আমি কইলাম কি কি লাগবো কও ।
হ্যায় ফিরিস্তি দিল ।
আমি কইলাম কেক বানাইবা কিসে?
ক্যান, আভেনে ।
আমি কইলাম,আভেনে তো কেক হয়না বইলাই জানি।
হ্যায় কইলো, হয় আমি কাইল টিভিতে দেখছি।
আমি কইলাম কি জানি, কিভাবে হয় তুমিই ভালো জানবা।
আমি ফিরিস্তি তামিল কইরা অফিসে চইলা গেলাম।
ঠিক ভর সন্ধ্যা বেলায় আমার মোবাইলে মধুর আওয়াজ আইলো। (আমার পন্ডিতের রিং-টোনটা আলাদা দিয়া রাখছি। আপনারাও দিছেন আমি জানি)
পন্ডিত জিগাইলো, কখন আইবা। (পিতলা আলাপ)
আমি কইলাম, ক্যান, দেরী আছে। এখন খুব বিজি ।
হ্যায় কইলো, না এমনি জিগাই।
পরপর দুইবার ফোন আইলো । দুইবারই জিগাইলো কখন বাড়ী যামু।
সব কাম ফালাইয়া বাড়ী গেলামগা। (আপনারাও যান,আমি জানি)
বাড়ী আইতেই কেমন যেন একটা পোড়া পোড়া গন্ধ পাইলাম। ঘরে ঢুকতেই, পন্ডিতের মুখখানি দেখি ভার ভার ।
কইলো, টিভি বেইচ্যা দেও।
ক্যান অমন সাধের প্লাজমা টিভি বেইচ্যা দিমু ক্যান!!
টিভিতে যেইরকম দেখাইছিলো সেইরকম কইরাইতো কেক বানাইছি । কেকতো হইলোইনা, আমার আভেন পুইরা গেছে, কেকের বাটিটাও পুইরা গন্ধ বাইরাছে, পাড়ার বেবাক লোক উঁকি মারতাছে।
আমি কইলাম কাম সারছে।
আভেনের মিস্ত্রিরে ফোন লাগাইয়া হক্কল বিত্তান্ত কইলাম । মিস্ত্রি কইলো পরশু সকালের আগে আসতে পারুমনা। অনেক আভেন পোড়ার রিপোর্ট পাইতাছি , হক্কলেই কেক বানাইতে গিয়া আভেন পোড়াইয়া ফালাইছে। কোন একটা টিভিতে কেক বানানো দেখাইছে আর আমার কাম বাড়ছে ।
আমি কইলাম টিভিতো তাইলে বেচনই লাগে।
সারাটা সন্ধ্যা আমার পন্ডিতে টিভির সামনে বইসা বইসা সিরিয়াল গিলে আর কি কি সব শিখ্যা প্রাকটিস কইরা খাওনের বারোটা বাজাইতাছে । এখনতো আভেনটাই গ্যাছে।
কাইল সকালে আভেনের মিস্ত্রি আইয়া আভেন দেইখ্যা কইলো - না কিছু হয় নাই । বাইচ্যা গেছেন। আসলে হিটটা বেশী দিয়া ফালাইছিলেন, তাই বাটীটা পুইড়্যা গেছে।
দ্যান, আমি আপনারে কেক বানাইয়া দেখাইতাছি ম্যাডাম, কেক কি কইরা বানাইতে হয় তা টিভির ছোটো চুলের মাইয়ারা জানবো কি কইরা?
আবার কি কাম সারে কে জানে, আমি বাড়ী থেইক্যা চইলা গেলাম।
সন্ধ্যা বেলায় আইয়া, কফির লগে একখানি কেকের টুকরা পাইয়া আইতকা উঠলাম , হায়রে কি জানি কি হইছে।
দেখো কি সুন্দর কেক হইছে ।
আমি কইলাম, আর টিভি দেইখ্যা কাম নাই, কি কও ।
(আপনারা কি কন?)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

