somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নিপীড়ন, আন্দোলন, শিক্ষকদের নৈতিকতা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ বাস্তবতা

১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ৮:১১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘটিত যৌন নিপীড়ন নিয়ে বেশকিছুদিন ধরেই ব্লগে এবং প্রিন্ট মিডিয়ায় লেখালেখি চলছে। বিষয়টি নতুন না হলেও জাবির এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগকে কেন্দ্র করে এটি আবার আলোচনার বিষয়বস্তুতে পরিণত হয়েছে। কিন্তু এই আন্দোলনের প্রায় শুরু থেকেই সমর্থন ও সংহতি প্রকাশ করে এলেও আমি বরাবরই এই আশংকা প্রকাশ করে এসেছি যে, এই আন্দোলনটি হয়তো সাফল্যের মুখ দেখবে না, এবং অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে আদৌ কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না।

এই কথাটি মনে হওয়ার পেছনে একাধিক কারণ আছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে শিক্ষক কমিউনিউটির নিজস্ব একটি বোঝাপড়া আছে যা বাইরে থেকে খুব একটা বোঝা যায় না, কিন্তু যারা এর ভেতরে থাকেন, তারা সবাই বিষয়টির সঙ্গে পরিচিত। এই বোঝাপড়ার কারণে কোনো কোনো শিক্ষক অপরাধ করেও অবলীলাক্রমে পার পেয়ে যান, তার সহকর্মীরা বিষয়টিকে বেমালুম চেপে যান, এমনকি কারো কারো বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ বিভাগের বাইরেই আসতে দেয়া হয় না, আর বাইরে যদি চলেই আসে তাহলে শিক্ষকরা সমস্ত ভেদাভেদ ভুলে সম্মিলিতভাবে তাদের সহকর্মীর পক্ষেই অবস্থান গ্রহণ করেন।

তেমনই একটা ঘটনার কথা বলা যাক।

আমি যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম বর্ষের ছাত্র (১৯৮৯ সালে) তখন এই ঘটনাটি ঘটে। আমাদের বিভাগের মাস্টার্সের এক ছাত্র (আনসার আলি) একই বিভাগের একজন অধ্যাপককে তার রুমে গিয়ে শারীরিকভাবে আঘাত করে। আঘাতটি ঠিক কী ধরনের ছিলো সেটি সম্বন্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট বিবরণ না পাওয়া গেলেও ওই শিক্ষকই নিজে এই অভিযোগ করেন, যে, আনসার আলি তাকে চড় মেরেছিল, এবং সেটি এতই তীব্র ছিলো যে, তার চশমা পর্যন্ত ভেঙে যায়। তিনি প্রমাণ হিসেবে বিভাগীয় চেয়ারম্যানের কাছে তার ভাঙা চশমাটি প্রদর্শন করেন। যথারীতি তদন্ত কমিটি গঠিত হয়, ওই শিক্ষক এবং ছাত্রের বক্তব্য গ্রহণ করা হয় এবং আনসার আলি আঘাত করার বিষয়টি স্বীকার করে নেন, কিন্তু এই 'অপরাধের' জন্য ওই শিক্ষকের কাছে ক্ষমা চাইতে অস্বীকার করেন। কী কারণে সে এই চড়টি মেরেছিল সে ব্যাপারে তার নিজের ভাষ্যটি কারোরই জানার সুযোগ হয় না, কারণ তাকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্চিত ঘোষণা করা হয়; কিন্তু একই সঙ্গে শিক্ষকের ভাষ্যটি সাড়ম্বরে মিডিয়ায় প্রচার করা হয়। ফলে জাতি জানতে পারে যে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক 'মহান' অধ্যাপককে তার অবাধ্য ছাত্র 'মৌখিক পরীক্ষায় যথার্থ নম্বর না দেওয়ার অভিযোগ তুলে' শারীরিকভাবে আঘাত করেছে।

এইরকম 'বখে যাওয়া' ছাত্রের প্রতি কারো কোনো সমর্থন থাকার কথা নয়, আনসার আলির প্রতিও সেটি ছিলো না, ফলে তার বক্তব্য আর জানার সুযোগ হয় না, কেউ সে চেষ্টাও করে না। কিন্তু আমরা, যারা ওই বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলাম, ধীরে ধীরে আনসার আলির সহপাঠি ও বন্ধুদের কাছ থেকে 'আসল' ঘটনা জানতে পারি। শুনতে পাই-- চড়-খাওয়া অধ্যাপকটির 'চরিত্র' ভালো নয়, তিনি নানাভাবে ছাত্রীদেরকে উত্যক্ত করে থাকেন। একইভাবে আনসার আলির সহপাঠিনী কাম প্রেমিকার সঙ্গে একাধিকবার অশোভন আচরণ করেছেন এবং সে সেটি আনসার আলির কাছে বলেছে, কান্নাকাটিও করেছে। এক পর্যায়ে আনসার আলি অতিষ্ট হয়ে ওই শিক্ষককে চড় মেরেছে। এই ভিন্ন ভিন্ন ভাষ্যের একটিই (শিক্ষকের বক্তব্যটি) শুধু সারাদেশের মানুষ জানতে পারে, কিন্তু আমরা জানতে পারি দুটোই, যদিও এগুলোর সত্যাসত্য বিচারের সুযোগ আমাদের হয় না।

বিষয়টি এখানেই সীমাবদ্ধ থাকলেও চলতো, কিন্তু শিক্ষকরা তা থাকতে দেবেন কেন? একে তো একজন ছাত্র তার শিক্ষকের গায়ে হাত তুলে ভয়াবহ 'অপরাধ' করেছে, দ্বিতীয়ত 'নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনার' আদেশ অমান্য করে সে চরম ঔদ্ধত্যের পরিচয় দিয়েছে। ফলে পুরো বিষয়টি শিক্ষদের ইগোতে গিয়ে লাগে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমাজ দলমত নির্বিশেষে এই অবাধ্য ছাত্রের বিরুদ্ধে 'যথাযথ' ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে ধর্মঘট আরম্ভ করেন এবং ক্লাশ বর্জন করতে থাকেন। একটানা ৪৩ দিন (অথবা ৪১ দিন, সঠিক হিসাবটি মনে নেই, তবে সেটি যে চল্লিশের কোঠায়, এটা মনে আছে) ধর্মঘটের পর সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তে আনসার আলির ছাত্রত্ব বাতিল করা হয়। শুধু তাই নয়, একই সঙ্গে তার স্নাতক (সম্মান) পরীক্ষার সার্টিফিকেটও বাতিল করা হয়। শুধু তাইও নয়, একই সঙ্গে এই সিদ্ধান্তও নেয়া হয় যে, আনসার আলি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভূক্ত কোনো কলেজেও আর পড়াশোনা করতে পারবে না। (তখন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ছিলো না, সব কলেজই ছিলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভূক্ত।) শিক্ষকরা তাদের আন্দোলনের সাফল্যে পরিতৃপ্ত মুখ নিয়ে ক্লাশরুমে ফেরেন। 'শিক্ষার্থীদের কাছে শিক্ষকরা থাকবেন অতি পুজনীয় আসনে'-- শিক্ষকদের এই 'নৈতিক' অবস্থানটি জয় লাভ করে, কিন্তু কিছু প্রশ্ন কোনোদিনই আর উচ্চারিত না হয়েও চিরকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মাথার ওপর ঝুলে থাকে। যেমন :

১. মাস্টার্স পড়ুয়া একজন ছাত্রের যে কোনো ধরনের 'অপরাধের' জন্য তার অনার্সের সার্টিফিকেটও বাতিল করা বা তার উচ্চ শিক্ষার অধিকারকে সর্বার্থে রুদ্ধ করে দেবার ব্যবস্থা করার নৈতিক অধিকার একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বা এর শিক্ষকদের আছে কী না? যদি থাকেই তাহলে, একজন ছাত্র ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠ্যক্রম সমাপ্ত করে বেরিয়ে আসার পরও তো একই ব্যবস্থা গ্রহণ করার অধিকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি রাখে। সেক্ষেত্রে একজন মানুষ আমৃতু্য এই হুমকির মধ্যে থাকতে পারে যে, তার যে কোনো 'অপরাধের' জন্য তার কষ্টার্জিত ডিগ্রিটি বাতিল হয়ে যেতে পারে। যেমন : এই লেখাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে এই অভিযোগে আমার ডিগ্রিটিও বাতিল করে দেবার অধিকার তাদের রয়েছে!!!!!!

২.এই সমগ্র প্রক্রিয়ায় অভিযুক্ত ছাত্রকে কথা বলতে না দেয়াটা নৈতিকতার কোন মানদন্ডে নিরুপিত হয়? যে অভিযোগ তুলে তারা সমগ্র জাতির কাছে সহানুভূতি আদায় করেছেন, সেই জাতির কাছে অভিযুক্তরও যে কিছু বলার থাকতে পারে, সেটি কেন তাদের 'নৈতিক' মনে স্থান পায়নি?

প্রশ্ন আরো তোলা যায়, কিন্তু তা না করেও এই কথা বলা যায় -- যে সর্বোচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে জাতিকে অহরহ নৈতিকতা শিক্ষা দেয়া হয়, সেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নৈতিকতার মানদণ্ড যদি এই ধরনের হয় তাহলে তার কাছ থেকে এমন কিছু আশা করার নেই।

এই ঘটনার পর মার-খাওয়া শিক্ষকটির 'ভাবমূর্তি' এতই বৃদ্ধি পায়, যে, বিশ্ববিদ্যালয়েরর শিক্ষক সমিতির নির্বাচনে জামাতপন্থী এই শিক্ষক সভাপতি নির্বাচিত হন। কিন্তু এখনও আমার কাছে এই প্রশ্ন জাগে, যে, তিনি কি তার ভাবমূর্তির কারণেই সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন, নাকি তার পক্ষে আন্দোলন-ধর্মঘট-ক্লাস বর্জন করে যে ভুল করেননি এটা প্রমাণ করার জন্যই তাঁকে শিক্ষকরা ভোট দিয়ে সভাপতি বানিয়েছিলেন?

এই উদাহরণটি দিলাম এইজন্য যে, কোনো একটি বিষয়ে যখন শিক্ষকরা একাট্টা হয়ে যান তখন ছাত্রদের আর কিছুই করার থাকে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রাষ্ট্রক্ষমতার মূল কেন্দ্রকেও কাঁপিয়ে দিতে পারে, একাধিকবার সেটি তারা প্রমাণও করেছে, কিন্তু শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কোনোকিছু করার ক্ষমতা ছাত্রদের নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে শিক্ষকদের ক্ষমতা প্রায় ঈশ্বরের ক্ষমতার সমান। বাইরে থেকে বিষয়টি বোঝা যায় না বটে, ভেতরে যারা থাকেন তারা সবাই-ই ব্যাপারটা বেশ ভালোভাবে টের পান।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে এমন অনেক ঘটনাই ঘটে যায়, যেগুলো বাইরে আসতেই দেয়া হয় না। যে শিক্ষকের কথা আমি এই লেখায় বলেছি, তার চরিত্র সম্বন্ধে আমাদেরও কিছু ধারণা পরবর্তীকালে হয়েছিলো। আমাদের এক সহপাঠিনী তার এই ধরনের নিপীড়নের শিকার হয়েছে। ল্যাবে প্র্যাকটিক্যাল করার সময় ওই শিক্ষক আমাদের সহপাঠিনীর গায়ে হাত দিয়ে বলতেন -- 'তোমার জামাটা তো খুব সুন্দর, কোত্থেকে বানিয়েছ?' আমাদের সহপাঠিনী লজ্জায় কুঁকড়ে যেত, আর আমরা অক্ষম আক্রোশে ফুঁসতাম। একদিন সে আমাদের কাছে এসে আকুল কান্নায় ভেঙে পড়েছিলো -- 'আমি আর পড়াশোনা করবো না। দিনের পর দিন এইভাবে... আমি আর পারছি না। তোরাও তো কিছু বলছিস না!' আমরা, সহপাঠীরা, সেদিন - 'বিষয়টি নিয়ে কি করা যায়' - বিষয়ক আলোচনায় বসি। প্রায় শতভাগ সহপাঠীই একটি ব্যাপারে ঐকমত্যে পৌঁছায় যে, কিছু একটা করা দরকার, কিন্তু অধিকাংশই সামনে আসতে অপারগতা প্রকাশ করে। অবশেষে আমরা কয়েকজন মাত্র বিষয়টি আমাদের কোর্স কোঅর্ডিনেটর (বর্তমানে যিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের একজন), এবং বিভাগীয় চেয়ারম্যানকে অভিযোগ আকারে জানাই। দুজনই - 'ব্যাপারটা আমরা দেখছি' - বলে আমাদেরকে আনসার আলির ঘটনা স্মরণ করিয়ে দেন এবং বিষয়টি নিয়ে আমরা যেন বেশিদূর না এগোই, সেই পরামর্শ দেন। আমরা সুবোধ বালকের মতো সেই পরামর্শ মেনে নিই। অবশেষে মেয়েটি এই ঘটনার প্রতিবাদে অনার্স ফাইনাল পরীক্ষা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। কিন্তু শিক্ষকরা আবারও 'ব্যাপারটা আমরা দেখবো' বলে তাকে পরীক্ষায় বসতে রাজি করায়। সে তত্ত্বীয় পরীক্ষা শেষ করার পরও যখন দেখে, শিক্ষদের দেয়া আশ্বাস আদৌ ফলপ্রসু হচ্ছে না, সে তখন মৌখিক পরীক্ষা (ভাইবা) দিতে অস্বীকৃতি জানায় এবং সিদ্ধান্তে অটল থাকে। অবশেষে পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হলে দেখা যায় - তাকে তৃতীয় শ্রেণীতে উত্তীর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে। মেয়েটি মাস্টার্স না করেই চিরদিনের মতো ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে যায়। এইরকম কতো কতো করুণ-কান্নার গল্প বিশ্ববিদ্যালয়ের ইটকাঠের সঙ্গে মিশে আছে, কেউ তার খবর রাখে না।

প্রিয় পাঠক, জানি, এই মুহূর্তে আপনার বিপ্লবী সত্ত্বা জাগ্রত হয়ে আমাদের কাপুরুষোচিত ভূমিকাকে শাপ-শাপান্ত করছে। তা করুক, আপত্তি নেই, কিন্তু একবার নিজেকে আমাদের অবস্থানে ফেলে বিচার করুন, দেখবেন ওই অবস্থায় (আনসার আলির উদাহরণটি যখন জাজ্বল্যমান হয়ে আছে) আমাদের পক্ষে আর কিছুই করা সম্ভব ছিলো না। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা হয়তো দেশের জন্য জীবনও দিতে পারে, কিন্তু বিনা অপরাধে ছাত্রত্ব বাতিলেরমতো অবমাননাকর পরিস্থিতিতে পড়তে চায় না। বিশ্ববিদ্যালয়ের বহু শিক্ষার্থীই যে আন্দোলন-সংগ্রামের 'ঝামেলা'য় জড়াতে চায় না তার কারণ হয়তো এই যে, তারা জানে -- শিক্ষকদের একচ্ছত্র ক্ষমতার কাছে তারা কতোটা অসহায়। জানে এ-ও যে, তারা আক্রান্ত হলে কেউ-ই তাদের সঙ্গে থাকবে না। আনসার আলির এই পরিণতিতেও কাউকেই কোনো প্রশ্ন উত্থাপন করতে দেখা যায়নি। বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষ তো নয়ই, কোনো গণমাধ্যম, কোনো মানবাধিকার সংস্থা, কেনো আইন-আদালতই সেদিন আনসার আলির প্রতি নূন্যতম আগ্রহ দেখায়নি। আনসার আলি যে-কোনো একজন মানুষের মতো জনস্রোতে হারিয়ে গেছে চিরকালের মতো, কেউ তার কোনো খোঁজ রাখেনি।

লেখাটি অনেক বড় হয়ে যাচ্ছে, আরেকটি প্রসঙ্গ উত্থাপন করে শেষ করি। অনেক করুণ অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হওয়া সত্ত্বেও ক্যাম্পাস এখন পর্যন্ত আমার কাছে সবচেয়ে প্রিয় জায়গা। ক্যাম্পাসকে আমি বলে থাকি -- মায়ের আঁচলের মতো সবুজ মায়াময়। কোনোরকম আক্রোশ থেকে এই ঘটনাটি লেখা হয়নি। আর তাছাড়া আমার সব শিক্ষকও ওই শিক্ষকের মতো নন। আমার বেশ কয়েকজন শিক্ষক ছিলেন যাঁরা সন্তের মতো জীবন যাপন করতেন। অধ্যাপক মুহতাশাম হোসেন, অধ্যাপক এ এম হারুন অর রশীদ, অধ্যাপক হীরন্ময় সেনগুপ্ত, অধ্যাপক ললিত মোহন নাথ, অধ্যাপক সুলতান আহমদ, অধ্যাপক আহমেদ শফি, অধ্যাপক খোরশেদ আহমেদ কবীর -- এঁরা ছিলেন সাধুসন্তের মতো মানুষ। হারুন স্যার এবং নাথ স্যারের খানিকটা রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা থাকলেও অন্যদের তা-ও ছিলো না। আমি এই ধরনের শিক্ষক পেয়েছিলাম বলে নিজেকে ভাগ্যবান বলে মনে করি। কিন্তু সমস্যা হলো -- এই শিক্ষকরা একেকজন বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মতো বাস করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনোকিছুর সঙ্গেই যেন তাদের কোনো সম্পর্ক নেই। পড়াশোনা, গবেষণা, শ্রেণীকক্ষ, ছাত্রছাত্রীদের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা নিয়ে তাঁরা রচনা করেছেন আপন ভুবন, সেই ভুবনেই ডুবে থাকেন গভীরভাবে। আমি নিশ্চিত যে, প্রত্যেক বিভাগেই এইরকম বেশকিছু শিক্ষক আছেন, এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নৈতিক অবক্ষয়-জনিত জটিলতার অবসানে এঁরা রাখতে পারেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। বিচ্ছিন্ন দ্বীপে বাস করা এই সন্ত শিক্ষকরা যদি একত্রিত হয়ে নিপীড়নকারীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন, একটি নীতিমালা প্রণয়ন ও তার কার্যকারিতার ব্যাপারে সক্রিয় হন, অর্থাৎ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষমতাকাঠামোর ভেতর থেকেই যদি এরকম একটি প্রতিরোধ গড়ে ওঠে, হয়তো কেবল তখনই এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব!

কিন্তু এই জীবনে এই বিচ্ছিন্ন মানুষগুলোকে একত্রিত হয়ে একটি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে দেখে যেতে পারবো তো!
১৯টি মন্তব্য ১৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×