আগের পর্ব পড়ুন........।
জন্মগতভাবে মানুষ সমান। কারণ তাদের মূল উৎস এক। একমাত্র পুরুষ এবং একমাত্র নারী থেকে গোটা জাতি অস্তিত্ব লাভ করেছে । তাদের সবার সৃষ্টিকর্তা এক, তাদের সৃষ্টির উপাদান ও নিয়ম পদ্ধতি এক এবং তদের সবার বংশদারা এখই পিতামাতা পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছে। সুতারাং মানুষ যেখানেই জন্মগ্রহন করুক না কেন, সেটি দেখার বিষয় নয়। বরং যে মূল জিনিসের ভিত্তিতে একজন অপরজনের ওপর মর্যাদা লাভ করতে পারে, তা হচ্ছে সে অন্য সবার তুলনায় অধিক আল্লাহভীরু, মন্দ ও অকল্যাণ থেকে দূরে অবস্থানকারী এবং নেকি ও পবিত্রতার পথ অনুগমনকারী । ইসলাম সাম্য-সংহতির অনুপম শিক্ষা শুধু ব্যক্তিচরিত্রে নয়, বরং মানুষের পরিবারিক, সামাজিক,অর্থনৈতিক, রাষ্ট্রীয় জীবনসহ আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে বাস্তবায়ন করেছে।
আল্লাহ তালা বলেন, হে ঈমানদার লোকেরা, তোমরা যদি আল্লাহকে ভয় করে চল, তাহলে তিনি তোমাদের সত্য মিথ্যার মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় করার ক্ষমতা দান করবেন। তোমাদের গুনাহ সমুহ মিটিয়ে দেবেন, তোমাদেরকে ক্ষমা করে দিবেন, আল্লাহর দান অনেক বড়। (সুরা আনফাল ২৯)
আমরা যত গুলি ইবাদত পালন করে থাকি ,যেমন- নামাজ,যাকাত, হজ,রোজা প্রতিটি ইবাদতের লক্ষ্য উদ্দেশ্য হলো একটি, তা হলো আল কুরআন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুটি আদায়ের সংগ্রামে আদর্শ সৈনিকে পরিনত করা। কিন্তু আমরা এ মুল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ভুলে গিয়ে ইবাদত কে স্রেফ একটি অনুষ্ঠানে পরিনত করেছি। কিন্তু ইবাদত গুলোর ফায়দা পাওয়া যাচ্ছেনা। যেমন নামাজ খারাপ কাজ থেকে বিরত রাখা, যাকাত পবিত্রতা দান করা এবং রোজা তাকওয়ার গুন সৃষ্টি করতে পারছেনা। আর প্রতিটি ইবাদত যেহেতু দক্ষ সৈনিক প্রস্তুত করতে পারেনি তাই কুরআন ও আমাদের পথ দেখাতে পারছেনা । কারন যিনি অন্ধ তার কাছে টচ লাইটের আলোর কোনো মুল্য নেই, এবং এ আলো তাকে পথ দেখাতে পারবেনা। এমনি ভাবে আমরা যারা ইবাদতকে আল কুরআন থেকে বিচ্ছিন্ন করেছি এবং আল কুরআনকে সঠিক ভাবে বুঝতে ও মানতে এবং সে অনুযায়ী জীবন গঠন করতে চাইনা। তাই,ইবাদত ও আল কুরআন যৌথ ভাবে আমাদের তাকওয়ার পথে পরিচালিত করতে পারছেনা। অথচ তাকওয়া এমন একটা শক্তি, যারা ওপর ভিত্তি করে মানুষ ন্যায় অন্যায় বুঝে কাজের জন্য অগ্রসর হতে পারে। নিজের ক্ষতি হবে, এমন কাজ থেকে বিরত থাকবে এটাই স্বাভাবিক, এটাই তাকওয়া। কিন্তু মানুষের যদি জ্ঞানই না থাকে যে, কিসে তার ক্ষতি, কিসে তার ভালো, তবে সে কি ভাবে বিরত থাকবে? কুরআন হক ও বাতিল, ন্যায় ও অন্যায়ের মধ্যে পার্থক্য কারী একটা কষ্টি পাথর।
আল্লাহ নাজিল করেছেন কুরআন, যা মানুষের জন্য হেদায়েত এবং সত্যপথ যাত্রীদের জন্য সুষ্পষ্ট পথ নির্দেশ আর ন্যায় ও অন্যায়ের মাঝে পার্থক্য বিধান কারী। (সুরা বাকারা-১৮৫)
সুতারাং আমরা যা কিছু ইবাদত এবং কর্মকান্ডে লিপ্ত হই , এ সবকিছুর মাধ্যমে আমাদের মধ্যে তাকওয়ার শক্তি অর্জন করতে হবে। যে তাকওয়া আমদেরকে আল্লাহর দেওয়া জীবন বিধান এবং কুরআনের মিশনকে পুরো করার যোগ্য করে তুলতে পারে। সে জন্য কুরআনের সাথে গভীর সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। এবং হাদিস জানতে হবে। কুরআনের প্রতি মহব্বত আল্লাহ তালার প্রতি মহব্বতের শামিল। কুরআনের সঙ্গেঁ যার সম্পর্ক যত বেশি থাকবে। আল্লাহর সঙ্গেঁও তার তেমন সম্পর্ক গড়ে উঠবে। হাদীসের মাধ্যমে আমরা হজরত মুহাম্মদ (সাঃ) কে চিনতে পারবো এবং বুঝতে পরবো। উনি কেমন মানুষ ছিলেন? উনার দ্বারা কুরানের মতো একটা কিতাব লিখা সম্ভব ছিলো কিনা ? এবং কুরআনের গ্রহন যোগ্যতা কতটুকু? এগুলো চিন্তা করলে আমরা বুঝতে পারি, আল্লাহ এক, কুরআন আল্লাহর পক্ষথেকে, হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) মাধ্যমে নাজিল করা হয়েছে মানব জাতির জন্য।
আরো আছ.....।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে জুন, ২০০৭ বিকাল ৪:১৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


