যাই হোক, এক বন্ধুর সাথে শলা-পরামর্শ করে ঠিক করলাম, রেডাং যাবো। রিসর্ট বুকিং দিলাম। তারপর কুয়ালালামপুর থেকে বাসে করে সোজা টেরেংগানু (Terengganu) স্টেটে। প্রায় সাত ঘন্টা জার্নি। তারপরে যাত্রা বিরতি। কারণ আগেই বাসের বুকিং দিয়ে রেখেছিলাম মেরাং (Merang) জেটিতে যাবার জন্য। বেশ দীর্ঘ পথ। প্রায় এক ঘন্টা লাগল জেটিতে পৌছাতে। পৌছেই মনটা খারাপ হয়ে গেল, জেটির করুণ দশা দেখে। তাছাড়া যে মোহনাতে জেটিটি ভিড়েছিল, তার ধার ঘেঁষে ছিল, একটা ছোট ম্যানগ্রোভ বন, কিন্তু মোহনার পানি ছিল বেশ ঘোলা।
আমি জানি যে, সাউথ চায়না সী’র পানি অসম্ভব রকমের নীল। তাই মোহনার পানি দেখে অতটা ভয় পেলামনা। রিসর্টের জাহাজে করে রেডাং আইল্যান্ড-এ পৌছাতে প্রায় একঘন্টা লাগল।
রেডাং-এ পৌছে অসম্ভব টায়ার্ড লাগছিল। তাই ছোট্ট একটা ঘুম দিয়ে দিলাম। সাউথ চায়না সী’র বৈশিষ্ট্য আমি আগে থেকেই জানি। এর পানিতে একটু শেড আছে। পাহাড়ের উপর থেকে দেখলে শেডগুলো বোঝা যায় ভালোমত, যে পানিটি হালকা নীল থেকে গাঢ় নীলের দিকে টার্ণ করেছে।
রেডাং বীচ আমাকে তেমন আকৃষ্ট করতে পারলনা। মনে হয়, রেডাং বীচ দেখতে কেউ এখানে আসেনা। কারণ, পুরো বীচটাই খুব সাধারণ। যারা আগে সাউথ চায়না সী দেখেছে তাদের কাছে তেমন নতুন কিছু লাগবেনা এই রেডাং বীচকে। বলার মধ্য যা আছে তা হল, এর বালুর রঙ একেবারে সাদা, কোন দূষণ নাই। তাহলে মানুষ কেন রেডাং আসে?
আসে আসলে এর পানি নীচের সৌন্দর্য দেখতে। রিসর্ট থেকে বিকেলে আমাদের মাঝ সমুদ্রে নিয়ে যাওয়া হল Snorkeling করার জন্য। তারপর থেকে যে তিনদিন রেডাং ছিলাম আমার কাজ ছিল দুটো। তারমধ্য একটা ছিল, খাওয়া আর ঘুম (এই দুটো মিলে একটা কাজ), আর বাকি সময়টুকু মাঝ সমুদ্রে গিয়ে Snorkeling, Snorkeling আর Snorkeling। পানির নীচের সেই অপার সৌন্দর্যর বর্ণনা দেওয়া কারো পক্ষে সম্ভব নয়। ছবি দেখেও বোঝানো সম্ভব নয়। তবুও ছবিগুলো দিলাম। এবং এরপরে কেউ যদি রেডাং আইল্যান্ডে যায়, তাহলে যেন অবশ্যই নিজের ওয়াটার প্রুভ ক্যামেরা নিয়ে যায় (এক রকমের বিশেষ ক্যামেরা পাওয়া যায়, যেটা দিয়ে পানির অনেক গভীরেও ছবি তোলা যায়)। কারণ রিসর্টের ক্যামেরা সবসময় খালি পাওয়া যায়না। আর পাওয়া গেলেও সবার কথা বিবেচনায় বেশি ছবি তোলা যায়না।
আবিশ্বাস্য সুন্দর এক জগত দেখতে ব্যাস্ত
আমি নীলের নিচে খুঁজছি নেমো
একেবারেই আমার হাতের সামনে (দুঃখজনক যে আরো কাছে থেকে ছবিটা তুলতে পারি নাই। এখানে মাছেরা বলতে গেলে একেবারে হাতে ধরা দেয়।)
কোরাল আর কোরাল। এখানে কোরাল ভাঙ্গা বা কোনভাবে তা নষ্ট করা একেবারেই নিষিদ্ধ।
সামুদ্রিক কচ্ছপ
ঠিক যেন ফাইন্ডিং নেমো। মাছ ধরা একেবারেই নিষিদ্ধ এখানে।
আমাদের রিসর্টের জেটির নীচে
যারা সাঁতার জানে না তারা এভাবেও দেখতে পারে।
এবার রেডাং আইল্যান্ড সম্পর্কে কিছু বলি।
প্রথমত, রেডাং আইল্যান্ড বেশ খরচ সাপেক্ষ। ব্যাক্তিপ্রতি তিনদিনের প্যাকেজে প্রায় পাঁচশত থেকে একহাজার রিঙ্গিট লাগতে পারে রিসর্ট সাপেক্ষে। তবে খাওয়ার আলাদা কোন খরচ নাই। রিসর্ট থেকেই খাবার দেওয়া হবে এবং সেটা বুফেট টাইপ।
দ্বিতীয়ত, Snorkeling এর জন্য আলাদা কোন খরচ নাই। রিসর্ট থেকেই দিনে দুটো জাহাজ মাঝ সমুদ্র বা কাছাকাছি আলাদা কোন দ্বীপে যায়। তবে Snorkeling ম্যাটেরিয়াল ভাড়া করার জন্য প্রায় ত্রিশ রিঙ্গিট আলাদা খরচ করতে হবে। এটা এককালীন। একবার ভাড়া নিলে যতদিন ইচ্ছা Snorkeling ম্যাটেরিয়াল নিজের কাছে রাখা যাবে।
তৃতীয়ত, আগে থেকেই রিসর্ট বুকিং দিয়ে রাখতে হবে এবং টেরেংগানু (Terengganu) স্টেট বাস টার্মিনাল থেকে মেরাং (Merang) জেটিতে যাবার ব্যাবস্থা করার জন্য রিসর্টকে আগেই বলে রাখতে হবে। সেক্ষেত্রে রিসর্ট আলাদা গাড়ির ব্যাবস্থা করে রাখবে জেটিতে যাবার জন্য। এর জন্য আরো বিশ বা আরো বেশি কিছু রিঙ্গিট লাগতে পারে। তবে, এটা অনেক সুবিধাজনক।
চতুর্থত, রাতের বিনোদনের জন্য সবরকমেরই ব্যাবস্থা আছে রেডাং আইল্যান্ডে। আছে ডিসকো, পাব, বার, সিনেমা, বীচ ভলিবল, ফুটবল ইত্যাদি সব। কিন্তু সারাদিন Snorkelling করার পর, মনে হয়, ঘুমানো ছাড়া এডভেনচার প্রিয়দের আর কোন কাজ থাকতে পারেনা। কারণ পরের দিনতো আবার Snorkelling করতে হবে, তাই না?
পঞ্চমত, রিসর্টের ক্যামেরা ব্যাবহার করে পানির নীচের ছবি তুললে আলাদা আরো কিছু রিঙ্গিট খরচ হবে।
এবার রেডাং আইল্যান্ডের পানির উপরের কিছু ছবি দিলাম।
পানি এত স্বচ্ছ যে, উপর থেকেও মাছ দেখা যায়
শান্ত নীল পানি
নীল আকাশ আর নীল পানি
মনে হয় গল্পের কোন দ্বীপ
দিগন্ত ছুঁয়ে আরো একটি দ্বীপ
সামুদ্রিক কচ্ছপ দেখার আশায়
সামুদ্রিক কচ্ছপ (ছবিতে ভালোমত বুঝা যায়না)
Snorkeling শেষে বোটে ফিরছি
দূর থেকে রিসর্ট
রিসর্টের কাছাকাছি
রাতের রিসর্ট
রিসর্টের গেস্ট হাউস
সাঁঝ বেলায় সমুদ্র
সাউথ চায়না সী হয়ত এই বছরের জন্য শেষ দেখা
রাতের বুফেট
ফিরতি পথে

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



