somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আকুপাংচার

১৪ ই মে, ২০০৯ দুপুর ১:৪৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গতবার যখন ঢাকায় গেছিলাম তখন থেকে আমার হাটুতে কেন যেন ব্যথা শুরু হলো। ওখানে ডাক্তার দেখাবার সময় পাইনি তাই ফিরে এসে এখানে ডাক্তার দেখাতে গেলাম। ডাক্তার বলল রিউমেটিক মত মনে হচ্ছে। যাই হোক ওষুধ দিলেন। কিন্তু তাতে ফল হলো না খুব একটা।

গত তিন সপ্তাহ ধরে ব্যথা বেশি হওয়ায় ভাবলাম আকুপাংচার ট্রায় করে দেখি। ভয়ে ভয়ে গেলাম সেখানে। জীবনে কখনও আকুপাংচার করিনি। কেমন ব্যথা লাগে তাও জানি না।

যাই হোক নতুন ধরনের এক্সপেরিয়েন্স হবে ভেবে গেলাম আর তাছাড়া ওতে কা জ হলেও তো হতে পারে।

ডাক্তার মশাই ৭০ বছর হবেন কম পক্ষে, ইংরেজী খুব একটা বোঝেন না বা বলতেও পারেন না। হাত কাপে তার সারাক্ষন থর থর করে। অনেক চেষ্টা করে তাকে আমার ব্যথার কথাটা বোঝালাম।

এর পর ভাংগা ভাংগা ইংরেজীতে উনি জিঙ্গেস করলেন আমি আগে কখনও আকুপাংচার করেছি কিনা। বললাম - জীবনেও না। তাতে সে একটু অদ্ভুৎ ভাবে আমার দিকে তাকাল যেন "সাহস কত মেয়ের"!:-*

আমি জিঙ্গেস করলাম - ব্যথা লেগবে না তো? ইংরেজী না জানার কারনে উনি রহস্যের হাসি দিয়ে এক গাদা সুচের বাক্স নিয়ে আমার সামনে এসে বসলেন যেন কোন ব্যপার না...উনার রহস্যময় মুখের দিকে তাকিয়ে আমার ত আত্বারাম খাচা ছাড়ার জোগার। ভাবলাম কোন দুঃখে এসেছিলাম এখানে মরতে। ক্লিফ তো এসব সুচ ফোটানো দ্ৃশ্য দেখতে পারবেনা বলে আরালে গিয়ে বসে আছে। আমি সাহস দেখাতে গিয়ে এখন জীবন নিয়ে টানা টানি।

ডাক্তারের মুখে ত্ৃপ্তির হাসি B-)..যেন ..."আহা কি আনন্দ আকাশে বাতাশে....ইচ্ছা মত এখন মেয়েটাকে সুচ ফোটানো যাবে।" উমমম একেবারে হরর মুভি/:) ভাষার সমস্যার করনে আমাকে সান্তনার বানীটিও দিতে পারছেন না স্মিত হাসি ছাড়া।

আস্তে আস্তে সুচের মোড়োক খুলে আমার দিকে শেষ বারের মত তাকালেন যেন গরু জবাই এর আগে কশাই তার গরুটির দিকে তাকিয়ে দেখছে। আমার হার্ট ফেলিওরের একটা আশংকা দেখা দিল মনের ভেতর....উঠে দৌড়ে পালাবার প্রচন্ড ইচ্ছেটাকে অনেক কষ্টে দমন করলাম এই ভেবে যে আমার বয়স হয়েছে ছেলে মানুষি আচরন আমাকে সাজেনা। আহ মন কি আর তা মানে যখন জীবন মরন সমস্যা :(( আমার ছেড়ে দে মা কেদে বাচি অবস্থা।

ডাক্তারের সুচ ধরা থর থর করে কাপা হাতটা আমার হাটুর দিকে এগোতে দেখে ভয়ে আপনা আপনি আমার চোখ বন্ধ হয়ে গেল। ভাবলাম হাতের কাপুনিতে সুচটা আবার ভেংগে না যায় মাংসের ভেতর...নিঃশ্বাস বন্ধ করে অপেক্ষা করছি সেই মূহুর্তটির। আলতো একটা টোকা পড়ল আমার হাটুতে যেন ডাক্তারের হাতটি ছুয়ে গেল আমার চামড়া। তারপর আর কিছু নেই। ৩ সেকেন্ড পর চোখ খুলে দেখি ৩"/৪" লম্বা সুচের অর্ধেকের বেশি আমার পায়ের ভেতর। :-* অবাক ব্যপার টেরই পেলাম না এত বড় সুচটা ঢুকে গেল মাংসের ভেতর!!!:-*


এরপর পর পর আরো দুটো ঢুকলো। কোন ব্যপার মনে হলো না। তার পর ডক্তার যখন ইলেকট্রিক শক দেবার জন্য চিমটা নিয়ে এলো আমার আরেক প্যানিক শুরু হলো মনের ভেতর - ও তবে এটাই আসল ঘটনা। সুচ গুলোকে প্রথমে আরো ভেতরে ঢুকিয়ে দাতের রুট ক্যানেল করার মত স্ক্রুইং করতে থাকলো প্রথমে। তাতে একটু ব্যথা লাগল তবে খুবই মাইল্ড। এর পর ইলেকট্রিক শকের চিমটা গুলোকে সুচ গুলোর সাথে ফিট করে পাওয়ার দেয়া শুরু করল। আমার ত ম্ৃত্যুর প্রহর গোনা চলছে তখন।

এর পরেও যখন দেখি ব্যথা খুব একটা লাগলো না তখন উপলব্ধি করলাম ভানুর জোকস এর মত আমার জীবন এতই শক্ত যে বাজ পড়লেও হয়ত মড়ব না :P

সব শেষ হতে ১৫ মিনিট লাগল। উঠে যখন দাড়ালাম দেখি হাটুর ব্যথা ৯০% নেই। অসাধারন এই আকুপাংচার ব্যপারটা। ডাক্তারটিরও অসাধারন হাত। কাপা হাতে উনি কি সুনিপুন ভাবে সুচ গুলো ঠিক যায়গা মতন বসিয়ে দিলেন কোন ব্যথা না দিয়ে। অদ্ভুৎ অভিঙ্গতা!!

আপনাদের সাথে আমার আকুপাংচার নেয়ার অভিঙ্গতাটা শেয়ার করলাম।;)
আপনারও ট্রায় করতে পারেন। খরচ নরমাল ডাক্তারের অর্ধেক।:D

সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই মে, ২০০৯ সকাল ৯:০৭
৫৩টি মন্তব্য ৪৫টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×