এক.
বাইরে ঝুম বৃষ্টি হচ্ছে। একটা অজপাড়াগায়ের বৃদ্ধাশ্রমে আমি বসে আছি। আমার মুখোমুখি বসেছে পরী। পরী নাম বলাতে মনের মধ্যে একটা সুন্দর মেয়ের ছবি ভেসে উঠবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু আমার সামনে যে পরী বসে আছে তার বয়স ৫০ পেরিয়েছে। মাথার চুল কাশ বনের মতো পাকা। হাতের চামড়াগুলো লাবন্যতা হারিয়ে জং ধরা লোহার মতো খসখসে হয়ে গেছে। জানতাম এমনই হবে। তবুও আমরা আজ এই দিনের অপোয় ছিলাম। আমার বানানো বৃদ্ধাশ্রমে ও শেষ বয়সে এসে থাকবে, আমার মুখোমুখি বসবে এমনই কথা ছিল আমাদের। আজ সেই স্বপ্ন পূরনের দিন। বৃষ্টির ঝম ঝম শব্দ যেন ওকে স্বাগত জানানো শুরু করলো এইতো... একটু আগে থেকে।
দুই.
মেয়েটি সবচেয়ে বড় গুন ও অনেক ভাল কবিতা লেখে। কিন্তু কবিতা শোনানোর মানুষ পায়না। একমাত্র ইঞ্জিনিয়ার স্বামীর কখনই সময় হয়না চাঁদের বৃষ্টিতে ভিজে রাতপ্রহরী বউটার কবিতা শোনে। তাই বাধ্য হয়েই কবিতা শোনানোর মানুষ খোঁজা। বুঝুক আর নাই বুঝুক শোনে তো। মধ্যরাতে স্বামীকে বিছানায় রেখে অথবা স্বামীর রাতের বিশেষ ুধা মিটিয়ে মেয়েটি কবিতা লেখে। বাবু জেগে যাবে বলে হয় অন্য ঘর অথবা নির্ভরতা মোমের উপর। ব্যপারটি ‘ক্যান্ডেলাইট কবিতা চর্চা’র মতো। আর সকালে সূর্যদেব উঠলেই মোবাইল ফোন অপারেটরদের পকেট ভারি করতে করতে কবিতা শোনায় আমাকে। আমি শুনি। মন্ত্রমুগ্ধের মতো। কবিতা শুনি নাকি ওকে পড়ি ঠিক বুঝে উঠতে পারিনা। শুধু শোনা না, মোবাইল নামক যন্ত্রটার পেট ভরিয়ে দেয় ওর কবিতা আর নিজের কথা দিয়ে।
‘সারারাত আমি সুখে ভেসেছি তোমার আদরে/ মেঘের মতো লুকিয়েছিলাম তোমার চাদরে/ কেমন করে কেটে গেল রাত বুঝতে পারিনি/ ভোরের আকাশ ফেললো আলো মুগ্ধ হরিনী! - তোমার পরী।’
তিন.
মোবাইল ফোনে পরিচয়ের ২৪ ঘন্টার মধ্যে আপনি থেকে তুই। প্রথম যেদিন ও ফোন করে সেদিন আমি বই মেলায়। তারপর দিন গ্রামে। এত হাসতে পারতো মেয়েটা। মোবাইল ফোনের যদি প্রান থাকতো তাহলে ও ব্যাটা হাসির ঠেলায় মুখ গুমড়ে কেঁদে ফেলতো। কিন্তু প্রানময় আমি ওর হাসিতে আরও প্রানবন্ত হয়ে উঠি। বৃষ্টির ছোয়া ফেলে বাড়ির আনাচে কানাচের গাছ গাছালি যেভাবে লকলকিয়ে ওঠে। ঠিক সেভাবে। আর প্রানচাঞ্চলতায় বেড়ে উঠতে গিয়ে আপনি তুই মধ্যবর্তী সম্বোধনে আমাদের অবস্থান যে কখন হয়েছে দুজনের একজনও টের পাইনি।
চার
‘তোর নূপুর কেমন লাগে? এক পায়ে? বলনা আকাশের চাঁদ এনে দিবি, একবার আমায় রাজকন্যা বলনা? কি হবে বলে তাইনা?’
আমার মুঠোফোনে পাঠানো ওর ছোট এই বার্তা গুলোর উত্তর কখনই দেয়া হয়নি। আমি গানের সেই গায়ক তপু না। আমি রাতুল। তাই সাহসে কুলোয়নি। একজনের অধিকার করা মানুষকে আমি কোন দুঃসাহসে বলবো এসব। তাই বৃদ্ধ হওয়ার অপো। অপোর পালা শেষ হয়ে আমি আর ও মুখোমুখি। এখন অপো নিস্প্রান হওয়ার।
ছবি: পরীর ফেসবুক প্রোফাইল থেকে নেয়া।
আলোচিত ব্লগ
মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪
মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।
মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন
শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন
পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন
“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন
আমাদের গ্রামের গল্প!

আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।