somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মন খারাপ হলে যা যা করতে পারি

২৩ শে জুন, ২০০৮ রাত ১২:০৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

[এটি একটি অপ্রয়োজনীয় রচনা। সিরিয়াস-রুচিশীল-সুশীল পাঠকরা এই পোস্ট এড়িয়ে চলুন!]

ধরা যাক, আজকে আমার মন খারাপ। সকালে ঘুম ভেঙেই মনে হলো- আজ আমি কোথাও যাবো না। এই মনে হওয়াটা অবশ্য নতুন কিছু নয়, প্রায়ই এরকম হচ্ছে ইদানিং। কোথাও যেতে ইচ্ছে করছে না, কিছু করতে ইচ্ছে করছে না- যদিও, ইচ্ছে না করলেও সবই করতে হচ্ছে।

জীবন এমনই হয়তো, এভাবেই আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে ফেলে। জীবনের হা এত বড় যে, সবকিছু সে গিলে ফেলে। সেই বিরাট হা-এর মধ্যে নিজেকে সেঁধিয়ে দিয়ে কোনোরকমে টিকে আছি।

তবু, একেকদিন যেন পুরোনো স্বপ্নগুলো জেগে ওঠে। সেইসব ফেলে আসা স্বপ্ন, যা দেখে আর জেগে উঠতে ইচ্ছে করতো না!

একেকদিন সকালে উঠেই মনে হয়- আজ আমি কোথাও যাবোনা, কোনো দায়িত্ব পালন করবো না, শহুরে নাগরিকদের সঙ্গে কোনো কার্টেসি মেইনটেইন করবো না। মনে হয়- যে জীবন আমি যাপন করছি, তা নিজে বেছে নিইনি, এ জীবন নিয়তি-নির্ধারিত, আমার ওপর চাপিয়ে দেয়া হয়েছে। এসব মনে হলে ভারি মন খারাপ হয়ে যায় আমার, অজানা কারো ওপরে প্রচণ্ড অভিমানে বুক ভরে ওঠে। প্রতিদিন সকালে উঠে আমি সেভ করি, তখন মনে হয়- আজ আমি সেভ করবো না। প্রতিদিন আমি শুভ্র-সুন্দর পোশাক পড়ি- ওইদিন মনে হয় আজ আমি মলিন থাকবো, খুঁজে-পেতে তাই পুরনো ময়লা প্যান্ট-শার্ট পড়ি। এমনিতে প্রতিদিন আমি আসা-যাওয়ার পথে মেঘের সঙ্গে কথা বলি, পাখি ও গাছের সঙ্গে কথা বলি। ওইদিন মনে হয়, আজ আমি আকাশের দিকে তাকাবো না, পাখিদের ডাক কানে এলে দুই কানে আঙুল দেবো, আমি আজ কোনো ফুল দেখবো না, পাতাদের ফিসফিসানি শুনে থমকে দাঁড়াবো না, কোনো শিশুর দিকে তাকিয়ে আশায়-আনন্দে বুক ভরিয়ে তুলবো না, রূপকথার রাজকন্যাদের মতো কোনো রূপসী তরুণী দেখে বিস্ময়ে বলে উঠবো না- বাহ, কী সুন্দর! হ্যাঁ, একেকটি দিন আসে এমন...

ধরা যাক এ-ও যে, আজ আমার ছুটির দিন। সাপ্তাহিক ছুটি অথবা অর্জিত ছুটি যা-ই হোক না কেন! একটা দিন নিজের মতো করে কাটাবো বলে ছুটি নিয়েছি। তার মানে, অফিসে যাওয়ার তাড়া নেই। কালকে ফেরার পথে কাঁচাবাজারটাও সেরে ফেলেছি, বাজারেও যেতে হচ্ছে না, সম্ভাব্য সমস্ত অ্যাপয়েন্টমেন্ট ক্যান্সেল করেছি, বউকে বাচ্চাসমেত বাপের বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছি, কেউ যেন যোগাযোগ করতে না পারে সেজন্য সেলফোনটা বন্ধ করে রেখেছি। হয়তো জরুরী কোনো কাজে কেউ খুঁজবে। খুঁজুক। অন্তত একটা দিন আমি নিজের মতো করে থাকতে চাই। একদম নিজের মতো করে!

ব্যাপারটা এমন কিছু নয় অবশ্য, একটি দিন যা ইচ্ছে তাই করাটাই আমার কাছে অনেক বড় বিষয়। কারো ইচ্ছেয় চলবো না, সকালে ঘুম থেকে উঠবো দেরি করে, কিংবা উঠবোই না- দুপুর পর্যন্ত শুয়েই থাকবো, উঠে খালিপেটে সিগারেট ধরিয়ে কষে টান দেবো, বাথরুমে গিয়ে ঘণ্টাখানেক ধরে গোসল করবো, সেভ করবো না, গোসল থেকে বেরিয়ে লুঙ্গি-গেঞ্জি পড়ে চা হাতে প্রিয় কোনো বই নিয়ে বসবো, প্রিয় কোনো গান শুনবো, কিংবা চোখ ফেলে রাখবো টিভি-পর্দায় কিন্তু কিছুই দেখবো না। দুপুরের খাবার খাবো বিকেলে, খেয়ে আবার ঘুমোবো, কিংবা ঘুমুবো না, প্রিয় কোনো সিনেমাও দেখে নিতে পারি আরেকবার, পুরনো দিনের স্মৃতি রোমোন্থন করবো, না পাওয়া প্রেমের কথা ভেবে সুখ-সুখ কষ্ট পাবো- এই তো! এসব মানেই আমার কাছে নিজের মতো করে দিন কাটানো। আমি এরচেয়ে বেশি আর কিইবা করতে পারি, চাইতে পারি! কতদূরই বা যেতে পারি! যেটুকু পারি, সোজা কথায় - আলস্য করবো। আমার কাছে আলস্যের মতো প্রিয় কোনো বিষয় নেই।

কিংবা এসবের কিছুই করবো না। জীবনের অনিবার্য প্রয়োজনে বা অপ্রয়োজনেই, ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় যেসব কম্প্রোমাইজ করি, যেসব পারিবারিক-সামাজিক-ধর্মীয়-রাষ্ট্রীয় নিয়মকানুন মেনে চলি বা মেনে চলতে বাধ্য হই, প্রকাশ্য রাস্তায় দাঁড়িয়ে সেসবকে কষে গাল দেবো। অথবা শহরের সবচেয়ে উঁচু দালানের ওপরে উঠে এইসব অদ্ভুত-উদ্ভট নিয়ম কানুনের ওপর মুতে দেবো!
২৬টি মন্তব্য ২৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×