে নিতাম। আজ জীবনের অনেকগুলো বছর পেরিয়ে এসে বুঝতে পারি, সততার সাথে লেবাসের কোন সম্পর্ক নাই।



উপরের এই ছবির লোকটাকে দেখে বহু দিন আগের হুজুরের সৎ লোকের সংজ্ঞা মনে পড়ে গেল।
এই লোকটি বিজি প্রেসের কর্মচারী । নাম আবদুল জলিল। তিনি ২৮ লাখ টাকাসহ গ্রেফতার হয়েছেন। সম্ভবত পাশের ওই ট্রাঙ্কে তিনি এই ঘুষের টাকাগুলো লুকিয়ে রেখেছিলেন।
লোকটার দাড়ি ও পাঞ্জাবি দেখে মনে হল, আসলেই লেবাস দেখে মানুষের সততা মাপা যায় না।


ক্রমশ বদলে যাওয়া আমাদের আচরণ :
মনে আছে , ছোটকালে দেখতাম, ঘুষখোরদের মানুষ ঘৃণা করত। আমাদের মহল্লায় এক ঘুষখোর ছিল, তার বাসায় কেউ যেত না। তার সম্পর্কে একটা কানাঘুষা চলত। তাকে এড়িয়ে চলত সবাই।
আর এখন মেয়ে বিয়ে দেয়ার জন্য মানুষ বিরাট বড় ঘুষখোর খোঁজে। উচ্চ শিক্ষিত মেয়েরা বিরাট বিরাট ঘুষখোর বিয়ে করতে পারলে ব্যাপক খুশি হয়।
আগে মানুষ ঘুষ খেত গোপনে, এখন মানুষ ঘুষ খায় সংঘবদ্ধভাবে। পুরো অফিস ঘুষ খায়। ধরা পড়লে পুরো অফিসই ধরা পড়বে।
আমরা এখন ঘুষখোরদের ঘৃণা করি না। তাদের সঙ্গ ত্যাগ করি না। তাদের থেকে নিজেকে সরিয়ে নেই না। বরং আমরা ঘুষ খাওয়াটাকে পানি খাওয়ার মতোই সহজ ব্যাপার বলে মেনে নিয়েছি।
এই রকম সামাজিক পঁচন আমাদের চরম সর্বনাশের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। চারপাশে এখন অস্থিরতা, বদমায়েশি, ভোগ-বিলাস, অশ্লীলতা, প্রতারণা, নেমক হারামি আর জোচ্চুরির ছড়াছড়ি। কেননা, অসৎ পথে আয় করা টাকা অসৎ পথেই যায়।
মেধাবী ভালো মানুষগুলো এই দেশে সত্যিকার অর্থে ভীষণ কষ্টে আছে। এই দেশ সৎ মানুষের দেশ না।

খবর এখানে
৩৭টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিলেন মমতার দলকে?

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:২২


শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিয়েছেন মমতা ব্যানার্জিকে। কিভাবে? দুই দফায় পানিচুক্তি হতে দেননি মমতা। কংগ্রেসের মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন এবং বিজেপির Narendra Modi প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন দুবার দুজনই বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন, দুবারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×