somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আদিবাসী দিবসের অনুষ্ঠানে বাধা দিয়ে কি ম্যাসেজ দিচ্ছে সরকার ?

১০ ই আগস্ট, ২০১২ দুপুর ১২:৫৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আজকের পত্রিকা খুলে দেখলাম, সরকার আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস পালনের অনুষ্ঠানে বাধা দিয়েছে। আগে থেকে দিবসটি পালনের ক্ষেত্রে সরকার নিরুৎসাহিত করেছিল। সরকারীভাবে দিবসটি পালন করা হবে না, সেটাও বলা হয়েছিল।
এই দিবসটি জাতিসংঘ ঘোষিত একটি দিবস। পৃথিবীর ৭০টি দেশে ৯ আগস্ট আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস পালন করা হয়।
এবারের আদিবাসী দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল ‘আদিবাসী অধিকার উজ্জীবিতকরণে আদিবাসী গণমাধ্যম’। জাতিসংঘ ১৯৯৩ সালকে আন্তর্জাতিক আদিবাসী বর্ষ ঘোষণা করেছিল। সাধারণ পরিষদ ১৯৯৪ সালে সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে ৯ আগস্টকে আদিবাসী দিবস পালনের আহ্বান জানায়। এরপর ১৯৯৫ থেকে ২০০৪-০৫ থেকে ২০১৪ দুটো দশককেই আদিবাসী দশক হিসেবে ঘোষণা করে জাতিসংঘ।
আগের বার জাতিসংঘ ঘোষিত এই দিবস পালন করেছিল সরকার। কিন্তু
বাংলাদেশে এবার দিবসটি পালন করতে গিয়ে সরকারি প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়েছে আদিবাসীরা। আদিবাসী দিবসের কোনো অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তাদের অংশ নেওয়া থেকে বিরত থাকা এবং কোনো সহযোগিতা না করার নির্দেশনা দেয়া হয়।
শুধু আদিবাসীরা নয়, মহাজোট সরকারের একাধিক মন্ত্রী ও সাংসদ প্রকাশ্যে সরকারের এই অবস্থানের বিরোধিতা করেন।
অন্য দিকে আদিবাসী দিবস পালনে সরকারি কোনো বাধা আছে বলে জানেন না স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক। তিনি মুঠোফোনে জানান, তাঁর মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও দিবসটি পালনে কোনো বিধিনিষেধ নেই।
তাহলে আদিবাসী দিবসের অনুষ্ঠানে বাধা দিয়ে সরকার কি ম্যাসেজ দেয়ার চেষ্টা করল ?
অনেকে তর্ক করে থাকেন, ওরা আদিবাসী নয়, উপজাতি। ওরা যে কী সেটা ওদেরই বলতে দিন। জোর করে কি পরিচয় চাপিয়ে দেয়া যায় ? পৃথিবীর সব দেশেই সংখ্যালঘুরা নির্যাতনের শিকার হয়। বাংলাদেশের মতো উদার গণতন্ত্রের দেশে সেটা হওয়ার কথা ছিল না, কিন্তু গণতন্ত্রও তাদের রক্ষা করতে পারেনি। তাদের প্রতি আমাদের রাষ্ট্রের মনোভাব এই বাধাদানের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে গেছে।
একটা কথা, বাধা দিয়ে একটা জাতিকে সাময়িক থামিয়ে দেয়া যায় মাত্র, তার চেতনাকে নিশ্চিহ্ন করে দেয়া যায় না। তারচেয়ে বরং প্রত্যেকের অধিকার মেনে নেয়ার মধ্যেই শান্তি নিহিত ।

অফ টপিক : আদিবাসীদের বিষয় নিয়ে লেখালেখি দেখলেই অনেকের গালাগালি করতে ইচ্ছা করে। যারা গালাগালি করতে চান, মনের খুশিতে করেন, মন খুলে করেন। গালাগালি তারাই করে, যাদের কাছে কথা চালিয়ে নেয়ার মতো সুন্দর যুক্তি নাই। নিজের মধ্যে জাতি বিদ্বেষ পুষে রেখে কখনো অন্য কোন জাতির অধিকার বোঝার কথাও না।

আমার সিদ্ধান্ত : অনেক সম্মানিত ব্লগারদের মতামত ও বিভিন্ন অনলাইন সাইট ঘাটাঘাটি করে এটাই বুঝলাম যে, বাংলাদেশে বাঙ্গালি ছাড়া অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর যারা আছে, তারা সাংবিধানিকভাবে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত।
এখানে ব্লগার আশিক হাসানের মন্তব্যের কিছু অংশ যোগ করতে চাই । আশিক হাসান বলেছেন, একজন সাধারন নাগরিকের কাছে আদিবাসী এবং উপজাতি দুটি নামবাচক শব্দ ব্যাতীত অন্য কিছু মনে করার কারন নাই । আর সেকারনেই বাংলাদেশের প্রায় সকল নাগরিকের কাছে মনে হতে পারে সরকার অহেতুক এই নাম বিভ্রাটের ইস্যুতে সময় অপচয় করছে। আর চট্টগ্রামের মারমা,চাকমা,মগ এরা যদি নিজেদের আদিবাসী বলতে চায় তাহলে কি এমন ক্ষতি হয় দেশের অথবা সরকারের? এই প্রশ্নর উত্তর খোঁজার জন্য একটু কষ্ট করে চোখ বুলাতে হবে দুটি আইএলও কনভেনশনের দিকে যথাক্রমে ১০৭ এবং ১৬৯। ১০৭ ধারাটি ১৯৫৭ সালে জাতিসংঘ কতৃর্ক গৃহীত হয় । এই ১০৭ ধারাটি বাংলাদেশ সরকার ১৯৭২ সালে গ্রহন করে। এই ধারার মূল প্রতিপাদ্য বিষয় ছিলো যে উপজাতি জনগোষ্ঠিকে মূলধারার জনগোষ্ঠীর সমকক্ষ হতে সহায়তা করা হবে । যে বিষয়টি বংগবন্ধু তার ভাষনে বাংগালীদের মত হতে হবে উল্লেখ্য করলে তৎকালীন কিছু উচ্চাভিলাষী পাহাড়ী নেতারা তার ভুল ব্যখ্যার মাধ্যমে সশস্ত্র সংগ্রামের সূত্রপাত করে। আবার ফিরে আসি ১০৭ এবং ১৬৯ ধারাতে । ১০৭ ধারাতে জাতিসংঘ উপজাতি বা আদিবাসীদের জন্য যে ধারাসমূহ দেয়া আছে তা বর্তমান সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক নয় । বরং পরবর্তীতে ১৬৯ ধারা যা ১০৭ ধারার নতুন সংস্করন এই ধারা সরকার মেনে নিলে সেক্ষেত্রে উপজাতি সমূহ নিজেদের কে আদিবাসী হিসেবে দাবী করতে পারবে এবং সেক্ষেত্রে দেশের সংবিধান এবং সার্বভৌমত্ব লংঘনের পরিবেশ সৃষ্টি হবে ।
এ কারণেই সরকার আদিবাসী দিবসের অনুষ্ঠান নিরুৎসাহিত করছে। সরকারের ম্যাসেজটি অত্যন্ত পরিষ্কার। সরকার এই দেশে কোন আদিবাসী আছে এটা স্বীকার করে না। বাঙ্গালি জাতির বাইরে যারা আছে তারা সবাই ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর অন্তর্গত। তারা উপজাতি কিন্তু আদিবাসী নয়।

http://en.wikipedia.org/wiki/Bengali_people

http://en.wikipedia.org/wiki/Chakma_people

http://en.wikipedia.org/wiki/Garo_people

http://en.wikipedia.org/wiki/Kaptai_Dam

Click This Link

http://www.mochta.gov.bd/

Click This Link
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই আগস্ট, ২০১২ রাত ১১:১৭
৫৩টি মন্তব্য ২২টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×