somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... আমার বোকা আব্বু এবং চুইংগাম
একদম যে থাকিনি এমনও না, অনেক সময় সপ্তাহ ১০ দিনও থাকতাম। তো, একবার বাড়ি গেলাম। সপ্তাহখানেক থাকলাম। অনেক আনন্দ করলাম। যেন কোন পিছু টান নেই, কোত্থেকে আমার ২টা পাখা গজিয়েছে, কেবল উড়ি আর উড়ি! কিভাবে যে দিনগুলো চলে যাচ্ছিল বুঝতেই পারছিলাম না।

ও হঠাৎ না বলেকয়ে চলে আসল। ওর আবার সারপ্রাইজ দেয়ার বাতিক আছে। আমি আকাশ থেকে ধপ করে মাটিতে পড়লাম। আমার ডানা খসে পড়েছে। যথারীতি ও একটা গাড়ি ভাড়া করে নিয়ে এসেছে, এই গাড়ি দিয়েই ফেরা হবে। আমি ওকে বলতেও পারছি না আর কয়েকটা দিন থাকি কারণ আবার ওকে একগাদা টাকা খরচ করে গাড়ি নিয়ে আসতে হবে। লাটসাহেবের আবার টাকার টানাটানি!

কি আর করা, মন খারাপ করে সব গোছগাছ করছি। পারতপক্ষে আমার মা, বোনদের চোখের দিকে তাকাচ্ছি না। মন দুর্বল হয়ে যায় তখন এদের ছেড়ে যেতে ইচ্ছা করে না। কিন্তু যেতে তো হবে, হায় সংসার!

আমরা চলে আসছি। আব্বু আমাদের সাথে এগিয়ে দিতে আসছেন, সামনের রাস্তায় নেমে যাবেন। মেয়ের সঙ্গে আরও কিছুক্ষণ থাকার লোভ। কিন্তু আব্বুর ফিরতে কষ্ট হবে ভেবে আমার স্বামী বলল, বাবা, আপনার কষ্ট হবে ফিরতে, আপনি এখানেই নেমে যান।
গাড়ি যখন ব্রেক করল আমার বুকটা ধক করে উঠল। আমার চোখে কান্না জমছে।
আব্বু অনেক ভেবে নেমে গেলেন। আমার চোখে মেঘ দেখে তিনি এপাশ ওপাশ উদভ্রান্তের মত তাকাচ্ছেন। তাকে কি অসহায়ই না লাগছিল। রাস্তার পাশের দোকানে এক দৌড়ে গিয়ে আবার ফিরে আসলেন। আব্বুর দুহাত ভরা চুইংগাম। আমার হাতে দিয়ে বললেন, মামনি, চুইংগাম খাও।
ঝপ করে আমার চোখে অন্ধকার নেমে আসল, এইবার জমে থাকা মেঘ ঝরে পড়ল। আমার চিৎকার করে কাঁদতে ইচ্ছা করছিল। আব্বু তুমি কি ভেবেছ এখনও তোমার এই মেয়েটি সেই ছোট্ট খুকিটিই আছে, যার হাতে চুইংগাম ধরিয়ে দিলে সে কান্না ভুলে যাবে? কি বোকা আমার আব্বু!
আব্বুকে রেখে গাড়ি এগুচ্ছে। আমার বোকা আব্বুটা ছোট হতে হতে পুতুলের মত হয়ে হারিয়ে গেলেন। আমিও কি বোকা, ঘাড় ব্যাথা হয়ে গেছে তবু্‌ও ফিরে ফিরে আব্বুকে দেখার চেষ্টা করি।
আমার স্বামী বলল, আহ, কি করো, ড্রাইভার তাকিয়ে আছে। আর কি কান্ড, বাবা, কি মনে করে এতগুলো চুইংগাম কিনে দিলেন?
আমি কান্না চাপতে চাপতে বললাম, এটা তুমি এখন বুঝবে না।
ও বলল, তাই, তা কখন বুঝব?
যখন বাবা হবে, তখন...।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/annadoblog/29039344 http://www.somewhereinblog.net/blog/annadoblog/29039344 2009-11-07 16:58:50
আপনারা কাঁদবেন না, প্লিজ এবার আমার এই বোনটার বাবু হবে শুনে ডাবল খুশী হলাম। একটা হচ্ছে তার বাবু হওয়া দ্বিতীয়টা হচ্ছে এইবার এদের সঙ্গে কিছুদিন থাকা যাবে। কি আনন্দ যে হচ্ছিল, একটু পর পর চোখে পানি চলে আসে।

কিন্তু ৮ মাসের সময় জানলাম বাবুটি ওর মার পেটে উল্টে আছে। ডাক্তার অবশ্য বললেন, আস্তে আস্তে ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু একমাস ধরে বাবুটার নড়াচড়া কমে আসতে লাগল। একসময় বোনটিকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়া হলো। ডাক্তার বললেন, সিজার করে ফেলতে হবে, উপায় নেই।
বোনটিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হল। আমি শ্বশুরবাড়ি থেকে ছুটে গেলাম আমার ছোট দুটা বাচ্চাকে রেখে। যাদের কাছ থেকে আমি একঘন্টাও দূরে থাকি নাই অথচ এদের ফেলে আসতে হয়েছিল, উপায় ছিল না বলে। এমন অনেক জায়গায় যেতে পারি নি বাচ্চাদের রেখে যেতে হবে বলে। এই প্রথম আমার বাচ্চাদের ছাড়া কোথাও রাত কাটালাম।

আমার বোনটিকে যখন ওটিতে নিযে যাচ্ছে, সবাই কাঁদছে। আমি শক্ত থাকার চেষ্টা করছি কিন্তু আমার ইচ্ছা করছে চিৎকার করে কাদতে। ওটির দরজা বন্ধ হওয়ার আগে আমার বোনটি আমার দিকে কেমন করে যে তাকিয়ে ছিল। সেই দৃষ্টি আমি কোনদিন ভুলব না।
সেই দৃষ্টিতে কি ছিল? আপু, জানি না ফিরে আসব কিনা, আমার বাবুটা বেঁচে থাকলে তাকে কিন্তু তুই ফেলে দিস না।

আমার চাচাতো বোনরা পরপর বাচ্চা হওয়ার কারণে মারা গিয়েছিল বলে আমরা প্রচন্ড আতংকিত ছিলাম। তার উপর আমার এই বোনটার অনেক জটিলতা।
যাক, একসময় ঝড় যেমন থেমে যায়, আমাদের আতংক শেষ হল। সময়টা কেমন করে কেটে গেছে এটা লিখে বোঝানো যাবে না, এই ক্ষমতা আমার নাই।

ঘুমের ওষুধের প্রভাবে বোনটা ঘুমিয়ে থাকে। আমিই বাবুটাকে নিয়ে রাখি। কেবিনে কতক্ষন থাকা যায়। মাঝে মাঝে করিডোরে বাবুকে নিয়ে হাটি। একদিন বাবু নিয়ে হাটছিলাম। পাশের কেবিন থেকে একটি মেয়ের যন্ত্রণার শব্দ ভেসে আসছে। দরোজা খুলে ভেতর থেকে একজন বের হয়ে এলে আমি জিজ্ঞেস করলাম, ওনার কি হয়েছে?
তিনি বললেন, আজই সিজার হয়েছে। কিন্তু জ্যামের কারণে ডাক্তার আসতে দেরী হয়েছিল, বাচ্চাটাকে বাচানো যায় নি।
আমি জানতে চাইলাম, আপনি বাচ্চার কি হন?
তিনি চোখে পানি নিয়ে বললেন, আমি বাচ্চাটার বাবা। বলতে বলতে তিনি একটা বাচ্চার মত কাদছিলেন।
আমার মাথায় কি হয়ে গেল জানি না। আমি আমাদের বাবুটাকে এগিয়ে দিয়ে বললাম, ভাইয়া, কাদবেন না। আপনি কি একে একটু কোলে নেবেন, প্লিজ।
মানুষটা অবাক চোখে আমার দিকে তাকিয়ে রইলেন। আমাদের বাবুটাকে একেবারে বুকের মাঝে জড়িয়ে রাখলেন। তিনি দৌড়ে ভেতরে গিয়ে একজন বয়স্ক মহিলাকে নিয়ে এলেন। তার কাছে বাবুটিকে দিলেন। ইনি মানুষটার মা। এই মহিলাও আমাদের বাবুটাকে বুকে ধরে কাদছেন। এদের কান্না দেখে আমিও কাদছি।
অনেকক্ষন পর বয়স্ক মহিলাটি বললেন, মা, আমাদের বাচ্চাটা মারা গেছে জেনেও তুমি আমাদের কোলে দিলে?
আমি প্রথমে ওনার কথা বুঝি নাই, বললাম, কেন খালাম্মা?
তিনি বললেন, না, সবাই বলে এতে নাকি জীবিত বাচ্চার অমঙ্গল হয়।
আমি দৃঢ় কন্ঠে বললাম, কেন অমংগল হবে? আমাদের বাবুটার জন্য আপনারা যদি একটুখানি শান্তি পেয়ে থাকেন তবে আমাদের বাবুর জন্য এরচেয়ে বড় দোয়া আর হয় না।

তিনি আমার মাথায় হাত রেখে কাদতে কাদতে অনেক কথাই বলছিলেন কিন্তু এরা কোনদিনই জানবেন না, আমার আকাশ পাতাল আনন্দের কথা, ভাললাগার কথা।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/annadoblog/29028544 http://www.somewhereinblog.net/blog/annadoblog/29028544 2009-10-19 17:17:28
অবশেষে ঈদ করতে যাচ্ছি বাবার বাড়ীতে এতগুলো ঈদ করলাম শ্বশুরবাড়িতে। ঈদের চাদ উঠে সবাই আনন্দে ভেসে যায় আর আমার ভেসে যায় গাল চোখের পানিতে। তখন চুপটি করে এসে নিজের রুমে বসে থাকতাম ।
বাসায় ফোন করলে দেখতাম আমার পরিবারের সবাই কাদছে, আমার বোনরা কাদছে। আমরা সব বোন একসাথে ঈদ করতাম, বিয়ের পর ছিটকে পড়লাম। বাবা মাকে বলতাম তোমাদের মেয়ে তো প্রথম না যে কিনা শ্বশুরবাড়ি ঈদ করছে অসংখ্য মেয়েই তাদের বাবার বাড়ি ছেড়ে ঈদ করছে।
অনেক অলিখিত নিয়মই তো এই সমাজে চালু হয়ে যায়, এই নিয়মটা হলে কি খুব বেশী অন্যায় হবে যে মেয়েরা একটি ঈদ করবে শ্বশুরবাড়ি একটি করবে বাবার বাড়ি।
আমার কথাই বলি যতবারই আমি ঈদ করতে যাব বলেছি তারা কি পরিমান যে খুশী হত আমি তা ফোনেই টের পেতাম।
যদিও কখনই আমার যাওয়া হয়ে উঠেনি কোন না কোন কারনে । আমার বাব মা যখন থাকবে না [তাদের আগে যেন আমি এই দুনিয়া থেকে চলে যাই] তখন আমরা কোথায় যাব কার কাছে যাব ঈদ করতে?
বাবার বাড়ি শব্দটাই যে ভুলে যেতে হবে! আমাদের যে একটি ভাইও নেই! ভাই থাকলে হয়ত বাবার বাড়ি শব্দটা জীবিত থাকত। আমার তো এখনই ভাবতে কষ্ট হয় কখনো না কখনো আমার বাবার বাড়ি যাওয়া হবেনা এবং গেলেও খুশি হওয়ার মত কেউ থাকবেনা।
আমার বাবা মার পুরো জগতটাই আমরা তিনটি বোন (প্রতিটি বাবা মাই এমন)।
আমার মাকে একবার বলেছিলাম; আমি আসলে তুমি এত খুশি হবে কিন্তু তুমি কি কখনো বিয়ের পর তোমার বাবার বাড়ি ঈদ করেছ? মাও কখনও তার বাবার বাড়িতে ঈদ করেন নি।
তাই আমি এবার ভেবেছি যদি আমার যাওয়া হয় তাহলে ঈদটা আমি করব আমরা সবাই মিলে নানুর বাড়ি। আমাদের বাড়ি আর নানুর বাড়ি খুব কাছাকাছি। মামা, খালামনিদের সবাইকে বলে দিয়েছি যে আমরা সবাই এবার এক সাথে ঈদ করব তোমরাও আসো। (সবাই যাবে মাঝে আমারই যাওয়া হবেনা মন বলছে)।
কারন এমনটিই হয়ে আসছে।
তবে এবার আমার খুব বেশী খারাপ লাগবেনা। এবার আমরা হারিয়েছি অনেক ।
ছোট ছোট কষ্ট গুলো হাওয়ায় উড়ে যাবে।
কত কত মানুষযে স্বজন হারা সন্তান হারা সন্তান, মাহারা সারা জীবনের জন্য তারা হারিয়ে ফেলল তাদের প্রিয়জনদের। আমি তো ভাবতেই পারিনা আমার প্রিয় মানুষগুলো কখনও....। যদিও আমার ভাবা না ভাবাতে কিছু যায় আসে না যখন হারিয়ে যাবে আমার সেই সাধ্য নেই তাদের ধরে রাখার। (শুধু আল্লাহর কাছে এই প্রার্থনা আমার প্রিয় মানুষগুলোর কিছু হওয়ার আগে যেন আমি চলে যাই দুনিয়া থেকে)।....
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/annadoblog/28749152 http://www.somewhereinblog.net/blog/annadoblog/28749152 2007-12-03 15:34:02
প্রথম পাতায় পোস্ট করতে পারছি না<img src='http://www.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_17.gif' /> http://www.somewhereinblog.net/blog/annadoblog/28743532 http://www.somewhereinblog.net/blog/annadoblog/28743532 2007-11-07 22:38:39 পোস্ট না লিখে উপায় নাইরে,উপায় নাই একজন পাপ করে দশজন পুড়ে মরে।
আজ কয়েক দিন হলো আমি কারো লেখায় মন্তব্য করতে পারছিনা অনেকের লেখাই পড়ছি কিন্তু ভালো লাগাটা জানাতে পারছিনা এটা অমার জন্য অনেক কষ্টের।
সা.ই.আছি লম্বা সময় ধরে কিন্তু রেজিঃ করেছি মাস খানেক হবে,এখানের অনেক কিছুই আমার জানা।
আমার মত অনেক নতুন ব্লগারদের অবস্থা হচ্ছে সেই রকম[অবশ্যই যারা প্রকৃত নতুন ব্লগার]
তারা নিশ্চই ছটফট করছে ব্লগে মন্তব্য করার জন্য।
জানিনা কবে আমাদের জন্য দরজাটা খুলে দেয়া হবে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/annadoblog/28742193 http://www.somewhereinblog.net/blog/annadoblog/28742193 2007-11-03 01:00:33