somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... অনুভুতিগুলো ভোঁতা হয়ে যাচ্ছে
রাতে নানীর সঙ্গে কথা বলার সুযোগ হয়নি। তখন স্যালাইন চলছিল তার। কথা বলার শক্তি হারিয়ে ফেলেছেন। ক্যান্সারের রোগী। একেবারে শেষ অবস্থা।

জার্মানিতে বসে দীর্ঘশ্বাস ফেলা ছাড়া কিছু করার ছিলো না। হয়তো ফোনটা অনেক দেরীতে করে ফেলেছিলাম।

আজ সকালে ঘুম থেকে উঠেই ম্যাসেজ পেলাম। বৃহস্পতিবার ভোর রাতে নানী মারা গেছে। চির বিদায়ের আগেও নাকি আমার জন্য দোয়া করে গেছে। কিন্তু কি হতভাগা আমি, নানীর সঙ্গে কথা বলা আর হলো না।

সকাল থেকেই অফিসে। খানিক বাদে বাদেই মনে পড়ছে নানীর কথা। কিন্তু অনুভুতির তীব্রতা কেন যেনো অনুভব করিনা আর। চোখে কিছুতেই পানি আসে না। আমি কি অনুভুতি শুন্য হয়ে যাচ্ছি ...

নানীকে শেষ দেখেছিলাম গত বছর, হাসপাতালে। অপারেশন হবে তার। তখনও নানী জানতো না তার ক্যান্সার হয়েছে। বলেছিলো, মেয়ে দেখবে, আমার জন্য- বড় নাতির বিয়ে না দিলে তার স্বস্তি নেই। কিন্তু সে সময় আর পেলো না নানি ...

মনে পড়ে, ছোটবেলায় স্কুলের বন্ধুদের গর্ব করে বলতাম- আমার দাদা-দাদি, নানা-নানী সবাই আছে। আজ আর সেই গর্ব নেই। এখন বলতে হবে, আমার দাদা-দাদী, নানা-নানী সবাই চলে গেছে। এতদুরে যে কখনো ফিরে পাবো না তাদের।

নানীর একটা কথা মাঝে মাঝেই মনে পড়ে, ''সুর্য যখন ওঠে তখন কাউকে ডেকে দেখাতে হয়না। সবাই এমনিতেই দেখে। তুমিও একদিন অনেক বড় হবে। তখন কেউকে বলতে হবে না, আমার বড় নাতিন এই করে, সেই করে, সবাই দেখবে ...''

নানী তুমি চিরদিন বেঁচে থাকবে, অন্তত আমার হৃদয়ে...]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/arafatulblog/28828570 http://www.somewhereinblog.net/blog/arafatulblog/28828570 2008-08-08 01:12:09
আরিফ জেবতিকের কন্যা সন্তান
পুরো জার্মানী যখন রাস্তায় তখন আমি বাসায় শুয়ে ঘুমানোর চেষ্টা করছিলাম। কিন্তু ঘুম আসে না। অত:পর উঠে গিয়ে কেক খেলাম। কিন্তু মিষ্টি জিনিস আর কত খাওয়া যায়। সুতরাং কাচাঁ মরিচ দিয়ে ঝাল করে ডিম ভাজি করলাম। খেতে গিয়ে নাকে পানি এসে গেলো। তারপরও মজা পেলাম।

সবশেষে ফেসবুক খুলে দেখি আরিজ জেবতিক কন্যার বাবা। অভিনন্দন আরিফ জেবতিক। নতুন অতিথিকে নিয়ে আপনি সুখী হন।



ছবি সৌজন্য: ফেসবুক, কন্যার ছবি এখনো ইন্টারনেটে আসে নাই বলে মনে হচ্ছে। এজন্য আপাতত বাবার ছবি। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/arafatulblog/28805030 http://www.somewhereinblog.net/blog/arafatulblog/28805030 2008-06-01 05:46:42
মৃত্যুর মুখে ওরা
দাদাবাড়ীর কাছে হওয়ায় মাঝে মাঝেই যেতাম সুন্দরবনে। বালক বেলায় দাপিয়ে বেড়াতাম খালে, নদীতে। কখনো সাতঁরানো, কখনো মাছ ধরা আবার কখনো বা নৌকা চালানো। জীবনের বেশ খানিকটা সময় চলে গেছে সুন্দরবনের স্বরনখোলা রেঞ্জে।

সেই স্বরনখোলা রেঞ্জে গিয়েছিলাম গত ডিসেম্বরে। সাইক্লোন সিডরের পর। চেনা মুখগুলো অবাক হয়ে দেখছিলো আমাকে। সবার চোখে সাহায্যের আকুতি। জিজ্ঞাসা, কি করছো আমাদের জন্য? সঙ্গের বিদেশৗ ফটোগ্রাফার সাটার টিপে চলেছিলো অনবরত। ওর কাছে সেই দৃশ্য বড়ই অপরিচিত, বড়ই অচেনা।

জীবন যুদ্ধে বেঁচে যাওয়া সেই চোখগুলো এখনো তাড়িয়ে বেড়ায় আমাকে। একজন সাংবাদিক হিসেবে কিইবা করার ছিলো আমার। চোখে সামনে যা দেখেছি লিখে চলেছি। পরিচিতদের অনুরোধ করেছি ওদেরকে সাহায্যের জন্য। নিজে যতটুকু পেরেছি সাহায্য করেছি। স্মৃতিতে জমে থাকা ছোটবেলার ল্যান্ডস্কেপগুলোর সঙ্গে মেলানোর চেষ্টা করেছিলাম সিডর পরবর্তী স্বরনখোলাকে। কিন্তু ব্যর্থ আমি, কিছুর সঙ্গেই মিলছিলো না কিছু ...

সিডর পেরিয়েছে প্রায় পাঁচমাস। এবার অ্যাসাইনমেন্ট নার্গিস। গত দেড় সপ্তাহ ধরে কাজ করছি মিয়ানমার নিয়ে। মাঝে মাঝেই চোখে জল এসে যায় লিখতে গিয়ে। অনুভব করতে পারি দুর্গতদের কষ্ট, বেদনা আর বাঁচার আকুতি। কিন্তু কিইবা করার আছে আমার? ছক বাধাঁ সাংবাদিকতায় বন্দী আমি। লিখে চলেছি নার্গিস নিয়ে, প্রতি দিন নতুন নতুন আঙ্গিকে, আগের দিনের চেয়ে ভালো করার প্রত্যয়ে। মনে ক্ষীন আশা, যদি আমার লেখা কিছুটা সাহায্য করে ওদের, কিছুটা ...

প্রকৃতি এখন বেশ বিরুপ বাংলাদেশ বা মিয়ানমারের জন্য। যেকোন সময় আঘাত হানতে পারে সিডর বা নার্গিসরা। আর যখনই আঘাত হানবে তখনই এগিয়ে আসবে পশ্চিমা বিশ্ব। খাদ্যের জন্য হাহাকার উঠবে দুর্গতদের মাঝে। মারা পড়বে হাজারে হাজার। এই বাস্তবতা কি পরিবর্তনের কোন উপায় নেই? ক্লাইমেট চেইঞ্জ নিয়ে এতো যে হৈচৈ, সেটার কি কোন সমাধান নেই? নাকি সর্বক্ষন মৃত্যুর মুখে থাকবে ওরা, আমরা, সবাই ... ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/arafatulblog/28801020 http://www.somewhereinblog.net/blog/arafatulblog/28801020 2008-05-21 21:24:39
বুয়া, তুমি চলে গেলে ...
বুয়া থাকতো গ্রামে। সুন্দরবন লাগোয়া ছোট্ট একটি গ্রামে। প্রতি বছর একটা সময় কাটাতাম সেই গ্রামে। বলা চলে বছরের সেরা দুষ্টমির সময় থাকতো সেটা। মা বকতে পারতো না, কেউ আটকাতে পারতো না। স্বাধীনভাবে ঘুরে বেড়াতাম বাগানে, বাগানে। যা খুশি খেতাম গাছ থেকে পেরে। কেউ কিছু বলতো না বা বলতে সাহস পেতো না। কারন বুয়া সঙ্গে আছে। কিছু বলার সাধ্যি কার!

মনে পড়ে, গ্রাম থেকে ফিরে আসার সময় বুয়া তার আচলের গিট খুলে কিছু একটা দিতো। আমার জন্য তার জমিয়া রাখা কিছু টাকা, কিছু পয়সা, কিছু ভালবাসা। যতটা চোখ যায়, বুয়াকে দেখতাম। বাগানের কোন এক কোনায় দাড়িয়ে থেকে আমার চলে যাওয়া দেখতো, আচলে চোখ মুছতো। নৌকার মাঝি একসময় বলতো, আর দেহা যায় না, এইবার ভিতরে হান্দো।

অনেকেই প্রশ্ন করতো, আপন দাদিকে বুয়া বলিস কেন। বুয়াতো কাজের মেয়েদের বলে। আমি গা করতাম না। বুয়া বলতেই ভালো লাগতো আমার। কিভাবে বুয়া বলা শিখেছিলাম তা জানিনা। তবে আমার বুয়াও মুখ থেকে বুয়া ডাক শুনতে ভালোবাসতো।

বয়সের সাথে সাথে বুয়াও একসময় বৃদ্ধা'র রুপ নিলো। রোগে শোকে ভুগতে লাগলো। একসময় ব্রেন স্ট্রোক করলো, তখন বুয়া শুধু দেখতে পারতো, কাঁদতে পারতো কিন্তু কিছু বলতে পারতো না। আমার আদরের বুয়াকে, আমার রক্ষাকবচকে অসহায়ভাবে বিছানায় পড়ে থাকতে দেখতাম। একটুও ভালো লাগতো না। একসময় বুয়ার কাছে যাওয়া বাদ দিলাম। তার অসহায়ত্ব আমাকে প্রচন্ড বেদনা দিতো, আমি সহ্য করতে পারতাম না।

গত ডিসেম্বরে বুয়াকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া´হলো। সবাই বুঝতে পারলো বুয়া আর টিকবে না। খুব খারাপ দশা। মনে আছে, কোরবানি'র ঈদের দিনে বুয়ার কাছে গিয়েছিলাম, হাসপাতালের বেডে নিশ্চুপ পড়ে ছিলো সে। তার পা ছুয়ে সালাম করতেই তাকিয়ে ছিলো আমার দিকে। এক পলকের জন্য, আমার দিকে তার শেষ চাহনি। হয়তো কিছুটা অনুভুতি তখনও ছিলো।

তারপরই দেশ ছাড়লাম। জানুয়ারীর এক সন্ধ্যায় গুগলে ম্যাসেজ এলো। ভাইয়া, দাদি মারা গেছে। সেখান থেকেই জেনেছিলাম আমার বুয়া চলে গেছে, আমার কাছ থেকে বহুদুরে। কখনো আর তাকে দেখবো না আমি, কোনদিন না, কিছুতেই না ...

বুয়া তুমি ক্ষমা করো, কিছুই করার ছিলা না আমার ...]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/arafatulblog/28779717 http://www.somewhereinblog.net/blog/arafatulblog/28779717 2008-03-16 23:04:31
অলৌকিকভাবে বেঁচে থাকা
সেখানে কী করতে? জবাবে জাহিদুল জানায়, ওইহানে (সেখানে) জাইল্যারা (জেলেরা) সাগর থেকে মাছ ধইর‌্যা নিয়া আইত। মা, আমি, ওবায়দুল মিলে মাছের কল্লা (মাথা) আলাদা করতাম এবং ওজন দিয়ে প্যাকেট করার কাজ করতাম। প্রতি বছর নভেম্বর থেকে মে মাস পর্যন্ত প্রচুর মাছ আসত সাগর থেকে। তখন আমাদের কাজও থাকত অনেক। বাকি সময় সাগরের পাড়ে ছোট ছোট জাল নিয়ে মাছ ও পোনা ধরতাম।
ঘূর্ণিঝড়ের রাতে কী করেছিলে? ১৫ নভেম্বর বিকেল থেকেই ঝড়ের আলামত পাওয়া যাচ্ছিল। সন্ধ্যার দিকে পানি বেড়ে চরের অনেক অংশ ডুবে যাওয়া শুরু করে। পানি উত্তাল হয়ে যাওয়ায় চর থেকে মাছের ট্রলারে ওঠা যাচ্ছিল না। ফলে আইটক্যা (বন্দি) যাই আমরা।

কিছুক্ষণ ভেবে জাহিদুল জানায়, আমরাসহ আরো অনেকে সাগরের একেবারে পাড়ে ছোট ছোট ঝুপড়ি বানিয়ে ছিলাম। সন্ধ্যার দিকে পানি বাড়তে দেখে চরের মাঝামাঝি একটি জায়গায় মোটামুটি বড় ঘরে আশ্রয় নিই। কিন্তু পানি বাড়তে বাড়তে এক সময় সেই ঘরের মধ্যেও দুই-তিন ফুট পানি উঠে যায়। তখন আল্লাহর নাম নেওয়া ছাড়া অইন্য কোনো পথ আছিল না।

এরপর? জাহিদুল জানায়, রাতে প্রচণ্ড ঝড় শুরু হয়। আনুমানিক ১০ বা ১১টার দিকে বিশাল এক ঢেউ এসে আমাদের ভাসিয়ে নেয়। পানির স্রোতে মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে যাই আমরা। আমি আমার ছোট বোন রুবিনাকে (৬) এক হাতে ধরে সাঁতরানোর চেষ্টা করি। কিন্তু স্রোতের চোটে রুবিনা আমার হাত থেকে ছুটে যায়।

তুমি বাঁচলে কী করে? ততক্ষণে জাহিদুলের চোখে জল এসে গেছে। জানাল, আমাদের চরের একপাশে ছোট একটা বন ছিল। ভাগ্যক্রমে স্রোতের টানে আমাকে সেদিকেই নিয়ে গিয়েছিল। এক সময় আমি হাতের নাগালে কিছু গোলপাতা গাছ পাই। এরপর সেগুলো ধরে ধরে একটি বড় গাছের ওপর উঠে পড়ি। আমার মতো আরো কয়েকজন সারারাত গাছে কাটিয়ে বেঁচে যায়।

মা, ভাই, বোনের খবর নাওনি? জাহিদুল জানায়, পরদিন পানি কমে গেলে চরের আশপাশে তাদের খুঁজতে থাকি। অনেক লাশ ছিল সেখানে। কিন্তু মা, ভাই, বোনকে খুঁজে পাইনি। ওইদিন দুপুরের পরে জানতে পারি চর মোনতাজ নামক একটি চরে আমাদের চরের অনেক লোক ভাইস্যা গেছে। তাদের মধ্যে শুধু একটি পোলা বাঁইচ্যা আছে।

এর মধ্যে এই গ্রাম থেকে আমাদের আত্মীয়স্বজন সেখানে যায়। আমি চলে আসি এই গ্রামে। আর অন্য আত্মীয়স্বজন চরমোনতাজে গিয়ে ভাই আর মাকে খুুঁজে পায়।

চর মোনতাজ পর্যন্ত ভেসে যাওয়া শিশুটি ওবায়দুল। ২০ থেকে ৩০ কিলোমিটার ভেসে গিয়ে বেঁচেছিল সে। কিন্তু কীভাবে? জানতে চাই ওবায়দুলের কাছে। কিন্তু কিছুতেই বলতে চায় না সে। অবশেষে সিদ্ধান্ত নিই ওবায়দুলকে নিয়ে যাব কলাগাছিয়া চরে। ঝড়ের রাতে সেখানে ছিল সে।

নদীপথে গলাচিপা থেকে কলাগাছিয়া চরের দূরত্ব প্রায় ৫০ কিলোমিটার। স্পিডবোটে ওবায়দুল আর তার ভাইকে নিয়ে সেখানে যেতে সময় লেগেছিল দুই ঘণ্টার মতো। আমাদের যেতে হয়েছে আগুনমুখা নামক একটি হিংস্র নদীর বুক চিরে।
কলাগাছিয়া চরের একপাশে সমুদ্র আর তিনপাশে বড় নদী। চরের কাছাকাছি যেতেই চেঁচিয়ে ওঠে জাহিদুল, ‘ওই যে, ওই গাছে চড়ে বেঁচে ছিলাম আমি।’ ছোট্ট বনের দিকে আঙুল তুলে কোনো একটা গাছ দেখানোর চেষ্টা করছিল জাহিদুল। আমিও বোঝার চেষ্টা করেছি ঠিক কোন গাছটাকে চেনাচ্ছে সে। সমুদ্র আর নদীর মিলনস্থলে ছোট্ট একটি বন বাঁচিয়েছে অনেককে। সান্ত্বনা এতটুকুই।

ওবায়দুলকে নিয়ে চরের মাঝে ঘুরছিলাম আমি। যদি ঝড়ের রাতের ঘটনা জানায় সে। একসময় ওবায়দুল বলে উঠল, ‘ওইখানে আমাগো ঘর আছিল।’ সমুদ্রের একেবারে কিনারে ফাঁকা জায়গায় ইঙ্গিত করছিল সে। আমি বললাম, ওই জায়গা একেবারে সাগরের কাছে। কেমনে থাকতা? ওবায়দুল জানাল, ‘নীল রঙের পলিথিনের ঘরে থাকতাম। ঝড়ের কালে মায়ে (মা) আমাগো নিয়া চরের মইধ্যে ওই ঘরে গেছিল।’ কাছেই আরেকটি খালি জায়গা ইঙ্গিত করল সে। তবে সেখানে মাটির ওপর কিছুটা জায়গা উঁচু করে বাঁধানো ছিল। বোঝা যায় একটা ঘরের ভিটা সেটা। তবে ঘরটা নেই।
তুমি বাঁচলা কেমনে? ওবায়দুল জানাল, ‘বড় তুফানের ধাক্কায় আমি ছিট্টা গেছিলাম। কিন্তু মায়ে সাঁতরাইয়্যা আমার ডাইন হাত ধইর‌্যা ফালায়। হেরপর হাত আর ছাড়ে নাই। আমরা ভাসতে লাগছি।’
এত ঝড়ের মধ্যে কেমনে ভাইস্যা থাকলা? ওবায়দুল বেশ কিছু সময় নিয়া বলল, ‘মেল্যা রাইত। শো শো বাতাস আর আন্ধার। চারদিকে পানি আর পানি। হেই পানি অনেক কাল (ঠাণ্ডা) আছিল। মায়ে আমারে নিয়া ভাইস্যা যাচ্ছিল।’
তোমার মা কি কিছু ধইর‌্যা ভাসতেছিল? ‘হ্যা কেমনে কমু। তয় হ্যার আরেক হাতে একবার একটা কালো গোল বাক্স দেখছিলাম। এরহম বাক্স আগে কখনো দেহি নাই। ভাসতে ভাসতে একসময় মায়ের হাত অনেক কাল (ঠাণ্ডা) হইয়্যা গেছিল।’
তোমরা কতক্ষণ ভাসছিলা? ওবায়দুল বলল, বেইন্যাকালের আলো যখন ফুটল তখন আমরা একটা চরের কিনারে ছিলাম। মায়ে তহন কোমড় পানিতে। আমারে কইলো ‘তুই তরে (চরের পারে) ওঠ, আমি যাই।’ এরপর আমারে একটা ধাক্কা দিয়া পারে উঠাইয়া দিল।
তোমার মা তোমার সাথে অন্য কোনো কথা কয় নাই? জবাবে ওবায়দুল, হারা (সারা) রাইত মায়ে খালি আমার হাত ধইর‌্যা ভাসাইয়া নিয়া গেছে। কোনো কথা কয় নাই। শুধু তরে ওঠানোর সময় কইছে ‘তুই তরে ওঠ, আমি যাই’।
এরপর তুমি কী করলা? ওবায়দুল বলল, ‘মোর খুব ডর লাগতেছিল। মায়ে ছাড়ার পরে চরে একটা নৌকার গলুইয়ের মধ্যে ঢুইক্যা শুইয়া ছিলাম। কিছুক্ষণ পরে একটা পোলা আমারে দেইখ্যা চইল্যা গেল। হেরপর মাইনষ্যে আইয়্যা মোরে হাসপাতালে লইয়্যা যায়।’
তোমার মায়ের কী হইল? এবার ওবায়দুলের চোখেও জল এসে গেছে। জানাল, দুপুরের কালে লোকজন আমারে নিয়া নদীর পাড়ে গেল। আমারে যেহানে পাইছে, সেখান থেকে একটু দূরে মায়ে শুইয়্যা ছিল। মাইনষ্যে কইল হ্যায় নাকি মইর‌্যা গেছে।

ওবায়দুলের মায়ের নাম হালিমা। ৩৩ বছর বয়সের এই নারী তিন সন্তানকে আগলে রেখেছিলেন মৃত্যুর আগ পর্যন্ত। জাহিদুলের ভাষায়, মায়ে অনেক ভালা আছিল। কখনো মারত না। ঢাকা থেকে চলে আসার পর মাইনষ্যের বাড়ি বাড়ি গিয়া কাম কইর‌্যা আমাগো খাওয়াইছে। নিজে না খাইয়্যা ছিল ম্যালা রাইত। মায়ে খুব ভালা ছিল। আল্লাহ যেন মোর মায়েরে বেহেস্তে সুখে রাখে।

কলাগাছিয়া চরের জেলে জসিম জানাল, ওবায়দুলের বেঁচে থাকাটা অলৌকিক ব্যাপার। আমাদের এখান থেকে চর মোনতাজের দূরত্ব সরাসরি নদীপথে গেলে ৮ কিলোমিটারের মতো। কিন্তু ওবায়দুল আর তার মা প্রায় ৩০ কিলোমিটার পথ ভেসে গিয়ে সেই চরে পৌঁছাইছে। হেগো মতো আরো যারা ভাইস্যা গেছিল সবাই মরছে। এইটা আমাদের কাছে বিস্ময়কর ব্যাপার। অলৌকিক কাহিনী।

কলাগাছিয়া চরে এখন নতুন করে জীবন শুরুর চেষ্টা করছে কেউ কেউ। সেখানে অবস্থানরত জেলে মজিবুর রহমান গাজী জানালেন, ঝড়ের রাতে এই চরে ৪০০০-এর মতো মানুষ ছিল। ঝড় কেড়ে নিয়েছে ১০০০-এর মতো তাজা প্রাণ। বেশ কয়েকটা ট্রলার হারিয়ে (ডুবে) গেছে। প্রচুর গরু-মহিষ মারা গেছে। স্থায়ী-অস্থায়ী মিলিয়ে প্রায় ৭০০ ঘর সম্পূর্ণ বিলীন হয়েছে। এখন আমাদের ভরসা শুধু মাইনষ্যের দান-খয়রাত।
কলাগাছিয়া চরের বয়স ২০ বছরের বেশি। একেবারে সাগরঘেঁষা হলেও সেখানে দুর্যোগ মোকাবেলার কোনো ব্যবস্থাই নেই। চর রক্ষায় এখনো তৈরি হয়নি বেড়িবাঁধ। নেই কোনো সাইকোন শেল্টার। রেলিং ছাড়া ছাদের মতো জেগে আছে চরটি। এখানের বাসিন্দারা কেউ স্থায়ী, কেউ অস্থায়ী। স্থায়ী বাসিন্দা নুরুজ্জামান জানান, আমরা বাঁচতে চাই। সরকার আমাদেরকে বেড়িবাঁধ আর সাইকোন শেল্টার করে দিলে সুবিধা হয়।

ওবায়দুলের পরের কাহিনী মানুষের মুখে মুখে। চর মোনতাজ থেকে তাকে নিয়ে আসা হয় গেবুয়া গ্রামে। তার মাকে গেবুয়া গ্রামে দাফন করা হয়েছে। দিনের বেশির ভাগ সময়ই ওবায়দুল বসে থাকে নারিকেল পাতায় ঢাকা মায়ের কবরের পাশে। ছোট্ট এই বালকের কাছে পৃথিবীটা বিস্ময়কর। পাষণ্ড বাবা তাদের ছেড়ে গেছে অনেক আগেই। আর মা তো তাকে বাঁচাতে গিয়েই চলে গেল।

ওবায়দুল এখন এতিম। ঘূর্ণিঝড়ে এতিম হওয়া আরো অনেক শিশুর একজন। তবে ওবায়দুলের কিছুই নেই। গেবুয়া গ্রামে তাদের যে ঝুপড়িঘর ছিল সেটাও ঘূর্ণিঝড় উড়িয়ে নিয়ে গেছে। আর তাই প্রতিবেশীর বাড়িতে থাকে তারা। ভবিষ্যতে কী করবা? ওবায়দুল জানায়, ‘আগে বড় হই। হ্যারপর দেখমু অনে।’ আর জাহিদুল জানাল, ‘এহন তো আমাগো আর কোন মাথা নাই। ভাবতাছি মাইনষ্যের বাড়ি বাড়ি গিয়া কাম খুঁজমু। ভাইডারে তো বাঁচাইতে হইব।’ আর হ্যাঁ, ওবায়দুলের ছোটবোন রুবিনাকে এখনো খুঁজে পাওয়া যায়নি। তার ভাইয়ের দাবি, সম্ভবত সে মারা গেছে।
(সাপ্তািহক ২০০০ এ প্রকািশত)
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/arafatulblog/28752592 http://www.somewhereinblog.net/blog/arafatulblog/28752592 2007-12-19 13:42:37
আলৌকিকভাবে বেঁচে ছিলো সে
তাই প্রথমে বিষটিকে গুরুত্ব দেইনি। কিন্তু পরের দিন আরো কয়েকজনের মুখে শুনলাম একই কথা। শিশুটির মা নাকি শিশুটিকে বাঁচিয়েছে। তবে তার মাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। অনেকেই আলৌকিক ঘটনা হিসেবে প্রচার করতে শুরু করলো ঘটনাটিকে। সিদ্ধান্ত নিলাম কথিত আলৌকিকভাবে বেঁচে যাওয়া শিশুটিকে দেখতে যাবো।

শিশুটির নাম ওবায়দুল। বর্তমানে আছে নানাবাড়ীতে। গলাচিপা'র গোলখালি ইউনিয়নের গাবুয়া গ্রামের কাজেম আলী ডাক্তারের বাড়ীর পাশেই তার নিবাস। ছয়-সাত বছর বয়সের শিশুটি কাদামাখা পায়ে আমার সামনে দাড়ালো। তার চোখে কিছুটা কৌতুহল, কিছুটা বিষন্নতা। একটা হাফ প্যান্ট আর সোয়েটার পরা ওবায়দুল মুখ ফুটে কোন কথাই বলছিলো না। অগ্যতা প্রশ্ন করলাম তার ভাইকে।

বিস্তারিত পড়তে ক্লিক করুন এখানে ...

সরাসরি লিংক: http://voiceofsouth.org/2007/12/01/miracle/ ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/arafatulblog/28750620 http://www.somewhereinblog.net/blog/arafatulblog/28750620 2007-12-10 13:13:07
খাদ্যের জন্য প্রতিক্ষা "ছেলেটা ডানকোলে ছিলো। মেয়েটা বাম হাত ধরেছিলো। ঝড় আর বাতাসের তান্ডবের মধ্যে আমরা নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার জন্য রাস্তায় বেরিয়েছিলাম। হঠাৎ কোথা থেকে যেনো পানির ঢেউ এসে আমাদেরকে ভাসিয়ে নিয়ে গেলো। মেয়েটিকে ধরে রাখতে পারিনি। তবে ছেলেকে কোলে নিয়েই প্রায় আধাঘন্টা সাতরাই। অন্যরা যখন আমাকে উদ্ধার করে তখনও ছেলেটা কোলেই ছিলো। তবে তার প্রান ছিলো না। বাড়ীর কাছ থেকে আধা কিলোমিটার দুরে মেয়েটাকে পেয়েছিলাম। সাইক্লোনের চারদিন পরে ফুলে ওঠা একটা মৃতদেহ ছিলো সেটা। এখন কি নিয়ে বাঁচবো আমি ...

কথাগুলো ইয়াসমিন আক্তারের। চোখ দুটো অশ্র“শিক্ত তার। প্রতিবেশীদের শত সান্তনাও তাকে থামাতে পারেনি একমুহুর্তের জন্য। প্রিয় সন্তান দুটির স্মৃতি প্রতিমুহুর্ত আকড়ে আছে তাকে। ইয়াসমিনের বাড়ী বাগেরহাটের সাউথখালি ইউনিয়নের খুড়িয়াখালি গ্রামে। স্থানীয়দের দাবি শুধু খুড়িয়াখালিতে নাকি মৃতের সংখ্যা ৩০০ জন।

খুড়িয়াখালিতে যাবার রাস্তাঘাট অধিকাংশই ভারী যানবাহন চলাচলের অনুপোযোগী। তবে একটি খাল আছে সেখানে যাবার জন্য। আর তাই ছোট্ট একটি ইঞ্জিন চালিত বোটে করে রওয়ানা দেই সেখানে। বিভিন্ন পশুপাখি’র মরদেহ ভাসছিলো সেই খালে। আর মাঝে মাঝেই দেখা মিলছেলো মানুষের লাশের। কখনো ছোট শিশু, কখনো মহিলা’র লাশ। সাইকোনের কিছুদিন পরেও লাশগুলো তুলে নেয়ার উদ্যোগ নেয়নি কেউ। পচন ধরে ফুলে উঠেছে সেগুলো।

খুড়িয়াখালি গ্রামে পৌছাঁতে খুব বেশি সময় লাগেনি। এই গ্রামে আমার যাতায়াত নতুন নয়। তবে এবার নতুন করে চিনতে হয়েছে সেটাকে। মনে হচ্ছিল কোন প্রাগঐতিহাসিক ডাইনোসরের পাল হেটে গিয়েছে এখান থেকে। তাদের পায়ের তলে পরে পিষ্ঠ হয়েছে গাছপালা, ঘরবাড়ী। রক্ষা পেয়েছে কিছু নারিকেল গাছ। ঘরবাড়ী হারানো মানুষ তাই রাস্তার পাশে ডালপালা, জীর্ন শির্ন কাপড়-চোপড় দিয়ে গড়ে তুলেছে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র আবাস।

খাবারের জন্য হাহাকার চলছে খুড়িয়াখালি গ্রামে। এখন পর্যন্ত তেমন কোন সরকারী বা বেসরকারী সাহায্য জোটেনি তাদের। কেন এই অবস্থা? জানতে চাইলে স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল জলিল জানান, আমাদের গ্রামটা হচ্ছে মাঝখানে। এর একপাশে সাউথখালি আরেকপাশে স্বরনখোলা। এখন নদী পথে যেসব ত্রান আসে সেগুলো আমাদের গ্রাম পর্যন্ত পৌঁছায় না। আর হেলিকাপ্টার নামার মতো জায়গাও নেই। এজন্য নাকি আমরা সাহায্য সহযোগিতা পাচ্ছি না।

আসলেই কি আপনাদের এখানে আসা অনেক কঠিন? এমন প্রশ্নের জবাবে জলিল জানান, খাল দিয়ে নৌকায় করে ত্রান সামগ্রী নিয়ে আসা সম্ভব। কিন্তু সেটাতো কেউ করছে না।

খুড়িয়াখালি গ্রামে বিশুদ্ধ পানি’র ভান্ডার বলতে ছিলো কয়েকটি পুকুর। কিন্তু ঘুর্নিঝড়ের পর সেগুলোর পানি আর খাওয়ার উপযোগৗ নেই। বিভিন্ন ময়লা আবর্জনা আর গাছপালা’র পাতা জমে পানি হয়ে উঠেছে বিষক্ত। পাশের খালে এখনো ভাসছে লাশ। আর তাই খাওয়ার পানি জোগাড় করাও বেশ কঠিন কাজ তাদের কাছে। তাই বলে কি থেমে আছে জীবন? মোটেই না। তীব্র দুর্গন্ধযুক্ত লাশ ভেসে বেড়ানো খালের পানিতেই গোসল করছে অনেকে। কেউ বা মাজছে থালা বাসন।

খুড়িয়াখালি গ্রামে বসবাসরত মানুষদের কাজ মুলত তিনটি। জমি চাষ, মাছ চাষ আর বাগান তৈরি। এবারের ঘুর্নিঝড় বাকি রাখেনি কিছুই। শত শত একর জমিতে সদ্য পাকন ধরা ধান গাছ নষ্ট হয়েছে। মাছ চাষীদের ঘেড়গুলো আছে তবে মাছেরা ভেসে গেছে ঘুর্নিঝড়ের ফলে সৃষ্ট জলোচ্ছাসের সাথে। আর বাগানের গাছগুলো মাথা ছুইয়ে দিয়েছে মাটির সাথে। ফলে শুধু গরীব নয়, অনেক মধ্যবিত্ত চাষীরা’ও এখন কপদর্কশুন্য, নিঃস্ব।

এই গ্রামের মানুষরা নাকি সাইক্লোনের খবর পেয়েও সাইক্লোন সেল্টারে যায়নি। কারন কি জানতে চাইলে স্থানীয় বাসিন্দা কামরুল জানান, কিছুদিন আগে আমাদের এলাকায় মাইকিং করে বলা হয়েছিলো যে সুনামি আসছে। সবাই নিরাপদ আশ্রয়ে যান। সেই কথা শুনে অনেকেই নিরাপদ আশ্রয়ে গিয়েছে। কিন্তু পরে দেখা গেলে সুনামি দুরে থাক, সেই রাতে জোরে বৃষ্টিও হয়নি। একইরকম আরেকদিন মাইকিং করা হয়েছিলো তখনও কিছু হয়নি। তো দুই বার ভুল মাইকিং হওয়ার ফলে মানুষেরও ধারনা হয়েছিলো এবারো কিছু হবে না। আর তাই অনেকেই নিরাপদ আশ্রয়ে যায়নি।
কামরুল আরো জানান, আমাদের গ্রামে কোন সাইক্লোন সেল্টার নেই। কাছে পিঠে যেটা আছে সেটাও প্রায় ২ কিলোমিটার দুরে। ঘুর্নিঝড় বা বন্যার আভাস পাওয়া’র পন এই এলাকার মানুষ সাইকোন সেল্টারে গিয়ে যায়গা পায় না। তাই আমাদের গ্রামে অন্তত্ব দুইটি সাইকোন সেল্টার প্রয়োজন। তাহলে ভবিষ্যতে এরকম ঘটনা ঘটলে অনেক মানুষ রক্ষা পাবে।
ফাতেমা, স্থানীয় স্কুলের ক্লাস ওয়ানের শিক্ষাথী ছিলো সে। ঘুর্নিঝড়ের রাতে কোথায় ছিলো জিজ্ঞেস করায় বললো, আমি ঘরের মধ্যে মাচায় ছিলাম। ঘরের উপর থেকে টিন উড়ে গিয়েছিলো। তারপরও আল্লাহ বাচিয়েছে। স্কুলের খবর কি জানতে চাইলে ফাতেমা’র জবাব, স্কুলতো উইর‌্যা গেছে। এখনও ঠিক হয় নাই।

আশার কথা হচ্ছে, ঘুর্নিঝড় দুর্গতদের সাহাযার্থ্যরে এগিয়ে আসছে দেশী বিদেশী শত শত প্রতিষ্ঠান, সংগঠন এবং অনেকের ব্যক্তিগত উদ্যোগ। কিন্তু সমন্বয়ের অভাবে দুর্গত এলাকাগুলোতে সুষম বন্টন হচ্ছে না সেগুলো। ফলে কিছু কিছু এলাকায় ত্রান পৌঁছাচ্ছে আবার কোন কোন এলাকা কিছুই পাচ্ছে না। খুড়িয়াখালি’র কথাই চিন্তা করুন না, পাশের এলাকা সাউথখালি’র মানুষেরা নিয়মিত বিভিন্ন সংস্থা’র কাছ থেকে ত্রান পেলেও মাত্র দুই কিলোমিটার দুরে থাকা খুড়িয়াখালি’র মানুষদের দিন কাটছে অর্ধাহারে, অনাহারে। অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে সাহায্য পাবার অপেক্ষায় আছে তারা।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/arafatulblog/28748603 http://www.somewhereinblog.net/blog/arafatulblog/28748603 2007-11-30 18:58:02
সাইক্লোন সিডর: খাদ্য, পানি, কাপড়, বাসস্থানের হাহাকার
তাফালবাড়ীতে বসে কথা হয় সেখানকার স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে। তাদেরই একজন আব্দুল জলিল ১৫ নভেম্বরের কথা স্বরন করেন এভাবে, আমরা বিভিন্নভাবে সরকারের সিগন্যালের কথা শুনেছিলাম। কিন্তু আগের মাসের সুনামি’র সিগন্যালের কথা মনে করে কেউ তেমন একটা গুরুত্ব সহকারে নেই নি। তারপরেও সাইক্লোন সেল্টারে যাই সাড়ে নয়টার দিকে। কিন্তু রেড ক্রসের স্থানীয় প্রতিনিধিদের তত্ত্বাবধানে থাকা সাইক্লোন সেন্টার দুটি তালাবদ্ধ ছিলো। ফলে ভেতরে ঢুকতে পারিনি।

অপর স্থানীয় বাসিন্দা আসাদ জানান, তাফালবাড়ীর সাইকোন সেন্টারটি তালাবদ্ধ থাকায় অনেকে মনে করেছিলো যে ঘুর্নিঝড় বোধহয় হবে না। তারপরও পাঁচ সাতজন দরজার কাছে বসে ছিলো। এরই মধ্যে রাত দশটার দিকে শুরু হয় তান্ডব। হঠাৎ পানির প্রচন্ড ধাক্কা আছড়ে পড়ে তাফালবাড়ীতে। ভাসতে থাকে মানুষ। এরই মধ্যে সাইকোন সেল্টারের দরজা খোলার ব্যবস্থা করা হয়। ভাসতে থাকা মানুষ কেউ সাতরিয়ে আবার কেউ ভাগ্যের জোরে সাইকোন সেল্টারে আশ্রয় নিতে সম হয়। তবে সেসময় আমাদের চোখের সামনেই অনেককে ভেসে যেতে দেখেছি। তাদের বাঁচার আকুতি দেখেছি কিন্তু কিছুই করতে পারিনি।

তাফালবাড়ী তথা সাউথখালি ইউনিয়নে নিয়মিতই ঢুকছে ত্রান। তবে সেটার সুষম বন্টন নেই। আমি অবাক হয়েছি বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা ত্রানের বহর দেখে। উত্তরাঞ্চল যাদেরকে আমরা মঙ্গাক্রান্ত বলি তারাও ত্রান নিয়ে হাজির হচ্ছে দক্ষিনাঞ্চলে। এই দৃশ্য চোখে না দেখলে বিশ্বাস হবে না। ঢাকাসহ বিভিণœ বিভাগীয় শহর থেকে ব্যক্তি পর্যায়ে কিংবা শিক্ষার্থীরাও ত্রান বা নগদ টাকা এনে বিলি করছে। তবে এসব উদ্যোগ পুরোপুরি চাহিদা মেটাতে পারছে না। আর সুষম বন্টন ব্যবস্থা না থাকায় সেগুলো সবার কাছে পৌছাচ্ছেও না। আর তাই অনেক এলাকাতেই মানুষ এখনো ত্রানের জন্য অপোয় আছে। অবশ্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনীও তাদের সাধ্যমতো চেষ্টা করছে। ছোট ছোট লঞ্চে করে অনেক এলাকায় ত্রান পৌছে দিচ্ছে তারা।

আমার সাথে দুইজন জাপানী সাংবাদিক আছে। জাপানের "The Mainichi" সংবাদ পত্রে কাজ করে ওরা। ওদের পত্রিকায় আজকের প্রধান শিরোনাম "They lost everything"। সেখানে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে শরনখোলা ও খুড়িয়াখালি এলাকার বর্তমান অবস্থা। আজকে থেকে ঘুর্নিঝড় দুর্গতদের সাহায্যের জন্য ত্রান সংগ্রহও করবে উক্ত পত্রিকা।

ছবি সৌজন্য: Aftenposten]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/arafatulblog/28747810 http://www.somewhereinblog.net/blog/arafatulblog/28747810 2007-11-26 23:34:31
কাফনের কাপড় চাই
দাদীকে আমরা ডাকতাম কাকু বলে। এই নামের কোন ব্যাখ্যা নেই। তবে ছোটবেলায় যখন দাদা বাড়ী যেতাম তখন তার কাছ থেকে বিশেষ আদর যতœ পেতাম। শীতের সকালে খেজুর রসের মিষ্টি সুবাস আর সঙ্গে মজার মজার পিঠে- আর কখনো খাওয়া হবে না তার কাছ থেকে।

মা'র মুখে শুনেছিলাম আমার কাকু জীবনে অনেক কষ্ট করেছিলেন। ছেলে দুটোকে কোলেপিঠে করে মানুষ করেছেন। মেয়েদের ভালো জায়গায় বিয়ে দিয়েছেন। আর নিজে থাকার জন্য একটি দোচালা বাড়ী করেছিলেন। শেষ বয়সে এসে মেয়েরা কাকু'র কাছে ছিলো না বিয়ে হয়ে গিয়েছিলো বলে আর মানুষ হওয়া ছেলেরা ছিলো চাকরিতে। আর তাই মৃত্যুক্ষনে কাকু'র বাড়ীটা ছিলো সঙ্গী। কাকু'র লাশ যেখানটায় ভেসে উঠেছে তার পাশেই ছিলো তার স্বপ্নের দোচালা বাড়ী'র বিশাল একটা ভাঙ্গা অংশ।

আমাদের গ্রামের বাড়ীর এলাকায় ঠিক কতো মানুষ এই ঘুর্নিঝড়ে মরেছে? সঠিক হিসেব নেই। আমার চাচা'র কাছ থেকে শুনেছি আজকে বিকেলে সে দুই কিলোমিটারের মতো এলাকা হেঁটে ১০০ মৃত মানুষের লাশ দেখেছে। চারদিকে চোখ বুলালেই নাকি লাশের সন্ধান মেলে। মানুষের লাশ, জীব যন্তুর মরদেহ আর বিনষ্ট শস্য ক্ষেত যেনো মিলে মিশে একাকার। শরনখোলা, সাউথখালি, বগি, তাফালবাড়ী, কুড়িয়াখালি, সোনাতলা ইত্যাদি এলাকা মাত্র কয়েক কিলোমিটারের মধ্যে একে অপরকে জড়িয়ে আছে। পুরো এলাকাটাই এখন মৃত্যুপুরি। বেসরকারী হিসেবে শুধু এই এলাকাতেই নাকি মৃত্যের সংখ্যা দুই হাজারের বেশি। পুরো এলাকায় মাথা উচিয়ে আছে শুধু কয়েকটি বিল্ডিং এবং হাতে গোনা কয়েকটি বৃক্ষ।

আমাদের এলাকায় এখন সবেচেয়ে বেশি প্রয়োজন কাফনের কাপড়ের। বড়ই অভাব সেখানে। প্রিয়জনের লাশটিকে সাদা কাফনের কাপড়ে না পেচিয়ে কবর দিতে চায় না কেউ। আর তাই হন্যে হয়ে খুঁজে ফিরছে কাফনের কাপড়ের। তাই অনেকেরই দাবি রিলিফ হিসেবে হলেও কাফনের কাপড় দেয়া হোক। প্রিয়জনটির মৃত দেহটা অন্তত্ব শান্তি পাক।

আমাদের এলাকা নিয়ে আজকে অনেক পত্রিকাতেই প্রতিবেদন এসেছে। সবার কাছে অনুরোধ, দয়া করে এই এলাকাটিকে সাহায্য করুন। এবারের ঘুর্নিঝড়ে মারাত্বক এবং সম্ভবত সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা সাউথখালি। সেখানে জীবিত'র চেয়ে মৃত্যের সংখ্যা অনেক বেশি। প্রতিটি পরিবারের এক, একাধিক বা পুরো পরিবারই নিশ্চিহ্ন। তাই সবাই এগিয়ে আসুন, হাতে হাত রেখে কিছু একটা করি, সামহয়্যার ইন এগিয়ে আসুক . . .

সাউথখালি নিয়ে প্রথম আলোতে প্রকাশিত প্রতিবেদনটি এই লিংকে

সাউথখালি নিয়ে যুগান্তরে প্রকাশিত প্রতিবেদনটি এই লিংকে
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/arafatulblog/28746256 http://www.somewhereinblog.net/blog/arafatulblog/28746256 2007-11-18 23:05:08
এভাবেই যায় দিন
ইথিলা'র বাবা ঢাকাতে নেই, এই পৃথিবীতেও নেই। কিন্তু তবুও ছোট্ট শিশুটিকে শান্তনা দেয়া হয়েছিলো এই বলে যে, তার বাবা ঢাকাতে আছে। তার বাবা আবার ফিরে আসবে তার কাছে। আর সেই আশা বুকে নিয়ে দিন কাটে ইথিলা'র ...

সময় গড়াচ্ছে দ্রুতগতিতে। ইথিলা'র বাবা দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে প্রায় বিশদিন হলো। বেপড়োয়া গতিতে যে লোকটি গাড়ী চালিয়ে তাকে মেরেছে সে এখনো গ্রেফতার হয়নি, তবে হয়তো হবে ...

ইথিলা'র জন্য আমার মাঝে মাঝেই মন খারাপ হয়। যখন আমার মা তার ভাইয়ের জন্য দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে কিংবা যখন একা একা বসে ভাবি তখন। প্রচন্ড কষ্ট হয় এই বাচ্চা মেয়েটার জন্য। কিন্তু ব্যস্ততা সুযোগ দেয়না ইথিলা'র কাছে যাবার। চট্টগ্রামে যাবার ...

ইথিলাকে নিয়ে আগের পোস্টটি এই লিংকে]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/arafatulblog/28742684 http://www.somewhereinblog.net/blog/arafatulblog/28742684 2007-11-04 20:31:16
"লিজা আমাকে কোলে করে নিয়ে চলো, দোকান থেকে বাবাকে নিয়ে আসি ...। বাবাকে কে বকেছে ? লিজা আমাকে কোলে করে নিয়ে চলো, দোকান থেকে বাবাকে নিয়ে আসি ... "
কথাগুলো আমার নয়। আমার ছোট্ট মামাত বোনের। যে এখনো বুঝতে পারছে না যে তার বাবা মারা গেছে। আর কোনদিন ফিরে আসবে না তার কাছে। আর কখনো তাকে নিয়ে ঘুরে বেড়াবে না পাহাড় থেকে পাহাড়ে, মাজার থেকে মাজারে ...

ছোট্ট মেয়েটির নাম ইথিলা। জন্ম হয়েছিলো মাথাটা একটু বড় নিয়ে। আমরা যাকে বলি শারিরিক প্রতিবন্ধী। শরীরের চেয়ে মাথা বড় হওয়ায় হাটতে পারে না সে। কতই বা বয়স? পাঁচ বা ছয় বছর।

ইথিলা'র পৃথিবী ছিলো তার বাবাকে ঘিরে। কখনো বাবার পিঠে কখনো কোলে কখনো কাধেঁ। এভাবেই কাটিয়েছে জন্মের পরে। বাবাই ছিলো তার সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়। তার চালক, বাহক ...

আর তাই ইথিলা খুঁজে বেড়ায় তার বাবাকে। কিন্তু যে অনুষ্ঠান উপলক্ষে তার বাসায় এতো লোকজন, এত খাবার দাবার সেটা তার বাবাকে ঘিরে। সড়ক দুর্ঘটনায় তার বাবা মারা যাওয়ার তিনদিন পরের ধর্মীয় অনুষ্ঠান সেটা।

ইথিলা খুজেঁ বেড়ায় তার বাবাকে। তার ধারনা কেউ হয়তো বাবাকে বকেছে। এজন্য রাস্তার মোড়ে'র দোকানে গিয়ে বসে আছে তার বাবা। বাবাকে আনতে হবে। বাবাকে নিয়ে অনেক খাবার খেতে হবে। কিন্তু কিভাবে? সেতো চলতে পারে না। আর তাই অনুরোধ করে নানা জনকে। একটু বাবা'র কাছে নিয়ে যেতে ...

ইথিলা'র বাবা আর ফিরে আসবে না। আকাশের তারা হয়ে গেছে সে। আর ইথিলা, সেতো জন্মেছেই রোগ নিয়ে। বাবাকে হারিয়ে সে এখন আরো অসহায়, অর্থহীন ...

ইথিলা'র বাবাকে নিয়ে পোস্টটি আছে এখানে ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/arafatulblog/28739313 http://www.somewhereinblog.net/blog/arafatulblog/28739313 2007-10-23 21:49:58
খোদা হাফেজ মামা... আল্লাহ আপনাকে বেহেস্ত নসিব করুক...
আমার অন্যান্য মামাদের চেয়ে শুকরিয়া মামা একটু দুর্বল ছিলো। বেশ কয়েক বছর বিদেশ থাকলেও টাকা পয়সা তেমন একটা উপার্জন করতে পারেনি। বরং সেখানে দুর্ঘটনার শিকার হয়ে লাইসেন্স হারিয়ে ছিলো। তারপর মাস ছয়েক সৌদি আরবের হাসপাতালে কাটিয়ে দেশে চলে আসে।

একসময় মামা দেশে ফিরে আসে। চট্টগ্রাম এলাকায় কাঠের ব্যবসা শুরু করে। আমাকে প্রচন্ড ভালবাসতো মামা। মনে পড়ে আট থেকে দশ বছর আগে মামাকে বলেছিলাম, ‍‍‍‍‌‌মামা ঢাকায় চলো। আমার বাবাকে বললে তোমার জন্য একটা চাকরি জোগাড় করা যাবে। মামা জবাবে বলেছিলো, কারো কাছে মাথা নিচু করতে চাই না মামা। নিজের চেষ্টাতেই উঠে দাড়াবো ইনশাল্লাহ।

মামা উঠে দাড়ানোর জন্য আপ্রান চেষ্টা করেছে। কাঠের ব্যবসা করেছে। পাহাড় লিজ নিয়ে সেখানে বিভিন্ন ফলের বাগান করেছে। কিন্তু দুর্ভাগ্য কি পিছু ছাড়ে। মামার একটা মেয়ে মানে আমার মামাতো বোন জন্ম নিলো কিছুটা বিকলাঙ্গভাবে। শরীরের চেয়ে মাথা বেশ খানিকটা মোটা। শুরু হলো মামার নতুন আন্দোলন। সন্তানকে নিয়ে এই ডাক্তার সেই ডাক্তার করে কাটিয়ে দিলো বেশ কয়েক মাস। ডাক্তার বললো অপারেশন করতে। কিন্তু রিস্ক আছে তাই সন্তানকে খোয়ানোর সাহস করেনি মামা।

মামা'র সাথে সর্বশেষ দেখা হয় মাস দুয়েক আগে। নানী অসুস্থ হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেলে ভর্তি। আমি আর মা দেখতে যাই। তখন মাকে জড়িয়ে ধরে অনেকক্ষন কেদেঁছিলো শুকরিয়া মামা। আমার সাথেও কথা হয় মামা'র। কয়েকটি বিষয়ে রিপোর্ট করার অনুরোধ করে। আমিও মামাকে আসস্ত করি।

তারপর আরো কয়েকবার কথা হয়েছে মামা'র সাথে। কিন্তু সেগুলো এখন অতিত। মামা আর কথা বলবে না আমার সাথে। আজ সন্ধ্যায় এক সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছে আমার শুকরিয়া মামা (ইন্নানিল্লাহে ... রাজিউন)। অক্লান্ত পরিশ্রম করে নিজের পায়ে দাড়নো'র প্রত্যয় ছিলো তার। কিন্তু একটা রোড এক্সিডেন্টে সবকিছু শেষ।

মামা আমার এখন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের লাশ ঘরে। কাল পোস্টমর্টেম হবার পরে মামাকে শুইয়ে দেয়া হয়ে শেষ শয্যায়। বিদায় মামা, আল্লাহ তোমাকে বেহেস্ত নসিব করুক ...]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/arafatulblog/28738095 http://www.somewhereinblog.net/blog/arafatulblog/28738095 2007-10-18 00:39:33
সিএসবি বন্ধ: বিষয়টা মঙ্গলজনক লক্ষন নয় (বাঁচাওওও)
এতই যদি তারা পারে, তাহলে বিবিসি রেডিও বন্ধ করে না কেন? নাকি দেশী মিডিয়াগুলোকে দাবিয়ে রেখে বিদেশীদের প্রমোট করার কৌশল এটি?

সিএসবি'র সাংবাদিক ভাইদের প্রতি সমবেদনা রইল। চ্যানেলটাকে মিস করবো। আল্লাহ আপনাদের সহায় হোন ...]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/arafatulblog/28729782 http://www.somewhereinblog.net/blog/arafatulblog/28729782 2007-09-06 20:00:15
বাংলাদেশে ইন্টেল চেয়ারম্যান: ৬৪টি জেলায় কম্পিউটার ল্যাব, সারাদেশে টেলিসেন্টার, শিক্ষার্থীদের জন্য ক্লাসমেট পিসি, ইন্টারনেট সুবিধা দিতে ওয়াইম্যাক্সসহ বেশ কিছু প্রকল্প
দেশের ৬৪টি জেলায় কম্পিউটার ল্যাব, সারাদেশে টেলিসেন্টার স্থাপন, শিক্ষার্থীদের জন্য ক্লাসমেট পিসি, গ্রামীণ এলাকায় ইন্টারনেট সুবিধা দিতে ওয়াইম্যাক্সসহ বেশ কিছু প্রকল্প শুরু হবে।

ক্রেইগ ব্যারেট জানান, ওয়ার্ল্ড এহেড প্রোগ্রামের জন্য প্রতিবছর ইন্টেল এক হাজার মিলিয়ন ইউএস ডলার বরাদ্দ করে। এখন থেকে এই বরাদ্দের একটি অংশ বাংলাদেশও পাবে।

দেশের মানুষকে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের সুবিধা দেওয়ার জন্য ওয়াইম্যক্স প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করবে ইন্টেল ও গ্রামীণ সলিউশ্যন।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশকে এক হাজার কম্পিউটার অণুদান দেবারও ঘোষনা দেন ক্রেইগ ব্যারেট। আগামী তিন বছরে দেশের বিভিন্ন স্কুলে এই কম্পিউটারগুলো দেয়া হবে। পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকারের সাথে যৌথভাবে আগামী বছরের মধ্যে দেশের ৬৪টি জেলায় পর্যাপ্ত পরিমান কম্পিউটার দিয়ে ‘পিস ল্যাব’ তৈরি করবে ইন্টেল।

সাপ্তাহিক ২০০০ ইন্টেলের ও গ্রামীণ সলিউশ্যন এর এই প্রকল্প নিয়ে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন শীঘ্রই প্রকাশ করবে...]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/arafatulblog/28729425 http://www.somewhereinblog.net/blog/arafatulblog/28729425 2007-09-04 21:29:21
আমাদের সময়-এর খবর: ইনটেল বাংলাদেশে ২ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে একাধিক সূত্রে জানা গেছে, ইনটেল বাংলাদেশে গ্রামীণ সলিউশনসের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে কাজ করবে। এ যৌথ কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশের ৩৫ হাজার স্কুলে বিশেষ ল্যাপটপ দেয়া হবে। বিশেষভাবে তৈরি এ ল্যাপটপের প্রতিটির মূল্য হবে মাত্র ১৪ হাজার টাকা। পাশাপাশি ঐসব স্কুলের শিক্ষকদেরকে তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে প্রশিক্ষণও দেয়া হবে। সারাদেশে ছড়িয়ে দেয়া হবে ওয়াইম্যাক্স নেটওয়ার্ক। পল্লী অঞ্চলে পৌঁছে দেয়া হবে টেলিমেডিসিন সেবা। শুরু হবে ইনটেলের ওয়ার্ল্ড এহেড সেবা কার্যক্রম। সাপ্তাহিক ২০০০-এর চলতি সংখ্যায় এ নিয়ে একটি প্রচ্ছদ প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়েছে।
সূত্র জানায়, বাংলাদেশের সাধারণ মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি তথা কম্পিউটার ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করে দেয়া এবং এর ব্যবহারের মাধ্যমে তাদের জীবন-মানের উন্নয়ন ঘটানোই হচ্ছে ওয়ার্ল্ড এহেড কর্মসূচির দৃশ্যমান লক্ষ্য। এ জন্য বাংলাদেশের সর্বত্র কম্পিউটার ও ইন্টারনেট পৌঁছে দিতে ওয়ার্ল্ড এহেড প্রোগ্রামের আওতায় ৫টি কার্যক্রম পরিচালনা করবে ইনটেল ও গ্রামীণ সলিউশনস। এগুলো হলো : এক্সেসিবিলিটি, কানেকটিভিটি, এডুকেশন, কনটেন্ট এবং টেলিমেডিসিন। আগামী ৪ সেপ্টেম্বর সকালে গ্রামীণ সলিউশনসের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এবং ইনটেলের চেয়ারম্যান ড. ক্রেইগ ব্যারেটের মধ্যে ওয়ার্ল্ড এহেড প্রোগ্রাম নিয়ে একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর হবে।
সূত্র মতে, এক্সেসিবিলিটি প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশের মানুষকে স্বল্পমূল্যে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যাবহারের সুযোগ করে দিতে ইনটেল পরবর্তিতে বাংলাদেশে একটি বিশেষ ধরনের ল্যাপটপ কম্পিউটার বাজারজাত করবে, যার নাম ‘ক্লাসমেট পিসি’। ছোট আকারের এ ল্যাপটপের চারপাশে নিরাপত্তার জন্য শক্ত প্লাস্টিক ক্যাসিং রয়েছে। ফলে এটি হাত থেকে পড়ে গেলেও এর তেমন কোনও ক্ষতি হবে না। সূর্যের আলোতে কাজ করার জন্য এর মনিটর বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে। বাংলাদেশে প্রায় ৩৫ হাজার স্কুলের ৯ম ও ১০ম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের কম্পিউটার শেখানোর জন্য প্রতিটি স্কুলে ২ থেকে ২০টি করে এ ল্যাপটপ দিয়ে ল্যাব গড়ে তোলা হবে। গ্রাম এলাকায় কম্পিউটারের ব্যবহার সহজ করে তোলার লক্ষ্যে এতে বাংলা ইন্টারফেস তৈরির পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এর দাম হতে পারে ১৪ থেকে ১৫ হাজার টাকার মধ্যে। তবে এ ল্যাপটপ আপাতত শুধু শুধু স্কুলগুলোতেই দেয়া হবে, বাণিজ্যিকভাবে বাজারে ছাড়া হবে না।
কানেকটিভিটির আওতায় ইনটেল ও গ্রামীণ সলিউশনসের লক্ষ্য হচ্ছে বাংলাদেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত ইন্টারনেট সুবিধা পৌঁছে দেয়া, যা হবে পূর্ণাঙ্গ ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট। ইনটেলের অংশীদারিত্বে সারাদেশে ওয়াইম্যাক্স নেটওয়ার্ক গড়ে তুলবে গ্রামীণ সলিউশনস। ফলে দেশব্যাপী শিক্ষার্থীদের দেয়া ল্যাপটপগুলো সারা দুনিয়ার সঙ্গে যুক্ত হবে।
ওয়ার্ল্ড এহেড কর্মসূিচর আওতায় গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প হচ্ছে এডুকেশন। এর আওতায় দেশের প্রতিটি স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কমপক্ষে ২ জন করে শিক্ষককে ইনটেল প্রশিক্ষণ দেবে। নতুন কনটেন্ট ও ল্যাপটপের বিভিন্ন দিক শেখানো হবে শিক্ষকদের, যাতে করে তারা নিজ নিজ স্কুলের শিক্ষার্থীদের একই বিষয়ে শেখাতে পারেন।
কনটেন্টের আওতায় দেশের শিক্ষার্থীদের উপযুক্ত তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে শিক্ষাদানের লক্ষ্যে নবম ও দশম শ্রেণীর তথ্যপ্রযুক্তি সংক্রান্ত পাঠ্যপুস্তকের উন্নয়ন ঘটাবে ইনটেল ও গ্রামীণ সলিউশনস। এজন্য তারা ইংরেজির পাশাপাশি বাংলায় প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ তৈরি করবে, যেখানে এদেশের সামাজিক চাহিদা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের দিকগুলো বিবেচনা করা হবে।
গ্রামের মানুষের অনেকের অনেক ধরনের রোগ হয়। সবার পক্ষে শহরে এসে চিকিৎসা করানো সম্ভব হয় না। এজন্য প্রফেসর ইউনূস চান টেলিমেডিসিন সেবা চালু করতে। ইন্টেল ওয়ার্ল্ড এহেড প্রোগ্রামেও তাই যুক্ত করা হয়েছে টেলিমেডিসিন প্রজেক্ট।
এর আগে প্রফেসর ইউনূসের হাত ধরে বাংলাদেশে এসেছিলো টেলিনর। গ্রামীণ টেলিকম, টেলিনরসহ আরও ২টি ছোট অংশীদার মিলে তৈরি হয়েছিল গ্রামীণফোন। তবে গ্রামীণ সলিউশনস এবং ইনটেল মিলে নতুন কোনও প্রতিষ্ঠান তৈরি হবে না বলে সূত্র জানায়। বরং এ দু’প্রতিষ্ঠান অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কাজ করবে। এটিকে বলা হচ্ছে ‘গিফট’, যার অর্থ আগামীর জন্য গ্রামীণ ইনটেল। এটি বাংলাদেশের জনগণকে ইনটেলের পক্ষ থেকে একটি গিফট। বাংলাদেশের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ তৈরিতে গ্রামীণ ইনটেলের গিফট।
বাংলাদেশে ইনটেলের বিনিয়োগ সম্পর্কে অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, এ বিনিয়োগ যদি আমাদের আইটি খাতের উৎপাদনশীলতা সম্প্রসারণের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়, তাহলে তো খুবই ভালো কথা। তবে এসব বিষয়ে শুরু থেকেই স্বচ্ছতা থাকতে হবে। কোনও ধরনের অনিয়ম হতে পারবে না। এ ব্যাপারে তথ্য প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ মোস্তফা জব্বার বলেন, এটা খুবই ভাল কথা। তবে তাদের বিনিয়োগের জন্য সুষ্ঠু পরিবেশের নিশ্চয়তা আমাদের রাষ্ট্রকে দিতে হবে। মূল: আরাফাতুল ইসলাম। সম্পাদনা: আতা

ওয়েব লিংক এর জন্য ক্লিক করুন এখানে]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/arafatulblog/28728754 http://www.somewhereinblog.net/blog/arafatulblog/28728754 2007-09-01 00:14:35
বাংলাদেশে আসছে ইন্টেল চেয়ারম্যান, সম্ভাব্য বিনিয়োগ ২ হাজার কোটি টাকা+... <img src='http://www.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_26.gif' />
একাধিক সূত্রে জানা গেছে, ইন্টেল বাংলাদেশে আসছে নোবেলজয়ী প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের হাত ধরে। এ দেশে ইন্টেল কাজ করবে প্রফেসর ইউনূসের প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ সলিউশনের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে। বাংলাদেশে কর্মসূচির আওতায় সম্ভবত ১৪ হাজার টাকা মূল্যের বিশেষ ল্যাপটপ দেয়া হবে দেশের ৩৫ হাজার স্কুলে। শিক্ষা খাতে যুগোপযোগী তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষার উপাদান তৈরি করা হবে। দেশের স্কুলগুলোর একাধিক শিক্ষককে তথ্যপ্রযুক্তির প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। সারা দেশে ছড়িয়ে দেয়া হবে ওয়াইম্যাক্স নেটওয়ার্ক। নিত্যনতুন তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবসার সুযোগ তৈরি হবে। পল্লীতে পৌঁছে দেয়া হবে টেলিমেডিসিন- সেবা।

ইন্টেল বাংলাদেশে একটি বিশেষ ধরনের ল্যাপটপ কম্পিউটার বাজারজাত করবে। যার নাম ‘ক্যাসমেট পিসি’। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশে প্রায় ৩৫ হাজার স্কুলে নবম ও দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের কম্পিউটার শেখানোর জন্য প্রতিটি স্কুলে ২টি থেকে ২০টি করে ল্যাপটপ দিয়ে ল্যাব গড়ে তোলা হবে। বর্তমানে এসব ল্যাপটপ একবার চার্জ করা হলে সাড়ে তিন ঘণ্টার মতো কাজ করে। ল্যাপটপটিতে ৪ গিগাবাইট ধারণক্ষমতাসম্পন্ন ফ্লাশ মেমোরি রয়েছে।

সুত্র জানায়, ইন্টেল ও গ্রামীণ সলিউশনসের লক্ষ্য হচ্ছে বাংলাদেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত ইন্টারনেট পৌঁছে দেয়া। এবং সেই ইন্টারনেট হবে পূর্ণাঙ্গ ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট। ইন্টেলের অংশীদারিত্বে সারা দেশে ওয়াইম্যাক্স নেটওয়ার্ক গড়ে তুলবে গ্রামীণ সলিউশনস। এটা অনেক বড় একটি প্রকল্প। এখানে ইন্টেল প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি এবং অবকাঠামো দিয়ে বিনিয়োগ করবে। ফলে দেশব্যাপী শিক্ষার্থীদের দেয়া ল্যাপটপগুলো সারা দুনিয়ার সঙ্গে সংযুক্ত হবে। পাশাপাশি ওয়াইম্যাক্স- নির্ভর নিত্যনতুন বিভিন্ন ব্যবসাও বাংলাদেশে চালু হবে।

জানা যায়, ইন্টেলের দেয়া ল্যাপটপগুলো শিক্ষার্থীদের তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ দেবে। সংযোগ দেবে ইন্টারনেট তথা তথ্যভাণ্ডারে অবাধ প্রবেশ এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের। এই দুইয়ের সংমিশ্রণ ঘটাতে প্রয়োজন শিক্ষা। এজন্য দেশের প্রতিটি স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কমপক্ষে দুজন করে শিক্ষককে ইন্টেল প্রশিক্ষণ দেবে। নতুন কনটেন্ট এবং ল্যাপটপের বিভিন্ন দিক শেখানো হবে শিকদের, যাতে করে তারা নিজ নিজ স্কুলের শিক্ষার্থীদের একই বিষয়ে শেখাতে পারেন। প্রাথমিকভাবে বাংলাদেশের ৩৫ হাজার স্কুলের দুজন করে শিককে প্রশিণের ব্যবস্থা করবে তারা।

দেশের শিক্ষার্থীদের উপযুক্ত তথ্যপ্রযুক্তির শিক্ষা দিতে নবম ও দশম শ্রেণীর তথ্যপ্রযুক্তি পাঠ্যপুস্তকের উন্নয়ন ঘটাবে ইন্টেল ও গ্রামীণ সলিউশনস। এ জন্য তারা ইংরেজির পাশাপাশি বাংলায় প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ তৈরি করবে। ইন্টেলের ওয়েবসাইট থেকে জানা যায়, স্থানীয় উপাদান তৈরিতে ইন্টেল সরকার, এনজিও, শিক্ষা এবং স্থাস্থ্য খাতের বিশেষজ্ঞদের নিয়ে কাজ করবে। উপাদান তৈরির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশের সামাজিক, চাহিদা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের দিকগুলো বিবেচনা করা হবে। মোট কথা, স্থানীয় মানুষের জীবনমান উন্নয়নে উপযোগী কনটেন্ট তৈরি
করবে ইন্টেল।

গ্রামেগঞ্জে অনেক মানুষের অনেক ধরনের রোগ হয়। সবার পক্ষে শহরে এসে চিকিৎসা করানো সম্ভব হয় না। এ জন্য প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস চান টেলিমেডিসিন সেবা চালু করতে। ইন্টেল গ্রামীণের ওয়ার্ল্ড এহেড প্রোগ্রামেও তাই যুক্ত করা হয়েছে টেলিমেডিসিন প্রজেক্ট। সুত্র জানায়, শহরের প্রতিষ্ঠিত ডাক্তারদের একটি কমিউনিটি তৈরি করা হবে, যারা গ্রামের মানুষকে অনলাইনে চিকিৎসাসেবা দেবে। গ্রামে যে টেলিসেন্টার বা এ ধরনের সেন্টারগুলো তৈরি হবে, সেখানে ওয়েব ক্যামেরা থাকবে। লাইভ চ্যাটিংয়ের মাধ্যমে শহরের ডাক্তাররা গ্রামের একজন রোগীকে দেখবেন।

সুত্র জানায়, ৩৫ হাজার স্কুলে গড়ে ১০টি করে কাসমেট পিসি দিলে ইন্টেলের বিনিয়োগ করতে হতে পারে ৪৯০ কোটি টাকা। ইন্টারনেট সূত্রে জানা যায়, শিকদের প্রশিণের জন্য ৫০টি দেশে প্রতিবছর ইন্টেল খরচ করে ১০০ মিলিয়ন ডলার। ওয়ার্ল্ড এহেড প্রোগ্রামে বাংলাদেশ যুক্ত হলে এই বিনিয়োগের একটি অংশ পাবে বাংলাদেশ। সে হিসাবে প্রথম বছরে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণে বাংলাদেশে ইন্টেল হয়তো বিনিয়োগ করবে ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা। আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে, বাংলাদেশে ইন্টেলের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগটি হবে সারা দেশে ওয়াইম্যাক্স নেটওয়ার্ক স্থাপনে। একাধিক সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে আউটডোর ফিক্সড ওয়্যারলেস ওয়াইম্যাক্স প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। এ ধরনের ওয়াইম্যাক্স নেটওয়ার্কে একেকটি বেস স্টেশন ২০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় ইন্টারনেট সেবা দিতে পারে। বর্তমান বাজারে এ রকম একটি বেস স্টেশনের সর্বনিম্ন মূল্য ২০ হাজার ডলার। এখন বাংলাদেশের মোট আয়তন হচ্ছে ১ লাখ ৪৭ হাজার ৫৭০ বর্গকিলোমিটার। সেই হিসাবে বাংলাদেশে ওয়াইম্যাক্স নেটওয়ার্ক স্থাপন করতে সারা দেশে প্রায় ৭ হাজার ৩৭৮টি ওয়াইম্যাক্স বেস স্টেশন বসাতে হবে ইন্টেলকে। গ্রাহক পর্যন্ত ইন্টারনেট পৌঁছাতে গেলে আনুষঙ্গিক আরো খরচ হবে, যা বেস স্টেশনের মূল খরচের ৩০ শতাংশ হিসেবে ধরা হয়। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জন্য পূর্ণাঙ্গ ওয়াইম্যাক্স নেটওয়ার্ক তৈরি করতে গেলে ইন্টেলের সাম্ভাব্য বিনিয়োগ করতে হতে পারে প্রায় ১ হাজার ৩৪৩ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে বাংলাদেশে ইন্টেলের সম্ভাব্য প্রাথমিক বিনিয়োগ হতে পারে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা। তবে সংশ্লিষ্ট একটি সুত্র জানায়,
বাংলাদেশে ইন্টেলের বিনিয়োগের পরিমান আরো বেশি হওয়ার সুযোগ রয়েছে। থেকে ৫ লাখ বর্গফুটে নিয়ে গেছি।

আমাদের জাতীয় জীবনকে আবার চারদিক থেকে ঘিরে ফেলেছে অস্থিরতা আর অনিশ্চয়তার অন্ধকার। প্রবল রাখঢাক ও নানা বিধিনিষেধ সত্ত্বেও সংবাদপত্রের পাতা প্রতিদিন ভরে উঠছে হরেক রকম নেতিবাচক খবরে। জাতিগতভাবেই আমরা যেন বন্দি হয়ে পড়েছি নেতিবাচক খবরের দুষ্টচক্রে। নেতিবাচক খবরের ভারে পিষ্ট ১৫ কোটি মানুষ এখন মরিয়া হয়ে তালাশ করছে একটু সুখবর, একটু সুবাতাস। এমন এক মুহূর্তে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ কম্পিউটার পণ্য নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ইন্টেলের চেয়ারম্যান ড. ক্রেইগ ব্যারেট বাংলাদেশে আসছেন। তিনি বিল গেটসের মতো ভিক্ষা দিতে নয়, আসছেন বিপুল বিনিয়োগের পরিকল্পনা নিয়ে। এর আগে বিভিন্ন দেশে ইন্টেলের বিনিয়োগকৃত প্রকল্পগুলো যদি আমরা পর্যালোচনা করি এবং সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি যদি সত্যি হয় তবে এ দেশের সামনে একটা মাঝারি মানের সুখবর তো অবশ্যই আছে। শিক্ষা ও যোগাযোগ প্রযু্ক্তি খাতের সমন্বয়ে নতুন যে বিপ্লব সূচনার কথা তারা বলছেন, তাতে সুশিক্ষার সুযোগ-বঞ্চিত দরিদ্র এ জাতির ভবিষ্যৎ প্রজন্মের উল্লেখযোগ্য অংশ উন্নততর জীবন গড়ার স্বপ্ন দেখতেই পারে।

ইন্টেল এর বিনিয়োগ নিয়ে সাপ্তাহিক ২০০০ এ প্রকাশিত প্রচ্ছদ প্রতিবেদনটি বিস্তারিত পড়তে চাইলে ক্লিক করুন এখানে

ডাইরেক্ট লিংক:
Click This Link]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/arafatulblog/28728561 http://www.somewhereinblog.net/blog/arafatulblog/28728561 2007-08-30 17:38:09
সাবমেরিন ক্যাবল নেটওয়ার্কের পুরোপুরি সুবিধা মানুষ এখনও পায়নি
বাংলাদেশে সংযুক্ত সিমিউই-৪ সাবমেরিন ক্যাবলের ভয়েস ও ডাটা ট্রান্সফার ক্যাপাসিটি হচ্ছে ১০ গিগাবাইট পার সেকেন্ড। তবে বিগত দেড়বছরে এই ট্রান্সফার ক্যাপাসিটির মাত্র ১২ শতাংশ ব্যবহার করতে সক্ষম হয়েছে বাংলাদেশ সরকার। এ মাসে আরও ৩ শতাংশ ব্যবহার বৃদ্ধির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সূত্র জানায়, বর্তমানে ডাটা ট্রান্সফারের জন্য ৪টি এসটিএস ওয়ান ব্যবহার হচ্ছে। একেকটি এসটিএম ওয়ানের ডাটা একসেস ক্ষমতা ১৫৫ মেগাবাইট পার সেকেন্ড। এমাসের মধ্যে ১টি এসটিএম ফোরও উš§ুক্ত করে দেয়া হয়েছে। যার ধারন ক্ষমতা ৬২০ মেগাবাইট পার সেকেন্ড। ফলে বর্তমানে ১২শ ১৪ মেগাবাইট পার সেকেন্ড ডাটা পরিবহন করা হচ্ছে সাবমেরিন ক্যাবল ব্যবহার করে।

পাশাপাশি ভয়েস ট্রান্সফারের জন্য বর্তমানে ১৮টি এসটিএম ওয়ান ব্যবহার করা হচ্ছে। বর্তমানে সব মিলিয়ে সাবমেরিন ক্যাবলের ১৫ শতাংশের মত ব্যবহার করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিটিটিবির সংশ্লিষ্ট সূত্র।

অন্যদিকে ১৫ শতাংশ সাবমেরিন ক্যাবল ব্যবহারের কারণে বর্তমান সরকারকে বছরে ব্যয় করতে হচ্ছে প্রায় ১৫ কোটি টাকা। সূত্র জানায়, সাবমেরিন ক্যাবল মেনটেইন্যান্সের জন্য প্রতি বছর কনসোর্টিয়ামকে দিতে হয় ১ দশমিক ৫ মিলিয়ন ইউএস ডলার। বর্তমানে ৪টি এসটিএম ওয়ানের জন্য প্রতি মাসে ডাটা ট্রান্সফারের ফি হিসেবে কনসোর্টিয়াম সদস্য এমসিআই আমেরিকাকে ৭ হাজার ৫শ ইউএস ডলার, পিসিসিডব্লিউ গ্লেবালকে ৬ হাজার ইউএস ডলার, সিঙ্গাপুরের ২টি নেটওয়ার্ক প্রোভাইডারকে ১৭ হাজার ইউএস ডলার দিতে হয়। চলতি মাসে উš§ুক্ত হওয়ার অপেক্ষায় থাকা ১টি এসটিএম ফোরের জন্য সরকারকে মাসে ফি দিতে হবে ১১ হাজার ৫শ ইউএস ডলার। ফলে প্রতি বছর খরচ হবে প্রায় ১৫ কোটি টাকা। এতে করে সাবমেরিন ক্যাবলের ব্যবহার যত বাড়বে, খরচও একইভাবে বাড়বে।

এদিকে বাংলাদেশে সাবমেরিন ক্যাবল স্থাপনের পর থেকে বিভিন্ন স্থানে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের ঘটনা ঘটার আশঙ্খা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাই ইন্টারনেট ও টেলিকমিউনিকেশন ব্যবস্থা পুরোপুরি সাবমেরিন ক্যাবল নির্ভর করলে ব্যাকআপ দেয়ার জন্য আরও ১টি নেটওয়ার্ক প্রয়োজন হবে। এ প্রসঙ্গে আজহার এইচ চৌধুরী বলেন, যেকোনও সময় সাবমেরিন ক্যাবল সংযোগচ্যুত হতে পারে। তিনি আরও বলেন, ভারতেই সাবমেরিন ক্যাবলের ৭টি ব্যাকআপ লাইন আছে। কিš' আমাদের দেশে শক্তিশালী কোনও ব্যাকআপ ব্যবস্থা নেই। এ কারণে সাবমেরিন ক্যাবল সংযোগ নিয়েও ইন্টারনেট বা সংশ্লিষ্ট সেবা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। বিটিটিবির জেনারেল ম্যানেজার কর্নেল জিয়া সফদার ব্যাকআপের জন্য বিকল্প একটি নেটওয়ার্ক তৈরি করার কথা জানিয়েছেন। তার মতে এই বিকল্প নেটওয়ার্ক প্রয়োজনীয় ডাটা ট্রান্সফারের কাজেও লাগানো যাবে। তবে এই প্রক্রিয়াটি আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে চূড়ান্ত করা হবে। এছাড়া এই বছরের মধ্যেই ব্যাকআপ সাবমেরিন ক্যাবলের সঙ্গে সংযুক্ত হবে বলে তিনি জানান।

সাপ্তাহিক ২০০০ এ প্রকাশিত প্রতিবেদনটি বিস্তারিত পড়তে চাইলে ক্লিক করুন এখানে ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/arafatulblog/28727777 http://www.somewhereinblog.net/blog/arafatulblog/28727777 2007-08-25 19:59:44
মোবাইল নেটওয়ার্ক আবার অফ <img src='http://www.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_26.gif' />
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/arafatulblog/28727433 http://www.somewhereinblog.net/blog/arafatulblog/28727433 2007-08-24 00:06:09
রাস্তায় রিকশাও বন্ধ: রাত দেড়টা থেকে বাংলাদেশের অধিকাংশ এলাকায় ইন্টারনেট লাইন বন্ধ ছিলো
আজকে সাড়ে ৯টার দিকে আমি ইন্টারনেট লাইন পেয়েছি। তবে এখনো অনেক জায়গায় ইন্টারনেট লাইন বন্ধ আছে। একাধিক জনের ফোন পেয়েছি এই বিষয়ে। এমনকি এক আইএসপি'র কর্নধারও জানালো যে রাত দুইটা থেকে বিটিটিবি সার্ভিস বন্ধ রেখেছে। এখনও ছাড়েনি।

রাস্তায় বের হওয়া যাচ্ছে না। আজকে রিকসাও চলতে দিচ্ছে না নিরাপত্তা সংস্থার লোকজন। সাংবাদিক, চাকুরীজীবি, সাধারন মানুষ কাউকেই ছাড়ছে না সহজে। আর তাই ঘরের জীবন বেছে নিয়েছি।

তবে গুজব শোনা যাচ্ছে যে, আগামীকাল নাগাদ কার্ফু তুলে নেয়া হতে পারে। কেউ কিছু জানলে আওয়াজ দিয়েন ... ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/arafatulblog/28727316 http://www.somewhereinblog.net/blog/arafatulblog/28727316 2007-08-23 10:45:14
বিপ্লব ভাইয়ের অবিলম্বে নিৎশর্ত মুক্তি চাই (খাইয়ালামু) (খাইয়ালামু)
আমার প্রচন্ড কান্না পাচ্ছে। কতদিন এই লোকের সাথে একসাথে সিগারেট টেনেছি, কতদিন আমার লেখা মানুষ করেছে সে, কতদিন তার কাছে জটিল ঝাড়ি খেয়েছি, কতদিন ... অথচ সেই লোক কিনা অকারনে জেলে!!! এটা সহ্য করা যায় না।

পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে যতজন সাংবাদিক কাজ করেছে তার মধ্যে অন্যতম বিপ্লব ভাই। তার অনেক লেখাই বিখ্যাত হয়েছে এবং সত্য প্রকাশে তার যথেষ্ট সাহসও আছে। এমন একটা মানুষকে রাস্তা দিয়ে ধরে নিয়ে যাওয়াটা কোনভাবেই কাম্য নয়।

এক ছাত্র পিটিয়ে ত্রাহি মধুসুদন অবস্থা। দেশে আর যাই হোক, সাংবাদিকদের গায়ে হাত দিলে রক্ষা নাই। ভয় ভীতি দেখিয়ে আজ পর্যণ্ত সাংবাদিকের কলম থামানো যায়নি। এখন যদি কেউ মনে করে থাকে, কলম থামানো যাবে সেটা ভুল। তাই গ্রেপ্তারকৃত সাংবাদিকদের মুক্তি চাই। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/arafatulblog/28727277 http://www.somewhereinblog.net/blog/arafatulblog/28727277 2007-08-22 23:59:59
৮টা থেকে কার্ফু: শিক্ষার্থীদের ঘাড়ে বন্দুক রেখে গুলির চেষ্টা করছে রাজনীতিবিদরা
ছাত্র-শিক্ষক লাঞ্চনা করে ভুল করেছিলো সেনাবাহিনী। আর তাই ছাত্রদের দাবি মেনে নিয়ে তারা ক্যাম্প গুটিয়েছে। দোষীদের শাস্তি দেবার ব্যবস্থা করেছে। বিচারবিভাগীয় তদন্ত শুরু করেছে। দুঃখ প্রকাশ করেছে দেশের প্রধান উপদেষ্টা। ছাত্রদের ক্ষোভ এতে অনেকটাই প্রশমিত হবার কথা।

কিন্তু রাজনীতিবিদরা বোধহয় সেটা হতে দিতে রাজি নয়। আর তাই শিক্ষার্থীদের সামনে রেখে তারা সরকার পতনের চেষ্টা করেছিলো। নতুবা শিক্ষার্থীদের অধিকাংশ দাবি মানা সত্ত্বেও কেন এমন অবস্থা হবে?

সরকার ঘোষণা করেছে কার্ফু। সম্ভবত বদলে যাবে পরিস্থিতি। অন্তত্ব্য রাজনীতিবিদদের অদুরদর্শী খেইল খতম হওয়া সময়ের ব্যাপারমাত্র ... ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/arafatulblog/28727162 http://www.somewhereinblog.net/blog/arafatulblog/28727162 2007-08-22 16:44:53
ভিওআইপি সেবা উন্মুক্ত করতে সরকারি নীতিমালা অনুমোদন <img src='http://www.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_07.gif' />
সোমবার সকালে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সচিব শেখ খুরশিদ আলম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
বিটিআরসির চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল মঞ্জুরুল আলম এসময় সেখানে ছিলেন।

সচিব জানান, ঘোষিত নীতিমালার আওতায় সরকার ভি-স্যাট ব্যবহারের জন্য নতুন করে কোনো লাইসেন্স দেবে না। বর্তমানে চালু ভি-স্যাটগুলোও পর্যায়ক্রমে বন্ধ করে দেবে বিটিআরসি।

নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ সেবার জন্য তিন স্তর বিশিষ্ট টেলিকম অবকাঠামো তৈরি করা হবে।

বিটিআরসি প্রথম পর্যায়ে আন্তর্জাতিক কল (ভিওআইপিসহ) আদান প্রদানের জন্য বেসরকারি খাতে ৩টি ইন্টারন্যাশনাল গেটওয়ে (আইজিডব্লিউ) পরিচালনার লাইসেন্স দেবে। এগুলো ঢাকায় স্থাপন করা হবে।

আন্তর্জাতিক কল ও স্থানীয় অপারেটরদের কল আদান-প্রদানের জন্য বেসরকারি খাতে দুটি ইন্টারকানেকশন এক্সচেঞ্জ (আইসিএক্স) লাইসেন্স দেওয়া হবে। এসব লাইসেন্সের আওতায় ঢাকায় দুটি এবং চট্টগ্রাম, সিলেট, বগুড়া ও খুলনায় একটি করে মোট ৬টি এক্সচেঞ্জ স্থাপন করা হবে।

এ দু'ধরণের একচেঞ্জের মাধ্যমেই বাংলাদেশ থেকে বিদেশ ও বিদেশ থেকে বাংলাদেশে সব ধরণের টেলিফোন কল পরিচালিত হবে।

এছাড়া ইন্টারনেট সেবা দেওয়ার জন্য বেসরকারি খাতে একটি ইন্টারনেট এক্সচেঞ্জের (আইএক্স) লাইসেন্স দেওয়া হবে। এ লাইসেন্সের আওতায় প্রাথমিকভাবে ঢাকা ও চট্টগ্রামে একটি করে ইন্টারনেট এক্সচেঞ্জ স্থাপন করা যাবে বলে জানান সচিব ।

শেখ খুরশিদ আলম আরও জানান, দেশে অবস্থান করছেন এমন বাংলাদেশিরাই কেবল আইজিডব্লিউ, আইসিএক্স ও আইএক্স লাইসেন্স পাবেন। তবে বিটিআরসির টেলিকম লাইসেন্সধারী কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এই তিন ধরনের লাইসেন্স পাওয়ার যোগ্য হবে না।

সরকার নিরবচ্ছিন্ন টেলিযোগাযোগ সেবা দেওয়ার জন্য একটি বিকল্প সাবমেরিন কেবল সংযোগ নেওয়ারও ব্যবস্থা করবে বলে নীতিমালায় বলা হয়েছে।
তথ্যসুত্র: বিডিনিউজ

সরকার এই পলিসি ঘোষনা করলো আজকে। আর এই পলিসিতে কি আছে তা আমি লিখেছি আরো ৩ সপ্তাহ আগে। সেটা বিস্তারিত পড়তে চাইলে ক্লিক করুন এখানে ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/arafatulblog/28726783 http://www.somewhereinblog.net/blog/arafatulblog/28726783 2007-08-20 18:06:55
গ্রামীণফোন ৫৫ এমবিপিএস ব্যান্ডউইডথ দিয়ে ২৬ লাখ লোককে ইন্টারনেট সেবা দেয়। এত কম ব্যান্ডউইডথ দিয়ে এত বেশি লোককে সংযোগ দিলে...

অবাক করা ব্যাপার হচ্ছে, ৩৬ কেবিপিএস করে পার ইউজার কে দিলেও এই ব্যান্ডউইডথ দিয়ে দুই লাখ গ্রাহককেও নিয়মিত ইন্টারনেট সেবা দেয়া সম্ভব হবে না। সেখানে ইউজার হচ্ছে ২৬ লাখ। তাহলে কিভাবে তারা ভাল ইন্টারনেট সেবা দিবে?

আসল ঘটনা অন্যজায়গায়। কিছুদিন আগে সরকার ভিওআইপি পলিসি প্রনয়ন কালে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলো শুধুমাত্র আইএসপিদের ভিওআইপি লাইসেন্স দেয়া হবে। তখন বেশিরভাগ মোবাইল অপারেটরই নিজেদের ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার হিসেবে দেখাতে অপ্রান চেষ্টা করেছে। যার ফলে এত বিজ্ঞাপন এত ইন্টারনেট সেবা ??? (ক্লোজআপহাসি)

গ্রামীণফোনের আরেকটি উদ্দেশ্য হচ্ছে ওয়াইম্যাক্স নেটওয়ার্কের লাইসেন্স নেয়া। ইন্টারনেট সেবা দিলে ওয়াইম্যাক্স লাইসেন্স পাওয়া সহজ হবে- সেই চিন্তাও তাদের মধ্যে আছে। কিন্তু এত সহজে সেটা বোধহয় সম্ভব হবে না।

আমাকে একটেলের এক কর্মকর্তা কিছুদিন আগে জানিয়েছিলো, মোবাইল অপারেটরদের কাছে প্রথম এবং প্রধান বিষয় হচ্ছে ভয়েস সেবা। কারন ৯০% এর বেশি রেভিনিউ আসে ভয়েস থেকে আর বাকিটা ইন্টারনেট আর কনটেন্ট প্রোভাইডারদের কাছ থেকে। সুতরাং ইন্টারনেট আমাদের কাছে গুরুত্বপুর্ন নয়। এটা একটা অ্যাডিশনাল সার্ভিস। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/arafatulblog/28726531 http://www.somewhereinblog.net/blog/arafatulblog/28726531 2007-08-18 23:37:35
সাংবাদিকদের জন্য ফেলোশিপ, স্কলারশিপ ও স্পন্সরড ট্রেনিং এর খবর <img src='http://www.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_25.gif' /> দক্ষিন এশিয়াভিত্তিক ডেভেলপমেন্ট ব্লগ ভয়েস অফ সাউথ এর একটি সেকশন রয়েছে সাংবাদিকদের জন্য। "ফেলোশিপস এন্ড অ্যাওয়ার্ডস" শিরোনামে দক্ষিন এশিয়ার সাংবাদিকদের জন্য প্রযোজ্য বিভিন্ন ফেলোশিপ, স্কলারশীপ, স্পন্সরড ট্রেনিং এর তথ্য পাওয়া যাবে ভয়েস অফ সাউথ ব্লগে। সাইটটি নিয়মিত আপডেট করা হয়। ফলে নিয়মিত ভিজিট করলে আপনিও পেতে পারেন কোন একটি সুযোগ। সাংবাদিকদের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের রিসার্চে আগ্রহীরাও পেতে পারেন প্রয়োজনীয় তথ্য।

এই মুহুর্তে আপনার জন্য উপযুক্ত ফেলোশিপ বা স্কলারশীপটি খুঁজে পেতে ক্লিক করুন এখানে

ডাইরেক্ট লিংক :
http://voiceofsouth.org/]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/arafatulblog/28725746 http://www.somewhereinblog.net/blog/arafatulblog/28725746 2007-08-14 18:52:07
সাংবাদিকতা পেশা ছেড়ে দিতে চান নির্যাতিত জাহিদ
সাংবাদিক হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে একদিন বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়ে চট্টগ্রাম ইউনিভার্সিটিতে সাংবাদিকতা বিভাগে ভর্তি হয়েছিলেন তিনি। জীবনের নিরাপত্তাহীনতার কারণে আজ সেই পেশাটিকেই চিরদিনের মতো ছেড়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হচ্ছেন। গত দুই বছর ধরে সন্ত্রাসীদের হুমকির মুখেও সাংবাদিক-তায় নিজেকে টিকিয়ে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। দুই বছর আগে রিপোর্ট করার কারণে চট্টগ্রাম মেডিকালে সন্ত্রাসী ডাক্তার ও ইন্টার্নিদের হাতে নির্মমভাবে নির্যাতিত হন সাংবাদিক জাহিদ। কিন্তু আজো বিচার পাননি তিনি।

২০০৫ সালের ২১ জুলাই চট্টগ্রামে যৌতুকের বলি এসিডদগ্ধ গৃহবধূ হোসনে আরার ওপর সরেজমিন প্রতিবেদন করতে চট্টগ্রাম মেডিকালে গিয়েছিলেন জাহিদ আল আমিন। আগে থেকেই ওতপেতে থাকা কয়েক সন্ত্রাসী ডাক্তার শতাধিক রোগীর সামনেই অতর্কিতে ঝাপিয়ে পড়ে তার ওপর। তারা চার ঘণ্টা ধরে জাহিদের ওপর চালায় পৈশাচিক নির্যাতন। সন্ত্রাসীরা তার বা পা ও হাত ভেঙে দেয়। দেশ-বিদেশে চিকিৎসা নেয়ার পর এখনো সে পুরোপুরি সুস্থ হতে পারেননি।

নির্যাতন প্রসঙ্গে জাহিদ বলেন, চমেক হাসপাতালে বিদ্যমান অনিয়ম ও দুর্নীতির খবর প্রকাশের জের ধরেই ওরা চার ঘণ্টা আটকে রেখে দফায় দফায় আমার ওপর নির্যাতন চালায়। পাষ- ডাক্তাররা ওয়ার্ডের শতাধিক রোগীর সামনে আমার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ইনজেকশনের সুই ফুটায়। ইট দিয়ে মাথা ফাটিয়ে দেয়। ওরা থেতলে দেয় আমার দুই হাত এবং ভেঙে দেয় বাম পা টি। এক পর্যায়ে মেরে ফেলার জন্য এক রোগীর বিছানার চাদর দিয়ে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে দেয়ার সময় স্থানীয় থানা পুলিশ ও চট্টগ্রামের সাংবাদিক নেতারা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আমাকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করেন।

চট্টগ্রাম মেডিকালের এ চক্রটির অস্ত্র, মদ, ওষুধ চুরি, চাদাবাজি, লাশ নিয়ে বাণিজ্য, অ্যাম্বুলেন্স ও সার্টিফিকেট ব্যবসাসহ নানা অপকর্মের বিরুদ্ধে রিপোর্ট করার কারণে কয়েকদিন ধরে সন্ত্রাসী ডাক্তাররা জাহিদকে খুজছিল।

সেই সন্ত্রাসী ডাক্তারদের একজন সেলিম ওরফে বেয়াদব সেলিম এখন জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউটে কর্মরত। ডা. সাইফুল দোর্দ- প্রতাপের সঙ্গে এখনো চট্টগ্রাম মেডিকালেই আছে। তানভীর হাবীব তান্নার বিরুদ্ধে মামলা থাকা সত্ত্বেও সাংবাদিকের ওপর হামলার পুরস্কারস্বরূপ বিগত জোট সরকার তাকে চট্টগ্রাম মেডিকালেরই নিওরোসার্জারি বিভাগে চাকরি দিয়েছে। মশিউর রহমান দিপু এখন ঢাকায়। আর ফারাহ চৌধুরী এখন চমেকের গাইনি ওয়ার্ডে ইন্টার্নি করছে। ওয়ার্ড বয় শওকত বহাল তবিয়তে চমেকের ১৯ নাম্বার ওয়ার্ডে। পুলিশ আজো সাংবাদিক নির্যাতনকারী অন্য সন্ত্রাসীদের শনাক্ত করতে পারেনি।

হামলার পর চিহ্নিত ওইসব সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের পাচলাইশ থানায় ওই সাংবাদিক এ ব্যাপারে একটি হত্যা চেষ্টা মামলা দায়ের করেছিল। এছাড়া মামলা তুলে নেয়া এবং দু-দুবার অপহরণ চেষ্টার পরিপ্রেক্ষিতে রাজধানীর মতিঝিল ও সবুজবাগ থানায় আরো দুটি সাধারণ ডায়েরি নথিভুক্ত রয়েছে। তবে পুলিশ গত দুই বছরেও এ মামলায় অভিযুক্তদের গ্রেফতার তো দূরের কথা চার্জ শিটও প্রদান করেনি।

জাহিদের ওপর নির্যাতনের ২৪টি মাস অতিবাহিত হয়েছে। সেই পাশবিক নির্যাতনের স্মৃতি আজো ভুলতে পারেনি সে। এখনো খুড়িয়ে খুড়িয়ে হাটতে হয় তাকে। মেরুদ-ে গুরুতরভাবে আঘাত করার কারণে নিয়মিত থেরাপি নিতে হয়। চট্টগ্রাম থেকে পালিয়ে এসেও রেহায় পাননি, এখনো সন্ত্রাসীদের মৃত্যুর হুমকি তাকে তাড়া করে ফিরছে।

দীর্ঘ দুই বছর প্রতীক্ষার পর বর্তমান সরকারের সময়ে সুবিচার ও নিরাপত্তার আশায় বুক বেধেছেন সাংবাদিক জাহিদ। বর্তমান নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার এ ব্যাপারে একটু আন্তরিক হলে একজন তরুণ সম্ভাবনাময় সাংবাদিকের আবারো নিজ পেশায় আত্মনিয়োগ করতে পারেন।

আর যদি বিচার না পান তাহলে নীরব প্রতিবাদস্বরূপ সাংবাদিকতা পেশা ছেড়ে দেবে কিছুদিন আগে দিল্লি থেকে সাংবাদিকতার ওপর ডিগ্রি নিয়ে আসা এ তরুণ সাংবাদিক। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/arafatulblog/28725039 http://www.somewhereinblog.net/blog/arafatulblog/28725039 2007-08-10 20:48:09
ভিওআইপি লাইসেন্স পাচ্ছে না মোবাইল অপারেটররা <img src='http://www.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_03.gif' /> বর্তমান অনুমোদিত আইএলডিটিএস পলিসি অনুযায়ী ঢাকা শহরে চারটি আন্তর্জাতিক গেটওয়ের (আইজিডব্লিউ) বসানো হবে। সব আন্তর্জাতিক কল আদান-প্রদান করা হবে এই গেটওয়েগুলো ব্যবহার করে। সরকারের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে এই তথ্য। সূত্র জানায়, চারটি গেটওয়ের একটি বসানো হবে সরকারি উদ্যোগে। বাকি তিনটি গেটওয়ে দেয়া হবে বেসরকারি খাতে। তবে বেসরকারি খাতে দেয়া গেটওয়েগুলোর লাইসেন্স পেতে গেলে শতভাগ বাংলাদেশী নাগরিক হতে
হবে। উন্মুক্ত অকশনের মাধ্যমে এসব লাইসেন্স দেয়া হবে।
একইভাবে চারটি গেটওয়ের সঙ্গে ছয়টি ইন্টারনেশনাল কানেকশন এক্সচেঞ্জ (আইসিএক্স) বসানো হবে। মোবাইল, পিএসটিএন এবং টিঅ্যান্ডটিতে কল আদানপ্রদানের জন্য এসব আইসিএক্স ব্যবহার করা হবে। আইসিএক্সের লাইসেন্সও দেয়া হবে শতভাগ বাংলাদেশী নাগরিক এবং বিদেশী বিনোয়োগমুক্ত প্রতিষ্ঠানকে। উন্মুক্ত অকশনের মাধ্যমে এসব লাইসেন্স দেয়া হবে।
বর্তমান অনুমোদিত পলিসি অনুযায়ী দেশে কোনো ধরনের ভি-স্যাটভিত্তিক নেটওয়ার্ক রাখা যাবে না। সূত্র জানায়, সিমিইউ-৪-এর মাধ্যমে সব আইএলডিটিএস কল আদানপ্রদান করা হবে। ভি-স্যাটের মাধ্যমে কল আদান-প্রদানে যে খরচ, তার ২০ ভাগের এক ভাগ খরচে সাবমেরিন কেব্ল দিয়ে কল আদান-প্রদান করা যাবে। ইতিমধ্যে দেশের বেশ কিছু অঞ্চল ফাইবার অপটিক কেব্লের মাধ্যমে সংযুক্ত করেছে সরকার। বাকিটাও খুব দ্রুত সম্পন্ন করা হবে। তবে সূত্র জানায়, বিশেষ কারণে সরকার কিছু ভি-স্যাট ব্যবহার করতে পারবে।
অনুমোদিত পলিসিতে দেশীয় বিনিয়োগকারীদের কল সেন্টার ব্যবসা করার সুযোগ দেয়ার কথা বলা হয়েছে। বিশেষ করে
ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের কল সেন্টার লাইসেন্স নিতে উৎসাহিত করা হবে। তবে এ সংμান্ত সব আর্থিক লেনদেন নির্ধারিত ব্যাংকের মাধ্যমে করতে হবে।
সূত্র জানায়, কল সেন্টার ব্যবসা করার জন্য লাইসেন্স ফি এখন পর্যন্ত (৬ আগস্ট) চূড়ান্ত হয়নি। তবে আগামী চার-পাঁচ দিনের মধ্যে এটি নির্ধারণ করা হবে।

সাপ্তাহিক ২০০০ এর বর্তমান সংখ্যায় এই সংক্রান্ত একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। পড়তে চাইলে ক্লিক করুন এই লেখার উপর।

ডাইরেক্ট লিংক:
Click This Link]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/arafatulblog/28724990 http://www.somewhereinblog.net/blog/arafatulblog/28724990 2007-08-10 13:15:15
জাতীয় পরিচয় পত্র প্রকল্পে বেহাল দশা বর্তমান জাতীয় পরিচয় পত্র প্রকল্পে ব্যবহার করা হচ্ছে অত্যাধুনিক বায়োমেট্রিক্স ফিঙ্গার প্রিন্ট প্রযুক্তি। ছবি এবং দুই হাতের চার আঙ্গুলের ছাপ নিয়ে তৈরি এই প্রক্রিয়া পুরোটাই প্রযুক্তি নির্ভর। কিন্তু সমস্যা দেখা দিয়েছে ফিঙ্গারপ্রিন্ট ম্যাচিং চেকিং নিয়ে। এই বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের দাবি, বর্তমানে যে প্রক্রিয়ায় ফিঙ্গার প্রিন্ট চেকিং করা হচ্ছে তা আসলে ঠিক নয়। ফিঙ্গার প্রিন্ট নেয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তা অনলাইনের মাধ্যমে ন্যাশনাল ফিঙ্গার ম্যাচিং সার্ভারের মাধ্যমে চেক করতে হবে। নতুবা একই ব্যক্তি একাধিক এলাকায় গিয়ে ফিঙ্গার প্রিন্ট দিলে তা ধরা সম্ভব হবে না। ফলে একজনের পক্ষে দুই বা ততোধিক জাতীয় পরিচয় পত্র তৈরি করা কোন কঠিন ব্যাপার হবে না।
সাপ্তাহিক ২০০০ এর অনুসন্ধানে জানা যায়, বর্তমানে বাংলাদেশের ৬১টি জেলায় মোবাইল ইন্টারনেট কানেক্টিভিটি রয়েছে। পাশাপাশি ফাইবার অপটিক নেটওয়ার্কও তৈরি হয়েছে বেশ কিছু জেলায়। সব মিলেয়ে বর্তমান অনলাইন নেটওয়ার্ক দিয়েই জাতীয় পরিচয় পত্র প্রকল্প পরিচালনা করা সম্ভব বলে মত দিয়েছেন একাধিক নেটওয়ার্ক ও টেলিকম বিশেষজ্ঞ। এ প্রসঙ্গে গ্রামীণ সল্যিউশনস এর চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার কাজি ইসলাম জানান, এখানে মুলত দুইটি ফ্যাক্টর কাজ করে। একটি হচ্ছে খরচ আরেকটি হচ্ছে টাইম। ইন্টারনেটের মাধ্যমে ডাটা ট্রান্সফার হচ্ছে। থানা লেভেলে যে ডাটাটা প্রসেস হচ্ছে সেটা ইন্টারনেটের মাধ্যমে সেন্ট্রাল সার্ভারে পাঠানো যেতে পারে।
তিনি জানান, এরফলে একটি সুবিধা হচ্ছে সেন্ট্রালে বসে কে কোথা থেকে কি ধরনের ডাটা ইনপুট দিচ্ছে তা মনিটর করা সম্ভব। এই একাউন্টিবিলিটি’র জন্য ইন্টারনেট কানেকশনটা দরকার।
ফিঙ্গার প্রিন্ট প্রসেসিং বিষয়ে জনাব ইসলাম জানান, ফিঙ্গার প্রিন্ট প্রসেসের জন্য ফিঙ্গার প্রিন্ট প্রসেসিং সার্ভার লাগে। ফিঙ্গার প্রিন্ট প্রসেসিং একটি বিশাল কাজ। এজন্য বিশাল ক্ষমতা সম্পন্ন সার্ভার লাগবে। সেন্ট্রাল সার্ভার লাগবে। সেই সার্ভার এর সাপোর্টিংয়ে ফিঙ্গার প্রিন্ট ম্যাচিং সার্ভারগুলো বসাতে হবে।
বর্তমানে ব্যবহৃত সফটওয়্যারটি প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হয়েছিলো তথ্য প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ জনাব মোস্তফা জব্বারের কাছ থেকে। তিনি শ্রীপুরের পাইলট প্রকল্প ঘুরে এসে সাপ্তাহিক ২০০০ কে জানান, নির্বাচন কমিশন যে সফটওয়্যারটি ব্যবহার করছে সেটা তৈরি করেছে টাইগার আইটি ও দোহাটেক নামক দুইটি প্রতিষ্ঠান। সফটওয়্যারটি মোটামুটি ভালোই। তবে এটিতে যখন ওয়েবক্যাম দিয়ে ছবি তোলা হয় তখন পুরো ল্যাপটপই স্লো হয়ে যায়। ফলে কাজ সম্পন্ন করতে গিয়ে অনেক সময় নষ্ট হয়। এটি সফটওয়্যারটির একটি মন্দ দিক।
বর্তমানে জাতীয় পরিচয় পত্র তৈরির জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে সাধারন মানের অফসেট কাগজ। উক্ত কাগজে প্রিন্ট করার পর তা লেমিনেটিং করে সরবরাহ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সেনাবাহিনী’র একটি সুত্র। এ প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হলে একজন সেনা কর্মকর্তা জানান, ন্যাশনাল আইডি কার্ডটি দেখতে দুর্বল হলেও এতে টুডি বারকোড প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। অত্যাধুনিক এই প্রযুক্তিতে আইডি কার্ডের মধ্যে একজন মানুষের ইংরেজি নাম, ডেট অফ বার্থ, আইডি নাম্বার আর ফিঙ্গার প্রিন্ট অন্তর্ভুক্ত আছে। যেকোন টুডি বারকোড রিডার দিয়ে চেক করে এসব তথ্য কার্ড থেকে বের করা যাবে।
বর্তমান প্রক্রিয়ায় বায়োমেট্রিক্স ফিঙ্গারপ্রিন্ট প্রসেসিং এর জন্য এখন পর্যন্ত কোন সার্ভার বাংলাদেশে আনা হয়নি। এমনকি এধরনের সার্ভার কেনার কোন দরপত্রও আহবান করেনি নির্বাচন কমিশন। ডাটা স্টোরেজ ক্যাপাসিটি’র জন্য জাতীয় বা সেন্ট্রাল সার্ভারও তৈরি করা হয়নি। বসানো হয়নি ব্যাকআপ সার্ভার। সর্বশেষ ল্যপটপ ক্রয়ের যে দরপত্র আহবান করা হয়েছে সেখানেও তেমন কোন ভাল ব্রান্ডের অংশগ্রহণ নেই। সবমিলিয়ে জাতীয় পরিচয় পত্র প্রকল্পের হার্ডওয়্যার সেটআপই এখনো তৈরি নয়। বর্তমানে ব্যবহৃত সফটওয়্যারটি বড় পরিসরে কাজ করার জন্য পরীক্ষিত নয়। ফলে এটির সফলতা নিয়েও রয়েছে প্রশ্ন। ইন্টারনেট কানেকটিভিটি’র মাধ্যমে কাজ করার কোন পরিকল্পনাও নেই সংশ্লিষ্টদের। সেনাবাহিনী সুত্রে জানা যায়, জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরিতে নির্বাচন কমিশনকে সহায়তা করাই সেনাবাহিনীর কাজ। এবং নির্বাচনের পুর্বেই জাতীয় পরিচয়পত্র হয়ে যাবে। ওদিকে নির্বাচন কমিশন জানাচ্ছে জাতীয় পরিচয় পত্র তৈরি তাদের কাজ নয়। তাদের প্রয়োজন ছবিযুক্ত ভোটার লিস্ট। সবিমিলিয়ে এ যেন এক গোলকধাঁধা।

সাপ্তাহিক ২০০০ এর বর্তমান সংখ্যায় এই সংক্রান্ত একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনটি পড়তে চাইলে এই লেখার উপর ক্লিক করুন।

সরাসরি লিংক:
Click This Link]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/arafatulblog/28724130 http://www.somewhereinblog.net/blog/arafatulblog/28724130 2007-08-04 12:09:29
র‌্যাংগস ভবন ভাঙ্গা কি অতিব জরুরী ছিলো ??? যেমনটা ধারনা করে তৈরি করা হয়েছিলো মহাখালী ফ্লাইওভার। তৈরির পরে দেখা গেলো যানজট আরো বেড়েছে, তবে যানজটের অবস্থান একটু এদিক সেদিক হয়েছে। র‌্যাংগস ভবনের পেছনে যারা গিয়েছেন তারা দেখে থাকবেন যে বড় রাস্তা করতে গেলে র‌্যাংগস ভবন একাই বাধা নয়, অন্তত্ব্য আরো কয়েকশো ছোট ছোট বাড়ী ভেঙ্গে রাস্তার জায়গা বের করতে হবে যা আদতে অনেকটাই অসম্ভব ব্যাপার। আর রাস্তার যদি প্রয়োজনই হয় তাহলে র‌্যাংগস ভবনের নিচে দিয়ে কানেক্ট করা যায়, পুরো বিল্ডিং ভাঙ্গার প্রয়োজন হয় না।
একটা মৃত এয়ারপোর্ট এর অজুহাতে ভাঙ্গা হচ্ছে র‌্যাংগস এর উপরের ১৬টি তলা। বলা হচ্ছে বিমান উঠতে নামতে গেলে এটি একটি বাধা। কি হাস্যকর কথা। র‌্যাংগস ভবন যদি বাধা হয় তাহলে ভাসানী নভোথিয়েটারওতো বিমান উঠা নামায় একটি বড় বাধা। সেটাকে ভাঙ্গা হচ্ছে না কেন ?
মইনুল হোসেন ভুবন বিস্তৃত হাসি দিয়ে বললেন আমরাতো জরিমানা নিয়ে সমস্যার সমাধান করতে পারতাম। আমার প্রশ্ন হচ্ছে তাহলে করলেন না কেন ?
জরিমানা নিয়ে সমস্যার সমাধান করলে এটা কি একটি ভালো উদ্যোগ হতো না? তাহলে পাঁচ হাজার মানুষ হঠাৎ করে বিপদে পড়তো না। একটি চলমান ব্যবসা প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্থ হতো না। দেশের অর্থনীতিতে র‌্যাংগস এতটা গুরুত্বহীন নয় যে এটা নিয়ে যখন তখন যা খুশি করা যাবে। তারচেয়ে বড় কথা সম্পদ ধ্বংস করবো কেন? অবৈধ হলে সেটাতো আরো অনেকভাবে সমাধান করা যায়।
আজকে দেশ তলিয়ে যাচ্ছে পানিতে, আর মিডিয়া দৌড়াচ্ছে র‌্যাংগস ভবন নিয়ে। চমৎকারভাবে সরকার মিডিয়ার দৃষ্টি ঘুরিয়ে দিয়েছে বন্যা থেকে। সত্যিই খুব অবাক হই দেশের এমন অদুরদর্শী কর্ম প্রক্রিয়া দেখে ...]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/arafatulblog/28724019 http://www.somewhereinblog.net/blog/arafatulblog/28724019 2007-08-03 12:58:19
আল আমিন বাঁচতে চায় বর্তমানে ওর মাথাটি এত বেশি মোটা হয়েছে যে তা মানুষের সামনে প্রকাশ করা সম্ভব নয়। বর্তমান ছবিটি দেখে ভয় পেতে পারে ওর বয়সী অন্য শিশুরা।
আল আমিনের এই অসুখ সারানেরর জন্য যে পরিমাণ টাকা দরকার, সে সামর্থ্য নেই ওর মা-বাবার। ওর বাবা ইমান উদ্দিন মুদি দোকানি। একজন মুদি দোকানদার দিনে কত টাকা আয় করেন? এ হিসাব আপনারা অনেকেই জানেন। ওর মা গৃহিনী। খরচের অভাবে ওর চিকিৎসা করা যাচ্ছে না। তাই ওর অসুখের কোনো উন্নতিও হচ্ছে না। বরং দিন দিন যাচ্ছে অবনতির দিকে। আর মোটা হয়ে যাচ্ছে মাথাটি।
হাসপাতালে অনেক দিন দৌড়াদৌড়ি করে, অনেক পরীক্ষ-নিরীক্ষার পর জানা গেছে, ওর ব্রেনের রক্তনালিতে টিউমার হয়েছে। এ দেশে এ রোগের চিকিৎসা হয় না। বিদেশে নিয়ে অপারেশন করালেই ভালো হয়ে যাবে আল আমিন। তখন আবারও হাসতে পারবে ও।
কে জানে, বড় হয়ে এ ছেলেই হয়তো হবে এ দেশের কাণ্ডারি। আপাতত ওর অসুখটি সারিয়ে আনা দরকার। যত দ্রুত সম্ভব করানো দরকার এ কাজটি। ইতিমধ্যে পার হয়ে গেছে চার-চারটি বছর। বড় দেরি হয়ে গেছে চিকিৎসার। ওর হতদরিদ্র বাবা চেষ্টাও কম করেননি। বাধ্য হয়ে ওর বাবা আকুল আবেদন দেশবাসীর কাছে।
সমাজের দয়াবান ব্যক্তিরা যদি ওর পাশে দাঁড়ান, দানশীল কোনো প্রতিষ্ঠান যদি এগিয়ে আসে, তা হলে দ্রুত সুস্থ হয়ে যাবে আল আমিন।

আর্থিক সাহায্য পাঠানোর ঠিকানা-
মোঃ ইমান উদ্দিন
সঞ্চয়ী হিসাব নম্বও ৬০৬১৩, ইসলামী ব্যাংক লোকাল অফিস, ৭৫ মতিঝিল বা/এ, ঢাকা।

সরাসরি সহায়তা : ওয়ার্ড- ৩৫-বি, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হসপিটাল, ঢাকা।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/arafatulblog/28721369 http://www.somewhereinblog.net/blog/arafatulblog/28721369 2007-07-17 20:15:43
পানিও কি এমন করে জ্বলে? ছবিটি তুলেছেন শহীদুল ইসলাম নামক একজন উন্নয়নকর্মী। বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন এখানে

কপি লিংক: Click This Link]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/arafatulblog/28720064 http://www.somewhereinblog.net/blog/arafatulblog/28720064 2007-07-08 18:25:42