আমার প্রিয় পোস্ট
- নোয়া সাহেবের নৌকা আর একটি গর্দভের বেদনার ইতিহাস... - জামাল ভাস্কর
- মার্কসবাদের ইতিহাস পড়তে পড়তে অনিবার্যভাবেই আমার লালনের কথা মনে পড়ে গেল - ইমন জুবায়ের
- পুরুষতান্ত্রিকতার ধ্বজভঙ্গ সমাজতত্ত্বঃ “নারীর ইজ্জতই তার প্রধান সম্বল” - মনির হাসান
- প্রসঙ্গ নজরুল-গান্ধী : চমকে ওঠা ইতিহাসে কিছু বিভ্রান্তির জবাব - আবু নাঈম
- সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম কর্তৃক প্রকাশিত যুদ্ধাপরাধীর তালিকা - কাক ভুষুন্ডি
- সমাজতন্ত্রে মুক্তির উপায়/ প্রতি শ্রদ্ধেয় দিন মজুর - বিহংগ
- আপনি কি একজন "ওয়েল ইনফর্মড" মানুষ ?? - ফ্রুডো
- কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, আমাদের জাতীয় সঙ্গীত ও ত্রিভুজ গোত্রীয়দের বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেস্টা - নাস্তিকের ধর্মকথা
- সোয়াত যুদ্ধে মানবিক বিপর্যয়>ওবামা-জারদারীর দুঃশ্চিন্তা>আমরা কতটুকু নিরাপদ ? - মনজুরুল হক
- শ্রেণী বৈষম্য > শ্রেণী সংগ্রাম > শ্রেণী সংঘাত > কিছু দেখি কিছু দেখতে পাইনা..... - মনজুরুল হক
- একান্ত সরল জিজ্ঞাসাঃ নাস্তিকদের প্রতি - আবুল'স বাহার
- কোরবানি নিয়ে যে আলোচনাটি হতে পারত। - সালাহ্ উদ্দিন শুভ্র
- কখনও জীবন ভুলে থাকার অভিনয় - রাসেল ( ........)
- যুদ্ধাপরাধীদের বিচার রোধে আন্তর্জাতিক চাপ - রেজওয়ান
- ঈমান জোরদার করার জন্য বিভিন্ন ব্লগ হইতে সংগৃহিত ক্লাসিক লেখা - দ্বিতীয়নাম
- একটি হত্যাকান্ডের পটভূমি - ইমন জুবায়ের
- বাংলাদেশে এক্টিভিস্ট হওয়া কি আদৌ সম্ভব (চার পর্ব একসঙ্গে) - ফাহমিদুল হক
- নারী জাতির অবমাননা আর আমাদের পুরুষতান্ত্রিক চিন্তা - মদন
- ঘাতক চেহারা: একাত্তুরের ইসলামী ছাত্রসংঘ ও আজকের জামাতে ইসলামীর মুজাহিদ - তীরন্দাজ
- আল্লাহ, মুহম্মদ সা এবং আল-কোরআন বিষয়ক কিছু আলোচনার জবাবে.... - নাস্তিকের ধর্মকথা
- অমৃত স্যারের জন্য বেহেশ্তটা কতদূর ? - সবাক
- আমি একটি সিনেমা বানাবো ** দেখুনতো হবে কি না?

- সবাক
- মুক্ত/ নাস্তিক/ সংশয়ী/ ধর্মদ্রোহী'দের যুদ্ধটা ... আসলে কাদের বিরুদ্ধে, কিসের বিরুদ্ধে ? - মনির হাসান
আইনস্তাইন বললেই হল! সমাজতন্ত্রের মরা ভূত আর জাগবে না (উৎসর্গ ব্লগার ভ্রুক্ষেপিত জ্ঞান)
১৮ ই মে, ২০০৯ ভোর ৬:৩৪
সমাজতন্ত্র কেন?
আইনস্তাইনের এই রচনাটি ১৯৪৯ সালে মে'মাসে মান্থলি রিভিউ পত্রিকা প্রথম সংস্করনে প্রকাশিত হয়েছিলো
যিনি অর্থনীতি ও সমাজব্যবস্থা সম্পর্কে বিশেষজ্ঞ নন্ তাঁর কী উচিত হবে সমাজতন্ত্র নিয়ে কোন মন্তব্য করা? আমার মনে হয় কয়েকটি কারণে এই মন্তব্য করা যেতে পারে।
প্রথমেই এ প্রশ্নটিকে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোনে বিবেচনা করা যাক। তাহলে প্রাথমিক ভাবে এটা মনে হতে পারে যে জ্যোর্তিবিদ্যা ও অর্থনীতির মধ্যে প্রদ্ধতিগত কোন পার্থক্য নেই। কেননা দুটি ক্ষেত্রেই বিজ্ঞানীরা আশপাশের ঘটনাবলী বিশ্লেষনের মাধ্যমে তাদের মধ্যে সংযোগ স্থাপনের চেষ্টা করেন। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এ দটির মাঝে কিছু পদ্ধতিগত পার্থক্য অবশ্যই বিদ্যমান। অর্থনৈতিক ঘটনাবলী বহু বিষয়ের উপর নির্ভর করে, তাই স্বতন্ত্র ভাবে বিষয় গুলি মূল্যায়ন করা একটু কঠিন। সর্বোপরি মানব সভ্যতার ঊষাকাল হতে এখন পর্যন্ত মানবসমাজের ইতিহাস শুধু অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমেই প্রভাবিত হয়নি। উদাহরনসরূপ পৃথিবীর প্রধান প্রধান রাষ্ট্রের পত্তনের পেছনে রয়েছে যুদ্ধের ইতিহাস। যুদ্ধজয়ী রাষ্ট্রগুলো পরাজিতদের উপর তাদের নিজেদের সুবিধামত আইন ও অর্থনৈতিক কাঠামো প্রয়োগের মাধ্যমে সুবিধাভোগী শ্রেণীতে পরিণত হয়েছে। এবং ভুমির ইপর একচেটিয়া অধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে নিজেদেরকে এক একটি গোষ্ঠিতে পরিনত করেছে ।এবং তারা পুরনোযুগের পুরোহিতদের মত তারা শিক্ষাব্যবস্থাসহ সকল সামাজিক মূল্যবোধের উপর নিজেদের নিয়ন্ত্রন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সাধারন জনগনকে নিয়ন্ত্রন করতে চায়।
কিন্তু ইতিহাস বিচার করলে একটি সত্য বারবার আমাদের সামনে এস উপস্থিত হয় , যা থরস্টাইন ভেবলের ভাষায় বলতে গেলে বলতে হয় যে -তথাকথিত মানব সভ্যতা উন্নয়নের সাথে অর্থ আত্মসাতের সম্পর্ক অগ্রাহ্য করা যায়না। এবং আমরা যে সমস্ত তথ্য যোগার করতে পেরেছি তাতে বার বার এই কথাটির সত্যতাই পূণরাবৃত্ত হয়েছে। যেহেতু সমাজতন্ত্রের মূল উদ্দেশ্য অধিকতর উন্নয়ন ব্যবস্থার প্রচলন তাই উল্লেখিত পর্যায়ের অর্থনীতি ব্যাবস্থা সমাজতান্ত্রিক সমাজের বিষয়বস্তুকে ঠিক ব্যাখ্যা করতে পারেনা।
দ্বিতীয়ত, সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থার লক্ষ নৈতিক সততা অর্জন ,যেখানে বিজ্ঞান নিজে থেকে কোন লক্ষ অর্জনে অক্ষম ; বিজ্ঞান মানুষের লক্ষ পূরণের একটি হাতিয়ার মাত্র। যুগে যুগে মহান ব্যাক্তিবর্গ একএকটি সঞ্জীবনী সমাজ সৃষ্টির লক্ষে কাজ করে চলেন।
কাজেই বলা যায় মানবিক/সামাজিক সমস্যা সমাধানের জন্যে একমাত্র বিশেষজ্ঞরাই সর্বদা মতামত দান করবেন তা ঠিক নয়।
অনেকেই বলে এখন মানবসামজ অত্যন্ত সংকটের মধ্য দিয়ে পার হচ্ছে। এপরিস্থিতিতে অনেকেই হয়তো উদাসিন থাকেন। যেমন আমি কিছুদিন আগে একজন বিচক্ষন ব্যক্তির সাথে মহাযুদ্ধের ভয়াবহতা সম্পর্কে আলোচনা করেছিলাম। তিনি ঠাণ্ডা মাথায় আমাকে পাল্টা প্রশ্ন করলেন –‘আপনি খামোখা মানবসভ্যতা বিলুপ্তিকে অসমর্থন করছেন কেন?’
আমি নিশ্চিত যে আজ থেকে একশো বছর আগেও কোন ব্যক্তি বিষয়টা এতটা হালকাভাবে নিতেন না।হয়তো এটা মানুষের হিন্যমনতারই একটি বহিঃপ্রকাশ। এর আসল কারণ কী? এর থেকে মুক্তির উপায়ই বা কী?
এরকম প্রশ্ন করাটা আসলে খুবই সহজ। কিন্তু উত্তর খোঁজাটাই কঠিন। আমি আমার মত চেষ্টা করে যাবো যদিও জানি পুরো বিষয়টা একটা হেয়ালির মতন এবং এর কোন সহজ উত্তর নেই।
মানুষ একই সাথে একা এবং সামজিক জীব। যখন সে তাঁর ব্যাক্তিগত আশা আকাঙ্খা পূরণের জন্যে প্রচেষ্টা চালায় তখন সে একদম একা অপরদিকে সমাজে বসবাসকারী হিসাবে সে অন্যান্যদের স্বীকৃতি ,স্নেহ ভালোবাসা প্রার্থনা করে। এরকম বৈচিত্রপূর্ণতাই মানব চরিত্রের বৈশিষ্ট্য। একজন ব্যক্তির চরিত্রের বিকাশ ঘটে পারিপার্শ্বিক পরিবেশের উপর ভিত্তি করে। সমাজই একজন ব্যক্তিকে খাদ্য, বস্ত্র , বাস্সথান, কাজ করার সামগ্রী যোগায় । এবং মুখের ভাষা ও চিন্তাশক্তি বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। মানুষের অতীত ও বর্তমানের মঝে শৃংখলার সেতু তৈরি করে এই সমাজ।
পিঁপড়ে বা মৌমাছি যেমন সমাজ ছেড়ে বাস করতে পারেনা ,মানুষের অবস্থাও অনেকটা সেরকম। পার্থক্য শুধু এই যে পিঁপড়ে বা মৌমাছির জীবন উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া কিছু ধরাবাধা নিয়ম পালনের মধ্য দিয়েই কেটে যায়। কিন্তু মানুষের ক্ষেত্রে সামাজিক গঠন, উন্নয়ন , সংঘবদ্ধ হবার চেষ্টাই মূল কথা নয়, স্মরন রাকার ক্ষমতা, পারস্পারিক ভাব বিনিময় প্রভৃতিও ভূমিকা রাখে।এবং এর মাধ্যমেই সৃষ্টি হয় বিজ্ঞান, সাহিত্য, শিল্পকলা ইত্যাদি।
জন্ম ও উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাকৃতিক ও জৈবিক চাহিদাগুলো মানবিক বৈশিষ্টের মাঝে পরে। এছাড়া সামাজিক পরিবেশ থেকে ভাবের আদান প্রদানের মাধ্যমে মনুষের একটি সাংস্কৃতিক ধ্যান ধারণা লাভ করে যা ব্যক্তির সাথে সমাজের সম্পর্ক নির্ধারন করে। যারা মানবসমাজ উন্নতির জন্য দিন-রাত পরিশ্রম করে চলছেন তারা আশা রাখতে পারেন যে মানুষের মানবিক স্বত্ত্বা এখনও এত নীচে নেমে যায়নি যে তাঁরা পরস্পরকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে চাইবে।
আমরা যদি নিজেদের প্রশ্ন করি যে মানবজীবনকে সুন্দর করে তুলতে হলে কী করতে হবে, তাহলে আমাদের আগে একথা মাথায় রাখতে হবে –কিছু পরিবর্তন কখনই সম্ভব নয়। যেমন মানুষের জৈবিক গঠন আমরা পরিবর্তন করতে পারিনা। আবার গত কয়েক শতাব্দি ধরে যে সামাজিক পরিবর্তন হয়েছে তাও অপরিবর্তনীয়। এটা বললে হয়তো অত্যুক্তি করা হবেনা যে এই মানুষের উৎপাদনের সমন্নয়েই এ সমাজ গঠিত হয়েছে।
এ পর্যন্ত আলোচনা শেষে আমি মোটামুটি মূল বিষয়ের কাছাকাছি চলে এসেছি। বর্তমানে একজন ব্যক্তি সমাজের উপর নির্ভরশীলতাকে ইতিবাচক হিসাবে বিবেচনা করেন না, বরং এটিকে তারা অর্থনৈতিক হুমকি হিসাবে বিবেচনা করে। এরকম ব্যক্তি স্বার্থপরতার কারণে মানুষ প্রকৃত জীবনরস হতে বন্ঞ্চিত হয়। প্রকৃতপক্ষে আমাদের এই ক্ষুদ্র জীবনে মানবসেবায় আত্ম নিয়োগের মাঝেই রয়েছে নির্মল আনন্দ।
আসলে সকল সমস্যার মূলে রয়েছে ধনতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা। উৎপাদকরা নানা রকম আইন কানুন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ভোগপণ্য ও মূলধনী শিল্পের সম্পূর্ণটি নিজের সম্পত্তিতে পরিনত করছে।
সহজ ভাষায় বলতে গেলে উৎপাদিত উপকরনের উপর যাদের মালিকানা নেই তারাই হলো শ্রমিক এবং যাদের অধিকার রয়েছে তারা কিনে নিচ্ছে শ্রমশক্তি। যদিও শ্রমিকদের সাথে তাদের তথাকথিত একটি ‘চুক্তি’ হয়ে থাকে, তবুও কর্মক্ষেত্রে উৎপাদিত মূল্যের উপর ভিত্তি করে শ্রমিকদের উপযুক্ত পারিশ্রমিক দেয়া হয়না।
ব্যক্তি মূলধনের কারনে এখন ক্ষুদ্র শিল্পের বদলে বৃহৎ শিল্প গঠিত হচ্ছে। এর ফলে অকল্পনীয় শক্তি অল্পকিছু পুজিঁপাতিদের হাতে চলে গিয়েছে।তারাএ ক্ষমতার বলে রাজনৈতিক পরিস্থতি, নির্বাচন ব্যবস্থা , বেতার , সংবাদপত্র, শিক্ষা ব্যবস্থা পত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নিয়ন্ত্রন করে থাকে। এই ভয়ংকর ক্ষমতা কোন নির্বাচিত গনতান্ত্রিক দলই নিয়ন্ত্রন করতে পারেনা এবং নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা দূর্বলতর জনসাধারনের স্বার্থ রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়।
পুজিঁভিত্তিক অর্থনৈতিক সমাজের প্রধান দুটি বৈশিষ্ট্য রয়েছে। প্রথমত: উৎপাদনের উপকরন- এক্ষেত্রে পুজিঁর উপর ব্যক্তির নিয়ন্ত্রন, দ্বিতীয়ত: শ্রমিকের সাথে তথাকথিত ‘স্বাধীন শ্রমচুক্তি’। শ্রমিকরা যদিও অনেক ক্ষেত্রে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর শ্রমচুক্তির কয়েকটি শর্ত বাস্তবায়ন করেছে। কিন্তু আসলে বর্তমান অর্থনীতি বিশুদ্ধ পুঁজিবাদ ছাড়া কিছুই নয়।
উৎপাদনের উদ্দেশ্য এখন ব্যবহার নয়, বরং মুনাফা অর্জন। শ্রমজীবী মানুষের অভাব নেই ,কিন্তু সে পরিমানকর্মসংস্থান নেই। বেকার ও সল্প আয়ের জনসমষ্টির ক্রয় ক্ষমতা থাকেনা।তাই ভোগ পণ্যের উৎপাদন শুধু মুনাফা অর্জনকারীদের উপর নির্ভর করে।পুজিঁপাতিদের এই মুনাফার প্রতি লড়াই এর কারনে পুজিঁ বাজারে কখনও কখনও ভয়ংকর মন্দার সৃষ্টি হয়।
আমার মতে ব্যক্তি প্রতিবন্ধকতাই ধনতন্ত্রের সবচেয়ে খারাপ দিক। এই প্রতিযোগিতার বীজ শিক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে সন্ঞারিত হয়। তাদের কে এমন ভাবে শিক্ষা প্রদান করা হয় যেন তাদের শিক্ষাজীবনে অর্জিত শিক্ষা ভবিষ্যতের অর্থ উপার্জনের সহায়ক হয়।
আমি নিশ্চিত যে সমাজতান্ত্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এ সমস্যাগুলো দূর করা যাবে।একই সাথে এমন শিক্ষা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হবে যার উদ্দেশ্য থাকবে একটি সামাজিক লক্ষ স্থির করা। এবং এধরনের অর্থনৈতিক ব্যাস্থার ক্ষেত্রে উৎপাদিত উপকরনের মালিক হবে সমাজ এবং সামজের প্রয়োজনের উপর ভিত্তি করে উৎপাদন ব্যাবস্থা গড়ে উঠবে। শুধুমাত্র এরকম সমাজেই সকল স্তরের সকল নারী,পুরুষ,শিশু ,বৃদ্ধরা নিশ্চিত রূপে পেট ভরে খেতে পারবে। উল্লেখিত শিক্ষা ব্যবস্থা হবে আমদের বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থার সম্পূর্ণ বিপরীত।
সবশেষে এটা মনে রাখতে হবে যে পরিকল্পিত অর্থনীতি হলেই সমাজতন্ত্র আসেনা। কোন কোন সময় পরিকল্পিত অর্থনীতি মানুষকে ক্রীতদাসে পরিনত করতে পারে। সমাজতন্ত্রের জন্য দরকার সামমাজিক ও রাজনৈতিক সমস্যার সমাধান। কিন্তু প্রায় অপর্যাপ্ত রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যবস্থায় ক্ষমতা কেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে কি শক্তিশালী আমলাতন্ত্র কে রোধ করা যাবে? একই সাথে কি ব্যক্তি অধিকারকে ঠিক রেখে গনতান্ত্রিক আমলাতন্ত্রকে নিয়ন্ত্রন করা সম্ভব হবে?
কাজেই এ যুগে এসে সমাজতন্ত্রের লক্ষ সম্পর্কে আমাদের অবশ্যই ধারণা থাকা উচিত। যদিও বর্তমানে এবিষয়ে আলোচনা কে অনেকেই ভালো চোখে দেখেন না, তবে আমার মতে এই পত্রিকার প্রতিষ্ঠা সাধারন মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
ভালো-মানুষ বলেছেন:
ভ্রুক্ষেপিত ভাইয়ের চোখে পড়লেই হয়!
লেখক বলেছেন: ভ্রুক্ষেপিত জ্ঞান ভাই এইমাত্র পোস্টি দেখে গেলেন! দেখি কিছু বলেন কিনা।
সত্যান্বেষী বলেছেন:
salute to you comrade.
সত্যান্বেষী বলেছেন:
'আমি নিশ্চিত যে সমাজতান্ত্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এ সমস্যাগুলো দূর করা যাবে।একই সাথে এমন শিক্ষা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হবে যার উদ্দেশ্য থাকবে একটি সামাজিক লক্ষ স্থির করা। এবং এধরনের অর্থনৈতিক ব্যাস্থার ক্ষেত্রে উৎপাদিত উপকরনের মালিক হবে সমাজ এবং সামজের প্রয়োজনের উপর ভিত্তি করে উৎপাদন ব্যাবস্থা গড়ে উঠবে। শুধুমাত্র এরকম সমাজেই সকল স্তরের সকল নারী,পুরুষ,শিশু ,বৃদ্ধরা নিশ্চিত রূপে পেট ভরে খেতে পারবে। উল্লেখিত শিক্ষা ব্যবস্থা হবে আমদের বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থার সম্পূর্ণ বিপরীত।'তাছাড়া আর কি?
ক-খ-গ বলেছেন:
সত্যান্বেষী বলেছেন: salute to you comrade.
শয়তান বলেছেন:
ভ্রু ব্যাটা এ্যাজ ইউজুয়াল পিছলাইবো
ভালো-মানুষ বলেছেন:
বাংলাদেশ শারমেয় জিন্দাবাদ মাইনাস দিয়ে গেলু।
লেখক বলেছেন: এর ডাইরেক্ট ফলসরূপ সমাজ হয়ে যাচ্ছে ইন্ডিভিজ্যুয়ালকেন্দ্রিক, যেটা হওয়ার কথা ছিল কালেক্টিভকেন্দ্রিক।
এই অধম হাসাবীর অভিনন্দন গ্রহণ করুন, আপনি অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি পয়েন্টের দিকে নির্দেশ করেছেন।
মেটালিফেরাস বলেছেন:
সমাজতন্ত্র খারাপ না ভাল সেই বিতর্ক অর্ধশতাব্দী আগেই শেষ হয়ে গেছে। এটা নিয়ে যারা এখনো দ্বিধা দ্বন্দ্বে ভোগেন তারা হয় অকাট মূর্খ অথবা জ্ঞানপাপী।এখন ভাবা দরকার আমাদের মত পশ্চাদপদ দেশে সেটা কিভাবে সম্ভব ?
এতে আমাদের প্রধান শত্রু কারা বা প্রধান মিত্রই বা কারা ?
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ, মন্তব্য করার জন্য।
তবে অকাটমূর্খ অথবা জ্ঞানপাপী ছাড়াও আরো অনেকেই আছেন যারা মনে করেন সমাজবাদ বাতিল একটি জিনিস। এর সরাসরি কারণ তাদের নিজের সীমাবদ্ধতা নাও হতে পারে। অর্ধশতাব্দী ধরে সমাজবাদের বিরুদ্ধে পুঁজিবাদ যেভাবে মিডিয়া প্রোপাগান্ডা চালাচ্ছে তাতে আমজনতার পক্ষে ধন্দে পড়ে যাইয়াই স্বাভাবিক। বরং এক্ষেত্রে সমাজবাদীদের ভূমিকাই বরং অপ্রতুল।
আপনার প্রশ্ন দু'টো চমৎকার - একেবারে ফান্ডামেন্টাল প্রশ্ন! আমাদের মত পশ্চাদপদ দেশে সমাজবাদ কিভাবে আসা সম্ভব? এতে আমাদের প্রধান শত্রু কারা বা প্রধান মিত্রই বা কারা?
এককথায় বলিঃ
- প্রধান শত্রু পুঁজিবাদ ও পুঁজিবাদের সুবিধাভোগী শ্রেণী।
- মিত্র, সে প্রধানই বলুন আর একমাত্রই বলুন, তা হলো, নিরন্ন-বঞ্চিত-নিষ্পেষিত-নির্যাতিত-খেটেখাওয়া মানুষ।
মেটালিফেরাস বলেছেন:
ধন্যবাদ।আপনার সমাধান এককথায় নিখুঁত। তার পরেও কথা থাকে। সেটা আজ আর পারছি না। পরে আবার এই পোস্টে মতামত দেওয়ার আশা রইল।
লেখক বলেছেন: দরোজা খোলা রইল, তিথি-হীনের মত চলে আসবেন।
ভালো-মানুষ বলেছেন:
প্রায়-ই দেখি অনেকে ব্লগারই সমাজতন্ত্রের নাম শুনলেই না না না বলতে থাকেন। যারা সমাজতন্ত্রের বিরোধীতা করেন, তাদেরকে বলতে চাই - বিরোধীতা করার অধিকার অবশ্যই আপনার আছে। কিন্তু একবার সৎভাবে ভেবে দেখুন তো সমাজতন্ত্র কি সেটা কি আপনি আসলে ভালোভাবে জানেন? নাকি যে পুঁজিবাদী সমাজে আপনার বেড়ে ওঠা সে সমাজ যা শিখিয়েছে, অন্ধভাবে সেটাকেই আপনি সঠিক বলে মেনে নিচ্ছেন? যদি উত্তর হয় যে আপনি সমাজবাদ সম্পর্কে ভালোভাবে ওয়াকিবহাল নন, তাহলে আপনাকে আমন্ত্রন জানাই সমাজবাদ সম্পর্কে জানতে, সমাজবাদী লিটারেচার পড়তে। এই ব্লগেও অনেক সমাজবাদী আছেন, যারা আপনার প্রশ্নের উত্তর দিয়ে সাহায্য করতে পারবে। আগে জানুন, তারপর নাহয় নিজেই সিদ্ধান্ত নিবেন সাম্যের মাধ্যমে মানবতার পথে হাঁটবেন নাকি অসাম্যের পথ ধরে দুর্বলকে ঠকিয়ে কেবলমাত্র নিজের জন্য বাঁচবেন।
ভ্রুক্ষেপিত জ্ঞান বলেছেন:
আমার নিকের নাম না দিলেও চলত।
যাই হোক , যে সমাজতন্ত্র ভ্লদিমির লেলিন প্রতিষ্ঠা করেছেন সেভাবে মনে হয়না আর কোন দেশেই হবে।
যদিও হয়ে থাকে কোথাও ওটা বদ্ধ ডোবার মত পূতি দুর্গন্ধ হয়ে থাকেবে উত্তর কোরিয়ার মত। বা আংশিক কিছু গ্রহন করে থাকবে ।
সমাজতন্ত্র হচ্ছে চরম ডান, আর পূঁজিবাদ হচ্ছে চরম ডান। এই দুটোই মানব সত্তার বিরুধী। মানবসত্তা সবসময় মাঝামাঝি অবস্হানটাই পছন্দ করে।
আর বাংলাদেশে সমাজতন্ত্রের সংকট কেন ?তা পুরোনো কমরেডদেরই জিগান। কি উত্তর দেয় দেখেন।
বাংলাদেশে ধর্মপন্থী দল গুলোর যে কারনে সমর্থন নেই সে একই কারনে বাম দেরই একই অবস্হা। কারনটা খুজুন। খালি ভাল মতবাদ দিয়ে কি হবে? ঐ ভাল মতবাদ দিয়ে জনগন পানি খাবেনা।
একটা বিপ্লব বা মতবাদ প্রতিষ্ঠা করতে তার নেতা কর্মীদের যে পরিমান ত্যাগ আর কোরবানি দিতে হয় তা কারো মাঝে আছে নাকি খুজেন ওটা। চে গুয়েভেরার জন্ম আর মৃত্যু নিয়ে আলোচনা সভা দিয়ে কি হবে যদি না তার মত প্রত্যেকটা বিপ্লবি না হয়।
হ্য়ত আমিও বাচঁব আরো ৫০ বছর কিন্তু রাশিয়াতেই হয়ত দেখব না সেই সমাজতন্ত্র যা লেলিন দিয়েছেন একসময়।
হয়ত কোন স্বৈরাচার বা একনায়ক এই সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করবেন তার ক্ষমতাকে ধরে রাখার জন্য , কিন্তু তা কতদিন? সাধারন মানুষরাই রাস্তায় নেমে আসবে। বুর্জোয়ার ট্যাগ লাগিয়ে আর কজনকেই খুন করা যায়।
লেখক বলেছেন: আপনার নিকের নাম নিয়েছি, কারণ আপনাকে মনে হয়েছে এই প্রসঙ্গে সবচেয়ে উচ্চকন্ঠ। যেখানেই সমাজবাদের নাম শুনেন চিৎকার করে বলতে থাকেন, সমাজবাদ একটি মরা ভূত।
বানান ঠিক হয়নি - লেলিন নয় লেনিন। লেনিন যেভাবে বিপ্লব করেছেন সেভাবে আর 'কখনোই' হবে না এটা বলা কি যুক্তিযুক্ত হলো? কিসের ভিত্তিতে বললেন আর কখনই হবে না? তবে গুরুত্বপূর্ণ যেটা সেটা হলো লেনিনের মত করেই যে বিপ্লব হতে হবে এমন কোন কথা নেই।
সমাজতন্ত্রকে চরম ডান বলছেন!? এই ব্যাপারে বিস্তারিত যদি বলেন তাহলে আলোচনা করতে সুবিধা হবে। ডান কি? সমাজতন্ত্রের সাথে ডানের সম্পর্ক কি? কেমন করে এটি মানবসত্তার বিরোধী হয়? মানবসত্তা সবসময় মাঝামাঝি অবস্হানটাই পছন্দ করে - এফতোয়াটি কি আপনি দিলেন? সমাজের কোন স্তরের মানুষ ডান দিকে ঝুঁকে থাকে আর কোন স্তরের মানুষ বামে সেটা সম্পর্কেও কিছু বলুন।
বিপ্লব করতে মতবাদের ও কর্মীদের ত্যাগের যে কথাটা বললেন, সেটা ভালো বলেছেন। চে গুয়েভেরার জন্ম আর মৃত্যু নিয়ে আলোচনা সভা দিয়ে কি হবে যদি না তার মত প্রত্যেকটা বিপ্লবি না হয় - একমত।
সজ্ঞাগত কারণেই একজন স্বৈরাচার কখনোই সমাজবাদ প্রতিষ্ঠা করতে পারে না। সমাজবাদে প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়েই ধ্বংস হয়ে যায় স্বৈরাচারী মনোবৃত্তি। স্বৈরাচারকে হটানোর ইতিহাস তো আমাদের ৯০ এর ইতিহাস। যদি আগ্রহী হন তাহলে না জানার তো কথা নয় বাম না ডান কারা পথে নেমেছিল স্বৈরাচারকে উপড়ে ফেলতে! আর ট্যাগ দিয়ে বুর্জোয়া হয় না। বুর্জোয়া হয় তার শ্রেণীগত অবস্থানের কারণে।
যে হারে পুঁজিবাদী অর্থনীতি ধ্বসে পড়ছে, আরো ৫০ বছর পর হয়তো আমেরিকাতেই দেখবেন সমাজতন্ত্র। ভুলে যাচ্ছেন কেন - প্রায় ৩০০ বছরের ভাঙ্গা-গড়ার পর প্রবল সংগ্রামের মধ্য দিয়ে পুঁজিবাদ আজকের অবস্থায় এসেছে। সে তুলনায় সমাজবাদের বয়স এখনও তো ১০০ বছরও হয়নি!
মনজুরুল হক বলেছেন:
ভ্রুক্ষেপিত জ্ঞানের বড়সড় মন্তব্যে উত্তরে বড়সড় লেখাই সঙ্গত, কিন্তু তার লেখা আবার সে দাবি করেনা। তাই সংক্ষেপেঃ
১.সমাজতন্ত্র ভ্লদিমির লেলিন প্রতিষ্ঠা করেন নাই, করেছিল বলশেভিক পার্টি। লেনিন ওই পার্টির একজন নেতা ছিলেন। আর ঠিক সেই ভাবেই প্রতিষ্ঠা করতে হবে এই কসম কে কাটল?
২."বদ্ধ ডোবার মত পূতি দুর্গন্ধ হয়ে থাকেবে উত্তর কোরিয়ার মত। বা আংশিক কিছু গ্রহন করে থাকবে ।"
এই উত্তর কোরিয়া সম্পর্কে আপনি বেশি কিছু জানেন বলে মনে হয়না।জানলে বুঝতেন ওদের জিডিপি আপনার জানা-শোনা অনেক দেশের চেয়ে বেশী। আমেরিকার মত বিশ্বমাস্তানকে সে একাই রুখে দিয়েছে। কি দিয়ে ? শুধুই কি পারমানবিক বোমা দিয়ে?
৩.মানবসত্তা সবসময় মাঝামাঝি অবস্হানটাই পছন্দ করে, না অন্য কিছু করে সেটা চূড়ান্ত নির্ণয়ের সময় এখনো আসেনি। সমাজের ভাঙ্গাগড়া অনবরত চলছে। হয়ত আপনি সেটা টের পাচ্ছেন না।
৪."একটা বিপ্লব বা মতবাদ প্রতিষ্ঠা করতে তার নেতা কর্মীদের যে পরিমান ত্যাগ আর কোরবানি দিতে হয় তা কারো মাঝে আছে নাকি খুজেন ওটা। চে গুয়েভেরার জন্ম আর মৃত্যু নিয়ে আলোচনা সভা দিয়ে কি হবে যদি না তার মত প্রত্যেকটা বিপ্লবি না হয়।"
বেশ বেশ, চে গুয়েভারা তাহলে আদর্শ বিপ্লবী, কি বলেন? এই চে গুয়েভারার চেয়ে আরো বেশী আত্মত্যাগ করেছে, আরো বেশী সাধারণ জীবন-যাপন করেছে, আরো বেশী কোরবানী দিয়েছেন। তাদেরকে অবশ্য ভ্রুর চেনার কথা নয়, তিনি চেনেন মেনন আর রনো দের!
৫.সমাজতন্ত্র সম্পর্কে আপনার এত কম ধারণা যে এ বিষয়ে আপনার সাথে কথা বলা যেতে পারে, কিন্তু বিতর্ক অনুচিৎ।
কেন যে লেখক আপনাকে বেছে নিল বোঝানোর জন্য সেটি এক বিস্ময় বটে।
লেখক বলেছেন: ১২ নং মন্তব্য দ্রষ্টব্য।
লেখক বলেছেন: আপনার সহযোগীতা 'একান্তভাবে' কাম্য।
মনজুরুল হক বলেছেন:
ভ্রুর লাইন কপি করায় আমারও বানান ভুল থেকে গেছে।দুঃখিত।
ভালো-মানুষ বলেছেন:
ভ্রুক্ষেপিত জ্ঞান ভাইয়া, আপনি দয়া করে চলে যাবেন না। আপনার জন্যই এই আয়োজন, অনেকদিনের ইচ্ছে আপনার সাথে এই সম্পর্কে কথা-বার্তা বলার (বাট নট নেসেসারীলি বিতর্ক করার।) আগেও আপনাকে অনেকবার বলেছি চলুন আলোচনা করি, আপনি না বলে চলে গেছেন। এবার আপনাকে উৎসর্গ করে পোস্ট দিলাম, আশা করি চলে যাবেন না।
দুরের পাখি বলেছেন:
আমি কিছুটা সমাজতন্ত্র বিরোধী । সেইটার মূল কারণ রাশিয়া চীন কম্বোডিয়া উত্তর কোরিয়ার ট্রমা । স্বীকার করতে লজ্জা নাই, সমাজতন্ত্রের তাত্তিক ভিত্তি নিয়া খুব বেশি জ্ঞান নাই । জানার ইচ্ছা আছে ।সমাজতন্ত্রের প্রতিষ্ঠায় একটা জিনিস আমার কাছে সবচে বড় সমস্যা মনে হয় , সেইটা হৈল, একটা নিয়ন্ত্রণ শ্রেণীর উৎপত্তি । অর্থাৎ ম্যানেজমেন্ট বা প্রশাসন যেটাই বলি ।
বুর্জোয়া চিন্তাচেতনার ইনফিল্ট্রেশন রোধে যতগুলা সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র তৈরী হৈছে সবগুলাতেই একটা বিশাল নেটওয়ার্ক গইড়া উঠছে । যারা শেষ পর্যন্ত পুঁজিবাদি অত্যাচারের কয়েকশ থাইকা কয়েকহাজার গুন বেশি নিপীড়ন চালাইছে মানুষের উপর ।
সেই শেষ পর্যন্ত যেই লাউ সেই কদুই হৈয়া পড়ছে । পুঁজিবাদেও শ্রমিক দাস আর পুঁজিপতি প্রভু, সমাজতন্ত্রেও শ্রমিক দাস আর পার্টি কমান্ড প্রভু । এইটা থাইকা মুক্তির উপায় কি ?
লেখক বলেছেন: আপনাকে এখন পর্যন্ত যতটুকে চিনেছি, চূড়ান্ত বিচারে আপনি সমাজবাদের বিরোধী হতে পারেন না। আপনার মনপীড়নের কারণ আমি মনে দু'টি:
১) সমাজবাদের দর্শণ আর সমাজবাদভিত্তিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা সম্পর্কে জ্ঞান না থাকা। আমার নিজেরও খুব ভাল জ্ঞান নেই, জানার চেষ্টা করে যাচ্ছি।
২) সমাজবাদী সমাজের ভিজিবল ব্যর্থতা।
লেখক বলেছেন: সমাজবাদীদের ব্যর্থতাকে ঢাকবার চেষ্টা অবশ্যই করি না, বরং সেটাকে বুঝতে পারাটা জরূরী মনে করি। রাশিয়া, চীন, কম্বোডিয়া আর উত্তর কোরিয়ার প্রেক্ষাপট ও ব্যর্থতার ধরণ কিন্তু এক নয়। এই ইতিহাসের বিশ্নেষণ করতে হলে সেটা শুরু করতে হবে সামন্ত সমাজ বা তারও আগেরকালের সমাজ ব্যবস্থা থেকে। সামন্ত সমাজ থেকে ব্যাক্তির লালসা ভিত্তিক পুঁজিবাদী সমাজের উত্থান এবং তারপর পুঁজিবাদী সমাজ থেকে সমাজবাদী সমাজে উত্তরণের পথ - এই ট্রানজিশনের চাড়াই-উৎড়াই ভালোভাবে না বুঝলে সমাজবাদী রাষ্ট্রগুলোর ব্যার্থতা বুঝতে পারা সম্ভব হবে না।
লেখক বলেছেন: পশ্চিমবঙ্গে যে বামজোট হেরে গেল, আপনার কি মনে হয় সেটা সমাজবাদের পরাজয়? কখনই নয়। কারণ, তাঁরা মার্কস থেকে যোজন যোজন দূরে অবস্থান করেন, তাদের রাজনীতি পয়সা ও ভোটের রাজনীতি, বুর্জোয়া রাজনীতির সাথে মূলগত তার কোন তফাৎ নেই।
গৌতম রায় বলেছেন:
সমাজতন্ত্রের একটি বড় বৈশিষ্ট্য হচ্ছে- ব্যক্তিকেন্দ্রিক ক্ষমতার চর্চা যতোদূর সম্ভব কমানো, ব্যক্তি কখনোই আইডল বা আইকন হবে না, দল হবে আইডল বা আইকন। কিন্তু উল্টোটাই দেখা যাচ্ছে প্রায় সব জায়গায়। খুব হতাশ হয়েছি, সাম্প্রতিক নেপালেও প্রচণ্ডকে এক ধরনের আইডল মনে করায়। শুধু এই সমস্যাটা এড়াতে পারলে অনেক সমস্যার সমাধান খুব তাড়াতাড়ি করা যেতো, বামদলগুলোও মানুষের কাছে পৌঁছতে পারতো আরো তাড়াতাড়ি।পোস্টের জন্য ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: সহজ (নাকি কঠিন) একটি প্রশ্ন করি: চীনের আগে ভারতে কেন সমাজতন্ত্র এল না?
শয়তান বলেছেন:
পোস্ট পর্যবেক্ষনে রাখলাম ।
দুরের পাখি বলেছেন:
প্রিয়তে নিয়া রাখলাম । দেখি মনজু ভাই কি জবাব দেন । "সমাজবাদের দর্শণ আর সমাজবাদভিত্তিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা সম্পর্কে জ্ঞান না থাকা। "
এইটা ঠিক খুব বেশি জ্ঞান নাই । যা জানা তা টুকটাক, অল্পস্বল্প বই, ইন্টারনের আর্টিকেল এইসব থাইকা , বুঝা । তবে চমৎকার তত্তের চাইতে কত পার্সেন্ট ইমপ্লিমেন্টেশন করা গেছে , সেইদিকেই আমার নজর যায় বেশি ।
গৌতম রায় বলেছেন:
হঠাৎ এই প্রশ্ন? ধারণা করি উত্তরটা আপনিও জানেন। তারপরও বলি, মাওবাদ শব্দটি কিংবা প্রপঞ্চটি বিকশিত হয়েছে চীনের বিপ্লবের অনেক পরে। তখনও ব্যক্তি মাওকে পূজা করার চল ছিলো না। আর ভারত তো কখনোই কোনো আইকন ছাড়া এক পাও এগোয় নি।
সোজা কথা বলেছেন:
যুক্তরাষ্ট্রে সমাজতন্ত্র বা কমিউনিষ্টদের একটা গালি হিসেবে শেখানো হয়। মে দিবসের মক্কায় মে দিবস বলে কিছু নেই। সেখানে বিশ্ববিচ্ছিন্ন আলাদা দিবসে লেবার ডে ছুটি দেয়া হয়। কিন্তু তার পরও চুড়ান্ত পুঁজিবাদী মোড়কে ইরাক যুদ্ধ বা এনথ্রাক্সভীতি বা জোড়াটাওয়ার ধ্বংশও একসময় আর কাজ করে না । কারণ ধনীগরীবের ব্যবধান সনাতন পদ্ধতিতে কোনদিনও কমবে না।যা অসম্ভব ছিল মাত্র দশ বছর আগেও সেইটাও সম্ভব হয় ফাপা অর্থনীতির তাসের ঘর ভেঙে যেতে যতে । লোকে যেভাবে কালো কৃতদাসের ধমনীর রক্তের একজন কে রাষ্ট্রপতি বানায় নিরঙ্কুশ ভাবে, তখন সমাজতন্ত্র "অন্য মার্কিনী নামে" হলেও যে এখানে এসে যেতে পারে তা অনেকেই বলছেন। কাল মার্কসের মোটা বইগুলোর কাটতি হুহু করে বেড়ে যাচ্ছে এটা শুনেছি একজন শ্রদ্ধেয় প্রবাসী শিক্ষকের মুখে।
লেখক বলেছেন: ওপেন মার্কেটের বিরুদ্ধে এখন সবচেয়ে বেশি সোচ্চার আমেরিকার কর্পোরেট ডিসিশন মেকাররাই। বেইল আউটের নামে ছুড়ে দেয়া তীর আমেরিকাই এখন আবার ফিরিয়ে নিতে চেষ্টা করে যাচ্ছে। তার পরেও হুড়মুড় করে তেড়ে আসে বিপদের আঁচে সবাই আতঙ্কিত। গভর্নমেন্ট গাইগুই করেও কন্ট্রোল নিচ্ছে বাজারের। অথচ একদিন এই আমেরিকাই সমসময় উচ্চকিত ছিল বাজার নিয়ন্ত্রণ একটি অন্যায় কাজ বলে।
ভ্রুক্ষেপিত জ্ঞান বলেছেন:
মনজুরুল হক ভাইয়ের অনেকগুলো মানবিক কাজের জন্য আমি আপনাকে শ্রদ্বা করি।
তবে ব্লগে সবসময় দেখি আপনার মন্তব্যগুলো ,এমন ভাব আপনার যেন আপনিই সব কিছু জানেন। সাতদিন সাত পত্রিকায় স্পোর্ট নিউজ সহ লিখেন / কলকাতার আজকাল বা দিনকালে লিখেন। হাবভাব অন্যরকম।যেন সবই বুঝে /সবই জানে।
কিন্তু বাস্তবে কি দেখি? সচলায়তনে যখন মুক্তমনার অভিজিৎ সমাজতন্ত্রের বিরুদ্বে কয়েকটা পোষ্ট দেয় তখন তার পাল্টা জবাব দেয় এই ব্লগের দিনমজুর নিকের আড়ালে থাকা কয়েকজন আর ফারুক ওয়াসিফ ভাই।
মানলাম আপনি ওখান হতে চলে এসেছেন তাই কিছু লিখেননি।
কিন্তু এই ব্লগে দিনমজুর অভিজিৎয়ের যুক্তিগুলো খন্ডন করলেও আপনাকে দেখা যায়নি খন্ডন করতে বরং লিখেছেন আপনিও করতেন সচলায়তনে কিন্তু ওখান হতে চলে এসেছেন হেন তেন এই সব।
খালি কলসি বাজে বেশী/ শুকনো পাতায় আওয়াজ বেশী।
এবার পোষ্টে আসি, উপরে আমার লিখতে ভুল হয়েছে ওখানে আসলে হবে সমাজতন্ত্র চরম ডান, আর পুজিবাদ চরল ডান।
কোন পার্টি হলেই হয়না তার জন্য নেতৃত্ব দেওয়ার মত লোকও লাগে ওটাই লেলিন পেরেছেন।
যা বাংলাদেশে কল্পনা করতে পারিনা।
উত্তর কোরিয়ায় যদি তাদের সরকার শুধু তার লোকদের বলে দেয় তোমাদের ভাল নাগরিক সুবিধা দিতে পারছিনা তোমারা যেখানে খুশী সেখানে চলে যাও , বেশীর ভাগ লোকই দেখবেন চলে যাবে।
সোভিয়েতের শেষ সময়ও যখন রুবলের পতন ঘটে , মুল্যস্পিতি ঘটে তখন ও গর্ভাচেব তখন সোভিয়েত লোকদের দেশের বাইরে যাওয়ার সুযোগ দিতোনা /পাসপোর্ট দিতোনা ।নিষেধ চিল।
মানবসত্তাকে না বুঝে শুধু গায়ের জোরে কিছু মতবাদ কিছু দিন চালানো যায়। পরে ওটা ধসে পড়লে মানুষেরা তার মাঝামাঝি জায়গায় ফিরত যায়।
তাই গর্ভাচেব বন্ধ গির্জাগুলো খুলে দিলে তার স্ত্রী আর মেয়েরাই প্রথম ঐ গীর্জায় যায়।
চে গুয়েবেরাকে যেহেতু বেশীরভাগ মানুষ ভাল করেই জানে তার নাম নিয়েছি। তার চেয়ে ও বড় বিপ্লবী থাকতেই পারে।
শুধু সমাজতন্ত্র কেন , কোন কিছু নিয়েই আমার জ্ঞান শুন্যের কোঠায়।
আর যে বেশী জানে তাকে অভিজিৎএর পোষ্টের বিরুদ্বে তার যুক্তি খন্ডন করে পোস্ট এখানে দিতে পারেনা।
বাংলাদেশে সমাজতন্ত্রের সংকট তাই মনে হয় সবসময় থাকবে।
লেখক বলেছেন: এই পোস্টটিতে দয়া করে ব্যাক্তি আক্রমণ হতে বিরত থাকুন। আপনি ইতিমধ্যেই মনজুরুল হককে অন্যায়ভাবে আক্রমণ করেছেন। এটা গ্রহনযোগ্য নয়। আক্রমণ হোক মতের বিরুদ্ধে, ব্যাক্তির বিরুদ্ধে নয়।
দুরের পাখি বলেছেন:
এবার পোষ্টে আসি, উপরে আমার লিখতে ভুল হয়েছে ওখানে আসলে হবে সমাজতন্ত্র চরম ডান, আর পুজিবাদ চরল ডান। আবারো ভুল লেখলেন মনে হৈতাছে । এইবার আরো দুইটা বানান ভুল ।
"সমাজতন্ত্র চরম বাম, আর পুঁজিবাদ চরম ডান "
এইটা বলতে চান মনে হয় ।
লেখক বলেছেন: বারবার একই কথা বলছেন, তাই ধরে নিচ্ছি সমাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে এটি আপনার গুরুত্বপূর্ণ একটি যুক্তি।
কিন্তু যুক্তিটি কি? সমাজতন্ত্র চরম বাম! পুঁজিবাদ চরম ডান। এ প্রসঙ্গে আপনার কাছ থেকে আরো খোলামেলো আলোচনা আশা করছি। আপনার দৃষ্টিতে ডান ও বামের জিনিসগুলো কি? এর চরম ফর্মটাই বা কি? চরম বাম বা ডান হলে সেটা অগ্রহণযোগ্য হবে কেন?
ভ্রুক্ষেপিত জ্ঞান বলেছেন:
আর চরম ডান বা বাম সবকিছুই মানবসত্তার বিরুদ্বে। ওটা তার পছন্দ নয়। তা যাই হোক। ধর্মের নামে বা সমাজতন্ত্রের নামে।
লেখক বলেছেন: ডান ও বাম সম্পর্কে বলার পর এই দাবীটিও ব্যাখ্যা করুন দয়া করে - চরম ডান বা বাম সবকিছুই মানবসত্তার বিরুদ্বে।
ভ্রুক্ষেপিত জ্ঞান বলেছেন:
সমাজতন্ত্র নিয়ে জানতে বা বুজতে হলে এখানের পোষ্ট এবং তর্ক ও বিতর্ক দেখতে পারেন।
মুক্তমনার অভিজিৎ মিয়ার লিখা মার্কসবাদ কি বিজ্ঞান??
ওখানে দিনমজুর , সুমন চৌধুরী, ফারুক ওয়াসিফ ভাইয়ের কমেন্টগুলো ও দেখেন।
http://www.sachalayatan.com/avijit/18023
লেখক বলেছেন: ভাইরে আপনি আমাকে হাইকোর্ট দেখাবেন না দয়া করে। আপনার ফতোয়াগুলোই আপনি সামলান। অভিজিৎকে আর তার বাপকে তো সকাল-বিকাল গালি দেন কারণ তারা দু'জনেই নাস্তিক এবং সেটা তারা প্রচারও করেন। আর এখন আপনিই দিচ্ছেন অভিজিতের রেফারেন্স। থাক পাবলিক উল্টো মনে করতে পারে। আপনি বরং আপনার দাবীগুলোতেই মন দিন।
সোজা কথা বলেছেন:
আলোচনা জমেছে। পর্যবেক্ষণরত।
অট:
একটি অপ্রাসঙ্গিক কৌতুক মনে পড়ে গেল:
একদা এক গোয়ালা তার দুগ্ধখামারে বিশুদ্ধ দুগ্ধে শতকরা ৫০ ভাগ পুস্কুরিনীর জল মিশ্রনের জন্য আদালতে অভিযুক্ত হইলে বলিল, মাননীয় আদালত আমি মধ্যপন্হী, বিশুদ্ধ দুগ্ধ চরমভাবাপন্ন মনোভাবের লক্ষণ এবং মৃত অনেক ব্যক্তি একদা বিশুদ্ধ দুগ্ধ পান করিত।
লেখক বলেছেন: উনি ওনার ফতোয়াগুলো সম্পর্কে আর কিছুই বলছেন না, এক বাক্যের ফতোয়া ব্যস শেষ! ব্যাখা দিক তারপর আসব মধ্যপন্থায় ![]()
শয়তান বলেছেন:
ভ্রু এখন ধর্ম লৈয়া পরবো ।
লেখক বলেছেন: দেখা যাক।
মনজুরুল হক বলেছেন:
মাননীয় ভ্রুক্ষেপিত জ্ঞান।
আমি কিন্তু আপনাকে আক্রমন করিনি। বলেছি "আপনার সাথে কথা বলা যেতে পারে, তবে বিতর্ক নয়। আর আপনি যে অতীতের কথা টেনে এনে আমাকে নসিয়ত করার চেষ্টা নিলেন সেটাও আপনার অজ্ঞতাপ্রসূত। ওই সময়টাতে আমি কি করেছি না করেছি সেটার বিবরণ দেওয়া আবশ্যক মনে করিনা। সবচে' বড় কথা হলো মাকর্সবাদ বা সমাজতন্ত্র বিষয়গুলো চোঙা হাতে চিৎকার করে ক্যানভাস করা যায়, বা করতে হয় তাও মনে করি না।
আমি অনেক বেশী জানি বেশী বুঝি, এটা আপনার কথা। আমি কোথাও বলেছি বলে মনে পড়ে না। তবে হ্যাঁ, সমাজতন্ত্র বিষয়ে যে আপনার চেয়ে বেশী জানি এতে কোন সন্দেহ রাখবেন না।
অভিজিতের যুক্তি খন্ডন করার কিছু দেখি না, কারণ সেগুলো কোন যুক্তিই ছিল না। ছিল আপনার মত একপেশে জ্ঞানের কিছু চমকপ্রদ স্ট্যান্ট। যা পি.মুন্সি আর ফারুক ওয়াসিফ খারিজ করে দিয়েলিলেন। তাছাড়া আমি ওয়ান সাইডেড ডগম্যাটিক বাচাল বিতর্কে জড়াই না। "মাকর্সবাদ কি বিজ্ঞান"? এই ত্বত্ত্ব আমাকে অভিজেতের কাছে শিখতে হবে না, কারণ এটা শেখার জন্য একসময় খুব কম দামে ভাল ভাল বই পুস্তক পাওয়া যেত।
আমি ত্বত্ত্বিক বুজর্গ নই, বা ত্বত্ত্ব কপচানো একাডেমিশিয়ানও নই। প্রাকটিক্যাল ফিল্ডে কাজ করা মানুষ। যা শিখেছি তা রক্তঘাম ঝরিয়েই শিখেছি। ফ্যানের বাতাস আর মুড়িচানাচুর খেতে খেতে বিদ্যালাভ করিনি। অধিকন্তু এই সব মীমাংশিত বিতর্ক আমি এড়িয়ে চলি, কারণ পৃথিবী গোল এটা পাঁচশ বছর আগে প্রমান হওয়ার পরও এ নিয়ে তর্ক করা আর ফুটো কলসিতে জল ভরে বাড়ি আনা...আবার জল ভরা..আবার বাড়ি আনতে আনতে শেষ হওয়া বুঝি।
আমি কি আপনাকে বোঝাতে পারলাম ?
এরপর আপনি স্বভাবসুলভ গালাগালি করলেও আমি উত্তর দেবনা।
আমি নলেজক্রিমিনালদের এড়িয়ে চলি।
দুরের পাখি বলেছেন:
মনজু ভাই , এই অধম একটা প্রশ্ন রাখছিলো ....
মনজুরুল হক বলেছেন:
হ্যাঁ রে ভাই দুরের পাখি। আপনার প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার আগেই মহামান্য ভ্রু'র সাথে বাহাস করতে হলো, এবং উনি যথারীতি বাহাস উস্কে দিয়ে কেটে পড়লেন। এটাই উনার ট্রাডিশন। এনি ওয়ে: আপনার পশ্নে আসি.........................................................................................
"সমাজতন্ত্রের প্রতিষ্ঠায় একটা জিনিস আমার কাছে সবচে বড় সমস্যা মনে হয় , সেইটা হৈল, একটা নিয়ন্ত্রণ শ্রেণীর উৎপত্তি । অর্থাৎ ম্যানেজমেন্ট বা প্রশাসন যেটাই বলি ।"
....................................................
এখন পর্যন্ত বিশ্বে তিন ভাবে সমাজতন্ত্রের আগমন ঘটেছে। ১.শ্রমিক শ্রেণীর নেতৃত্বে রাশিয়ায়।২.কৃষক শ্রেণীর নেতৃত্বে চীনে, ৩. ক্ষমতাকেন্দ্রের কাছাকাছি থাকা আর বৃহৎশক্তির সাথে গাঁটছড়া বেঁধে থাকার মানসিকতায় এবং নিজ দেশের শ্রেণী সংগ্রাম পেকে না উঠলেও ধার করা বা ডেকে আনা সমাজতন্ত্র এসেছিল পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোতে।
সমাজতন্ত্র মোটাদাগে পুজিবাদ থেকে কমিউনিজমে যাবার পথে একটা সাময়ীক প্লাটফরম বা মধ্যবর্তী অধ্যায়। এটিকে কমিউনিজম বলে ভাবাটা ভুল। সমাজতন্ত্রের যে মতাদর্শ সেখানে বলা আছে---ডিকটেটরশিপ অব প্রলেতারিয়েত, অর্থাৎ সর্বহারা শ্রেণীর একনায়কতন্ত্র। যখন একনায়কতন্ত্রই বলা হচ্ছে, বা ঘটিত হচ্ছে তখন "একটা নিয়ন্ত্রণ শ্রেণীর উৎপত্তি " তো হবেই! তবে এখানে একটু বোঝার ভুল থেকে যায়। আমরা বলছি পার্টি বা পার্টির নেতারা নিয়ন্ত্রক। আসলে তা নয়। নিয়ন্ত্রক আসলে শ্রেণীই। পার্টির নেতারা সেই শ্রেণীর প্রতিনিধিত্ব করে মাত্র। স্যুট টাই পরা লেনিন বা স্ট্যালিনকে আমরা শ্রমিক ভাবতে পারিনা। আমাদের বাস্তবতায় তাদের চেহারা হতে হবে দীন-দরিদ্র! রাষ্ট্র যখন একটি শ্রেণীর কাছে নিয়ন্ত্রিত তখন সেখানে যে শ্রেণী ক্ষমতায় তারা ক্ষমতাহীন শ্রেণীকে নিয়ন্ত্রণ করবেই। রাশিয়াতে যে সাইবেরিয়ারবন্দিশিবিরের কথা বলা হয় সেটা এ কারণেই।
এখানে একটা বিচ্যুতি আছে........নিয়ন্ত্রক শ্রেণী যখন তার নিজের শ্রেণীর সাথে ফারাক গডে তোলে তখন সেখানে আবার শ্রেণী সংগ্রাম অনিবার্য হয়ে ওঠে। আর সেই অনিবার্য সংগ্রামকে রাষ্ট্র বাধা দিলেই সেই শ্রেণীর সাথে রাষ্ট্রও একটা শত্রু অবস্থানে চলে যায়। ১৯৬০ সালের এ্যাকুমুলেশন থিয়োরির পর পরই রাশিয়াতে যা ঘটেছিল। আর তারই ফলশ্রুতিতে ৯১ তে সোভিয়েতের পতন। এপ্রসঙ্গে আরো বিশদ বলা দরকার এখানে পারা যাচ্ছে না।
"বুর্জোয়া চিন্তাচেতনার ইনফিল্ট্রেশন রোধে যতগুলা সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র তৈরী হৈছে সবগুলাতেই একটা বিশাল নেটওয়ার্ক গইড়া উঠছে । যারা শেষ পর্যন্ত পুঁজিবাদি অত্যাচারের কয়েকশ থাইকা কয়েকহাজার গুন বেশি নিপীড়ন চালাইছে মানুষের উপর ।"
.............................................................
না, এটা হুবহু মানতে পারছি না। নিপীড়ন অবশ্যই চালানো হয়েছে, তবে সেটা পরাজিত বুর্জোয়া শ্রেণীর উপর, যেটা আবশ্যক। আর শেষ দিকে যখন পার্টি এবং রাষ্ট্র তার সর্বরা শ্রেণীর চরিত্র হারিয়ে সবকিছুকে ক্রেমলিসে বন্দি করে ফেলেছে তখন অবধারিত ভাবে রাষ্ট্র একে একে তার শত্রু বাড়িয়েছে। এবং আরো পরে ওই সোভিয়েত রাষ্ট্র নিপীড়ক রাষ্ট্র হয়ে উঠেছে।
"সেই শেষ পর্যন্ত যেই লাউ সেই কদুই হৈয়া পড়ছে । পুঁজিবাদেও শ্রমিক দাস আর পুঁজিপতি প্রভু, সমাজতন্ত্রেও শ্রমিক দাস আর পার্টি কমান্ড প্রভু । এইটা থাইকা মুক্তির উপায় কি ?"
............................................................
না, যে লাউ সেই কদু হচ্ছেনা।পুঁজিবাদে চরম প্রতিযোগীতায় বনিকদের সাথে টিকতে না পারলে হয় আত্মহত্যা করো, নয়তো দাস হয়ে যাও। আর সমাজতন্ত্রে নিপীড়নের পরেও মানুষকে বাঁচিয়ে রাখার শর্ত আছে। সমাজতন্ত্রে মানুষ শুধু ক্রেমলিনের বিপক্ষে বলতে পারত না। এখন তথাকথিত পুঁজিবাদের মুক্তবিশ্বে আমরা কোন শক্তির বিরুদ্ধেই কিছু বলতে পারিনা। বাক স্বাধীনতা বলে কিছুই আমাদের নেই। সমাজতন্ত্রে আপনার ঘরে ফ্ল্যাট স্ক্রিন টিভি না থাকলেও টিভি ছিল, রুটি ছিল, ভিক্ষে করে পোলাও খেতে হতো না।
শেষ পর্যন্ত পৃথিবীর দুই গোলার্ধেই সাম্যবাদ আসবে। আসতেই হবে। এটাই দ্বন্দ্বিকতার নিয়ম। আমাদের মানা না-মানায় কিছুই যায় আসে না।
অরণ্যদেব বলেছেন:
এইখানে দেহি অনেক কিচু হয়া গেচে! কৈ আচিলাম ? ভ্রুর কমেন্ট পৈরা হা-হা-চি-হ -প-গে....অরে তো অহন গাধা কৈলেউ গাধায় আমারে গাইলাইব
মজনু পাটোয়ারী বলেছেন:
এসব কথা এখন হাস্যকর।
মহাপৈতাল বলেছেন:
মজনু পাটোয়ারী এখন যাত্রার জোকার।
এস এ মেহেদী বলেছেন:
ভালো লাগায়+
সাইলেন্সার বলেছেন:
.......বাচ্চা, .......বাচ্চা, ........ বাচ্চা.......বাচ্চা, .......বাচ্চা, ........ বাচ্চা
.......বাচ্চা, .......বাচ্চা, ........ বাচ্চা
.......বাচ্চা, .......বাচ্চা, ........ বাচ্চা
.......বাচ্চা, .......বাচ্চা, ........ বাচ্চা
.......বাচ্চা, .......বাচ্চা, ........ বাচ্চা
.......বাচ্চা, .......বাচ্চা, ........ বাচ্চা
.......বাচ্চা, .......বাচ্চা, ........ বাচ্চা
.......বাচ্চা, .......বাচ্চা, ........ বাচ্চা
.......বাচ্চা, .......বাচ্চা, ........ বাচ্চা
.......বাচ্চা, .......বাচ্চা, ........ বাচ্চা
.......বাচ্চা, .......বাচ্চা, ........ বাচ্চা
.......বাচ্চা, .......বাচ্চা, ........ বাচ্চা
.......বাচ্চা, .......বাচ্চা, ........ বাচ্চা
.......বাচ্চা, .......বাচ্চা, ........ বাচ্চা
.......বাচ্চা, .......বাচ্চা, ........ বাচ্চা
বন্ধনহীন বলেছেন:
মনজুরুল হক বলেছেন: ........শেষ পর্যন্ত পৃথিবীর দুই গোলার্ধেই সাম্যবাদ আসবে। আসতেই হবে।
এ কথা সেই ছোটবেলা থেকেই শুনে আসছি। এর স্বপক্ষে কোন ঘটনা বা নমুনা দেখতে পাই না। তবে মাঝে মধ্যে চরম পুঁজিবাদীদেরও (কিছু এ্যামেরিকান ফিউচারিস্টদের কথা বলছি) দেখি ভবিষৎ সমাজ কাঠামো চিন্তা করতে সাম্যবাদী সমাজের কথাই বলেন। (অন্ততঃপক্ষে বর্ণনায় তাই মনে হয়।)
কেউ কি ব্যাখ্যা করবেন, কোন যৌক্তিক কারণে ভবিষৎ সমাজব্যবস্থা সাম্যবাদী হবে? পুঁজিবাদে সংকট আছে ঠিকই, কিন্তু প্রতিবারেই দেখা গেছে, পুঁজিবাদ এর থেকে বেরিয়ে এসেছে এবং আরো শক্তিশালী হয়েছে। এ রকম শক্তিশালী ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে এসে সাম্যবাদে আসবে কিভাবে?
এই লেখাটি এবং এর মন্তব্যগুলো বেশ ভালো লাগলো।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
















