somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রাজনীতির দর্শন ও কর্মসূচি-৪ (শেষ পর্ব)

০৯ ই এপ্রিল, ২০০৮ দুপুর ২:০৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

রাজনীতির দর্শন ও কর্মসূচির চতুর্থ (শেষ) কিস্তি। মন্তব্য আশা করছি।



৮.
যে প্রসঙ্গ দিয়ে এই লেখা শুরু করেছিলাম, এখানটায় এসে তার পুনরোল্লেখ করা দরকার। বাংলাদেশে দল ভাঙার সংস্কৃতি নতুন নয়। কিন্তু কেন যে ভাঙে, দলত্যাগি নেতারা যে নতুন দলের জন্ম দেন তার আদর্শ ও কর্মসূচি যে কী, তা কখনোই পরিষ্কারভাবে বোঝা যায় না। ফলে, মনে হয়- এই ভাঙনের পেছনে কোনো আদর্শিক কারণ কাজ করেনি, করেছে নেতৃত্বের সংঘাত ও ক্ষমতার লোভ। কয়েকটি উদাহরণ দেয়া যায়:
স্বাধীনতার আগেই আওয়ামী লীগ ভেঙে গিয়েছিলো। মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ-বিরোধী ভূমিকা নেয়ার প্রশ্নে দলীয় অবস্থান বা কর্মসূচি কী হবে মূলত এরকম একটি আদর্শিক বির্তক থেকেই এই ভাঙনের উৎপত্তি। মাওলানা ভাসানী ছিলেন আপাদমস্তক সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী নেতা, জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি তাঁর এই অবস্থান থেকে বিচু্যত হননি। অন্যদিকে সোহরোয়ার্দি ছিলেন মার্কিনীদের কাছে আত্না ও মস্তিস্ক বিকিয়ে দেয়া, ক্ষমতালোভী নেতা (প্রিয় পাঠক, মনে করে দেখুন- অল্প সময়ের জন্য পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হয়েই তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন: পূর্ব পাকিস্তানকে ৯৮ ভাগ স্বায়ত্ত্বশাসন দেয়া হয়েছে!), ফলে ওই প্রশ্নে তাদের একমত হওয়া সম্ভব ছিলো না। মাওলানা ভাসানী তাই আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে গিয়ে 'ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি' নামে বামঘেঁসা নতুন দল গঠন করেন। কিন্তু স্বাধীনতার পর এই আওয়ামী লীগই বহুবার ভেঙেছে এবং কোনোবারই এর কারণ বোঝা যায়নি। বঙ্গবন্ধু নিহত হবার পর থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত মিজানুর রহমান চৌধুরী, আবদুর রাজ্জাক, কামাল হোসেন, কাদের সিদ্দিকী প্রমুখ নেতা আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে গিয়ে নতুন দল গড়েছেন। কিন্তু তাদের নতুন কোনো আদর্শ বা কর্মসূচি আছে কী না তা বোঝা যায়নি। মিজানুর রহমান চৌধুরী বা আবদুর রাজ্জাক কেন দল ভেঙেছিলেন সেটা বোঝা কঠিন, অনেকে এর পেছনে সামরিক সরকারের ইন্ধন ছিলো বলে উল্লেখ করেন। কিন্তু কামাল হোসেন এবং কাদের সিদ্দিকী যে স্রেফ শেখ হাসিনার সঙ্গে নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব থেকেই আওয়ামী লীগ থেকে সরে এসেছেন তা বলার অপেক্ষা রাখে না। মিজান চৌধুরীর আওয়ামী লীগ বা আবদুর রাজ্জাকের বাকশাল বিলুপ্ত হয়ে গেছে, কিন্তু কামাল হোসেনের গণফোরাম বা কাদের সিদ্দিকীর কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ দলদুটোর অস্তিত্ব যেহেতু এখনো আছে, কৌতূহলী পাঠকরা ইচ্ছে করলে এদের গঠনতন্ত্র-ঘোষণাপত্র ইত্যাদি পড়ে দেখতে পারেন এবং খুঁজে দেখতে পারেন যে, তাদের এই দল গঠনের পেছনে এমন কোনো দার্শনিক-আদর্শিক কারণ কাজ করেছে কী না! একই ব্যাপার ঘটেছে বিএনপির বেলায়ও। দলটি যে কতোবার ভেঙেছে তার হিসেব আমার জানা নেই। এরশাদ ক্ষমতায় আসার পরপরই শাসুল হুদা চৌধুরী, ডাঃ আবদুল মতিন প্রমুখের নেতৃত্বে দল ভেঙে যায়। এই অংশটির পুরোটাই পরে জাতীয় পার্টিতে যোগ দেয়। শওকত হোসেন নীলুর নেতৃত্বে একবার, ওবায়দুর রহমানের নেতৃত্বে আরেকবার বিএনপি ভেঙেছিলো। সামপ্রতিককালে বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বে একবার, অলি আহমদের নেতৃত্বে আরেকবার বিএনপিতে ভাঙন ঘটেছে। কিন্তু এই নতুন দলগুলোও কোনো নতুন নীতি-আদর্শ-কর্মসূচির কথা জনগণকে জানাতে পারেনি। জাসদও বহুবার ভেঙেছে। জাসদ (রব), জাসদ (ইনু), বাসদ ইত্যাদি সবই মূল জাসদের অংশ। কিন্তু সবচেয়ে বেশি ভেঙেছে বামপন্থী দলগুলো, কিন্তু কী কারণে যে এই দলগুলো ভেঙেছে, কিংবা ভাঙার ফলে কোন লক্ষ্যটা অর্জিত হয়েছে, সেসব সম্বন্ধে কিছুই জানতে পারেনি মানুষ।

৯.
পৃথিবীর বিভিন্ন দেশেই রাজনৈতিক দলগুলোর আদর্শ ও কর্মসূচিতে মতভিন্নতা ছিলো, আছে এবং থাকবে। না থাকলে তো আর অনেকগুলো দলের জন্মই হতো না, একটি দলই রাষ্ট্র পরিচালনার একচ্ছত্র অধিকার পেতো! কিন্তু এই মতভিন্নতা, মতবিরোধ ইত্যাদি থাকা সত্ত্বেও অধিকাংশ দেশেই রাষ্ট্রের দর্শন-আদর্শ-মূলনীতি সম্বন্ধে এক ধরনের জাতীয় ঐকমত্য আছে, এবং রাজনৈতিক দলগুলো এইসব আদর্শ নিয়ে অহেতুক বিতর্ক তৈরি করে না। বাংলাদেশে সেই ধরনের কোনো জাতীয় ঐকমত্য তৈরি হয়নি, এবং না হওয়ার পেছনে দলগুলোর দায়দায়িত্বই সবচেয়ে বেশি। তারা নিজেদের দলের আদর্শ রাষ্ট্রের কাঁধে চাপিয়ে দিতে চেয়েছে, কিন্তু একবারও জানার চেষ্টা করেনি যে, এই রাষ্ট্রের বাসিন্দারা এই আদর্শ আদৌ মান্য করবে কী না! স্বাধীনতার পর যেসব আদর্শকে রাষ্ট্রীয় আদর্শ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিলো সেগুলোর কোনো বিশেষ দলের আদর্শ ছিলো না, বরং মুক্তিযুদ্ধের মধ্যে দিয়ে উঠে আসা ওই আদর্শে ছিলো জাতির আশা-আকাঙ্ক্ষা-স্বপ্ন-প্রত্যাশার প্রতিফলন, যে জাতি এক বিপুল ত্যাগ-তীতিক্ষার মাধ্যমে, রক্তপাত ও জীবনদানের বিনিময়ে এই স্বাধীনতা অর্জন করে নিয়েছিলো। যেহেতু মুক্তিযুদ্ধ বিষয়টিই ঘটেছিলো একটি জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এবং সেটিতে কতিপয় জাতিদ্রোহী গোলাম-নিজামী ছাড়া সবাই স্বতস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেছিলো, তাই ওই আদর্শগুলো নিয়ে কারো কোনো দ্বিমত ছিলো না। কিন্তু পরবর্তীকালে এগুলোকে রাষ্ট্রীয় উৎসাহেই বিতর্কিত করে তোলা হয়েছে। ফলে এখন এক দল বাংলাদেশী তো আরেক দল বাঙালি, একদল রাষ্টীয় কর্মকাণ্ডে ইসলাম ধর্মের একাধিপত্যে বিশ্বাসী তো আরেকদল ধর্ম নিরপেক্ষতায় বিশ্বাসী। এই ধরনের জটিলতা আর কোনো দেশে আছে কীনা সন্দেহ। স্বাধীনতার ৩৭ বছর পরও এসব নিয়ে আমাদেরকে কথা বলতে হচ্ছে, যদিও অনেক আগেই এগুলোর মীমাংসা হয়ে যাওয়া উচিত ছিলো। কিন্তু হয়নি বলে যে কোনোদিন হবে না তা তো আর নয়, আমরা রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে এই দাবি জানাতে পারি_ তাদের দলীয় আদর্শ যা-ই হোক না কেন, রাষ্ট্রীয় আদর্শগুলোর বিষয়ে সব দল একমত হয়েই একটি সম্মিলিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন, এবং আগামী সংসদে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে এর প্রতিফলন ঘটাবেন। তবে একটি কথা না বললেই নয়- এই আদর্শগুলো অতি অবশ্যই মুক্তিযুদ্ধের আদর্শকে সামনে রেখে নির্ধারণ করতে হবে। মুক্তিযুদ্ধই আমাদের বাতিঘর, একমাত্র এই একটি বিষয়ই জাতিকে যে কোনো সময় যে কোনো পরিস্থিতিতে এক সুতোয় গেঁথে দিতে পারে।
এ তো গেলো রাষ্ট্রীয় আদর্শের বিষয়, দলীয় আদর্শ? সেটিও যে যার মতো করে ঠিক করে নেবে। গণতান্ত্রিক সমাজে এ বিষয়ে কারো কিছু বলার নেই। কারণ এসব দলীয় আদর্শ গ্রহণ করবার বাধ্যবাধকতা যেমন নেই, তেমনই প্রত্যাখ্যান করার অধিকারও সবার আছে। পছন্দ না হলে প্রত্যাখান করলেই চলবে। কিন্তু কর্মসূচিগুলো কিভাবে নির্ধারিত হবে? গত কয়েক বছরে দলগুলোর মধ্যে যে কর্মসূচি বিষয়ক অনীহা দেখা গেছে, তাতে মনে হচ্ছে- সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোরও যে আদর্শ ও কর্মসূচির পরিবর্তন-পরিমার্জন করে নিতে হয় এ কথা যেন তারা ভুলেই গেছে। আর এই কর্মসূচির মূলে আছে দেশের অর্থনেতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য একটি সুনির্দিষ্ট আদর্শ ও পরিকল্পনা ঘোষণা। বাংলাদেশের বড় দুটো দল তাদের অর্থনৈতিক আদর্শ হিসেবে মুক্তবাজার অর্থনীতির আদর্শকে গ্রহণ করেছে অনেক আগেই, কিন্তু এই আদর্শ আমাদের দেশের জন্য যে কল্যাণকর হয়নি একথা এখন সবাই স্বীকার করেন। যে দেশের ৭০ ভাগ মানুষ দরিদ্র, বাদবাকিদের অনেকেরই নুন আনতে পান্তা ফুরায় দশা, সেই দেশের বাজারকে উন্মুক্ত করে দেয়ার চিন্তা করাটা শুধুমাত্র উন্মাদের পক্ষেই সম্ভব। এই উদ্ভট ও অসম্ভব একটি আদর্শকে গ্রহণ করে যে তারা ভালো করেননি, সেটি বেশ পরিষ্কারভাবেই বোঝা গেছে যখন বিগত সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে- মুক্তবাজার অর্থনীতিতে বাজারের নিয়ন্ত্রণ সরকারের হাতে থাকে না! এই ডাহা মিথ্যে কথাটিও তাদের বলতে হয়েছে নিজেদের রক্ষা করার জন্য, কিন্তু সরকার নিজেই যখন এরকম একটি অসহায় অবস্থাকে মূর্ত করে তোলে তখন বাজার-নিয়ন্ত্রনকারী ব্যবসায়ী-লুটেরা-ফড়িয়ারা এই সুযোগ পুরোমাত্রায় গ্রহণ করে এবং এভাবেই তথাকথিক সিন্ডিকেটের জন্ম হয়! যাহোক, বুর্জোয়া দলগুলোর যে সীমাবদ্ধতা থাকে সেসব কারণেই বর্তমান বিশ্বব্যবস্থায় এই দলগুলোর পক্ষে পুরোপুরিভাবে মুক্তবাজার অর্থনীতির বিরুদ্ধে যাওয়া সম্ভব নয়। (রাষ্ট্র ক্ষমতায় যেতে পারলে বামদলগুলোর পক্ষে সেটি সম্ভব হলেও হতে পারে, কারণ আদর্শিকভাবেই তারা মুক্তবাজার অর্থনীতির বিরুদ্ধে।)। সম্ভব না হলেও, এর বিশাল থাবা ও গ্রাসকে সরকারের নিয়ন্ত্রণে রাখার কোনো বিকল্প নেই। সেজন্য প্রয়োজন একটি কল্যাণমুখী অর্থনীতির আদর্শ ঘোষণা করা এবং সেই ঘোষণা বাস্তবায়নের চেষ্টা করা। জনগণের মৌলিক অধিকার বলে স্বীকৃত যেসব বিষয় আছে সেগুলোর বাস্তবায়ন সম্ভব শুধুমাত্র সরকারী প্রচেষ্টায়ই। বাংলাদেশের এক বিপুল জনগোষ্ঠী গৃহহীন-ভূমিহীন-উদ্বাস্তু। নদীভাঙন বা এই ধরনের কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে বা মনুষ্যসৃষ্ট কোনো দুর্যোগের শিকার হয়ে এই মানুষগুলো ভিটেমাটি হারিয়ে শহরে এসে ভীড় জমায়। এতে করে শহরের ওপর যেমন চাপ পড়ে, তেমনি তাদের জীবনের নেমে আসে অকল্পনীয় বিপর্যয়। স্বাধীনতার পর থেকে এই ধরনের মানুষের সংখ্যা ক্রমাগত বেড়েই চলেছে, অথচ কোনো সরকারই সমস্যাটির দিকে দৃষ্টিপাত করেনি- যদিও এর সমাধান করা অসম্ভব কিছু নয়। বাংলাদেশের যে বিপুল পরিমান খাসজমি আছে, যা বিভিন্ন তথাকথিত প্রভাবশালীদের দখলে রয়ে যাচ্ছে বছরের পর বছর, সেগুলো উদ্ধার করে যদি এর চারভাগের একভাগও গৃহহীন-ভূমিহীনদের মধ্যে বন্টন করা যায় তাহলে বাংলাদেশে কোনো উদ্বাস্তুই থাকবে না। তবে ভূমিহীনদের নাম করে সেগুলো যেন আবার টাউট-বাটপারদের দখলে চলে না যায়, সেটি নিশ্চিত করার দায়িত্বও সরকারেরই! প্রয়োজন হলে সরকার নিজ উদ্যোগে বন্টনকৃত ওইসব জায়গায় ঘর তুলে দিয়ে ভূমিহীনদের দখল বুঝিয়ে দেবে। এতে করে সরকারের যে অর্থ ব্যয় হবে তা এই বিপুল মানবিক সমস্যা সমাধানের তুলনায় অতিশয় নগন্য। এই কাজটি করা কি অসম্ভব? ওই প্রভাবশালীরা কি সরকারের চেয়েও প্রভাবশালী? আসলে কোনো সরকারই ভূমি সংস্কারের কথা ভাবেনি, ভাবলে সম্ভব হতো। কিন্তু এরপরই প্রশ্ন আসবে, শুধু ঘর তুলে দিলেই চলবে? তারা খাবে কি? তাদের কর্মসংস্থানেরই বা কি ব্যবস্থা হবে? এই সমস্যাটিরও সমাধান অসম্ভব নয়। ওই খাসজমিগুলোর মধ্যে যেগুলো আবাদযোগ্য সেগুলো ভূমিহীনদেরকে চাষ করার জন্য শর্তসাপেক্ষে লিজ দেয়া যেতে পারে, এবং এই ক্ষেত্রে সরকারের কৃষিবিভাগ সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে পারে। তারা সর্বপ্রকার সহায়তা প্রদানের বিনিময়ে (যেমন বীজ-সার-সেচ ইত্যাদি) ফসলের অর্ধেকটা সরকারী গুদামে জমা করবে। অনেকটা সরকার ও ভূমিহীনদের মধ্যে আধাআধি বর্গা ব্যবস্থার মতো ব্যাপার। এবং যেহেতু সরকার একটি সমস্যার সমাধান করতে চাচ্ছে সেজন্য তাকেই উদ্যোগ নিতে হবে, এবং যাবতীয় সহায়তা প্রদান করতে হবে। এতে করে সরকারী গুদামেও বিপুল পরিমাণ খাদ্যশস্য জমা হবে, যার ফলে সরকারের শস্যক্রয়-কর্মসূচির অর্থব্যয় কমে যাবে। আর যেসব খাসজমি আবাদযোগ্য নয় সেগুলোতে সরকারী উদ্যোগে শিল্প কল-কারখানা গড়ে তোলা যেতে পারে অথবা দেশীয় উদ্যোক্তাদের মধ্যে শর্তসাপেক্ষে লিজ দেয়া যেতে পারে। সরকারের পক্ষ থেকে শর্ত থাকবে যে, লিজকৃত জমিতে শিল্প কল-কারখানা গড়ে তুলতে হবে, এর অন্যথা করা যাবে না এবং সেসব কলকারখানায় কর্মস্থানের ক্ষেত্রে ভূমিহীনরা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে। মাথা গোঁজার ঠাঁই আর কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হলে এই লোকগুলো নিশ্চয়ই 'ভাত দাও' বলে সরকারের কাছে ভিক্ষা চাইবে না। এখনও চায় না, তখন তো চাইবেই না। নিজেদের খাদ্য তারা নিজেরাই কিনে নেবে, নিজেদের কাপড়চোপরের ব্যবস্থাও নিজেরাই করবে। এমনকি সরকারী ব্যবস্থাপনায় শিক্ষা ও চিকিৎসার জন্য ইতিমধ্যেই যে অবকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে তাকে কার্যকরী ও সচল করা গেলে দেশের অত্যন্ত ৭৫ ভাগ মানুষ- যারা সরকারী প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা ও চিকিৎসা গ্রহণে ইচ্ছুক_ এর সুবিধা লাভ করতে পারবে।
বলাবাহুল্য, কথাগুলো যত সহজে বলা হলো, সেটি বাস্তবে পরিণত করা এরচেয়ে হাজার গুন কঠিন। এটি একদিনের কাজও নয়। তবে উদ্যোগ নিলে অন্তত একযুগের মধ্যে নিশ্চয়ই এইসব মৌলিক সমস্যা সমাধান করে বিপুল মানবিক বিপর্যয় থেকে জাতিকে রক্ষা করা সম্ভব হবে। বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় অধ্যাপক- অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাক তাঁর 'বাংলাদেশ 'জাতির অবস্থা' বক্তৃতায় সেই ১৯৮০ সালে বাংলাদেশের দুটো জিনিসকে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন এবং সেগুলোর যথাযথ ব্যবহারের জন্য পরিকল্পনা প্রণয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেছিলেন। এগুলো হলো- জনগণ এবং পানিসম্পদ। জনসংখ্যাকে তিনি জনসম্পদে রূপান্তর করার কথা বলেছিলেন। এ পর্যন্ত আমরা তা করে উঠতে পারিনি, বরং ক্রমাগত প্রান্তিক অবস্থানে ঠেলে দিয়ে, মানবেতর জীবন যাপনে বাধ্য করে তাদেরকে জাতির বোঝা হিসেবে চিহ্নিত করেছি।
স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে যেন আমরা এমন একটি দেশ দেখতে পারি যেখানে জনগণ আর বোঝা হিসেবে গণ্য হবে না, বরং পরিণত হবে সম্পদে, যাপন করবে একটি সম্মানজনক জীবন; রাষ্ট্র যেখানে নিপীড়কের ভূমিকা পালন করবে না, বরং পাশে এসে দাঁড়াবে বন্ধুর মতো; প্রভুদের হাতে দেশ ও জাতিকে ছেড়ে না দিয়ে রাষ্ট্র নিজেই হয়ে উঠবে স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং কল্যাণকামী- রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে এই লক্ষ্যে কাজ শুরু করার জন্য আমরা নিশ্চয়ই এসব দাবি জানাতে পারি!

৩টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×