somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমেরিকা যুদ্ধ বাধাবেই (শেষ পর্ব )

২৭ শে নভেম্বর, ২০০৮ দুপুর ১:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



মার্কিনিদের বিশ্বাস ছিল তাদের অর্থনীতি দুনিয়ায় বৃহত্তম এবং তাদের কোনো বিপদ হতে পারেনা। ব্যপকতার দিক থেকে মার্কিন অর্থনীতি দুনিয়ার বৃহত্তম। তাদের হাঁচি হলে অন্য দেশগুলিতে কাশি হবেই। এবং সেটাই হয়েছে ভারত সহ অন্যান্য অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলিতে।

অর্থনীতির মূল কথা কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা। কিন্তু মার্কিন অর্থনীতির মূল ভিত্তিই ভোগব্যয়। যত ভোগব্যয় বাড়বে তত উন্নতি হবে । এই ভোগব্যয়ের টানে বাড়বে ঋৃণ গ্রহণের প্রবনতা। বিভিন্ন সংস্থা থেকে ঋৃণের বহর বেড়েছে যেমন, তেমনি বেড়েছে ব্যয়ের বহর। বহু সংস্থা এবং সাধারণ মানুষ তাদের সাধ্যের বাইরে ঋৃণ নিয়েছে। মার্কিনীদের বিশ্বাস ছিল তাদের দেশে ভোগ্যপণ্যের চাহিদা বাড়লে অন্য দেশের পণ্যের রপ্তানী বাড়বে এবং সেই দেশের অর্থনীতি উৎসাহিত হবে। কিন্তু হয়েছে ভূল। গোড়াতেইতো গলদ ছিল। সরকারের নিয়ন্ত্রণহীন ব্যাঙ্ক ও আর্থিক সংস্থাগুলি আবাসন ক্ষেত্রে লাগামছাড়া ঋৃণ দিয়েছে। (এ প্রসঙ্গ আগেই আলোচনা করেছি)।

আমেরিকা যতক্ষণ পেরেছে ঋৃণ নিয়ে চালিয়েছে। তাদেরতো ডলারটা আছে। কিন্তু আর্থিক সংস্থাগুলিতে আমেরিকা সরকারের কোনো নিয়ন্ত্রণ ছিলনা। দরকারও মনে করেনি। কারণ অর্থনীতিতে 'লোভ' মানে 'মুনাফা'। আর আমরা জানি আমেরিকার ব্যাঙ্ক বা আর্থিক সংস্থাগুলি বাজার বা মুনাফা ছাড়া কিছু বোঝেনা। অনেক অর্থনীতিবিদ বলছেন ওয়াল ষ্ট্রিটের অতিলোভের ফলেই মার্কিনীদের সর্বনাশ। সঙ্গে সঙ্গে আমেরিকার মুখাপেক্ষি দেশগুলির সর্বনাশের শুরু। এই সর্বনাশ কিন্তু এই প্রথম নয় এবং সম্ভবত শেষও নয়।
আসলে সমস্যাটা কালচারের, মূল্যবোধের। আমারা ছোটোবেলায় 'ঋৃণং কৃত্বা ঘৃতং পিবেৎ'-এর তত্ব 'চার্বাক দর্শণে' পড়েছিলাম। ভোগ্যপণ্যের বাজারে লগ্নীর অবাধ বিচরণ। আয় বুঝে ব্যয়ের সংযম না মেনে বিজ্ঞাপণের কৌশলে গা ভাসানো। ঋৃণের জালে জর্জরিত মানুষের চাকরি নেই । ছাটাই'র কবলে শ্রমিকশ্রণী। কারণ শ্রমিকশ্রেণীরাইতো সমাজের শত্রু।

মাজার কথা এই যে ভারতে শেয়ার বাজারে মন্দা দেখা দিলেও জাতী্য আয় বাড়বে বই কমবে না। তবে সূচকের নিরীখে মানুষের আয় বৃদ্ধি কতটা হবে তা এখনই বলা যাবেনা। ডলারের তুলনায় টাকার দাম পড়েছে। বৈদেশিক বাণিজ্যেও বিরাট ঘাটতি রয়েছে। ভারত সরকার এখনই মানিটারি পলিসিতে পরিবর্তন আনতে শুরু করেছে। বাজারে টাকার যোগান বাড়িয়েছে। সুদের হার কমিয়েছে। রাজস্ব খাতে ব্যয় বাড়িয়ে বাজারে টাকার ঘাটতি মেটাতে পারবে।

কিন্তু আমেরিকা? সারা বিশ্বে আমেরিকাকে সবাই দুবৃর্ত্ত রাষ্ট্র বলেই জানে। তাদের ইটিহাসই তাই। এই ঘাটতি সামাল দিতে আমেরিকার এখন প্রয়োজন বিপুল টাকা। আর টাকার যোগান আসবে কোথা থেকে। গ্রেট ডিপ্রেশনের পর আমেরিকার প্রেসিডেন্ট রুজভেল্ট রাজস্বখাতে মুক্ত হস্তে টাকা খরচ করেও মন্দা কাটাতে পারেননি। শুধু মাত্র যুদ্ধের ফলেই মন্দা কেটেছিল। অর্থনীতির ছাত্র মাত্রই তা জানেন।
অতএব লুটপাট আগ্রাসন ছাড়া আমেরিকার গতি নেই। এটাই আমেরিকার রীতি। আমেরিকা মেরে ধরেই এগোয়। মারতে হলে, টাকার বাজারকে বাঁচাতে হলে মারধর চাই। চাই যুদ্ধ। যুদ্ধ বাধাতে আমেরিকা ও তার দোসরদের কোনো অজুহাতের প্রয়োজন হয়না। সেটা আমরা ইরাকের যুদ্ধে দেখেছি। এই শণির দশা থেকে মুক্তি পেতে আমেরিকা যুদ্ধ বাধাবেই। সেটা আজ অথবা কাল যে কোনো দিন।

(আমার লেখায় কোনো অর্থনীতি নেই। নেই কোনো গুঢ় তথ্য। আমি বিভিন্ন লেখা পড়ে বা বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদদের আলোচনা শুনে যা বুঝেছি তাই লিখেছি। আপনারা জানেনতো শিক্ষাবিদরা বলেন 'X' আমরা শুনি 'Y', লিখি 'Z" আসলে ব্যাপারটাতো হবে 'Z')।


১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×