গতবার যখন ঢাকায় গেছিলাম তখন থেকে আমার হাটুতে কেন যেন ব্যথা শুরু হলো। ওখানে ডাক্তার দেখাবার সময় পাইনি তাই ফিরে এসে এখানে ডাক্তার দেখাতে গেলাম। ডাক্তার বলল রিউমেটিক মত মনে হচ্ছে। যাই হোক ওষুধ দিলেন। কিন্তু তাতে ফল হলো না খুব একটা।
গত তিন সপ্তাহ ধরে ব্যথা বেশি হওয়ায় ভাবলাম আকুপাংচার ট্রায় করে দেখি। ভয়ে ভয়ে গেলাম সেখানে। জীবনে কখনও আকুপাংচার করিনি। কেমন ব্যথা লাগে তাও জানি না।
যাই হোক নতুন ধরনের এক্সপেরিয়েন্স হবে ভেবে গেলাম আর তাছাড়া ওতে কা
ডাক্তার মশাই ৭০ বছর হবেন কম পক্ষে, ইংরেজী খুব একটা বোঝেন না বা বলতেও পারেন না। হাত কাপে তার সারাক্ষন থর থর করে। অনেক চেষ্টা করে তাকে আমার ব্যথার কথাটা বোঝালাম।
এর পর ভাংগা ভাংগা ইংরেজীতে উনি জিঙ্গেস করলেন আমি আগে কখনও আকুপাংচার করেছি কিনা। বললাম - জীবনেও না। তাতে সে একটু অদ্ভুৎ ভাবে আমার দিকে তাকাল যেন "সাহস কত মেয়ের"!
আমি জিঙ্গেস করলাম - ব্যথা লেগবে না তো? ইংরেজী না জানার কারনে উনি রহস্যের হাসি দিয়ে এক গাদা সুচের বাক্স নিয়ে আমার সামনে এসে বসলেন যেন কোন ব্যপার না...উনার রহস্যময় মুখের দিকে তাকিয়ে আমার ত আত্বারাম খাচা ছাড়ার জোগার। ভাবলাম কোন দুঃখে এসেছিলাম এখানে মরতে। ক্লিফ তো এসব সুচ ফোটানো দ্ৃশ্য দেখতে পারবেনা বলে আরালে গিয়ে বসে আছে। আমি সাহস দেখাতে গিয়ে এখন জীবন নিয়ে টানা টানি।
ডাক্তারের মুখে ত্ৃপ্তির হাসি
আস্তে আস্তে সুচের মোড়োক খুলে আমার দিকে শেষ বারের মত তাকালেন যেন গরু জবাই এর আগে কশাই তার গরুটির দিকে তাকিয়ে দেখছে। আমার হার্ট ফেলিওরের একটা আশংকা দেখা দিল মনের ভেতর....উঠে দৌড়ে পালাবার প্রচন্ড ইচ্ছেটাকে অনেক কষ্টে দমন করলাম এই ভেবে যে আমার বয়স হয়েছে ছেলে মানুষি আচরন আমাকে সাজেনা। আহ মন কি আর তা মানে যখন জীবন মরন সমস্যা
ডাক্তারের সুচ ধরা থর থর করে কাপা হাতটা আমার হাটুর দিকে এগোতে দেখে ভয়ে আপনা আপনি আমার চোখ বন্ধ হয়ে গেল। ভাবলাম হাতের কাপুনিতে সুচটা আবার ভেংগে না যায় মাংসের ভেতর...নিঃশ্বাস বন্ধ করে অপেক্ষা করছি সেই মূহুর্তটির। আলতো একটা টোকা পড়ল আমার হাটুতে যেন ডাক্তারের হাতটি ছুয়ে গেল আমার চামড়া। তারপর আর কিছু নেই। ৩ সেকেন্ড পর চোখ খুলে দেখি ৩"/৪" লম্বা সুচের অর্ধেকের বেশি আমার পায়ের ভেতর।
এরপর পর পর আরো দুটো ঢুকলো। কোন ব্যপার মনে হলো না। তার পর ডক্তার যখন ইলেকট্রিক শক দেবার জন্য চিমটা নিয়ে এলো আমার আরেক প্যানিক শুরু হলো মনের ভেতর - ও তবে এটাই আসল ঘটনা। সুচ গুলোকে প্রথমে আরো ভেতরে ঢুকিয়ে দাতের রুট ক্যানেল করার মত স্ক্রুইং করতে থাকলো প্রথমে। তাতে একটু ব্যথা লাগল তবে খুবই মাইল্ড। এর পর ইলেকট্রিক শকের চিমটা গুলোকে সুচ গুলোর সাথে ফিট করে পাওয়ার দেয়া শুরু করল। আমার ত ম্ৃত্যুর প্রহর গোনা চলছে তখন।
এর পরেও যখন দেখি ব্যথা খুব একটা লাগলো না তখন উপলব্ধি করলাম ভানুর জোকস এর মত আমার জীবন এতই শক্ত যে বাজ পড়লেও হয়ত মড়ব না
সব শেষ হতে ১৫ মিনিট লাগল। উঠে যখন দাড়ালাম দেখি হাটুর ব্যথা ৯০% নেই। অসাধারন এই আকুপাংচার ব্যপারটা। ডাক্তারটিরও অসাধারন হাত। কাপা হাতে উনি কি সুনিপুন ভাবে সুচ গুলো ঠিক যায়গা মতন বসিয়ে দিলেন কোন ব্যথা না দিয়ে। অদ্ভুৎ অভিঙ্গতা!!
আপনাদের সাথে আমার আকুপাংচার নেয়ার অভিঙ্গতাটা শেয়ার করলাম।
আপনারও ট্রায় করতে পারেন। খরচ নরমাল ডাক্তারের অর্ধেক।
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই মে, ২০০৯ সকাল ৯:০৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


