somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভিয়েতনাম_হো চি মিন সিটি-১

২৬ শে আগস্ট, ২০০৯ দুপুর ২:১০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

হাইডি আর আমি ঠিক করলাম ভিয়েতনামে ব্যাক প্যাকিং এ যাবো দু সপ্তাহর জন্য..সংগে যাবে হাইডির ৪ আর ৬ বছরের মেয়ে দুটি....আহ কি এক মহা আইডিয়া!!!:((

প্লান হলো হাইডি সিংগাপুরে ৫ দিন আমাদের সাথে কাটিয়ে কেম্বডিয়ায় বাচ্চাদের নিয়ে সাতদিন ব্যাক প্যাকিং করে হো চি মিন সিটিতে ১২ই জুলাই আমার সাথে যোগ দেবে। :)



১লা জুলাই হাইডি গ্রেস আর জ্যমাকে নিয়ে সিংগাপুরে ৫ দিন কাটিয়ে কেম্বডিয়ার পথে রওনা দিল.....সে গল্প আগেই বলেছি।


জ্যমা আর গ্রেস হাতে মেহেদি পরে ইনডিয়ান দোকানে ঘুরে ছবি তুললে কেম্বডিয়া দেখার পথে পা বাড়াল। আর আমি দিন গুনতে শুরু করলাম ১২ই জুলাই দুপুর ১২টার ফ্লাইটের!!! :D

১২ই জুলাই দুপুর ২টায় মাঝারি সাইজের কিন্তু চিমছাম পরিস্কার পরিচ্ছন্ন আর আলোকিত হো চি মিন সিটির এয়ার পোর্টে গিয়ে পৌছালাম। ইমিগ্রেশন পেরোতে গিয়ে আবারও একই সমস্যায় পরলাম বাংলেদেশি পাসপোর্ট এর জন্য। অফিসার আমাকে এক পাশে দাড় করিয়ে আমার পাসপোর্ট নিয়ে বসের কাছে গেল অনুমতি নেবার জন্য, পাসপোর্টে আমার যথাযথ ভিসা থাকা সত্তেও। আমি লোকজনে ভরা ইমোগ্রশনে একা দাড়িয়ে, নিজেকে মনে হচ্ছিলো এক বিশাল টেররিস্ট। আধা ঘন্টা পরে ছারা পেলাম। X((

ট্যাক্সিতে উঠে হটেলে যাবার পথে শহরটাকে দেখবার চেষ্টা করলাম কিছুটা। রাস্তা গুলো কিছুটা ঢাকার মোহম্মদপুরের মতো তবে ঢাকা ওদের চাইতে আর্কিটেকচারাল দিকদিয়ে অনেক উন্নত, বলা যায় ওরা অনেকটা কেম্বডিয়ার মত। বিল্ডিং গুলো ন্যারো আর পিছন দিকে লম্বা।


পুরোনো ধাচের। প্রচুর ছোট ছোটো রেসট্যুরেন্ট আর হোটেল, ওয়েস্টর্ান ট্যুরিস্টে ভরা শহর। রাস্তা ভরা শুধু মটর সাইকেল। :-*


মনে হয় জন প্রতি একটা করে মটর সাইকেল আছে ওদের। মটর সাকেল ভারাও পাওয়া যায় সারাদিনের জন্য যেখানে সেখানে। ছেলে মেয়ে সবার মটর সাইকেলই একমাত্র বাহন। আবার মটরসাইকেল ড্রাইভার সহও ভাড়া পাওয়া যায়। যা আমরা পরের দিন ভাড়া করেছিলাম।


প্রচুর ইলেকট্রিসটি, ডিশ আর ইনটেরনেটের কেবল ঝুলছে রাস্তায় মাথার উপর যা আমাকে ঢাকার কথা মনে করিয়ে দিল। সিংগাপুরে সব তার মাটির নিচে তাই ওখানে ওগুলো দেখে চোখ পরল খুব বেশি।

ব্যক প্যাকিং এর প্লান তো তাই খরচ কমাবার জন্য মাঝারি টাইপরে হোটেল বুক করেছিলাম আমি আর হাইডি ইনটারনেটে সিংপুর থেকে। হোটেল গিয়ে যখন পৌছালাম তখনও হাইডি পৌছেনি তবে ওরা অন দ্যা ওয়ে।

৭ তলার উপর আমাদের রুম নো লিফ্ট !!! নট ব্যাড বাট সামথিং ফিশি ফিল করলাম রুম বয় আর কেয়ারটেকার এর আচরনে। এনি ওয়ে আঘন্টার ভেতর শুনতে পেলাম জ্যমা'র গলা " হেই কোথায় তুমি " !!!!! ওর চিৎকারে সারা হোটেল জেগে উঠল ঘুম দুপুরে !! দুবোন আমাকে পেয়ে খুশিতে উপর নিচ লাফাতে লাগলো। :D

৪ টার দিকে আমরা খেতে বের হলাম। যাবার সময় ক্যমেরা টা নিলাম না খুব টায়ার্ড ছিলাম ভাবলাম পরের দিন সকাল থেকে ছবি তোলা শুরু করব।


ওদের মজার রিক্সা চেপে খানিক ঘুরে, খাওয়াদাওয়া করে কাছের হস্তশিপের দোকান গুলোতে ঘুরলাম।


ওরা চমৎকার হাতে বোনা বা ক্রস স্টিচের ব্যাগ আর জুতো বানায়। চমৎকার সিল্ক স্কার্ফ তৈরী করে। আর পাপেট!!!



তবে সবার ব্যবহার খুবই রুক্ষ এটা শুরুতেই চখে পরল।


রাতে যখন রুমে ফিরলাম আমরা চার জন ই প্রচন্ড টায়য়ার্ড। বিছানায় পরে মরার মত ঘুমে ঢলে পরলাম। ঘুমানোর আগে চেক করলাম আমার ক্যামেরা আর ল্যাপটপ ঠিক আছে কিনা, দরজা বন্ধ আছে কিনা আর চাবিটা রাখলাম মিনি বারের উপর।

পরের দিন সকালে উঠে রেডি হয়ে যখন নিচে নামব, ক্যমেরা টা নিতে গিয়ে দেখি টেবিলের উপরে রাখা ক্যমেরার ব্যাগ টা উধাও!!! ওতে আমার ক্যমেরা আর দাম দুটো লেন্স ছিল। আমার তো মাথা খারাপ হবার যোগার :((:((। তন্ন তন্ন করে রুমে খুজেও পেলামনা। নিচে রিসেপশনে যাবার জন্য বেরতেই দেখি রুমের চাবি দরজার বাইরে ডোর নবের সাথে ঝুলছে। :-*
........চলবে!!
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে আগস্ট, ২০০৯ দুপুর ২:৩৩
৩৮টি মন্তব্য ৩৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×