আমার প্রিয় পোস্ট
- ব্লগারদের বই নিয়ে আহমাদ মোস্তফা কামালের রিভিউ : ছাপা কাগজে একটুকরো 'ব্লগ' - ফিউশন ফাইভ
- পাঠ পুনর্দর্শন : "ঘর ভরতি মানুষ অথবা নৈঃশব্দ্য"# আহমাদ মোস্তফা কামাল - হিমালয়৭৭৭
- লাক্স এর চামড়া ব্যবসা , দর্শকের দেহ কামনা আর ব্লগে ধর্ষকামী ভূতের আছর- শেষ পর্ব - রাগ ইমন
- তাহলে এইবারের বস্তি পোড়ার জন্য আমরা চাঁদকে দোষারোপ করতে পারি - অন্যমনস্ক শরৎ
- প্রিয় দুইজন ব্লগারকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা : শুভ জন্মদিন 'আহমাদ মোস্তফা কামাল'; শুভ জন্মদিন 'প্রিয়তমা' - একরামুল হক শামীম
- অন্ধকার --- জীবনানন্দ দাশ - কালের সাক্ষী
- অপরবাস্তব-৪ এর জন্য ব্লগারদের লেখা মনোনয়নের আহবান - অপ্সরা
- অন্ধ যাদুকর- আহমাদ মোস্তফা কামাল - রাসেল ( ........)
- প্লাস্টিকের ফুল আর খেলনা একতারার গল্প - হাসান মাহবুব
- ২০০৮ সাল পর্যন্ত সকল বাংলাদেশী আইন - রাজন সান
- ইতিহাসের প্রথম বিজ্ঞানী! - ম্যাভেরিক
- আজ ১৯শে মে। ১৯৬১ সালের এই দিনে মাতৃভাষা বাংলার জন্য শহীদ হয়েছিলেন ১১ জন ভাষাবিপ্লবী। - কুঙ্গ থাঙ
- লেখক বন্ধুদের লেখা নিয়ে কিছু এলোমেলো ভাবনা। রেজা ঘটক - রেজা ঘটক
- প্রকৃতির খেলা ২ - ধরিত্রীর বুকে অন্য বিশ্বের ছোঁয়া - অপরিচিত_আবির
- রূপকথা নিয়ে কিছু কথা হতে পারে! - খারেজি
- মায়া-দরোজা - খারেজি
- প্রতিদিন শত তুচ্ছে: ধরো বন্ধু আমার কেহ নাই - নুশেরা
- মনসুন রেইন: বহুদিন পর বৃষ্টি দেখে আশ্চর্য কী-বোর্ড ম্যানিয়া! - মাহবুবা আখতার
- আগামীবার যখন উইন্ডোজ নতুন করে সেটআপ দেবেন....... - নাফিস ইফতেখার
- সেনাবাহিনীর কুকীর্তির লিষ্ট : আমাদের গোল্ড ফিশ মেমরীকে ব্লগে সংরক্ষন - শূন্য আরণ্যক
- রেডিমেড এনিমেটেড ইমো - ভেংচুক
- ডক্টর মোহাম্মদ মোজাম্মেল হোসেইন : যার কাছে বাঙালীর অসীম কৃতজ্ঞতা - অমি রহমান পিয়াল
- আপনার জন্ম এবং কিছু কথা - শেরিফ আল সায়ার
- শহীদ বুদ্ধিজীবীদের নামের তালিকাঃগভীর শ্রদ্ধা ভরে স্মরণ করছি তোমাদের - এ. এস. এম. রাহাত খান
- প্রিয় দুইজন ব্লগারকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা : শুভ জন্মদিন 'আহমাদ মোস্তফা কামাল'; শুভ জন্মদিন 'প্রিয়তমা' - একরামুল হক শামীম
- অনেক দিন পর বোর্হেসকে নিয়ে - রায়হান রাইন
- চট্টগ্রাম - War Cemetery (1939 - 1945 ) - তারার হাসি
- ২০০৮ : আপনার চোখে ব্লগের বর্ষসেরা লেখা কোনটি? (আপডেট-১২ : একটি বিশেষ ঘোষণা) - ব্রিগেড সিক্সটিন
- মারফিসূত্র বা Murfy's Laws - সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই
- ফোবিয়া // ভীতি // আতঙ্ক সমূহ (সম্পূর্ণ) - মইন
- মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস,গল্প ও কবিতা সংকলনের তালিকা - ফারহান দাউদ
- কেন কিনবেন বই যখন ফ্রী পাচ্ছেন? - তামিম
- মনে হচ্ছিল আমি কোনো স্বপ্ন দেখছি..... - শেরিফ আল সায়ার
- অদ্ভুত আঁধার এক এসেছে এ পৃথিবীতে আজ - একরামুল হক শামীম
- ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ! - হমপগ্র
- অর্ন্তজালের বাংলা ওয়েব সাইটগুলোর একটা তালিকা তৈরী করলাম। - একজন ব্লগার
- মুক্তিযুদ্ধের কিছু প্রামান্য বইয়ের তালিকা - ফারহান দাউদ
- প্রকাশিত হল মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক ই-সংকলন ফিরে দেখা একাত্তর - ব্রিগেড সিক্সটিন
- জীবনানন্দ দাশ : 'বনলতা সেন' কাব্যগ্রন্থ - একরামুল হক শামীম
- জীবনানন্দ দাশ : কবিতায় খুঁজি বাংলার রূপ - একরামুল হক শামীম
- একদিন আমি- যা হবার তাই হোকনা - কি আসে যায় - দ্যা গ্রীম রিপার
- নবীজী মুহম্মদ সা. এর বিয়েসমূহ এবং কিছু প্রশ্ন - নাস্তিকের ধর্মকথা
- ফিরে আসা বলে কিছু নেই - মুকুল
- ভাইরাস ডিলিট করুন manually - অনিকেত প্রান্তর
- ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা- ৯ ( তোমার চোখ এতো লাল কেন--নির্মলেন্দু গুণ ) - আবদুর রাজ্জাক শিপন
- ”আমরা” যেখানে যেতে চাই ট্রেনটা সেখানে যাচ্ছেনা - অন্যমনস্ক শরৎ
- সৈয়দ শামসুল হক বললেন ভারত বিভাগ একটা ঐতিহাসিক শোকের ঘটনা - কৌশিক
- π (পাই) এর মান - তাজুল ইসলাম মুন্না
- কর্ণেল তাহেরর জবানবন্দি - চিলে কোঠার সেপাই
- মুক্তি পেয়েও আরিফের ফেরারী যাপন - অমি রহমান পিয়াল
আমাদের মুক্তিযুদ্ধ : অনিবার্য ছিলো, আকস্মিক নয়
১৪ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ২:০০
এর আগে 'বাংলাদেশের মানুষের মন' লেখাটিতে আমি বলেছিলাম - বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে এক অদ্ভুত নিরাসক্তি, নিস্পৃহতা এবং ঔদাসিন্য আছে। ঘটমান ঘটনাসমূহে তারা এমনভাবে অংশগ্রহণ করে যে, মনে হয় এসবে তাদের কিছুই যায় আসে না। অনেক সময় তারা অংশগ্রহণ পর্যন্ত করে না, কেবল দেখে যায়। মাঝে মাঝে আমার মনে হয় - এত যে নিরাসক্তি তাদের, তারা কি একবারও ভেবে দেখে না যে, এসব ঘটনা তাদের জীবনে কী ভয়ংকর বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে!
এরকম একটা কথা বলা হয় যে, পলাশির আম্রকাননে বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব যখন ইংরেজদের সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত, তখন আশেপাশের কৃষকরা হয়তো তাদের দৈনন্দিন জীবনের ধারাবাহিকতায় মাঠে কাজ করছিলো, যুদ্ধ শেষ হলে হয়তো একজন আরেকজনকে জিজ্ঞেসও করেছিলো - আজকে কী ঘটলো! হয়তো যুদ্ধের কথা জেনে এ-ও জানতে চেয়েছিলো কে হারলো কে জিতলো, কিন্তু নবাব হেরে গেছেন শুনে তাদের বিশেষ কোনো প্রতিক্রিয়া হয়েছিলো বলে মনে হয় না। এই পরাজয়ের সংবাদটিকে হয়তো তারা একটি মাত্র বাক্য দিয়ে গ্রহণ করেছিলো - 'ও আচ্ছা।' কিন্তু এই ঘটনা যে তাদের জীবনে কী দীর্ঘস্থায়ী ভয়ংকর বিপর্যয় ডেকে আনবে তা তারা ভেবেই দেখেনি। এ কথা সত্যি যে, নবাবের সঙ্গে বৃহত্তর জনজীবনের কোনো সম্পর্ক ছিলো না, ফলে নবাবের জয়-পরাজয়ে তাদের বিশেষ কোনো ভাবান্তর না থাকাই স্বাভাবিক। তাই বলে নিজেদের নবাব হেরে গেলো বিদেশী একদল লোকের কাছে এটা কী কোনো প্রভাবই ফেলবে না তাদের মনে?
এরকম ঘটনা শুধু দুশো বছর আগেই নয়, আজও ঘটে চলেছে। স্বাধীনতার পর এদেশে যতগুলো আন্দোলন হয়েছে - '৯০ এর গণআন্দোলনের কথা মনে রেখেই বলছি - সেগুলো মূলত ছিলো শহরভিত্তিক, দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ, যারা গ্রামে বাস করে, এসবের তোয়াক্কাই করেনি।
অথচ বড়ো মাপের পরিবর্তনের প্রত্যাশা নিয়ে যে ঘটনাটি ঘটেছিলো সেখানে তারা এমন নিরাসক্ত ছিলো না, আমি আমাদের মুক্তিযুদ্ধের কথা বলছি, বরং তাদের তুমুল অংশগ্রহণই আমাদের বিজয়কে অনিবার্য করে তুলেছিলো। এক অদ্ভুত উদাসীনতা, নিরাসক্তি ও নিস্পৃহতা থাকা সত্ত্বেও একাত্তরে এই জাতি যে মুক্তিযুদ্ধে তুমুলভাবে অংশগ্রহণ করেছিলো তার কারণ কি? বাঙালি তো কোনোদিনই যোদ্ধা জাতি নয়, চিরকাল সে নির্ঝঞ্ঝাট থাকতে চেয়েছে, তাহলে মুক্তিযুদ্ধের সময় সবাই মিলে এমন মরনপণ যুদ্ধে জড়িয়ে পড়লো কেন? এটা কি হঠাৎ ঘটে যাওয়া কোনো ঘটনা? সেরকমটি মনে করার কোনো কারণ নেই। হঠাৎ ঘটে যাওয়া কোনো ঘটনায় এত দ্রুত একটি জাতি সংঘবদ্ধ হতে পারে না। তাহলে কি বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে আগে থেকেই এমন একটি প্রস্তুতি ছিলো? থাকলে তো তাদেরকে আর উদাসীন বলে আখ্যা দেয়া যায় না। বোঝা যায় এ নিয়ে তাদের আগে থেকেই চিন্তাভাবনা ছিলো। তাহলে সেটা বোঝা যায়নি কেন? তবে কি বিষয়টা এরকম যে, বাঙালি যতটা উদাসীনতা দেখায় আসলে তারা অতোটা উদাসীন নয়! এ প্রসঙ্গে আমি বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক স্যারকে উদ্ধৃত করতে চাই। তিনি তাঁর একমাত্র লিখিত বক্তৃতা - 'বাংলাদেশ: জাতির অবস্থা'য় বলেছেন -
'বাংলাদেশের মানুষ একটা জাতি, কারণ তারা একটা জাতি হতে চায়, অন্য কিছু নয়। .... এই জাতিকে তৈরি করেছে তার অনমনীয় গর্ব, সুখে-দুঃখে আট কোটি মানুষের সঙ্গে একই পরিচয় বহন করা, অন্য কিছু নয়, শুধু বাঙালি হতে চাওয়ার জেদ।' ১৯৪৭-এর দেশভাগের সঙ্গে সঙ্গে বাংলাও ভাগ হয়ে যাওয়া প্রসঙ্গে তাঁর মন্তব্য _ 'বাংলাভাষী জনগণের অধিকতর বাঙময় অংশটি (অর্থাৎ, পশ্চিমবঙ্গের বাঙালি) ভারতীয় জাতির বৃহত্তর পরিচয়ে নিজের অধিকার হারানোকেই ভবিষ্যৎ হিসেবে বেছে নিলো।... কিন্তু - 'বাংলাভাষী জনগোষ্ঠির বৃহত্তর অংশটি (অর্থাৎ পূর্ববঙ্গের বাঙালি) যদিও ভারত ও পাকিস্তানের বাইরে একলা পথ চলতে গররাজি ছিলো না, কিন্তু শেষ পর্যন্ত নতুন রাষ্ট্র পাকিস্তানের সঙ্গে নিজের মিলিত হওয়ার পক্ষে রায় দিলো, তবে কিছু বৈশিষ্ট্য সংরক্ষণ করেই। তার এই বৈশিষ্ট্যগুলোই ভাষা আন্দোলনের জন্ম দিলো যার চূড়ান্ত পরিণতি হচ্ছে জাতীয় রাষ্ট্র বাংলাদেশ।'
অধ্যাপক রাজ্জাক মনে করেন যে, পশ্চিমবঙ্গের বাঙালিদের সঙ্গে মিলেমিশে থাকার ব্যাপারে এদেশের মানুষের কোনো আপত্তি না থাকলেও বৃহত্তর ভারতীয় জাতিসত্ত্বায় নিজেকে বিলীন করে দেয়াতে তাদের আপত্তি ছিলো, ফলে বিকল্প হিসেবে তারা পাকিস্তানে যোগ দিয়েছিলো এবং সেটা তারা করেছিলো নিজস্ব কিছু বৈশিষ্ট্য সংরক্ষণ করেই। এই বৈশিষ্ট্যগুলোরই বহিঃপ্রকাশ ঘটে ভাষা আন্দোলনসহ, বাঙালি সংস্কৃতির বিরুদ্ধে চালানো পাকিস্তানি বিভিন্ন অপচেষ্টার বিরুদ্ধে নানাবিধ আন্দোলন ও পরিশেষে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে।
কেন মুক্তিযুদ্ধ এদেশের জন্য অনিবার্য হয়ে উঠেছিলো - এ প্রশ্ন করলে যেসব উত্তর বিভিন্ন তরফ থেকে পাওয়া যায় তাতে অবশ্য এ কথা মনে হয় না। এ প্রসঙ্গে প্রায় সবাই-ই পাকিস্তানি শাসন-শোষণের কথা বলেন। এসব কথা শুনলে মনে হয় যে, পাকিস্তানি শাষকগোষ্ঠী যদি আমাদের ওপর রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক নির্যাতন না চালাতো, কিংবা কেন্দ্রে যদি বাঙালি শাষক থাকতো তাহলে মুক্তিযুদ্ধ হতো না। এ কথার অর্থ দাঁড়ায় এই যে, আমাদের যুদ্ধটি হয়েছিলো পাকিস্তান কনসেপ্টের বিরুদ্ধে নয়, পাকিস্তানি শাসন-শোষণ থেকে মুক্তি পাওয়ার লক্ষ্যে। বলাবাহুল্য যে, এটা একটা কারণ বটে তবে একমাত্র কারণ নয় মোটেই, একমাত্র কারণ যদি হয়েই থাকে তাহলে একে মহান একটি ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করার মধ্যে ঝুঁকি আছে। কারণ, সেক্ষেত্রে মনে হতে পারে - পাকিস্তান নামক একটি চাপিয়ে দেয়া কনসেপ্টের বিরুদ্ধে না গিয়ে এদেশের মানুষ স্রেফ ওদের শোষণ থেকে মুক্তি চেয়েছিলো। অর্থাৎ এই যুদ্ধ অনিবার্য ছিলো না, ছিলো হঠাৎ ঘটে যাওয়া ঘটনা, ওদের শাসনটা শোষণে পরিণত না হলে ঘটনাটি আর ঘটতো না। ব্যক্তিগতভাবে আমি এই মতের পক্ষে থাকার কোনো কারণ খুঁজে পাই না। আমি মনে করি মুক্তিযুদ্ধ অনিবার্য ছিলো, কারণ এই দেশের মানুষ নিজেদেরকে একটি জাতি হিসেবে দেখতে চেয়েছিলো, আর যেহেতু একটি জনগোষ্ঠীকে জাতি হয়ে উঠতে হলে তাদের জন্য একটি আবাসভূমির প্রয়োজন হয় তাই তারা নিজেদের জন্য একটি স্বতন্ত্র আবাসভূমি চেয়েছিলো (আমি এ-ও মনে করি পশ্চিম পাকিস্তানিদের সঙ্গে আমাদের অত্যন্ত সুসম্পর্ক থাকলেও মুক্তিযুদ্ধ হতো, হয়ত সেটা '৭১-এ নয়, তবে হতোই) ফলে একটি যুদ্ধের মাধ্যমে নিজেদের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট রাষ্ট্র নির্মাণ করা ছাড়া তাদের সামনে আর কোনো পথ খোলা ছিলো না। অর্থাৎ মুক্তিযুদ্ধ হঠাৎ ঘটে যাওয়া কোনো ঘটনা নয়, একটি স্বতন্ত্র রাষ্ট্রের জন্য এ দেশের মানুষের প্রতীক্ষা ও আকাঙ্ক্ষা দীর্ঘকালের (মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মানে শুধু '৭১-এর মার্চ থেকে ডিসেম্বরের ইতিহাস নয়, এমনকি ১৯৪৭ থেকে ১৯৭১-এর ইতিহাসও নয়, এই ইতিহাসের মূল খুঁজতে গেলে আমাদেরকে আরও সুদূর অতীতে যেতে হবে - অধ্যাপক রাজ্জাকও তাঁর বক্তৃতায় সেদিকেই ইঙ্গিত করেছিলেন); মুক্তিযুদ্ধ তাদের সুযোগ করে দিয়েছিলো যুদ্ধের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত রাষ্ট্রটি নির্মাণের। অতএব কেবল মাত্র পাকিস্তানি শাসন-শোষণ থেকে মুক্তির জন্যই যুদ্ধটি হয়েছিলো - এরকম ক্ষুদ্র গণ্ডিতে বিষয়টিকে বন্দি করে ফেলার কোনো সুযোগই নেই। বরং নিজস্ব জাতিসত্ত্বার পরিপূর্ণ বিকাশের লক্ষ্যে এটাই ছিলো বাঙালির ইতিহাসে প্রথম সশস্ত্র পদক্ষেপ, এবং এতে অংশগ্রহণ ছিলো এদেশের আপামর জনসাধারণের। এদেশের মানুষের দীর্ঘ প্রতীক্ষা ছিলো এর জন্য, পাকিস্তানি শোষণ কেবল এক্ষেত্রে অনুঘটকের ভূমিকা পালন করেছিলো। একটি জনগোষ্ঠী যখন নিজেদেরকে একটি জাতি হিসেবে আত্নপরিচয় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এবং একটি স্বতন্ত্র রাষ্টের আকাঙ্ক্ষা থেকে এরকম ব্যাপক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে, তখন তার অর্থও হয়ে ওঠে ব্যাপক, ঘটনাটি হয়ে ওঠে মহান। প্রকৃতপক্ষে আমাদের মুক্তিযুদ্ধও ছিলো তেমনই একটা মহান ব্যাপার।
বিষয়টি এভাবে দেখলে আমরা বলতে পারি যে, '৪৭-এ মানুষ যে পাকিস্তানের পক্ষে ভোট দিয়েছিলো সেটা তাদের মনের কথা ছিলো না, তারা শুধু বৃহত্তর ভারতীয় জাতিসত্ত্বার অংশ হয়ে উঠতে চায় নি বলেই একটি বিকল্প বেছে নিয়েছিলো এবং সুযোগ আসা মাত্র অবিলম্বে নিজেদের একটি স্বতন্ত্র রাষ্ট্র নির্মাণের জন্য ঝাঁপিয়ে পড়েছিলো।
প্রশ্ন হচ্ছে - দেশের আর্থ-সামাজিক-রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক পরিস্থিতির এমন ভয়াবহ, করুণ, মর্মান্তিক ও হতাশাব্যঞ্জক অবস্থা দেখে কি আমরা আমাদের স্বপ্নকে বাক্সবন্দি করে দীর্ঘনিদ্রায় যাবো, এবং ভাববো যে, এই ঘুম ভাঙার পরে নিশ্চয়ই অবস্থা ভালো হয়ে যাবে? আমার মনে হয় না - মানুষের প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলার কোনো কারণ আছে। যে জাতি মুক্তিযুদ্ধের মতো একটি ঘটনা ঘটায় - এত সহজে তাদের প্রতি আস্থা হারালে চলবে কীভাবে?
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): মুক্তিযুদ্ধ ;
বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
রাশেদ বলেছেন:
হুমম... পড়লাম।
রাশেদ বলেছেন:
ভারতীয় জাতিস্বত্তা ফ্যাক্টর ছিলো, এইরকম কথা অবশ্য শুনি নাই আগে।
লেখক বলেছেন: এটা অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাকের মত। তিনি তাঁর ওই বইতে এ বিষয়ে তাঁর যুক্তিগুলো পরিষ্কারভাবে তুলে ধরেছেন এবং আমার কাছেও সেগুলোকে গ্রহণযোগ্য বলে মনে হয়েছে। এখানে আমি কেবল তার কয়েকটি লাইন উদ্ধৃত করে ব্যাখ্যা দেবার চেষ্টা করেছি।
আবদুর রাজ্জাক শিপন বলেছেন:
শুভ জন্মদিন , ভ্রাত !
আস্থা হারানোর কিছু নেই । হাতাশাটাও সাময়িক । এরপরই ঘুম ভেঙ্গে জাগার গল্প ।
লেখক বলেছেন: আমিও বিশ্বাস করি - আস্থা হারানোর কিছু নেই। বাংলাদেশের মানুষ শেষ পর্যন্ত পরাজিত হবে না।
একরামুল হক শামীম বলেছেন:
বিশ্লেষণগুলো ভালো লেগেছে।
লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ শামীম। এবং কৃতজ্ঞতা। এবং শুভেচ্ছা।
মোহাম্মদ আরজু বলেছেন:
জন্মদিনের শুভেচ্ছাসহ ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ আরজু।
বিষাক্ত মানুষ বলেছেন:
"'৪৭-এ মানুষ যে পাকিস্তানের পক্ষে ভোট দিয়েছিলো সেটা তাদের মনের কথা ছিলো না, তারা শুধু বৃহত্তর ভারতীয় জাতিসত্ত্বার অংশ হয়ে উঠতে চায় নি বলেই একটি বিকল্প বেছে নিয়েছিলো"আসলেই কি তাই !
লেখক বলেছেন: অখণ্ড বাংলার আন্দোলনে যে স্বল্পসংখ্যক নেতা ওই সময় যুক্ত ছিলেন তারা কিন্তু বেশ ভালো সাড়া পেয়েছিলেন। কিন্তু তাঁদের রাজনৈতিক সংগঠনগুলো এ ব্যাপারে মনোযোগী না হওয়ায় ব্যাপারটা সম্ভবপর হয়ে ওঠেনি। ভারত ভাগের ব্যাপারে পূর্ব বাংলার মুসলমানরা ভোট দিলেও বাংলা ভাগের ব্যাপারে তাদের অবস্থান ছিলো অখণ্ড বাংলার পক্ষে। অধ্যাপক রাজ্জাক সেরকমই মনে করেন। অর্থাৎ তৎকালীন পূর্ব বাংলার মানুষ 'বাঙালি' থাকতে গররাজি ছিলো না, কিন্তু বৃহত্তর ভারতীয় জাতীয় সত্ত্বায় মিশে যেতে চায়নি, এই হচ্ছে তাঁর মত। ভিন্নমত গুলো তো আমরা অহরহই শুনি, কিন্তু তাঁর এই মতটিকে এবং ব্যাখ্যা বিশ্লেষণকে আমার কাছে গ্রহণযোগ্য বলে মনে হয়েছে বলেই বিষয়টিকে তুলে ধরেছি।
মেঠোজন বলেছেন:
শুভ জন্মদিন।লেখাটি পড়লাম। ভালো লাগলো।
ভারত-পাকিস্তান বিভক্তি আসলে বাঙালি জাতিসত্ত্বার নিজেদের মতো বাঁচার প্রথম ধাপ। এবং অবশ্যই স্বাধীনতার আন্দোলন অনিবার্য ছিল।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকে।
এস্কিমো বলেছেন:
বিষয়টি এভাবে দেখলে আমরা বলতে পারি যে, '৪৭-এ মানুষ যে পাকিস্তানের পক্ষে ভোট দিয়েছিলো সেটা তাদের মনের কথা ছিলো না, তারা শুধু বৃহত্তর ভারতীয় জাতিসত্ত্বার অংশ হয়ে উঠতে চায় নি বলেই একটি বিকল্প বেছে নিয়েছিলো এবং সুযোগ আসা মাত্র অবিলম্বে নিজেদের একটি স্বতন্ত্র রাষ্ট্র নির্মাণের জন্য ঝাঁপিয়ে পড়েছিলো। - একমত। অর্থনৈতিক বিবেচনায়ও এই কথাটা সঠিক। মানুষ অর্থনৈতিক মুক্তির আশায় একটা বিশেষ সম্প্রদায়ের জমিদারী ও সামন্ততান্ত্রিক প্রভাব থেকে বের হতে আসতে চাচ্ছিলো। তখন আরেকদল সামন্ত দ্রুত নিজেদের সংগঠিত করে মুসলিমলীগ তৈরী করে - আর পাকিস্থানের স্বপ্ন দেখায়। এই স্বপ্নভংগ হতেও খুব সময় নেয়নি। মুক্তিযুদ্ধের পিছনেও অর্থনৈতিক কারনগুলো দেখলেও দেখবেন একই।
লেখক বলেছেন: বাঙালি জাতিসত্ত্বা যে একদিনে তৈরি হয়নি, হাজার বছর ধরে নানা ঘটনাপ্রবাহের মধ্যে দিয়েই যে এই জাতির বিকাশ হয়েছে, এবং এই জাতির একটি রাষ্ট্র পাবার চূড়ান্ত প্রকাশ ঘটেছে মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে - এই কথাটি ভুলে গেলে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত মহিমা বোঝা সম্ভব নয়। রাজ্জাক স্যারও সেদিকেই ইঙ্গিত করেছিলেন।
আপনাকে ধন্যবাদ সুন্দর মন্তব্যের জন্য।
লেখক বলেছেন: আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ আকাশচুরি।
রাফা বলেছেন:
৫২ থেকেই তো ধিরে ধিরে প্রস্তুত হচ্ছিল বাঙালী জাতি।অবশ্যই ,আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধ কোন আকস্মিক ব্যাপার নয়।এই ব্যাপারটাতো দাবি করে বাংলদেশের একটি দল।হুইসেল দিলাম আর যুদ্ধ শুরু হলো।
লেখক বলেছেন: শুধু ৫২ থেকে নয়, আমি মনে করি - মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মানে শুধু '৭১-এর মার্চ থেকে ডিসেম্বরের ইতিহাস নয়, এমনকি ১৯৪৭ থেকে ১৯৭১-এর ইতিহাসও নয়, এই ইতিহাসের মূল খুঁজতে গেলে আমাদেরকে আরও সুদূর অতীতে যেতে হবে। একটি স্বতন্ত্র রাষ্ট্রের জন্য এ দেশের মানুষের প্রতীক্ষা ও আকাঙ্ক্ষা দীর্ঘকালের ; মুক্তিযুদ্ধ আমাদেরকে সুযোগ করে দিয়েছিলো যুদ্ধের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত রাষ্ট্রটি নির্মাণের।
ওই দলটির কথা আর কী বলবো! ঘৃণা লাগে।
ইমন জুবায়ের বলেছেন:
চমৎকার লেখা। অবশ্যই পড়ব। তার আগে বলি শুভ জন্মদিন।
লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।
আমি আপনার কথা শোনার অপেক্ষায় রইলাম।
লেখক বলেছেন: অনেক অনেক ধন্যবাদ চিকনমিয়া। আপনার জন্যও শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা রইলো।
[ইদানিং একটু অনিয়মিত দেখছি আপনাকে, টায়ার্ড হয়ে পড়লেন নাকি?]
দুরের পাখি বলেছেন:
হুমম । কিছু ব্যাপারে একমত হতে পারছি না তবে ওভারঅল একমত এবং ভালো লেগেছে ।শুভ জন্মদিন ।
লেখক বলেছেন: যেসব বিষয়ে একমত হতে পারছেন না, সেগুলো শুনতে পারলে ভালো লাগতো। পড়ার জন্য ধন্যবাদ।
[অফটপিক : আমি কিন্তু আপনার ব্লগে এর আগেই কয়েকবার ঘুরে এসেছি, যদিও দুজন যে একই ব্যক্তি তা বুঝতে পারিনি। আপনার পোস্টে মন্তব্য না করলেও আপনি নিশ্চয়ই 'সাম্প্রতিক ব্লগ দেখেছেন' তালিকায় আমার নাম দেখেছেন! আপনার লেখার ধরনটি আমার পছন্দ, যে নামেই লিখুন না কেন!]
হরিণ বলেছেন:
শুভ জন্মিদন কামাল ভাই। এইদিনে আপনি এ ধরায় এসেছিলেন, তাই আজকের দিনটি খুব সুন্দর। জন্মদিনে কামনা করি, পৃথিবীর সমস্ত সুন্দর আপনাকে ছুঁয়ে যাক, মুছে যাক সমস্ত গ্লানি, দূর হোক অন্ধকার। আলোয় ভরে উঠুক আমাদের পৃথিবী।
লেখক বলেছেন: শুভেচ্ছার জন্য ধন্যবাদ। ভালোবাসার প্রকাশ হয়তো এমন আবেগপ্রবণই হয়।
আজকের দিনটি মোটেই সুন্দর নয়। এই দিনে বাংলাদেশের ইতিহাসে এক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছিলো। মানব-ইতিহাসে এমন বর্বোরোচিত হত্যাকাণ্ড আর কখনো ঘটেনি।
লেখক বলেছেন: আপনার মতো পাঠক পাওয়া যে কোনো লেখকের জন্য আনন্দের।
শুভেচ্ছার জন্য ধন্যবাদ।
এই জেদটা বাঙালির এখন নাই কেন?
লেখক বলেছেন: জেদ নেই, কে বললো? বাঙালিকে কি ইচ্ছে করলেই কেউ অন্য জাতিসত্ত্বার অন্তর্ভূক্ত করে নিতে পারবে? সেরকম কোনো চেষ্টা কেউ করলে কি বাঙালি তা প্রাণ দিয়ে হলেও রুখে দেবে না?
কতিপয় নষ্ট মানুষের নষ্টামি দেখে এই জাতি সম্বন্ধে কোনো নেতিবাচক ভাবনা আমি ভাবি না। আমি জানি, প্রয়োজনে এই জাতি যে কোনো অপশক্তিকে রুখে দেবে।
একমত।
আর শুভ জন্মদিন অনেক দেরিতে দিলাম।
লেখক বলেছেন: আমিও অনেকদিন পর ব্লগে এলাম। শুভেচ্ছা যে কোনো সময়েই পেতে ভালো লাগে।
পড়ার জন্য ধন্যবাদ আপনাকে।
আপনার নতুন পুরাতন সব বই এর নাম আমরা চাই।
ভালো থাকুন ভালো লিখুন, জামাতের মধ্যে বিএনপি=জেএমবি কে ভোটে প্রতিহত করুন।
লেখক বলেছেন: ঝাক্বাস ছোটগল্প!!! ![]()
একটা লিংক দিচ্ছি, পুরনো সব বইয়ের তালিকা এবং অনেক লেখাও ওখানে পাবেন :
http://www.amkamalbd.com/
নতুন বই বেরুবে আসছে বইমেলায়। উপন্যাস-- 'অন্ধ যাদুকর'। প্রকাশক : পাঠসূত্র।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকে।
মনির হাসান বলেছেন:
কামাল ভাই ... সিম্পলী অসাধারন ... আর কিছু বলার নাই ।
লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।
হাফিজুর রহমান মাসুম বলেছেন:
পড়ব বটে। সময় বের করছি।
তৌফিক জোয়ার্দার বলেছেন:
অসাধারণ বিশ্লেষণধর্মী লেখা। অনেক শুভেচ্ছা।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...

















