মাওলানা মুহাম্মদ আবুল বশর
ভূমিকাঃ আল্লাহর ভালবাসা অর্জনেই মুমিন জীবনের চূড়ান্ত লক্ষ্য। নিশ্চয় আমি আমার লক্ষ্যকে ঐ সত্তার জন্য স্থির করে নিয়েছি, যিনি আসমানসমূহ ও যমীন সৃষ্টি করেছেন। আর আমি মুশরিকদের মধ্যে শামিল নই। (সূরা আন’আম: ৭৯) মহান আল্লাহ সূরা আন’আমে আরও বলেন; নিশ্চয়ই আমার নামায, আমার কুরবানী, আমর জীবন-মরণ সব কিছুই বিশ্বপ্রতিপালক আল্লাহর জন্য। মূলত: মুমিন, মুত্তাকী, মুহসিন আল্লাহর উপর ভরসাকারী, এটাই আল্লাহকে ভালবাসার প্রাথমিক উপায়। সুতরাং আসুন আল্লাহ কাদেরকে ভালবাসেন আর কাদেরকে ভালবাসেন না, কুরআনের আলোকে জানার চেষ্টা করি।
প্রথমতঃ মানুষ দু’ভাগে বিভক্ত: ১। আল্লাহ ও রাসূলের প্রতি ঈমান পোষণকারী মুসলমান, ২। আল্লাহ ও রাসূলের প্রতি অবিশ্বাসকারী কাফের। এই দু’দলের কাজ ভিন্ন ভিন্ন।
এক দলের লক্ষ্য যে কাজ করলে আল্লাহ সন্তুষ্ট হন বেছে বেছে সে কাজগুলো করা সাথে সাথে অসন্তুষ্টমূলক কর্মকান্ড থেকে বিরত থাকা।
অন্য দলের কাজ নাফসের দাসত্ব করা। প্রবৃত্তি-নাফস যা চায় সে তাই করে, আল্লাহর সন্তুষ্ট-অনসন্তুষ্ট তার কোন লক্ষ্য নয়। সে তার নাফসের কামনা-বাসনাকে পূর্ণকরাই লক্ষ্য মনে করে।
আল্লাহ কাদেরকে অপছন্দ করেনঃ এ ব্যাপারে সূরা কাসাসের ৭৬ ও ৭৭ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেন: কারূন ছিল মূসা’র (আঃ) স¤প্রদায়ভুক্ত। অতঃপর সে তাদের প্রতি দুষ্টামি করতে আরম্ভ করল। আমি তাকে এত ধন-ভান্ডার দান করেছিলাম যার চাবি বহন করা কয়েকজন শক্তিশালী লোকের পক্ষে কষ্টসাধ্য ছিল। যখন তার স¤প্রদায় তাকে বলল, দম্ভ করো না, আল্লাহ দাম্ভিকদেরকে ভালবাসেন না। আল্লাহ তোমাকে যা দান করেছেন, তদ্বারা পরকালের গৃহ অনুসন্ধান কর, এবং ইহকাল থেকে তোমার অংশ ভূলে যেয়ো না। তুমি অনুগ্রহ কর, যেমন আল্লাহ তোমার প্রতি অনুগ্রহ করেছেন এবং পৃথিবীতে অনর্থ সৃষ্টি করতে প্রয়াসী হয়ো না। নিশ্চয় আল্লাহ অনর্থ সৃষ্টিকারীদেরকে পছন্দ করেন না।
সূরা মায়েদার ৬৪ নম্বর আয়াতের শেষাংশে আল্লাহ বলেন: তারা যখনই যুদ্ধের আগুন প্রজ্জ্বলিত করে, আল্লাহ তা নির্বাপিত করে দেন। তারা দেশে অশান্তি উৎপাদন করে বেড়ায়। আল্লাহ অশান্তি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদেরকে পছন্দ করেন না।
মহান আল্লাহ সূরা নিসার ১০৭ নম্বর আয়াতে বলেন: যারা মনে বিশ্বাস ঘাতকতা পোষণ করে তাদের পক্ষ থেকে বিতর্ক করবেন না। আল্লাহ পছন্দ করেন না তাকে, যে বিশ্বাস ঘাতক পাপী হয়।
সূরা নাহল-এর ২২ ও ২৩ নম্বর আয়াতে মহান আরও বলেন: আমাদের ইলাহ্ একক ইলাহ্। অনন্তর যারা পরজীবনে বিশ্বাস করে না, তাদের অন্তর সত্যবিমুখ এবং তারা অহংকার প্রদর্শন করেছে। নি:সন্দেহে আল্লাহ তাদের গোপন ও প্রকাশ্য যাবতীয় বিষয়ে অবগত। নিশ্চিতই তিনি অহংকারীদের পছন্দ করেন না।
মহান আল্লাহ আরও বলেন; আর উপাসনা কর আল্লাহর, শরীক করো না তাঁর সাথে অপর কাউকে। পিতা-মাতার সাথে সৎ ও সদয় ব্যবহার কর এবং নিকটাত্মীয়, এতীম-মিসকীন, প্রতিবেশী, অসহায় মুসাফির এবং নিজের দাস-দাসীর প্রতিও। নিশ্চয়ই আল্লাহ পছন্দ করেন না দাম্ভিক-গর্বিতজনকে। যারা নিজেরাও কার্পন্য করে এবং অন্যকেও কৃপণতা শিক্ষা দেয় আর গোপন করে সে সব বিষয় যা আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে দান করেছেন ¯¦ীয় অনুগ্রহে-বস্তুত: তৈরী করে রেখেছি কাফেরদের জন্য অপমান জনক আযাব। (সূরা নিসা: ৩৬-৩৭)
সূরা হাদীদের ২৩ ও ২৪ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেন; এটা এজন্যে বলা হয়, যাতে তোমরা যা হারাও তজ্জন্যে দুঃখিত না হও এবং তিনি তোমাদেরকে যা দিয়েছেন, তজ্জন্যে উল্লসিত না হও। আল্লাহ কোন উদ্ধত অহংকারীকে পছন্দ করেন না, যারা কৃপণতা করে এবং মানুষকে কৃপণতার প্রতি উৎসাহ দেয়, যে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তার জানা উচিত যে, আল্লাহ অভাবমুক্ত, প্রশংসিত।
সূরা মায়েদার ৮৭ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেন; হে মুমিনগণ, তোমরা ঐসব সু¯¦াদু বস্তু হারাম করো না, যেগুলো আল্লাহ তোমাদের জন্য হালাল করেছেন এবং সীমা অতিক্রম করো না। নিশ্চয় আল্লাহ সীমা অতিক্রমকারীদেরকে পছন্দ করেন না।
উল্লেখিত আয়াতসমূহে দেখা যায় আল্লাহ যাদেরকে অপছন্দ করেন তারা হচ্ছে: ফ্যাসাদ বা বিপর্যয় সৃষ্টিকারী, বিশৃঙ্খলাকারী, আত্মঅহংকারী, খেয়ানতকারী বিশ্বাসঘাতক, কৃপণতাকারী, যালেম ও সীমালঙ্ঘণকারী অকৃতজ্ঞ কাফের ব্যক্তি।
আল্লাহ যাদেরকে ভালবাসেন:
শিরককারীর মুকাবেলায় আল্লাহ মুমিনদেরকে ভালবাসেন। সূরা বাকারার ১৬৫ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেন: আর কোন লোক এমনও রয়েছে যারা অন্যান্যকে আল্লাহর সমকক্ষ সাব্যস্ত করে এবং তাদের প্রতি তেমনি ভালবাসা পোষণ করে, যেমন আল্লাহর প্রতি ভালবাসা হয়ে থাকে। কিন্তু যারা আল্লাহর প্রতি ঈমানদার তাদের ভালবাসা ওদের তুলনায় বহুগুণ বেশি। আর কতইনা উত্তম হ'ত যদি এ জালেমরা পার্থিব কোন কোন আযাব প্রত্যক্ষ করেই উপলব্ধি করে নিত যে, যাবতীয় ক্ষমতা শুধুমাত্র আল্লাহরই জন্য এবং আল্লাহর আযাবই সবচেয়ে কঠিনতর।
পবিত্রতা অর্জনকারীকেআল্লাহ ভালবাসেন:
সূরা তাওবার ১০৮ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেন: সেখানে রয়েছে এমন লোক, যারা পবিত্রতাকে ভালবাসে। আর আল্লাহ পবিত্র লোকদেরকে ভালবাসেন।
তাওবাকারীকে আল্লাহ ভালবাসেন:
আল্লাহ বলেন; নিশ্চয়ই আল্লাহ তওবাকারী এবং অপবিত্রতা থেকে যারা বেঁচে থাকে তাদেরকে পছন্দ করেন। (সূরা বাকার: ২২২) আল্লাহ অন্যত্র বলেন; কিন্তু যারা তাওবা করে বিশ্বাস স্থাপন করে এবং সৎকর্ম করে, আল্লাহ তাদের গোনাহকে পুন্য দ্বারা পরিবর্তত করে দেবেন। আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। (সূরা ফুরকান: ৭০)
আল্লাহ মুত্তকীদেরতে ভালবাসেন:
মহান আল্লাহ এরশাদ করেন: যে লোক নিজ প্রতিজ্ঞা পূর্ণ করবে এবং মুত্তাকী হবে, অবশ্যই আল্লাহ মুত্তাকীদেরকে ভালবাসেন। (সূরা আলে ইমরান: ৭০)
তবে যে মুশরিকদের সাথে তোমরা চুক্তি বদ্ধ, অতপর: যারা তোমাদের ব্যাপারে কোন ত্রুটি করেনি এবং তোমাদের বিরুদ্ধে কাউকে সাহায্যও করেনি, তাদের সাথে কৃত চু্িক্তকে তাদের দেয়া মেয়াদ পর্যন্ত পূরণ কর। অবশ্যই আল্লাহ মুত্তাকীদেরকে পছন্দ করেন। (সূরা তাওবা ৪)
মূল কথা হলো: মুত্তাকী তারাই যারা সর্বদা আল্লাহকে ভয় করে চলে। জীবনের যাবতীয় কাজ সম্পাদন করে আল-কুরআনের ভিত্তিতে। আল্লাহর ফয়সালার বিপরীত কোন কাজ করে না। আল্লাহ প্রদত্ত্ব বিধি-বিধান রাসূল প্রদর্শিত পন্থায় জীবনের প্রতিটি কাজ সম্পাদনকারীই মুত্তাকী।
আল্লাহ মুহসিনদেরকে ভালবাসেন:
মহান আল্লাহ সূরা মায়েদার ১৩ নম্বর আয়াতের শেষভাগে ঘোষণা করেন; অতএব, আপনি তাদেরকে ক্ষমা করুন এবং মার্জনা করুন। আল্লাহ অনুগ্রহকারীদেরকে (মুহসিন) ভালবাসেন।
পরমকরুনাময় মহান আল্লাহ সূরা বাকারার ১৯৫ ও ১৯৬ নম্বর আয়াতে বলেন; সম্মানিত মাসই সম্মানিত মাসের বদলা। আর সম্মান রক্ষা করারও বদলা রয়েছে। বস্তুত: যারা তোমাদের উপর জবর দস্তি করেছে, তোমরা তাদের উপর জবরদস্তি কর, যেমন জবরদস্তি তারা করেছে তোমাদের উপর। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং জেনে রাখ, যারা পরহেযগার, আল্লাহ তাদের সাথে রয়েছেন। আর ব্যয় কর আল্লাহর পথে, তবে নিজের জীবনকে ধ্বংসের সম্মুখীন করো না। আর মানুষের প্রতি অনুগ্রহ কর। আল্লাহ অনুগ্রহকারীদেরকে (মুহসিন) ভালবাসেন। যারা ¯¦চ্ছলতায় ও অভাবের সময় ব্যয় করে, যারা নিজেদের রাগকে সংবরণ করে আর মানুষের প্রতি ক্ষমা প্রদর্শন করে, বস্তুত: আল্লাহ সৎকর্মশীলদিগকেই (মুহসিন) ভালবাসেন। (সূরা আলে ইমরান: ১৩৪)
আলোচ্য আয়াতে মহসিনের ৪টি গুণ পাওয়া গেল: ১) ক্ষমাকারী ২) আল্লাহর পথে দানকারী ৩) ক্রধকে হজমকারী ৪) সৎকাজ সম্পাদকারী।
তাওয়াক্কুলকারীকে (আল্লাহর উপর নির্ভরশীল) আল্লাহ ভালবাসেন:
যারা সকল কাজে-কর্মে সর্বাবস্থায় আল্লাহর উপর পূর্ণ নির্ভরশীল ও ভরসা কারী তাদেরকে আল্লাহ ভালবাসেন; এ মর্মে মহান আল্লাহ সূরা আলে ইমরানের ১৫৯ নম্বর আয়াতে বলেন; অতএব আপনি তাদের ক্ষমা করে দিন এবং তাদের জন্য মাগফেরাত কামনা করুন এবং কাজে-কর্মে তাদের পরামর্শ করুন। অতঃপর যখন কোন কাজের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে ফেলেন, তখন আল্লাহ তা'আলার উপর ভরসা করুন আল্লাহ তাওয়াক্কুলকারীদের ভালবাসেন।
মহান আল্লাহ সূরা তাগাবুনের ১৩ নম্বর আয়াতে এ মর্মে এরশাদ করেন: আল্লাহ তিনি ব্যতীত কোন মাবুদ নেই। অতএব মুমিনগণ আল্লাহর উপর ভরসা করুক।
আল্লাহ ধৈর্যশীলদেরকে ভালবাসেন:
মহান আল্লাহ সূরা আলে ইমরানের ১৪৬ নম্বর আয়াতে বলেন; আর বহু নবী ছিলেন, যাঁদের সঙ্গী-সাথীরা তাঁদের অনুবর্তী হয়ে জেহাদ করেছে; আল্লাহর পথে-তাদের কিছু কষ্ট হয়েছে বটে, কিন্তু আল্লাহর রাহে তারা হেরেও যায়নি, ক্লান্তও হয়নি এবং দমেও যায়নি। আর যারা সবর করে, আল্লাহ তাদেরকে ভালবাসেন।
ইনসাফকারীদেরকে আল্লাহ ভালবাসেন:
সূরা মায়েদার ৪২ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেন: যদি ফয়সালা করেন, তবে ন্যায় ভাবে ফয়সালা করুন। নিশ্চয় আল্লাহ সুবিচারকারীদেরকে ভালবাসেন।
আল্লাহর পথে লড়াইকারীদেরকে তিনি ভালবাসেন:
সূরা সাফ এর ৪ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেন; আল্লাহ তাদেরকে ভালবাসেন, যারা তাঁর পথে সারিবদ্ধভাবে লড়াই করে, যেন তারা সীসাগালানো প্রাচীর।
দ্বীন প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াইকারীদেরকে আল্লাহ ভালবাসেন। দ্বীনের পথে কাজ করতে গিয়ে যারা পিছিয়ে যান তাদের সম্পর্কে হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করে আল্লাহ সূরা মায়েদার ৫৪ নম্বর আয়াতে বলেন; হে মুমিনগণ! তোমাদের মধ্যে যে ¯¦ীয় ধর্ম থেকে ফিরে যাবে, অচিরে আল্লাহ এমন সম্প্রদায় সৃষ্টি করবেন, যাদেরকে তিনি ভালবাসবেন এবং তারা তাঁকে ভালবাসবে। তারা মুসলমানদের প্রতি বিনয়-নম্র হবে এবং কাফেরদের প্রতি কঠোর হবে। তারা আল্লাহর পথে জেহাদ করবে এবং কোন তিরস্কারকারীর তিরস্কারে ভীত হবে না। এটি আল্লাহর অনুগ্রহ-তিনি যাকে ইচ্ছা দান করেন। আল্লাহ প্রাচুর্য দানকারী, মহাজ্ঞানী।
যারা নবীর অনুসারী তাদেরকে আল্লাহ ভালবাসনে:
সূরা আলে ইমরানের ৩১ ও ৩২ আয়াতে আল্লাহ বলেন; বলুন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালবাস, তাহলে আমাকে অনুসরণ কর, যাতে আল্লাহ ও তোমাদিগকে ভালবাসেন এবং তোমাদের পাপ মার্জনা করে দেন। আর আল্লাহ হলেন ক্ষমাকারী দয়ালু। বলুন, আল্লাহ ও রসূলের আনুগত্য প্রকাশ কর। বস্তুত: যদি তারা বিমুখতা অবল¤¦ন করে, তাহলে আল্লাহ কাফেরদিগকে ভালবাসেন না।
মহান আল্লাহ অন্যত্র ঘোষণা করেন: বল, তোমাদের নিকট যদি তোমাদের পিতা তোমাদের সন্তান, তোমাদের ভাই তোমাদের পতœী, তোমাদের গোত্র তোমাদের অর্জিত ধন-স¤পদ, তোমাদের ব্যবসা যা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ভয় কর এবং তোমাদের বাসস্থান-যাকে তোমরা পছন্দ কর-আল্লাহ, তাঁর রাসূল ও তাঁর রাহে জেহাদ করা থেকে অধিক প্রিয় হয়, তবে অপেক্ষা কর, আল্লাহর বিধান আসা পর্যন্ত, আর আল্লাহ ফাসেক স¤প্রদায়কে হেদায়েত করেন না। (সূরা তাওবা ২৪)
উল্লেখিত আয়াতসমূহে দেখা গেল আল্লাহ ভালবাসেন শিরকের মুকাবিলায় মুমিন, পবিত্রতা অর্জনকারী, তাওবাকারী, মুত্তাকী, মুহসিন, আল্লাহর উপর নির্ভরশীলদের, ন্যায়ের সাথে ফয়সালাকরী, সঙ্ঘবদ্ধভাবে আল্লাহর পথে লড়াইকারীদেরকে।
আল্লাহ মুমিনদের প্রতি দয়াশীল কাফেরদের প্রতি বজ্রকঠোর। ধৈর্যশীলগণ তিরস্কারকারীদের তিরস্কারের পরওয়া করে না। নবীর প্রতি ভালবাসা স্থাপনকারী নবীর অনুসারী, সকল কিছুর উপর যাদের ভালবাসা আল্লাহ ও রাসূলের জন্য। আল্লাহ ও রাসূলের পথে জিহাদকরীদেরকে তিনি ভালবাসেন। আলোচ্য আয়াতের সারমর্ম অনুযায়ী যদি আমরা আমল করতে পারি, তবে আল্লাহ আমাদেরকে ভালবাসবেন।
মুত্তাকীদের গুণাবলী
সূরা বাকারার ২ , ১৭৭, সূরা আলে ইমরানের ১৩৩-১৩৫ আয়াতগুলোতে মুত্তাকীর গুণাবলী আলোচনা করা হয়েছে। নিম্নে সে গুণগুলো তুলে ধরা হলো।
১) যারা গায়েব (দেখা যায় না এমন) -এর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে। ২) যারা আল্লাহ প্রেরিত নবী রাসূল ও তাদের প্রতি অবতীর্ণ কিতাবসমূহের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে। ৩) যারা নামায কায়েম করে। ৪) আল্লাহর দেয়া রিযিক থেকে দান করে, নিকাটাত্মীয়, ইয়াতীম, মিসকীন, মুসাফির ও সাহায্যপ্রার্থী ও ক্রীতদাসের মুক্তির জন্য খরচ করে। ৫) যারা তাদের ওয়াদাসমূহ পূরণ করে। ৬) যারা ক্রোধকে হজম করে। ৭) যারা লোকদের ক্ষমা করে। ৮) যারা বিপদাপদ, অর্থনৈতিক সংকট অনটন এবং হক ও বাতিলের সংগ্রামে পরম ধৈর্য ধারণ করে। ৯) যারা নিজেদের কৃত নির্লজ্জ কাজ ও জুলুমের জন্য আল্লাহর নিকট ক্ষমা চায় ও তাওবা ইসতেগফার করে।
মুহসিনের গুনাগুনা সম্পর্কে ঃ
সুরা বনী ইসরাইল ২২-৩৮, সুরা মুমিন ১-৯ সুরা লোকমান ১২-১৯, সুরা ফোরকান ৬৩-৭৪ এ স ব আয়াতের সারসংক্ষেপ।
১) তারা কেবল আল্লাহর ই বাদত বন্দেগী করে এবং তারই শোকর গুজারী করে। ২) আল্লাহর সাথে কাউকে শরিক করে না। ৩) পিতা-মাতার সাথে সর্বদা সদাচরন করে, কোন কষ্ট দেয় না। ৪) নিকটাত্মীয় মিসকীন অসহায় মুসাফিদের জন্য যথাসাধ্য খরচ করে ৫) খরচের ব্যপারে মধ্যমপন্থা অবল¤¦ন করে, অপ ব্যয় বা বেহুদা খরচ করে না। ৬) কৃপনতা করে না ৭) দরিদ্রতার ভয়ে নিজেদের সন্তান হত্যা করে না। ৮) অকারণে কোন প্রাণী হত্যা করে না। ৯) লজ্জাস্থানের যথার্থ হেফাজত করে। বৈধ ব্যবস্থা ভিন্ন, যিনা ব্যভিচারের ধারে কাছে ও যায় না। ১০) নামায কায়েম করে, নামাযকে যথারীতি হেফাজত করে এবং খুশু ও খুজুর সাথে নামায আদায় করে। ১১) যাকাত যথারীতি আদায় করে। ১২) বেহুদা কথা ও কাজ থেকে দুরে থাকে। ১৩) যমীনে নম্রতার সাথে চলা ফেরা করে। ১৪) সৎ কাজের আদেশ দেয়। ১৫) অসৎ ও খারাপ কাজ থেকে লোকদের বিরত রাখে, মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদান করে না, ইয়াতিমের মালের হেফাজত করে। ১৬) ওয়াদা প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে, আমানতের খেয়ানত করে না। ১৭) মাপে ও ওজনে কম বেশি করে না। ১৮) রবের দরবারে সেজদায় রাত কাটিয়ে দেয়, জাহান্নামের শাস্তি থেকে পানাহ চায়। সর্বদা নেক আমল করে, তওবা ইস্তেগফার করে।
হাদীস এ এসেছে যে ব্যক্তি ঈমান ও এহতেছারের সাথে রমযানের রোযা রাখলো আল্লাহ তার জীবনের সমস্ত গুনাহমাফ করে দিবেন। মুলত ঈমান ও এহতেছাবের সাথে রোজা পালন হতে হবে। আর এহতেছাব হলো আল্লাহ প্রিয় বান্দাদের গুরুত্ব পূর্ণ দিক।
ইহতেছাব বা আত্মজিজ্ঞাসা ঃ
প্রথমত ঃ নামায জামাতে নামায পড়া হচ্ছে কি-না। পরিবারের সদস্যদের মধ্যে নামায কায়েম, পাড়া প্রতিবেশীকে নামাযী বানানো পরিশেবকে নামাযের পরিবেশে তৈরী করা। সমাজ ও রাষ্ট্রে নামাজ প্রতিষ্ঠা করা।
দ্রিতীয়ত ঃ চারিত্রিক ত্রুটি বা বদঅভ্যাস ।
চোখের হেফাজত করা। মুখ, হাত, পা, মিথ্যা কথা, গীত পালাগান মেজাজ ইত্যাদি নিয়ন্ত্রন করা।
তৃতীয়তা ঃ পর্দা। পিতা-মাতার হক, অন্যের হক রিজিক হালাল কি-না। জুলুম করা হচ্ছে কি-না অন্তরের বিশুদ্বতা, ইত্যাদি।
দায়িত্বানুভুতির সাথে সৎ কাজের আদেশ অসৎ কাজের নিষেধ প্রদান করা কুরআন ও হাদীসের আলোকে নিজেদের চরিত্র ও আখলাক গঠন করতে পারলেই আল্লাহর প্রিয় বান্দা হওয়া যাবে বলে আশা রাখি। প্রবাসের কাজের ফাকে ফাকে কুরআনী জ্ঞান অর্জন করি। আল্লাহ আমাদের সকলকে সেই তাওফিক দান করুন। আমীন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



