প্রসংগ ১:
প্রথমেই গরম গরম খবর। রুনার গায়ে হলুদ হচ্ছে, অলংকার কেনা হয়েছে, গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর তাদের বিয়ে দিবেন। সোজা কথা! আমার আপনার কারো বিয়ে কি কোন প্রধানমন্ত্রী দিছেন এ যাবতকালে? জাতি এক্ষণে এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত পার করছে। এমন ইতিহাস সোনার অক্ষরে লেখা থাকুক। সরকারের এ উদ্যোগকে "হ্যাঁ" বলুন। এ ব্যাপারে জামাতকেও "হ্যাঁ" বলুন, কারণ তাদের মাথা থেকেই এ বুদ্ধি বের হয়েছে। তবে এ বিয়ের খরচ প্রধানমন্ত্রীর নিজের বেতনের পয়সা থেকে দিচ্ছেন নাকি সরকারী তহবিল থেকে দিচ্ছেন,সেটা নিয়ে কোন সুস্পষ্ট তথ্য জানা যায়নি এখনো। তবে আমি দাবী করছি এটা যেন সরকারী তহবিল থেকে দেয়া হয়, তাহলে আমরা সাধারণ জনগণও এমন ঐতিহাসিক ঘটনায় অবদান রাখতে পারবো। রুনা-জামিল গণভবনে আয়োজিত এমন জাঁকজমক বিয়েতে খুব সহজেই নিকট আত্মীয়-স্বজনদের মৃত্যুর শোক ভুলে গিয়ে বিয়ের আনন্দে মেতে উঠুক এ কামনা করি। শোক করে আর কি হবে! মৃত আত্মীয়স্বজন তো আর ফিরে আসবে না, কেন শুধু শুধু আর মনে কষ্ট রাখা। পারলে সুযোগ বুঝে প্রধানমন্ত্রী কাছ থেকে হানিমুনের খরচটাও যদি নেয়া যায়, তবে তো কেল্লাফতে। তবে এ ব্যাপারে বিএনপির কিছু একটা করার সুযোগ এখনো আছে, চাইলে ঢাকা-কক্সবাজার প্লেন ভাড়া-হোটেল ভাড়া দিয়ে দিতে পারেন রুনা-জামিলকে। আমরা বিএনপির সে উদ্যোগকেও "হ্যাঁ" বলতে চাই। বাম দলগুলো চাইলে আল্পনা আঁকার এবং স্টেজ সাজানোর দায়িত্ব নিতে পারেন, তাকেও আমরা "হ্যাঁ" বলবো। দেশে রাজনৈতিক নেতাদের ভাল কাজে প্রতিযোগিতার হিড়িক পড়েছে, ভাবতেই ভাল লাগছে, দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা বদলে যাচ্ছি।
এ সুযোগে আরো দু-একটা দাবী করি, কোন একদিন ঝটিকা অভিযান করে পতিতালয়গুলো থেকে পতিতা (ভাসমান পতিতাদেরকেও) এবং তাদের খদ্দেরদেরকে তুলে এনে গণবিবাহের আয়োজন করা হোক, কিছু পতিতা স্ত্রীর মর্যাদা পাক, কেউ যদি এ উদ্যোগ নিতে পারেন, আমরা তাকে "হ্যাঁ" বলবো।
আরেকটা কাজ করা যেতে পারে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসসহ বিভিন্ন পার্কে যেসব অনাথ প্রেমিক-প্রেমিকা জুটি আশ্রয়হীনভাবে ফুটপাথে বসে, গাছের তলায় বসে অবিরাম প্রেম করে যাচ্ছে তাদের ধরে এনে রাষ্ট্রীয়ভাবে বিয়ের আয়োজন করেন। প্রধানমন্ত্রী নিজে এ বিয়েগুলো দিলে বাবা-মা আপত্তি করবে কার সাধ্য! এতে করে ঐসব অনাথ-এতিম জুটিগুলোর বাড়ি বসে বৈধ প্রেম করার সুযোগ তৈরী হবে আর সাধারণ পথচারীরাও একটু স্বস্তিতে পথ চলতে পারবে।
প্রসংগ ২:
অবশেষে তরুণবিলাসিতার প্রতীক ফেইসবুক ওপেন হয়েছে, যদিও বাইরে থেকে এটা বন্ধ হবার যন্ত্রণা কিছুই তেমন টের পাইনি। তবে এটা আজকের প্রজন্মের কাছে আবেগের বিষয়বস্তু হয়ে উঠেছে এটা খুবই সত্যি, আমি নিজেও ফেইসবুকে মাসে বা সপ্তাহে একবার-দুইবার ঢু মারি শুধু পরিচিত মানুষগুলোর একটু খোঁজখবর নিতে, কে কি করছে, খাচ্ছে না ঘুমাচ্ছে না বেড়াচ্ছে, তা জানতে। কার মন খারাপ, কে কাঁদে, কে হাসে, কে নতুন বিয়ে করলো, কে নতুন বাপ হইলো, কে কোথায় হানিমুনে গেল, কার ঈদ কেমন কাটলো, কে কেমন গরু জবাই দিল, কার ঈদের শাড়ীটা কেমন, কে কেমন নতুন সংসার সাজাইলো, ... ... ... যথার্থ সামাজিক নেটওয়ার্কই বটে। তা না হলে পৃথিবীর নানাপ্রান্তে অবস্থিত নানা পরিচিতমুখের এতো খবর কি করে জানতে পারতাম? তবে আমি যেহেতু নিজে কবি বা কবিতাভক্ত নই, তাই পরকীয়ার ব্যাপারটা সেভাবে টের পাইনি। যাক্, সরকারের এ শুভবুদ্ধিকে "হ্যাঁ" বলছি।
তবে http://www.google.com.bd তে গিয়ে a, b, c, d...z ইত্যাদি নানা বর্ণের যেকোন একটি টাইপ করে দেখতে মাননীয় সরকারের সাইবার ক্রাইম রিলেটেড কর্মকর্তাদের অনুরোধ করছি, এবং তখন ড্রপ-ডাউন লিস্টে যে বাংলাসাইটগুলো আপনারা দেখতে পাবেন, ঐ সাইটগুলোর ব্যাপারে আপনাদের আশু কোন কার্যকর পদক্ষেপকেও আমরা "হ্যাঁ" বলবো।
প্রসংগ ৩:
আজকের খবরের আরেকটা গরম খবর বিরোধীদলীয় নেত্রী বাজেট প্রস্তাবনা দিয়েছেন। একেবারে অন্তরের অন্তরস্থল থেকে মাননীয় নেত্রী আপনাকে আমি "হ্যাঁ" বলছি। এই যে শুধু সরকারের দিকে না তাকিয়ে থেকে আপনারাও দেশের ভাল-মন্দের ব্যাপারে ভাবছেন, এতে করে আপনারা ধন্যবাদ অবশ্যই পাওয়ার যোগ্য।
তবে আপনারা যদি দয়া করে সংসদে গিয়ে এ কথাগুলো নিজ মুখে বলে আসেন এবং বাজেট আলোচনায় অংশ নেন, তাহলে আমরা জনগণ ধন্য হই। আপনাদের সে শুভবুদ্ধিকেও আমরা "হ্যাঁ" বলবো। মনে রাখবেন, দলীয়ভাবে হারলেও ঐ ৩০-৩২টা সীটের নির্বাচনের পিছনে জনগণের টাকাও খরচ হয়েছে, আপনাদের গাঁটের পয়সাও খরচ হয়েছে।
আবার ডিজিটাল (!) বাংলাদেশে আশু এনালগ হরতালের রূপ যদি আপনারা বদলাইতে পারেন, তাহলেও আপনাদের "হ্যাঁ" বলবো। সে সাথে যে ইস্যুগুলো নিয়ে আপনারা হরতাল করতে যাচ্ছেন, সে ইস্যুগুলোর কার্যকর সমাধানের ব্যাপারে আপনারা কি কি প্রস্তাব সরকারকে দিয়েছিলেন, সংসদে আলোচনা করেছিলেন, কিন্তু সরকার আপনাদের পাত্তা দেয় নাই, এ ব্যাপারগুলো খোলাসা করে জনগণের সামনে যদি বলতেন, তাহলে আপনাদের ঐ হরতাল এনালগ হওয়া সত্ত্বেও "হ্যাঁ" বলতাম।
প্রসংগ ৪:
আরেকখান গরম গরম খবর হইলো গিয়ে পত্রিকা-টিভির প্রকাশনা বাতিল, এটা নিয়ে নানা মিডিয়া যারপরনাই মুখর, অনেক গরম গরম প্রতিবাদ আসছে, তাই আমার মতো অধমের আর নতুন করে কিছু বলার নাই, কেন জানি "হ্যাঁ" বলতে পারছি না, দুঃখিত। তবে নীরবে-নিভৃতে যে পাঁচখান পিএসটিএন বন্ধ হবার পথে, এ ব্যাপারে কিছু না বলে আর থাকতে পারছি না। মাননীয় সরকার ঐ প্রতিষ্ঠানগুলো নাকি অন্যায় করেছে? অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসা করেছে। আমার প্রথম প্রশ্ন ডিজিটাল বাংলাদেশে ভিওআইপি কেন অবৈধ এবং আর কতদিন অবৈধ থাকবে?
আর দেশি কিছু মানুষ (যদি তাদের কোন দলীয় পরিচয়ও থেকে থাকে) অন্যায় রোজগার করতেছিল, হয় আপনারা তাদের জরিমানা করেন, না হয় নিজেরাই ঐ মালিকানা দখল করে লাভের গুড় খান, অসুবিধা তো নাই, আমরা আপনাদের "হ্যাঁ" বলবো। কত দুর্নীতিই তো এদেশে হচ্ছে, তবুও তো দেশের টাকা দেশেই থাকতো। কিন্তু এখন যে লোকমুখে শুনি অন্য কোন দেশের কিছু কোম্পানীকে সুযোগ দেবার জন্য এ কাজ, কেন , কি দরকারে এ খাতে বিদেশী বিনিয়োগ দরকার হয়ে পড়লো? তাতে আপনারা কিছু সরকারদলীয় লোক যতদিন সরকারে থাকবেন ততদিন না হয় কিছু পাবেন, খাবেন, আবার সরকার পাল্টালে আবারো সেগুলো বন্ধ হয়ে যেতে পারে বা আপনাদের জায়গায় অন্যরা সেখান থেকে কিছু খাবে। কিন্তু মাঝখান থেকে যে অনেক টাকা দেশের বাইরে চলে যাবে, সে হিসাবটা কি আপনারা ইচ্ছা করেই বোঝেন না? জাফর ইকবালরা স্যাররা শুধু ছোটদের গণিত শেখায়, রাজনীতিবিদদের গণিত শেখানোর দায়িত্বও যদি তারা নিতেন, উনাদের সে উদ্যোগকে আমরা "হ্যাঁ" বলতাম।
আবার টেলিকম বিসিএস কর্মকর্তাদেরও চাকরী কোম্পানীভুক্ত করা বনাম স্থায়ী থাকা নিয়ে গ্যাঞ্জাম দেখলাম পত্রিকায়। ডিজিটাল বাংলাদেশে টেলিকমিউনিকেশন খাতেই যদি টেলিকম ইঞ্জিনিয়ারদের চাকরীর এতো অনিশ্চয়তা থাকে, কথায় কথায় বেকার হয়ে পড়ে, তাহলে কেমনে হবে?
যে জায়গায় আসল বৈদেশিক বিনিয়োগ দরকার, মানে বিদ্যুৎ খাতে, নতুন নতুন তেল, গ্যাস বা পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের ক্ষেত্রে যথাযথ দেশীয় স্বার্থ বজায় রেখে বৈদেশিক বিনিয়োগকে আমরা সে কবে থেকেই "হ্যাঁ" বলে বসে আছি। তবে দাবী হলো নতুন এবং নিরাপদ প্রযুক্তি যেন আনা হয়।
যদি কোন সেক্টরে দেশীয় স্বয়ংসম্পূর্ণ উদ্যোগে বা প্রয়োজনে অল্পকিছু বিদেশী বিনিয়োগে যদি কিছু করা যায়, সেকাজে সরকার যথার্থ আন্তরিকতা দেখায় তবে সে আন্তরিকতাকে আমরা "হ্যাঁ" বলবো। আর এ কাজে যদি বিরোধীদলগুলোও সচেতন ও সোচ্চার হয়, তাকেও আমরা "হ্যাঁ" বলবো।
প্রসংগ ৫:
টিপাইমুখ বাঁধের প্রসংগ কেমন যেন আড়ালে পড়ে গেছে। শুনলাম সেখানে বাঁধ নির্মানের ব্যাপারে কাজ এগিয়ে চলছে। এদিকে এটা নিয়ে তেমন কোন কথাবার্তা কেউ বলে না, সরকারও কিছু বলে না, বিরোধীদলের আসন্ন হরতালের ইস্যুতে কি এটা আছে?
এ ব্যাপারে আবারো সরকার পক্ষ, বিরোধী পক্ষ, মিডিয়া-বুদ্ধিজীবী পক্ষ থেকে সচেতনতা সৃষ্টি ও প্রতিবাদের উদ্দেশ্যে আলাপ-আলোচনাকে আমরা "হ্যাঁ" বলতে চাই।
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই অক্টোবর, ২০১০ রাত ৯:২৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



