অগ্রনী ব্যাংকের পরীক্ষার প্রশ্ন পত্র ফাঁসের খবর এখন সকলের জানা। প্রথমেই একটু ভূমিকা বলে নেই, আমার খুব কাছের মানুষ অগ্রনী ব্যাংকের অফিসার ছিলেন এবং আছেন। সেই সূত্রে জন্মের পর থেকেই এই ব্যাংকের প্রতি একটা ভাল লাগা থাকা। আর তাই লিখতে বসা, যদিও যন্ত্রকৌশলের ৩য় বর্ষের ছাত্র হওয়াতে দেরি আছে জব লাইফে প্রবেশ করার।
বলতে দ্বিধা নেই বিগত কয়েক বছরে সরকারি ব্যাংক গুলোতে যেন অভিশাপ লেগেছে। চরম মাত্রায় তারল্য সংকট, পরিচালনা পর্ষদে দলীয়করণ, হলমার্ক সহ আরও কিছু জালিয়াতি এবং সবশেষে অগ্রনী ব্যাংকের পরীক্ষার প্রশ্ন পত্র ফাঁস। বলা চলে এই ঘটনা ব্যাংকটির গায়ে অন্যমাত্রার কালিমা লেপন করল। আর বরাবরই এইগুলোর সাথে এসেছে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ সংশ্লিষ্টতা। ম্যাচ ফিক্সিং এর ডামাডোলে দেশ ব্যস্ত তাই এই ঘটনার দিকে কারো চোখ যায় নি, কিন্তু পরীক্ষার্থীদের মাঝে তোলপাড় পরে গেছে।
চাকরী এখন সোনার হরিণের চেয়েও দামী। আর সরকারি ব্যাংক গুলোর চাকরি লোভনীয় বটে । সে জন্য ইঞ্জিনিয়ার থেকে শুরু করে সাধারণ গ্র্যাজুয়েট অংশ নেন এই পরীক্ষায়। ৩০০ টাকায় ফর্ম ফিল আপ করে নিজের গাটের পয়সায় যাতায়াত খরচ বহন করে এক বুক স্বপ্ন নিয়ে একদল মানুষ গেছিলেন পরীক্ষা হলে। কিন্তু তাঁদের স্বপ্নের সাথে করা হল চরম বেইমানি। এইখানে বলে রাখি ৪২০০০ জন প্রবেশ পত্র সংগ্রহ করেছিলেন। বলা চলে দিন দুপুরে ৪২ হাজার জনের সাথে প্রতারণা করা হয়েছে।
এই বার বাতাসে গুজব ভাসছিল আগেই মোটা অংকের টাকা দিয়ে চাকরি নিশ্চিত করার। এর পিছনে বলে কাজ করছিল পরিচালনা পর্ষদের কয়েকজন। যাক সেটা কে গুজব মানা হয়েছিল, কিন্তু প্রশ্ন পত্র ফাঁস করে গুজবের তো আর মূল্য রাখলও না। এইখানে আর আর আলোচনা করছি না প্রশ্ন পত্র ফাঁসের সাথে কারা জড়িত ছিল, দৈনিক পত্র পত্রিকা গুলোর মধ্যে দিয়ে তা জেনে ফেলেছেন নিশ্চয়। খালি একটা কথায় বলব অগ্রনী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান ঢাবির বাণিজ্য বিভাগের শিক্ষক। আর তাঁর ডিপার্টমেন্ট কে প্রশ্ন বানানোর দায়িত্ব দেওয়াটা আমার চোখে অন্যায়।
প্রশ্ন পত্র ফাঁসের এই ট্র্যাডিশন কে এখনই বন্ধ করতে হবে। নতুবা চাকরি সংক্রান্ত অনেক পরীক্ষায় হয়ে যাবে কলুষিত। এমন কি চাকরি পাওয়ার পর অনেককে নির্দোষ থাকা স্বত্বেও শুনতে হবে , “ প্রশ্ন আগে পাইয়া চান্স পাইছো, জানি না বুঝি”। আজ যদি এই ধরনের ঘটনা আমরা সোচ্চার হয়ে বন্ধ করতে না পারি, নিশ্চয় একদিন এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার ঘটনা আপনাকে আমাকে অবলোকন করতে হবে।
এইবার কিছু পরামর্শঃ
গরীবের কথা কেউ শুনবে না, তাও বলছি। আমরা যতই এই বিষয় নিয়ে চিল্লায় না কেন আসল কষ্ট সেই ৪২ হাজার পরীক্ষার্থীর। আমার প্রস্তাবঃ
→ নতুন প্রশ্ন প্রণয়ন করে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া।
→ প্রশ্ন প্রণয়নের দায়িত্ব অবশ্যই অন্য কোন ডিপার্টমেন্ট কিংবা আইবিএ কে দেওয়া।
→ ব্যাংকের পরীক্ষা কার্যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অবশ্যই পদত্যাগ করা। বলে রাখি সম্পূর্ণ দলীয় পরিচয়ে পরিচালনা পরিষদ নিয়োগের ফলাফল কি তা এই প্রশ্ন ফাঁস থেকেই স্পষ্ট প্রতীয়মান।
→ পরীক্ষার্থীদের ২য় বার পরীক্ষা দিতে আসার জন্য অন্তত ৫০০ টাকা করে যাতায়াত খরচ দেওয়া।
সরকার এবং অগ্রনী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ কে অবশ্যই প্রথম তিনটা পরামর্শ পালন করা উচিত নিজেদের মান বাঁচানোর স্বার্থে। শেষের টা বিবেচনার বিষয়। পরিশেষে বলি এই ধরনের ঘটনা যদি ঘটতে থাকে সামনে সুন্দর রকমের দুর্দিন অপেক্ষা করছে কিন্তু !
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা জুন, ২০১৩ বিকাল ৪:৪০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



