আমার প্রিয় পোস্ট

আমি খুবই সাধারন একজন মানুষ কিন্তু অসাধারন কিছু করতে চাই...পারি না !!!

ড. আতিউর রহমান : এক অসহায় রাখাল থেকে বরেণ্য অর্থনীতিবিদ কাম গভর্ণর

৩০ শে এপ্রিল, ২০০৯ দুপুর ১২:৩৭

শেয়ারঃ
0 32 0


[শিরোনামের লেখাটা মূলতঃ আমাদের বরেণ্য অর্থনীতিবিদ ড. আতিউর রহমানের নিজ বয়ানে উদ্ধৃত এক অবিশ্বাস্য জীবন-সংগ্রামের ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণ ! লেখাটি রুদ্ধশ্বাসে পড়তে পড়তে বুকের ভেতরে কোথায় যেন কোন্ পাড় ভাঙার শব্দ শুনতে পাচ্ছিলাম ! সত্যি অবিশ্বাস্য ! এবং শেষ লাইনটা অতিক্রম করেই টের পেলাম, চোখের কোণের আর্দ্রতা কখন যে গড়াতে শুরু করেছে ! ইচ্ছে হলো, ইশ্ , তাঁর পা ছুঁয়ে যদি একটিবার সালাম করতে পারতাম ! মনটা ঠিকই চলে গেলো সেই অভীষ্ঠের দিকে। আমার এ অনুভূতি হয়তো একান্তই আমার। তবু সবার সাথে এই অনুভব শেয়ার না করে থাকতে পারলাম না। ফেসবুক এ এক বন্ধুর দেয়া হুবহু আর্টিক্যালটাই কম্পোজ করে তুলে দিলাম নিচে। ]

দেশবরেণ্য অর্থনীতিবিদ ও বাংলাদেশ ব্যাংকের পরবর্তী গভর্ণর ড. আতিউর রহমানের ছেলেবেলা কেটেছে গরু-ছাগল চরিয়ে ! সেখান থেকে আজকের অবস্থানে পৌঁছাতে তাঁকে অনেক ত্যাগ স্বীকার ও সংগ্রাম করতে হয়েছে। সেই কাহিনী শুনুন তাঁর মুখেই।

আমার জন্ম জামালপুর জেলার এক অজপাড়াগাঁয়ে। ১৪ কিলোমিটার দূরের শহরে যেতে হতো পায়ে হেঁটে বা সাইকেলে চড়ে। পুরো গ্রামের মধ্যে একমাত্র মেট্রিক পাস ছিলেন আমার চাচা মফিজউদ্দিন। আমার বাবা একজন অতি দরিদ্র ভূমিহীন কৃষক। আমরা পাঁচ ভাই, তিন বোন। কোনরকমে খেয়ে না খেয়ে দিন কাটতো আমাদের।

আমার দাদার আর্থিক অবস্থা ছিলো মোটামুটি। কিন্তু তিনি আমার বাবাকে তাঁর বাড়িতে ঠাঁই দেননি। দাদার বাড়ি থেকে খানিকটা দূরে একটা ছনের ঘরে আমরা এতগুলো ভাই-বোন আর বাবা-মা থাকতাম। মা তাঁর বাবার বাড়ি থেকে নানার সম্পত্তির সামান্য অংশ পেয়েছিলেন। তাতে তিন বিঘা জমি কেনা হয়। চাষাবাদের জন্য অনুপযুক্ত ওই জমিতে বহু কষ্টে বাবা যা ফলাতেন, তাতে বছরে ৫/৬ মাসের খাবার জুটতো। দারিদ্র্য কী জিনিস, তা আমি মর্মে মর্মে উপলব্ধি করেছি- খাবার নেই, পরনের কাপড় নেই; কী এক অবস্থা !

আমার মা সামান্য লেখাপড়া জানতেন। তাঁর কাছেই আমার পড়াশোনার হাতেখড়ি। তারপর বাড়ির পাশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হই। কিন্তু আমার পরিবারে এতটাই অভাব যে, আমি যখন তৃতীয় শ্রেণীতে উঠলাম, তখন আর পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকলো না। বড় ভাই আরো আগে স্কুল ছেড়ে কাজে ঢুকেছেন। আমাকেও লেখাপড়া ছেড়ে রোজগারের পথে নামতে হলো।

আমাদের একটা গাভী আর কয়েকটা খাসি ছিল। আমি সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ওগুলো মাঠে চরাতাম। বিকেল বেলা গাভীর দুধ নিয়ে বাজারে গিয়ে বিক্রি করতাম। এভাবে দুই ভাই মিলে যা আয় করতাম, তাতে কোনরকমে দিন কাটছিল। কিছুদিন চলার পর দুধ বিক্রির আয় থেকে সঞ্চিত আট টাকা দিয়ে আমি পান-বিড়ির দোকান দেই। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দোকানে বসতাম। পড়াশোনা তো বন্ধই, আদৌ করবো- সেই স্বপ্নও ছিল না !

এক বিকেলে বড় ভাই বললেন, আজ স্কুল মাঠে নাটক হবে। স্পষ্ট মনে আছে, তখন আমার গায়ে দেওয়ার মতো কোন জামা নেই। খালি গা আর লুঙ্গি পরে আমি ভাইয়ের সঙ্গে নাটক দেখতে চলেছি। স্কুলে পৌঁছে আমি তো বিস্ময়ে হতবাক ! চারদিকে এত আনন্দময় চমৎকার পরিবেশ ! আমার মনে হলো, আমিও তো আর সবার মতোই হতে পারতাম। সিদ্ধান্ত নিলাম, আমাকে আবার স্কুলে ফিরে আসতে হবে।

নাটক দেখে বাড়ি ফেরার পথে বড় ভাইকে বললাম, আমি কি আবার স্কুলে ফিরে আসতে পারি না ? আমার বলার ভঙ্গি বা করুণ চাহনি দেখেই হোক কিংবা অন্য কোন কারণেই হোক কথাটা ভাইয়ের মনে ধরলো। তিনি বললেন, ঠিক আছে কাল হেডস্যারের সঙ্গে আলাপ করবো।

পরদিন দুই ভাই আবার স্কুলে গেলাম। বড় ভাই আমাকে হেডস্যারের রুমের বাইরে দাঁড় করিয়ে রেখে ভিতরে গেলেন। আমি বাইরে দাঁড়িয়ে স্পষ্ট শুনছি, ভাই বলছেন আমাকে যেন বার্ষিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগটুকু দেওয়া হয়। কিন্তু হেডস্যার অবজ্ঞার ভঙ্গিতে বললেন, সবাইকে দিয়ে কি লেখাপড়া হয় !

স্যারের কথা শুনে আমার মাথা নিচু হয়ে গেল। যতখানি আশা নিয়ে স্কুলে গিয়েছিলাম, স্যারের এক কথাতেই সব ধুলিস্মাৎ হয়ে গেল। তবু বড় ভাই অনেক পীড়াপীড়ি করে আমার পরীক্ষা দেওয়ার অনুমতি যোগাড় করলেন। পরীক্ষার তখন আর মাত্র তিন মাস বাকি। বাড়ি ফিরে মাকে বললাম, আমাকে তিন মাসের ছুটি দিতে হবে। আমি আর এখানে থাকবো না। কারণ ঘরে খাবার নেই, পরনে কাপড় নেই- আমার কোন বইও নেই, কিন্তু আমাকে পরীক্ষায় পাস করতে হবে।

মা বললেন, কোথায় যাবি ? বললাম, আমার এককালের সহপাঠী এবং এখন ক্লাসের ফার্স্টবয় মোজাম্মেলের বাড়িতে যাবো। ওর মায়ের সঙ্গে আমার পরিচয় আছে। যে ক’দিন কথা বলেছি, তাতে করে খুব ভালো মানুষ বলে মনে হয়েছে। আমার বিশ্বাস, আমাকে উনি ফিরিয়ে দিতে পারবেন না।

দুরু দুরু মনে মোজাম্মেলের বাড়ি গেলাম। সবকিছু খুলে বলতেই খালাম্মা সানন্দে রাজি হলেন। আমার খাবার আর আশ্রয় জুটলো; শুরু হলো নতুন জীবন। নতুন করে পড়াশোনা শুরু করলাম। প্রতিক্ষণেই হেডস্যারের সেই অবজ্ঞাসূচক কথা মনে পড়ে যায়, জেদ কাজ করে মনে; আরো ভালো করে পড়াশোনা করি।

যথাসময়ে পরীক্ষা শুরু হলো। আমি এক-একটি পরীক্ষা শেষ করছি আর ক্রমেই যেন উজ্জীবিত হচ্ছি। আমার আত্মবিশ্বাসও বেড়ে যাচ্ছে। ফল প্রকাশের দিন আমি স্কুলে গিয়ে প্রথম সারিতে বসলাম। হেডস্যার ফলাফল নিয়ে এলেন। আমি লক্ষ্য করলাম, পড়তে গিয়ে তিনি কেমন যেন দ্বিধান্বিত। আড়চোখে আমার দিকে তাকাচ্ছেন। তারপর ফল ঘোষণা করলেন। আমি প্রথম হয়েছি ! খবর শুনে বড় ভাই আনন্দে কেঁদে ফেললেন। শুধু আমি নির্বিকার- যেন এটাই হওয়ার কথা ছিল।

বাড়ি ফেরার পথে সে এক অভূতপূর্ব দৃশ্য। আমি আর আমার ভাই গর্বিত ভঙ্গিতে হেঁটে আসছি। আর পিছনে এক দল ছেলেমেয়ে আমাকে নিয়ে হৈ চৈ করছে, স্লোগান দিচ্ছে। সারা গাঁয়ে সাড়া পড়ে গেল ! আমার নিরক্ষর বাবা, যাঁর কাছে ফার্স্ট আর লাস্ট একই কথা- তিনিও আনন্দে আত্মহারা; শুধু এইটুকু বুঝলেন যে, ছেলে বিশেষ কিছু একটা করেছে। যখন শুনলেন আমি ওপরের কাসে উঠেছি, নতুন বই লাগবে, পরদিনই ঘরের খাসিটা হাটে নিয়ে গিয়ে ১২ টাকায় বিক্রি করে দিলেন। তারপর আমাকে সঙ্গে নিয়ে জামালপুর গেলেন। সেখানকার নবনূর লাইব্রেরি থেকে নতুন বই কিনলাম।

আমার জীবনযাত্রা এখন সম্পূর্ণ বদলে গেছে। আমি রোজ স্কুলে যাই। অবসরে সংসারের কাজ করি। ইতোমধ্যে স্যারদের সুনজরে পড়ে গেছি। ফয়েজ মৌলভী স্যার আমাকে তাঁর সন্তানের মতো দেখাশুনা করতে লাগলেন। সবার আদর, যত্ন, স্নেহে আমি ফার্স্ট হয়েই পঞ্চম শ্রেণীতে উঠলাম। এতদিনে গ্রামের একমাত্র মেট্রিক পাস মফিজউদ্দিন চাচা আমার খোঁজ নিলেন। তাঁর বাড়িতে আমার আশ্রয় জুটলো।

প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে আমি দিঘপাইত জুনিয়র হাইস্কুলে ভর্তি হই। চাচা ওই স্কুলের শিক্ষক। অন্য শিক্ষকরাও আমার সংগ্রামের কথা জানতেন। তাই সবার বাড়তি আদর-ভালোবাসা পেতাম।

আমি যখন সপ্তম শ্রেণী পেরিয়ে অষ্টম শ্রেণীতে উঠবো, তখন চাচা একদিন কোত্থেকে যেন একটা বিজ্ঞাপন কেটে নিয়ে এসে আমাকে দেখালেন। ওইটা ছিল ক্যাডেট কলেজে ভর্তির বিজ্ঞাপন। যথাসময়ে ফরম পুরণ করে পাঠালাম। এখানে বলা দরকার, আমার নাম ছিল আতাউর রহমান। কিন্তু ক্যাডেট কলেজের ভর্তি ফরমে স্কুলের হেডস্যার আমার নাম আতিউর রহমান লিখে চাচাকে বলেছিলেন, এই ছেলে একদিন অনেক বড় কিছু হবে। দেশে অনেক আতাউর আছে। ওর নামটা একটু আলাদা হওয়া দরকার; তাই আতিউর করে দিলাম।

আমি রাত জেগে পড়াশোনা করে প্রস্তুতি নিলাম। নির্ধারিত দিনে চাচার সঙ্গে পরীক্ষা দিতে রওনা হলাম। ওই আমার জীবনে প্রথম ময়মনসিংহ যাওয়া। গিয়ে সবকিছু দেখে তো চক্ষু চড়কগাছ ! এত এত ছেলের মধ্যে আমিই কেবল পায়জামা আর স্পঞ্জ পরে এসেছি ! আমার মনে হলো, না আসাটাই ভালো ছিল। অহেতুক কষ্ট করলাম। যাই হোক পরীক্ষা দিলাম; ভাবলাম হবে না। কিন্তু দুই মাস পর চিঠি পেলাম, আমি নির্বাচিত হয়েছি। এখন চূড়ান্ত পরীক্ষার জন্য ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে যেতে হবে।

সবাই খুব খুশি; কেবল আমিই হতাশ। আমার একটা প্যান্ট নেই, যেটা পরে যাবো। শেষে স্কুলের কেরানি কানাই লাল বিশ্বাসের ফুলপ্যান্টটা ধার করলাম। আর একটা শার্ট যোগাড় হলো। আমি আর চাচা অচেনা ঢাকার উদ্দেশে রওনা হলাম। চাচা শিখিয়ে দিলেন, মৌখিক পরীক্ষা দিতে গিয়ে আমি যেন দরজার কাছে দাঁড়িয়ে বলি: ম্যা আই কাম ইন স্যার ? ঠিকমতোই বললাম। তবে এত উচ্চস্বরে বললাম যে, উপস্থিত সবাই হো হো করে হেসে উঠলো।

পরীক্ষকদের একজন মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজের অধ্যক্ষ এম. ডাব্লিউ. পিট আমাকে আপাদমস্তক নিরীক্ষণ করে সবকিছু আঁচ করে ফেললেন। পরম স্নেহে তিনি আমাকে বসালেন। মুহূর্তের মধ্যে তিনি আমার খুব আপন হয়ে গেলেন। আমার মনে হলো, তিনি থাকলে আমার কোন ভয় নেই। পিট স্যার আমার লিখিত পরীক্ষার খাতায় চোখ বুলিয়ে নিলেন। তারপর অন্য পরীক্ষকদের সঙ্গে ইংরেজিতে কী-সব আলাপ করলেন। আমি সবটা না বুঝলেও আঁচ করতে পারলাম যে, আমাকে তাঁদের পছন্দ হয়েছে। তবে তাঁরা কিছুই বললেন না। পরদিন ঢাকা শহর ঘুরে দেখে বাড়ি ফিরে এলাম। যথারীতি পড়াশোনায় মনোনিবেশ করলাম। কারণ আমি ধরেই নিয়েছি, আমার চান্স হবে না।

হঠাৎ তিন মাস পর চিঠি এলো। আমি চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হয়েছি। মাসে ১৫০ টাকা বেতন লাগবে। এর মধ্যে ১০০ টাকা বৃত্তি দেওয়া হবে, বাকি ৫০ টাকা আমার পরিবারকে যোগান দিতে হবে। চিঠি পড়ে মন ভেঙে গেল। যেখানে আমার পরিবারের তিনবেলা খাওয়ার নিশ্চয়তা নেই, আমি চাচার বাড়িতে মানুষ হচ্ছি, সেখানে প্রতিমাসে ৫০ টাকা বেতন যোগানোর কথা চিন্তাও করা যায় না !

এই যখন অবস্থা, তখন প্রথমবারের মতো আমার দাদা সরব হলেন। এত বছর পর নাতির (আমার) খোঁজ নিলেন। আমাকে অন্য চাচাদের কাছে নিয়ে গিয়ে বললেন, তোমরা থাকতে নাতি আমার এত ভালো সুযোগ পেয়েও পড়তে পারবে না ? কিন্তু তাঁদের অবস্থাও খুব বেশি ভালো ছিল না। তাঁরা বললেন, একবার না হয় ৫০ টাকা যোগাড় করে দেবো, কিন্তু প্রতি মাসে তো সম্ভব নয়। দাদাও বিষয়টা বুঝলেন।

আমি আর কোন আশার আলো দেখতে না পেয়ে সেই ফয়েজ মৌলভী স্যারের কাছে গেলাম। তিনি বললেন, আমি থাকতে কোন চিন্তা করবে না। পরদিন আরো দুইজন সহকর্মী আর আমাকে নিয়ে তিনি হাটে গেলেন। সেখানে গামছা পেতে দোকানে দোকানে ঘুরলেন। সবাইকে বিস্তারিত বলে সাহায্য চাইলেন। সবাই সাধ্য মতো আট আনা, চার আনা, এক টাকা, দুই টাকা দিলেন। সব মিলিয়ে ১৫০ টাকা হলো। আর চাচারা দিলেন ৫০ টাকা। এই সামান্য টাকা সম্বল করে আমি মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজে ভর্তি হলাম। যাতায়াত খরচ বাদ দিয়ে আমি ১৫০ টাকায় তিন মাসের বেতন পরিশোধ করলাম। শুরু হলো অন্য এক জীবন।

প্রথম দিনেই এম. ডাব্লিউ. পিট স্যার আমাকে দেখতে এলেন। আমি সবকিছু খুলে বললাম। আরো জানালাম যে, যেহেতু আমার আর বেতন দেওয়ার সামর্থ্য নেই, তাই তিন মাস পর ক্যাডেট কলেজ ছেড়ে চলে যেতে হবে। সব শুনে স্যার আমার বিষয়টা বোর্ড মিটিঙে তুললেন এবং পুরো ১৫০ টাকাই বৃত্তির ব্যবস্থা করে দিলেন। সেই থেকে আমাকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। এস.এস.সি পরীক্ষায় ঢাকা বোর্ডে পঞ্চম স্থান অধিকার করলাম এবং আরো অনেক সাফল্যের মুকুট যোগ হলো।

আমার জীবনটা সাধারণ মানুষের অনুদানে ভরপুর। পরবর্তীকালে আমি আমার এলাকায় স্কুল করেছি, কলেজ করেছি। যখন যাকে যতটা পারি, সাধ্যমতো সাহায্য সহযোগিতাও করি। কিন্তু সেই যে হাট থেকে তোলা ১৫০ টাকা; সেই ঋণ আজও শোধ হয়নি। আমার সমগ্র জীবন উৎসর্গ করলেও সেই ঋণ শোধ হবে না !

 

সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে এপ্রিল, ২০০৯ দুপুর ১:২৩ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ৩০ শে এপ্রিল, ২০০৯ দুপুর ১২:৪০
কক বলেছেন: দেখা যাক...ঝাতিকে এখন তিনি কি উপহার দেন।
৩০ শে এপ্রিল, ২০০৯ দুপুর ১২:৪৯

লেখক বলেছেন: আতিউর রহমানের মতো একজন আপাদমস্তক সৎ মানুষের কাছে আমাদের প্রত্যাশা অনেক। এই মানুষটি যদি কিছু করতে না পারেন তবে আর কে পারবেন?

২. ৩০ শে এপ্রিল, ২০০৯ দুপুর ১২:৪১
শীখা বলেছেন: পড়েছিলাম। যদি শেষ পর্যন্ত সততা ও নিষ্ঠাবান থাকতে পারেন তবে ভালো, নইলে জিবনী পড়ে আর কি হবে।
+
৩০ শে এপ্রিল, ২০০৯ দুপুর ১২:৪৭

লেখক বলেছেন: আমারও একই প্রশ্ন???আপনার সাথে এক মত...।।

৩. ৩০ শে এপ্রিল, ২০০৯ দুপুর ১২:৪৩
একান্ত কথা বলেছেন: আশা করি জাতিকে তিনি ভাল কিছু উপহার দিবেন।
৪. ৩০ শে এপ্রিল, ২০০৯ দুপুর ১২:৫১
সজল শর্মা বলেছেন: খুব ভাল লাগলো পড়ে। কষ্টের ফল তিনি পেয়েছেন।
৩০ শে এপ্রিল, ২০০৯ দুপুর ১২:৫৫

লেখক বলেছেন: এরকম মানুষদের জীবন কাহিনি সত্যি খুব অনুপ্রাণিত করে।

৫. ৩০ শে এপ্রিল, ২০০৯ দুপুর ১২:৫১
কাঙ্গাল মুরশিদ বলেছেন: ওনার অতীতের সংগ্রাম নি:সন্দেহে কঠীন ছিল কিন্তু সামনের দিন গুলোতে তারচেয়েও কঠীনতর সংগ্রাম অপেক্ষা করছে। আই.এম.এফ বিশ্ব ব্যাঙ্ক এবং আন্তর্জাতিক মুনাফাখোর গোস্ঠির বদনজর থেকে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে নিরাপদ রাখার সেই সংগ্রামেও তিনি একই ভাবে বিজয়ী হবেন এই প্রত্যাশাই করছি।
৩০ শে এপ্রিল, ২০০৯ দুপুর ১২:৫৭

লেখক বলেছেন: বাংলাদেশের অর্থনীতিও যেন শিশু আতাউর, মাথানিচু করে বসে আছে অন্যের দুয়ারে, কবে কেউ একজন নাম কেটে আতিউর করবে তার, বলবে, এমন তো দুনিয়াতে আরো অনেক আছে, এর নাম অন্য কিছু হোক।

এক আতিউর রহমানকে দিয়ে তো কিছু হবে না, কিন্তু তিনি যেন এই অর্থনীতিকে রাহুর গ্রাস থেকে মুক্ত করতে ভূমিকা রাখেন, সেই কামনা করি।

৩০ শে এপ্রিল, ২০০৯ দুপুর ১২:৫৮

লেখক বলেছেন: বড়ো মর্মস্পর্শী কাহিনী।

৭. ৩০ শে এপ্রিল, ২০০৯ দুপুর ১:০৪
নাজিম উদদীন বলেছেন: এতদিন এগুলি শোনা যায় নাই কেন, ওনার মিডিয়াপ্রীতি তো ইর্ষণীয়।
বাঙালীর সেন্টুতে উনি ঠিকই সুড়সুড়ি লাগাতে পেরেছেন।:)
৩০ শে এপ্রিল, ২০০৯ দুপুর ১:১৬

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকে।
সংগ্রামী এই মানুষটার জন্য শ্রদ্ধা ও শুভ কামনা!
এই জীবন আশাবাদী হতে সাহস যোগায় ।
-------------------------------------
জীবনযাপনে আজ যতো ক্লান্তি থাক,
বেঁচে থাকা শ্লাঘনীয় তবু ।।

৮. ৩০ শে এপ্রিল, ২০০৯ দুপুর ১:০৫
সেতূ বলেছেন: লিখার ভাষা নাই ,
তবে লেখক ভাই +++

খুব ভালো লেগেছে:

কিন্তু হেডস্যার অবজ্ঞার ভঙ্গিতে বললেন, সবাইকে দিয়ে কি লেখাপড়া হয় !

ক্যাডেট কলেজের ভর্তি ফরমে স্কুলের হেডস্যার আমার নাম আতিউর রহমান লিখে চাচাকে বলেছিলেন, এই ছেলে একদিন অনেক বড় কিছু হবে। দেশে অনেক আতাউর আছে।

আমার একটা প্যান্ট নেই, যেটা পরে যাবো। শেষে স্কুলের কেরানি কানাই লাল বিশ্বাসের ফুলপ্যান্টটা ধার করলাম।

কিন্তু সেই যে হাট থেকে তোলা ১৫০ টাকা; সেই ঋণ আজও শোধ হয়নি। আমার সমগ্র জীবন উৎসর্গ করলেও সেই ঋণ শোধ হবে না !
৩০ শে এপ্রিল, ২০০৯ দুপুর ১:১১

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ সেতূ। আমার অনুভবটা আসলে এতো গভীর হয়ে ওঠলো যে, সবার সাথে শেয়ার করাটাকেই জরুরি মনে করেছি।

৯. ৩০ শে এপ্রিল, ২০০৯ দুপুর ১:০৮
কামালআবু বলেছেন: একদম মনের কথা বলেছেন। 'সালাম তোমাকে - আতিউর রহমান'। জাতিকে কি দিলেন, তা আমার আভিপ্রায় নয়। জাতি হিসাবে আমরা উনির কাছ থেকে কি নিতে পারলাম, সেটায় বড় কথা।উনাকে কাজে লাগানোর জন্য আমরা কি কি করলাম, সেটাই দেখার বিষয়।
দেশের উন্নয়নের জন্য আমরা যদি জনমত তেরি করতে পারি, তবে এমপি/মন্তীরা অন্য কিছু চাপিয়ে দিতে পারবে না।আমরা আমাদের প্রয়োজন গুলো বুঝতে হবে।আমাদের ট্যাক্সের টাকার হিসাব আমরা চাই, কিভাবে তা খরচ হচ্ছে জানতে চাই। ট্যাক্সের টাকার সকল সরকারী অফিসের উন্নয়ন চাই, ডাকঘর, টেলিফোন, রেল, বিমান, রাস্তাঘাট, ইত্যাদির জবাবদীহিতা চাই। তা না হলে সব প্রাইভেট করে ফেলা হোক।প্রভু চাইনা, বন্ধু চাই।
৩০ শে এপ্রিল, ২০০৯ দুপুর ১:১৮

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকে।আতিউর রহমানের মতো একজন আপাদমস্তক সৎ মানুষের কাছে আমাদের প্রত্যাশা অনেক। এই মানুষটি যদি কিছু করতে না পারেন তবে আর কে পারবেন?

১০. ৩০ শে এপ্রিল, ২০০৯ দুপুর ২:২২
অমাবশ্যার চাঁদ বলেছেন: আতিউর রহমানের সাফল্য কামনা করছি।
৩০ শে এপ্রিল, ২০০৯ বিকাল ৫:৪৮

লেখক বলেছেন: আশা করি জাতিকে তিনি ভাল কিছু উপহার দিবেন।

১১. ৩০ শে এপ্রিল, ২০০৯ দুপুর ২:২৭
ঐক্যতান বলেছেন: অসাধার... পুরো জীবনী কোথায় পাওয়া যাবে?
৩০ শে এপ্রিল, ২০০৯ বিকাল ৫:৫১

লেখক বলেছেন: পুরো জীবনী কোথায় পাওয়া গেলে আপনি আবশ্যই পাবেন......।

১২. ৩০ শে এপ্রিল, ২০০৯ দুপুর ২:২৭
ঐক্যতান বলেছেন: অসাধারণ... পুরো জীবনী কোথায় পাওয়া যাবে?
১৩. ৩০ শে এপ্রিল, ২০০৯ দুপুর ২:৩৭
রাহা বলেছেন: যতোদূর জানি তিনি ব্যক্তিগত জীবনে তার অতীতকে স্মরণ করেন...
৩০ শে এপ্রিল, ২০০৯ বিকাল ৫:৪৭

লেখক বলেছেন: তাইতো কষ্টের ফল তিনি পেয়েছেন।

১৪. ৩০ শে এপ্রিল, ২০০৯ বিকাল ৩:৪৭
বাবুই বলেছেন: ভালো কিছূ দেখার অপেক্ষায় রইলাম!
৩০ শে এপ্রিল, ২০০৯ বিকাল ৫:৪৫

লেখক বলেছেন: আশা করি জাতিকে তিনি ভাল কিছু উপহার দিবেন।

১৫. ৩০ শে এপ্রিল, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:২৩
হামীম বলেছেন: কঠিন জীবনের অর্জিত অভিজ্ঞতা জাতীকে পথ নির্দেশক হিসেবে কাজে লাগাবেন এই প্রত্যাশায় সু-স্বাগত বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর জনাব আতিউর রহমানকে। আপনার সু-স্থাস্থ্য কামনা এবং অভিনন্দন।
১৬. ০১ লা মে, ২০০৯ রাত ১২:১১
মিছে মন্ডল বলেছেন: ভাবতেই অবাক লাগে, এত্ত সুযোগ সুবিধার মাঝে থেকেও কিছু করতে পারলাম না, আর তিনি কী অবস্থায় মাঝ থেকে উঠে এসেছেন...শ্রদ্ধায় মাথা নত হয়ে আসে। তাঁর সাফল্য কামনা করি ও আশা করি জাতিকেও সে বিশেষ কিছু দিবেন। আল্লাহ তাঁর সহায় হোন।

১৭. ০১ লা মে, ২০০৯ রাত ১২:১২
মিছে মন্ডল বলেছেন: কোন ছাগলের নাতি কু*ার ছাওয়াল এই পোস্টে মাইনাস দিছে??? ওই কু*ার বাচ্চার পু*কি দিয়া বাঁশ ভরে দেয়া উচিত।
০১ লা মে, ২০০৯ দুপুর ২:৩১

লেখক বলেছেন: একদম মনের কথা বলেছেন।

১৮. ০১ লা মে, ২০০৯ রাত ১২:২৯
সোজা কথা বলেছেন: শীখা বলেছেন: পড়েছিলাম। যদি শেষ পর্যন্ত সততা ও নিষ্ঠাবান থাকতে পারেন তবে ভালো, নইলে জীবনী পড়ে আর কি হবে।

সেটাই! খেলা এখনো চলছে। শুরুটা গল্পের মত। শেষটাও যেন এমন হয়।
১৯. ০১ লা মে, ২০০৯ সকাল ১১:২০
মনিরুজ্জামান কবির বলেছেন: গ্রামের গরীব মেধাবী শিক্ষার্থীরা যেন শহরে আসতে পারে।সেজন্য বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে একটা প্রকল্প আশা করছি।
০১ লা মে, ২০০৯ দুপুর ২:৩৪

লেখক বলেছেন: আপনার সাথে এক মত...।।

২০. ২২ শে মে, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:২৫
বায়লোজি বলে আমি নাকি ছেলে!! বলেছেন: বাংলাদেশের আজকের স্বীকৃত সকল মানুশ গ্রাম থেকে উঠে য়েসেছেন....য়েবং য়েদের ৯০% ই কৃষিকাজ করে গরু ছাগলের লালন পালন করে ধান বেছে পড়াশুনা করেছেন.....।

আমি উনারে পারিবারিকভাবে জানি....য়েবং য়েটাও জানিযে উনাদের নিজেদের গরু-ছাগল-ধানক্ষেত ছিল..(গ্রামে তখন কৃযিজীবিদের সকলেরই থাকতো অল্প আর কম)
তখনকার দিনে আমাদের মত আকামের পোলা কেউ পালতো না.....
সকলেই ঘরের কাজ করে গরু ছাগল পাইলা,হাল-চাষ কইরা মানুষ হইতো।

সো য়েখনে যদি আতিউর জেটুরে আলাদা কইরা "অসহায়" রাখাল বলা হ্য় সেটা হাস্যকর হবে.....গরু-ছাগল চরাইলেই যদি রাখাল হইয়া যায় তবে আজকের প্রতিস্টিত সকলেই য়েবং আমাদের সকলের পু্র্বপুরুষই রাখাল..........
২১. ০৪ ঠা আগস্ট, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:০২
মুহাম্মদ মোহেব্বুর রহমান বলেছেন: সকলেই জানতে চাচ্ছেন, দেখা যাক তিনি এখন আমাদেরকে কী দেবেন?


তিনি তো দিয়েই দিয়েছেন।
তিনি তার অতীতকে মনে রেখেছেন।
তিনি তার অতীতকে সকলের সামনে তুলে ধরেছেন।
তিনি আমাদের সামনে এই সত্যটি তুলে ধরেছেন, সাধনা ও অধ্যবসায় থাকলে অসাধ্য সাধন করা যায়।

এখন আমাদের উচিৎ তার মত একজন হওয়ার চেষ্টা করা।
২২. ০৭ ই আগস্ট, ২০০৯ সকাল ১১:০৯
মোহাম্মদ লোমান বলেছেন: দারুন এক অভিজ্ঞতা। আল্লাহ ওনাকে সৎভাবে দেশের সেবা করার তাওফিক দান করুন।
২৪. ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১২:৪৪
ওসমানজি২ বলেছেন: আর্দ্র চোঁখের কারনে কয়েকবারের চেষ্টায় পড়া শেষ করলাম। অসাধারন এক জীবন য়ুদ্ধ। এখন কর্মক্ষেত্রে এক অসাধারন য়ুদ্ধের অপেক্ষায় থাকলাম।
২৫. ২৯ শে অক্টোবর, ২০০৯ বিকাল ৩:২০
আরিফ বিন ফরহাদ বলেছেন: রুদ্ধশ্বাসে পড়তে পড়তে বুকের ভেতরে কোথায় যেন কোন্ পাড় ভাঙার শব্দ শুনতে পাচ্ছিলাম ! সত্যি অবিশ্বাস্য ! এবং শেষ লাইনটা অতিক্রম করেই টের পেলাম, চোখের কোণের আর্দ্রতা কখন যে গড়াতে শুরু করেছে !
২৬. ২১ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ দুপুর ২:৩৯
রণদীপম বসু বলেছেন: আপনার ফেসবুকের সেই বন্ধুটিকে আমার শুভেচ্ছা জানাবেন।
২৭. ১০ ই ডিসেম্বর, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:৫৫
মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন বলেছেন:
অসাধারণ এক জন মানুষ। উনাকে সামনাসামনি দেখার সুযোগ হয়েছে। কথা বলেছি। অনেক বিনয়ী আর সদালাপী এক জন মানুষ। এমন মানুষ আরো দরকার।
২৮. ১৯ শে এপ্রিল, ২০১১ রাত ১:৫২
মেলমুটকিড বলেছেন: আমি ওনাকে অন্তরের গভীর থেকে শ্রদ্ধা করি।এই সৎ লোকটি জানি সকল কাজে সফল হয়।

 

মোট সময় লেগেছে ১.৪১৭১ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
আমি এ .আর. আতিক ।চাকরি আর পড়ালেখা দুটোই চলছে সমানতালে,
কঠোর পরিশ্রমের দ্বারা জীবনের প্রত্যেক ক্ষেত্রে উন্নতি করতে চাই। কিন্তু চাচা...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ