প্রতিদিনের মতো রাজাদার দোকানে আসতে আজও দেরী হয়ে গেল। দোকানে এসে দেখেন যে পাড়ার এক মাসীমা অনেকক্ষণ ধরে অপেক্ষা করছেন। রাজাদা আসতেই পাড়ার মাসীমা হাউ হাউ করে বলে উঠলো, কিরে রাজা আমি যে বাউটিটা গড়তে দিয়েছিলাম, হয়েছে? কাল বাদে পরশু বিয়ে। আমি আজ রাতের গাড়ীতে বিয়েতে যাবো ।
হয়েছে মাসীমা হয়েছে। আমার ওপর ভরসা রাখুন- রাজাদা আত্মপ্রত্যয়ের সাথে বলে ওঠেন।
কই দেখাতো দেখি।
রাজাদা বাউটি বের করে দেখালেন।
সে কিরে রাজা, আমিতো এই ডিজাইনের কথা বলিনি, আমি বলেছিলাম খাঁজ কাটা ডিজাইনের কথা, তুইতো হালকা ডিজাইনে বাউটিটা গড়েছিস, এ ডিজাইন আমার নাতবৌ পছন্দ করবেনা।
মাসীমা তাঁর নাতবৌকে বাউটিটা দানে দেবেন।
রাজাদাকে কেমন যেন বিব্রত দেখায়।
ঠিক আছে, ডিজাইন পাল্টে দিচ্ছি - রাজাদা আবার বাউটি নতুন করে গড়তে বসলেন। মাসীমা ঠায় বসে রইলেন।
এক কারিগর আমতা আমতা করে কি যেন বলতে চাইল - রাজাদা তাকে পাত্তা দিলেন না।
দু-ঘন্টা পরিশ্রমের পর, রাজাদা মাসীমার পছন্দের ডিজাইনে বাউটি গড়ে দিলেন।
মাসীমা বিদায় নিলেন। রাজাদা হাফ ছেড়ে বাঁচলেন।
টিফিন সারতে না সারতে পাড়ার আরেক মাসীমা এসে হাজির।
কিরে রাজা আমার বাউটিটা হয়েছে? তুই আজ দিবি বলেছিলি। পরশু আমার ভাইয়ের মেয়ের বিয়ে। বাউটিটা আমি তাকে দানে দেব বলেছি। আজ রাতে ভাইয়ের বাড়ীতে গিয়ে দিয়ে আসবো।
রাজাদা আবার মাসীমাকে বাউটি বের করে দেখাতেই মাসীমা চেচিয়ে উঠলো, একি করেছিস রাজা, আমি তো হালকা ডিজাইনের বাউটি গড়তে বলেছিলাম। আমার ভাইজি নিজে এসে ডিজাইন পছন্দ করে দিয়েছিল- তোর মনে নেই? এ খাঁজ কাটা ডিজাইন আমার ভাইজি পছন্দ করবেই না।
রাজাদা এবার বুঝতে পারলেন তিনি কি করেছেন।
এবারো সেই কারিগর কি যেন বলতে চাইল কিন্তু রাজাদার হাবভাব দেখে আর কিছু বলার সাহস পেল না।
আবারো রাজাদা নতুন করে বাউটি গড়তে বসলেন।
টানা দু'ঘন্টা পরিশ্রম করলেন। নিজের ভুলের খেসারত দিলেন। দু'টো মজুরীতে চারটে বাউটি গড়লেন।
সব রাগ গিয়ে পরলো শালা ড্রাইভারের ওপরে ।
ভাবলেন আজ রাতে বাড়ী গিয়ে একটা হেস্তনেস্ত করবেন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

