somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার উপন্যাসের নারীরা - হুমায়ূন আহমেদ

২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ বিকাল ৫:৫২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

[জনপ্রিয় উপন্যাসিক হুমায়ূন আহমেদ অনেকদিন পর নিজ নারী ভাবনা, লেখক নারী ভাবনা নিয়ে কিছু বললেন। ওনার দ্বিতীয়পক্ষের স্ত্রীকে নিয়েও বললেন। জনমনে ওনাকে নিয়ে নানান কথাবার্তা তখন হয়েছে। কিন্তু হুমায়ূন মুখ খোলে নি। চুপ করেছিলেন। পাঠকদের মনে এখনো এ লোকটির রহস্যময় চরিত্র নিয়ে নানান আগ্রহ! হয়তো, অনেকের আগ্রহ একদমই দমে গেছে। সম্প্রতি ওনার স্ক্রিপ্টে সিনেমা হলো- দারুচিনি দ্বীপ। যেখানে গ্ল্যামার বিউটিরা নায়িকা হয়েছিলো। কিছুদিন আগে এ বছরের লাক্স সুন্দরী আয়োজনে ঘোষণা দিলেন, গ্ল্যামার বিউটিদের নিয়ে তিনি আবার কাজ করবেন। হুমায়ূন আহমেদ আসলে যতোই বয়সের ভারে ন্যুব্জ হোন না কেন, তারুন্যের গ্ল্যামার নিয়ে উনি চির নবীন থাকতে চান!
ব্লগার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করলাম লেখাটি]

আমি বিয়ে করেছি অল্প বয়েসী একটি মেয়েকে। তার সামনে পাকা চুল নিয়ে ঘুরতে ভালো লাগেনা। বৃদ্ধ মানুষকে দেখতে কার ভালো লাগে। এ কারণে চুলে কলপ লাগাই, রংচটা শার্ট পরি। বয়সকে কমিয়ে ফেলার হাস্যকর প্রচেষ্টা আর কি।
আমার লেখা উপন্যাসে নারী চরিত্রের সংখ্যা আমার অজানা- যেমন অজনা কতোগুলো উপন্যাস প্রকাশ হয়েছে। একেক উপন্যাসের নারী চরিত্র একেক রকম। আলাদা ভাবে বলতে গেলে ডিফিকাল্ট হয়ে যাবে। তাছাড়া জেনারেলাইজেশান করাটাও ঠিক হবে না। হিমু বা মিসির আলীকে তৈরি করেছি। কিন্তু এভাবে আলাদা কোনো নারী চরিত্র তৈরি করিনি। আমার নারী চরিত্রের মধ্যে কোনোটা আনন্দময়ী নারী, কোনোটা ক্ষুব্ধ নারী প্রতিমা। কোনোটা রাগী, কোনোটা স্বাভাবিক। কেউ থাকবে হাসি খুশি এটাই নিয়ম। অনেকে বলেন, আমার নারী চরিত্রের মধ্যে অদ্ভুত একটা ব্যাপার থাকে। কিন্তু আমি বিষয়টি সেভাবে দেখিনা। এভাবে আসলে চরিত্রগুলো সৃষ্টি করা হয়নি। হিমুর ভালোবাসার কারণে রূপার চরিত্রটি আলাদা। ওই উপন্যাসের সব চরিত্রই রহস্যময়। এতোগুলো নারী চরিত্রের মধ্যে আমি কখনো খুঁজে ফিরিনি স্বপ্নের নায়িকাকে। কিংবা প্রেমিকাকে। উপন্যাসের কোনো নারী চরিত্রকেও ওভাবে প্রেমিকা বলে ভাবিনি। প্রেমিকারাতো আলাদা কিছু নয়। তাছাড়া এ বুড়ো বয়সে আর প্রেমিকা খুঁজতে যাবো কোথায়! তবে লেখার অর্থে কোনো নারীকে খুঁজিনি। কারণ আমার সৃষ্টির সব চরিত্রই নিজের মনের মতো করে গড়া।

আমার জনপ্রিয়তা নিয়ে অনেকে প্রশ্ন করেন। বলেন কিভাবে সম্ভব হলো জেনারেশান গ্যাপ ঘুঁচিয়ে ফেলা। এর উত্তর আমি কখনো বলতে পারবো না। এটা বলতে পারবেন মনস্তত্তবিদরা । কেন বাকের ভাইয়ের জন্য মিছিল হয়? আমার কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়, আর কেনোই বা বহুব্রীহি নাটকের জন্য ডাক্তাররা আমাকে গালিগালাজ করেন , সেটা আমার পক্ষে বলা সম্ভব নয়।

আমার উপন্যাস পড়ে অনেকেই নাকি হাসতে পারেন। তবে, এর জন্য আলাদা কোনো পরিশ্রম করতে হয়না আমাকে। আসলে একটা জিনিস প্রথমে দেখে ভালোলাগতে হবে, পরে তার শিল্পমূল্য বিচার করা হবে। মাথার মধ্যে যখন যেটা আসে, সেভাবে লিখি। লেখক হিসেবে আমার চোখে ১০টি মেয়ে ১০ রকম। মেয়ের সৌন্দর্য ব্যাপারটার সংজ্ঞা কেউ দিতে পারেন না। এটা মনের ব্যাপার। যেমন আমার প্রথম লেখা " শঙ্খনীল কারাগার"- এর নায়িকা কালো। কিন্তু সে সুন্দর। আফ্রিকান মেয়েদের দেখলে আমাদের অনেকেরই হয়তো ভালোলাগবে না। বড় বড় চোখ, দাঁত। কিন্তু সে দেশে অনেকেই তাদের জন্য পাগল।

আমার সৃষ্টির মধ্যে সবার চেয়ে আলাদা চরিত্রটি আমি নিজে। আমি সবার থেকে একটু্ আলাদা। জীবনটাকেও সেভাবে দেখি- সে কারণে আমার উপন্যাসের মধ্যে সবার থেকে আলাদা একটা চরিত্র থাকে।

বিঃদ্রঃ " আমার উপন্যাসের নারীরা", হুমায়ূন আহমেদের এ লেখাটি, মঙ্গলবার ১৮ সেপ্টেম্বর ভোরের কাগজের বৈকালীন আয়োজন 'দিনের শেষে' তে প্রকাশিত। সেদিন ছিলো, দিনের শেষের ২য় বর্ষপুর্তি।
১৬টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×