আমার প্রিয় পোস্ট

...

সুলতানার স্বপ্ন......(শেষ)

৩০ শে জুন, ২০০৯ বিকাল ৪:৫১

শেয়ারঃ
0 0 0



প্রথম পর্ব

দ্বিতীয় পর্ব

তৃতীয় পর্ব

চতুর্থ পর্ব


-- যখন আমি ফিরে যাব, আমার বন্ধুদের কাছে গিয়ে গল্প করবো এই নারীদের দেশ নিয়ে, যেখানে নারীরা শাসন করে, সব সামাজিক কর্মকান্ড নিয়ন্ত্রণ করে, তারা কেমন অবাক হবে!! যেখানে পুরুষরা অন্দরমহলে থেকে বাচ্চা-কাচ্চা লালন-পালন করে, রান্না-বান্না করে, গৃহস্থালীর সব কাজ......!!!

-- হ্যাঁ, তুমি কি দেখেছো তা তাদেরকে বলবে।
-- আচ্ছা, তোমরা তোমাদের চাষাবাদ বা পরিশ্রমসাধ্য কাজগুলো কিভাবে কর?
-- বিদ্যুতের সাহায্যে আমরা জমি নিংড়াই, এছাড়া বাকী সব কঠিন কাজও বিদ্যুৎচালিত শক্তি দিয়ে করা হয়, এমনকি কি আমাদের বায়ু-যানও চালানো হয় বিদ্যুৎ দিয়ে।আমাদের কোন রেলপথ বা মসৃণ রাস্তা নেই।

-- আমি জিজ্ঞ্যেস করলাম। তাই বুঝি এখানে কোন সড়ক বা রেল দুর্ঘটনাও নেই? তোমরা বৃষ্টির পানির কারণে কোন সমস্যায় পড় না?

-- পানি-বেলুন স্থাপন করার পর আমরা আর কোন সমস্যায় পড়িনি। তুমি ওখানটায় বিরাট বেলুন আর সাথের পাইপগুলো দেখতে পাচ্ছ নিশ্চয়ই। এগুলোর সাহায্যে আমরা যত বেশী পারা যায় তত পরিমাণ বৃষ্টির পানি সংগ্রহ করি।ফলে আমাদের বন্যা বা ঝড়-বৃষ্টিজনিত কোন সমস্যা নেই। আমরা প্রকৃতিকে যতটা সম্ভব আমাদের কাজে লাগানোর চেষ্টায় ব্যস্ত।তাই আমাদের কারো সাথে ঝগড়া-বিবাদ করার সময় নেই, এমনকি অলসভাবে কাটানোর মতোও সময় নেই। আমাদের মহান রাণী গাছ-পালা খু-ব পছন্দ করেন। তার লক্ষ্য হছে সারা দেশকে সবুজ বনানীতে ঢেকে ফেলা।

-- হুমম, এটা খুব ভাল চিন্তা।আচ্ছা, তোমাদের প্রধান খাবার কি?
-- ফলমূল।
-- গরমের সময় তোমরা কি করো? তখন তো বৃষ্টি আমাদের কাছে স্বর্গ থেকে পাওয়া আশির্বাদস্বরূপ।
-- যখন গরম খুব অসহনীয় হয়ে উঠে তখন আমরা কৃত্রিম ঝর্ণা থেকে পানি ছিটাই, আর শীতকালে সূর্যের তাপ দিয়ে রুম গরম রাখি।

-- সে আমাকে তার বাথরুম দেখালো, যেখানে ছাদ সরানোর ব্যবস্থা আছে। সে যখন খুশী তখন শাওয়ার নিতে পারে, শুধু ছাদ সরিয়ে আর শাওয়ারের ট্যাপ খুলেই।


-- তুমি খুবই ভাগ্যবতী! আচ্ছা আমি কি জানতে পারি তোমাদের ধর্ম কি?
-- আমাদের ধর্ম ভালোবাসা আর সত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত। আমাদের ধর্মীয় দায়িত্ব হলো একে অপরকে ভালোবাসা আর সম্পূর্ণরূপে সত্যবাদী হওয়া। যে মিথ্যে বলবে তাকে......

-- মৃত্যুদন্ড দিয়ে শাস্তি দিবে?
-- না, মৃত্যুদন্ড দিয়ে নয়।আমরা সৃষ্টিকর্তার কোন সৃষ্টিকে হত্যা করতে চাই না, এমনকি মানুষকেও না।মিথ্যেবাদীকে এই দেশ ত্যাগ করতে বলা হয় এবং আর সে কখনো ফিরে আসার অনুমতি পায় না।

-- কাউকে ক্ষমা করা হয় না?
-- হ্যাঁ হয়, যারা খুব আন্তরিকভাবে ক্ষমা চায়।:)


-- তোমরা তোমাদের আত্মীয়-স্বজন ছাড়া আর কোন পুরুষদের দেখতে পাও না?
-- এখানে বৈধ সম্পর্ক ছাড়া আর কোন কিছু মেনে নেয়া হয় না।
-- আমাদের সমাজে আপন সম্পর্কের সীমা অনেক সীমিত, এমনকি সবচেয়ে কাছের চাচাতো ভাইকেও আপন ভাবা হয় না।
-- কিন্তু আমাদের সমাজে অনেক দূরের চাচাতো ভাইকেও আপন ভাইয়ের মতো ভাবা হয়।

-- খুব ভাল।তোমরা সম্পর্কের পবিত্রতা রক্ষা করে চলছো। আমি অবশ্যই তোমাদের জ্ঞানী এবং দূরদর্শিজ্ঞানসম্পন্ন রাণীকে দেখবো, যিনি এসব আইন-কানুন তৈরী করেছেন।
-- ঠিক আছে, সা’রা বললো।


এরপর সে একখন্ড বর্গাকৃতি কাঠের উপর দুটো সীট লাগালো। তারপর এই কাঠখন্ডের সাথে দুটো মসৃণ এবং খুব পালিশ করা দুটো বল লাগালো।আমি তাকে এই ব্যাপারে জিজ্ঞ্যেস করতেই সে বললো ওগুলো হাইড্রোজেন বল এবং এগুলো মাধ্যাকর্ষণ শক্তি কাটাতে কাজ করবে। বিভিন্ন ওজনের জন্য বিভিন্ন ক্ষমতার বল আছে।তারপর এই বায়ুযানে পাখার মতো দুটো ব্লেড খুব শক্ত করে লাগালো যেগুলো বিদ্যুতের সাহায্যে চলে। আমরা সীটে আরাম করে বসার পর সে একটি নব ঘুরালো আর সাথে সাথে পাখগুলো ঘুরতে লাগলো, প্রতি মুহূর্তে গতি বাড়তে থাকলো। এক পর্যায়ে যানটি প্রায় ৬/৭ ফুট উপরে উঠে গেল, এরপর আমাদের ওড়া শুরু হলো। কিছু বুঝে উঠার আগেই রাণীর প্রাসাদে পৌঁছে গেলাম।



তখন আমার বন্ধুটি মেশিনের বিপরীত ক্রিয়ার সাহায্যে যানটিকে নীচে নামালো। মাটিতে স্পর্শ করার পর যানটি থামলো আর আমরা নেমে এলাম।
যান থেকেই দেখলাম রাণীজী তার মেয়ে (চার বছরের মতো বয়স হবে) আর খানসামাসহ বাগানের পথ ধরে হাঁটছে।
রাণীজী সা’রাকে দেখেই বলে উঠলো, হ্যালো!! তুমি? এখানে? কোন রকমের সৌজন্যতা ছাড়াই আমাকে পরিচয় করিয়ে দেয়া হলো তাঁর সাথে।

তাঁর সান্নিধ্য পেয়ে খুবই ভাল লাগলো। আলোচনার সময় তিনি বললেন, অন্য দেশের সাথে পারস্পরিক লেনদেনের সম্পর্ক গড়ে তুলতে তার কোন আপত্তি নেই। কিন্তু, তিনি বলতে থাকলেন, সেসব দেশের সাথে সম্পর্ক গড়া সম্ভব নয় যেখানে নারীরা অন্দরমহলে বন্দী এবং বাইরে এসে আমাদের সাথে কোনপ্রকারের লেনদেনে অক্ষম।সাধারণতঃ আমরা দেখেছি পুরুষদের মোরালিটি কম থাকে, তাই তাদের সাথে কোন ধরণের লেনদেন আমাদের পছন্দ নয়। আমরা অন্যের সম্পত্তি চাই না, ডায়মন্ডের জন্যও যুদ্ধ করতে চাই না, যদিও তা কোহিনূর থেকে হাজারগুণ উজ্জ্বল, এমনকি আমরা কাউকে শাসন ক্ষমতা থেকেও উৎখাত করতে চাই না।আমরা জ্ঞান সমুদ্রে ঝাপিয়ে পড়তে চাই, আর চাই প্রকৃতি আমাদের জন্য যা কিছু রেখেছে তা থেকেই সম্পদ আহরণ করতে।আমরা প্রকৃতির দানকে যত বেশী সম্ভব ব্যবহার করতে চাই।

রাণীর সাথে কথা বলার পর আমি তাদের বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়গুলো দেখেছি। তাদের কিছু কারখানা, গবেষণাগার, পর্যবেক্ষণকেন্দ্রও দেখেছি।

সব জায়গা দেখা শেষে আবার আমরা বায়ু-যানে চড়ে বসলাম। কিন্তু যখনই সেটা চলতে শুরু করলো, কিভাবে যেন পিছলে গেলাম, আর আমার স্বপ্ন ভেঙ্গে গেল। চোখ খুলে নিজেকে ইজি-চেয়ারে হেলানরত অবস্থায় পেলাম!! :(:(:(

 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): বেগম রোকেয়াবেগম রোকেয়া ;
প্রকাশ করা হয়েছে: নারী ও সমাজ  বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই অক্টোবর, ২০১০ রাত ১০:১২ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ৩০ শে জুন, ২০০৯ বিকাল ৫:১৬
জ্বিনের বাদশা বলেছেন: ভালো কাজ করছেন ... সময় নিয়ে পুরোটা পড়তে হবে
৩০ শে জুন, ২০০৯ বিকাল ৫:৫৬

লেখক বলেছেন: হ্যাঁ, পড়লে খুশী হব। আমার কষ্ট সার্থক হবে সবাই পড়লে। :)

২. ৩০ শে জুন, ২০০৯ বিকাল ৫:১৬
ইমন জুবায়ের বলেছেন: অনেক অনেক কৃতজ্ঞতা বেগম রোকেয়ার দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে এই প্রজন্মের পাঠক/পাঠিকাদের পরিচয় করিয়ে দেওয়ার জন্য।
৩০ শে জুন, ২০০৯ বিকাল ৫:৫৬

লেখক বলেছেন: আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ।

৩. ০১ লা জুলাই, ২০০৯ রাত ১০:৫৫
শ।মসীর বলেছেন: আমার স্বপ্ন ভেঙ্গে গেল।---স্বপ্নরা কেন জানি এমনই হয়।
০২ রা জুলাই, ২০০৯ বিকাল ৫:১০

লেখক বলেছেন: হ্যাঁ, স্বপ্নরা খুব উচ্চাভিলাষী হয়।

 

মোট সময় লেগেছে ০.৮৭১৭ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
আমি বাংলাদেশি নারী।...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ