স্ত্রী উচ্চপদস্থ সরকারী চাকুরে।
এক ছেলে এক মেয়ের গর্বিত পিতা। ছেলে মেয়ে দুটো পড়াশুনায় খুব ভালো। মেয়ে লরোটো কনভেন্টে পড়ছে। ভোরে স্কুল শুরু হয়। বাসে যেতে হয়। প্রতিদিনই স্কুলে যাবার সময় হলে মেয়ে বাবার কাছে পয়সা চায়। বাবা না শোনার ভান করে খুরপি হাতে বাগান করতে চলে যায়। মেয়ের চেচামেচিতে, মা রান্নাঘর এসে বুঝিয়ে শুনিয়ে পয়সা দেয়। মেয়ে চলে গেলে, বাবার বাগানের কাজ শেষ হয়।
এর পরে শুরু হয় স্ত্রীর চেচামেচি। রাজাদা ততক্ষণে ব্যাগ হাতে বাজারে । বাজার আসবে কখন তা কেউ জানেনা। কাজের মাসীর কাজ হয়ে গেলে চলে যায়। বাজার আসেনা। বসে থেকে থেকে স্ত্রীর অফিসের সময় হয়ে গেলে তিনিও চলে যাবার জন্য তৈরী। বাজার তখনও আসেনি। কখন আসবে কেউ জানেনা।
স্ত্রী অফিস চলে গেলে প'র বাজার আসবে। শেষ বেলায় বাজারে একটু সস্তায় জিনিস পাওয়া যায়।
এরপর ছেলে স্কুলে যাবার জন্য তৈরী হয়। রাজাদার বুক কাঁপতে থাকে ।
তবে ছেলে বুদ্ধিমান আগেভাগেই মার কাছ থেকে পয়সা নিয়ে রাখে। রাজাদা হাফ ছেড়ে বাঁচে।
রাজাদা দোকানে যাবার জন্য তৈরী হন। টেবিলে রাখা খাবার শেষ হতেই ড্রাইভার ভয়ে ভয়ে গাড়ী লাগাবার কথা বলতেই রাজাদা ক্ষেপে লাল।
তোকে বলেছিনা আমার গাড়ী লাগবেনা।
ড্রাইভার আমতা আমতা করে বলে, বৌদিমনি বলেছেন যে আপনাকে দোকানে পৌছে দিয়ে দিদিভাইকে স্কুল থেকে নিয়ে আসতে।
রাজাদা ততোধিক চিৎকারে জিজ্ঞেস করেন - তুই কি বৌদিমনিকে অফিসে পৌছে দিয়ে এসছিস?
না, তবে বৌদিমনি বলেছেন বিকেলে দাদাভাইকে আনতে যাবার সময় একবার বৌদিমনির অফিস হয়ে আসতে-ওনার হয়ে গেলে ওনাকেও নিয়ে আসতে।
রাজাদার রক্তের চাপ বেড়ে যায়।
বৌদিমনিকি তেলের দাম জানেন?
হ্যাঁ- বৌদিমনিইতো তেল কেনেন - ড্রাইভারের অকপট স্বীকারোক্তি।
রাজাদার কথা সরেনা, রাজাদা তেল কেনার পয়সা কবে দিয়েছেন মনে করতে পারেন না।
হ্যাঁ তুই বেশী জানিস, রাজাদার আঁতে ঘা লাগে। তেল কেনার পয়সা কে দেয় তা তোকে জানতে হবেনা। তুই গাড়ী বের করবিনা।
কিন্তু বৌদিমনি দিদিভাইকে ফোনে বলে দিয়েছেনযে। দিদিভাই আবার আমার জন্য অপেক্ষা করবে। দাদাভাইও অপেক্ষা করেবে।
রাজাদার বুকে ঢিপ ঢিপ শুরু। গাড়ীটা স্ত্রীর, তিনি কিনেছেন। ড্রাইভারের বেতন তিনিই দেন। তেল ও অন্যান্য খরচ তিনিই মেটান।
রাজাদা কি বলবেন, কি করবেন বুঝে উঠতে পারছেন না ।
তোদের যা খুশি কর বলে তিনি লোকাল ট্রেন ধরতে চলে গেলেন।
ড্রাইভার কি করবে বুঝে উঠতে না পেরে অগত্যা বৌদিমনিকে ফোন করতে ব্যস্ত হয়ে পড়লো ।
এরপর গয়না বানাবার কথা বলতে গেলে আরেক কাহন হয়ে যাবে। সেটা পরে আরেকদিন বলবো।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

