মার্কিনিদের বিশ্বাস ছিল তাদের অর্থনীতি দুনিয়ায় বৃহত্তম এবং তাদের কোনো বিপদ হতে পারেনা। ব্যপকতার দিক থেকে মার্কিন অর্থনীতি দুনিয়ার বৃহত্তম। তাদের হাঁচি হলে অন্য দেশগুলিতে কাশি হবেই। এবং সেটাই হয়েছে ভারত সহ অন্যান্য অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলিতে।
অর্থনীতির মূল কথা কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা। কিন্তু মার্কিন অর্থনীতির মূল ভিত্তিই ভোগব্যয়। যত ভোগব্যয় বাড়বে তত উন্নতি হবে । এই ভোগব্যয়ের টানে বাড়বে ঋৃণ গ্রহণের প্রবনতা। বিভিন্ন সংস্থা থেকে ঋৃণের বহর বেড়েছে যেমন, তেমনি বেড়েছে ব্যয়ের বহর। বহু সংস্থা এবং সাধারণ মানুষ তাদের সাধ্যের বাইরে ঋৃণ নিয়েছে। মার্কিনীদের বিশ্বাস ছিল তাদের দেশে ভোগ্যপণ্যের চাহিদা বাড়লে অন্য দেশের পণ্যের রপ্তানী বাড়বে এবং সেই দেশের অর্থনীতি উৎসাহিত হবে। কিন্তু হয়েছে ভূল। গোড়াতেইতো গলদ ছিল। সরকারের নিয়ন্ত্রণহীন ব্যাঙ্ক ও আর্থিক সংস্থাগুলি আবাসন ক্ষেত্রে লাগামছাড়া ঋৃণ দিয়েছে। (এ প্রসঙ্গ আগেই আলোচনা করেছি)।
আমেরিকা যতক্ষণ পেরেছে ঋৃণ নিয়ে চালিয়েছে। তাদেরতো ডলারটা আছে। কিন্তু আর্থিক সংস্থাগুলিতে আমেরিকা সরকারের কোনো নিয়ন্ত্রণ ছিলনা। দরকারও মনে করেনি। কারণ অর্থনীতিতে 'লোভ' মানে 'মুনাফা'। আর আমরা জানি আমেরিকার ব্যাঙ্ক বা আর্থিক সংস্থাগুলি বাজার বা মুনাফা ছাড়া কিছু বোঝেনা। অনেক অর্থনীতিবিদ বলছেন ওয়াল ষ্ট্রিটের অতিলোভের ফলেই মার্কিনীদের সর্বনাশ। সঙ্গে সঙ্গে আমেরিকার মুখাপেক্ষি দেশগুলির সর্বনাশের শুরু। এই সর্বনাশ কিন্তু এই প্রথম নয় এবং সম্ভবত শেষও নয়।
আসলে সমস্যাটা কালচারের, মূল্যবোধের। আমারা ছোটোবেলায় 'ঋৃণং কৃত্বা ঘৃতং পিবেৎ'-এর তত্ব 'চার্বাক দর্শণে' পড়েছিলাম। ভোগ্যপণ্যের বাজারে লগ্নীর অবাধ বিচরণ। আয় বুঝে ব্যয়ের সংযম না মেনে বিজ্ঞাপণের কৌশলে গা ভাসানো। ঋৃণের জালে জর্জরিত মানুষের চাকরি নেই । ছাটাই'র কবলে শ্রমিকশ্রণী। কারণ শ্রমিকশ্রেণীরাইতো সমাজের শত্রু।
মাজার কথা এই যে ভারতে শেয়ার বাজারে মন্দা দেখা দিলেও জাতী্য আয় বাড়বে বই কমবে না। তবে সূচকের নিরীখে মানুষের আয় বৃদ্ধি কতটা হবে তা এখনই বলা যাবেনা। ডলারের তুলনায় টাকার দাম পড়েছে। বৈদেশিক বাণিজ্যেও বিরাট ঘাটতি রয়েছে। ভারত সরকার এখনই মানিটারি পলিসিতে পরিবর্তন আনতে শুরু করেছে। বাজারে টাকার যোগান বাড়িয়েছে। সুদের হার কমিয়েছে। রাজস্ব খাতে ব্যয় বাড়িয়ে বাজারে টাকার ঘাটতি মেটাতে পারবে।
কিন্তু আমেরিকা? সারা বিশ্বে আমেরিকাকে সবাই দুবৃর্ত্ত রাষ্ট্র বলেই জানে। তাদের ইটিহাসই তাই। এই ঘাটতি সামাল দিতে আমেরিকার এখন প্রয়োজন বিপুল টাকা। আর টাকার যোগান আসবে কোথা থেকে। গ্রেট ডিপ্রেশনের পর আমেরিকার প্রেসিডেন্ট রুজভেল্ট রাজস্বখাতে মুক্ত হস্তে টাকা খরচ করেও মন্দা কাটাতে পারেননি। শুধু মাত্র যুদ্ধের ফলেই মন্দা কেটেছিল। অর্থনীতির ছাত্র মাত্রই তা জানেন।
অতএব লুটপাট আগ্রাসন ছাড়া আমেরিকার গতি নেই। এটাই আমেরিকার রীতি। আমেরিকা মেরে ধরেই এগোয়। মারতে হলে, টাকার বাজারকে বাঁচাতে হলে মারধর চাই। চাই যুদ্ধ। যুদ্ধ বাধাতে আমেরিকা ও তার দোসরদের কোনো অজুহাতের প্রয়োজন হয়না। সেটা আমরা ইরাকের যুদ্ধে দেখেছি। এই শণির দশা থেকে মুক্তি পেতে আমেরিকা যুদ্ধ বাধাবেই। সেটা আজ অথবা কাল যে কোনো দিন।
(আমার লেখায় কোনো অর্থনীতি নেই। নেই কোনো গুঢ় তথ্য। আমি বিভিন্ন লেখা পড়ে বা বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদদের আলোচনা শুনে যা বুঝেছি তাই লিখেছি। আপনারা জানেনতো শিক্ষাবিদরা বলেন 'X' আমরা শুনি 'Y', লিখি 'Z" আসলে ব্যাপারটাতো হবে 'Z')।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

