সিয়াম রিপ অ্যাংকর ওয়াট
১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:৪৫
এক সময় অ্যংকর ওয়াট ছিল কেম্বডিয়ার রাজধানী। সে বহু যুগ আগের কথা।
রাজ বাড়ি টা ছিল খুব উচু স্তম্ভের উপর। খারা সিড়ি দিয়ে উপরে উঠতে হয়। যখন সিড়িটা দেখলাম আবাক হয়ে ভাবলাম এত খাড়া সিড়ি করলেন কেন রাজা।
কারন আমার জন্যই উপরে ওঠা ছিল ভয়াবহ ব্যপার। পরে মনে হলো মনে হল সিড়ির উপরে তামা বা লোহার পাত বা রুপোর পাত ছিল। তাতে হয়তো চওড়া হতো সিড়িটা আরো একটু। প্রথম লেভেলে রানীদের ঘর। আর চুরোর একমাত্র ঘরটি রাজার।
এর পর গেলাম দেখতে বিশাল স্টেজ যেখানে রাজারা বসে হাতি, ঘোড়ার লড়াই দেখতেন। প্রায় আধামাইল লম্বা স্টেজ। সেখনে আবার অনেক গুলো টাওয়ার আছে যেখনে অপ্সরারা নেচে নেচে এক টাওয়ার থেকে অন্য টাওয়ারে যেত দড়ির উপর দিয়ে হেটে হেটে, হাতির লড়াই শেষ হলে রাজা তার রানি আর পরিষদ নিয়ে অপ্সরাদের সেই নাচ দেখতেন।
সেখান থেকে গেলাম দেখতে সেই টেম্পল যেখানে টুম্ব রেইডার সিনেমার সুটিং হয়েছে।
টেম্পলের গায়ে বিশাল বিশাল গাছ জড়িয়ে রেখেছে দেয়াল আর ঘড় গুলোকে।
টেম্পলের গায়ে অসংক্ষ গর্ত যেখানে একসময় নানান রকমের মুল্যবান পাথর বসান ছিল। আরা টেম্পলের দেয়ালে ছিম তামা বা রুপোর কারুকাজ। রাজার মা'র ঘরটা ছিল মনি মুক্তা খচিত। গর্ত গুলো এখনো আছে।
ওখান থেকে আরেক টেম্পলে গেলাম লম্বা পরিক্ষা আর বিশাল গেট পার হয়ে । এক সময় ঐ পরিক্ষায় কুমিড় রাখা হতো শত্রুদের আটকাবার জন্য।
সেখানে টেম্পলের দেয়ালে এনগ্রেভ করে ইতিহাস লিখে রাখা হয়েছে। যেন নকশি কথা।
দেয়ালে দেয়ালে ইতিহাসের গল্প!!! যুদ্ধ জয়ের গল্প!!! প্রেমের গল্প!!! আরো কতো গল্প!! আমি ঐ সব গল্পের ভেতর হরিয়ে গিয়ে নিজেকেই এক সময় গল্পের চরিত্র ভাবতে শুরু করলাম!!! হা হা হা অসাধারন অনুভুতি!!।
টেম্পলে দেয়াল আর গুবুজ গুলো যেন পাজ্ল করে বানান, টুকরো টুকরো পাথড়ের পাজ্ল একটার উপর আরেকটা বসিয়ে কোন চুন সুরকি ছাড়া কিকরে ওরা এত উচু উচু গম্বুজ বানাল সেটা সেই পিরামিডের বিশ্বয়ের মতই এক বিশ্বয়!!
দেখলাম কিছু কেম্বডিয়ান সেখানে অপ্সরার আর বানরের পোশাক পড়ে নেচে নেচে পুরনদিনের সময় গুলো কে মনে করিয়ে দেবার চেষ্টা করছে।
এই জিনিস টা আমাকে খুব নাড়া দিল যে ওরা ওদের পুরন ঐতিয্যকে বজায় রাখবার জন্য এমনকি স্কুল খুলেছে যেখানে ওরা শেখায় কিভাবে পাথরে এনগ্রেভ করে বা পাথড় কেটে কেটে হুবহু একই রকম ছবি আকতে হয় বা মুর্তি বানতে হয়, ইতিহাস লিখতে হয়।
এর মধ্যে দেখি ছোট্ট একটা মেয়ে আমার কাপরের কোনা ধরে টানছে হাতে বানানো কিছু ছোট ছোট খেলনা বিক্রি করবার জন্য। মিষ্ট মুখটা মায়ায় ভরা!!
অসাধারন করুকাজ করা শত শত গম্বুজ আর বৌদ্ধ মুর্তি দেখলাম সর্বত্র। আর
সযত্নে সেগুলো রক্ষা করা হচ্ছে। আপনাদের সাথে ছবি গুলো আর অনুভুতি গুলো শেয়ার করলাম।
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:৫৬ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
লেখক বলেছেন: মনে থাকেনা কম্বোডিয়া বলার কথা কারন আমার চার পাশে সবাই ইংলিশ বলে। বাংলায় কথা বলা হয় খুবই কম। তাই ইংলিশ উচ্চারন আগে মাথায় আসে অভ্যাস বশত!!!
মুকুট বলেছেন:
চমৎকার ছবিগুলো শেয়ারের জন্য ধন্যবাদ!
লেখক বলেছেন: উমম শেয়ার করে আনন্দ পেলাম আপনাদের ভাল লেগেছে জেনে।
পাই বলেছেন:
ছবি গুলো দারুন।শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: আপনাকেও ধন্যবাদ পড়ার ও আমার সাথে কেম্বডিয়া দেখার জন্য।
লেখক বলেছেন: আমাকে ত দেখবেনই। আমি ত নামি দামি মানুষ নই, তবে আমার গল্পের নায়িকা আমি। সো নিজেকে ত এট লিস্ট নিজের ক্ষমতার জোরে হাই লাইটে আনতে পারি হা হা হা!!!
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ আমার সাথে বেড়াবার জন্য!!
লেখক বলেছেন: ভুলে যাবেন না আমার পেশা ও ফোটোগ্রফি!!!! থ্যাক্স!!
লেখক বলেছেন: অল মাই প্লেজার!!!
হৃদয়হীনা বলেছেন:
ছবি গুলো শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। প্রথম দিকে আপনার পোষ্ট পড়ে আমার খুব হাঁসি পেত। মনে হয় খুব তাড়াতাড়ি আপনি বাংলা টাইপিংটা রপ্ত করে ফেলেছেন। এখনও অনেক লেখার বানান ভুল। আশা করি এই দিকটাও একটু খেয়াল করবেন। ভবিষ্যতে আপনার মাধ্যমে আরও কিছু জানতে পারব, সেই প্রতিক্ষায়..........
লেখক বলেছেন: আমি বাংলায় খুব ভাল নই। একবার ক্লাস সেভেনে বাংলা ২য় পেপারে ফেল করি আমার ফুফু বাংলার প্রফেসর হয়ে গাইডেন্স দেয়া সত্বেও। বাংলা লেখিনা ১৯৯৫ সাল থেকে। বাংলায় রেগুলার কথা বলিনা গত ১০ বছর। আমার বানান কখনই ঠিক হবে না কারন বাংলা ডিক্সনারি জীবনে দুবার চোখে দেখেছি ও ঘেটেছি আমার ভাগ্নের ও আমার ভাইয়ের নাম করনের সময়। আমার কাছ থেকে এর চাইতে উন্নতি আশা করলেও পাবেন না। খুবই দুঃখিত!!!!! ধন্যবাদ আমাকে টলারেট করবার জন্য।
হৃদয়হীনা বলেছেন:
আচ্ছা, আরিয়ানা শব্দের মানে কি?
লেখক বলেছেন: মানে এ্যলব্যাটরস
লেখক বলেছেন: আমার সাথে থাকবার জন্যও ধন্যবাদ অনেক।
লেখক বলেছেন: ভাল লেগেছে জেনে খুশি হলাম। ভাল থাকুন।
লেখক বলেছেন: চেষ্টা করেছি ভাল ছবি তোলার। ভাল লাগল জেনে আপনার ভাল লেগেছে।
অচেনা সৈকত বলেছেন:
ঘটনা বুঝলাম না। আমার খালারে রুখসানা তাজীন খালামনি ডাকে কি কারণে। উনি কি তাইলে আমার সমবয়সী নাকি?
লেখক বলেছেন: এই তার মানে আমি সবার খালামনি এবং বুড়ি!!! হা হা হা । ভালই লাগে খালামনি হতে!!!
লেখক বলেছেন: থ্যক্স!!!
মে ঘ দূ ত বলেছেন:
ছবিগুলো চমৎকার!
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ!!
জেমসবন্ড বলেছেন:
ভালো লাগল ! ধন্যবাদ শেয়ার করার জন্য ।
তবে কম্বোডিয়ার প্রাকৃতিক সৈান্দর্য কেমন ?
বুঝলাম ইতিহাস আছে আর ওরা সেটা ধরে রাখার চেষ্টা করছে ।
সুন্দর সুন্দর প্রাকৃতিক এলাকা , ঝর্ণা, নদী, পাহাড় ইত্যাদির ছবি দেখতে মন্চায়
লেখক বলেছেন: কেম্বডিয়া বাংলাদেশের মতই দেখতে একটা দেশ তবে কিছুটা অনুন্যত বাংলাদেশের চাইতে। তবে অধিকাংশ মানুষ ইংরেজি বোঝে। মানসিকতায় উন্নত বাংলাদেশের চাইতে।
নভেরা১১ বলেছেন:
কেমন আছেন আপু ? অনেক ধন্যবাদ শেয়ার করার জন্য।
লেখক বলেছেন: আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ পড়বার জন্য।
আজনবী বলেছেন:
পহেলা ফাল্গুন আর ভ্যালেনটাইন শুভেচ্ছা। অনেক কিছু জানছি, তাই কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। আরো লেখার অপেক্ষায় রইলাম। ধীরে ধীরে আপনার সবগুলো পোষ্ট পড়ছি। কমেন্টগুলো দেখে নিবেন।
লেখক বলেছেন: অসংখ্য ধন্যবাদ পড়বার জন্য!! ভাল থাকুন।
এবিএম গিয়াসউদ্দিন (শামীম) বলেছেন:
ছবিগুলি শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ!! ভালো লাগলো আপনার লেখা।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ পড়বার জন্য।
অফ টপিক - ব্লগে এতোদিন একজন ফুফু ছিলেন, এখন একজন খালামনিও পাওয়া গেল
সারিয়া তাসনিম (ব্লগীয় ফুফু) Click This Link
লেখক বলেছেন: উমম খালামনি হতে ভালই লাগে। ধন্যবাদ ফুফুর লিংকটা দেবার জন্য। ভাল আছেন?
মুহিব বলেছেন:
চমৎকার লেখা আর ছবি। আপনি লিখতে থাকুন।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্য।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...





















আপনে "কেম্বডিয়া" লেখেন কেন ?? কেম্বডিয়াতো আংরেজীতে বলে।
যদি এট্টু কষ্ট করে বাংলায় কম্বোডিয়া লেখতেন ,তাইলে ভালু লাগত, যদিও এটা পুরাই আপনার স্বাধীনতা ।
মাইন্ড খাইয়েন না ।
পিচ্ছির ফডুডা জোশ হইছে ।