somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... ইন্ডিয়ার ই- টোকেন

দেশ স্বাধীনের পর বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বাধীন আওয়ামীলীগ সরকারের সাথে ভারতে ২৫ বছরের একটি চুক্তি হয়। রাজনীতির কারনে অনেক দল এ চুক্তিকে নানা উপাধিতে আখ্যা দিয়েছে। সেই চুক্তির কারনে আমাদের ইন্ডিয়ার ভিসা পেতে কোন ফি দিতে হত না। ছিল না কোন কড়াকড়ি নিয়ম। ভিসা প্রসেসিং করে এমন প্রতিষ্ঠানকে মাত্র ১ শ থেকে ২ শ’ টাকা দিলেই তার ভিসা পাইয়ে দিত।

হালে এ অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে। এখন ইন্ডিয়ার ভিসা মানে আমেরিকা-ইউরোপের ভিসার চেয়েও দামী বস্তুতে পরিণত হয়েছে বাংলাদেশীদের কাছে। ভিসা পেতে আগে অনলাইনে তারিখ নিতে হবে। যার নাম ই-টোকেন দিয়েছে ইন্ডিয়া এ্যামবেসী। এই টোকেন নিতে তাদের ওয়েবসাইটের নির্দিষ্ট ফরমে আবেদন করতে হয়। ফরম পূরণ শেষ হলে একটি তারিখ দেয়ার কথা। আর এখানেই যত বিপত্তি। আপনি নিজের কম্পিউটার থেকে শত চেষ্টা করে এই তারিখ পাবেন না। অর্থাৎ বিদ্যুৎ খরচ করে, ইন্টারনেটে সময় ব্যয় করে খামোখা দরখাস্ত করা আর কি ।

প্রথম যখন এই সিস্টেমটি চালু করা হয় তখন যে কোন দোকান থেকে ২/৩ শ’ টাকায় এ কাজটি সারা যেত। সময় লাগত কম। কিছু দিন পর এক হাজার টাকা দিয়ে তারিখ নেয়া হয়। একটি তারিখ নিতে ভিসাপ্রার্থীকে অপেক্ষা করতে হত ৩ থেকে ১০ দিন। আর আপনার কাছ থেকে টাকা নেয়া প্রতিষ্ঠানটির কর্মচারী সারাক্ষন ইন্টারনেট চালু করে ক্লিক করে যেত কখন পাওয়া যায় কাঙ্খিত তারিখ।

বর্তমানে টাকার পরিবামণ দুই আড়াই গুণ বেড়েছে। অর্থাৎ এখন ২ থেকে আড়াই হাজার টাকা দিলে ইন্ডিয়ার ই- টোকেন পাওয়া যায়। ঢাকা শহরের কয়েকটি কম্পিউটারের দোকান থেকেই এ সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে। তারা বিশেষ কায়দায় ২/ ৩ দিনের মধ্যে তারিখ নিয়ে দিচ্ছে। ই-টোকেন পেলেই যে ভিসা নিশ্চিত তাও নয়।

এ বিষয়ে ইন্ডিয়ার পরাস্ত্র দফতর ও এ্যামবেসী সাম্প্রতিককালে সাংবাদিকদের কাছে বলেছে- এটার জন্য নাকি বাংলাদেশের কিছু অসাধু ব্যক্তি দায়ী! তাদের ওয়েবসাইট হ্যাক করে নাকি এ পরিস্থিতির সৃষ্টি করা হয়েছে।

হাস্যকর এ কথা অবশ্য কেউ বিশ্বাস করেনি। কেননা ভারতের মত একটি দেশের এ্যামবেসীর ওয়েবসাইট দিনের পর দিন হ্যাক হয়ে থাকবে আর তারা কোন ব্যবস্থা নিবে না এ অবিশ্বাসযোগ্য। তবে কি কারনে এমনটা হচ্ছে ?

কেউ কেউ বলছে- এ্যামবেসীর একশ্রেনীর অসাধু ব্যক্তির যোগসাজসে কিছু লোক ফায়দা নিতে এটা হচ্ছে। আবার কেউ কেউ বলছে- মোদী সরকার পশ্চিম বঙ্গের মমতা সরকারকে পছন্দ করে না। তাই তাকে অর্থনৈতিক বিপাকে ফেলতেই বাংলাদেশীদের ভিসা কড়াকড়ি করেছে। কেননা বাংলাদেশের মানুষ ভ্রমনে গেলে কলকাতা বা পশ্চিমবঙ্গে যাবেই।

ইন্ডিয়ার ই- টোকেন না পেয়ে অনেকে বিপাকে পড়েছে। বিশেষ করে অসুস্থ মানুষ চিকিৎসার জন্য ভারত যেতে পারছে না। যা অমানবিক। আর এ্যামবেসীর আচরণ দেখলে মনে হচ্ছে যেন স্বর্গের টিকেট বিক্রি করতে বসেছে তারা।


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/anwarhasan/29987092 http://www.somewhereinblog.net/blog/anwarhasan/29987092 2014-10-17 20:56:06
শিশুটিকে দুপুরের খাবার না দিয়ে উল্টো মারধর করল



( যে ব্যক্তি শিশুটিকে দুপুরের খাবার না দিয়ে মারধর করল সে কি তার নিজ সন্তানদের কথা ভাবল না। এই ছোট শিশুটির মত আমাদেরও সন্তান আছে। কচি ওই মুখ দেখলে কি মায়া না লাগে। ওর এই কচি গায়ে হাত তোলে কোন পাষাণ। সমাজে এমন অনেক ঘটনা ঘটে। সামান্য কারনে আমরা না বুঝে মারধর করে বাহাদুরি ফলাই। অথচ কত কোটি কোটি টাকা লোপাট হচ্ছে তার খবর কে রাখে ।\\\
আমার বদ্ধমূল ধারনা ওই শিশুটি টাকা চুরি করেনি। কেননা যে হাত পাততে লজ্জা পায় সে চুরি করতে লজ্জাই পাবে। এ ছাড়া যদি সে চুরি করত তবে দুপুরে কর্মস্থল থেকে ভাত খেতে বাড়ি যেত না। তাই যে ব্যক্তি ওই শিশুটিকে নির্যাতন করেছে তার শাস্তি পাওয়া উচিত। সেই সাথে শিশুটির নিরাপদ আশ্রয় নিয়ে ভাবতে হবে রাষ্ট্রকে। ব্লগার ভাইরা আসুন ওই শিশুটি নিয়ে ভাবি )\\\
\\\
\
\
বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ২টায় কমলাপুর রেলস্টেশনে রিফাতকে দেখে বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট সেরাজুল ইসলাম সিরাজ। সেই সময়ে শিশুটির গায়ে ছিল স্কুল ড্রেসের সাদা শার্ট, খয়েরি রঙের ফুল প্যান্ট, পায়ে দামি কেডস। সম্মানিত ওই সাংবাদিক রিপোর্টে লিখেছেন-----------------\
কাছে গিয়ে দু একটি প্রশ্ন করতেই চোখের জল আটকাতে পারলন না। ঝর ঝর করে চোখের জল ছেড়ে দিল। কিন্তু সে কান্নায় কোনো শব্দ নেই, নি:শব্দ কান্না। নাম তার রিফাত। বাবা-মায়ের মৃত্যূর পর ফুপু খাদিজা বেগমের বাড়িতে ঠাঁই হয় তার (শ্রীপুরে)। সেখানে মিজান মডেল একাডেমিতে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়তো। কিন্তু লেখাপড়ার খরচ চালাতে পারছিলেন না তার ফুপু। তাই ২০ দিন আগে চাচাতো ভাই রাজুর (লেগুনার হেলপার) সঙ্গে ঢাকায় আসে রিফাত। \
মালিবাগ রেলগেট এলাকায় বাবুল মিয়ার চায়ের দোকানে কাজ নিয়েছিল। দোকান মালিকের বাসায় খেতো আর রাতে দোকানেই থাকতো। বৃহস্পতিবার দুপুরে খাওয়ার জন্য বাসায় গেলে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে বের করে দেওয়া হয়েছে রিফাতকে। অপরাধ, মালিকের মেয়ে সীমার ১১০ টাকা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ধারণা করা হচ্ছে, রিফাত ওই টাকা চুরি করেছে। লাঠির আঘাতে বাম পায়ের হাঁটু ফুলে লাল হয়ে গেছে। হাত দিয়ে স্পর্শ করতেই ওমা করে কাকিয়ে ওঠে শিশুটি। টাকা নেই নাই, তবু ওরা আমাকে মেরেছে। দুপুরে খাবার না দিয়েই তাড়িয়ে দিয়েছে। বেতন দেওয়ার কথা ছিল কিন্তু কোনো টাকা দেয় নি।\
কাঁদতে কাঁদতে বলছিল অসহায় রিফাত। আর রাতে খাবে এমন টাকা তার কাছে নেই। শুক্রবার ভোর হলে কোনো হোটেল অথবা লেগুনায় কাজ নিতে চায় বলেও জানায় রিফাত। কারো কাছে টাকা চেয়ে কিছু কিনে খেতে পারতো ! এ কথায় মাথা নিচু করে থাকে, কোনোই জবাব দেয় না। মানুষের কাছে চাইতে তার সম্মানে বাঁধে, না-কি ভিক্ষা রপ্ত করতে পারেনি। না পায়ের ব্যথার কারণে হাঁটা-চলা করতে পারেনি। নানা চিন্তা মাথার মধ্যে ঘুরপাক খেতে থাকে।\\\\\
কি করুণ নিয়তি শিশুটির। বাবা আঙ্গুর মিয়া মারা গেছেন ৫ বছর আগে। বাবার মৃত্যুর এক বছরের মাথায় মা ঝর্ণা আক্তার পরপারে পাড়ি জমিয়েছেন। বাবার স্মৃতি খুব একটা বলতে পারে না। তবে জানায়, কাঁচা বাজারে (সবজি) ব্যবসা করতো। মায়ের কি হয়েছিলো জানতে চাইলে জবাব মেলে,হাসপাতালে লইছে ভালো। বাসায় আনছে মারা গেছে। হার্ট অ্যাটাক হইছিলো। \
কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার হালিমা গ্রামের বাসিন্দা। দুই বোন এক ভাইয়ের মধ্যে রিফাত দ্বিতীয়। বড় বোন সায়মা অষ্টম শ্রেণীতে পড়ে। আর তার ছোট বোন ছোয়া গ্রামের একটি স্কুলে প্রথম শ্রেণীতে ভর্তি হয়েছে এ বছর। স্কুল না চায়ের দোকানে কাজ ভালো লাগে এ প্রশ্নের জবাবে দেয়, স্কুল ভালো লাগে। কিন্তু ওগোর (দু বোনের) খরচেই তো পারে না। আমি খরচ পামু কই। পরনের শার্ট, প্যান্ট ও কেডস জোড়া তার স্কুল ড্রেসের। এগুলো তার ফুপু কিনে দিয়েছেন। এ ড্রেস পরেই ২০ দিন আগে ঢাকা এসেছে চাকরির সন্ধানে। কি নির্মম আমাদের সমাজ। মাত্র ১১০টি টাকা খোয়া গেছে। তারই কারণে একটি নির্দোষ শিশুকে নির্দয়ভাবে পেটানো। যিনি পেটালেন একবারও ভাবলেন না, টাকাটা অন্য কেউওতো নিয়ে থাকতে পারে। এমন সময় পেটালেন যখন অভুক্ত শিশুটি দুপুরে খাবার খাওয়ার জন্য গিয়েছিল সেখানে। খাবার না দিয়ে নির্দয়ভাবে পিটিয়ে নিজের প্রভুত্ব জাহির করলেন। এভাবে সমাজের অজান্তে অনেক ফুল মুকুলেই ঝরে যাচ্ছে। ক্ষোভে-দু:খে অনেকে অন্ধকার পথে পা বাড়াচ্ছে। অনেকে বিনা অপরাধে শাস্তি পেয়ে প্রতিশোধের নেশায় মত্ত হয়ে ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসী হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে। বড় বড় অনেক সন্ত্রাসীর জীবন ঘাটলে এমন চিত্রই পাওয়া যায়।\\\
\\\
\\\
\\\
\\\
http://www.banglanews24.com/beta/fullnews/bn/330767.html]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/anwarhasan/29985575 http://www.somewhereinblog.net/blog/anwarhasan/29985575 2014-10-11 11:38:17
ধুতির কাচা দিতে গিয়ে ভারি হত কোচা



বর্ষা শেষে ভাদ্রে ভর করে আসে শরৎ ঋতু। চারদিকে শুভ্র কাশফুলের সটান দাঁড়িয়ে থাকা, শিউলী ফুলের মৌ মৌ ঘ্রান নিয়ে শুরু হত পূজোর প্রস্তুতি। সবেমাত্র পা দিয়েছি কৈশোরে। তাই বলে দায়িত্ব কম ছিল না আয়োজনে। দুই তিন মাইল হেটে প্রতীমা তৈরীর মাটি আনার মধ্যে দিয়ে শুরু। ফুল তোলা, মন্ডপ সাজাতেও ব্যস্ত থাকতাম। রঙীন কাগজ কেটে নকশা (ঝালট), নিশান তৈরী কত কি কাজ। সব সারতাম মহা আনন্দে। মনে তখন একটাই ঢোল বাজতো ‘ দুর্গা পূজা আসছে’- কথাগুলো একটানে বললেন সাংবাদিক ও শিক্ষক রনজিৎ মোদক। বললেন, সে সময়ে পূজা উৎসব ছিল এক রকম এখন আরেক রকম। যদি সম্ভব হত তবে স্মৃতি জড়ানো সুখময় সেই দিনে ফিরে যেতেও রাজি এ কবি।



রনজিৎ মোদকের গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইল জেলার কালিহাতী থানাধীন নারান্দিয়া গ্রামে। এখানে তাদের ও তার পিসীর বাড়িতে দুগা পূজা হত। তখন পূজোতে আজকের মত জ্বলমলে লাইটিং ছিল না, ছিল না বড় স্পীকারে বাজানো কড়া সাউন্ডের গান বাজনা। তাই বলে কমতি ছিল না আনন্দের। সারা বাড়ি আচ্ছাদন থাকত লাল, সবুজ,হলুদ, নীল,রঙ্গে। রাঙা কাগজ কেটে তৈরী হত ঝালট, নিশান। যা আঠা লাগিয়ে রশিতে আটকে দেয়া হত। রাতের অন্ধকার ভেদ করতে যোগাড় করা হত হ্যাজেক লাইট আর মোমবাতি লাগানো কাঁচের ঝাড়বাতি। পূজোয় ফুল তোলার দায়িত্বটা পুরোপুরি ছিল কিশোরদের উপর। এর পরিবর্তে আমরা পেতাম বাড়তি প্রসাদ।



পূজোর আনন্দ বাড়িয়ে দিত নতুন জামা কাপড়। বাজার থেকে কাপড় কিনে রামলাল দর্জির দোকানে তৈরী করতে দেয়া হত পূজার ১৫/২০ দিন আগে। এরপর থেকে প্রতিদিন গিয়ে একবার খবর নিতাম দর্জির দোকানে। পোশাক হল ? দর্জি আজ না কাল দিব বলে পূজো পর্যন্ত ঠেকিয়ে দিত। বড্ড রাগ হত দর্জির উপর, তাকে শায়েস্তা করতে কত কুটবুদ্ধি আঁটটাম। যখন নতুন জামা হাতে পেতাম তখন সব ভুলে যেতাম। সামান্য টাকায় তৈরী করা ওই জামা আপনাআপনি নিয়ে যেত আনন্দ ভূবনে। এতে মিশানো ছিল বাবা-মা’য়ের স্নেহ জড়ানো আর্শীবাদ। এখন ছোটরা অনেক টাকায় কেনা জামায় সেই আনন্দ পায় না।

আমাদের পাশের গ্রাম দৌলতপুর তালুকদার বাড়ি ছিল আমার বড় বোন যোগমায়া দিদির শশুর বাড়ি। পূজায় ওই বাড়িতে মহিষবলি হত। আমরা পাঁচ ভাই দিদি-জামাই বাবুর কাছ থেকে উপঢোকন হিসেবে পেতাম নতুন জামা কাপড়। একবার দিদির বাড়ি থেকে আমাদের কে ধুতি আর পাঞ্জাবী দেয়। ছোট বয়সে ধুতি পরা কি কঠিন কর্ম তা হাড়ে হাড়ে টের পাই। ধুতির কাচা দিতে গিয়ে দেখি কোচা বড় হয়ে গেছে।







প্রতীমা দর্শন না করলে কি যেন মিস হয়ে যাবে এমন ধারনা থেকেই সবাই দল বেঁধে বিভিন্ন মন্ডপে যেতাম। এ সময় কার পোশাক কেমন তা নিয়ে চলত আলোচনা। বিকেলে বেড়িয়ে রাত হয়ে গেলেও তখন কোন চিন্তার ভর করেনি বাবা মায়ের মুখে। এখন প্রতীমা দর্শনে যাওয়া মানে রীতিমত মল্লযুদ্ধে অংশ নেয়া। প্রশাসন সজাগ থাকার পরেও নিরাপত্তা নিয়ে মনে একটু সংশয় থেকেই যায়। আগে পূজো মানে মেলা হবেই। দৌলতপুর গ্রামে দশমী তিথিতে মেলা বসত। লাইভ নারায়ণগঞ্জকে রনজিৎ মোদক বলেন, তিন দিনের এই মেলার স্মৃতি হাতড়েই কেটে গেছে তিন কাল। এখনো চোখে ভাসে মেলায় বিক্রি করা মিঠাইয়ের জিলাপী,খই উখরা, বাতাসার স্বাদের কথা। নাগরদোলায় চড়ে মাটি থেকে আকাশপানে ছুটে যাওয়া আবার মাটিতে ফেরা। তখন ঢাকাকে দেখতাম বাইস্কোপে। মেলা থেকে কেনা ছোট ঢোল বাজাতাম আর বেলুন লাগানো বাঁশীতে ফুঁক দিয়ে জানান দিতাম আমরা বাড়ি আসছি।



এখন পূজো মন্ডপের জায়গা কমতে কমতে এতই কমে গেছে যে মেলা আয়োজন স্বপ্নের বিষয়। বাড়ি বাড়ি নিমন্ত্রন ছিল তখন খুব সহজ বিষয়। এখন এসব উঠে গেছে বললেই চলে। তবে গ্রামে হয়তো এখনো এর রেশ আছে। পূজোর বিভিন্ন কাজে সাথে ছিল অনেক সঙ্গী। যাদের মধ্যে বিপ্র দাস তালুকদার, রফিকুল ইসলাম রতন, কালাচাঁন বুল্কু, পদ হরি, চৈতন্য, অমলেশ, ফণিভূষন, মিহির, দীলিপ, হারান, খরান, আজহারুল ইসলাম মজনু, সত্য, ব্রজ গোপাল, গুতু। এদের মধ্যে অনেকেই এখন এ ধরায় নেই।



১৯৭৮ সালে জীবন জীবিকার তাগিদে গ্রাম ছেড়ে শহরে আসা রনজিৎ মোদক এখন দক্ষিন কেরানীগঞ্জ কোন্ডার পারজোয়ার ব্রাহ্মনগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে কর্মরত। দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিকতার সাথে জড়িত আছেন। বর্তমানে সকাল বার্তা প্রতিদিন’র সহকারী সম্পাদক। সেই সাথে ফতুল্লা রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।ব্যক্তি জীবনে তিনি দুই কণ্যা, এক পুত্র সন্তানের জনক রনজিৎ মোদক স্বস্ত্রীক থাকেন ফতুল্লায়। লাইভ নারায়ণগঞ্জের সাথে আলাপকালে সংসার জীবনে সুখী এই মানুষটি জানান, জীবনের তেমন কোন চাওয়া পাওয়া নেই। শুধু মাঝে মধ্যে মনে হয় একবার যদি আবার কৈশোরে ফিরতে পারতাম। যদিও আবারো বাবা-মায়ের কাছে শত আব্দারের সেই বয়স পেতাম। বড় ভাই, দিদিদের আদর শাসনে মিশ্রিত সুখময় এক জীবন।

(অনুলিখন- আনোয়ার হাসান )

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/anwarhasan/29981713 http://www.somewhereinblog.net/blog/anwarhasan/29981713 2014-09-20 18:08:14
রুনুদি




এ গাছগুলো কিছুতেই কাটতে দিব না।

এ তুই কেরে বাঁধা দেয়ার। আমার বাড়ির গাছ আমি কাটব, তাতে তোর কি।

শুধু আমার না এগুলো এ গ্রামবাসীর অনেক আপনজন। একশ বছর ধরে এসব গাছ আমাদের কত উপকার করছে। আর আমাদের চোখের সামনে তা কেটে ফেলবেন তা হবে না।

এই ছ্যামড়া, বেশী বাড়াবাড়ি করিস না। শহরে লেখাপড়া করিস বলে নিজেকে কি মনে করিস। আমি গাছ কাটবই-দেখি তুই কি করতে পারিস। বলে হনহন করে চলে গেল গিয়াসউদ্দিন মোড়ল। সাথে তার চারজন সহযোগী।



মোড়লের সাথে স্বপনের তর্ক শুনা মানুষের জটলা তখনো রয়ে গেছে। তারা সবাই এ গ্রামেরই মানুষ। স্বপন যখন গাছ নিয়ে গ্রামবাসীর দোহাই দিচ্ছিল তখনো তারা সেখানে ছিল। তবে কোন কথা বলেনি। সাধারণ মানুষের এই এক দোষ। কেউ না ডাকলে নিজ থেকে জাগে না। এমনকি তাদের সর্বস্ব নিয়ে গেলেও না। আড়ালে ক্ষমতাবানের বিরুদ্ধে কথা বললেও প্রতিবাদে তার খুব এগোয় না। তবে যখন জাগে তখন সব ক্ষমতাই চুর্ণ করে দেয়।



মোড়ল চলে যাবার পর স্বপন জড়ো হওয়া গ্রামবাসীকে নিয়ে ব্যস্ত হয়। গাছগুলো তাদের কি উপকার করে তা নানাভাবে বুঝায় সে। শত বছর ধরে গাছ তার মায়া মমতা দিয়ে কিভাবে গ্রামবাসীকে আগলে রেখেছে। ছায়া দিয়ে, খড়ি দিয়ে কত উপকার করছে। এ গাছগুলো কাটলে পরিবেশের কত ক্ষতি হবে। তাই যে কোনভাবেই হউক মোড়লের গাছ কাটা বন্ধ করতে হবে।

বাবা তোমার কথাতো বুঝলাম। কিন্তু এ জায়গাতো মোড়লের। এখন সে গাছ কাটতে চাইলে আমরা কি করতে পারি।

চাচা, জনগনের চেয়ে কারো শক্তি বেশী নয়। সে যেই হউক। আমরা আন্দোলন করে মোড়লের এ অপকর্ম রুখে দিতে পারি। এতক্ষন চুপচাপ থাকলেও গ্রামের সবচেয়ে বেশী বয়সী ই¯্রাফিল আলী এবার মুখ খুললেন। বাবা স্বপন তোমার বয়স কম। তুমি জান না ওই মোড়ল কতটা খারাপ মানুষ। সে স্বার্থের জন্য সব পারে। তার কথায় সায় দিল আরো জনাকয়েক।

চাচা আমি জানি। আমি তারে ছোটবেলা থেকে চিনি। তবে চাচা একটা কথা মনে রাখবেন সব অন্যায়ের একটা শেষ আছে। শুধু কথা দেন আপনারা আমার পাশে থাকবেন।

পাশে থাকার কথা শুনে সবাই কেমন চুপ হয়ে গেল। দুই একজন চলে যেতে পা বাড়াল।

আপনারা যাবেন না। আমি কোন অন্যায় দাবি নিয়ে আসিনি। গাছ কাটা মন্দ কাজ। এখানে মুসলমান যেমন আছে তেমনি হিন্দুও আছে। প্রয়োজনে এ ব্যাপারে মুসলমানরা ইমাম আর হিন্দুরা ঠাকুরের পরামর্শ নিতে পারেন। স্বপনের এ কথা মনে ধরল সবার। সিদ্ধান্ত হল কাল এ বিষয়ে কথা হবে। ধর্ম দিয়ে মানুষকে খুব সহজেই বুঝানো যায়। আর এ সুযোগ সবচেয়ে বেশী নেন রাজনীতিকরা। নিজেকেও রাজনীতি করতে হল বলে মনটা একটু খারাপ হল স্বপনের। তবে পরক্ষনেই মনে হল রাজনীতিকরা ধর্ম নিজ বা দলের স্বার্থে ব্যবহার করে। আর আমি করছি মানুষের মঙ্গলের জন্য।

বাড়ি গিয়ে বাবা মাকে কথাটা বলল স্বপন। মা কিছুটা ভয় পেলেও বাবা সাহস যোগালেন। বললেন, বাবা সৎ কাজে ভয় পেতে নেই। সবাই যদি ক্ষমতাবানদের ভয়ে গুটিয়ে থাকে তো ওরা আরো বেপরোয়া হয়ে যাবে। আর একটা কথা মনে রাখিস। যারা মন্দ কাজ করে বাহির থেকে তাদের সাহসী মনে হলেও আসলে তারা খুব ভীতু। একহাত দেখলে ওরা কিছু মনে করে না। দুই তিন হাত আলাদা দেখলে ওরা বাণিজ্যে মাতে। আর দশ হাত একসাথে দেখলে তারা ভোঁ দৌড় দেয়। বাবার এ কথাটা মনে ধরল স্বপনের।

রাতে বিছানায় শুয়ে শুয়ে গাছ কাটা রুখতে নানা পরিকল্পনা করল সে। এরই মধ্যে বিষয়টা ঢাকায় তার ভার্সিটির বন্ধু,পরিচিত সাংবাদিক,পরিবেশকর্মী, মানবাধিকারকর্মী , ব্লগারদের জানিয়েছে সে। তারা সবাই সহযোগীতা করবে বলেছে। ভাবতে ভাবতে এক সময় ঘুমিয়ে পড়ল স্বপন। শেষ রাতে হঠাৎ ঘুম ভেঙ্গে গেল। এক নারীকন্ঠের ডাকে... স্বপন...... গাছগুলো বাঁচাবি না।



সকালে ঘুম থেকে উঠে আশপাশের কয়েকজন স্কুল শিক্ষার্থীকে বাড়িতে নিয়ে এল স্বপন। তার কথায় ওদের দিতে কোন বাবা মাই আপত্তি করল না। স্বপনের প্রতি ওই বাবা-মাদের সবারই একটা আলাদা টান আছে। স্বপনের আগ্রহেই তাদের ছেলে মেয়েদের লেখাপড়া হচ্ছে। ও যখন বাড়িতে আসে তখন সবার বাড়িতে গিয়ে ওদের পড়াশুনায় সহযোগীতা করে। এ বিষয়টি সে শিখেছে তার হাই স্কুল শিক্ষক রনজিৎ মোদকের কাছ থেকে। সে তাদের বলত, বাবারা শুধু নিজে শিক্ষিত হলেই চলবে না। অন্যদের মাঝেও জ্ঞানের আলো ছড়াতে হবে। ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের দিয়ে কিছু পোস্টার তৈরী করল সে। তাতে গাছ না কাটার নানা শ্লোগান।

দুপুরে জোহর নামাজের পর মসজিদের ইমাম মুফতি ছিদ্দিকুর রহমানকে ঘিরে বসল গ্রামের কয়েকজন মুরুব্বী। সেখানে স্বপনও উপস্থিত ছিল। ইমাম সাহেব সহাস্যে জানতে চাইল, আপনারা মনে হয় কিছু বলবেন। গতকালের গাছ কাটার বিষয়টি বিস্তারিত বলল তারা। সব শুনে ইমাম সাহেব একটি সুরার আয়াত প্রথমে আরবীতে বললেন। পরে বাংলায় বুঝালেন এভাবে- “ তুমি কি দেখ না যে আল্লাহকে সিজদা করে যা কিছু মহাকাশ ও পৃথিবীতে রয়েছে; সূর্য, চন্দ্র, নক্ষত্রমন্ডলী, পর্বতরাজি, বৃক্ষলতা, জীব-জন্তু ও মানুষের মধ্যে অনেকে ”। ইমাম সাহেব আরো বললেন, আমাদের প্রিয় নবী ( সা<img src=" style="border:0;" /> যুদ্ধেও গাছ কাটতে নিষেধ করেছেন। তার কথা শুনে গ্রামের একজন মুরুব্বী বললেন, তবেতো গাছ কাটা ঠিক না।

সন্ধ্যায় বাজারের আইয়ুব আলীর চায়ের দোকানে এ নিয়ে ফের বৈঠক। সেখানে বৃদ্ধ জগদীশ মন্ডল এসে জানাল তাদের ঠাকুরও গাছ না কাটার পক্ষে কথা বলেছে। তিনি বলেছেন, যেখানে গাছ নেই সেখানে মানুষের মধ্যে ভালবাসা কম থাকে। কারণ গাছের ছায়াতলে মানুষ মিলিত হয়। আর তখন নানাভাবে তাদের মনের মত বিনিময় হয়। অবশেষে সিদ্ধান্ত হল কোনভাবেই গ্রামের বড় রাস্তার পাশে গাছগুলো মোড়লকে কাটতে দেয়া যাবে না।



খবরটা এক কান দুই কান হয়ে মোড়লের পর্যন্ত চলে গেছে। চিন্তায় ফেলে দিল ছোকড়া। আমি কইছিলাম কি ব্যাপারটা নেতারে জানানো দরকার। বলল মোড়লের এক সহযোগী।

ঠিক কথা। কালকে সকালেই নেতার বাড়িতে যাব। পরে থানায়ও যাব একবার।



এদিকে গ্রামবাসীকে সাথে পেয়ে আজ একটু আগেভাগেই নিশ্চিন্ত মনে ঘুমুচ্ছে স্বপন। তবে প্রতিদিনের মত শেষ রাতে সেই নারীকন্ঠের ডাকে ঘুম ভেঙ্গে যায় তার। স্বপন.............স্বপন........। স্বপনের মনে হচ্ছে তার বিছানার পাশে বসেই যেন ডাকছে তাকে। সে কি মায়াবী কন্ঠ। তবে ঘুম থেকে জাগলেই কাউকে দেখে না সে।



সকালে বাজারের মোড়ে গ্রামবাসীর ডাকে একটি সভা হল। সেখানে গাছ নিয়ে ভাষন দিল স্বপন। তার পুরো বক্তব্যে গাছ ছাড়া অন্য কোন কথা আসেনি। রাজনীতিক হলেও অবশ্য ভিন্ন হত। তারা শোক সভায় গিয়ে ভিন্ন দলের নেতাকে বিদ্রুপ করে। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে গিয়ে অর্থনীতির কথা বলে আবার অর্থনীতির অনুষ্ঠানে গিয়ে বলে অন্য কথা। যে উদ্দেশ্যে সভা হয় তা নিয়ে বক্তব্য দিতে মন চায় না নেতাদের। তবে সব ধরনের সভায় প্রায় সব বক্তার মধ্যে একটি বিষয়ে মিল পাওয়া যায়। তা হল বড় নেতাকে খুশী করতে তেল মর্দন। সভার সিদ্ধান্ত হল গাছ কাটা বন্ধ করতে সব মহলে দৌড়ঝাপ করতে হবে। পরের দিন সকাল থেকেই কাজ শুরু। প্রয়োজনে ঢাকার পরিবেশবাদীদের সহযোগিতা নেয়া হবে। সেদিন রাতেও স্বপনের ভাল ঘুম হল। শুধু শেষ রাতে সেই ডাক পেলেও চোখে বেশী ঘুম থাকায় অন্যদিনের মত বিছানায় উঠে বসল না সে। সকালে ভিন্ন কন্ঠের ডাকে ঘুম ভাঙ্গল তার।

স্বপন বাড়ি আছে নাকি।

কার গলা। ভাবছে সে। এতো বাবার গলা নয়। পরিচিত কারোও নয়। তবে কার। আবারো হাকডাক। এবার রাগাম্বিত সুরে। এই ব্যাটা ডাকছি গায়ে লাগছে না। বেরিয়ে আয় নয়তো ঘর থেকে ধরে আনব। নেতা হইছ। নেতাগিরি ছুটাব।

গেঞ্জি গায়েই ঘর থেকে বের হল সে। উঠানে দাঁড়ানো কয়েকজন পুলিশ সদস্য। পুলিশদের এমন ব্যবহারের কথা স্বপন আগেও শুনেছে। তবে এই প্রথম সে নিজ কানে শুনল। এমনিতে টক শো, সভা সেমিনারে পুলিশকে জনগনের বন্ধু ও সেবক বললেও বাস্তবের রুপ ভিন্ন। সাধারন জনগনকে পুলিশ মানুষই মনে করে না। তাদের কাছে মানুষ মানে বড় নেতা কিংবা বড় ব্যবসায়ী। স্বপনকে ধরে নিয়ে গেল পুলিশ। যদিও কোন প্রকার গ্রেফতারী পরোওয়ানা ছিল না তাদের কাছে। খবরটা সারা গ্রামবাসী জেনে গেছে। তারা এক এক করে থানার সামনে জড়ো হয়েছে। প্রথমে ছোট জটলা পরে তা ধীরে ধীরে রুপ নেয় বিরাট আকারে। টেলিভিশনের মফস্বল সাংবাদিকদের বদৌলতে খবরটা পৌছে যায় ঢাকায়ও। দুপুরের মধ্যে মাওয়া হয়ে স্বপনদের গ্রামে এসে পৌছে কয়েকজন নামী পরিবেশবাদী সাথে স্বপনের বন্ধু বান্ধব। তারা থানায় গিয়ে ওসি সাহেবের সাথে সাক্ষাৎ করলেও তাতে তেমন পাত্তা দেননি পুলিশের বড় কর্তা। শুধু জানালেন বিষয়টা উপর মহল জানে। পুলিশের বৈরী আচরনের প্রতিবাদে দেশখ্যাত পরিবেশবাদীরা গ্রামবাসীদের নিয়ে থানার সামনে অনশনে বসে। আর এ খবর প্রচার করতে ঢাকা থেকেও সাংবাদিকরা ছুটে আসে। এরই মধ্যে কয়েকবার পুলিশ তাদের সরিয়ে দিতে চাইলে ব্যর্থ হয়। পরিস্থিতি ধীরে ধীরে পাল্টে যায়। গাছ কাটার কথা শুনে ছুটে আসেন বন বিভাগের কর্মকর্তারা। সন্ধ্যার কিছু পর পুলিশের ঊর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তা থানায় এসে অনশনকারীদের সাথে কথা বলে বিস্তারিত অবগত হন। এরপর তিনি থানার ভিতরে গিয়ে যান।

এর কিছুক্ষন পর স্বপন থানা ফটক থেকে বেরিয়ে আসে। গ্রামবাসীর মধ্যে আনন্দ উপচে পড়ে। তাদের মধ্যে দুইজন স্বপনকে কাধে তুলে নাচতে শুরু করে। কোন কোন টেলিভিশন তা সরাসরি প্রচার করছে। বিষয়টি সরকারের উপর মহল জেনে যায়। সেই সাথে নির্দেশ দেয়া হয় কোনমতেই ওই গাছগুলো কাটা যাবে না। সংবাদে আরো বেড়িয়ে আসে ওই জায়গার মালিক মোড়ল নন। জায়গাটি ছিল সুধীর চন্দ্র সেনের। দেশ স্বাধীনের পর তা কিভাবে যেন মোড়লের হয়ে যায়। বিষয়টি খুব ফলো করে প্রচার হয় মিডিয়াতে। বেরিয়ে আসে আরো অনেক কিছু। গ্রেফতার হয় মোড়ল।

মুক্তিযুদ্ধের সময় সুধীর চন্দ্র সেনের পুরো পরিবারকে পাকিস্তানীদের হাতে ধরিয়ে দেয় মোড়ল। পরে তাদেরকে হত্যা করা হয়। ওই হিন্দু পরিবারের একমাত্র কণ্যা কিশোরী রুনুও রেহাই পায়নি ওই সময়। দেশ স্বাধীনের পর কিছু দিন পালিয়ে থাকলেও পরে গ্রামে এসে রাজত্ব ফলায় মোড়ল। সেই সময় দখল করে রুনুদের বাড়িটি। স্বপনের মনে আছে রুনুদি ছিল মোড়লের মেয়ে আসমার বান্ধবী। দুই বান্ধবী মিলে সারা গ্রাম ছুটে বেড়াত। এ গাছ থেকে ও গাছ, এ পুকুর থেকে ও পুকুর ছিল তাদের অবাধ যাতায়াত। বেনী দুলিয়ে ধান ক্ষেতের আইল দিয়ে তারা যখন ছুটত মনে হত এক মায়ের পেটেরই সন্তান। রুনুদি হিন্দু হলেও মুসলমানদের বাড়িতেই তার সারা বেলা কাটত। স্বপনকে সে ছোট ভাইয়ের মত আদর করত। পুজোর সময় রুনুর বাবাকে তিনটা পোশাক কিনতে হত। একটা তার, আরেকটা আসমার অপরটি স্বপনের জন্য। স্বপনকে প্রথম বই পড়া শিখিয়েছেও রুনুদি। স্বপন প্রায় সময়ই রুনুদির সাথে ঘুমাত।





চারদিকে যুদ্ধের দামামা বাঁধলেও এ গ্রামে তখন তার আঁচ লাগেনি। তবে দুই একজন পাকিস্তানীদের হয়ে কাজ করছে বলে শোনা যেত। ওর মনে আছে সে রাতেও রুনুদির পাশে ও ঘুমিয়ে ছিল। গভীর রাতে হঠাৎ হৈ চৈ শুনে ঘুম ভেঙ্গে যায় ওর। জেগেই দেখে রুনুদিকে টেনে হিচড়ে নিয়ে যাচ্ছে মোড়ল আর দুই জন গোফঅলা সেনা। রুনুদি কাঁদছে। বলছে আমাকে ছেড়ে দাও। কিন্তু তারা কিছুতেই তাকে ছাড়ছে না। দরজা পার হওয়ার আগ পর্যন্ত রুনুদি একই কথা বলছিল বার বার। একবার স্বপনের দিকে তাকিয়েও ছিল সে। সেদিন চাহনীটা ছিল কেমন জানি করুন। রুনুদিকে নিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার আগে স্বপনের দিকে তাকিয়ে একবার ধমক মারে মোড়ল। এই ছ্যামড়া, মুসলমান ছেলে হয়ে হিন্দু বাড়ি কি করিস। যা বাড়ি যা। মুসলমান হিন্দুত্ব বুঝার মত স্বপনের তখন বয়স হয়নি। তবে রুনুদিদের বাড়িতে এলে সে দেখত, তার মা কপালে সিঁদুর দিত। আর স্বপনের মায়ের কপালে তা ছিল না।

রুনুদি স্বপনকে প্রায়ই বলত, জানিস সপু আমার বিয়ে হলে আমিও মায়ের মত কপালে সিঁদুর দিব। আর টুকটুকে লাল শাড়ি পরব। খোপায় থাকবে শিউলী ফুলের মালা।

তোমার বিয়ে হলে তুমিতো এ গ্রাম ছেড়ে চলে যাবে তাই না রুনুদি।

যদি অন্য গ্রামে হয় তো যেতেতো হবেই।

তখন আমি কার সাথে খেলব।

দূর বোকা আমার যখন বিয়ে হবে তখন তুই অনেক বড় হয়ে যাবি।

আমি তোমাকে ছাড়া থাকতে পারব না রুনুদি। বলেই হাউ মাউ করে কাঁদতে শুরু করল স্বপন। রুনুদি ওকে কাছে টেনে নিয়ে মাথার চুলগুলোতে বিলি কাটতে লাগল। এই বোকা ছেলে কান্না থামা। আমার কি এখনই বিয়ে হচ্ছে।

না না তুমি বল তুমি কখনোই বিয়ে করবে না।

হা হা হা। গালে টোল ফেলে হাসির রিনিঝিনি আওয়াজ তুলল রুনুদি। বলল, তুই কি আমাকে আই বুড়ো হয়ে থাকতে বলিস।

আইবুড়ো কি রুনু দি।

আচ্ছা তোর এসব শুনে কাজ নেই। চল এবার বাড়ি চল। জানিস আমার কেমন জানি ভয় ভয় করছে রে।

কেন রুনুদি।

দেশে মুক্তিযুদ্ধ হচ্ছে। পাকিস্তানী সেনারা বাঙ্গালীদের বাড়ি ঘর জ্বালিয়ে দিচ্ছে। মানুষ মারছে।

এসময় রুনুদিকে কেমন জানি অন্যরকম লাগছিল। তবে তার এসব ভারী ভারী কথার অর্থ বুঝতে পারেনি স্বপন।



স্বপনের রুম থেকে কান্নার আওয়াজ শুনে তার মা ছুটে আসে। বাবা কান্দিছ কেন। ছেলের পাশে বসে মাথায় হাত বুলিয়ে দেয়। মায়ের পরশ পেয়ে স্বপনের কান্না আরো বেড়ে যায়।

কি হয়েছে বাবা।

জানো মা, আজ আমার রুনুদির কথা মনে পড়ছে। স্বপনের মায়ের চোখেও জল এসে যায়। তারও মনে পড়ে দুই বেনী দুলিয়ে পাড়াময় ছুটাছুটি করা এক কিশোরীর কথা।

সেদিন মোড়ল আমার চোখের সামনেই রনুদিকে ধরে নিয়ে যায়। আর অন্য ঘরে থাকা তার বাবা মাকে হত্যা করে। মা আমি যখন শুনি রুনুদির লাশ ওই নদীর কিনারে ভাসছে তখন আমি দেখতে যাইনি। গ্রামের সবাই গেলেও আমার কেন জানি খুব ভয় করছিল মা। আবারো হাউ মাউ কেঁদে উঠে স্বপন। এবার মায়ের কোলে মাথা রেখে।



আজ রাতে সেই ডাকে ঘুম ভাঙ্গে স্বপনের। তবে অন্যদিনের মত করুণ কন্ঠ নয়। আজ সেই পরিচিত রিনিঝিনি হাসি। স্বপন ............ স্বপন.......... রুনুদি তুমি কোথায় ?

আমিতো তোর পাশেই। বোকা তুই আমাকে দেখতে পারছিস না। আবারো হাসি। রুনুদিকে আজ যেন দেখতে পাচ্ছে স্বপন।

তার পরনে ধবধবে সাদা শাড়ি। কিন্তু রুনুদিতো বলেছিল লাল শাড়ি তার পছন্দ।







রুনুদি তুমি না লাল শাড়ি পছন্দ কর। সাদা শাড়ি পড়েছ কেন। আর মাথায় সিঁদুর কই।

বোকা। তোর চোখে কি ছানি পড়েছে। তুই দেখতে পারছিস না শাড়ির মাঝে কি টুকুটুকে লাল রঙ। এখান থেকে একটু রঙ নিয়ে সিঁদুর বানাব না হয়।

রুনু দি এতো রঙ নয় এতো লাল রক্ত।

রক্ত ! অনেকক্ষন চুপ করে থাকল রুনুদি।

এতো রঙই ছিল স্বপন। মোড়লের মতো কিছু মানুষরুপী হায়েনা সুন্দর রঙকে রক্তে পরিণত করেছে যে। ওদের তোরা ক্ষমা করিস না ভাই আমার। ওদের ক্ষমা করিস না।

রুনুদি.........। ঘুম ভেঙ্গে গেল স্বপনের। ঘর থেকে বেরিয়ে দেখল সবে মাত্র ভোর হয়েছে। আকাশটা আজ পরিস্কার মনে হচ্ছে । হঠাৎ নজরে পরল উঠোনের এক কোণে একটা শিউলী ফুল পরে আছে।



-আনোয়ার হাসান - ০১৯৩ ৭৪০ ১৮১৯





















]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/anwarhasan/29976642 http://www.somewhereinblog.net/blog/anwarhasan/29976642 2014-08-29 20:15:48
সুখের আর্তনাদ - এমএ মোতালেব ( এমিলি )


সুখের জন্য কাঁদছো তুমি

সুখ পাবে কোথা ?

সুখ যে রয়েছে অন্যখানে

বিনে সূতোঁয় বাঁধা।



সুখ যে তুমি হারিয়ে ফেলেছো

ভব বাজারের হাটে,

কেন তুমি কাঁদছো বসে

দিল দরিয়ার ঘাটে ?



সুখ পাখি যে রয়েছে দূরে

অন্যের খাঁচায় বন্দি,

লাভ হবে না সুখের আশায়

করে কোন ফন্দি।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/anwarhasan/29971880 http://www.somewhereinblog.net/blog/anwarhasan/29971880 2014-08-11 21:12:17
নূর হোসেনের অপকর্মের জন্য সাংবাদিকরা দায়ী !




আশির দশকে স্বৈরাচারী সরকারের পতনের জন্য গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অনেক তাজা প্রাণ ঝড়ে। যাদের মধ্যে নূর হোসেন অন্যতম। বুকে পিঠে গণতন্ত্রের পক্ষে শ্লোগান লিখে খ্যাতি পেয়েছিল সে। সেই নূর হোসেনকে মানুষ এখনো শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে।



অপরদিকে বহুল আলোচিত নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের ঘটনার খলনায়ক নূর হোসেনের নাম শুনলে মানুষ ঘৃনা করে। একজন মানুষ কতটা অমানুষ হলে এমন জঘন্য কাজ করতে পারে। টাকা ও ক্ষমতার জন্য মনুষ্যত্বকে বলি দিতে পারে। নিজ সন্তানকে পিটিয়ে হত্যা করতে পারে। আবার নিজের অবস্থান ঠিক রাখার জন্য সেই সন্তানের কুলখানী ঝাকঝমক ভাবে করে। তার নাম নূর হোসেন।



সাত খুনের পর এ নাম এখন বাংলাদেশের মানুষের মুখে মুখে। মিডিয়ার বদৌলতে তার মুখও চেনা হয়ে গেছে এ দেশসহ পাশের ভারতে। নূর হোসেন কি করত তা সাত খুনের পরই প্রকাশ্যে আসে জোরালোভাবে। সে ওপেন ফেনসিডিল বিক্রি করতো। যাত্রা নৃত্যের নামে উলঙ্গ নাচের আসর চালাতো। পরিবহণ সেক্টরে চাঁদাবাজি করতো। কেউ কথা না শুনলে টর্চার সেলে নিয়ে নির্যাতন চালাতো। এগুলো তার নিত্যকর্ম ছিল। বেশ ক’ বছর ধরেই নূর হোসেন বাহিনী এসব অপকর্ম করে অঢেল টাকা কামাই করত।



এসব খবর সাত খুনের ঘটনার পরে মানুষ মিডিয়ার মাধ্যমে জানতে পেরেছে। প্রায় প্রতিদিনই তার কোন না কোন খবর আছেই। আর এসব খবর পড়ে কেউ কেউ প্রশ্ন করে আগে সাংবাদিকরা কি করত। সাত খুনের ঘটনার আগে কেন তারা এসব লেখেনি। এ প্রশ্ন আমার মাথায়ও আসে। ঠিকইতো, নূর হোসেনতো অনেক দিন ধরেই অপকর্ম করে চলছে। তবে আগে কেন এসব ঘটনার কথা সাংবাদিকরা লেখেনি।



এসবে উত্তরও মেলে অনেক সাংবাদিকের কাছে। শুনেছি, নারায়ণগঞ্জের স্থানীয় পত্রিকাগুলোর প্রধান আয়ের উৎস ছিল নূর হোসেন। তার ফেনসিডিল ব্যবসা, চাঁদাবাজি, নগ্ন নৃত্য ঢেকে রাখতে নিয়মিত টাকা দিত সে। আর নগ্নভাবে টাকা খেয়ে তা বেমালুম চেপে যেত সাংবাদিক ও স্থানীয় সংবাদপত্র। খেয়াল করলে দেখবেন, নূর হোসেন ভারতে চলে যাবার পর স্থানীয় অনেকগুলে পত্রিকা বন্ধ হয়ে গেছে।

এবার প্রশ্ন আসে, জাতীয় পত্রিকাগুলো কি করেছে ? এখানেও সেই একই অবস্থা। জাতীয় পত্রিকা ও টেলিভিশনের অনেক সাংবাদিকের সাথে নূর হোসেনের ভাব ছিল। কেউ নগদ নিত কেউ আবার নগদের সাথে গাড়িও নিত। কেউ কেউ নূর হোসেনের মজমায় গিয়ে দুই ঢোক গিলে আসত। প্রশ্নের তীর আমার দিকেও আসতে পারে। ইসলামিক টিভিতে কেন আমি নিউজ করি নাই। উত্তরটা দিচ্ছি- সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় ইসলামিক টিভির একজন প্রতিনিধি ছিল। ও এলাকায় আমি নিউজ কভার করতে যেতাম না।



এখন সব স্থানীয় পত্রিকায় নূর হোসেনের বিরুদ্ধে নিউজ ছাপা হয়। জাতীয় পত্রিকায়ও। যদি আগে এভাবে লেখা হত তবে সে এতটা বেপরোয়া হত না বলেই আমি মনে করি। তাই নূর হোসেনের গডফাদার বা এরশাদ শিকদার হওয়ার পেছনে সাংবাদিকদের ভূমিকা আছে এ কথা বললে ভুল হবে কি ?



তবে নূর হোসেনের সন্ত্রাসী জীবনের জন্য বিশেষভাবে দায়ী প্রশাসন। যদি তারা নূন্যতম ভূমিকা রাখত তবে এভাবে ওর উথ্থান ঘটত না।





]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/anwarhasan/29971334 http://www.somewhereinblog.net/blog/anwarhasan/29971334 2014-08-09 21:18:11
শেখ সাদী,আইনস্টাইনের পোশাক আর ইসলামিক টিভির ক্যামেরা




পারস্য কবি শেখ সাদী দীর্ঘ ভ্রমন শেষে একবার গিয়েছিলেন এক ধনীর বাড়িতে। সেদিন পরনে ছিল সাধারন পোশাক। তাই তেমন কোন আপ্যায়ন করলেন না গৃহকর্তা। মুড়ি মুড়কি গিলেই চলে আসতে হল এই বিখ্যাত ব্যক্তিকে। পরে অন্য একদিন শেখ সাদী আবার ওই বাড়িতে গিয়েছিলেন। সেদিন তাঁর পোশাক ছিল ঝলমলে। গৃহকর্তা এবার নিজেই খাবার এগিয়ে দিলেন। সাদী খাবার না খেয়ে সব পকেটে তুললেন। তা দেখে গৃহকর্তা বিষ্মিত! শেখ সাদী বললেন, আমিতো কিছুই না। সব সম্মানতো আমার পোশাকের জন্য। সেই বরং খাক এসব।



গল্পটি অতি পুরনো। প্রায় সবারই জানা। তারপরেও কেন কাসুন্দি ঘাটছি, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারেন কেউ কেউ।



ইসলামিক টেলিভিশনের নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি নিয়োগ পাওয়ার পর থেকে প্রায় সব জায়গায় আদর আপ্যায়ণ বেড়ে যায় আমার। ফতুল্লা থেকে রুপগঞ্জ, আড়াইহাজার, সোনারগাঁ, বন্দর এমনকি শহরেও। বিভিন্ন প্রোগ্রামের ডাক, সেই সাথে নিমন্ত্রনও। পবিত্র মাহে রহমজান মাসে ইফতার মাহফিলগুলোতে কদর একটু বেশী ছিল। বোধহয় আমি ইসলামিক টিভিতে কাজ করি এ জন্য। এ তালিকায় সবচেয়ে বেশী ছিল বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনগুলো। কম হলেও আওয়ামীলীগও নিমন্ত্রন করতো। বাদ যেত না জামায়াতে ইসলামী। এ দলটির জেলা আমীর একবার আমাকে ফোন করে বলেছিলেন, আনোয়ার সাহেবকে আমি নিজে দাওয়াত দিলাম। আমি খুব একটা ইফতার পার্টিতে না গেলেও তার মত মুরুব্বীর কথা অমান্য করতে পারিনি।



হেফাজত তান্ডবে আর কিছু না হউক দেশে দুইটি টিভি চ্যানেল বন্ধ হয়। যার মধ্যে ইসলামিক টিভি রয়েছে। এরপর থেকে আমি ফতুল্লা রিপোর্টার্স ক্লাবে সময় দেই বেশী। চ্যানেলটি বন্ধ হওয়ার পর প্রথম রমজান মাসে দুই একটি ইফতার মাহফিলে নিমন্ত্রন পাই। এবার একটিও পাইনি। এমনকি জামায়াতের সেই নেতাও বলেননি। আগের মতোতো নয়ই, সামান্য করেও। যদিও অনেক সিনিয়র সাংবাদিকের কাছ থেকে শুনি জামায়াত নাকি সাংবাদিকদের অন্যদের চেয়ে বেশী সম্মান করে। অবশ্য তারা মনে করতে পারে টিভি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমি সাংবাদিকতা ছেড়ে দিয়েছি। তবে স্থানীয় পত্র পত্রিকা পড়লে এ ধারনা থাকবে না। আমি নিয়মিত লেখালেখি করছি, এবং তা নিরপেক্ষতা বজায় রেখেই।

এ নিয়ে আমার কোন দু:খ নেই। দাওয়াত পেলেও আমি খুব একটা বাইরে ইফতার করি না। আর খাওয়া দাওয়ার নিমন্ত্রন আমি বেশিরভাগই এড়িয়ে চলি। তবে দু:খটা অন্য জায়গায়। সাংবাদিকতা করতে গিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিতে হয়। সত্য প্রকাশে অনেকের বৈরী আচরনের শিকার হতে হয়। তারপরেও সমাজের মঙ্গলের জন্য সাংবাদিকরা সব সহ্য করে পেশায় টিকে থাকে। নারায়ণগঞ্জের অনেক সাংবাদিক মৃত্যুর আগ পর্যন্ত কলম চালিয়ে গেছেন। স্বনামধন্য সেই সব সাংবাদিকদের কেউ কি মনে করে কখনো ? প্রয়াত সর্বজন শ্রদ্ধেয় সাংবাদিক হানিফ খাঁন, বংশী সাহা, মজিবর রহমান বাদলদের কে বা মনে রেখেছে। তাদের স্মরনে সাংগঠনিকভাবে কতটুকুই বা উদ্যোগ নেয়া হয় ? যারা বেঁচে আছেন এমন অনেক প্রবীণ সাংবাদিকদের নিয়েই বা কতটুকু ভাবা হচ্ছে ? এখন যারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এ মহান পেশায় কাজ করছেন তাদেরও যে কেউ মনে করবে এ গ্যারান্টিই কোথায় পাই ? একজন ফুটবলারের পা ভেঙ্গে গেলে তার খবর যেমন কেউ রাখে না তেমনি সাংবাদিক মারা গেলে বা বয়োবৃদ্ধ হলেও তাকেও মনে রাখার প্রয়োজনবোধ করে না এ ঘুনে ধরা সমাজ।



শুরু করেছিলাম শেখ সাদীর পোশাকের গল্প দিয়ে। শেষ করছি আরেক বিখ্যাত ব্যক্তি বিজ্ঞানী অ্যালবার্ট আইনস্টাইনের পোশাকের গল্প দিয়ে।



একবার আইনস্টাইন জার্মান রাষ্ট্রদূতের সাথে দেখা করতে যাবেন। তার স্ত্রী বলল, পোশাক পাল্টে ভাল পোশাক পরে যাও। জবাবে আইনস্টাইন বললেন, তারা যদি আমাকে দেখতে চায় আমিতো আছিই। আর যদি পোশাক দেখতে চায় তো আলমারী খুলে ওগুলো দেখিয়ে দিও।









]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/anwarhasan/29969992 http://www.somewhereinblog.net/blog/anwarhasan/29969992 2014-08-04 20:19:37
আয় না মাছি আমার ঘরে আরাম পাবি বসলে পরে




বাংলায় মাছিমারা কেরাণী নামে একটি বহুপ্রচলিত প্রবাদ আছে। প্রথমে শুনাই এর গল্পটা। এক দেশে ছিল এক কেরানি। যে কোন কিছু হুবহু নকল করাই ছিল তার কাজ। একদিন মোটা একটি খাতার লেখা নকল করে অন্য একটি খাতায় তুলছিল। হঠাৎ সে দেখল, খাতার মাঝে একটি পৃষ্ঠায় একটি মাছি মরে লেগে আছে। কেরাণী ভাবল, লেখার উপরে যেভাবে মাছিটা লেগে আছে, ঠিক একই রকমভাবে তাকেও লেখার উপরে একটি মরা মাছি লাগাতে হবে। এ চিন্তা থেকে সে মাছিমারার কাজে লেগে গেল। কিন্তু এ কাজ যে মোটেই সহজ নয় তা বুঝতে কেরাণীর সারা দিন লাগল। অনেক চেষ্টায় অনেক ঘাম ঝরিয়ে সে একটা মাছি মেরে তার খাতায় লাগাতে পেরেছিল অবশ্য। এ থেকেই হুবহু নকল করা বোকা লোকদের বলা হয় মাছিমারা কেরাণী।



পৃথিবীতে প্রায় লক্ষাধিক প্রজাতির মাছি আছে। মাছির জন্মাহারও বেশী। একটি স্ত্রী-মাছি একবারে প্রায় এক শ’ ডিম পাড়ে। মাটি, প্রাণীদেহ, গাছপালা, খাদ্যদ্রব্য বা মৃত প্রাণীসহ যে কোনো কিছুর উপরেই মাছি ডিম পাড়ার ক্ষমতা রাখে। ডিম পাড়ার ১২ থেকে ৩০ ঘণ্টার মধ্যে ডিম ফুটে লার্ভা বের হয়। এর কয়েকদিনের মধ্যেই তা পূর্ণবয়স্ক মাছিতে পরিণত হয়। প্রায় ত্রিশ দিনের আয়ু পায় একটি মাছি। আর এ সময়ের মধ্যেই সে কমপক্ষে এক হাজার ডিম পাড়ে।





বেশিরভাগ কীটপতঙ্গের পাখা থাকে চারটি থাকলেও মাছির পাখা দুটি। এরপরেও মাছি উড়তে পারে বেশ। সামনে-পিছে যাওয়া, উপরের দিকে হাটায় সে দক্ষ। মাছির চোখকে বলা হয় পুঞ্জাক্ষি। পুঞ্জাক্ষি মানে অনেকগুলো চোখ, যা একত্রে একটি চোখের আকার ধারণ করে। এতগুলো চোখ দিয়ে মাছি সবদিক একসঙ্গে দেখতে পায়। লোমশ ও আঠালো পা আছে বলে মাটি অথবা মসৃণ যে কোনো জায়গায় স্বচ্ছন্দে ভনভন করে হাঁটাচলা করতে পারে মাছি। বোধহয় এ জন্যই কবি সুকুমার রায় বলেছেন- মাছি ভনভন/থালা ঝন ঝন।



মাছি বেজায় রোগজীবানু ছড়ায়। বিজ্ঞানীদের মতে, একটি মাছি প্রায় ১৯ লাখ ৪০ হাজার ব্যাকটেরিয়া বহণ করে। তাই বহুকাল ধরে মানুষ মাছি মারতে নানা উপায় আবিস্কার করছে। বিভিন্ন লেখায়ও তা এসেছে।

অনেকের মনে হতে পারে মাছি বোধহয় খামোখা সৃষ্টি করা হয়েছে। যদিও তা ঠিক নয়। কারণ মহান সৃষ্টিকর্তা প্রতিটি কীটপতঙ্গ কল্যাণের জন্যই সৃষ্টি করেছেন। মাছি নামক পতঙ্গটি সে থেকে ভিন্ন নয়। ময়লা আবর্জনা ও মৃত প্রাণী খেয়ে মাছি অনেক ক্ষতিকর কীটপতঙ্গ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। এমনকি ফুলের পরাগায়নেও তাদের অবদান রয়েছে।







মাছির স্বাদ-ইন্দ্রিয় রয়েছে তার পায়ের তলায়। কোনো কিছুর উপর বসলেই সে বুঝতে পারে কোন খাবারের কী স্বাদ! নারায়ণগঞ্জসহ সারা দেশে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ফরমালিনের অতিমাত্রা ব্যবহার করে পুরো জাতির ঘুম হারাম করে দিয়েছে। ফরমালিন মানবদেহের জন্য খুবই ক্ষতিকর। একইভাবে ফরমালিন মাছির জন্য ভাল নয়। তাই ফরমালিন মেশানো খাবারে মাছি বসে না। এক সময় মাছ, ফল বিক্রেতারা মাছি তাড়াতে ব্যস্ত থাকলেও এখন ডেকেও মাছি পাওয়া যায় না। তাই বোধহয় কবি নির্মলেন্দু গুণ বলেছেন- আমাকে চেনে,তাকেও চেনে/ সেই মাছিটি কই?/ নাকেও নেই, বুকেও নেই/ চোখের জলে ঐ।

ফরমালিনের কারনে মাছি এখন দেখা যায় না। ফলে মাছি নেই, মাছে মাছি নেই সর্বত্র মাছির আকাল। অবস্থা এখন এমন যে মাছির খোঁজে বোকা কেরাণী না হউক কোন এ্যালিট ফোর্স তৈরী করতে হবে। ছোট শিশুকে কোলে নিয়ে মা আকাশপাণে চেয়ে সুর তোলে ‘ আয় আয় চাঁদ মামা টিপ দিয়ে যা’। আমার মনে হয় এখন বা অদূর ভবিষ্যতে তারা বলবে ‘ আয় আয় মাছি মামা- ঘ্রাণ শুকে যা’।





এক সময় দেখতাম, লাঠি ও কাগজের সাহায্যে দোকানদাররা মাছি তাড়াতো। তখনও ব্যবসা হত, তখনো মানুষ কামাই করত। এখন মাছ বিক্রেতা মাছে ফরমালিন দিচ্ছে তা কিনে খায় ফল বিক্রেতা। আবার ফল বিক্রেতা একই কাজ করছে যা কিনে খায় মাছ বিক্রেতা। এভাবে আমরা এখন ধীরে ধীরে ফরমালিন জাতিতে পরিণত হচ্ছি। সরকারের নির্দেশে প্রশাসন তা ঠেকাতে চেষ্টা করছে ঠিকই তবে এতে কোন কাজ হচ্ছে না। এখানে আইনের প্রয়োগের চেয়ে নৈতিকতাই বড় ভূমিকা রাখতে পারে। যা ক্রমশ আমাদের মধ্যে কমছে। এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যত প্রজন্ম অনেক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে।

মাছির এ অভাব যে কোন শুভ লক্ষন নয় ইতিমধ্যে তা টের পেয়েছে জাতি। এ থেকে বের হওয়ার উপায় নিয়ে হয় নানা আলোচনা। দেশে মাছি থাকতে হবে এ কথা সর্বত্র স্বীকৃত। সুকুমার রায়ের আরো একটি ছড়ায় মাকড়সার মাছি ধরার ফাঁদের কথা তুলে ধরা হয়েছে। মাকড়সা বলছে - সান্-বাঁধা মোর আঙিনাতে/ জাল বুনেছি কালকে রাতে,/ ঝুল ঝেড়ে সব সাফ করেছি বাসা । আয় না মাছি আমার ঘরে, / আরাম পাবি বসলে পরে,/ ফরাশ পাতা দেখবি কেমন খাসা ! জবাবে মাছি বলছে - থাক্ থাক্ থাক্ আর বলে না,/ আন্কথাতে মন গলে না-/ ব্যবসা তোমার সবার আছে জানা ।/ ঢুকলে তোমার জালের ঘেরে/ কেউ কোনদিন আর কি ফেরে ?/ বাপরে ! সেথায় ঢুকতে মোদের মানা ।



মাকড়সা তার কুটজালে আটকে মাছিকে ভক্ষন করতে চায়। আর আমরা ভয়ানক ফরমালিন ও লোভী ব্যবসায়ীর কাছ থেকে বাঁচতে মাছি কে নিমন্ত্রন জানাচ্ছি।





ধহধিৎযধংধহরঃা@মসধরষ.পড়স / ০১৯৩৭৪০১৮১৯ )

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/anwarhasan/29964457 http://www.somewhereinblog.net/blog/anwarhasan/29964457 2014-07-11 19:36:22
চলে গেলেন প্রখ্যাত কন্ঠশিল্পী বশির আহমেদ



বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় কন্ঠশিল্পী বশির আহমেদ বিদায় নিলেন এ ধরা থেকে। শনিবার রাতে মোহাম্মদপুরে নিজের বাসায় ৭৪ বছর বয়সে মারা যান তিনি।



ষাটের দশকে চিত্রনির্মাতা মুস্তাফিজের সাগর ছবির জন্য গান লেখার মধ্য দিয়ে সিনেমা জগতে পা রাখেন বশির আহমেদ। এরপর শুরু হয় সুর করা এবং গান গাওয়া।



১৯৬৪ সালে কারোয়ান চলচ্চিত্রে তার গাওয়া ‘যব তোম একেলে হোগে হাম ইয়াদ আয়েঙ্গে ’ গানটি পাকিস্তানে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। ১৯৬৭ সালে সে সময়কার জনপ্রিয় জুটি শবনম-রহমান অভিনীত বাংলা চলচ্চিত্র দর্শন মুক্তি পাওয়ার পর এর গানগুলোর জন্য শ্রোতামনে স্থান করে নেন বশির আহমেদ। এ ছবির একটি গান তুমহারে লিয়ে ইস দিলমে যিতনি মোহাব্বত হ্যায়’ ।



বশির আহমেদের জনপ্রিয় গানগুলোর মধ্যে রয়েছে- আহা কিযে সুন্দর হারিয়েছে অন্তর, সবাই আমায় প্রেমিক বলে, ডেকোনা আমারে তুমি কাছে ডেকো না, সজনীগো ভালবেসে এত জ্বালা কেন বল না, ওগো প্রিয়তমা, খুঁজে খুঁজে জনম গেল, ঘুম শুধু ছিল দুটি নয়নে, যারে যাবি যদি যা পিঞ্জর খুলে দিয়েছি , আমাকে যদি গো তুমি ইত্যাদি।



১৯৪০ সালে কলকাতায় জন্ম নেয়া বশির আহমেদ ১৫ বছর বয়সেই উচাঙ্গ সঙ্গীতের তালিম নেন। জীবদ্দশায় জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ অসংখ্য পদক পেয়েছেন বশির আহমেদ। তার স্ত্রী মীনা বশিরও সঙ্গীতশিল্পী। তাদের দুই সন্তান হুমায়রা বশির এবং ছেলে রাজা বশিরেরও গানের অ্যালবাম রয়েছে। দিল্লির সওদাগর পরিবারের সন্তান বশির আহমেদ কলকাতায় ওস্তাদ বেলায়েত হোসেনের কাছ থেকে সঙ্গীত শেখার পর মুম্বাইয়ে চলে যান। সেখানে উপমহাদেশের প্রখ্যাত ওস্তাদ বড়ে গোলাম আলী খাঁর কাছে তালিম নেন তিনি। ১৯৬০ সালে তিনি চলে আসেন ঢাকায়।







তার গাওয়া কাজী জহিরের ময়নামতির ছবির বিখ্যাত গান ‘অনেক সাধের ময়না আমার বাঁধন কেটে যায়’ গানটি আজো মানুষের মুখে মুখে। এ গানেই আছে- ‘ আর যে আমায় ডাকবে না সে সকাল দুপুর সাঝে- বলবে না আর মনের কথা .........





]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/anwarhasan/29942450 http://www.somewhereinblog.net/blog/anwarhasan/29942450 2014-04-20 10:31:25
এক আলোকিত নারী সাফিয়ার গড়া পাঠাগারের কথা




নিজে বেশীদূর পড়ালেখা না করলেও বইয়ের প্রতি বরাবরই টান অনুভব করেন সাফিয়া বেগম। তার ভাষায়- দূর সময় এলে স্বজন দূরে চলে যায়। বইয়ের সাথে আত্মীয়তা তখন আরো নিবিড় হয়। তাই ভূমিহীন সাফিয়া পোক্ত করে আত্মীতার বন্ধনে বইকে বেঁধেছেন।

ফতুল্লা ডিআইটি মাঠের এক কোণে তার গড়া লাইব্রেরীতে আছে পাঁচ শতাধিক বই। বাঁশ চাটাইয়ের ঘরে রেজিস্ট্রিকৃত শাপলা পাঠাগার নামে এ লাইব্রেরীতে প্রতিদিন বই পাঠ করে জ্ঞান পিপাসা মিটাচ্ছেন অসংখ্য বইপ্রেমী।



লাইব্রেরীর শুরু হয় ২০০০ সাল থেকে। ৭শ’ টাকার বই নিয়ে প্রথম যাত্রা তার। ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে বইয়ের সংখ্যা। এখন ৫ শতাধিক বই তার পাঠাগারে, কয়েকবার উচ্ছেদের কবলে না পড়লে সংখ্যাটা আরো বাড়তো বলে জানালেন সাফিয়া। শাপলা পাঠাগার থেকে বই নিয়ে বাড়িতেও পড়া যায়। এ জন্য প্রতি বইয়ের জন্য দিতে হয় মাত্র পাঁচ টাকা। তবে পাঠাগারে বসে পড়লে কোন টাকা দিতে হয় না।





পাঠাগার গড়া ছাড়াও সাফিয়া বেগম বিভিন্ন আন্দোলন ও সামাজিক কাজে জড়িত আছেন। ১৯৮৮ সালের বন্যায় তিনি রুটি বানিয়ে বন্যাদুর্গতের সহযোগীতা করেছেন। নারায়ণগঞ্জ শহরের পাইকপাড়া এলাকার মৃত আলী হোসেনের স্ত্রী সাফিয়া ফতুল্লা ডিআইটি মাঠে বাস করেন ১৯৮২ সাল থেকে।

১৯৭১’র মুক্তিযুদ্ধের সময়ে তিনি স্বপরিবারে থাকতেন ২নং বাবুরাইল কামালউদ্দিনের বাড়িতে। যুদ্ধ শুরুর প্রথমদিকেই ওই বাড়িটি আগুনে পুড়িয়ে দেয় পাকিস্তানী বাহিনী ও এ দেশীয় দোসররা। এ ঘটনার সময়ে বাবা মা ও দুই ভাই, দুই বোনকে নিয়ে কুঁড়েরপাড় নানার বাড়িতে ছিলেন।



দেশ স্বাধীনের পর বঙ্গবন্ধুর সাথে এক মধুর স্মৃতির কথা জানালেন সাফিয়া। তিনি তখন ম্যাটেক্সে চাকরী করতেন। মালিক পরিবর্তনের পর কয়েকজনের কাজ চলে যায়। ভাষা সৈনিক শফিউদ্দিন ওরফে বাবু সারোয়ার তাকেসহ আরো কয়েকজনকে নিয়ে যায় বঙ্গবন্ধুর ধানমন্ডির বাড়িতে। তাদের উপস্থিতির কথা শুনে কাঁধে লাল গামছা, সাদা সেন্টু গেঞ্জি ও লুঙ্গি পরে বের হন বঙ্গবন্ধু। ভরাট কন্ঠে প্রশ্ন ছুড়েন- বাবু (বাবু সারোয়ার ) কি হইছে ? এরপর তাদের সবার চাকরীই বহাল হয়, বেতনও বাড়ে বেশ।

হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ যখন ক্ষমতায় তখন আরো একটি ইতিহাস গড়ে সাফিয়া। তৎকালিন রাষ্ট্রপতি এরশাদের গাড়ি আটকে ফতুল্লার দাপায় কর্মজীবিদের জন্য আদায় করেন পথকলি স্কুল। ওই সময়ের জেলা প্রশাসক আহমদ মাহমুদুর রাজা চৌধুরীর একান্ত চেষ্টায় তিনি পাঠাগারের জন্য ফতুল্লা ডিআইটি মাঠের ১৮ শতক জমি লিজ নিয়েছিলেন। পরবর্তিতে কলেজ করার নামে, রাজউকের দখলের নামে বার বার উচ্ছেদের কবলে পরে এখন সামান্য জায়গায় চলছে তার গড়া শাপলা পাঠাগার।

এই পাঠাগারে সহযোগীতা আছে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী ও একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলায় নিহত আইভী রহমানের।







৪ ছেলে তিন মেয়ের মা সাফিয়া বেগমের বয়স এখন প্রায় ৬৫। মেয়েদের সবাই স্বামী সন্তান নিয়ে সুখে আছে। ৩ ছেলেও সংসারী। মানসিক ভারসাম্যহীন এক ছেলেকে নিয়ে তার বাস ফতুল্লা ডিআইটি মাঠে তার গড়া পাঠাগারের পাশে। ছেলে মেয়েরা সবাই তার দেখ ভাল করে। এ নিয়ে কোন চিন্তা নেই তার। তিনি শুধু ভাবেন, আমি না থাকলে পাঠাগারের কি হবে। তিল তিল করে গড়া এই আলোর রাজ্য কি তবে ধ্বংস হয়ে যাবে।



ফতুল্লা রিপোর্টার্স ক্লাবে এসে সাফিয়া বেগম কথা বলেন রনজিৎ মোদক ও আনোয়ার হাসানের সাথে। এ সময় তিনি জানান, তার একটি মাত্র চাওয়া অজস্র পাঠকের স্বার্থে ‘শাপলা পাঠাগার’ এর একটি স্থায়ী রুপ যেন দেয়া হয়।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/anwarhasan/29938555 http://www.somewhereinblog.net/blog/anwarhasan/29938555 2014-04-06 19:39:19
সাপ ওঝাঁ আর বিএনপি নেতা এটিএম কামালের গল্প !




রাজনীতিক হিসেবেই বেশী পরিচিত এটিএম কামাল। যতদূর জানি মায়ের পথ অনুসরণ করেই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদি দল বিএনপির রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হন তিনি। কিছু দিন এ দল ছেড়ে অন্য দলে ভিড়েছিলেন। নতুন ওই দলের যুব সংগঠনের কেন্দ্রীয় পর্যায়ের একটি পদে থাকাকালে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব নিয়ে নানা কথা বলতে দেখা গেছে তাকে।

একজন বিনয়ী মিডিয়া বান্ধব হিসেবে সাংবাদিক মহলে বেশ পরিচিত এটিএম কামাল। তিনি যেখানে সাংবাদিক সেখানে অথবা সাংবাদিক যেখানে তিনি সেখানে এমনটা বলেন অনেকে। আবার কেউ কেউ বলেন বেশী বেশী প্রচারে থাকার একটা আকাংখা সব সময় জেগে থাকে তার মনে।

রাজনীতিক এটিএম কামাল দলীয় কার্যক্রমে বেশ সক্রিয়। দলের অনেকের মতে, কাকা ডাকা ভোর, সাঁঝ বেলা এমনকি নিশুতি রাতেও নেতাকর্মীরা পাশে পান তাকে। হরতালের দিন অনেক নেতা যখন আড়ালে থাকে তিনি তখন গুটিকয়েকজন নিয়ে ব্যস্ত হন কর্মসূচী পালনে। সা¤প্রতিক সময়ে তিনি গ্রেপ্তার হয়েছেন অনেকবার। অবশ্য কেউ কেউ বলেন তিনি নাকি আলোচিত হতে ইচ্ছা করেই গ্রেপ্তার হন। এর বিপরীতে মত আছে কামাল অনুসারীদের।



তবে আমার মতে এটিএম কামাল একজন পরিশ্রমী রাজনীতিক। নানা গুনের জন্য আমি তাকে শ্রদ্ধা করি বটে।



এটিএম কামালের আরো একটি পরিচয় তিনি পরিবেশবাদী সংগঠন নির্ভীক এর প্রধান সমন্বয়ক। বিভিন্ন সময়ে পরিবেশ রক্ষায় তার ভিন্নমূখী কর্মসূচী অনেকে দেখতে পায়। ক’দিন আগে নদী বাঁচাতে তার আকুতি আমার নজরে পড়েছে। নদী বাঁচলে আমাদের জন্য মঙ্গল। যেভাবে নদীখেকোরা নদীর বারটা বাজাচ্ছে তা সত্যিই নিন্দনীয়। তাই নদী বাঁচানোর ডাক গ্রহনযোগ্য। সেই সাথে পরিবেশ রক্ষায় গাছ বাঁচানোও জরুরী বলে আমি মনে করি।



সা¤প্রতিক সময়ে এটিএম কামালের দল ও জোটের ডাকা হরতাল, অবরোধসহ নানা রাজনৈতিক কর্মকান্ডের সময়ে নির্দয়ের মত গাছ নিধন করা হয়েছে। টেলিভিশন পর্দায় এ দৃশ্য আমার মত অনেকেই অসহায়ের মত অবলোকন করেছে। আমি বলছি না তার দল বা দলের নেতাকর্মীরই এ কাজ করেছে। তবে আন্দোলনের সময়ই তা হয়েছে। পরিবেশবাদি সংগঠন পবা’র মতে, ওই ১০ মাসে রাজনৈতিক সহিংসতায় ৬৫ হাজার গাছ নিধন করা হয়েছে। যার বর্তমান আর্থিক মূল্য (শুধু কাঠের দাম) ৩৫ কোটি টাকা। '



গাছ সম্বন্ধে পবিত্র আল কোরআন এ সুরা আল-হাজ্ব এর ১৮ নং আয়াতে বর্ণিত আছে “ তুমি কি দেখ না যে আল্লাহকে সিজদা করে যা কিছু মহাকাশ ও পৃথিবীতে রয়েছে; সূর্য, চন্দ্র, নক্ষত্রমন্ডলী, পর্বতরাজি, বৃক্ষলতা, জীব-জন্তু ও মানুষের মধ্যে অনেকে ”।



এক যুদ্ধে রওনা হবার প্রাক্কালে হযরত মুহাম্মদ (সা<img src=" style="border:0;" /> তাঁর বাহিনীকে নির্দেশ দেন ... আর কোনো গাছ উপড়াবে না, কোনো খেজুর গাছ জ্বালিয়ে দেবে না। আর কোনো গৃহও ধ্বংস করবে না। ( মুসলিম : ১৭৩১ )



ব্রহ্মবৈবর্তপুরাণে তুলসী গাছকে সীতাস্বরূপা ,স্কন্দপুরাণে লক্ষীস্বরূপা, চর্কসংহিতায় বিষ্ণুর ন্যায় ভুমি, পরিবেশ ও আমাদের রক্ষাকারী বলে বিষ্ণুপ্রিয়া ,ঋকবেদে কল্যাণী বলা হয়েছে । স্বয়ং ভগবান বিষ্ণু তুলসী দেবীকে পবিত্রা বৃন্দা বলে আখ্যায়িত করে এর সেবা করতে বলেছেন।



অনলাইন পোর্টাল নিউজ নারায়ণগঞ্জ পরিবার ও জেলা ফটো জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন এর ফ্যামেলী ডে’ তে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সাধারন সম্পাদক এটিএম কামালের সাথে এ বিষয়ে আমার আলাপ হয়। তখন আমার পাশে ছিলেন ফতুল্লা রিপোর্টার্স ক্লাব সভাপতি রনজিৎ মোদক ও সাধারন সম্পাদক কাজী আনিসুর রহমান। এটিএম কামাল বলেছিলেন, ‘গণতন্ত্র রক্ষায় দেশের মানুষের মঙ্গলের জন্য অনেক কিছুই করতে হয়’। তার এই বক্তব্য শুনে আমার মনে হয়েছে তিনি গাছ কাটার পক্ষে সাফাই গেয়েছেন। দলীয় কর্মকান্ডে এক রকম পরিবেশবাদি হিসেবে আরেক রকম এটিএম কামালকে আমার পছন্দ নয়।



এ যেন বিখ্যাত কন্ঠ শিল্পী আব্দুল আলীমের সেই বিখ্যাত গানের কলি ----- তুমি সর্প হয়ে দংশন কর- ওঝাঁ হয়ে ঝাড়.............।



(লেখক- জেলা প্রতিনিধি, ইসলামিক টিভি, সাংগঠনিক সম্পাদক, ফতুল্লা রিপোর্টার্স ক্লাব। )



সাপ ওঝাঁ আর এটিএম কামালের গল্প !

আনোয়ার হাসান

রাজনীতিক হিসেবেই বেশী পরিচিত এটিএম কামাল। যতদূর জানি মায়ের পথ অনুসরণ করেই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদি দল বিএনপির রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হন তিনি। কিছু দিন এ দল ছেড়ে অন্য দলে ভিড়েছিলেন। নতুন ওই দলের যুব সংগঠনের কেন্দ্রীয় পর্যায়ের একটি পদে থাকাকালে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব নিয়ে নানা কথা বলতে দেখা গেছে তাকে।

একজন বিনয়ী মিডিয়া বান্ধব হিসেবে সাংবাদিক মহলে বেশ পরিচিত এটিএম কামাল। তিনি যেখানে সাংবাদিক সেখানে অথবা সাংবাদিক যেখানে তিনি সেখানে এমনটা বলেন অনেকে। আবার কেউ কেউ বলেন বেশী বেশী প্রচারে থাকার একটা আকাংখা সব সময় জেগে থাকে তার মনে।

রাজনীতিক এটিএম কামাল দলীয় কার্যক্রমে বেশ সক্রিয়। দলের অনেকের মতে, কাকা ডাকা ভোর, সাঁঝ বেলা এমনকি নিশুতি রাতেও নেতাকর্মীরা পাশে পান তাকে। হরতালের দিন অনেক নেতা যখন আড়ালে থাকে তিনি তখন গুটিকয়েকজন নিয়ে ব্যস্ত হন কর্মসূচী পালনে। সা¤প্রতিক সময়ে তিনি গ্রেপ্তার হয়েছেন অনেকবার। অবশ্য কেউ কেউ বলেন তিনি নাকি আলোচিত হতে ইচ্ছা করেই গ্রেপ্তার হন। এর বিপরীতে মত আছে কামাল অনুসারীদের।



তবে আমার মতে এটিএম কামাল একজন পরিশ্রমী রাজনীতিক। নানা গুনের জন্য আমি তাকে শ্রদ্ধা করি বটে।



এটিএম কামালের আরো একটি পরিচয় তিনি পরিবেশবাদী সংগঠন নির্ভীক এর প্রধান সমন্বয়ক। বিভিন্ন সময়ে পরিবেশ রক্ষায় তার ভিন্নমূখী কর্মসূচী অনেকে দেখতে পায়। ক’দিন আগে নদী বাঁচাতে তার আকুতি আমার নজরে পড়েছে। নদী বাঁচলে আমাদের জন্য মঙ্গল। যেভাবে নদীখেকোরা নদীর বারটা বাজাচ্ছে তা সত্যিই নিন্দনীয়। তাই নদী বাঁচানোর ডাক গ্রহনযোগ্য। সেই সাথে পরিবেশ রক্ষায় গাছ বাঁচানোও জরুরী বলে আমি মনে করি।



সা¤প্রতিক সময়ে এটিএম কামালের দল ও জোটের ডাকা হরতাল, অবরোধসহ নানা রাজনৈতিক কর্মকান্ডের সময়ে নির্দয়ের মত গাছ নিধন করা হয়েছে। টেলিভিশন পর্দায় এ দৃশ্য আমার মত অনেকেই অসহায়ের মত অবলোকন করেছে। আমি বলছি না তার দল বা দলের নেতাকর্মীরই এ কাজ করেছে। তবে আন্দোলনের সময়ই তা হয়েছে। পরিবেশবাদি সংগঠন পবা’র মতে, ওই ১০ মাসে রাজনৈতিক সহিংসতায় ৬৫ হাজার গাছ নিধন করা হয়েছে। যার বর্তমান আর্থিক মূল্য (শুধু কাঠের দাম) ৩৫ কোটি টাকা। '



গাছ সম্বন্ধে পবিত্র আল কোরআন এ সুরা আল-হাজ্ব এর ১৮ নং আয়াতে বর্ণিত আছে “ তুমি কি দেখ না যে আল্লাহকে সিজদা করে যা কিছু মহাকাশ ও পৃথিবীতে রয়েছে; সূর্য, চন্দ্র, নক্ষত্রমন্ডলী, পর্বতরাজি, বৃক্ষলতা, জীব-জন্তু ও মানুষের মধ্যে অনেকে ”।



এক যুদ্ধে রওনা হবার প্রাক্কালে হযরত মুহাম্মদ (সা<img src=" style="border:0;" /> তাঁর বাহিনীকে নির্দেশ দেন ... আর কোনো গাছ উপড়াবে না, কোনো খেজুর গাছ জ্বালিয়ে দেবে না। আর কোনো গৃহও ধ্বংস করবে না। ( মুসলিম : ১৭৩১ )



ব্রহ্মবৈবর্তপুরাণে তুলসী গাছকে সীতাস্বরূপা ,স্কন্দপুরাণে লক্ষীস্বরূপা, চর্কসংহিতায় বিষ্ণুর ন্যায় ভুমি, পরিবেশ ও আমাদের রক্ষাকারী বলে বিষ্ণুপ্রিয়া ,ঋকবেদে কল্যাণী বলা হয়েছে । স্বয়ং ভগবান বিষ্ণু তুলসী দেবীকে পবিত্রা বৃন্দা বলে আখ্যায়িত করে এর সেবা করতে বলেছেন।



অনলাইন পোর্টাল নিউজ নারায়ণগঞ্জ পরিবার ও জেলা ফটো জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন এর ফ্যামেলী ডে’ তে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সাধারন সম্পাদক এটিএম কামালের সাথে এ বিষয়ে আমার আলাপ হয়। তখন আমার পাশে ছিলেন ফতুল্লা রিপোর্টার্স ক্লাব সভাপতি রনজিৎ মোদক ও সাধারন সম্পাদক কাজী আনিসুর রহমান। এটিএম কামাল বলেছিলেন, ‘গণতন্ত্র রক্ষায় দেশের মানুষের মঙ্গলের জন্য অনেক কিছুই করতে হয়’। তার এই বক্তব্য শুনে আমার মনে হয়েছে তিনি গাছ কাটার পক্ষে সাফাই গেয়েছেন। দলীয় কর্মকান্ডে এক রকম পরিবেশবাদি হিসেবে আরেক রকম এটিএম কামালকে আমার পছন্দ নয়।



এ যেন বিখ্যাত কন্ঠ শিল্পী আব্দুল আলীমের সেই বিখ্যাত গানের কলি ----- তুমি সর্প হয়ে দংশন কর- ওঝাঁ হয়ে ঝাড়.............।









]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/anwarhasan/29935308 http://www.somewhereinblog.net/blog/anwarhasan/29935308 2014-03-24 21:09:44
এক নারীর শত্র“ আরেক নারী



স্ত্রী মারা যাওয়ার পর হালিম মিয়া ২য় বিয়ে করেন। আগের ঘরের এক ছেলে ও এক মেয়ের দায়িত্ব পড়ে নতুন বউয়ের কাঁধে। ছেলেটিকে সহ্য করতে পারলেও মেয়েটিকে মানতেই পারে না সৎ মা। তার ধারনা, মেয়েটি তাদের বোঝা। ওকে বিয়ে দিতে অনেক টাকা লাগবে। তাই পড়শীদের কাছে বলে বেড়ান, সতীন নেই তবে সতীনের পিঁড়ি আছে। বছর ঘুরতেই তার জন্ম নেয় তার নিজের কণ্যা সন্তান। এতে খুশী না হয়ে ছেলের আশায় পর পর তিনটি কণ্যা জন্ম নেয় তার ঘরে।



এসএসসি পাশ করার পরই মেয়েকে বিয়ে দিয়ে তৃপ্তির হাসি হাসেন হাসেম মিয়া। যেন মাথা থেকে একটা বোঝা কমল। নতুন ঠিকানায় স্বামীর সোহাগ, শশুরের স্নেহ, দেবরের ভালবাসার কোন ঘাটতি নেই মেয়েটির কপালে। তবে শাশুড়ি ও ননাস যেন একটু ভিন্ন চরিত্রের। পান থেকে চুন খসলেই কয়েক মিনিটের একটা ভাষন না শুনিয়ে ছাড়েন না শাশুড়ি মাতা। ভাষনের সিংহভাগ জুড়ে থাকে পুত্রবধুর মায়ের বদনাম। ‘ কেমন মা যে মেয়েকে সংসারের কোন কাজ শেখায় নাই’ কিংবা ‘ মা’র কোলে বসে বসে শুধু গিলেছে’ এমন কত কথা। মাঝে মধ্যে স্বামীর বড় বোন এসে বলে ‘ আমরা শাশুড়ির কত সেবা করি আর তোমার পুত্র বধু দেখ শুধু তার স্বামীকে নিয়ে ব্যস্ত থাকে। তোমাকে নিয়ে ভাবার সময় কই তার ’।



সেদিন এক বন্ধু বলল- তার স্ত্রীকে পাশের বাসার এক ভাবী বুদ্ধি দিয়েছে তাদের হাই স্কুল পড়–য়া মেয়েকে যেন দুধ ডিম না খাওয়ানো হয়। এসব খাওয়ালে নাকি তাড়াতাড়ি যৌবন এসে যাবে- এতে সমস্যা বাড়বে। ওই ভাবীর মতে, দুধ ডিম জাতীয় পুষ্টিকর খাওয়া নাকি শুধু ছেলেদের জন্য।



আমার ছোট বোনের প্রথম সন্তান কণ্যা হলে তার শাশুড়ি, ননাস-ননদ বেজায় রাগ করেছিল। যেন কণ্যা জন্ম দেয়ার সব অপরাধ আমার বোনের। সমাজের অভিশাপ যৌতুক সংক্রান্ত ঘটনা গুলো পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, অধিকাংশ ক্ষেত্রে ছেলের মা ই যৌতুক নিতে আগ্রহী থাকে। কোন কোন ক্ষেত্রে অবশ্য পুরুষেরও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়।



পাঠক, এ লেখা পড়ে কারো মনে হতে পারে আমি নারী বিদ্বেষী। মোটেই নয়। আমি শুধু বলতে চাইছি এ সমাজে অধিকাংশ ক্ষেত্রে নারীদের শত্র“ নারীরাই। একজন নারী শশুড় বাড়িতে স্বামী শশুড় দেবরের ভালবাসা পেলেও শাশুড়ির মন পাওয়া খুব দায়। নারী গৃহকর্মী নির্যাতনের ঘটনাগুলোতে বেশীরভাগ সময়ে নির্যাতনকারী নারীই থাকে। কর্মস্থলে সহকর্মীর পুরুষের সাথে সম্পর্ক ভাল থাকলেও সহকর্মী নারীর সাথে মনের মিল হয় খুব কম। এ বিষয়টি বাংলাদেশের রাজনীতির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। দেশের প্রধান দু’টি দলের প্রধান দুইজন নারী থাকলেও তাদের মধ্যে দেখা সাক্ষাৎ কথাবার্তার বিষয়টি পূর্ণিমার চাঁদকেও হার মানায়।



৮ মার্চ ঘটা করে পালিত হল আন্তর্জাতিক নারী দিবস। সব ধরনের মিডিয়া এ নিয়ে বেশ সরব ছিল। ৯ মার্চ দৈনিক আমাদের সময় এর শেষ পৃষ্ঠার একটি ছবিতে দেখলাম মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নারীদের হস্তশিল্প প্রদর্শনীর বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করছেন। এর ঠিক পাশে এক কলামের নিউজের হেড লাইন ‘ নারী দিবসে প্রধানমন্ত্রী- ধর্মের নামে নারীকে গৃহবন্দী রাখা যাবে না’। তার এ কথায় আমি পুলকিত হই।



তবে একই পত্রিকায় অন্য একটি দেখে বিষ্মিত হলাম। ছবিতে দেখা যায় বিএনপির নয়া পল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের প্রবেশধারের কলাপসিবল গেইটের ভিতর এক রঙা শাড়ি পড়া কিছু নারীর মুখ। তাদের সামনে গেইটের বাইরে দাঁড়িয়ে নারী পুলিশ সদস্যরা। ক্যাপশান পড়ে জানা গেল ‘ আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে জাতীয়তাবাদি মহিলা দল নেতাকর্মীরা র‌্যালি বের করতে চাইলে তাদের অবরুদ্ধ করে রাখে পুলিশ।



প্রধানমন্ত্রী বলছেন নারীকে গৃহবন্দী রাখা যাবে না। আবার তার সরকারের আমলেই অন্য দলের নারী নেত্রীদের অবরুদ্ধ করে রেখেছে নারী পুলিশ। তাও আন্তর্জাতিক নারী দিবসে।



আমি জানি না পুলিশের এক কর্মে সরকারের সায় আছে কি না। তবে এইটুকু বুঝি নারী দিবসে অন্তত এটা না করলে মহা ভারত অশুদ্ধ হত না।









]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/anwarhasan/29931167 http://www.somewhereinblog.net/blog/anwarhasan/29931167 2014-03-09 19:20:50
ফতুল্লায় অন্য রকম এক নির্বাচন


সকাল ৮ টা থেকেই মাঠে লম্বা লাইন ভোটারদের। উৎসাহের বিন্দুমাত্র কমতি নেই তাদের মধ্যে। রশিতে সাঁটানো হয়েছে নির্বাচনী প্রচারনা পোস্টার। নির্বাচন কমিশনার, প্রিজাইডিং অফিসার, পোলিং অফিসার, প্রার্থীর এজেন্ট সবাই যার যার দায়িত্ব পালন করছেন নির্বিঘে। সব কিছু ঠিকঠাক রাখতে গেইট, মাঠ ও ভোটদান কক্ষে আছে পুলিশ ! জাল ভোট, ভোটারদের প্রলোভনসহ কোন ধরনের অনৈতিক কাজে জড়িত নয় কেউ। অমুক প্রার্থী ঋণখেলাপী, তমুক আয়কর ফাঁকি দিয়েছে এমন অভিযোগও নেই প্রতিদ্বন্ধী কোন প্রার্থীর। মোদ্দা কথায়, একটি সুন্দর ভোট যুদ্ধের চিত্র দেখা গেল গতকাল সোমবার।



তবে এটা কোন জাতীয় বা আঞ্চলিক নির্বাচন নয়। নারায়ণগঞ্জের ৭৩ নং ফতুল্লা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্টুডেন্টস কাউন্সিল নির্বাচন।

স্কুল কর্তৃপক্ষ জানায়, গত বছর থেকে এ স্কুলে স্টুডেন্ট কাউন্সিল নির্বাচন হচ্ছে। এবার ৬২৫ জন ভোটারের মধ্যে ৪৯৫ জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করে। সকাল ৮ টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত চলে ভোটগ্রহণ। প্রথম থেকে ৫ম শ্রেনী পর্যন্ত ৫টি পদের বিপরীতে ৯ জন প্রার্থী ছিলেন।



পরে ভোট গণনা শেষে বিজয়ী হন প্রথম শ্রেনীতে আইভি আক্তার, ২য় শ্রেনীতে মোবাঈদউল¬াহ, ৩য় শ্রেনীতে মো. বাপ্পি, ৪র্থ শ্রেনীতে মাহিদুল ইসলাম ও ৫ম শ্রেনীতে মো. তৌহিদ। ফল শুনে পরাজিত প্রার্থীরা রাজনৈতিক দলগুলোর মত কোনরকম নেতিবাচক অভিযোগ তুলেনি। বরং আগামীর জয়ের প্রত্যাশায় হাঁসিমুখেই তা মেনে নিয়েছে ৪ ক্ষুদে প্রার্থী ৩য় শ্রেনীর মাজহারুল ও মাছুম, ৪র্থ শ্রেনীর শান্তা আক্তার এবং ৫ম শ্রেনীর স্বপ্না আক্তার।



সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, নির্বাচনের সব দায়িত্ব পালন করেছে স্কুলের শিক্ষার্থীরাই। নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব পালন করেছে ৫ম শ্রেনীর মাহিয়া মোসারত আর প্রিজাইডিং অফিসার ছিলেন একই শ্রেনীর রপন্তী ইসলাম। এই ক্লাশেরই সাবির মোহাম্মদ সাদ ও নিশাত হাসান নিয়ম ছিলেন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার।



স্টুডেন্ট কাউন্সিল নির্বাচন-২০১৪ দেখতে গতকাল ফতুল্লা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আসেন সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. নূরুল হাসান ও ফতুল্লা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান খন্দকার লুৎফর রহমান স্বপন।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ফতুল্লা রিপোর্টার্স ক্লাব সাধারন সম্পাদক কাজী আনিসুর রহমান, রাজনীতিক খন্দকার হুমায়ুন কবীর, একরামুল কবীর মামুন, স্কুল পরিচালনা কমিটির সহ সভাপতি নিয়াজ মো. চৌধুরী, সদস্য মীর ফয়সাল আলী,সালাহউদ্দিন সরকার মুক্তি, বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষিকাসহ সমাজের বিভিন্ন স্তরের ব্যক্তিবর্গ।



সুন্দর পরিবেশের এ নির্বাচন দেখে উপস্থিত অনেকে মন্তব্য করেন, এভাবে যদি সব নির্বাচন হত।

কেউবা স্মৃতি হাতড়ে বলেন, এক সময় ঢাকসু, সরকারি তোলারাম কলেজ ছাত্রছাত্রী সংসদসহ দেশের সবক’টি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে নির্বাচন হত আনন্দমুখর পরিবেশে। অনেক দিন হল এসব নির্বাচন বন্ধ। এ সময় কেউ কেউ বলে উঠে, ছোটদের দেখে এবার যদি তারা শিখে।





]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/anwarhasan/29927823 http://www.somewhereinblog.net/blog/anwarhasan/29927823 2014-02-25 11:49:01
পুলিশ আহত হলে মামলা,পাবলিক নিহত হলেও আপোষ



সড়ক দুর্ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার পরিদর্শক (ডিআইও ১ ) মঈনুর রহমান আহত হওয়ার ঘটনায় ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা দায়ের করেছেন এসআই মাজহারুল ইসলাম। এ মামলায় গ্রেপ্তারকৃত বিআরটিসি বাসের চালক মাহবুব আলম বাবুলকে আসামী করা হয়। শনিবার রাত সাড়ে ৮ টায় ঢাকা নারায়নগঞ্জ লিংক রোডের খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামের সামনে দুর্ঘটনার পর বাসটিও আটক করা হয়। সা¤প্রতিককালে সড়ক দুর্ঘটনা বেড়ে যাওয়ার জন্য সচেতন মহল গাড়ি চালকদের বেপরোয়া আচরণকে দায়ী করে আসছে। তাদের মতে, সব ঘটনায় মামলা হলে দুর্ঘটনা হ্রাস পেত। তবে অধিকাংশ সড়ক দুর্ঘটনায় মামলার পরিবর্তে দুই পক্ষের মধ্যে আপোষ হয়ে যায়। এতে মুখ্য ভূমিকা পালন করে পূলিশই।

গত ২৫ জানুয়ারি বিকেল ৫ টায় ফতুল্লার শিবু মার্কেট এলাকায় ট্রাকের চাপায় নিহত হয় ৪ বছরের সিনথী সরকার। পুলিশের মধ্যস্থতায় ট্রাক মালিকের কাছ থেকে ক্ষতিপূরন পাওয়ার আশায় নিহতের মা বিধবা কল্পনা সরকার থানায় ওই দিন কোন মামলা করেনি। দুর্ঘটনার সময় আটক ট্রাক (চট্র মেট্রো ড ১-১১৯০) ট্রাকটিও ছেড়ে দেয় পুলিশ। তবে শেষ পর্যন্ত জরিমানার টাকা না দেয়ায় ২৭ জানুয়ারি ফতুল্লা মডেল থানায় শিশুটির মা বাদি হয়ে মামলা করেন। মামলা নং- ৭১ (১)১৪। ভুক্তভোগী জানায়, সড়ক দুর্ঘটনার পর পুলিশও ট্রাক মালিকের পক্ষ নেয়। অবশেষে উপায় না দেখে ৪০ হাজার টাকা পাওয়ার আশায় মামলা থেকে বিরত থাকেন কল্পনা। তবে শেষ পর্যন্ত সেই টাকা না পেয়ে মামলা করেন। ২ বছর আগে দুই কণ্যা সন্তান রেখে কল্পনার স্বামী মারা যায়। সে ভাড়া বাসায় থেকে গার্মেন্টে চাকুরী করে সংসার চালাত। সচেতন মহলের মতে, এরকম অনেক সড়ক দুর্ঘটনায় থানা পুলিশ মামলা না নিয়ে বাদিকে আপোষ করতে চাপ দেয়। পুলিশ ও পরিবহণ মালিক নেতাদের চাপে শেষ পর্যন্ত স্বজনের লাশের পরিবর্তে টাকা নেয়াকেই শ্রেয় মনে করে কেউ কেউ। আর মামলা না হওয়ায় পরবর্তিতে আরো বেপরোয়া হয়ে যায় পরিবহণ চালকরা। অনেকের মতে, মামলায় তেমন কিছু না হলেও কিছু দিন জেল খাটলেও ও মাসে মাসে হাজিরা দিলে কিছুটা হলেও নিজেদের শোধরে নিতো তারা। টাকা দিয়ে পার পেয়ে যাওয়ায় নিজেদের মধ্যে কোন প্রকার অনুশোচনা আসে না তাদের মধ্যে। একজন পুলিশ কর্মকর্তার আহত হওয়ার ঘটনায় মামলা হওয়ায় অনেকেই আশাবাদি হয়ে উঠেছেন। ভবিষ্যতে সড়ক দুর্ঘটনায় থানা পুলিশ মামলা নিবে আপোষ করবে না।



]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/anwarhasan/29923485 http://www.somewhereinblog.net/blog/anwarhasan/29923485 2014-02-09 21:01:00
সূচিত্রা সেনের কিছু ফটো































































































]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/anwarhasan/29917671 http://www.somewhereinblog.net/blog/anwarhasan/29917671 2014-01-19 18:09:20
মাদক দ্রব নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তর এসআই আয়াত আলীর ফতুল্লাতেই চার বাড়ি






নারায়ণগঞ্জ জেলা মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরে বেশ কয়েক বছর ধরে উপ পরিদর্শক ( এসআই ) হিসেবে কাজ করছে আয়াত আলী। মাদক নিয়ন্ত্রনে তেমন সফলতা না পেলেও অর্থে বিত্তে ফুলে ফেঁপে উঠেছেন তিনি। ফতুল্লায়ই ৪ টি বহুতল বাড়ি রয়েছে এ সরকারি চাকুরের।



অভিযোগ রয়েছে, তার সাথে মাদক বিক্রেতাদের নিয়মিত যোগাযোগ হয়। সপ্তাহে, মাসে মাদক বিক্রেতাদের কাছ থেকে অর্থ গ্রহন করেন তিনি। মাঝে মধ্যে মোবাইল রিচার্জও হয় মাদক বিক্রেতাদের টাকায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আয়াত আলীর গ্রামের বাড়ি কুমিল্লায়। তবে অনেক দিন ধরে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলায় বাস তার।

ফতুল্লার দাপা ইদ্রাকপুর জোড়া পুল এলাকায় ৫ তলা ফাউন্ডেশন দিয়ে তৈরী দোতলা বাড়িতে থাকেন তিনি। এ বাড়িতে তার প্রথম স্ত্রী ও তার ঘরের সন্তানরা থাকে।

দাপা ইদ্রাকপুরের বেপারী পাড়ার আবুল সরকার বয়াতীর বাড়ির পাশে তার একটি ৪ তলা বাড়ি আছে।

একই এলাকার ইদ্রিস মেম্বারের বাড়ির পাশে রয়েছে আয়াত আলীর দোতলা ভবন। ফতুল্লার কুতুবপুর ইউনিয়নের সেহারচর লালখাঁ এলাকার অপর বাড়িতে থাকে তার ২য় স্ত্রী।



তার পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রথম স্ত্রীর ঘরে দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। ২য় স্ত্রীর ঘরে দুই মেয়ে ও এক ছেলে। সূত্রে জানা গেছে, ফতুল্লার বিভিন্ন এলাকার মাদক বিক্রেতাদের সাথে যোগাযোগ রয়েছে আয়াত আলীর। কোন কোন মাদক বিক্রেতার কাছ থেকে সপ্তাহে আবার কারো কাছে মাসে টাকা নেন তিনি। এর বিনিময়ে নির্বিঘেœ মাদক বিক্রি করতে দেয়ার আশ্বাস দেয়া মাদক বিক্রেতাদের।





পিতা মাদক নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরে চাকরী করলেও বড় ছেলে বাবু মাদকের সাথেই বন্ধুত্ব করেছে। বাবুকে পড়াশুনার জন্য ঢাকার একটি হোস্টেলে দিয়ে তার পিছনে অঢেল খরচ করলেও লাভের লাভ কিছুই হয়নি। ক্লাশ নাইন পর্যন্ত লেখাপড়া করে বখাটে হয়ে যায় বাবু। এখন তার কাজ মাদক সেবন আর এলাকার মাদক বিক্রেতাদের সাথে সখ্যতা রাখা। এ কাজ করতে একটি প্রাইভেটকার ব্যবহার করে সে।

ছোট ছেলে তুহিন ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিবিএ পড়ে। প্রতি মাসের অবৈধ অঢেল আয় থেকেই এসব ব্যয় মিটান মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরে কর্মরত আয়াত আলী।

Click This Link



]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/anwarhasan/29913292 http://www.somewhereinblog.net/blog/anwarhasan/29913292 2014-01-05 18:32:24
এক বছর ধরে টিভি দেখতে পারেন না অভিনেত্রী রাণী সরকার




বাবা মায়ের দেয়া নাম ছিল মোসাম্মত আমিরুন নেসা খানম। চলচ্চিত্র পরিচালক মোস্তাফিজ তার নাম দেন রাণী সরকার। ১৯৬২ সালে ‘ চান্দা’ সিনেমা দিয়ে চলচ্চিত্র জীবন শুরু তার। এরপর তালাশ, বন্ধন, তিতাস একটি নদীর নাম, দেবদাস কত ছবিতেই না অভিনয় করেছেন তিনি।



ফ্লিমের মন্দ চরিত্রে অভিনয় করা এই শিল্পী ব্যক্তি জীবনে খুব সরল মানুষ। নিজের মা ও স্বজনদের কথা ভেবে বিয়ে করেননি তিনি। জন্ম সাতক্ষিরায় হলেও অনেক দিন ধরেই বাস ঢাকায়। শেষ জীবনে যখন তিনি নিজের পেট চালাতে পারেন না তখনো মৃত এক ভাইয়ের স্ত্রী, সন্তানদের আগলে রেখেছেন তিনি। মোহাম্মদপুরের ভাড়া বাসায় তার সাথে আছেন আরো এক ছোট ভাই।

রঙহীন, প্লাস্টার খসে যাওয়া বাসায় বাস সাদা কালো যুগের এক সময়কার দাপুটে অভিনেত্রী রাণী সরকারের। এখন আর সিনেমায় ডাকা হয় না তকে। শরীরে নানা রোগ বাঁধায় ঘর থেকেই বের হতে পারেন না তিনি। চ্যানেল আইয়ের ফরিদুর রেজা সাগর, ম্যাগাজিন পত্রিকা অনন্যার দেয়া মাসিক অনুদানে সংসার চলে তার।



জীবনের এই পর্যায়ে এসে কারো সম্বন্ধে কোন অভিযোগ নেই অভিনয়ের ‘রাণী’ এক সময়কার ঢাকাইয়া চলচ্চিত্রের ‘প্যাথোজ কুইন’ খ্যাত রাণী সরকারের। শুধু আবেদন, পাশ্ববর্তী দেশে লাঠি হাতেও অভিনয় করে চলছেন কত বয়োবৃদ্ধ অভিনয় শিল্পী। আর আমাদের দেশে বয়স হলেই তার দিকে তাকান না নির্মাতারা।

অভিনয় জগতের মানুষ রাণী সরকার এখন টিভি, সিনেমা দেখেন না। তবে তা রাগ করে নয়। বরং বলা চলে তিনি দেখতে পান না। কঠিন হলেও সত্যি এই অভিনেত্রীর ঘরে একটি টেলিভিশন নেই। গত এক বছর যাবত তার পুরনো টিভিটা নষ্ট হয়ে আছে। যা মেরামত করার মত অর্থ নেই তার। মোটা কাপড় , ভাত যোগাতেই তার ত্রাহি অবস্থ। তাই টিভি দেখার বিলাস জন্মায় টিভি, মঞ্চ ও চলচ্চিত্র অভিনেত্রী রাণী সরকারের।





সিনেমায় যখন নারী শিল্পীর অভিনয় ছিল দূরহ ব্যাপার তখন এই রাণী সরকাররাই সাহস করে এগিয়ে এসেছিলেন। তাদের হাত ধরেই এত সমৃদ্ধি পেয়েছে বাংলা চলচ্চিত্র। এখন রঙীন জগতের শিল্পীরা কি সাদা কালো যুগের এই শিল্পীদের সাহায্যে এগিয়ে আসতে পারে না। সরকারও তো কম ট্যাক্স পায় না এ খাত থেকে। যার কিছুটা শিল্পীদের কল্যাণে কি ব্যয় করা যায় না। এ প্রশ্ন অসংখ্য বাংলা চলচ্চিত্র দর্শকদের।



]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/anwarhasan/29912270 http://www.somewhereinblog.net/blog/anwarhasan/29912270 2014-01-02 15:08:10
শয়তানের রাজা চিন্তিত !




রাত তখন ১১ টা। শয়তান রাজ্যের প্রধান কয়েকজন উপদেষ্টা নিয়ে সাধারন শয়তানদের আবাসস্থল ঘুরে দেখছেন। বেশীর ভাগ কক্ষ খালি থাকলেও কয়েকটি কক্ষে কয়েকজনকে ঘুমিয়ে থাকতে দেখে গর্জে উঠে শয়তানের রাজা। হুংকার দিয়ে বলে, মন্ত্রী রাত হল এত, ঘুমায় এরা কত। কে আছিস ওদের কর আটক, ধরে নিয়ে খোল ফটক। কাল দুপুর গড়িয়ে বিকেলে, ওদের বিচার হবে দে বলে।



পরের দিন দুপুর গড়িয়ে বিকেল ছুঁই ছুঁই করছে। একটি বিশাল মাঠে শত শত শয়তান একত্রিত হয়েছে। এক পাশে কয়েকজনকে বেঁধে রাখা হয়েছে। রাজকীয় একটি চেয়ারে বসে আছে শয়তান প্রধান। তার পরনে আজ গোলাপী রঙ্গের সুতি কাপড়ের সাফারি।

বেশ রাগের সাথে তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, এই বন্দী শয়তানের দল, কাজের সময় ঘুমিয়ে ছিলে কেন- বল। তোমরা যদি থাক ঘুমিয়ে, মানুষকে কু মন্ত্র দেবে কে গিয়ে?

বন্দী শয়তানরা রাজার হুংকারে চুপসে গেছে। তারা কোন কথা বলল না। আর তারা জানে কথা বলে লাভ নেই। কেননা শয়তানের রাজ্যে রাজা যা বলে তাই আইন। এখানে অন্যদের কোন মত নেই।



রাজা আবার বলে উঠল শোন বন্দীরা, তোমাদেরকে শাস্তি হবে উচ্চতক, খুঁজে বের করিব তন্ত্রমন্ত্রক। বোতলে ভরিবে তারা , বায়ু থেকে দূরে থাকিবে তোমরা।

এবার কেঁদে উঠল বন্দীরা। তার আঁকুতি করে বলে উঠল- রাজা মশাই করিব আপনাকে সন্তুষ্ট, দিবেন না এই কষ্ট। তাদের কান্না দেখে স্বজনরা কেঁদে উঠল।

এ দেখে কিছুটা বিব্রতবোধ করল শয়তান প্রধান। কিছুক্ষন ভেবে তিনি বলে উঠলেন, আমি কিছুটা গোয়াঁড় ,তাই তোমাদেরকে দিব ক্রসফায়ার।



এবার আরো জোরে কাঁদতে শুরু করলো বন্দী ও তাদের স্বজনরা। তা দেখে শয়তান প্রধান তার এক উপদেষ্টার সাথে কথা বলল। তিনি চুপিচাপি বললেন, রাজা মশাই প্রয়োজন কি বলার, হয়ে যাবে গুম, ডাকেন কিলার। রাজা মাথা নাড়লেন। হু উত্তম বুদ্ধি।

এরই মধ্যে সাধারন শয়তানদের মাঝে গুঞ্জন শুরু হয়ে গেছে। রাজা ধমক দিলেও গুঞ্জন পুরোপুরি থামল না। একজন হাত তুল কথা বলার অনুমতি চাইল। রাজা প্রশ্ন করল তুমি কে হে ?

হাত উত্তলনকারী বলল, আমি শয়তান অধিকার ফোরামের নেতা, আমার আছে কতক কথা। শয়তান প্রধান বলল- বেশ বল যথা।

ওই নেতা বলল, রাজা মশাই করেন বিচার , মান যেন হয় ইন্টার ন্যাশনাল।

রাজা বলল, পরিস্কার করিয়া বল, ইংরেজি কইয়া কর কেন ভ্যাজাল।

নেতা বলল, আটকদের মনে আছে ব্যাথা, আপনি শুনুন তাদের কথা।

শয়তান প্রধান বলল, আহা বেশ বেশ বেশ। বন্দীদের দিকে তাকিয়ে বলল, অনুমতি দিলাম, শুনাও তোমাদের কথা অশেষ।



এবার বন্দীদের একজন বলল, রাজা মশাই সেদিন রাতে ছিল না কোন কাম, তাই সকলে মিলিয়া ঘুমালাম।

রাজা ক্ষেপে গেলেন। কি কহিলা কথা, পাইলাম মনে ব্যথা। কাম নাই শয়তানের, তবে কি মানুষ হয়ে গেল সব সত্যের ?

বন্দী বলল, বাংলাদেশে আমাদের ডিউটি, দেশটা খুব বিউটি।



রাজা বলল, বল পুরোটা , কর কেন কুটিকুটি ? তুমি কাছে আসিয়া বহ, সব কথা একাধারে কহ।



বন্দী শয়তানটি কাছে গিয়ে তাদের রাজাকে যা বলল তার সারমর্ম হল, বাংলাদেশের এতদিন তারা খুব ভাল করেই ডিউটি করছিল। সব কাজেই শয়তানের উপস্থিতি ছিল। যেমন সরকারি অফিসে ঘুষ, খাদ্যে ভেজাল, বড় বড় রাজনীতিকদের কালো বিড়াল বানানো, বিদেশে দেশের টাকা পাচার এসব শয়তানি চলছেই। এর মধ্যে ওই দেশে এখন কিছু মানুষ শয়তান হয়ে গেছে। তারা দেশটাকে শয়তানের আখড়ায় পরিণত করেছে। ওরা যানবাহনে , মানুষের শরীরে আগুন দিচ্ছে। রেল লাইন তুলে ফেলছে। ককটেল নিক্ষেপ করে মানুষ মারছে। ওদের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না শিশু, নারী, বৃদ্ধ কিংবা যুবক। এ নিয়ে প্রধান দুই রাজনৈতিক দল পরষ্পরকে দোষারোপ করছে। এতে পরিস্কার যে, তাদের মধ্যেও কেউ মিথ্যা কথা বলছে। অর্থাৎ সব ক্ষেত্রে শয়তান সফল। এসব দেখে বাংলাদেশের শয়তানের ইনচার্জ মত পরিবর্তন করে অধিকাংশ শয়তানকে বিশ্রামে পাঠিয়েছে। তবে রাজা যখন বিচারের আয়োজন করেছে তখন শয়তানের ওই ইনচার্জ তার অবস্থান পরিবর্তন করে রাজার পক্ষ নিয়েছে। শয়তানরা তাদের রাজাকে জানাল , বাংলাদেশের এক পার্টির প্রধান নাকি ক্ষনে ক্ষনে মত পাল্টায়







সব শুনে রাজা বলল, কিছু মানুষ হয়ে গেছে শয়তান, রবে কি আর ওই দেশ ফুল স্থান ? তবে আমি চিন্তিত অলস হয়ে যাচ্ছ তোমরা, এতে করে শয়তানি থেকে সরে যাব আমরা।

কিছুক্ষন চুপ থেকে খানিক বাদে রাজা বলল, বিচার এখানেই ক্ষান্ত, আমি বড় ক্লান্ত। নেক্সট আই থিংক, বের করব নতুন লিংক।



( বি.দ্র.- শয়তান গ্রীক শব্দ। ইসলাম ধর্মে শয়তানকে ইবলিশ বলা হয়। মহান আল¬াহ ও মানুষের মাঝে বিদ্যমান সম্পর্কের ফাটল ধরাতে বিরামহীন কাজ করে শয়তান। )







]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/anwarhasan/29909424 http://www.somewhereinblog.net/blog/anwarhasan/29909424 2013-12-24 19:20:39
দোস্ত তুমি একটা এরশাদ



৬ ডিসেম্বর দুপুর বারটায় জরুরী কাজে শাহিন সারোয়ারকে সাথে নিয়ে চট্রগ্রামের উদ্দেশ্যে ঢাকার সায়েদাবাদ থেকে বাসে রওয়ানা দিয়ে পরের দিন সকাল ১০ টায় পৌছি। পুরো সপ্তাহ অবরোধ থাকায় শুক্রবার স্মরনকালের ভয়াবহ যানজট ছিল এ মহা সড়কে। দীর্ঘ বাস যাত্রায় ক্লান্ত- বিরক্ত যাত্রীদের নানা কথা শুনেছি। এর মধ্যে এক যুবকের একটি কথা শুনে প্রাণ খুলে হেসেছে অনেকেই। যুবকটি মোবাইলে তার বন্ধুর সাথে দীর্ঘ তর্কের পর শেষতক বলে ‘ দোস্ত তুমি একটা.....



১৭৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধে নবাব সিরাজউদ্দৌল্লার প্রধান সেনাপতি মীর জাফর আলী খাঁ চুপচাপ দাঁড়িয়ে ছিলেন। ইংরেজদের পক্ষে তিনি ছিলেন নীরব পুতুল। তার এ ভূমিকার জন্যই প্রায় পৌণে ২ শ’ বছর বাংলা তথা এ উপমহাদেশের স্বাধীনতার সুর্য উদয় হয়নি। পলাশীর এ ঘটনার পর থেকেই এ উপমহাদেশে কেউ সন্তানের নাম মীর জাফর রাখে না। বরং কোন মানুষ যদি কারো সাথে বেঈমানী করে তাকে ‘মীর জাফর’ বলে গালি দেয়া হয়।



দ্বীতিয় বিশ্বযুদ্ধের পর জার্মানীর এডলফ হিটলার বিশ্ববাসীর কাছে একজন ভিলেন রুপে পরিচিত হন। আমাদের দেশে কেউ নিজ স্বার্থে অন্য কাউকে বেশী মাত্রায় ঘায়েল করলে তাকে বলা হয় ‘ লোকটা একটা হিটলার’।



১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় আমেরিকা ছিল পাকিস্তানের পক্ষে। ওই দেশের পররাস্ত্র মন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার বাংলাদেশের স্বাধীনতা রুখতে নানা অপতৎপরতা চালিয়ে ছিলেন বলে জনশ্র“তি রয়েছে। তিনি নিজ দেশের স্বার্থে বিভিন্ন দেশের পররাস্ত্র নীতিতে অনধিকার প্রবেশ করেছেন। কুটচালে তিনি সিদ্ধহস্ত ছিলেন বলে শোনা যায়। এ কারনে বাংলাদেশে কেউ বেশী রকম কুটচাল করলে তাকে বলা হয় ‘ লোকটা একটা কিসিঞ্জার।



মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানে ছিলেন হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ। পরে তিনি দেশে ফিরে এক পর্যায়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান হন। বিচারপতি আব্দুস সাত্তার সরকারকে হটিয়ে প্রথমে সামারিক আইন পরে দল গঠন করে রাজনীতিক রুপে আবির্ভুত হন এরশাদ। দীর্ঘ নয় বছর ক্ষমতায় থাকার পর আসম রবের জাসদের মতো দুই একটি ছাড়া দেশের প্রায় সব রাজনৈতিক দলের আন্দোলনের মুখে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর পতন হয় এই স্বৈরাচারের। এরপর দেশে চালু হয় সংসদীয় গণতন্ত্র প্রথা।

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এরশাদ একেক সময় একেক কথা বলে ইতিমধ্যে সারা দেশে আলোচিত হয়েছেন। বিশেষ করে ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়ার ব্যাপারে তার নানা রুপ প্রকাশ পেয়েছে। যার কারনে অনেকের কাছে হাস্যকর পাত্র হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন সাবেক এই সেনা শাসক।

সেদিন বাসে ওই যুবকটি তার বন্ধুর সাথে মোবাইলে খুব রাগাম্বিত স্বরে কথা বলছিল। পরে তার সাথে কথা বলে জানতে পারি বন্ধুর সাথে পার্টনারে তার ব্যবসা। ব্যবসা নিয়ে নানা রকম ছল চাতুরি করেছে সে। এক এক সময় এক এক রকম কথা বলেছে। উদ্দেশ্য বন্ধুকে ঠকানো। তাই রাগের চোটে বন্ধুকে সে বলেছে, ‘দোস্ত তুমি একটা খাঁটি এরশাদ’।



বার বার অবস্থান পরিবর্তন ও রঙ বদলানোর ফলে এরশাদের নামটি ধীরে ধীরে মীর জাফর, হিটলার, কিসিঞ্জারের মতোই মানুষের মুখে মুখে থাকবে বলে ধারনা অনেকের। কারো কারো মতে, ভবিষ্যতে কেউ যখন বার বার অবস্থান ও কথা পরিবর্তন করবে তখন তাকে মানুষ বলবে, লোকটা একটা এরশাদ।





]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/anwarhasan/29904525 http://www.somewhereinblog.net/blog/anwarhasan/29904525 2013-12-10 15:16:39
মিষ্টি মেয়ে কবরীর দুষ্টমি




১৯৬৪ সালে মিনা পাল নামে শ্যাম বর্ণের এক কিশোরীকে ঘষে মেজে কবরী নাম দিয়ে ‘সুতরাং’ চলচ্চিত্রে ব্রেক দেন গুণী চলচ্চিত্রকার সুভাষ দত্ত। মিষ্টি চেহারা, মিষ্টি কন্ঠ ও মিষ্টি হাসির জন্য দর্শকরা তার নামের আগে জুড়ে দেয় মিষ্টি মেয়ের খেতাব।

নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট চাইতে এসে ওই মিষ্টি হাসি দিয়ে নারায়ণগঞ্জ- ৪ আসনের ভোটার ও স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীদের মন জয় করেন। তিনি বহিরাগত হলেও স্থানীয় একটি রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান শফিউদ্দিন ওরফে বাবু সারোয়ারের স্ত্রী হওয়ায় তেমন আপত্তি তুলেনি কেউ।তবে নির্বাচনের পর গুটি কয়েকজন বাদে এক এক করে দলের প্রায় সব স্থানীয় নেতাকর্মী দূরে সরে যান অথবা নেতাকর্মীদের কাছ থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন কবরী। এর পরিবর্তে বিভিন্ন স্থানের কিছু উদ্ভট যুবক ভিড়ে তার চারপাশে। এমনকি তার একান্ত সচিবও নিয়োগ দেয়া হয় শ্যামপুরের এক স্বল্প শিক্ষিত তবে সুদর্শন যুবককে।



অভিযোগ রয়েছে, সংসদ সদস্য হওয়ার পর এলাকার কোন উন্নয়ন কাজে মনোযোগ দেননি কবরী। বরং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে কোন খাত থেকে কত তোলা যায় এ নিয়ে ভাবনায় দিন কাটত তার। তিনি প্রতি মাসে ফতুল্লার জুট সেক্টর, চোরাই তেল সেক্টর, টেন্ডার সেক্টর থেকে মাসোহারা তুলতেন একান্ত সচিবের মাধ্যমে। কেউ মাসোহারা দিতে দেরী করলে কবরী নিজেই ফোনে ধমকাতেন। ফোনে তাকে বলতে শোনা গেছে, ‘ ..... কে দিতে পারো- আমাকে দাও না কেন’। ( এমন একটি ফোনালাপ সংরক্ষনে আছে )।



যদিও এসব অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করেন কবরী ও তার অনুগত কিছু লোক। তাদের মতে, কবরী এমপি হওয়ায় উন্নয়ন না হলেও সন্ত্রাসীরা ফতুল্লায় তেমন সুবিধা করতে পারেনি। বরং ১৯৯৬ সাল থেকে ২০০১ পর্যন্ত আওয়ামীলীগ আমলে শামীম ওসমান এ আসনে এমপি থাকাকালিন নানা নামের নানা রঙের সন্ত্রাসীদের অভয়রান্য ছিল গোটা ফতুল্লা। আবার এসব অভিযোগের বিপরীতে শামীম ওসমান অনুসারীরা মনে করিয়ে দেন, পাগলায় শুভ হত্যার কথা। পঞ্চবটিতে ডাকাতির তুলাসহ কবরীর লোকের গ্রেপ্তার হওয়া, পিএস সেন্টুর পিস্তল উঁচিয়ে থানায় প্রবেশ, থানা আওয়ামীলীগ সাধারন সম্পাদক শওকত আলীকে গ্রেপ্তার করানো.....আরো কতকি। তাদের মোদ্দা কথা ‘ মিষ্টি হাসি দিয়ে ভোট নিয়ে পুরো ৫ বছর দুষ্টুমি করেছে কবরী।’







দলের এ পক্ষের ও পক্ষের এসব কথা ছাপিয়ে এ এলাকার সাধারন মানুষও কবরীকে এখন আর মিষ্টি মেয়ে হিসেবে জানে না। তাদের মতে, অমর বাংলা চলচ্চিত্র ‘ সুজন সখি’র সখি ভেবেই কবরীকে ‘ নীল আকাশের নীচে’র এই আসনে ‘আপন পর ’ সবাই ভোট দিয়েছিল। ভেবেছিলাম ‘সারেং বউ’ রুপালী পর্দা ও রাজনীতি- ‘ দুই জীবন’ এ ‘ হীরা মন’ হবেন। উনি ফতুল্লাকে ভাববেন ‘আমার জন্মভূমি’। নিজের মনে করে ‘ পারুলের সংসার’ গড়বেন। ‘ লাভ ইন সিমলা’ থেকে ‘অরুণ বরুণ কিরণ মালা’ কিংবা ‘বাঁশরী’ হয়ে মানুষের উচু স্থানে ঠাই নেবেন। এ জন্য কিছু মানুষ তাকে ‘কত যে মিনতি’ করেছে । কিন্তু পুরো পাঁচ বছর ধরে ‘ নায়িকা’ চলেছে ‘আঁকবাঁকা’ পথে। নেতাকর্মী ও সাধারন মানুষকে দূরে সরিয়ে তিনি শুধুমাত্র‘ ময়না মতি’ হয়ে ‘ চোরাবালি’ তে পা রেখেছেন সর্বদা। লাখো ভাইয়ের বোন না হয়ে ‘ সাত ভাই চম্পা’ হয়ে মানুষের আশাকে করেছেন ‘দর্পচুর্ণ’। উর্দু ছবির ‘ মেহেরবান’ না হয়ে ‘ বাহানা’ করে কাটিয়ে দিয়েছেন বেলা। ‘ ঢেউয়ের পর ঢেউ’ গেছে, কেটেছে ক’টা ‘ শীত বসন্ত’। এবার ‘লালন ফকির’ বসে আছে বলতে- কি বা নিলে কিবা দিলে। মনে কর গিয়ে ‘ যে আগুনে পুড়ি’। ফিরে যাও নিজ আলয়ে শুধু শুনে যাও- ‘বধু বিদায়’।



]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/anwarhasan/29900388 http://www.somewhereinblog.net/blog/anwarhasan/29900388 2013-11-28 18:24:00
অগ্নিদ্বগ্ধ দুইটি গরু হিন্দু ছিল !










মাত্র চারজন পুলিশ সদস্য মোতায়েন ছিলেন। অতিরিক্ত পুলিশ থাকলে এবং সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিলে এ ঘটনা এড়ানো যেত







বিস্তারিত এই লিংকে- Click This Link]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/anwarhasan/29896713 http://www.somewhereinblog.net/blog/anwarhasan/29896713 2013-11-17 20:14:44
ঘুরে আসতে পারেন সোনার গাঁ, বারদী ও পানাম নগরী

হিমেল হাওয়ায় শীত শীত অনুভব হলেও ঋতুর হিসেবে এখন হেমন্ত কাল। গাঢ় নীল আকাশের দিকে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানো শুভ্র কাঁশফুলের ছড়াছড়ি। যা দেখে মন চায় একটু দূরে, নিরিবিলিতে কিছুটা সময় কাটানোর। কিন্তু দেশের বর্তমান অবস্থার কথা ভেবে দূর ভ্রমনে মন টানে না অনেকের। তাই ঢাকার খুব কাছে সোনার গাঁ বেড়িয়ে আসতে পারেন অল্প সময়ে। এখানে ঈসা খাঁ’র রাজধানী, পানাম নগরী, বারদী’র শ্রী শ্রী লোকনাথ ব্রাহ্মচারীর আশ্রম ও পশ্চিম বঙ্গের দীর্ঘ দিনের মুখ্য মন্ত্রী সোনারগাঁয়ের সন্তান জ্যোতি বসুর আদি বাড়ি দেখতে পারেন।

সাধারনত রাজনৈতিক দলগুলো সরকারি ছুটির দিন কোন হরতাল দেয় না। এমন একটি দিন বেছে নিয়ে রওয়ানা দিতে পারেন স্বপরিবারে অথবা বন্ধু-বান্ধবীযোগে।





ঢাকা থেকে বাসে করে সরাসরি বারদী যাওয়া যায়। বাস থেকে নেমেই সোজা ঢুকে যান উপমহাদেশের প্রখ্যাত আধ্মাতিক সাধক শ্রী শ্রী লোকনাথ ব্রহ্মচারীর আশ্রমে।

ছায়া নিবিড় শান্ত পরিবেশে এখানে সমাহিত আছেন তিনি। ভারতসহ বিভিন্ন দেশ থেকে ভক্তরা ছুটে আসে এখানে। দূর দূরান্ত থেকে আসা ভক্ত ও পর্যটকদের জন্য আশ্রমের ভিতর থাকার ব্যবস্থা আছে।





এখান থেকে মাত্র ১ কিলো মিটার দূরে অবস্থিত পশ্চিম বঙ্গের মুখ্য মন্ত্রী প্রয়াত জ্যোতি বসুর পৈত্রিক বাড়ি। তবে বাড়িটি মূলত তার নানার বাড়ি। নানা শরৎ চন্দ্র দাস ও নানী খিরদা সুন্দরী একমাত্র সন্তান হেমলতা বসু ও ডা. নিশিকান্ত বসুর ঘরে জন্ম নেন জ্যোতি বসু। জন্মের আগেই স্বপরিবারে ভারত চলে যায় বসু পরিবার। তবে পূজা পার্বনে তারা আসতেন এ বাড়িতে। বাড়ির আঙ্গিনায় ছুটাছুটি করতেন বালক জ্যোতি বসু। ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ সফরকালে নিজের বাল্যকালের স্মৃতি ঘেরা এ বাড়িতে এসেছিলেন উপমহাদেশের প্রখ্যাত বাম নেতা জ্যোতি বসু।





বারদী ঘুরা শেষ করে সিএনজি নিয়ে চলে যান সুলতান গিয়াসউদ্দিন আযম শাহ, ঈসা খাঁসহ বার ভূঁইয়াদের স্মৃতি ঘেরা সোনারগাঁয়ে। মাত্র ১৫ টাকায় টিকেট কেটে গেইট দিয়ে ঢুকতেই আপনাকে ঘিরে ধরবে সবুজ গাছ গাছালি আর ইতিহাসের নানা কাহিনী। প্রথমেই চোখে পড়বে ঐতিহাসিক একটি ভবন। যার এক পাশে পুকুর, বাঁধানো ঘাট, ঘাটের দুই পাশে দু’টি রয়েল বেঙ্গল টাইগারের ভাস্কর্য। এসব দেখতে দেখতে এগিয়ে গিয়ে ডান পাশে তাকালেই দেখবেন শিল্পচার্য জয়নুলের অমর কীর্তি গরুর গাড়ি’র ভাস্কর্যটি।

এখানে স¤প্রতি যোগ হয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের একটি বিশালাকার ভাস্কর্য। সোজা নাক বরাবর হাটলেই চোখে পড়বে বাংলাদেশ লোক ও কারু শিল্প ফাউন্ডেশন। ভিতরে ঢুকে দেখতে পারেন আঠারো শ’ ও ঊনবিংশ শতাব্দির অনেক জিনিসপত্র।

এখান থেকে বেড়িয়ে আপনি মিশে যান সবুজের সাথে। বিশাল সোনার গাঁ ঘুরতে গিয়ে আপনি ক্লান্ত হলে সমস্যা নেই। বসে যান কোন লেকের ধারে। দেখেন মৎস শিকারীদের ধৈর্যের নমূনা। সোনার গাঁ পূর্ব অনুমোদন ও নির্দিষ্ট টাকায় টিকেট কেটে বড়শি দিয়ে মাছ শিকর করতে পারে যে কেউ। পুকুরে ঘুরতে রয়েছে নৌকা। তো হয়ে যাক পানির সাথে একটু আধতু ছোঁয়াছুঁয়ি।

এখানে আপনি তাঁতের পণ্য কিনতে পারবেন। অনেকগুলো তাঁত পণ্যের দোকান রয়েছে। রয়েছে বাঁশ, কাঠের তৈরী নানা পণ্য। তবে সবচেয়ে বেশী মুগ্ধ করবে জামদানী শাড়ি। আপনি নিজেই দেখতে পারবেন কিভাবে জামদানী শাড়ি বুনা হয়। জামদানী কারিগর জানালো একটি শাড়ি বুনতে তাদের ১০/১২ দিন সময় লেগে যায়। ইচ্ছে করলে অর্ডার দিতে পারেন আবার দোকানে রাখা শাড়িও নগদে কিনতে পারেন।







এখান থেকে বেরিয়ে চলে যান পানাম নগরী দেখতে। বাংলাদেশ লোক ও কারু শিল্প ফাউন্ডেশনের গেইট থেকে খুব কাছে পানাম যেতে পারেন হেটেই। পানাম সোনারগাঁয়ের একটি প্রাচীন নগরী। এখানে হিন্দু ব্যবসায়ী ও জমিদাররা বাস করতেন। বাংলা ১৩০৫ সনের নাম ফলক লাগানো আছে একটি বাড়িতে। বাড়িগুলোর কারুকার্জ দেখলে বুঝা যায় এক সময় খুব জৌলুস ও প্রাচুর্যে ভরা ছিল পানাম নগরী। একটি বাড়ির ভিতরে নাচঘরও রয়েছে।



১৯৬৫ এর হিন্দু মুসলিম দাঙ্গার সময়ে এ বাড়িঘরগুলোতে লুটপাট ও হামলা হয়। এক সময়ের কোলাহল পূর্ণ পানামনগরীতে এখন বিরাজ করে সুনসান নীরবতা।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/anwarhasan/29895856 http://www.somewhereinblog.net/blog/anwarhasan/29895856 2013-11-14 21:23:24
গিনেজ বুক রেকর্ডে নাসিম ওসমানের নাম !




পারিবারিকভাবে রাজনৈতিক ঐতিহ্যবাহী এক পরিবারে জন্ম নাসিম ওসমান এর। তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা, নারায়ণগঞ্জ পাঁচ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য। এর আগেও তিনি এ আসনে এমপি ছিলেন।

এবার পার্লামেন্ট মেম্বার হওয়ার পর থেকে নানা কারনে আলোচিত সমালোচিত হচ্ছেন নাসিম ওসমান। মহাজোট সরকারের শুরু থেকেই তিনি সাংবাদিক ও সংবাদ পত্র নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করেই চলছেন। বহু অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দিতে গিয়ে সাংবাদিকদের সাংঘাতিক বলা, রাজাকারের ছেলে, ঢুলির ছেলে বলে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করেছেন তিনি। নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সভাপতি কবি হালিম আজাদকে লাঞ্চিত করার ঘটনাটিও বেশ আলোচিত। দৈনিক ইয়াদ সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেনকে ডেকে নিয়ে মারধর করে পুলিশে দেয়ার অভিযোগতো রয়েছেই।

তিনি জাতীয় পার্টির প্রেসিডয়াম সদস্য হলেও বিভিন্ন সময়ে তার পার্টির চেয়ারম্যান সাবেক সেনা প্রধান ও রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদকে নিয়ে কটুক্তি করেছেন প্রকাশ্যেই। এ সময়ে তিনি বলতেন ‘ আমি আওয়ামীলীগ পরিবারের ছেলে’। ১৯৭৫ এ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান স্বপরিবারে নিহত হওয়ার পর তিনি সাহসী প্রতিবাদ করেছিলেন। ফুলশয্যার মায়া ত্যাগ করে তিনি বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিশোত নিতে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর ডাকে সাড়া দিয়েছিলেন। দীর্ঘদিন ইন্ডিয়ায় থাকার পর এরশাদ সরকারের আমলে দেশে ফিরে জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন নাসিম ওসমান। তিনি মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তির একজন জোরালো দাবিদার। তবে অভিযোগ রয়েছে, মদনগঞ্জে চরের মাটি কেটে সাবাড় করতে বিএনপি সমর্থিত এক ব্যবসায়ীর মাথায় তার ছায়া ছিল। বন্দর উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচনে তিনি মহাজোট প্রার্থীর পক্ষে ছিলেন না। জামায়াতের অর্থের যোগানদাতা এক ব্যবসায়ীকে মাসদাইর আদর্শ স্কুল ব্যবস্থাপনা কমিটির হর্তাকর্তা করতে তার সম্মতি ছিল। অবশ্য এসব অভিযোগের বিপক্ষে মত আছে নাসিম ওসমানের।

বঙ্গবন্ধুর হত্যার প্রতিবাদি, সাংবাদিক লাঞ্চিত করা, নিজ দলের চেয়ারম্যানকে কটুক্তি এসব কোন কারনেই নাসিম ওসমানের নাম গিনেজ বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে উঠবে না। তবে একটি কারনে তার নাম বিশ্বের আলোচিত এই রেকর্ডে উঠানো যায় বলে আমি মনে করি। তা হচ্ছে তার প্রতিশ্রুতি। গত পাঁচ বছরে তিনি যে সব প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তা পূর্বের সব রেকর্ড ভঙ্গ করেছে বলে মনে করেন অনেকেই। বিশেষ করে শীতলক্ষ্যা সেতু নিয়ে তার প্রতিশ্রুতি ও নির্মান কাজ শুরুর তারিখ পরিবর্তনের ঘোষনা এক অনন্য রেকর্ড!

শীতলক্ষ্যা সেতু নিয়ে রয়েছে বন্দরবাসীর অনেক দিনের স্বপ্ন। প্রতিদিন লাখো বন্দরবাসী খেয়াঘাটে এসে এ স্বপ্ন দেখেন। ঘাট ইজারাদারের চোখ রাঙানী, অন্যায় আচরনে এ স্বপ্ন দেখতে বাধ্য হয় তারা। প্রতিবার ভোটের আগে এই স্বপ্ন আরো জোরালো করেন রাজনীতিকরা। এ পর্যন্ত বৃহৎ সব দলের স্থানীয় প্রার্থীসহ কেন্দ্রীয় প্রধান পর্যন্ত শীতলক্ষ্যা সেতু নির্মানের আশ্বাস দিয়েছেন বহু বার। বিএনপি নেতৃত্বাধীন চার দলীয় জোট সরকার ক্ষমতার শেষ সময়ে নবীগঞ্জ গুদারাঘাটে এ সেতুর একটি ভিত্তি প্রস্থর করে যান মাত্র। দলের তৎকালিন স্থানীয় এমপি আবুল কালাম এর অনেক দিনের অনেক চেষ্টার ফসল কয়েকটা ইট এখনো যথাস্থানে দাঁড়িয়ে আছে বালু সিমেন্টের প্রলেপ মেখে। ভোটে জেতার জন্য শেষ মুহূর্তে এই ইট গাঁথুনি দিলেও শেষ রক্ষা হয়নি ওই দলের ও ওই নেতার।

শীতলক্ষ্যা সেতুর বাস্তাবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েই ৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মহাজোট থেকে সংসদ সদস্য হন নাসিম ওসমান। নির্বাচিত হওয়ার পর এ পর্যন্ত প্রায় সব ক’টি সভা, সমাবেশে তিনি সেতু হচ্ছে, হয়ে যাচ্ছে বলে বক্তৃতা দিয়েছেন। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের সময়ে এবং এরও আগে ইসলামিক টিভির জেলা প্রতিনিধি হিসেবে তার ইন্টারভিউ নিয়েছি শীতলক্ষ্যা সেতু নিয়ে। সেতুসহ তার প্রতিশ্রুতির তালিকা ছিল অনেক লম্বা। তিনি সে সময়ে বলেছেন ‘ আমি মনে করি শীতলক্ষ্যা সেতু হয়েই আছে’। তিনি এও বলেছিলেন ‘ একটি নয় দু’টি সেতু হবে’। প্রথমদিকে মানুষ তার এ কথা বিশ্বাস করতো। এরপর তিনি বিভিন্ন সময়ে বলতেন ‘ আগামী অমুক মাসে শীতলক্ষ্যার সেতুর টেন্ডার হবে’। এই মাস সেই মাস করে অনেকবার সময় পরিবর্তন করেছেন এই আওয়ামী পরিবারের জাতীয় পার্টি নেতা। সব শেষ ১ নভেম্বর শুক্রবার তিনি বলেছেন ‘ ডিসেম্বরে শীতলক্ষ্যা সেতুর নির্মান কাজ শুরু হবে’। ( সম্ভবত মেয়াদ শেষ হওয়ার কারনে তিনি তখন সংসদ সদস্য থাকবেন না )। এ থেকে ধরে নেয়া যায় আবুল কালামের মতোই আরেকটি ইট গাঁথুনি বন্দরবাসীকে উপহার দিবেন তিনি।

পরিচিতজন, যুবা -বৃদ্ধ, শ্রমিক, ব্যাংকার,সাংবাদিক, শিক্ষকসহ নানা পেশার মানুষের সাথে কথা বলে দেখেছি - শীতলক্ষ্যা নিয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে অনেকেই। তবে নাসিম ওসমানের মতো এতবার কেউ প্রতিশ্রুতি দেয়নি। কেউ জানতে না চাইলেও তিনি তার নিজস্ব ঢঙ্গে শীতলক্ষ্যা সেতুর কথা বলতেন-বলছেনও। অনলাইন সার্চে দেখলাম প্রতিশ্রুতিতে এখন পর্যন্ত কেউ গিনেজ বুক রেকর্ড গড়তে পারেনি। করেওবা যদি থাকে কেউ তা নিমিষেই ভাঙ্গতে পারবে দীর্ঘ বক্তব্যপ্রদানকারী নাসিম ওসমান। তখন তিনি অন্তত বলতে পারবেন –সেতু না করতে পারলেও আমিতো রেকর্ড করে দেশের জন্য গৌরব বয়ে আনলাম। অন্যরাতো তাও করতে পারেনি। তার পাশে অবিরাম থাকা কিছু লোক তখন হাত তালি দিবে, মাথা নাড়াবে প্রবল ঝাঁকুনি দিয়ে। একজন আরেকজনকে বলবে - আমাদের নেতাতো ঠিকই বলেছে! (এতে সেতু না পাওয়া বন্দরবাসীর ক্ষোভ কমবে কি না তা বুঝতে পারছি না)

কেউ কি আছেন ? যিনি শীতলক্ষ্যা সেতু নির্মানের প্রতিশ্রুতির জন্য নাসিম ওসমানের নাম গিনেজ বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ড এ প্রস্তাব করবেন।





]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/anwarhasan/29892592 http://www.somewhereinblog.net/blog/anwarhasan/29892592 2013-11-06 12:26:39
কফি হাউজের আড্ডাটা সত্যিই নেই


পুরো নাম প্রবোধ চন্দ্র দে উপমহাদেশের কোটি কোটি সঙ্গীতপ্রেমীদের মাঝে মান্না দে নামেই পরিচিত ছিলেন তিনি। তার ঝুলিতে আছে সাড়ে ৩ হাজারেরও বেশী গান রেকর্ডের অভিজ্ঞতা। বৈচিত্রের বিচারে তাকে ভারত উপমহাদেশের সেরা সঙ্গীত শিল্পী বলে মনে করেন অনেক সঙ্গীত বোদ্ধারা। বাংলা, হিন্দি, মারাঠি, গুজরাটিসহ অনেক ভাষার গান গেয়েছেন ষাট বছর ধরে। এ অসামান্য অবদানের কথা স্বীকার করে ভারত সরকার ১৯৭১ সালে পদ্মশ্রী, ২০০৫ সালে পদ্মবিভূষণ এবং ২০০৯ সালে দাদাসাহেব ফালকে সম্মাননায় অভিষিক্ত করেন এই গুণী শিল্পীকে।



বাবা - পূর্ণ চন্দ্র এবং মা - মহামায়া দে’র কোল জুড়ে ১৯১৯ সালের ১ মে জন্মগ্রহণ করেন মান্না দে। বাবা-মায়ের সংস্পর্শ ছাড়াও, পিতৃসম্বন্ধীয় সর্বকনিষ্ঠ কাকা সঙ্গীতাচার্য (সঙ্গীতে বিশেষভাবে দক্ষ শিক্ষক) কে.সি. দে (পূর্ণনাম: কৃষ্ণ চন্দ্র দে) তাকে খুব বেশী অনুপ্রাণিত ও উৎসাহিত করেছেন। দে তার শৈশব পাঠ গ্রহণ করেছেন ‘ইন্দু বাবুর পাঠশালা’ নামে একটি ছোট প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। তারপর তিনি স্কটিশ গির্জা কলেজিয়েট স্কুল এবং স্কটিশ গির্জা কলেজে থেকে স্নাতক শিক্ষাগ্রহণ করেছিলেন। কলেজে অধ্যয়নকালীন তিনি তার সহপাঠীদেরকে গান শুনিয়ে আসর মাতিয়ে রাখতেন। তিনি তার কাকা ছাড়াও উস্তাদ দাবির খানের কাছ থেকে গানের শিক্ষা লাভ করেন।

ঐ সময়ে মান্না দে আন্তঃকলেজ গানের প্রতিযোগিতায় ধারাবাহিকভাবে তিন বছর তিনটি আলাদা শ্রেণীবিভাগে প্রথম হয়েছিলেন।



১৯৪২ সালে কৃষ্ণ চন্দ্র দে’র সাথে বোম্বে (বর্তমান মুম্বাই) দেখতে আসেন। সেখানে শুরুতে তিনি কৃষ্ণ চন্দ্র দে’র অধীনে সহকারী হিসেবে এবং তারপর শচীন দেব বর্মণ (এস.ডি. বর্মণ) এর অধীনে কাজ করেন। পরবর্তীতে তিনি অন্যান্য স্বনামধন্য গীতিকারের সান্নিধ্যে আসেন এবং তারপর স্বাধীনভাবে নিজেই কাজ করতে শুরু করেন। ঐ সময় তিনি বিভিন্ন হিন্দি চলচ্চিত্রের জন্য সঙ্গীত পরিচালনার পাশাপাশি উস্তাদ আমান আলি খান এবং উস্তাদ আব্দুল রহমান খানের কাছ থেকে হিন্দুস্তানী শাস্ত্রীয় সঙ্গীতে তামিল নেন





১৯৪৩ সালে তামান্না চলচ্চিত্রে গায়ক হিসেবে মান্না দে‘র অভিষেক ঘটে। ১৯৫০ সালে 'মশাল' শচীন দেব বর্মণের গীত রচনায় ‘ওপার গগন বিশাল’ নামে একক গান গেয়েছিলেন। এর গানের কথা লিখেছিলেন কবি প্রদীপ। মান্না দে ভীমসেন জোসি’র সাথে একটি জনপ্রিয় দ্বৈত গান ‘কেতকী গুলাব জুহি’ গান। এছাড়াও, তিনি কিশোর কুমারের সাথে আলাদা গোত্রের দ্বৈত গান হিসেবে ‘ইয়ে দোস্তী হাম নেহী তোরেঙ্গে (শোলে)’ এবং ‘এক চতুর নার (পদোসান)’ গান।

মান্না দে'র গাওয়া অসংখ্য গান এখনো মানুষের মুখে মুখে ফিরে। ‌' তীর ভাঙ্গা ঢেউ..' যদি কাগজে লিখ নাম..' আমি দূর হতে তোমাকে দেখেছি....' কিংবা সে আমার ছোট বোন, বড় আদরের ছোট বোন'..



আজ ২৪ অক্টোবর '২০১৩ বৃহস্পতিবার ভোরে বেঙ্গালোরের একটি হাসপাতালে মৃত্যুকে আলীঙ্গন করেন এই বিখ্যাত শিল্পী।



তিনিই এক সময় গেয়েছিলেন ' কফি হাউজের আড্ডাটা আজ আর নেই..। জনপ্রিয় এই গানের রেশ ধরেই এখন মনে হচ্ছে সত্যি সত্যিই কফি হাউজের আড্ডাটা আজ থেকে নেই.....

তবে মান্না দে না থাকলেও তার অসংখ্য গান রয়ে যাবে আজীবন।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/anwarhasan/29888036 http://www.somewhereinblog.net/blog/anwarhasan/29888036 2013-10-24 10:46:45
' মা ' ই শুধু 'মা' এর মতো হয়



এরশাদ সরকারের সময়কালের কথা। আমি তখন হাই স্কুলে পড়ি। কিছু দিন হল আমাদের এলাকায় বিদ্যুৎ এসেছে। ভোল্টেজ খুব কম। ফ্যানের বাতাস মশাড়ির ভিতর তেমন যেত না। এক তলা বিল্ডিংয়ের দেয়াল সারা দিন রোদে পুড়ে গরম হয়ে থাকত। ঠান্ডা হতে হতে ভোর রাত। ফ্যান চললেও প্রচন্ড গরম লাগত। তাই ‌‌' মা ' তাল পাখা রেডি রাখতেন সব সময়ই। পাশের রুমে বাবা সৎ মা কে নিয়ে ঘুমুতেন। তাই আমরা মায়ের সাথে এই রুমে থাকতাম। মা সারা রাত বাতাস করতেন। কখনোন তার হাত থামতো না। ঘুমে কখনো যদি বা থেমে যেত তো হাতের পাখাটা নীচে পড়ার সাথে সাথে জেগে উঠতেন। শুরু হত আবার বাতাস।

তাল পাখা দিয়ে বাতাস করার মায়ের দারুন একটা সিস্টেম ছিল। হাতের কনুই বালিশে বা বিছানায় ঠেকিয়ে বাতাস করতেন তিনি। বড় হয়ে এ পদ্ধতি কাজে লাগিয়েছি আমিও আমার সন্তানদের বেলায়।

মা সারা রাত বাতাস করেও কোন ক্লান্ত হতেন না। ভোর বেল ঘুম থেকে উঠে সংসারের কাজ ঠিক ঠাকই করতেন।

আসলে মাই শুধু মায়ের মত হয়। অন্য কেউ মা হতে পারে না।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/anwarhasan/29884997 http://www.somewhereinblog.net/blog/anwarhasan/29884997 2013-10-12 22:43:34
টাইটানিক দুর্ঘটনায় নিহতদের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার ছবি



১৯১২ সালে ১৫ এপ্রিল বরফখণ্ডের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে আটলান্টিক মহাসাগরে ডুবে যায় বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত জাহাজ টাইটানিক। ওই ঘটনায় ১৫২২ জন বা তার চেয়ে বেশি যাত্রী মারা যায়। তবে নিহতদের কীভাবে সমাহিত করা হয় এবং কীভাবে তাদের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন হয় এ নিয়ে এতোদিন পর্যন্ত অস্পষ্টতা ছিল।



আটলান্টিক মহাসাগরে ডুবে যাওয়া বৃহৎ জাহাজ টাইটানিক দুর্ঘটনায় নিহতদের সলিল সমাধি দেওয়ার আগে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার ছবি প্রথমবারের মতো প্রকাশিত হয়েছে।







১৯ অক্টোবর যুক্তরাজ্যের উইল্টশায়ারের ডেভিজেসে এই ছবিটি নিলামে তুলবে প্রখ্যাত নিলামদার প্রতিষ্ঠান হেনরি অলড্রিজ এন্ড সন।

রোববার যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম মিররে প্রকাশিত ওই সাদাকালো ছবিতে দেখা যায়, ব্যাগভর্তি মৃতদেহগুলো উদ্ধারকারী জাহাজ ম্যাকে বেনেটের ওপর একটি উঁচুস্থানে রাখা হয়েছে। লোকজন অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য জড়ো হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে।



এই টাইটানিক নিয়ে হলিউডে কয়েকটি ছবি নির্মাণ করা হয়েছে। তবে ১৯৯৭ সালে নির্মিত জ্যামস ক্যামেরুনের টাইটানিক জনপ্রিয় ও ব্যবসা সফলে রেকর্ড গড়েছে।











মিরর জানায়, দুর্ঘটনার ক’দিন পরই ছবিটি ক্যামেরাবন্দি হয়েছিল।





১৯১২ সালে ১৫ এপ্রিল বরফখণ্ডের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে আটলান্টিক মহাসাগরে ডুবে যায় বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত জাহাজ টাইটানিক। ওই ঘটনায় ১৫২২ জন বা তার চেয়ে বেশি যাত্রী মারা যায়। তবে নিহতদের কীভাবে সমাহিত করা হয় এবং কীভাবে তাদের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন হয় এ নিয়ে এতোদিন পর্যন্ত অস্পষ্টতা ছিল।



আটলান্টিক মহাসাগরে ডুবে যাওয়া বৃহৎ জাহাজ টাইটানিক দুর্ঘটনায় নিহতদের সলিল সমাধি দেওয়ার আগে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার ছবি প্রথমবারের মতো প্রকাশিত হয়েছে।



১৯ অক্টোবর যুক্তরাজ্যের উইল্টশায়ারের ডেভিজেসে এই ছবিটি নিলামে তুলবে প্রখ্যাত নিলামদার প্রতিষ্ঠান হেনরি অলড্রিজ এন্ড সন।



এই টাইটানিক নিয়ে হলিউডে কয়েকটি ছবি নির্মাণ করা হয়েছে। তবে ১৯৯৭ সালে নির্মিত জ্যামস ক্যামেরুনের টাইটানিক জনপ্রিয় ও ব্যবসা সফলে রেকর্ড গড়েছে।







রোববার যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম মিররে প্রকাশিত ওই সাদাকালো ছবিতে দেখা যায়, ব্যাগভর্তি মৃতদেহগুলো উদ্ধারকারী জাহাজ ম্যাকে বেনেটের ওপর একটি উঁচুস্থানে রাখা হয়েছে। লোকজন অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য জড়ো হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে।



মিরর জানায়, দুর্ঘটনার ক’দিন পরই ছবিটি ক্যামেরাবন্দি হয়েছিল।





]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/anwarhasan/29880867 http://www.somewhereinblog.net/blog/anwarhasan/29880867 2013-09-30 14:08:48
উপকারী সাইট। Click This Link এ সাইটটি খুব ভাল লাগল। দারুন উপকারী সাইট



Click This Link



http://www.jobstreet.com.my



http://www.jenjobs.com/]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/anwarhasan/29876073 http://www.somewhereinblog.net/blog/anwarhasan/29876073 2013-09-15 00:34:41
নিজের বেলায় আঁটিসুটি, পরের বেলায় চিমটি কাটি \ রফিউর রাব্বীকে নিয়ে শামীম ওসমান পক্ষের অপপ্রচার

সম্প্রতি দিগন্ত টিভির প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী অনুষ্ঠানে নারায়ণগঞ্জের সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রফিউর রাব্বির অংশগ্রহন নিয়ে বেশ হৈ চৈ করছে একটি মহল। কয়েকটি স্থানীয়, জাতীয় পত্রিকা ও অনলাইনে এ সংক্রান্ত খবর ছাপানো হয়েছে। ওই মহলটি রাব্বীকে নব্য রাজাকার বলে ঘোষনা দিয়েছে। রাজাকারের মালিকানাধীন চ্যানেলের অনুষ্ঠানে তিনি কিভাবে গেলেন ?

রফিউর রাব্বী আপনি মহা অন্যায় করে ফেলেছেন। এমন একটি কর্ম কিভাবে করিলেন আপনি ? হায় হায় মহা ভারত বুঝি এবার সত্যি সত্যি অশুদ্ধ হয়েই গেল।

তবে এমন কর্ম অনেকে করিয়াছেন বলিয়া স্মৃতি পটে দৃশ্যমান হয়। দিগন্ত টিভি’র বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে দৈনিক ডান্ডিবার্তার সম্পাদক ও ইত্তেফাক জেলা প্রতিনিধি হাবিবুর রহমান বাদলকে দেখেছি। তিনি সেখানে দিগন্ত টিভির গেঞ্জি গায়ে পরে বক্তব্য রেখেছেন । এবার তার পত্রিকায় রাব্বিকে নিয়ে সমালোচনা করা হয়েছে।





বিষয়টা কেমন হল! নিজের বেলায় আঁটিসুটি, পরের বেলায় চিমটি কাটি।

দিগন্তের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে শুধু বাদল নন জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার সামিউল্লা মিলন, নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাব সাধারন সম্পাদক শাহ আলম খন্দকার ,শহর আওয়ামীলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, বিকেএমইএ’র সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ হাতেম, জাতীয় শ্রমিক লীগ ফতুল্লা আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি কাউসার আহমেদ পলাশ, মুক্তিযোদ্ধা ও চলচ্চিত্র পরিচালক তমিজউদ্দিন রিজভীসহ আরো অনেকেই ছিলেন। এমনকি রফিউর রাব্বিও । তবে সেদিন তাকে নিয়ে কোন কথা হয়নি। হয়তো তখন ত্বকী হত্যাকান্ড হয়নি বলে আর সেই হত্যাকান্ডে ক্ষমতাবান এক রাজনৈতিক পরিবারের কতিপয় সদস্যকে জড়ানো হয়নি তাই।

যে অনুষ্ঠান নিয়ে এত বিতর্ক সে অনুষ্ঠানে রাব্বি ছাড়াও জেলা বিএমএ সভাপতি ও সম্প্রতি আওয়ামীলীগ নেতা শামীম ওসমানের পক্ষে বিরাট বিজ্ঞাপনের ৮০ জনের একজন ডা. শাহনেওয়াজ ছিলেন। তাকে নিয়ে কোন কথা বলেনি সমালোচকরা।

দিগন্ত মিডিয়া কর্পোরেশনের একটি শাখা দিগন্ত টিভি। এতে এক্সিকিউটিভ কমিটির চেয়ারম্যান মীর কাশেম আলী। যিনি মানবতা বিরোধী যুদ্ধাপরাধী মামলায় বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। তিনি ছাড়াও এই টিভিতে আরো কমপক্ষে ২৫ জন পরিচালক আছেন। আছে অজ¯্র পাবলিক শেয়ার। এই টিভির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে মহাজোট সরকারের মন্ত্রী এমপি গিয়েছেন। একই কর্পোরেশনভুক্ত একটি জাতীয় দৈনিক বর্তমানে বাজারে রয়েছে। এ টেলিভিশনে দেশ বরন্য মুক্তিযোদ্ধা বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী একটি অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করতেন। যতটুকু দেখেছি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক অনুষ্ঠানও প্রচার হত। আমি এসব বলে দিগন্ত টিভির সুনাম গাইছি না। আমি বলতে চাইছি, কোন একজন অপরাধ করলে তার দায়ভার অজ¯্র শেয়ার হোল্ডার এবং অগনিত স্টাফদের নিতে হবে কেন ? তা ছাড়া মীর কাশেম আলীর বিচার এখনো চলমান। শুধুমাত্র বিজ্ঞ আদালতই তার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত দিতে পারেন। ব্যক্তিগতভাবে আমি নিজেও যুদ্ধপরাধীদের বিচারের পক্ষে। যারা মানুষ হত্যা করেছে, লুটপাট, ধর্ষন করেছে তাদের বিচার হবে এটাই স্বাভাবিক।

আর দিগন্ত টিভি’র অনুষ্ঠানে গেলেই নব্য রাজাকার বা রাজাকারের পক্ষে গেছে এমনটা যারা বলেন তাদের সাথেও একমত নই। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে এই দিগন্ত টিভিতে আমি আওয়ামীলীগ নেতা শামীম ওসমানেরও সাক্ষাৎকার দেখেছি। তাই বলে কি তিনিও ......?

তাছাড়া হেফাজতের ঘটনায় সরকার সাময়িকভাবে দিগন্ত ও ইসলামিক টিভি বন্ধ করে দেয়ার পর দেশের প্রায় সব টেলিভিশন মালিক, পত্রিকার সম্পাদক এর প্রতিবাদ করেছেন। যার জবাবে মাননীয় তথ্যমন্ত্রী বলেছেন, এ দু’টি টিভির সম্প্রচার সাময়িক বন্ধ রয়েছে। তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তদন্ত চলাকালে কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে দোষারোপ করা যায় কি ? এ প্রশ্ন রইল অতি উৎসাহী ওই মহলের প্রতি। যারা দিনের বেলায় “হ্যালো ভাই’ বলে আর রাতের বেলায় বলে ‘ মা কেমন আছ”?

আর রফিউর রাব্বী দিগন্ত টিভির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে গিয়েও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চেয়েছেন। তিনি বেকার সাংবাদিকদের মানবিকতার দিক বিবেচনা করে টিভি খুলে দেয়ার দাবি করেছেন। যা সভ্য সমাজের সব সভ্য লোকই করে।

সব শেষে একজন ভুক্তভোগী হিসেবে আমি ইসলামিক টিভি ও দিগন্ত টিভি খুলে দেয়ার দাবি জানাচ্ছি সরকারের কাছে। কেননা আমি বিশ্বাস করি জনগনের ভোটে নির্বাচিত গনতান্ত্রিক সরকার গণ মাধ্যমকে শত্র“ নয় আপনজন ভাবে।





]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/anwarhasan/29875064 http://www.somewhereinblog.net/blog/anwarhasan/29875064 2013-09-11 21:05:21
শামীম ওসমানকে আটক করা উচিত



নারায়ণগঞ্জের নেতা হলেও সারাদেশবাসী এক নামে চেনে শামীম ওসমান কে। ছাত্রলীগ দিয়ে শুরু করে সরকারি তোলারাম কলেজের ভিপি থেকে জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক পর্যন্ত হয়েছেন তিনি। এ দলের টিকেটে জাতীয় সংসদ সদস্য হয়েছেন একবার। অনলবর্ষী বক্তা হিসেবেও সুনাম রয়েছে তার।

রাজনীতির দিক দিয়ে পারিবারিক ঐতিহ্যের অধীকারী তিনি। দাদা ও বাবা প্রাদেশিক পরিষদ ও জাতীয় সংসদের সদস্য ছিলেন। তারা দুইজনেই আওয়ামীলীগের রাজনীতির প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকে জড়িত। বড় ভাই সংসদ সদস্য ও জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা।

১৯৯৬ সালে এমপি হওয়ার পর সারা দেশে আলোচনায় আসেন শামীম ওসমান। সে সময়ে অভিযোগ উঠে, বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের এলাকা ছাড়া করার। তার আস্কারায় অগা, বরিশাইল্লা, টাওয়ার, ক্যাঙ্গারুসহ নানা নামের নানা রঙের তারকা সন্ত্রাসীরা এক এক এলাকা হীরক রাজার মতো শাসন করে মানুষকে অতিষ্ট করে তুলে। হাট, ঘাট, টেন্ডার,জুট, চোরাই তেল, পরিবহন সেক্টর, ভূমি দস্যুতা সব তাদের হুকুমে চলে। ওই সময়ে এই তারকা সন্ত্রাসীসহ কিছু চামচ শ্রেনীর নেতা শামীম ওসমানকে ‘ সিংহ পুরুষ’ উপাধি দেয়। সে সময়ে সুশীল সমাজ তার ললাটে এঁটে দেয় ‘গড ফাদার’ উপাধি। এমপি থাকাকালিন বিরোধী দলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার চট্রগ্রাম মূখী লংমার্চ আটকে দিয়ে তিনি সারা দেশে নিজের ভিলেন রুপ প্রকাশ করেন।

২০০০ সালের ১৬ জুন কিছুটা সহানুভুতির আলোচনায় আসেন শামীম ওসমান। সেদিন চাষাঢ়া তার গোত্রদের দলীয় কার্যালয়ে (শহরের ২ নং গেইটে দলের আরো একটি কার্যালয় ছিল, এখনো আছে ) ভয়াবহ বোমা বিস্ফোরনে প্রান হারান ২০ জন। এতে তিনি সহ আহত হন অনেকে। চিরতরে পঙ্গু হয় তার কাছের দুইজন।

২০০১ এর নির্বাচনে হেরে পালিয়ে যাওয়ায় সিংহ পুরুষ থেকে কাপুরুষে পরিচিতি পান তিনি। পরে বিদেশে বেশ কিছু দিন থাকার পর জেলার রাজনীতিতে আবারো হিরো বনেন । প্রবাস থেকেই দলীয় রাজনীতির শক্ত অবস্থান তৈরী করেন, হন কিছুটা জনপ্রিয়। তত্তবধায়ক সরকার গঠিত হলে তিনি দেশে ফিরে অজ¯্র মানুষের কাছে সংবর্ধিত হন। তবে ওয়ান ইলেভেনের সময় আবারো দেশ ছাড়েন ।

মহাজোট সরকার ক্ষমতায় এলে দেশে এসে কিছু দিন চুপচাপ থাকলেও ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটের বাস ভাড়া নিয়ে ফের আলোচিত হন শামীম ওসমান। এ সময় সাধারন যাত্রীদের পক্ষে না গিয়ে বাস মালিকদের পক্ষে কথা বলতে দেখা যায় এই জননেতা ! কে। এ নিয়ে জেলা প্রশাসন সম্মেলন কক্ষে বাস মালিকদের হয়ে তার চাচী সারাহ বেগম কবরী এমপির উপর চড়াও হন প্রায় ৬ ফুট লম্বা এই রাজনীতিক। টেলিভিশনের পর্দায় এ দৃর্শ্য দেখে তাকে নিয়ে সারা দেশে আরেকবার আলোচনার ঝড় বয়ে যায়। অবশ্য ওই দিন কবরীও কম যাননি।

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের তফসিল ঘোষনা হলে আবারো শামীম ওসমান দেশবাসীর আলোচনার খোরাক হয়ে উঠেন। গায়ে নানা অপবাদ লেপ্টে থাকলেও অদৃর্শ্য শক্তিকে কাজে লাগিয়ে দলীয় সমর্থন আদায় করেন তিনি। তার নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বি সেলিনা হায়াৎ আইভী টিভি টক শো’সহ জনসভাগুলোতে শামীম ওসমানের পুরনো সব গন্ধ উসকে দিয়ে জনতার সহানুভুতি আদায় করেন। নির্বাচনের মাত্র কয়েক ঘন্টা আগে ( মধ্য রাতে ) এডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকারকে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর নির্দেশ দেয় তার দল। ফলাফলে বিপুল ভোটে পরাজয় হয় শামীম ওসমানের।

ভোটাভুটির কয়েক দিন আগে জঙ্গী হামলার আশংকা করে সারা দেশে হৈ চৈ ফেলে দেন শামীম ওসমান। মিডিয়ায় তার এই খবরকে গুরুত্বসহকারে প্রচার হলে প্রশাসন থেকে বলা হয় এমন সংবাদ তাদের কাছে নেই। অবশ্য মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই নানা আশংকার কথা বলে আসছেন আইনের ছাত্র শামীম ওসমান। তাকে প্রায়ই বলতে শোনা যেত ‘ আগামী ৩ মাস বা ৬ মাস দেশের জন্য ভয়াবহ সময়’ ইত্যাদি।

মেধাবী ছাত্র তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যাকান্ডের পর শামীম ওসমান আবারো রাজনীতির মন্দ চরিত্রে আলোচিত হন। এ হত্যাকান্ডের ঘটনায় ইতিমধ্যে তার ভাতিঝা আজমেরী ওসমানের দুই সহচর গ্রেপ্তার হয়েছে।

সম্প্রতি সেই আলোচিত সমালোচিত শামীম ওসমান নতুন করে এক আশংকার কথা বলেছেন। শহরের কিল্লারপুলস্থ বিবি মরিয়ম স্কুলে এক আলোচনায় তিনি বলেছেন ‘ আগামী ৩ মাসের মধ্যে তাকে (শামীম ওসমানকে ) হত্যার চেষ্টা করা হতে পারে। কে বা কারা এই চেষ্টা করবে তাও তিনি জানেন বলে দাবি করেছেন।’

তার এই আশংকাকে অন্যরা কিভাবে নিচ্ছেন জানি না। তবে আমি একজন ক্ষুদে মিডিয়াকর্মী হিসেবে শামীম ওসমানের মতো একজন আপাদমস্তক রাজনীতিকের আশংকা উড়িয়ে দিতে পারি না। তাই প্রশাসনের কাছে অনুরোধ করছি অবিলম্বে শামীম ওসমানকে আটক করে নিরাপত্তা হেফাজতে নেয়ার। সেই সাথে কে বা কারা তাকে হত্যা করতে পারে সেই তথ্য নিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ারও প্রয়োজন।

ব্যক্তিগতভাবে আমি শামীম ওসমান কেন কারো অস্বাভাবিক মৃত্যু চাই না। আর শামীম ওসমানের মতো একজন রাজনীতিকেরতো নয়ই। কেননা আমি বিশ্বাস করি সদিচ্ছা থাকলে একজন রাজনীতিক দেশ ও জনগনকে অনেক দিতে পারে। তা ছাড়া জানা মতে শামীম ওসমানের মা এখনো বেঁচে আছেন। মা-বাবার চোখের সামনে সন্তানের মৃত্যু খুব বেদনাদায়ক। যে বেদনায় নীলাভ হয়ে আছে ত্বকীর পরিবার।

নিজে একজন বাবা হিসেবে এইটুকু অন্তত আঁচ করতে পারি রফিউর রাব্বী ও বেগম রাব্বী কি যন্ত্রনা নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন। উপরে বিশাল আকাশ নীচে শক্ত মাটি, চারপাশে সবুজ গাছ গাছালি থাকলেও তাদের কাছে সবই ফাঁকা লাগে। যদিও শামীম ওসমান প্রশ্ন তুলেছিলেন, সন্তান হারানোর পর রাব্বী ক্লিন সেভ করে কি করে। একজন পাঁকা রাজনীতিকের এমন কাঁচা প্রশ্ন শুনে আমি থ’ বনেছিলাম।



]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/anwarhasan/29868955 http://www.somewhereinblog.net/blog/anwarhasan/29868955 2013-08-24 19:54:13
সিদ্ধিরগঞ্জে আরেক ‘এরশাদ শিকদার’ নূর হোসেন ( শামীম ওসমানের লোক )







( সংযোগ- নূর হোসেন ইন্টারপোলের রেড ওয়ারেন্টভুক্ত আসামী ছিল। আওয়ামীলীগের আলোচিত শামীম ওসমানের আর্শীবাদপুষ্ট সে। ৯৬'র আওয়ামীলীগ আমলে খালেদা জিয়ার লং মার্চ আটকে দেয়ার পেছনে নূর হোসেন ছিল অন্যতম। )



‘রাত ১২টার দিকে সাদ্বিসা মাজার হয়ে বাড়ি ফিরছিলাম। হঠাত্ ৩টি গাড়ি পথরোধ করে। হোসেন চেয়ারম্যানসহ ১৪/১৫ জন গাড়ি থেকে নেমে হিংস্র বাঘের মতো আমার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। লাঠি, হকিস্টিক, রামদা, চাইনিজ কুড়াল দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করতে থাকে। রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়লে টেনেহিঁচড়ে গাড়িতে তুলে শিমরাইল ট্রাক স্ট্যান্ডের কাউন্সিলর অফিসে নেয়। সেখানে আবার হাত-পা বেঁধে অমানুষিক নির্যাতন চালায়। এ সময় প্রচুর রক্তক্ষরণে অজ্ঞান হয়ে গেলে অফিসের সামনের রাস্তায় ফেলে দেয়। ভোরের দিকে এলাকাবাসী হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে ৭দিন অচেতন অবস্থায় মৃত্যুর সঙ্গে লড়েছি। নির্যাতনের নির্মমতায় প্রায় পঙ্গু অবস্থায় ৬ মাস হাসপাতালে থাকতে হয়েছে। এরপর আবার মাদক, চুরি, ভাঙচুরসহ ৪টি মিথ্যা মামলা দিয়ে বাড়িছাড়া করা হয়। কথাগুলো বলতে গিয়ে অঝোরে কাঁদছিলেন সিদ্ধিরগঞ্জের আজিবপুরের বাসিন্দা ও মুক্তিয়োদ্ধা প্রজন্ম কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন আহমেদ।



শুধু সালাউদ্দিনই নয়; সিদ্ধিরগঞ্জের অসংখ্য মানুষ হামলার শিকারে পঙ্গু-জখম। মিথ্যা মামলা ও গ্রেফতার আতঙ্কে এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে। এছাড়া দখল দৌরাত্ম্য ও অতিরিক্ত চাঁদার হারে অতিষ্ঠ ব্যবসায়ী, ঠিকাদার, পরিবহন ও শিল্প মালিক। নিত্যদিনের নৈরাজ্যকর পরিস্থিতিতে স্থানীয়রা অতিষ্ঠ, ক্ষুব্ধ। কিন্তু প্রতিকার না মেলায় নিশ্চুপ। আর সবার সামনে এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ঘটলেও ‘অভিযোগ-মামলা নেই’ বুলি উড়িয়ে নির্বিকার প্রশাসন। ঠিক যেন খুলনার এরশাদ শিকদারের মতো যিনি সেখানে প্রশাসনের সহযোগিতায় কায়েম করেছিলেন ত্রাসের রাজত্ব। এতসব লঙ্কাকাণ্ড নারায়ণগঞ্জ থানার সিদ্ধিরগঞ্জে। দৈনিক বর্তমানের অনুসন্ধানে মিলেছে এসব তথ্য।



স্থানীয় বাসিন্দা, নির্যাতনের শিকার ব্যক্তি ও প্রশাসন সূত্র জানায়, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর নূর হোসেনের (হোসেন চেয়ারম্যান) নেতৃত্বাধীন ‘কেরামিন, কাতেবিন ও মুনকারনাকির বাহিনী’ এখন সিদ্ধিরগঞ্জের ‘ত্রাস’। এ বাহিনীর কর্মকাণ্ডের কারণে ১৯৮৫ সালের ট্রাক হেলপার ‘নূর’ এখন এলাকার ‘আরেক এরশাদ শিকদার’। এরই মধ্যে শত কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। আর একসময়ের সাদামাটা ‘নূর’ এখন করছেন বিলাসী জীবনযাপন। দৈনিক ৫০ লাখ টাকা আয়ের টার্গেটে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, নির্যাতন, অসামাজিক কার্যকলাপসহ অবৈধ সব কাজই করে ‘মহা ক্ষমতাধর’ হোসেন চেয়ারম্যান ও তার বাহিনী।



জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ডেপুটি মেয়র ও কেন্দ্রীয় যুবলীগের সদস্য নজরুল ইসলাম বর্তমানকে বলেন, কাউন্সিলর নূর হোসেন সিদ্ধিরগঞ্জের ‘পাপ’। তার নেতৃত্বে সিদ্ধিরগঞ্জে পতিতালয় হয়েছে। সে দুই মাস ধরে মেলা বসিয়ে অশ্লীল নৃত্য, জুয়া, মাদক ব্যবসাসহ অসামাজিক নানা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সর্বত্র ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে চাঁদাবাজিসহ অবৈধপন্থায় কোটি কোটি টাকা হাতাচ্ছে। আর তা থেকে ভাগ দিচ্ছে প্রশাসনের কর্তাদের। ফলে বিভিন্ন বৈঠকে প্রতিকার চাইলেও কোনো পদক্ষেপ নেয়নি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এতে করে আল্লাহর কাছে বিচার দেয়া আর সাহায্য চাওয়া ছাড়া নিরুপায় ও ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী এখন আর কোনো অবলম্বন নেই।’



বিএনপি দলীয় সাবেক এমপি গিয়াস উদ্দিন বর্তমানকে বলেন, ‘হোসেন চেয়ারম্যানের ক্ষমতার অপব্যবহার, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসসহ অবৈধ কর্মকাণ্ডে নিঃস্ব হচ্ছে এলাকার মানুষ। সে ৩ জুন আমার মালিকানা ও নির্মাণাধীন সিদ্ধিরগঞ্জ টাওয়ার থেকে ১ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করে না পাওয়ায় জোরপূর্বক কাজ বন্ধ করে দিয়েছে। এছাড়া আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পরপরই আমার নিজস্ব তিনতলা কাসসাফ শপিং সেন্টার (জমির ভাগ রয়েছে বলে) জোরপূর্বক দখলে নিয়ে ভাড়া আদায়সহ মালিকানার সব সুবিধা ভোগ করছে। মামলা করেও তার ‘তদবিরের’ কারণে সুবিচার পাচ্ছি না।’



নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) নুরুল ইসলাম বর্তমানকে বলেন, ‘হোসেন চেয়ারম্যান সম্পর্কে বিভিন্ন নেতিবাচক মন্তব্যে আমারও দ্বিমত নেই। তবে, তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ কেউ দেয় না। অভিযোগ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে। আর পুলিশও তাকে সহযোগিতা করে না। পুরো এলাকা চাঁদাবাজিমুক্ত রাখতে তত্পর রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।’



অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে মঙ্গলবার দুপুর পৌনে ১টার দিকে টেলিফোন করা হলে কাউন্সিলর নূর হোসেন দাবি করেন, ‘উত্থাপিত সব অভিযোগই ভিত্তিহীন।’ চাঁদাবাজি, জুয়া, নির্যাতন, দখলসহ অসামাজিক কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট প্রশ্ন করা হলে তিনি উত্তেজিত হয়ে উঠেন। চিত্কার করে এক নিঃশ্বাসে বলতে থাকেন- ‘গিয়াস এমপি ফকিন্নির পোলা, তার বাবা আমাদের বাড়িতে কামলা খাটছে। তার কাছে চাঁদা চাওয়ার কী আছে। আইয়ুব মুন্সী, সালাউদ্দিন, বাদল, ঈমান, নজরুলরা চোর-বাটপার। তারা পালিয়ে-লুকিয়ে থাকলে আমি কী করব। বালু, জুয়া, মাদক ব্যবসা সবাই করে; আমি করলে দোষ কী। পুলিশ কনস্টেবলকে মারপিটের বিষয় আমি শুনিইনি।’



প্রকাশ্যেই চাঁদা আদায়: সংশ্লিষ্টরা জানালেন, হোসেন চেয়ারম্যানের কেরামিন, কাতেবিন ও মুনকারনাকির (কাইল্যা শাজাহান, সানাউল্লাহ সানা ও আলী মোহাম্মদ) বাহিনীর চাঁদাবাজি নারায়ণগঞ্জের একাংশসহ সিদ্ধিরগঞ্জজুড়ে। কাঁচপুর ব্রিজের পার্শ্ববর্তী এক শিল্প প্রতিষ্ঠানের মালিক বলেন, ‘হোসেন চেয়ারম্যান গত ২ বছর অব্যাহতভাবে চাঁদা নিচ্ছে। আগে প্রতি মাসে ১ লাখ টাকা নিলেও এবার ঈদ উপলক্ষে জোরপূর্বক ৩ লাখ টাকা নিয়েছে। মোটা অঙ্কের বিনিয়োগ থাকায় চাঁদার অত্যাচার সহ্য করছি। ওই ব্যবসায়ী জানান, এই এলাকায় প্রতিষ্ঠিত পাঁচ শতাধিক বৃহত্ ও সহস্রাধিক ছোট শিল্প মালিকদের প্রত্যেকেই মোটা অঙ্কের মাসোহারার বিনিময়ে ব্যবসা করছে। এছাড়া ফুটপাতের অন্তত ২ হাজার ব্যবসায়ী দিনে গড়ে ৩শ টাকা করে চাঁদা গুণছে।



সিদ্ধিরগঞ্জের হীরাঝিলের চুন ব্যবসায়ীরা জানালেন, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে এখানকার ৪০ কারখানার প্রতিটি থেকে এক লাখ টাকা করে চাঁদা তুলেছে হোসেন চেয়ারম্যানের দুর্বৃত্তরা। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরেই প্রতিমণ চুন থেকে ৩০ টাকা হারে চাঁদা নিচ্ছে। মণের হিসাব প্রসঙ্গে বললেন, চেয়ারম্যানের নিয়োগকৃত ২ যুবক একেকটি দোকান থেকে কত ট্রাক চুন বিক্রি হয় তার হিসাব রেখে দিনশেষে চাঁদার মোট টাকা নিয়ে যায়।



বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন এবং বাস ও ট্রাক মালিক সমিতি সূত্রের দাবি, সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে চলাচলকারী দুই হাজার বাসের প্রতিটির বিপরীতে (৫৬টি কাউন্টার থেকে) দিনে ৫০০ টাকা এবং শিমরাইল স্ট্যান্ড থেকে ছেড়ে যাওয়া অন্তত ৫০০ ট্রাকের প্রতিটি থেকে দিনে ৬০০ টাকা করে চাঁদা উঠানো হয়।



গত সপ্তাহে আদমজী ইপিজেড কারখানার থেকে ৪০ লাখ টাকায় পুরনো পণ্য কিনে ব্যবসায়ী মুনছুর সাভার নিতে গেলে তা আটকে ১০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করা হয়।



সংশ্লিষ্টরা জানান, অপরাধ সংগঠিত, চাঁদা আদায় এবং এ সংক্রান্ত সব কাজ তদারকির জন্য সিদ্ধিরগঞ্জের হীরাঝিলে অফিস বসিয়েছে হোসেন চেয়ারম্যানের বাহিনী।



বেপরোয়া বালু উত্তোলন, জমজমাট পাথর ব্যবসা: ঈদের আগের সোমবার সরেজমিন দেখা যায়, কাচপুর ব্রিজের নিচ দিয়ে বহমান শীতলক্ষ্যা নদী থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালু তুলছে ‘জজ এন্টার প্রাইজ’ (হোসেন চেয়ারম্যানের আপন ছোট ভাইয়ের নামের প্রতিষ্ঠান)। সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানান, এই বালু ব্যবসা থেকে প্রতিদিন অন্তত ১০ লাখ টাকা আয় হোসেন চেয়ারম্যানের। এছাড়া ব্রিজের নিচে অব্যাহত চলা শক্তিশালী পাথর ভাঙানো মেশিন মালিকদের (৩৫ গদি) প্রত্যেকের থেকে মাসে ৩০ হাজার টাকা করে চাঁদা নেয় হোসেন চেয়ারম্যান।



প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি, ট্রানজিট শিমরাইল ট্রাক স্ট্যান্ড: সিদ্ধিরগঞ্জ থানা থেকে মাত্র ২ কিলোমিটার উত্তরে শিমরাইল আন্তঃজেলা ট্রাক টার্মিনাল। পূর্বাঞ্চল থেকে আসা ঢাকামুখী সব মাদক পরিবহনই এই টার্মিনালকে নিরাপদ ‘ট্রানজিট পয়েন্ট’ হিসেবে ব্যবহার করছে। প্রতিদিন হাতবদল হওয়া অন্তত ১০ ট্রাকের প্রতিটির বিপরীতে ৫০ হাজার থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত (মাদকের ধরন ও দাম অনুপাতে) চাঁদা নেয় নূর। সংশ্লিষ্টরা জানান,





ট্রাক টার্মিনালে, কাউন্সিলরের অফিসের পেছনে (সাবেক জিহাদ হোটেল), টেকপাড়া, ডেমরা আদমজী রোডে ফজলুর রহমান ও আজিম উদ্দিন পেট্রোল পাম্পের পেছনে প্রকাশ্যেই বিক্রি হয় ফেনসিডিল, ইয়াবা, হেরোইন, গাঁজা, মদ, বেয়ারসহ সব ধরনের মাদক। এসব মাদক ব্যবসার মালিকানা সরাসরি হোসেন চেয়ারম্যানের।



যা তদারকি করেন আজাহার, সানাউল্লাহ, আলী মোহাম্মদ ও তারসিল। মাদক বিক্রির লাভ থেকে দিনে অন্তত ৫ লাখ টাকা পকেটস্থ করেন নূর।



সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিতে কাউন্সিলর অফিসকেই মাদকের নিরাপদ আস্তানা হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এজন্য অফিসের পেছনের দিকে রাখা হয়েছে গোপন স্টিলের দরজা। যা দিয়ে মাদক আনানেয়া হয়।



আয়ের উত্স মিনি পতিতালয়েও: এলাকাবাসী জানান, শীতলক্ষ্যা হাউজিং এলাকায় গোধুলী সিনেমা হলের পূর্বদিকে রয়েছে পৃথক দুটি মিনি পতিতালয়। যা পরিচালনা করছে হোসেন চেয়ারম্যানের সহযোগী শিপন, শাজাহান ও মামুন। এছাড়া ট্রাক স্ট্যান্ডের পাশের প্যারাডাইস ও সুন্দরবন হোটেলও পতিতালয় হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। এ হোটেল দুটি পরিচালনা করছে হোসেন চেয়ারম্যানের ভাতিজা ও ৩ নং ওয়ার্ড় কাউন্সিলর শাহজালাল বাদল। এসব পতিতালয় থেকে প্রতিদিন অন্তত ৫০ হাজার টাকা চাঁদা যায় হোসেন চেয়ারম্যানের কাছে।



হামলায় পঙ্গু, মামলায় এলাকাছাড়া: অনুসন্ধানে জানা যায়, হোসেন চেয়ারম্যানের সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, অসামাজিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অবস্থানসহ প্রতিবাদ করায় এরই মধ্যে হামলা ও মামলার শিকার হয়েছেন আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দলীয় নেতাকর্মী এবং ব্যবসায়ীরা। হোসেন চেয়ারম্যানের বাহিনী অসংখ্য মানুষকে ফিল্মি স্টাইলে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে ও রাস্তায় ধরে হাত-পা গুঁড়িয়ে জখম-পঙ্গু করে মিথ্যা মামলা দিয়েছে। যাদের অনেকেই এখন বাড়ি ছেড়ে আত্মগোপনে।



শিমড়াইল গ্রামের বাসিন্দা ও চিটাগাং রোডের এ রহমান সুপার মার্কেটের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও আইয়ুব আলী সুপার মার্কেটের মালিক আইয়ুব আলী মুন্সীকে পিটিয়ে জাল টাকার মিথ্যা মামলা দেয়। এরপর রাজনৈতিক, গাড়ি ভাঙচুর, মাদক, সন্ত্রাসীসহ ২১টি মিথ্যা মামলা দিয়ে এলাকাছাড়া করে। টেলিফোনে জানতে চাইলে আইয়ুব মুন্সী বর্তমানকে বলেন, হোসেন চেয়ারম্যান সিদ্ধিরগঞ্জের গডফাদার। মোটা অঙ্কের উেকাচ পাওয়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হোসেনের কথায় উঠে-বসে। আমি ২০ লাখ টাকা চাঁদা দেয়নি বলে আমার আইয়ুব আলী সুপার মার্কেট ৪ বছর ধরে বন্ধ করে দিয়েছে। এছাড়া হোসেন চেয়ারম্যানের নির্দেশে অবৈধভাবে ট্রাক স্ট্যান্ড করা হয়েছে রহমান সুপার মার্কেটের সামনে। এতে করে ক্রেতারা দোকানে ঢুকতে না পারায় বন্ধের উপক্রম হয়েছে মার্কেটটি। এ বিষয়ে ডিসির কাছে অভিযোগ দিলে টিএনও’র নেতৃত্বে ৪ সদস্যের তদন্ত কমিটি সরেজমিন দেখে দ্রুত ট্রাক না সরালে আইনি পদক্ষেপ নেয়ার পরামর্শ দিয়ে প্রতিবেদন দেয়। কিন্তু মোটা অঙ্কের অর্থ লেনদেন হওয়ায় প্রতিকার মেলেনি আজও।



আইয়ুব মুন্সীর ভাতিজা হাসান পারভেজকেও প্রায় ১ বছর আগে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে পিটিয়ে পঙ্গু করা হয়। পরে দেয়া হয় ৮টি মিথ্যা মামলা। এখন হাসানও এলাকাছাড়া।



সিদ্ধিরগঞ্জের আজিবপুরের বিএনপি কর্মী রবিনহুড সালাউদ্দিনকে গত ৬ মাস আগে ডেসা অফিসে ধরে জখম করে মাদক, চুরির ৩টি মামলা দিয়ে আত্মগোপনে থাকতে বাধ্য করা হয়।



শিমরাইল গ্রামের বাসিন্দা ও ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি ঈমান আলীকে ৪ মাস আগে জখম করে ৮টি ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কার্যকরী কমিটির সদস্য মনিরুল ইসলামকেও ৩ মাস আগে পিটিয়ে গুরুতর জখম করে ৫টি সাজানো মামলা দিয়ে বাড়িছাড়া করা হয়।



চেয়ারম্যানের ঘনিষ্ঠখ্যাত ঠিকাদার হযরতকে ঈদের আগের সপ্তাহে সড়ক ও জনপদ অফিসের ভেতরে এবং সিদ্ধিরগঞ্জের নয়াপুরের সেলিমকে ৩ মাস আগে পিটিয়ে জখম করা হয়। টাকার ভাগবাটোয়ারায় মনোমানিল্য হওয়ায় এ দুটি ঘটনা ঘটে।



সিদ্ধিরগঞ্জ ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি নজরুল ইসলাম বলেন, ‘হোসেন চেয়ারম্যানের অবৈধ কাজের প্রতিবাদ করায় গত ডিসেম্বরে আমাকে আটকে পুলিশকে দিয়ে অস্ত্র মামলায় আসামি করার পাঁয়তারা করা হয়। বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও যুবলীগ কর্মীরা থানা ঘেরাও করলে পুলিশ আমাকে ছাড়তে বাধ্য হয়।’



সিদ্ধিরগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সেক্রেটারি ও থানা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ইমাম হোসেন বাদল বলেন, ‘হোসেন চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে কথা বলা আর নিজের গায়ে আগুন দেয়া একই কথা।’ বাদল জানান, তার অবৈধ কাজের প্রতিবাদ করাই আমাকে নির্যাতনের পরিকল্পনা নেয়। ব্যর্থ হয়ে ৮টি মিথ্যা মামলা দেয়। যা থেকে হাইকোর্ট আমাকে জামিন দিয়েছে। কিন্তু এখন তাঁর বাহিনী আমাকে জখম করতে খুঁজছে। ফলে দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকতে বাধ্য হচ্ছি।’



ভিভিআইপি স্টাইলে চলাফেরা, বাধায় পুলিশ জখম: কাউন্সিলর নুর হোসেন লেখাপড়া না জানলেও চলেন ভিভিআইপি স্টাইলে। চলাচলের সময় সামনে-পেছনে রাখেন অন্তত ১০টি গাড়িবহর। পথে রাখেন নিজস্ব পাহারাদার। যারা যানজট এড়াতে সাধারণদের চলাচল বন্ধ করে রাস্তা ফাঁকা রাখেন।



পুলিশ সূত্র জানায়, হোসেন চেয়ারম্যান বের হবে- এজন্য ২৪ জুলাই দুপুরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের শিমরাইল মোড়ে ব্যারিকেড দিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে তার বাহিনী। এ সময় দায়িত্ব পালনের উদ্দেশে আড়াইহাজারে যাচ্ছিল নারায়ণগঞ্জ শিল্প পুলিশের একটি দল। দীর্ঘক্ষণ কাঠফাটা রোদে আটকে থেকে অতিষ্ঠ কনস্টেবল ইন্দ্রজিত্ প্রতিবাদ করে গাড়ি ছাড়তে বললে বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে ইন্দ্রজিেক পিটিয়ে মাথা (৬টি সেলাই দিতে হয়েছে) ফাটিয়ে দেয় হোসেন বাহিনীর সদস্যরা। গুরুতর অবস্থায় ইন্দ্রজিেক প্রথমে সাজেদা হাসপাতালে পরে অবস্থার অবনতি হলে খানপুরের ২০০ শয্যাবিশিষ্ট নারায়ণগঞ্জ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওইদিন রাতেই সরকারি কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগে ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। এ ঘটনায় নূর হোসেনের ঘনিষ্ঠ সোহেলকে গ্রেফতার করা হলেও অন্য আসামিরা পুলিশের সামনেই ঘুরছে ।



ট্রাক হেলপার থেকে শত কোটি টাকার মালিক: ১৯৮৫ সালেও ট্রাক ড্রাইভার ‘ফরহাদ ওস্তাদ’র হেলপার ছিলেন কাউন্সিলর নূর হোসেন। এরপর ‘মান্নান কন্ট্রাক্টর’র ট্রাকে ড্রাইভার হিসেবে চাকরি নেন। ১৯৮৭ সালে বদরুদ্দিন (হোসেনের বাবা) একটি পুরনো ট্রাক কিনলে (ঢাকা-১৯৭৫) তার ড্রাইভার হন নূর। ট্রাক চালানোর সময়ে অপরাধমূলক নানা কর্মকাণ্ডে জড়ান তিনি। ১৯৯১ সালে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। বাড়ে অপরাধ তত্পরতা। ১৯৯৬ সালে শামীম ওসমান এমপি ও আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় বসলে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেন নূর। অবৈধ কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ করেন এলাকাবাসীকে। ফলে ২০০১ সালে নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পরাজয় হলে গোপনে দেশ ছাড়তে বাধ্য হন তিনি। ফিরে আসেন বর্তমান সরকারের ক্ষমতা নেয়ার পর। এবার বীরদর্পে সংঘটিত করতে থাকেন অপরাধ কর্মকাণ্ড। এখন সিদ্ধিরগঞ্জসহ নারায়ণগঞ্জের একাংশের অপরাধ জগত্ নিয়ন্ত্রণ করছেন। অবৈধ আয়ে এরইমধ্যে শত শত কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন।



দাম্ভিক হোসেনের বিরুদ্ধে ১৮ মামলা, নীরব পুলিশ: নারায়ণগঞ্জ সদর ও ফতুল্লা মড়েল থানা এবং সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় চাঁদাবাজি, বিস্ফোরক, মাদক, ভূমি দখলসহ বিভিন্ন ধারায় ১৮টি মামলা রয়েছে। আলী হোসেন (১৯৯৬ সালে) হত্যাসহ ৯টি মামলায় খালাস পেয়েছেন। অবিশিষ্টগুলোর জামিনে রয়েছেন। সংশ্লিষ্টরা জানান, মামলা থাকলেও পুলিশসহ কেউ কিছু করতে পারে না এবং টাকার বিনিময়ে সব অপরাধ ম্যানেজ হয় বলে নিজেকে অনেক বড় আর দাম্ভিক মনে করেন হোসেন।



চাঁদার ভাগ ১৮০ খামে: হোসেন চেয়ারম্যান তার অবৈধ আয়ের ভাগ প্রতি মাসে উেকাচ হিসেবে ১৮০টি খামে করে (একেকটিতে ১০ হাজার থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত) পাঠানো হয়। যা যায় ক্ষমতাধর এক উপদেষ্টা, সরকারের শীর্ষ কার্যালয়, আওয়ামী লীগের একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা, ডিসি, এসপি, র্যাব, ওসিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অসাধু সদস্য এবং বিআইডব্লিউটিএ ও সওজের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের কাছে।



সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল মতিন বর্তমানকে বলেন, ‘হোসেন চেয়ারম্যানের কার্যক্রম নিয়ে কেউ অভিযোগ করে না; তাই কোনো পদক্ষেপও নেয়া যায় না। আর মিথ্যা মামলা হলেও তা আমি দায়িত্ব নেয়ার আগে।’

সূত্র- দৈনিক বর্তমান





( সংযোগ- নূর হোসেন ইন্টারপোলের রেড ওয়ারেন্টভুক্ত আসামী ছিল। আওয়ামীলীগের আলোচিত শামীম ওসমানের আর্শীবাদপুষ্ট সে। ৯৬'র আওয়ামীলীগ আমলে খালেদা জিয়ার লং মার্চ আটকে দেয়ার পেছনে নূর হোসেন ছিল অন্যতম। )



‘রাত ১২টার দিকে সাদ্বিসা মাজার হয়ে বাড়ি ফিরছিলাম। হঠাত্ ৩টি গাড়ি পথরোধ করে। হোসেন চেয়ারম্যানসহ ১৪/১৫ জন গাড়ি থেকে নেমে হিংস্র বাঘের মতো আমার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। লাঠি, হকিস্টিক, রামদা, চাইনিজ কুড়াল দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করতে থাকে। রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়লে টেনেহিঁচড়ে গাড়িতে তুলে শিমরাইল ট্রাক স্ট্যান্ডের কাউন্সিলর অফিসে নেয়। সেখানে আবার হাত-পা বেঁধে অমানুষিক নির্যাতন চালায়। এ সময় প্রচুর রক্তক্ষরণে অজ্ঞান হয়ে গেলে অফিসের সামনের রাস্তায় ফেলে দেয়। ভোরের দিকে এলাকাবাসী হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে ৭দিন অচেতন অবস্থায় মৃত্যুর সঙ্গে লড়েছি। নির্যাতনের নির্মমতায় প্রায় পঙ্গু অবস্থায় ৬ মাস হাসপাতালে থাকতে হয়েছে। এরপর আবার মাদক, চুরি, ভাঙচুরসহ ৪টি মিথ্যা মামলা দিয়ে বাড়িছাড়া করা হয়। কথাগুলো বলতে গিয়ে অঝোরে কাঁদছিলেন সিদ্ধিরগঞ্জের আজিবপুরের বাসিন্দা ও মুক্তিয়োদ্ধা প্রজন্ম কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন আহমেদ।



শুধু সালাউদ্দিনই নয়; সিদ্ধিরগঞ্জের অসংখ্য মানুষ হামলার শিকারে পঙ্গু-জখম। মিথ্যা মামলা ও গ্রেফতার আতঙ্কে এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে। এছাড়া দখল দৌরাত্ম্য ও অতিরিক্ত চাঁদার হারে অতিষ্ঠ ব্যবসায়ী, ঠিকাদার, পরিবহন ও শিল্প মালিক। নিত্যদিনের নৈরাজ্যকর পরিস্থিতিতে স্থানীয়রা অতিষ্ঠ, ক্ষুব্ধ। কিন্তু প্রতিকার না মেলায় নিশ্চুপ। আর সবার সামনে এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ঘটলেও ‘অভিযোগ-মামলা নেই’ বুলি উড়িয়ে নির্বিকার প্রশাসন। ঠিক যেন খুলনার এরশাদ শিকদারের মতো যিনি সেখানে প্রশাসনের সহযোগিতায় কায়েম করেছিলেন ত্রাসের রাজত্ব। এতসব লঙ্কাকাণ্ড নারায়ণগঞ্জ থানার সিদ্ধিরগঞ্জে। দৈনিক বর্তমানের অনুসন্ধানে মিলেছে এসব তথ্য।



স্থানীয় বাসিন্দা, নির্যাতনের শিকার ব্যক্তি ও প্রশাসন সূত্র জানায়, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর নূর হোসেনের (হোসেন চেয়ারম্যান) নেতৃত্বাধীন ‘কেরামিন, কাতেবিন ও মুনকারনাকির বাহিনী’ এখন সিদ্ধিরগঞ্জের ‘ত্রাস’। এ বাহিনীর কর্মকাণ্ডের কারণে ১৯৮৫ সালের ট্রাক হেলপার ‘নূর’ এখন এলাকার ‘আরেক এরশাদ শিকদার’। এরই মধ্যে শত কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। আর একসময়ের সাদামাটা ‘নূর’ এখন করছেন বিলাসী জীবনযাপন। দৈনিক ৫০ লাখ টাকা আয়ের টার্গেটে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, নির্যাতন, অসামাজিক কার্যকলাপসহ অবৈধ সব কাজই করে ‘মহা ক্ষমতাধর’ হোসেন চেয়ারম্যান ও তার বাহিনী।



জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ডেপুটি মেয়র ও কেন্দ্রীয় যুবলীগের সদস্য নজরুল ইসলাম বর্তমানকে বলেন, কাউন্সিলর নূর হোসেন সিদ্ধিরগঞ্জের ‘পাপ’। তার নেতৃত্বে সিদ্ধিরগঞ্জে পতিতালয় হয়েছে। সে দুই মাস ধরে মেলা বসিয়ে অশ্লীল নৃত্য, জুয়া, মাদক ব্যবসাসহ অসামাজিক নানা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সর্বত্র ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে চাঁদাবাজিসহ অবৈধপন্থায় কোটি কোটি টাকা হাতাচ্ছে। আর তা থেকে ভাগ দিচ্ছে প্রশাসনের কর্তাদের। ফলে বিভিন্ন বৈঠকে প্রতিকার চাইলেও কোনো পদক্ষেপ নেয়নি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এতে করে আল্লাহর কাছে বিচার দেয়া আর সাহায্য চাওয়া ছাড়া নিরুপায় ও ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী এখন আর কোনো অবলম্বন নেই।’



বিএনপি দলীয় সাবেক এমপি গিয়াস উদ্দিন বর্তমানকে বলেন, ‘হোসেন চেয়ারম্যানের ক্ষমতার অপব্যবহার, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসসহ অবৈধ কর্মকাণ্ডে নিঃস্ব হচ্ছে এলাকার মানুষ। সে ৩ জুন আমার মালিকানা ও নির্মাণাধীন সিদ্ধিরগঞ্জ টাওয়ার থেকে ১ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করে না পাওয়ায় জোরপূর্বক কাজ বন্ধ করে দিয়েছে। এছাড়া আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পরপরই আমার নিজস্ব তিনতলা কাসসাফ শপিং সেন্টার (জমির ভাগ রয়েছে বলে) জোরপূর্বক দখলে নিয়ে ভাড়া আদায়সহ মালিকানার সব সুবিধা ভোগ করছে। মামলা করেও তার ‘তদবিরের’ কারণে সুবিচার পাচ্ছি না।’



নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) নুরুল ইসলাম বর্তমানকে বলেন, ‘হোসেন চেয়ারম্যান সম্পর্কে বিভিন্ন নেতিবাচক মন্তব্যে আমারও দ্বিমত নেই। তবে, তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ কেউ দেয় না। অভিযোগ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে। আর পুলিশও তাকে সহযোগিতা করে না। পুরো এলাকা চাঁদাবাজিমুক্ত রাখতে তত্পর রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।’



অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে মঙ্গলবার দুপুর পৌনে ১টার দিকে টেলিফোন করা হলে কাউন্সিলর নূর হোসেন দাবি করেন, ‘উত্থাপিত সব অভিযোগই ভিত্তিহীন।’ চাঁদাবাজি, জুয়া, নির্যাতন, দখলসহ অসামাজিক কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট প্রশ্ন করা হলে তিনি উত্তেজিত হয়ে উঠেন। চিত্কার করে এক নিঃশ্বাসে বলতে থাকেন- ‘গিয়াস এমপি ফকিন্নির পোলা, তার বাবা আমাদের বাড়িতে কামলা খাটছে। তার কাছে চাঁদা চাওয়ার কী আছে। আইয়ুব মুন্সী, সালাউদ্দিন, বাদল, ঈমান, নজরুলরা চোর-বাটপার। তারা পালিয়ে-লুকিয়ে থাকলে আমি কী করব। বালু, জুয়া, মাদক ব্যবসা সবাই করে; আমি করলে দোষ কী। পুলিশ কনস্টেবলকে মারপিটের বিষয় আমি শুনিইনি।’



প্রকাশ্যেই চাঁদা আদায়: সংশ্লিষ্টরা জানালেন, হোসেন চেয়ারম্যানের কেরামিন, কাতেবিন ও মুনকারনাকির (কাইল্যা শাজাহান, সানাউল্লাহ সানা ও আলী মোহাম্মদ) বাহিনীর চাঁদাবাজি নারায়ণগঞ্জের একাংশসহ সিদ্ধিরগঞ্জজুড়ে। কাঁচপুর ব্রিজের পার্শ্ববর্তী এক শিল্প প্রতিষ্ঠানের মালিক বলেন, ‘হোসেন চেয়ারম্যান গত ২ বছর অব্যাহতভাবে চাঁদা নিচ্ছে। আগে প্রতি মাসে ১ লাখ টাকা নিলেও এবার ঈদ উপলক্ষে জোরপূর্বক ৩ লাখ টাকা নিয়েছে। মোটা অঙ্কের বিনিয়োগ থাকায় চাঁদার অত্যাচার সহ্য করছি। ওই ব্যবসায়ী জানান, এই এলাকায় প্রতিষ্ঠিত পাঁচ শতাধিক বৃহত্ ও সহস্রাধিক ছোট শিল্প মালিকদের প্রত্যেকেই মোটা অঙ্কের মাসোহারার বিনিময়ে ব্যবসা করছে। এছাড়া ফুটপাতের অন্তত ২ হাজার ব্যবসায়ী দিনে গড়ে ৩শ টাকা করে চাঁদা গুণছে।



সিদ্ধিরগঞ্জের হীরাঝিলের চুন ব্যবসায়ীরা জানালেন, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে এখানকার ৪০ কারখানার প্রতিটি থেকে এক লাখ টাকা করে চাঁদা তুলেছে হোসেন চেয়ারম্যানের দুর্বৃত্তরা। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরেই প্রতিমণ চুন থেকে ৩০ টাকা হারে চাঁদা নিচ্ছে। মণের হিসাব প্রসঙ্গে বললেন, চেয়ারম্যানের নিয়োগকৃত ২ যুবক একেকটি দোকান থেকে কত ট্রাক চুন বিক্রি হয় তার হিসাব রেখে দিনশেষে চাঁদার মোট টাকা নিয়ে যায়।



বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন এবং বাস ও ট্রাক মালিক সমিতি সূত্রের দাবি, সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে চলাচলকারী দুই হাজার বাসের প্রতিটির বিপরীতে (৫৬টি কাউন্টার থেকে) দিনে ৫০০ টাকা এবং শিমরাইল স্ট্যান্ড থেকে ছেড়ে যাওয়া অন্তত ৫০০ ট্রাকের প্রতিটি থেকে দিনে ৬০০ টাকা করে চাঁদা উঠানো হয়।



গত সপ্তাহে আদমজী ইপিজেড কারখানার থেকে ৪০ লাখ টাকায় পুরনো পণ্য কিনে ব্যবসায়ী মুনছুর সাভার নিতে গেলে তা আটকে ১০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করা হয়।



সংশ্লিষ্টরা জানান, অপরাধ সংগঠিত, চাঁদা আদায় এবং এ সংক্রান্ত সব কাজ তদারকির জন্য সিদ্ধিরগঞ্জের হীরাঝিলে অফিস বসিয়েছে হোসেন চেয়ারম্যানের বাহিনী।



বেপরোয়া বালু উত্তোলন, জমজমাট পাথর ব্যবসা: ঈদের আগের সোমবার সরেজমিন দেখা যায়, কাচপুর ব্রিজের নিচ দিয়ে বহমান শীতলক্ষ্যা নদী থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালু তুলছে ‘জজ এন্টার প্রাইজ’ (হোসেন চেয়ারম্যানের আপন ছোট ভাইয়ের নামের প্রতিষ্ঠান)। সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানান, এই বালু ব্যবসা থেকে প্রতিদিন অন্তত ১০ লাখ টাকা আয় হোসেন চেয়ারম্যানের। এছাড়া ব্রিজের নিচে অব্যাহত চলা শক্তিশালী পাথর ভাঙানো মেশিন মালিকদের (৩৫ গদি) প্রত্যেকের থেকে মাসে ৩০ হাজার টাকা করে চাঁদা নেয় হোসেন চেয়ারম্যান।



প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি, ট্রানজিট শিমরাইল ট্রাক স্ট্যান্ড: সিদ্ধিরগঞ্জ থানা থেকে মাত্র ২ কিলোমিটার উত্তরে শিমরাইল আন্তঃজেলা ট্রাক টার্মিনাল। পূর্বাঞ্চল থেকে আসা ঢাকামুখী সব মাদক পরিবহনই এই টার্মিনালকে নিরাপদ ‘ট্রানজিট পয়েন্ট’ হিসেবে ব্যবহার করছে। প্রতিদিন হাতবদল হওয়া অন্তত ১০ ট্রাকের প্রতিটির বিপরীতে ৫০ হাজার থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত (মাদকের ধরন ও দাম অনুপাতে) চাঁদা নেয় নূর। সংশ্লিষ্টরা জানান, ট্রাক টার্মিনালে, কাউন্সিলরের অফিসের পেছনে (সাবেক জিহাদ হোটেল), টেকপাড়া, ডেমরা আদমজী রোডে ফজলুর রহমান ও আজিম উদ্দিন পেট্রোল পাম্পের পেছনে প্রকাশ্যেই বিক্রি হয় ফেনসিডিল, ইয়াবা, হেরোইন, গাঁজা, মদ, বেয়ারসহ সব ধরনের মাদক। এসব মাদক ব্যবসার মালিকানা সরাসরি হোসেন চেয়ারম্যানের।



যা তদারকি করেন আজাহার, সানাউল্লাহ, আলী মোহাম্মদ ও তারসিল। মাদক বিক্রির লাভ থেকে দিনে অন্তত ৫ লাখ টাকা পকেটস্থ করেন নূর।



সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিতে কাউন্সিলর অফিসকেই মাদকের নিরাপদ আস্তানা হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এজন্য অফিসের পেছনের দিকে রাখা হয়েছে গোপন স্টিলের দরজা। যা দিয়ে মাদক আনানেয়া হয়।



আয়ের উত্স মিনি পতিতালয়েও: এলাকাবাসী জানান, শীতলক্ষ্যা হাউজিং এলাকায় গোধুলী সিনেমা হলের পূর্বদিকে রয়েছে পৃথক দুটি মিনি পতিতালয়। যা পরিচালনা করছে হোসেন চেয়ারম্যানের সহযোগী শিপন, শাজাহান ও মামুন। এছাড়া ট্রাক স্ট্যান্ডের পাশের প্যারাডাইস ও সুন্দরবন হোটেলও পতিতালয় হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। এ হোটেল দুটি পরিচালনা করছে হোসেন চেয়ারম্যানের ভাতিজা ও ৩ নং ওয়ার্ড় কাউন্সিলর শাহজালাল বাদল। এসব পতিতালয় থেকে প্রতিদিন অন্তত ৫০ হাজার টাকা চাঁদা যায় হোসেন চেয়ারম্যানের কাছে।



হামলায় পঙ্গু, মামলায় এলাকাছাড়া: অনুসন্ধানে জানা যায়, হোসেন চেয়ারম্যানের সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, অসামাজিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অবস্থানসহ প্রতিবাদ করায় এরই মধ্যে হামলা ও মামলার শিকার হয়েছেন আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দলীয় নেতাকর্মী এবং ব্যবসায়ীরা। হোসেন চেয়ারম্যানের বাহিনী অসংখ্য মানুষকে ফিল্মি স্টাইলে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে ও রাস্তায় ধরে হাত-পা গুঁড়িয়ে জখম-পঙ্গু করে মিথ্যা মামলা দিয়েছে। যাদের অনেকেই এখন বাড়ি ছেড়ে আত্মগোপনে।



শিমড়াইল গ্রামের বাসিন্দা ও চিটাগাং রোডের এ রহমান সুপার মার্কেটের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও আইয়ুব আলী সুপার মার্কেটের মালিক আইয়ুব আলী মুন্সীকে পিটিয়ে জাল টাকার মিথ্যা মামলা দেয়। এরপর রাজনৈতিক, গাড়ি ভাঙচুর, মাদক, সন্ত্রাসীসহ ২১টি মিথ্যা মামলা দিয়ে এলাকাছাড়া করে। টেলিফোনে জানতে চাইলে আইয়ুব মুন্সী বর্তমানকে বলেন, হোসেন চেয়ারম্যান সিদ্ধিরগঞ্জের গডফাদার। মোটা অঙ্কের উেকাচ পাওয়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হোসেনের কথায় উঠে-বসে। আমি ২০ লাখ টাকা চাঁদা দেয়নি বলে আমার আইয়ুব আলী সুপার মার্কেট ৪ বছর ধরে বন্ধ করে দিয়েছে। এছাড়া হোসেন চেয়ারম্যানের নির্দেশে অবৈধভাবে ট্রাক স্ট্যান্ড করা হয়েছে রহমান সুপার মার্কেটের সামনে। এতে করে ক্রেতারা দোকানে ঢুকতে না পারায় বন্ধের উপক্রম হয়েছে মার্কেটটি। এ বিষয়ে ডিসির কাছে অভিযোগ দিলে টিএনও’র নেতৃত্বে ৪ সদস্যের তদন্ত কমিটি সরেজমিন দেখে দ্রুত ট্রাক না সরালে আইনি পদক্ষেপ নেয়ার পরামর্শ দিয়ে প্রতিবেদন দেয়। কিন্তু মোটা অঙ্কের অর্থ লেনদেন হওয়ায় প্রতিকার মেলেনি আজও।



আইয়ুব মুন্সীর ভাতিজা হাসান পারভেজকেও প্রায় ১ বছর আগে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে পিটিয়ে পঙ্গু করা হয়। পরে দেয়া হয় ৮টি মিথ্যা মামলা। এখন হাসানও এলাকাছাড়া।



সিদ্ধিরগঞ্জের আজিবপুরের বিএনপি কর্মী রবিনহুড সালাউদ্দিনকে গত ৬ মাস আগে ডেসা অফিসে ধরে জখম করে মাদক, চুরির ৩টি মামলা দিয়ে আত্মগোপনে থাকতে বাধ্য করা হয়।



শিমরাইল গ্রামের বাসিন্দা ও ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি ঈমান আলীকে ৪ মাস আগে জখম করে ৮টি ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কার্যকরী কমিটির সদস্য মনিরুল ইসলামকেও ৩ মাস আগে পিটিয়ে গুরুতর জখম করে ৫টি সাজানো মামলা দিয়ে বাড়িছাড়া করা হয়।



চেয়ারম্যানের ঘনিষ্ঠখ্যাত ঠিকাদার হযরতকে ঈদের আগের সপ্তাহে সড়ক ও জনপদ অফিসের ভেতরে এবং সিদ্ধিরগঞ্জের নয়াপুরের সেলিমকে ৩ মাস আগে পিটিয়ে জখম করা হয়। টাকার ভাগবাটোয়ারায় মনোমানিল্য হওয়ায় এ দুটি ঘটনা ঘটে।



সিদ্ধিরগঞ্জ ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি নজরুল ইসলাম বলেন, ‘হোসেন চেয়ারম্যানের অবৈধ কাজের প্রতিবাদ করায় গত ডিসেম্বরে আমাকে আটকে পুলিশকে দিয়ে অস্ত্র মামলায় আসামি করার পাঁয়তারা করা হয়। বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও যুবলীগ কর্মীরা থানা ঘেরাও করলে পুলিশ আমাকে ছাড়তে বাধ্য হয়।’



সিদ্ধিরগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সেক্রেটারি ও থানা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ইমাম হোসেন বাদল বলেন, ‘হোসেন চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে কথা বলা আর নিজের গায়ে আগুন দেয়া একই কথা।’ বাদল জানান, তার অবৈধ কাজের প্রতিবাদ করাই আমাকে নির্যাতনের পরিকল্পনা নেয়। ব্যর্থ হয়ে ৮টি মিথ্যা মামলা দেয়। যা থেকে হাইকোর্ট আমাকে জামিন দিয়েছে। কিন্তু এখন তাঁর বাহিনী আমাকে জখম করতে খুঁজছে। ফলে দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকতে বাধ্য হচ্ছি।’



ভিভিআইপি স্টাইলে চলাফেরা, বাধায় পুলিশ জখম: কাউন্সিলর নুর হোসেন লেখাপড়া না জানলেও চলেন ভিভিআইপি স্টাইলে। চলাচলের সময় সামনে-পেছনে রাখেন অন্তত ১০টি গাড়িবহর। পথে রাখেন নিজস্ব পাহারাদার। যারা যানজট এড়াতে সাধারণদের চলাচল বন্ধ করে রাস্তা ফাঁকা রাখেন।



পুলিশ সূত্র জানায়, হোসেন চেয়ারম্যান বের হবে- এজন্য ২৪ জুলাই দুপুরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের শিমরাইল মোড়ে ব্যারিকেড দিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে তার বাহিনী। এ সময় দায়িত্ব পালনের উদ্দেশে আড়াইহাজারে যাচ্ছিল নারায়ণগঞ্জ শিল্প পুলিশের একটি দল। দীর্ঘক্ষণ কাঠফাটা রোদে আটকে থেকে অতিষ্ঠ কনস্টেবল ইন্দ্রজিত্ প্রতিবাদ করে গাড়ি ছাড়তে বললে বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে ইন্দ্রজিেক পিটিয়ে মাথা (৬টি সেলাই দিতে হয়েছে) ফাটিয়ে দেয় হোসেন বাহিনীর সদস্যরা। গুরুতর অবস্থায় ইন্দ্রজিেক প্রথমে সাজেদা হাসপাতালে পরে অবস্থার অবনতি হলে খানপুরের ২০০ শয্যাবিশিষ্ট নারায়ণগঞ্জ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওইদিন রাতেই সরকারি কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগে ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। এ ঘটনায় নূর হোসেনের ঘনিষ্ঠ সোহেলকে গ্রেফতার করা হলেও অন্য আসামিরা পুলিশের সামনেই ঘুরছে ।



ট্রাক হেলপার থেকে শত কোটি টাকার মালিক: ১৯৮৫ সালেও ট্রাক ড্রাইভার ‘ফরহাদ ওস্তাদ’র হেলপার ছিলেন কাউন্সিলর নূর হোসেন। এরপর ‘মান্নান কন্ট্রাক্টর’র ট্রাকে ড্রাইভার হিসেবে চাকরি নেন। ১৯৮৭ সালে বদরুদ্দিন (হোসেনের বাবা) একটি পুরনো ট্রাক কিনলে (ঢাকা-১৯৭৫) তার ড্রাইভার হন নূর। ট্রাক চালানোর সময়ে অপরাধমূলক নানা কর্মকাণ্ডে জড়ান তিনি। ১৯৯১ সালে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। বাড়ে অপরাধ তত্পরতা। ১৯৯৬ সালে শামীম ওসমান এমপি ও আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় বসলে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেন নূর। অবৈধ কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ করেন এলাকাবাসীকে। ফলে ২০০১ সালে নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পরাজয় হলে গোপনে দেশ ছাড়তে বাধ্য হন তিনি। ফিরে আসেন বর্তমান সরকারের ক্ষমতা নেয়ার পর। এবার বীরদর্পে সংঘটিত করতে থাকেন অপরাধ কর্মকাণ্ড। এখন সিদ্ধিরগঞ্জসহ নারায়ণগঞ্জের একাংশের অপরাধ জগত্ নিয়ন্ত্রণ করছেন। অবৈধ আয়ে এরইমধ্যে শত শত কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন।



দাম্ভিক হোসেনের বিরুদ্ধে ১৮ মামলা, নীরব পুলিশ: নারায়ণগঞ্জ সদর ও ফতুল্লা মড়েল থানা এবং সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় চাঁদাবাজি, বিস্ফোরক, মাদক, ভূমি দখলসহ বিভিন্ন ধারায় ১৮টি মামলা রয়েছে। আলী হোসেন (১৯৯৬ সালে) হত্যাসহ ৯টি মামলায় খালাস পেয়েছেন। অবিশিষ্টগুলোর জামিনে রয়েছেন। সংশ্লিষ্টরা জানান, মামলা থাকলেও পুলিশসহ কেউ কিছু করতে পারে না এবং টাকার বিনিময়ে সব অপরাধ ম্যানেজ হয় বলে নিজেকে অনেক বড় আর দাম্ভিক মনে করেন হোসেন।



চাঁদার ভাগ ১৮০ খামে: হোসেন চেয়ারম্যান তার অবৈধ আয়ের ভাগ প্রতি মাসে উেকাচ হিসেবে ১৮০টি খামে করে (একেকটিতে ১০ হাজার থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত) পাঠানো হয়। যা যায় ক্ষমতাধর এক উপদেষ্টা, সরকারের শীর্ষ কার্যালয়, আওয়ামী লীগের একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা, ডিসি, এসপি, র্যাব, ওসিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অসাধু সদস্য এবং বিআইডব্লিউটিএ ও সওজের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের কাছে।



সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল মতিন বর্তমানকে বলেন, ‘হোসেন চেয়ারম্যানের কার্যক্রম নিয়ে কেউ অভিযোগ করে না; তাই কোনো পদক্ষেপও নেয়া যায় না। আর মিথ্যা মামলা হলেও তা আমি দায়িত্ব নেয়ার আগে।’

সূত্র- দৈনিক বর্তমান]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/anwarhasan/29866150 http://www.somewhereinblog.net/blog/anwarhasan/29866150 2013-08-16 19:40:32