somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আপনাদের পাড়ার রাজাদা (কাহিনী-২১)

৩০ শে জানুয়ারি, ২০০৮ দুপুর ২:২২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

রাজাদা আবারো চাকরী ছাইড়া দিল। এইবার লইয়া রাজাদা এগারোবার চাকরী ছাইড়া দিল।
আমি কইলাম - রাজাদা - তোমার এইবার চাকরী ছাড়ার কারনডা কি?
হ্যায় কইল - একই কারন। টপ বস কোইলকাতারথন আইয়া কয় ব্যবসা এইবারে ভাল হয় নাই। কাম করনের নজর আছে কিনা । হালার চাকরীই ছাইড়া দিলাম। বোঝ এখন, তগো ব্যবসা কোন হালায় বাড়ায়।
রাজাদা একখান রংয়ের কোম্পানীতে চাকরী করতো। আগেরটাও রংয়ের কোম্পানী ছিল। তার আগেরটাও রংয়ের কোম্পানী ছিল। তার আগেরটা সিন্থেটিক আঠার কোম্পানী ছিল। তার আগেরগুলা কি কোম্পানী ছিল এখন আর মনে নাই।
তা- রাজাদা, এখন কি করবা ? - আমি জিগাইলাম। বউয়ের কামাইতে খাইবা।?
থুইয়া দে তর বউয়ের কামাই। রাজাদা আমার উপর ক্ষেইপা গেল। আমার কি পয়সা নাই? বউয়ের কামাইতে খাইতে হইব?
তাইলে শ্বশুরের পয়সায় খাইবা?
হ্যার শ্বশুর বহুত পয়সা লইয়া রিটায়ার করছে। একখানই মাইয়া। মাইয়াও কাম করে। সাহারা কোম্পানীতে বেচনেরই কাম করে।
থুইয়া দে শ্বশুরের পয়সা । এইবার আমি একখান রেঁস্তোরা খুলুম ।
তুমি কি বাবুর্চি যে রেঁস্তোরা খুলবা । তুমি রেঁস্তোরার কি জানো। আমি জিগাইলাম।
ফাষ্ট ফুড বেচুম । একজন সেফ রাইখা দিমু । ব্যস দেখবিয়ানে। গর গর কইরা আমার রেঁস্তোরা চলবো। তগো কিন্তু বাকী দিমুনা - এই আমি আগের থেইকাই কইয়া রাখলাম । রাজাদা সবজান্তার মতো কইলো ।
আমি কইলাম - হ দেখুমনে। খোলোতো আগে। পয়সা দিয়াই খামু ।
তারপর রাজাদার লগে অনেকদিন দেখা হয় নাই ।

একদিন ভর সন্ধ্যাবেলায় বাপী (রাজাদার শ্যালক) আইসা কইল রাজাদারে সকাল থেইকা পাওয়া যাইতেছে না । চলতো একটু খুইজা দেখি।
গরু খুজা খুইজা রাজাদারে আর পাইনা ।
আমার একজন সাংবাদিক বন্ধু আছে, হ্যায় টিভিতে খবরের কাম করে।
রাত্তির বেলায় হ্যার লগে দেখা হইতেই হ্যায় কইল কিরে আজকাল তর দেখা পাইনা ক্যান, থাকস কই ।
আমি কইলাম রাজাদারে খুজতাছি ।
হ্যায় কইলো - খাড়াও খাড়াও- তগো রাজাদার নাম শুনছি । আচ্ছা আয়তো আমার লগে। গেলাম হ্যার বাড়ীতে, ক্যামেরা খুইলা দেখাইয়া কয়, দ্যাখতো এই লোকটা তগো রাজাদা কিনা ?

হ হ, রাজাদাই তো । জলে ডুইব্যা রইছে ক্যান ? হ্যারে তুমি পাইলা কই।
আর কইসনা । লোকটা মানে তগো রাজাদা আইজ জলে ডুইবা মরতে গেছিল। ভাগ্যচক্রে আমি হালা ঐখান দিয়াই বাইক লইয়া আইতেছিলাম । লোকটারে জলে ডুবতে দেইখ্যা আগে ভাল কইরা জম্পেস কইরা ছবি তুইলা তারপর লোকজন ডাকাডাকি কইরা এইতো কিছুক্ষণ আগে হাসপাতালে দিয়া আইলাম।
লোকটা বাঁইচ্যা গেছে ।

আমি কইলাম তুমি কি ছবি আর খবর পাঠাইয়া দিছো ?
হ্যায় কইলো না পাঠাইতে পারি নাই । লিংক পাইতেছি না।

আমি কইলাম - মইরা থাকুক লিংক । তুমি কি খবর পাঠাইবাই । খবরটা না পাঠাইলে হয়না?
হ্যায় কইলো - কয়দিন ধইরা কোনো খবরই নাই, যাও একখান খবর পাইলাম তাও তগো রাজাদারেই পাইলাম । কি করি ক'তো?

আমি কইলাম - খবরটা চাইপা যাও। জলে ডুইবা মৃত্যুতো হয় নাই । মরলে নাহয় খবর হইতো ।

রাজাদার শ্বশুরের লেইগা রাজাদা সেইবার বাইচ্যা গেল।
অনেকদিন পর রাজাদার লগে দেখা হইতেই - হই হই কইরা কইলাম - হাই রাজাদা, খবর কি কও - ভালো আছো তো ? তুমি এখন কি করতাছো ?

হ্যায় কইলো - এখন আমি মন দিয়া আগের মতই রং বেচতাছি । দেখলাম রং বেচাটাই আমার আসল কাজ। রেঁস্তোরা চালাইতে আমি পারুম না ।

তা তুমি মরতে গেছিলা ক্যান - এই কথাটা জিগাইবার আগেই হ্যায় কইল

মরার গপ্পটা আরেকদিন কমুনে । বিদেশ থেইকা অনেক লোক আইছে, তাগো লইয়া একটা কনফারেন্সে যাইতাছি। পরে আসুমনে।

রাজাদা চইলা গেলো । দেখি পিছে পিছে রাজাদার বউও যাইতাছে।
বউদিরে কইলাম - যান কই?
বউদি কইলো, তগো রাজাদার মাথাটা যেন ক্যামন হইয়া গেছে, পিছে পিছে যাই, আবার যদি কিছু কইরা বসে?

আমাগো কথা আর সরলো না ।
১৩টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×