ইতিহাসে আমার চিরকালই আতঙ্ক, সন্ধ্যেবেলায় আকবরের শাসনকাল পড়ছিলাম। স্বপন হাপাতে হাপাতে এসে বললো, তাড়াতাড়ি চল, রাজাদা আমাদের সবাইকে ডেকেছে, রাজাদা এক্ষুনি বিয়ে করবে।
বলিস কিরে! রাজাদার বিয়ে? বলা নেই কওয়া নেই, বিয়ে? রাজাদা বিয়ে করবে, ভাবতেই পাড়ছিনা।
স্বপন বললো, তুই কি চাসনা রাজাদা বিয়ে করুক।
না তা নয়, তবে এভাবে কি বিয়ে হয়?
স্বপন বললো, হয়, হয়। নে তাড়াতাড়ি চল। সবাই চলে গেছে।
আমাদের পাড়া থেকে বেশ খানিকটা দুরের পাড়ায় বিয়ে। গিয়ে দেখি হৈ হৈ ব্যাপার।
যে মেয়েটাকে রাজাদা বিয়ে করবে বলে ঠিক করেছে, আজই তার বিয়ের দিন ঠিক ছিল। পাত্র আমাদের শহরেরই একজন নামকরা উকিলের ছেলে। বিয়ের আসরে হঠাৎই পাত্র বেঁকে বসে বিয়ে করবে না বলে। অনেক বোঝানোর পরও পাত্র কছুতেই রাজী নয় বিয়ে করতে।
মেয়েটির ভাই আমাদের ক্লাবেই ফুটবল খেলে, মেয়েটি অপূ্র্ব সুন্দরী । রাজাদারও বিয়েতে নেমন্তন্ন ছিল।রাজাদা সন্ধ্যে থেকেই বিয়ের আসরে তদারকী করছিলেন।
পাত্রী পক্ষের সবার মাথায় হাত। পাত্রী লগ্নভ্রষ্টা হয়ে না যায়। এই মুহূ্র্তে অন্য পাত্র না পেলে তো সর্বনাশ হয়ে যাবে।
রাজা তৈরীই ছিলেন। আসরে নেমে পড়লেন। আমিই পাত্র। আপনারা রাজী হলে আমিও রাজী।
ঠিক সেই সময়তে রাজাদার বড় বৌদি এসে হাজির।আমরা বড় বৌদিকে খুব ভয় পেতাম,খুব ব্যক্তিত্বময়ী মহিলা। পাড়ায় সবাই বড় বৌদিকে শ্রদ্ধা করেন। ব্যস, কেল্লা ফতে। রাজাদাকে পায় কে। রাজাদার ঐ রাতে ঐ মেয়ের সঙ্গেই বিনা খরচায় বিয়ে হয়ে গেল।
বৌভাতে খুব খাটাখাটি করলাম । রাজাদা আমাদের ডেকে বললেন, আমার অনেক দিনের ইচ্ছেতো ছিলই কিন্তু বলতে পারছিলামনা, বুঝলি।
আমরা সব বুঝলাম।
রাজাদা চান্সে ডান্স করে নিলেন এবং পাড়ায় মহান হয়ে গেলেন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

