somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমেরিকা যুদ্ধ বাধাবেই (পর্ব -২)

২৫ শে নভেম্বর, ২০০৮ দুপুর ১২:৪২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আইটি সেক্টরে সাধারণতঃ সকালগুলি ভালোভাবেই শুরু হয়। আমেরিকায় তখন রাত শুরু এবং আমেরিকার বায়াররা ভারতের মতো দেশুগুলিতে তাদের আউটসোর্সিং-এর কাজের বরাত দিয়ে ঘুমোতে যায়

কিন্তু কিছুদিন হলো আইটি সেক্টরের সকালগুলি আর ভালোভাবে শুরু হচ্ছেনা। একের পর এক বড় বড় আই-টি কোম্পানিগুলোতে কর্মী ছাটাই'র নোটিশ দিয়ে দিন শুরু হচ্ছে। আমেরিকার কোম্পানীগুলোতে মন্দা শুরুর পর থেকে ভারতের আইটি সেক্টরে সঙ্কট শুরু হয়েছে কারণ ভারতের এই আইটি সেক্টরগুলি মার্খিন অর্থনৈতিক পরিষেবার ওপর নির্ভরশীল ছিল। মন্দার ফলে মার্কিন কোম্পানীগলো পুণর্গঠনের নামে তাদের পরিষেবা বন্ধ করে দিয়েছে, ফলে ভারতের মতো দেশগুলিতে বাইরের কাজ কমে গিয়েছে। মার্কিন কোম্পানীগুলো যেমন তাদের কর্মচারীদের ছাটাই অব্যাহত রেখেছে, তেমনি ভারতের কোম্পানীগুলোতে ছাটাই শুরু হয়েছে অথবা ৩০-৪০ শতাংশ মাইনে কমিয়ে দিচ্ছে। নোটিশ জারি হচ্ছে যে সব কর্মচারীদের কাজ কম তারা যেন সতর্ক হন। এই সেক্টরে কর্মরতদের ঈর্ষণীয় বেতন কমে যাচ্ছে শুধুমাত্র নতুন কাজ তৈরী না হবার ফলে। কোম্পানীগুলো তাদের অস্তিত্ব জানান দিচ্ছে তাদের কলেবর ছোট করে, কর্মী ছাঁটাই করে।

এবার আসা যাক রিয়্যালটি সেক্টরে। এই সেক্টরে ইতিমধ্যেই লগ্নী কমে যাবার ফলে (শেয়ার বিক্রি না হবার ফলে) ঘাটতি শুরু হয়েছে। চাহিদা কমে যাবার ফলে প্রকল্পগুলিকে শেষ করা যাচ্ছেনা। দেয় সুদের হার ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে অস্তিত্ব রাখতে দাওয়াই একটাই - কর্মী ছাঁটাই।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন এটা ধনতন্ত্রের সঙ্কট। মূলতঃ আমেরিকা ও পশ্চিম ইউরোপের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা এর জন্য দায়ী। কি কারনে - এর একটা ব্যাখ্যা দিতে হবে। এর সুন্দর নাম আছে। 'ফাইনান্সিয়াল লিবারেলাইজেশন'। এর বাংলা নাম আপনারা এখন জেনে গেছেন 'উদারীকরণ'। আমরা বলতে পারি মহাজনী মূলধনের লাগামছাড়া বিচরণ। ১৯৭০ দশকের আগে ব্যাঙ্ক ব্যবস্থা ও শেয়ার বাজারের মধ্যে একটা ব্যবধান ছিল। আমেরিকা, পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলি ও ব্রিটেনের জুলুমবাজিতে পৃথিবীর প্রায় সমস্ত দেশে (ধনতান্ত্রিক দেশগুলিতে) ব্যাঙ্ক ব্যবস্থা ও শেয়ার বাজারের মধ্যেকার ব্যবধানটা তুলে দেওয়া হোল। শুরু হোল জটিল বহুমাত্রিক অর্থনৈতিক ফাটকাবাজি। ব্যাঙ্কগুলি ফাটকাবাজিতে ঋৃণ দেওয়া নেওয়া শুরু করে দিলো। এই ঋৃণগুলিকে লগ্নীপত্রে রূপান্তর করে তৃতীয় পক্ষকে (নন ব্যাঙ্কিং ফাইনান্সিয়াল ইনস্টিটিউশন বা ইনভেস্টমেন্ট ব্যাঙ্ক) বিক্রি করে শেয়ার বাজারে ছেড়ে দেওয়া হোলো। এই কথাগুলি আগের পর্বে জেনে গেছেন।
তাহলে সঙ্কট কিভাবে তৈরী হলো?

তৃতীয় পক্ষ বা নন ব্যাঙ্কিং ফাইনান্সিয়াল ইনস্টিটিউশন বা ইনভেস্টমেন্ট ব্যাঙ্কগুলি তাদের ঋৃণপত্রগুলিকে বড় কোনো বীমা সংস্থাকে দিয়ে সুরক্ষিত করতে শুরু করলো যাতে বিপদ হলে সুদসমেত টাকা ফেরত পাওয়া যায়। বিনিয়োগের টাকা সুরক্ষিত দেখে লগ্নী বা বিনিয়োগ বাড়ছিল। বিনিয়োগ বাড়ছে দেখে ব্যাঙ্কগুলি ঋৃণ দেবার হারও বাড়িয়ে চললো এবং অযোগ্য লোককে বা সংস্থাকে ঋৃণ দিতে শুরু করলো আয় বাড়ানোর লোভে।

অন্যদিকে আরো বিনিয়োগকারী আনার লক্ষ্যে ঋৃণের ওপর সুদের হার কমিয়ে দেওয়া হোলো। আমেরিকা, পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলি ও ব্রিটেন ঋৃণ বিশেষ করে গৃহঋৃণ বিলিয়েছে দেদার। বিলিতি মানুষের হাতে প্রচুর টাকা আসতে লাগলো। টাকা রাখার জায়গা নেই। ভারতের মতো সদ্য উদারীকরণে নাম লেখানো দেশগুলিতে এই বাড়তি টাকা আসতে লাগলো। ভারতের বাজার তখন চাঙ্গা । তার ওপর ভারত সরকার নানা রকম কর ছাড় দিয়ে সাধারণ মানুষকে শেয়ার বাজারমুখী করতে শুরু করলো। শেয়ার বাজারের সূচক আকাশ ছোয় ছোয়।
লেমান ব্রাদার্স, ফেনি মে বা ফ্রেডি ম্যাক (এরা কারা?) -এর মতো সংস্থাগুলি দেউলিয়া হতেই ভারতীয় বাজারেও ধ্বস । প্রথম ডুবলো বীমা সংস্থাগুলি। তারপর chairn reaction-এর মতো অসংখ্য বিনিয়োগকারীর দল যারা বিভিন্ন প্রকল্পে টাকা ঢেলেছিল। ভারতে টাটা'র মতো সংস্থাও ধুঁকছে। বিদেশীরা তাদের শেয়ার বিক্রি করে ডলার নিয়ে দেশে ফিরতে শুরু করলেন। নেমে গেল টাকার দাম। ডলারের চাহিদাও বেড়ে গেল। অন্যদিকে ভারতের বাজারে নগদ টাকার যোগান কমে গেল।

উপায়? বন্যা - দুর্ভিক্ষ হলে সরকার সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়।
তাহলে এক্ষেত্রে সরকারের বা সরকারগুলির ভুমিকা কি হবে? ভারতের মতো দেশের সরকারগুলির ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করা যেতে পারে। এই অনুন্নত বা উন্নয়নশীল দেশগুলির ভুমিকা তাদের দেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ।

আর এখানেই চলে আসে আমেরিকার যুদ্ধ বাধানোর প্রসঙ্গ। কারণ আমেরিকা বা তার দোসর দেশগুলির এই সঙ্কট থেকে মুক্তি পেতে মরিয়া হয়ে উঠবে। তাদের আগ্রাসনতো বিশ্বব্যাপী । (পরের পর্বে )
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×