somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... স্মল গডস
বইটা বুঝতে গিয়ে ইন্টারনেটে কিছু খোঁজাখুজিও করা লাগছে, কারণ discworld series এর বইগুলার কিছু কমন থিওরেম আছে।পুরাটাই ধর্ম নিয়া, বিশেষত Abrahamic religion নিয়া। উফফ খোঁচাগুলা যা দেওয়া হইছে না! মারাত্মক। বইএর শুরুতেই দেখা যায় একটা ঈগলের থাবা থেকে ছোট্ট একটা কচ্ছপ পড়ছে omnia (om নামের দেবতা/ঈশ্বর এর রাজত্ব)'র প্রধান মন্দির এর এক বাগানে, ব্রুথা নামের এক কিশোর সেবকের সাথে তার সাক্ষাৎ... আসল ঘটনা হইলো om এর অষ্টম নবী নাজিলের সময় হইছে... তাই তারে পৃথিবীতে আসা লাগছে, কিন্তু discworld এর নিয়মানুযায়ী যেকোন ঈশ্বর এর ক্ষমতা নির্ভর করে তার উপরে ভক্তদের বিশ্বাস এর উপরে... om এর উপর থেকে মানুষের বিশ্বাস কমতে কমতে এখন এমন দাঁড়াইছে যে ব্রুথা বাদে তার উপরে আর কারো বিশ্বাসই নাই... তাই তার কিছু করনের ক্ষমতাও নাই... একটা কচ্ছপের দেহে সে আটকাইয়া গেছে, যেহেতু ব্রুথা একমাত্র বিশ্বাসী তাই কেবলমাত্তর সে-ই om এর কথা শুনতে পায়। এরপরে ঘটনার শুরু... কঠিন কঠিন টুইস্ট পার হইয়া ব্রুথা অষ্টম নবী'র স্বীকৃতি পায় আর স্বার্থপর ঈশ্বর om রে মানবতাবোধের শিক্ষা দেয়. ফিলসফারদের নিয়াও কঠিন খোঁচা আছে বইটাতে... ধর্মযুদ্ধ, নিজের ধর্ম বাদে বাকি সবেতেরে অস্বীকার করন, অবিশ্বাসীদের শাস্তি দেওন এইগুলান এমন জটিল কইরা লেখছে লোকটা!

আমার প্রিয় কিছু কোট দিতাছি, মনে লাগলে পড়তে পারেন...

"He says gods like to see an atheist around. Gives them something to aim at."

'"What's a philosopher ?" said Brutha. "Someone who's bright enough to find a job with no heavy lifting," said a voice in his head.'

'The trouble with being a god is that you've got no one to pray to.'

'When you can flatten entire cities at a whim, a tendency towards quiet reflection and seeing-things-from-the-other-fellow's-point- of-view is seldom necessary.'

'The figures looked more or less human. And they were engaged in religion. You could tell by the knives (it's not murder if you do it for a god).'

'The trouble was that he was talking in philosophy, but they were listening in gibberish.'

"I used to think that I was stupid, and then I met philosophers."

"I like the idea of democracy. You have to have someone everyone distrusts," said Brutha. "That way, everyone's happy."

'Gods don't like people not doing much work. People who aren't busy all the time might start to think.'

''Yes, but humans are more important than animals,' said Brutha.
'This is a point of view often expressed by humans,' said Om.'


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/anikablog/28852727 http://www.somewhereinblog.net/blog/anikablog/28852727 2008-10-09 17:57:59
ঘুম " style="border:0;" />]]> http://www.somewhereinblog.net/blog/anikablog/28851113 http://www.somewhereinblog.net/blog/anikablog/28851113 2008-10-05 11:13:30 নিজের কাছে ফেরা http://www.somewhereinblog.net/blog/anikablog/28846544 http://www.somewhereinblog.net/blog/anikablog/28846544 2008-09-22 17:27:17 বাউলা তবু ইচ্ছেরা সব-আজ বিকেলে আমায় দিলো আড়ি।
ভাসবো ভেবে, মেঘের ডানায় যেই দিয়েছি ডুব!
মেঘগুলো সব পালিয়ে গিয়ে বৃষ্টি হলো খুব।
তোমার চোখে সন্ধ্যেতারা'র যখন পেলেম দেখা
তুমিও তখন সব হারিয়ে আমার মতোন একা।

অফিস এ কেউ নেই, সবাই চলে গেছে বেশ কিছুক্ষণ আগে। আমি ইথারের অপেক্ষায় আছি, শরীরের ভাবগতিক সুবিধার ঠেকছে না। মারাত্মক মাথা ব্যথা করছে। কাজ না করেও থাকতে পারছি না, আর ঠিকমতো কাজ করতেও পারছি না। ঠাণ্ডা লাগা একটা অতি অখাদ্য গোছের অসুখ, এক্কেবারে ধেত্তেরিমার্কা। আর আমার অবশ্য বাসায় ফিরতেও ইচ্ছা করে না, কোথায় জানি চলে যেতে ইচ্ছে করে। যখন ছোট্টটি ছিলাম, মনে হতো বড়ো হয়ে এইসব রোমান্টিসিজমের ভূত ছাড়বে কোন একদিন। আমিও আর দশটা মানুষের মতো গোছালো স্বভাবের ঠিকঠাক মানুষ হবো। পাল্টেছি অবশ্য কম না, যদ্দূর গোছালো হয়েছি, সেও আমার এককালীন স্বপ্নেরও বাইরে। তবুও বুকের ভেতর হঠাত হঠাত বাউলা বাঁশি বাজায় যে আরেকটা আমি - সেই আমিটাও পাল্টে যাওয়া আমার সাথে সহাবস্থানেই থাকে। তাই মাঝে মাঝেই আমার একটা আদিগন্ত মাঠের মধ্যে দিয়ে দৌড়ুতে ইচ্ছা করে.... এই স্বপ্নটা আমি পূরণ করছি বহুবার, বিশেষ করে নরওয়ে যাবার পরে, এরপরেও প্রায়ই ইচ্ছেটা মাথা-চাড়া দেয়... আজকে যেমন পূর্ণিমা প্রায়, ধোঁয়াশামতো আলোয় হলদেটে হয়ে আসবে শহরটা- রাত বাড়লেই। এখানেই কোথাও থাকতে পারতো না একটা মাঠ, যার শেষ মাথায় একটা কালচে বনভূমির শুরু? একপাশে মনে মনে একটা নদীকেও বইয়ে দেওয়া যায়। মাঠের মধ্যে দৌড় শেষ করে নদীর পাড়ে পা ডুবিয়ে বসে থাকার কথা ভাবতেই মজা লাগে আমার। এইগুলা হয়তো অনেকের কাছে নেহায়েত আদেখেলপনা, কিন্তু আমার এখনও এরকম বেকুব রকমের ভাবনা ভাবতে মজা লাগে। জানলামই না হয় চাঁদের আলো ধার করা- কিন্তু ওকে রেশমী আলোর সুতোয় বোনা ভেবে নিতে কে মানা করবে আমায়। আর করলেই আমি শুনছি কেন? আমার পৃথিবীতে কেউ না থাক-কিচ্ছু না থাক, আমি নিজের মতো করে সব সাজিয়ে নিতে পারি। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/anikablog/28844041 http://www.somewhereinblog.net/blog/anikablog/28844041 2008-09-16 19:16:12
বর্ণহীন আলোও হারিয়েছে রং
মুখোমুখি ধূসর দেয়াল আর খসে পড়া ইট
বিবর্ণ বিকেল কেবল দীর্ঘতর হয়,
স্বপ্নের উঠোনে তবু ...
নেমে আসেনা কেউ,
না মানুষ কোন, না ইন্দ্রের দূত।
আমি কি হারিয়েছি সব- যা পাইনি কোনকালে?
কিংবা যা পাইনি কখনও, তারা সব হারানোর দলে?
কারো চোখে ভাষা নেই,
নেই ছায়া অবিরল...
বর্ষণও থেমে গেছে ,
তবুও আলো'রা হারিয়েছে সব রং।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/anikablog/28837156 http://www.somewhereinblog.net/blog/anikablog/28837156 2008-08-31 21:12:47
অকবিতা... নেমেছিলো রাত।
এক মেঘেদের মেয়ে
তারাদের জল ছুঁয়ে -
রাতশেষে থেমেছিলো
রোদমাখা পাহাড়ের ঢালে
জলে তার ছায়া ছিলো পড়ে..
তারপরে...
পৃথিবীর যতো কান্না বুকে ধরে
ঝরণায় ঝরেছিলো-সেই মেঘেদের মেয়ে]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/anikablog/28836029 http://www.somewhereinblog.net/blog/anikablog/28836029 2008-08-28 18:26:36
ওই দূর পাহাড়ে... ৩
হোটেলের একটু আগে মাল্লিকা'র সাথে দেখা, দুজনে মিলে সাঁতার কাটবার মতো জায়গা খুঁজলাম, ফিয়র্ড অদ্ভুতরকম গভীর, তীরের কাছে কেবল দাঁড়াবার মতো একটা জায়গা, এর পর পরই একদম খাড়া নেমে গেছে কমসে কম পনের-বিশ ফুট। আমরা সব নতুন সাঁতারু, অতোদূর তো নামতে পারবো না। ফোন দিলাম পের আর রিকার্ডো'কে, ওরা বের হয়ে আসলো, বললো ম্যাপে নাকি একটা বীচের কথা আছে। টাওয়েল কাঁধে সবাই রওয়ানা দিলাম, হাইমলি হোটেলের গ্রুপ (মইন, ফাহদ আর টিপু) অবশ্য আসে নাই, ফাহদকে ঘুম থেকে উঠাতে পারে নাই কেউ...<img src=" style="border:0;" />। পানিতে নামবার সাথে সাথে হাত-পা জমে প্রায় বরফ হবার দশা। দুই মিনিটের মধ্যে সবাই পানি থেকে উঠে এলো, ভেজা কাপড়েই উপরে টাওয়েল আর স্যুয়েটার জড়িয়ে শীতের মধ্যে হি হি করে কাঁপতে কাঁপতে হোটেলে ফিরলাম। এরপরে শাওয়ার আর শাওয়ার শেষে ফ্রি নাস্তা... জট্টিল ছিলো আয়োজন। নাস্তার পরে আবার এট্টু আড্ডা।ঠিক হইলো আমরা একটা পুরানা গির্জা দেখতে বাইর হবো। ফাহদের পায়ের অবস্থা একটু সংগীন, তাই ওদেরকে আড্ডার মধ্যে রেখে আমি আর ফাহদ বাইর হলাম, ফাহদের ওষুধ কেনা লাগবে। ফিরতে ফিরতে শুনি ওরা সবাই গির্জা খুঁজতে বাইর হইয়া গেছে, আমরাও রওয়ানা দিলাম। ফাহদ সাইকেল নিয়া আগে চইলা গেলো, আমি দৌড়াইতে দৌড়াইতে যাইতেছিলাম। মাঝরাস্তায় টিপুর সাথে দেখা, ফাহদের কথা জিগাইলো, ও নাকি মোবাইল মইনের কাছে রাখছিলো, তাই ওর সাথে যোগাযোগ করা যাইতেসে না। আমি তো একটু অবাক, ফাহদ তো সাইকেলে, ওর তো আগেই পৌঁছাইয়া যাওনের কথা, টিপু সাইকল নিয়া ওরে খুঁজতে বাইর হইলো, আর আমি দলের বাকিদের পেছনে বিশ মিনিট দৌড়াইয়া ওদের সাথে যোগ দিলাম। হাঁটতে হাঁটতে জংলী রাস্পবেরীর ঝোপ থেকে মনের সুখে টসটসে বেরী পাইড়া খাইতেছিলাম সবাই। একসময়ে দেখি রাস্তা শেষ, সামনে কারো খামার.. পের ম্যাগনাস গেলো মালিকের সাথে কথা বলতে, যাতে আমাদেরকে খামারের ভেতর দিয়া যাইতে দেয়। মালিকের সাথে কথা বলে জানা গেলো হোটেলগুলার ম্যাপে ভুল দিক দেয়া আছে, মালিক ব্যাটা এইটা নিয়া খুবই রাগান্বিত, সে নাকি হোটেলের বিরুদ্ধে কই কই জানি কমপ্লেইন করবে, আগেও নাকি এরকম হইসে... তো মোদ্দা ঘটনা হইলো আমরা প্রায় উল্টা আসছি... তো পুরাটা আবার হাঁইটা গির্জা দেখতে যাওনের চেয়ে সবাই ঠিক করলো ঝরণা দেখতে পাহাড়ে উঠবে।

পাহাড়ে উঠার আগে সবাই একটা পাহাড়ী নদীর কাছে গিয়া পানি টানি খাইলো, রিকার্ডো আবার ফাহদরে খুঁইজা বাইর করনের একটা ট্রায়াল দিলো, কিন্তু ওরে কোথাও পাওয়া গেলোনা। ওরে চাড়াই সবাই পাহাড়ে উঠা শুরু করলো... প্রথম প্রথম ঠিকই ছিলো.. কিন্তু আমার পায়ে মোটেই পাহাড় বাওনের জুতা নাই, তাছাড়া মাত্রই দৌড়াইয়া আসছি, আধাঘন্টা উঠনের পর অবস্থা কেরোসিন.. তাছাড়া আমি মোটুসোটু মানুষ। সবাই আগে আগে গেলোগা.. আমি ধীরে সুস্থে হাঁপাইয়া-টাপাইয়া উঠলাম কোনরকমে, পিপাসা পাইলেই জংলী রাস্পবেরী তো আছেই। উপরে উইঠা পাঁচমিনিট উপুর হইয়া শুইয়া রইলাম, এরপরে অবশ্য নীচের উপত্যকা আর ঝরণা দেইকা ক্লান্তি-ফান্তি সব কই উইড়া গেলো! আবার নামনের পালা... উঠার সময়ে তো মার্কামারা জুতা নিয়া কোনমতে উঠছি, কিন্তু নামতে গিয়া হোঁচট খাইয়া এক পায়ের কড়ে আংগুলের নখ উইঠা গেলো, খোঁড়াইতে, খোঁড়াইতে কোনরকমে নামলাম, হোটেলে ফিরলাম, আমার দেরী দেইখা মইন আমারে খুঁজতে আসলে, আপল গাছ থেকে কাঁচা আপেল পাইড়া খাইলাম। হোটেলে ফিরে জানা গেলো একমাত্র ফাহদই আসলে গির্জায় যেতে পারছে, বেচার আমাদের জন্য অনেকক্ষণ অপেক্ষা করে শেষে একলাই ঘুরে চলে আসছে। সবাই হোটেলে ক্যাফেতেই দুপুরের খাবার সারলো, এরপরে গাট্টি-বোঁচকা কান্ধে নিয়া লাইন ধইরা বার্গেনে যাবার জাহাজে উঠলাম। ( বাকিটা আগামী পর্বে)।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/anikablog/28834505 http://www.somewhereinblog.net/blog/anikablog/28834505 2008-08-24 23:26:14
ওই দূর পাহাড়ে.... ২
একটু সামনে এগোতেই মইনকে দেখলাম দৌড়াচ্ছে, জিজ্ঞাসা করতে বললো ছাতা না কি জানি একটা ফেলে এসেছে ক্যাফেতে সেইটাই খুঁজতে যাচ্ছে। ফোন দিয়ে জানা গেলো রিকার্ডোদের আসতে আরো ঘন্টাখানেক লাগবে.. সবাই মিলে এইবার অন্য একটা রাস্তা ধরে আবার হাঁটা দিলাম, উদ্দেশ্য ছেলেদের হোটেলটা খুঁজে বের করা, ওইটার নাম ছিলো মনে হয় হাইমলি.. রাস্তায় এক বাড়ির বাগানে দুইটা মাখন রং এর ভেড়া ঘাস খাচ্ছিলো, ভেড়াগুলো এত মজার... হাত বাড়িয়ে ডাকতেই কাছে চলে এলো, এদেরকে সবাই কিছুক্ষণ ঘাস খাওয়ালাম। হাইমলি হোটেলে গিয়ে আমরা বলরাম আমাদের বুকিং এর কথা, মইন ওর নাম লিখলো খাতায়, রিসেপশনিস্ট মহিলা দুই মিনিটে চাবি আনবার কথা বলে হাওয়া হয়ে গেলো... কিছুক্ষণের মধ্যে ফাহদের ফোন, জানালো ওরা আমাদের হোটেলের সামনে দাঁড়িয়ে আছে, আমি আর প্রিয়া চাবি নিয়ে রওয়ানা দিলাম, কিছুক্ষণের মধ্যে মাল্লিকা আর মইনও যোগ দিলো, মইন জানালো সেই বেটি তখনও আসে নাই, তাই সে চাবি না নিয়েই চলে এসেছে আর নিজের নাম যেটা লিখেছিলো সেটা কেটে দিয়ে আসছে, মনের মধ্যে কেমন জানি খচখচ করছিলো, যদি বুকিং ক্যানসেল হইয়া যায়! যাই হোক গেলাম ফিরত আবার , সাইকেল ওয়ালারা চরম ক্ষুধার্ত, তাই ওরা সরাসরি রেস্টুরেন্টে ঢুকছে, আমরাও ওদের সাথে বসলাম, খাওয়া-দাওয়া হইলো, জটিল একটা মাছের স্যুপ খাইলা। খাওয়ার টেবিলে হঠাত সবার মনে পড়লো হোটেল বুকিং এর কথা, পের দাদু ফোন দিলো হোটেলে... বেটি কয় কিনা মইন্যা নাম কাইটা দিয়া আসায় একটা রুমের বুকিং ক্যানসেল হইয়া গেছে, আমরা তো সব সংকুচিত, মইন্যা তো লজ্জায় কিরম জানি হইয়া গেলো, দাদু খাওয়ার পরে বের হইলো সাইকেল নিয়া হোটেলের খোঁজে, এমনিই পিচ্চি শহর, আছে ই মোটে দুই চারটা হোটেল, সব বুকড.... চরম ট্যুরিস্ট সিজন চলতাছে... শেষমেষ পের আর রিকার্ডো আমরা যেই হোটেলে উঠছি, এইটারই তিন তলায় একটা রুম খুঁইজা পাইলো ।

এরপরে সবাই মিলে আড্ডায় বসলাম, ফাঁকে দিয়া ছেলেরা সব সনা বাথ নিয়া আসলো, আর সেইটা নিয়া বেশ হাসাহাসি হইলো.. এরপরে জম্পেশ আড্ডা, বেশিরভাগ বকবকানি অবশ্য রিকার্ডো মামু আর পের দাদুই করতেছিলো, বেচারা ফাহদ হাতা-পা কাটা ছিলা নিয়া বরফের সেঁক দিতেছিলো, কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘুমের ঠেলায় ওর চোখ গুলাবী হইয়া গেলো, বারোটা পর্যন্ত গেঁজানোর পরে সবাই ঘুমাইতে গেলো, আর আমি বাইর হইয়া ডকে গিয়া একটা চওড়া কাঠের দেয়ালের উপরে পা ঝুলাইয়া বইসা আকাশ দেখতে লাগলাম, কিছুক্ষণ বাদে ওইটার উপরে শুইয়া পড়লাম... আকাশের দিকে তাকাইতে মনে হইলো পুরা আকাশটা আমার হাতের নাগালে... তিন তিনটা উল্কা ঝরতে দেখে ব্যাপক মজা লাগলো, আকাশ এতো ঝকঝকা ছিলো বলার না! বরিশালে যাবার সময়ে জাহাজে যেরকম আকাশ দেখছি পুরা ওইরকম একটা আকাশ, নরওয়ে আসার পরে এতো তারাভরা আকাশ কখনো দেখি নাই। একলা একলা অনেকক্ষণ হুদাই হাঁইটা বেড়াইলাম আন্ধারে, মনের সুখে বেসুরা গলার মনপুরা'র গান গাইলাম কিছুক্ষণ, নাচারও চেষ্টা করছিলাম, ঠিক নাচা না... গানের তালে তালে দুলতেছিলাম আর কি... এর পরে রাত আড়াইটার দিকে গেলাম ঘুমাইতে।<img src=" style="border:0;" />]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/anikablog/28833018 http://www.somewhereinblog.net/blog/anikablog/28833018 2008-08-21 02:32:07
ওই দূর পাহাড়ে....১
পনের তারিখ শুক্রবার ছিলো, এমনিতে সব শুক্রবারে ঘুম থেকে উঠে চরম আলসেমীতে পায় (সপ্তাহের শেষ কাজের দিন কিনা)। ওইদিনও একই অনুভূতি নিয়ে ঘুম থেকে উঠলাম এবং উঠেই আবিষ্কার করলাম বিশ্রি রকমর একটা মাথা ব্যথা করছে, ওইটারে পাত্তা না দিয়া গোছগাছ পর্ব শেষ করলাম। পুরা এশিয়ান টিম রওয়ানা দিলাম অসলো'র সেন্ট্রাল ট্রেন স্টেশনে, গিয়ে দেখি রিকার্ডো আর পের ইতোমধ্যে হাজির ( ওরাই দুইমাত্র ইউরোপীয়ান ছিলো আমাদের সাথে, পের তো নিজেই হোস্ট, আর রিকার্ডোও তার আরেক পেয়ারের বান্দা)। পের খুবই টেনশিত, কারণ সবাই আসছে, কিন্তু টিপু আসে নাই (আমরা বাকিরা অবশ্য ঘটনা জানতাম)। আমরা ট্রেনে উঠে বসলাম, পের ফোন দিলো টিপুরে, বললো পরের ট্রেন ধরে আসতে, টিপু জানাইলো যে সে আসলে পরের স্টেশনে উঠবে। পের আমাদের দিকে তাকাইয়া দেখে সবাই হাসতেছি, সেও হাসতে হাসতে বলে, 'তোমরা তো ভালোই বোকা বানাইলা আমারে'। শুরু হইলো আট ঘন্টার ট্রেন ভ্রমণ। প্রথম প্রথম বেশ বোরিং লাগতেছিলো, আর ওইদিকে আমার মাথা ব্যথা, তার উপরে আমি বসছি রিকার্ডো মামুর সাথে( মামু হইলো আমার দেখা সেরাতম বকাবাজ)। কিছুক্ষণের মধ্যেই ঢেঁকি যে স্বর্গে গেলেও ধান ভানে সেই কথা প্রমাণের জন্য পের, রিকার্ডো আর টিপু মিলে পৃথিবীর যাবতীয় তেল-গ্যাস কোম্পানী'র অতীত, বর্তমান, ভবিষ্যত, পাইপলাইন, তেল-গ্যাসর দাম এইসব নিয়া প‌্যাড়প‌্যাড়ানি শুরু করলো। ইচ্ছা করতছিলো কানের মধ্যে ইয়ার প্লাগ লাগাইয়া থুই, পাশেই রিকার্ডো থাকায় আমার জন্য শব্দের অত্যাচারটা একটু বেশিই ছিলো, কারণ সে একলাই নব্বই ভাগ কথা কয়।

ঘন্টা খানেক বাদে ট্রেন পাহাড়ের মধ্যে দিয়া যাওয়া শুরু করলো, মাঝে মাঝে কঠিন দৃশ্য দেখা যায়, গাঢ় সবুজ পাহাড় আর বনভূমির মধ্যে টসটসে কাকচক্ষু জলাধার, দেখলেই মন চায় পা ডুবিয়ে হাঁটি ( তবে এমন পাথুরে তলদেশ, হাঁটতে গেলে খবর হবে)। কোন কিছু দেখলেই আমরা তিন মহিলা জানপ্রাণ দিয়ে ছবি তোলার চেষ্টা করি, যদিও ছবির মধ্যে ট্রেনের কাঁচের উপরকার প্রতিবিম্বটাও নজরে আসে, আর ফোকাস ঠিক করার আগেই এক দংগল গাছ চলে আসে দৃশ্যটার সামনে, ইচ্ছা করতেছিলো গাছগুলারে কঠিন মাইর দেই।



কিছুক্ষণের মধ্যেই দৃশ্যপট পাল্টাতে লাগলো, আগের গাঢ় সবুজ পাইনে ঢাকা পাহাড় সরে গিয়ে একটু রুক্ষ চেহারার পাহাড় দেখা দিতে লাগলো। আর পাহাড়গুলো ক্রমশই যেন আরো উঁচু হচ্ছিলো, এখন মাঝে মাঝে ঝরণা দেখ যাচ্ছিলো এখানে, সেখানে ... আর জলাধারের সংখ্যাও যেন বাড়ছিলো। ঘন্টা আড়াই বাদে পাহাড়ের চূড়ায় বরফ চোখে পড়তে লাগলো, আমরা মোটামুটি উত্তেজিত। ঝকঝকে রোদের মধ্যে বরফ কেমন টিকে আছে এইটাই বুঝতে পারছিলাম না, পাহাড়ের চূড়া ঝলমল করছিলো রোদের ছোঁয়ায়! ঠুসঠাস ক্যামেরার শাটার টিপতে টিপতে হঠাৎ খেয়াল করলাম ব্যাটারী ডাউন আর সাথে সাথেই মনে পড়লো চার্জার রয়ে গেছে অফিসে। প্রথমে কিছুক্ষণ মন খারাপ করে বসে ছিলাম, একটু পরেই পাহাড়ের রূপ সব ভুলিয়ে দিলো, প্রথম ট্রেন থামবার কথা মিরডাল ও, তার আধঘন্টা আগের এক স্টেশনে মইন বাদে বাকি সব ছেলেরা নেমে গেলো, বাকি ৫৭ কি.মি. তারা সাইকেলে যাবে। আমরা মিরডালে নেমে পরের ট্রেনে উঠলাম আর উঠেই আবিষ্কার করলাম, ওদের আর আমাদের লোকাল ট্রেনে বিমেষ কোন পার্থক্য নাই, একেকজনের ফুল ট্রিপ টিকিটের দাম প্রায় বিশ হাজার টাকার মতো, কিন্তু সেই টাকা দিয়ে আমাদেরকে বাকি দুইটা ঘন্টা দাঁড়িয়ে যেতে হলো!! চরম খাড়া পাহাড়ের উপর দিয়ে সেই ট্রেন চললো, কিন্তু কিছুই দেখতে পাইনি <img src=" style="border:0;" />... মাঝখানে একটা জলপ্রপাতের কাছে ট্রেন থামলো মিনিট পাঁচেকের জন্য, কোথায় জানি একটা আবহসংগীত বাজাচ্ছিলো.. প্রাচীন ধাঁচের (নরওয়েজিয়ান)... আর নরওয়ের লোকজ পোশাক পড়ে দুই তিনটা মেয়ে সেই জলপ্রপাতের আশে-পাশে নাচছিলো, মজাই লাগলো দেখতে। দুই তিনটা ছবি তুলতে না তুলতেই ট্রেনের হুইসেল। দুই ঘন্টা দাঁড়িয়ে থাকার পরে ফ্লাম এ পৌঁছুলাম, নামবার পর পরই আটঘন্টার ক্লান্তি দূর হয়ে গেলো। বেরুলাম আমাদের (মেয়েদের জন্য যেটা ঠিক করা হইছিলো) হোটেল খুঁজে বের করতে। হোটেল ছিলো ট্রেন লাইনের সামনেই, আর পেছনেই ফিয়র্ডের ডক। মারাত্মক জায়গা! হোটেলটা বেশ ভদ্র কিসিমের, রুমে ঢুকে মন আরো ভালো হয়ে গেলো। জামা কাপড় পাল্টে আমরা সাইকেল আরোহীদের জন্য অপেক্ষা করতে লাগলাম।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/anikablog/28832565 http://www.somewhereinblog.net/blog/anikablog/28832565 2008-08-19 23:52:36
মেঘের উপর আকাশ উড়ে
http://www.esnips.com/web/songzzzz

গানগুলা এইখানে আছে। কারো মন চাইলে শুনতে পারেন। আর অনেকেই মনে হয় শুইনাও ফালাইছেন। এই দেশে আসার পর দেশে ফেরার জন্য এতো মন খারাপ করে নাই কোনদিন, এক মুহুর্ত থাকতে ইচ্ছা করতেছে না আর। কবে দ্যাশে যামু?]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/anikablog/28830948 http://www.somewhereinblog.net/blog/anikablog/28830948 2008-08-14 22:00:59
নটে গাছ চিরকাল ন্যাড়াই থেকে যায় বোধকরি একটা বিশাল অর্থহীনতার ফিলোসফি। আসলে আমি কি চাই সেইটা কি আমি জানি? এইসব চাওয়া কি অ্যাবসিলিউট হওয়া সম্ভব? পরিস্থিতি কি সব পাল্টে ফেলেনা? আর আমি কিছু চাইলেই সেইটা'র বাস্তবায়ন করতে পারবো তার নিশ্চয়তা কই? আমার জীবনে তাই কোন গল্প গজায় না, আমি ভালোও থাকিনা, আবার কখনও খুব খারাপও থাকিনা, মোটামুটি থাকার জন্য যা যা দরকার তা কেমন করে যেন জুটে যায়। মিডিওকার লাইফ যখনি অসহ্য লাগতে থাকে নিজেকে দম দেওয়া পুতুলের মতো ক্রমাগত একই লাইন বলতে থাকি, "দ্যাখো আশেপাশের অনেকের চেয়ে কতো ভালো আছো"। মাঝে মাঝে সত্যি সত্যি মনে হয় ধূরো, খ্যাতা পুড়ি এই জীবনের... একটা চরম কিছু চাই, একটা ভীষন, মারাত্মক, অসম্ভব কিছু... ভালো-মন্দ সবকিছুতে অভ্যস্ত হয়ে যাওয়া অসহ্য এই নাগরিক জীবন আমি ঘেন্না করিইইইইইই...... এক বন্ধু ঠিকই বলেছিলো ওসব শুধু গল্পেই থাকে, মানুষ সবসময়ে সাম্যাবস্থায় পৌঁছে যায় কেমন জানি, বিশেষ করে আমাদের মতো ছাপোষা মানুষেরা... না তীব্র দুঃখ তাদেরকে ভাবায়, না তীব্র সুখ টিকে থাকে... সব ভেতো হয়ে যায় বারবার....
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/anikablog/28828536 http://www.somewhereinblog.net/blog/anikablog/28828536 2008-08-07 23:35:55
আহা খিচুরি! প্রথমে একটা বিশাল পেঁয়াজ কাটলাম, ধইন্যাপাতা কুচি করলাম, দেখি অর্ধেকটা ক্যাপসিকাম আছে, ওইটারেও কুচাইলাম। এক কাপ চাল, আধা কাপ মসুর ডাল আর পৌনে এক কাপ মুগডাল ধুইলাম (মুগডাল আসলে দেয় কিনা ল্যাটকা খিচুড়িতে সেইটা আমি আসলে জানিনা, দিতে মন চাইলো তাই দিয়া দিলাম)। একটা বড়ো হাঁড়িতে তেল দিয়া পেঁয়াজ আর রসুন কুচি একটু ভাজলাম, এরপরে চাল-ডাল দিয়া একটু ভাজলাম, আদা বাটা, রসুন বাটা, জিরা, ধইন্যা, হলুদ, দারচিনি আর মরিচগুড়া দিলাম, একটু কষাইলাম, এরপরে পানি দিলাম একজগ। একটা কড়াইতে তেল দিয়া বাকি পেঁয়াজ, ক্যাপসিকাম, আর অর্ধেক ধইন্যাপাতা কুচি একটাু লবণ দিয়া একটু ভাজলাম, এর পরে তিনটা ডিম ফেইট্যা এগুলার সাথে মিশাইয়া ডিমের ঝুড়ি'র মতো বানাইলাম। চাল-ডাল ফুটনের পরে সব ঢাইলা দিলাম খিচুরির মধ্যে, নামানের আগে দিয়া বাকি ধইন্যাপাতা কুচিগুলা দিলাম।

খাইতে বসনের সময় সেই হোটেল দাদু, আর হোটেলের আরো বাকি দুই কর্মীরেও আমাগো লগে খাইতে কইলাম। খিচুরি খাইতে মারাত্মক হইছিলো, নিজেই নিজের রান্নার প্রেমে পইড়া গেছি...<img src=" style="border:0;" />... বাকিরাও গপ গপ কইরা খাইলো, জন দাদু তো তিনবার নিলো... কইলো বাংলাদেশি খাবার নাকি জটিল, আর দাদুও নাকি আমাদেরকে রাইন্ধা খাওয়াবে... <img src=" style="border:0;" />]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/anikablog/28825931 http://www.somewhereinblog.net/blog/anikablog/28825931 2008-07-31 17:23:02
চউক্ষে সরিষাফুল দেখার মতো খালি ডেটা দেখতেছি (" style="border:0;" />... আবার সামনের অন্তত একটা সপ্তাহ বুকড..... খেলমু না........<img src=(" style="border:0;" /><img src=(" style="border:0;" /><img src=(" style="border:0;" />]]> http://www.somewhereinblog.net/blog/anikablog/28825390 http://www.somewhereinblog.net/blog/anikablog/28825390 2008-07-29 21:23:34 আজিরা দিনপঞ্জী....হুদাই কাবার দুইটা দিন (" style="border:0;" />]]> http://www.somewhereinblog.net/blog/anikablog/28824828 http://www.somewhereinblog.net/blog/anikablog/28824828 2008-07-28 04:27:10 রামগরূঢ়ের ছানা....<img src="http://www.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_07.gif" width="23" height="22" alt="B-)" style="border:0;" />
আবার আসছি:
হাদ্রিয়ান আর জঁ ফ্রঁসোয়া নামের দুই সামার স্টুডেন্ট(ফ্রান্সের) এর সাথে আমাদের বেশ ভাব হয়েছে, ওদের সাথে এক উইকএন্ডে ঘুরতেও গিয়েছি। প্রতিদিন হাই -হ্যালো.. আর আসা-যাওয়ার সময় বাই-সি ইউ এইসবও হয়। তো ওইদিন আমি অফিস থেকে রাত করে বেরুবো, মইন আর ফাহদ বেরিয়ে যাচ্ছিলো পাঁচটা নাগাদ। আমি ওদের সাথে অফিস থেকে বের হচ্ছি ডিনার কিনবো বলে... হাদ্রিয়ান আমাদেরকে বাই বললো, গুডনাইট জানালো, তো আমি জবাবে বললাম, "দে আর গোয়িং টু দ্য হোটেল, কিন্তু আমি আবার অফিসে ফেরত আসছি।" মইন আর ফাহদ দেখি আমার কথা শুনে হেসে গড়িয়ে পড়ছে, আমি ভাবতেছি, এই দুই মামু'র মনে হয় মাথা পুরা গেছে...হুদাই হাসে কেন? সেকেন্ড দুই বাদে আমি নিজেও যোগ দিলাম.. কারণ ততোক্ষণে বুঝতে পেরেছি যে হাদ্রিয়ানকে আমি আসলেই বাংলায় বলেছি যে, "কিন্তু আমি আবার অফিসে ফেরত আসছি।"

হায় হায়:

এইখানে এসে প্রথম প্রথম বিভিন্ন দোকানপাটে যাই, কিংবা রাস্তাঘাটে মানুষজন দেখি খালি হায় হায় মাতম করে... দুইদিন বাদেই বুঝলাম এইটা ওদের স্বাগতম বাণী। তো কালকে রাতে আমাদের দুই পাগলা মামু এই শব্দ নিয়া ব্যাপক আমোদিত.. তাদের ঘরের দুই জানালা.. রাস্তায় কোন মানুষ দেখলেই এক জানালা'র কাছে গিয়া "হায় হায়" বলে ব্যাপক চিৎকার দিয়া অন্য জানালা দিয়া ভালোমানুষের মতো মুখ করে রাখে। কি আমোদ পাইছে তারা এই কামে কে জানে... রাস্তার লোকজন ভাবছে মনে হয় তারা একদিন আগে থেকেই উইকএন্ড পালন উপলক্ষ্যে পানশালে গেছলো। আমি ভাবতাছি নরওয়েজিয়ানরা আমাগো দেশে গিয়া হায় হায় শুইনা দাঁত বের কইরা হাসি দিলে হায় হায় কারী কি করবার পারে B-

গ্রিটিংস ফ্রম বাংগি:

আমরা যেই হোটেলটাতে থাকি সেইখানে হিলজা নামে এক লাটভিয়ান মেয়ে কাজ করে , মেয়েটা একটু পাগলী কিসিমের, তাই কালকে রাতে ডিনারের টাইমে মেয়েটা যখন সাইকেল নিয়ে বেরুবার সময় ব্রুম ব্রুম আওয়াজ করছিলো ফাহদ ওকে পাগলী বললো বাংলায় আর বুঝিয়েও দিলো কি বলেছে, মেয়েটা রেগে না গিয়ে খুশি হয়ে গেলো আর ফাগলী, বাগলী, আগলি, নানারকম বলে শেষমেষ পাগলি বলা শিখলো।

সকালবেলা ব্রেকফাস্টের লাইনে দাঁড়িয়ে আছি, রুটিতে কি জানি মাখাচ্ছিলাম... হঠাৎ শুনি কেউ একজন বলছে, "হাই আনিকা, গ্রিটিংস ফ্রম বাংগি"। তাকায়ে দেখি হিলজা!! বাংগি বলতে কি বুঝাইছে বুঝলাম না, সেকেন্ডের চিন্তায় মাথায় খেললো.. ওহহো! বেচারা আসলে পাগলি বলতে চাইছে!!!! হাসতে হাসতে আবার তারে পাগলি বলানোর কসরত করানো হইলো।<img src=" style="border:0;" />

চাবি কই গেলো:

আমি হোটেলে ফিরে রান্নাবান্না সারতেছি, ফাহদ আর মইন্যা গেলো হার্ডরক ক্যাফের সামনে বাইক দেখতে... রান্না-বান্না সাইরা দুইটারে দিলাম ফোন, কয় আসতাছি... আধাঘন্টা... আমি ভাবলাম এট্টু ঝিমাই উপরে গিয়া.. খাবার-দাবার টেবিলে থুইয়া উপরে নিজের রুমে আইসা ঝিমানি দিলাম একটা, মিনিট বিশেক পরে মইনের ফোন, তাড়াতাড়ি কইরা নিচে নামলাম, খাইলাম, দাইলাম মনের সুখে, এর মধ্যখান দিয়েই হিলজারে পাগলা বলা শিখানো হইছে, হোটেলে কাজ করে এমন সবাই চলে গেছে ইতোমধ্যে। হঠাত আবিষ্কার করলাম আমার রুমের চাবি নাই সাথে, কি করা যায় এখন! সম্ভবত ঘরে রেখেই লক করে ফেলেছি বাইরে থেকে... ফাহদ খুঁজেপেতে কোথ্থেকে জানি একগাট্টি চাবি নিয়ে এলো, কোনটাই লাগেনা... লাগবার কথা ও না.. ক্লান্তিতে মারা যাচ্ছি প্রায়, কি করবো না করবো বুঝতে না পেরে মইন ঠিক করলো সে স্পাইডার ম্যানের মতো দেয়াল বেয়ে উঠে জানালা দিয়ে ঢুকে চাবিটা বের করে নিয়ে আসবে। উঠতে যাবে এমন সময় মনে হলো.. পুলিশ আংকেলরা দেখলে তো চোর ভেবে গারদে পুরবে সোজা.... আর তাছাড়া পড়ে গেলে শেষে! আমার মানা শুনে ওরাও হোটেলের রিসেপশনের ভেতরে চলে এলো... মইন ওর ঘরের চাবি বের করতে যাবে... আর তখন ওর পকেট থেকেই বেরুলো আমার হারিয়া যাওয়া চাবি.. আসলে খাওয়ার টেবিলে পাশে বসেছিলাম আর চাবি মনে হয় আমি টেবিলের উপরেই রাখছিলাম... জিনিসপাতি গোছানোর সময়ে নিজের মনে কইরা মইন্যা আমার চাবিটাও পকেটে পুরছে। <img src=" style="border:0;" />
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/anikablog/28824229 http://www.somewhereinblog.net/blog/anikablog/28824229 2008-07-26 03:05:50
পাগলা চাঁদে একজন স্মৃতিকাতর মানুষ http://www.somewhereinblog.net/blog/anikablog/28824052 http://www.somewhereinblog.net/blog/anikablog/28824052 2008-07-25 15:23:58 চোরায় না শুনে ধর্মের কাহিনী... নতুন রেসিপি... মুরগী ভাজি
মুরগীর বুকের টুকরা চারটা,
আদা কুচি ১ চা চামচ
রসুন কুচি ১ চা চামচ
পেঁয়াজ কুচি, আধাকাপ
লাল মরিচ গুড়া ১ চা চামচ (ঝাল বেশি খাইতে চাইলে মনের সুখে ঢাইলেন)
লবণ আন্দাজমতো.. (এইটার পরিমাণ কইয়া প্যাঁচে পড়বার চাইনা)
দারচিনি গুড়া ১/৪ চা চামচ,
টক দই ২ টেবিল চামচ,
পাউরুটি'র টুকরা দুইটা,
টমোটো সস ২ চা চামচ,
বড়ো আলু ২টা (লম্বা ফালি করে কাটা )
লাল ক্যাপসিকাম ১টা (লম্বা ফালি করে কাটা )

মুরগীর বুকের টুকরা হাড় ছাড়াইয়া নিবার পারেন, না ছাড়াইলেও চলে, ছুড়ি দিয়া লম্বা দাগ টানার মতো একটু চিরে নেবেন ... পুরাটা টুকরা কইরা ফেইলেন না... এরপরে মসলাপাতি, দই, লবণ, আলু, ক্যাপসিকাম, মুরগী সব একলগে মাখাইয়া রাখবেন আধাঘন্টা, পাউরুটি একটু পানিতে ভিজাইয়া মাখাইয়া ফেলবেন মাংসের সাথে। এরপরে আর কি.. কড়াইয়ে তেল গরম কইরা আধা ডুবো ডুবো কইরা সব ভাইজা ফেলবেন.... আলু , পেঁয়াজ আর ক্যাপসিকাম আলাদা ভাইজা নিতে পারেন, অথবা একসাথেই ভাজা শুরূ কইরা মুরগীর আগেই উঠাইয়া নিতে পারেন... (খিয়াল কইরা ক্যাপসিকাম এট্টু নরম হইবো, মাগার গইলা যাইবো না) মুরগীর দুইপিঠ লাল লাল হইয়া আসলে ছুরি দিয়া এট্টু গুতা দিয়া দেখবার পারেন ঠিকঠাক সিদ্ধ হইছে কিনা..... ব্যস .. শেষ মুরগী ভাজি... এইটা যদিওবা আমার বানাইন্যা রেসিপি... মজা না হইলে আপনের রান্নার দোষ....<img src=" style="border:0;" />
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/anikablog/28823721 http://www.somewhereinblog.net/blog/anikablog/28823721 2008-07-24 16:21:14
আজাইরা হণ্টন
বাস স্টপ থেকে নেহায়েত কম দূরে না হোটেল, মাইলটাক তো হবেই.. মানুষজন, টাসকি লাগানো গোলাপ কিংবা অন্য ফুলের গাছ দেখতে দেখতে বেশ ফুরিয়ে যায় রাস্তাটা। ওইদিন আমি গাঢ় খয়েরী চেরীও ফলে থাকতে দেখেছি একটা গাছে, আর হরেক জাতের বেরী ঝোপ তো সাধারণ দৃশ্য। এখানকার ঘরবাড়ি বেশিরভাগই সাদা, নয় হলদে, মাঝে মাঝে হাল্কা গুলাবীও কিছু পাওয়া যায়.. কখনও সখনও ইটরং এর বাড়িও চোখে পড়ে.. এর বাইরে কদাপি না। সামারের সবুজের সাথে দেখতে বেশ পোস্টকার্ডের মতো লাগে.. অবশ্য বাচ্চাকাল থেকে পোস্টকার্ডে এইরকম বাড়িঘর দেখেছি বলেই হয়তো।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/anikablog/28823417 http://www.somewhereinblog.net/blog/anikablog/28823417 2008-07-23 17:57:38
আমাদের ইস্পিশাল কেক
কঠিন কি কইছিলাম বুঝলাম না.. হগ্গলের অবগতির জন্য ডিটেইলস রেসিপি দিতাছি...
উপকরণ:
একটা স্পঞ্জ কেক (বাংলাদেশেও বানানো কিনতে পাওয়া যায়, নাইলে নিজে বানাইয়া লন)। পাতাইল্যা তিন টুকরা করবেন। বড়ো ছুরি দিয়া জবাই দিবেন আর কি।

২৫০ গ্রাম ক্রিম চিজ ( বহুত জায়গায় পাওয়া যায়)
আধা কাপ চিনি , অল্প একটু পানি দিয়া ঘন সিরা বানাইয়া লইবেন। (আমি কনডেন্সড ক্যালরী ফ্রি চিনি দিসলাম)
আধা কাপ ননী(ক্রিম, চাইলে মাখনও দিবার পারেন)
স্ট্রবেরী দিসি আমি, আপনি আনারস দিবার পারেন, পাতলা কইরা টুকরা কইরা নিলেই হবে।
স্ট্রবেরী বা আনারসের জ্যাম বা জেলী এক কাপ

পরথমে একটা বড়ো বাটিতে চিজ, চিনি আর মাখন/ক্রিম ঢাইলা, একটা চামুচ দিয়া (এগ বিটার থাকলে আরো ভালো হয়)সমানে ঘুরাইয়া ঘুটা দিবেন যতোক্ষণ পর্যন্ত মসৃণ না অয়।

এরপরে লেয়ার করা কেকের উপরে জ্যাম/জেলী লাগাইবেন, এরইপরে আরেকটা বসাইবেন.. তার উপরে ওই মাখনের মিশ্রণ দিবেন. পাতলা কইরা কাটা স্ট্রবেরী/আনারসের টুকরা বসাইবেন... এরপরে আরেকটা লেয়ার বসাইয়া .. আবারো আগের স্টেপ পুনরাবৃত্তি করবেন.. এরপরে ডিপে রাইখা দিবেন আধাঘন্টা.. ব্যস কাম শেষ....
তয় এতো কষ্ট করনের শখ না থাকলে আমারে দাওয়াত দিয়া পান্তাভাত, দেশি মরিচ, শুটকির ভর্তা আর ডিমভাজি খাওয়ান.... আপনের কেক আমি বানাইয়া দিমু ফর সিউর

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/anikablog/28823034 http://www.somewhereinblog.net/blog/anikablog/28823034 2008-07-22 17:34:13
মিথ্যা'র বেসাতি আর তো সহে না পরানে "

আমার চিন্তা-ভাবনা চিরকালের অগোছালো, ভাবনার সুতো একটু পর পর ই ছিঁড়ে যায় অন্য কোন ভাবনার দমকা বাতাসে। হারুন এন্ড দ্য সি অব স্টোরিজ এর হারুন এর মতো, কোন একভাবে ভাবনার একটা সাইকেল দাঁড়িয়ে গেছে, মাত্রাটা পার হবা মাত্র আবার উল্টো রথে ঘুরে আসে ভাবনাগুলো। লেখালেখিতেও এই অগোছালো ভাবনার ছাপ স্পষ্ট। একজনকে একদিন বলেছিলাম, "আমি তো আসলে লিখি না, আমার যতো আজাইরা চিন্তা-ভাবনা, তার একটা প্রতিফলন শুধু পড়ে আমার ব্লগে।" লিখবো ভেবে কিছু কোনকালে লিখেছি কি? শুধু নিজের মনে মনে কাউকে শ্রোতা বানিয়ে বকবক করে যেতে থাকি, লেখাটাও ওইরকমই হয়। মাঝে মাঝে মনে হয় এমন কোন জায়গায় চলে যাই যেখানে কেউ আমাকে চেনেনা। চেনা মানুষের ভীড়ে অনেক কথা চাইলেও বলা হয়না। অবশ্য বলবার দরকারও পড়ে না। যতোই মুখে বলি, বা নিজেরে বোঝাই আমি আর কারো কথা বা ভাবনাকে কেয়ার করিনা, সেইটা তো পুরা সত্যি না, কেয়ার করতে না চাওয়াটার মধ্যে সত্যতা আছে, কিন্তু না করাটা'র মধ্যে মিথ্যের ভেজালই বেশি।

এইখানে, নিজের দেশ থেকে হাজার মাইল দূরে বসে আমি কতো কঠিন কঠিন সব সিদ্ধান্ত নিয়ে নিলাম, এই সিদ্ধান্তগুলোর বোঝা বইবার শক্তি আমার আদপে আছে কিনা এখনও পুরো টের পাচ্ছিনা, মন কিঞ্চিৎ অবশ হয়ে আছে। কিছু স্বপ্ন আছে, যা আসলে আমার হাতের নাগালে ছিলোনা কখনও, যতোদূর বুঝি আসবেও না কখনও, তবু আমাকে একটা ভালো থাকবার মুখোশ পড়ে রাখতে হবে সব সময়ে, কারণ সুস্থ-স্বাভাবিক মানুষেরা তাই করে। তাছাড়া আশে-পাশের সব মানুষ সব কিছু একভাবে দেখবে না। কষ্ট লুকিয়ে রেখে, যা কিছুই ঘটুক তুড়ি মেরে উড়িয়ে দেয়াটাই নাকি স্বাভাবিকতা? কেমন করে? সবাই বলে যেতে থাকে, যাই ঘটুক শক্ত হতে হবে তোমাকে, সেইটাই নাকি জীবন? সত্যি বলতে কি মাঝে মাঝে মনে হয়, "চুলায় যাক জীবন, চুলায় যাক সবকিছু" কি জানি একটা ভেংগে-চুরে একাকার করে ফেলতে ইচ্ছা করে। কিন্তু তাতে তো আর জীবন পাল্টে যাবার সম্ভাবনা নাই আসলে, আমার মতো একটা কড়ে সাইজের মানুষের জীবনে যাই ঘটুক ঈশ্বরেরও তাতে কিছু যায় আসেনা, হাতেগোণা কিছু লোক বাদে কেউ খেয়ালও করবেনা কোনদিন। যতোই ভাবি নিজের জীবন..নিজের এই..নিজের সেই, জীবন পুরোপুরি নিজের হয়না আসলে, কতো লোক, তাদের আশা-স্বপ্ন জড়িয়ে থাকে একটা জীবনে, সব সম্পর্ক আর স্বপ্নের জাল ছিঁড়ে ফেলা যেই সেই কম্মো না।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/anikablog/28822084 http://www.somewhereinblog.net/blog/anikablog/28822084 2008-07-20 03:08:21
জোছনা.....
মজা হলো, আমার থামবার জায়গা চলে আসার পরে স্টপার দিয়েই যাইতেছি, ড্রাইভার ব্যাটা থামায়ই না... পরে বুঝা গেলো ব্যাটা ঘুমাইতেছে... এক আন্টি ব্যাটারে ঝাড়ি দিয়া কইলো.. কি হইছে তোমার? মেয়েটা কখন থেকে স্টপার দিয়ে যাইতেছে, থামাচ্ছো না কেন? ঝাড়ি খেয়ে ব্যাটা দুই স্টপ পরে আমারে নামাইলো... ওইখান থেকে আবার ট্রাম... যেখানে নেমে হেঁটে যাবো, সেইখানে নামতে গেলাম ভুলে। হেঁটে হেঁটে আরেকটা স্টেশনে আসলাম... বাসের জন্য দাঁড়ালাম.. কি ভেবে ঘুরে দাঁড়াতেই দেখি.. বিশাল চাঁদটা রাজপথের মধ্যিখানে ভাসছে.. ব্যাস তুলে ফেললাম একটা ছবি... বিশেষ সুবিধার হয় নাই... তবে চাঁদ মামাকে চেনা যাচ্ছে অন্তত।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/anikablog/28821877 http://www.somewhereinblog.net/blog/anikablog/28821877 2008-07-19 14:57:46
আবারো হুদাই... তোমার কিচ্ছু করার থাকবে না,
চুপসে যাওয়া একটা বেলুনের মতো তুমি উড়তে চাইবে,
কিন্তু এগোতে পারবে না একটুও
তুমি পারবেনা, কারণ তুমি আসলে পারোই না।
ভিড়ের মধ্যে তুমি ঠায় দাঁড়িয়ে থাকো,
তোমার সময় দৌড়ুতে থাকে
তবু উচ্চকিত স্বরে কক্ষণো বলে ওঠো না, "একটু সরবেন ভাই"
কেউ তোমাকে মাড়িয়ে গেলেও
তাই তুমি টুঁ শব্দটি করোনা,
পাছে সে টের পেয়ে যায় তোমার কষ্টের কথা।
তবু তোমাকেই বার বার আছড়ে ফেলে ঝড়,
এতো সহজ শিকার সে পায়নি কখনো আর।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/anikablog/28820755 http://www.somewhereinblog.net/blog/anikablog/28820755 2008-07-16 02:22:08
হোটেল-দাদু
হোটেলে ঢোকার মুখে সেই দাদুর সাথে দেখা। আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন, "কই গিয়েছিলে, মর্নিং ওয়াক?" আমি মাথা নেড়ে সায় দিলাম। বললেন, " এই রোববার সকালে বুঝবার উপায় আছে যে আমরা নরওয়ের রাজধানী'র মধ্যিখানে দাঁড়িয়ে আছি? একটা লোক নাই কোথাও, দেখেছো?" আমি হেসে বললাম, "তোমার কাছেই অবাক লাগে, আর আমার কাছে কেমন লাগে ভাবো, যেখানে আমার দেশের রাজধানীর লোকই তোমাদের স্ক্যন্ডিনেভিয়ার চারটে দেশের মোট জনসংখ্যার চেয়ে বেশি?" দাদু বললেন... "হুমম, তা বটে"। এরপরে নানান কথায় ওদের দেশের ট্যাক্স সিস্টেমের কথায় গেলেন, ৬০% পর্যন্ত নাকি কারো কারো ট্যাক্স পে করা লাগে, এজন্যে নাকি লোকে যতো পারে ফাঁকি দেয়। তার ভাষ্যমতে সরকার রেটটা আরেকটু কমিয়ে দিলে সবাই নাকি ঠিকমতো দিতো, আমার হঠাৎ একটু হাসি পেলো, ভাবলাম আমরাও তো ভাবি, ২৫% কেন দেয়া লাগে, আরেকটু কম দিলেও তো হতো! তবে কিনা ওদের নাগরিক সুবিধার কোন সীমা-পরিসীমা নাই, সবচে ভালো ওদের ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম, যেখানেই যেতে চাও, বাস-ট্রাম-ট্রেন সব যায় সেখানে, কোন ভিড় নাই, ঝামেলা নাই, লেট নাই। খরচও বেশি না, বাংলাদেশি টাকায় আট-সাড়ে আট হাজার টাকার একটা মান্থলি কার্ড কিনে নিলে পুরো মাস ধরে যতোবার খুশি যেখানে খুশি যাওয়া যায় (শুধু অসলো'র ভেতরে অবশ্য)।

দাদু আরো বলছিলেন, অসলোর আকাশচুম্বী খরচের কথা (এক কেজি মুরগীর দাম ন'শো টাকা, লেও ঠ্যালা!!!) । ।এই খরচ কমাতেই নাকি উনি সুইডেন বর্ডারের কাছে থাকেন, রোজ এক ঘন্টা ড্রাইভ করা লাগে তার, তেলের দাম দিয়েও নাকি পুষিয়ে যায়, বাজার সদাই সব সুইডেন থেকে করেন ( চারভাগের একভাগ দাম)। আরো হাবি-জাবি কথা হলো, বলছিলোন অসলো'তে বাড়িঘর কেনার কথা নাকি ভাবাই যায়না, বেশির ভাগ হয় অতি বড়োলোকদের কেনা কিংবা বাপ-দাদা'র কাছ থেকে পাওয়া সম্পত্তি, যাদের অনেকগুলো তৈরীই হয়েছে উনিশশো দশ-বিশের কাছাকাছি সময়ে। উনি নাকি সুইডেন এ একটা অসাধারণ বাড়ি কিনতে চেয়েছিলেন বছর সাতেক আগে, সব প্রায় ঠিকঠাক....সেইসময় ওই বাড়ির সুইডিশ মালিক হঠাৎ মত পাল্টিয়ে আরেক সুইডিশকেই বিক্রি করেছেন বাড়িটা, ওরকম পছন্দ আর কোন বাড়ি হয় না, তাই তার কেনাও হয় না।

এইরকমই নানান আগরুম-বাগরুম বকতে বকতে একসময়ে বললেন, "জানো, আজকে একটু আগে আমি কিচেন এ আগুন ধরিয়ে দিয়েছিলাম, তারস্বরে ফায়ার অ্যালার্ম বাজলো, গোটা হোটেল ভরা লোক, কেউই নড়লো-চড়লো না, খালি মিনিট পাঁচ-ছয় বাদে বছর দশেকের একটা বাচ্চা ছেলে ঘুমভাংগা চোখে খবর শুনে বিরক্তি নিয়ে চলে গেলো।" আমি হেসে উঠে বললাম, " বোঝোই তো! রোববার আজকে।" দাদুও হাসলেন। এরপরে দুজনে ভেতরে ঢুকলাম ... সোজা নাস্তার টেবিলে। আমি খেতে বসে ভাবছিলাম অন্য কথা, আমার হতদরিদ্র দাদু কিংবা নানা যাদেরকে আমি একরকম দেখিই নি (বেঁচে থাকলে হয়তো উনার বয়েসী'ই হতেন).. তারা কোনদিন স্বপ্নেও ভাবেননি তাদের বংশের কেউ কোনদিন পৃথিবীর ধনীতম দেশের একটাতে এইরকম ঘুরে বেড়াবে। নিজের শেকড় চিন্তা করে মাঝেমাঝে অবাক লাগে, কি হতো যদি আমার বাবা-মা প্রাণিপাত করে নিজেদের চেষ্টায় নিজেদের জীবনকে শূণ্য থেকে উঠিয়ে না আনতেন, কই থাকতাম আমি আর কই থাকতো আমার নরওয়ে সফর। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/anikablog/28820324 http://www.somewhereinblog.net/blog/anikablog/28820324 2008-07-14 23:07:59
ফটুকব্লগ http://www.somewhereinblog.net/blog/anikablog/28819457 http://www.somewhereinblog.net/blog/anikablog/28819457 2008-07-12 14:15:48 তালের মাথায় কাক, না কাকের মাথায় তাল সেই নিয়া এক তালগোল... http://www.somewhereinblog.net/blog/anikablog/28819347 http://www.somewhereinblog.net/blog/anikablog/28819347 2008-07-12 03:59:16 ক্যামেরা উদ্ধার অভিযান
ট্রাফিকান্তেন ওয়েব সাইট থাইকা বাইর করলাম যে লিসাকের (আমাগো অফিস) থেকে ওইখানে বাস নাম্বার ১৪৩ ধইরা যাওয়া লাগবে। এগারটার দিকে আমি আর ফাহদ রওয়ানা দিলাম। বাসে উইঠা দেখি আমরাই বাসের একমাত্র যাত্রী। (টিকেটের দাম দিতে গিয়া আত্মা কাঁপতাছিলো, যাওয়া -আসা মিলাইয়া দুইজনের সব মিলাইয়া ২৪০০ টাকা লাগছে... /<img src=" style="border:0;" />)। যাই হোক বাসে উঠে মন ভালো হয়ে গেলো। অসলো সিটি'র আউটস্কার্ট দিয়ে গেছে রাস্তাটা... দুইপাশ দেখতে দেখতে মনে হইতেছিলো, নাহ! সামারের ইউরোপ আসলেই বেশি অসাধারণ। পাহাড়ের সারি, ছবির মতোন বাড়িঘর, ঘন সবুজ বন, পাইনের সারি, বিশা.......ল মাঠ, খামারবাড়ি, ঝকঝকে নীল আকাশ, বুনো গোলাপসহ হাজার জাতের বুনো ফুলের ঝাড়ের রংগিন ঝিলিমিলি আর যতোদূর চোখ যায় কদাচিৎ একটা-দুইটা মানুষ চোখ পড়ে। প্রায় মিনিট ত্রিশেক ধরে জার্ণির পরে ড্রাইভার আমাদেরকে নামতে ইশারা কইরা সামনের এক বাস দেখাইয়া দিলো, বুঝলাম উঠতে কইছে ওইখানে, উইঠা ওই বাসের ড্রাইভাররে ঠিকানা আর টিকেট দেখাইলাম, আবারো যাত্রা শুরু ... মিনিট পনের বাদে এক জায়গায় নামাইয়া দিলো। নাইমা ড্রাইভার যেদিকে হাত দেখাইলো ওইদিকে গিয়া বুঝলাম পুরাই উল্টা আসছি, আবার আপহিলে উঠা লাগলো!<img src=" style="border:0;" />... এট্টু হাঁটনের পরেই পাওয়া গেলো ঠিকানাটা। আর ঢুইকা বুঝা গেলো যেই বাসে কইরা আসছি, ওদেরই ম্যানেজমেন্টের অফিস ওইটা, ড্রাইভার ব্যাটা এইটা চিনাইতে পারলো না কেন বুঝলাম না। আমরা ভেতরে ঢুইকা লম্বা এক লোকেরে খালি কইছি ক্যামেরা... অমনি ব্যাটা কয়... ওহ! দ্যাট ফুজি ওয়ান? হিয়ার ইউ গো... কইয়াই হাতে দিলো ক্যামেরাটা... আমার তো বত্রিশটা দাঁত বাইর হইয়া গেলো খুশিতে.. ব্যাটার সাথে একখান ফটুক তুললাম সদ্য ফিরে পাওয়া ক্যামেরাটা দিয়া, অফিসটার ও ছবি তুললাম.. এর পরে আবার ফিরতি যাত্রা..ফিরার পথে প্রথম বাসের ড্রাইভারের সাথে দেখা .. হেয় নরওয়েজিয়ানে আর আমার ইংরাজীতে ইশারা-মিশারা কইরা এট্টু কথা কইলাম,,, আর হেয় আমাদেরকে বাস স্টপ দেখাইয়া দিলো.. আবার সেই পৌনে এক ঘন্টার মতো বাসে... ফিইরা দেখি আমাদের বুফে লাঞ্চের সময় শেষ হইবো প্রায়.. আর এট্টু হইলেও না খাইয়া থাকন লাগতো.. যাউকগা সব ভালো যার শেষ ভালো.. ক্যামেরাটাও ফিরত পাইলাম, লগে অসলোর বাইরেটাও এট্টু দেখা হইলো। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/anikablog/28819257 http://www.somewhereinblog.net/blog/anikablog/28819257 2008-07-12 00:11:53
জাদুঘরের জাদুর রাজত্বে... ৪
এক জায়গায় গ্লোবাল ওয়ার্মিং নিয়া ক্যাম্পেইন চালাইতাছিলো.. ঘরের মাঝখানে একটা ইয়াব্বড়ো বরফের টুকরা রাইখা, সেইটারে গলাইছে... রেইন বুট পইড়া ঢোকা লাগছে ওইখানে, আমি মনে মনে ভাবতাছিলাম এনার্জি এফিসিয়েন্সি -হাবি-জাবি নিয়া ক্যাম্পেইন করতে গিয়া যেই পরিমাণে এনার্জি খরচ করে, সেইটা কে হিসাব করবে? যাউকগা, আমি আদার ব্যাপারী... জাহাজের খবরে কি করুম?

সবচে মজা লাগছে পুরান গাড়ি আর মোটরসাইকেলের সেকশনটা দেখতে, কি যে বাহারী সব গাড়ি আর তেমনি তাদের নাম! মনে হইতাছিলো ষাট-সত্তর বছর আগে চইলা গেছি। অস্টিন, ক্যাডিলাক, রোলস রয়েস!! এই সেকশানে ঘুরনের সময় ইথু'র কথা মনে হইতাছিলো, বেচারা কি খুশিটাই না হইতো দেখতে পাইলে।

একদম নীচতলায় বাচ্চাদের সেকশান... বিভিন্ন জিনিসের ডেমনস্ট্রেশান, নানান রকমের খেলা - ইনফ্রারেড স্ক্রীনে নিজেদেরকে দেখা, থ্রিডি ইমেজ.... আরো মজার মজার জিনিস। আমার সবচেয়ে মজা লাগছে, মাইন্ড বল নামের একটা গেমস। একটা টেবিলের উপর স্ট্রেইট লাইনে একটা বল রাখা, ইচ্ছাশক্তির জোরে ওইটারে ঠেইলা অন্য পাশে পাঠানো যায়.. যে প্রতিপক্ষের পাশে পাঠাইয়া দিবে সেই জয়ী। আমার খুব ইচ্ছা করতেছিলো .. কিন্তু লাইনটা ছিলো ব্যাপক লম্বা। অতএব হা হতোস্মি!

আরো অনেক কিছু দেখছি, বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন সময়ের ঘড়ি, টেলিফোন ইত্যাদি ইত্যাদি। মায়েরা বা বাবার বাচ্চাদেরকে কোলে বা সাথে নিয়ে ঘুরে ঘুরে সব দেখাচ্ছিলেন আর আমার নিজেদের কথা মনে হচ্ছিলো, আমাদেরও কি হবে না একদিন?

টেকনিক'স মিউজিয়াম থেকে হোমোনকলেন এর স্কি মিউজিয়াম, ট্রাম-ট্রেন বদল করে, বৃষ্টির মধ্যে আধা ভিজে শীতে কাঁপতে কাঁপতে মাইল দুয়েক হেঁটে ওইখানে যখন প‌ৌঁছলাম, ততোক্ষণে মোটে আর আধঘন্টা বাকি, ঠিক হলো স্কি জাম্প এর টাওয়ারে উঠেই ফেরত আসবো, বাকিটা আর দেখবো না। টাওয়ারে উঠবার সিঁড়ি এমন খাড়া, উঠবার আর নামবার সময় বুক ধুকপুক করছিলো। কিন্তু উইঠা মনে হইলো এই কষ্ট সার্থক। চারপাশের কাঁচের জানালার মধ্যে দিয়া শুধু সবুজ পাহাড় আর তার গায়ে ছবির মতো বাড়ি। অদ্ভুত স্বপ্নের মতো দৃশ্য, ওইখানে বাকিরা ফটুক তুললো, আমার যেহেতু ক্যামেরা নাই, তাই আ