somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভিয়েতনাম_হানোই-১

০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১:১৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সকালে ঘুম ভেঙ্গেই মনে হলো আহ আজ বিকেলে উড়াল দেব হানোই !! দুপুর পর্যন্ত সময় আছে সো আমরা ঠিক করলাম রেড মার্কেট বা ওল্ড কলোনী বলে একটা মার্কেট আছে যেখানে হ্যান্ডি ক্রাফ্টের জিনিস পাওয়া যায় ওখানে যাব।

যাবার পথে ওদের সেই মজার রিক্সা নিলাম। ঐ মার্কেটায় মজার মজার জিনিস পাওয়া যায়। আর খুব সস্তা! চমৎকার পিওর লেদার প্রডাক্ট!! ২ নাম্বারি ব্রান্ডের জিনিস। কাঠের জুতো.....এটুকু দেখতেই জ্যমা তাড় স্বরে কান্না শুরু করল "আই এম হাঙ্গরি" X(

রাস্তার পাশে খোলা যায়গায় এক দোকানি বসে কি যেন এক খাবার বিক্রি করছে। ট্রায় করব ভেবে বসে পড়লাম ওর ছোট্ট টুলের উপর। ভাষা জানিনা ইশারায় বললাম খবারটা দিতে। জিনিসটা কোল্ড বিফ, বিট রুট বাদাম এর উপর এক ধরনের পাতলা টলটলে সস মত দিয়ে আমার হাতে প্লেট টা দিল সাথে এক বাটি কাচা পাতা।


এখন সেই জিনিস কাচা পাতা দিয়ে খেতে হবে। চপস্টিক দিয়ে জিনিস টা চোখ বন্ধ করে মুখে পুরে পাতা দিয়ে চিবোতে শুরু করলাম যা থাকে কপালে এই ভেবে....উমমমম নট ব্যড !!! ভালই লাগল তবে নিজেকে কিছুটা ছাগল ছাগল মনে হতে লাগল। ওরা কয়েক ধরনের কাচা পাতা ওদের অল মোস্ট সব খাবারের সাথে খায়। বড় হটেলে গেলেও দেখবেন পাতার সমাহার এক পাশে খাবার জন্য। আহ !! :P

হটেলে ফেরার পথে প্রচন্ড বৃষ্টি। রিক্সা ভুল হটেলের সামনে নামাতে আমরা ভাড়া দিয়ে হুর মুড় করে সামনে একটা হটেল পেয়ে তার দড়জায় গিয়ে দাড়ালাম বৃষ্টির হাত থেকে বাচার জন্য। হটেলের রিসেপশন এমন লুক দিল যাতে ওখানে দাড়ান যাবেনা ব্যপারটা বুঝে গেলাম। আমি আর হাইডি বাইরে দাড়িয়ে আধ ভেজা হতে থাকলাম। বাচ্চা দুটিকে বৃষ্টির পানি থেকে বাচাবার জন্য রিসেপশনের ছেলেটাকে অনুরোধ করলাম যাতে ওদের ভেতরে সোফায় বসতে দেয়। ৫ মিনিট পর রিসেপশনের ছেলেটা জ্যমা আর গ্রেস কে বের করে দিল বাইরে। হতবাক হয়ে গেলাম অমানবিকতা দেখে। এনি ওয়ে দুজন দুই পিচ্চিকে কোলে নিয়ে ঝুম ব্ৃষ্টির ভেতর দৌড় দিলাম আমদের হটেলে ওটা ৩ মিনিট দৌড়ের পথ ছিল হা হা হা কাক ভাজা হয়ে হটেলে ফিরে লাগেজ নিয়ে এয়ার পোর্টে রওনা।

এরার পোর্টে পৌছেই দুই পিচ্চির খিদে আর টয়লেট আবারও :P। এটা ডমেস্টিক এয়ার লাইনস ছিল। প্লেনে উঠতে গিয়ে মনে হলো বাংলাদেশের গ্রামের বাসে উঠছি, যে যেমনে পারে ঠেলা, ধাক্কা দিয়ে বাচ্চাদের গায়ের উপর পা দিয়ে নিজেদের গন্তব্যে চলেছে। মনে হলো আমার দেশের গ্রামের লোকজন এদের চাইতে অনেক সভ্য।

প্লেনে উঠেই আমাদের চার জনেরই আবার খিদে...:P। মনে হলো আল্লাহ চার খানা খিদের পেটই দিয়েছেন আমদের।

রাত ৯।৩০টায় ল্যান্ড করলাম হানোই। ওরা বলল এয়ার পোর্ট থেকে শহর ১ ঘন্টার পথ। আহা ১ ঘন্টা .....সেই পথ যেন আর শেষ হয়না। রাত ১২।৩০ টায় হানোই শহরে আমরা দুজন দুই বাচ্চা নিয়ে পৌছালাম। কোন হটেল বুকিং দেয়া ছিল না। ট্যাক্সিওলা কে গাইড বই দেখে হাইডি এক হটেলে নিয়ে যেতে বলল। ভাষা একটা মহা সমস্যা হয়ে দাড়াল। ওরা বোঝে না ইংলিশ আমরা জানিনা ওদের ভাষা। যাই হোক যখন গিয়ে হটেলের সামনে পৌছালাম দেখি ওটা একটা প্রস পাড়া :P আই মিন রেড লাইট এরিয়া :P

দুজনেই তড়ি ঘড়ি করে ট্যাক্সি ঘুড়িয়ে অন্য পথে রওনা। ড্রাইভার কে ইশারায় বললাম আমদের ভাল কোন হটেলে নিয়ে যেতে ..সে ইংলিশ বোঝে না। অবশেষে ভাল একটা হোটেল পেলাম শহরের ভেতর মেইন রাস্তায়। চমৎকার রুম!! $১৮ মাত্র !! চমৎকার নরম বিছানা। আহা মনে হচ্ছিল বছর খানেক নরম বিছানায় ঘুমাইনি।

সরাদিনের পরে চার জনই বিচানায় পড়তেই মরা কাঠ। পরদিন সকালে আমার হানোই শহর দেখতে বের হলাম।

চমৎকার সব দোকান হাতের তৈরী জনিস পত্র। ওখানে সবাই গোল মত হ্যাট পরে রোদের কারনে। আমারও কিনে নিলাম।

হঠাৎ মিষ্ট দুটো আনারস বেচা মেয়ে এসে মিষ্টি হেসে আমাদের চুল নেড়ে চিবুক নেড়ে ওদের ঘাড়ের বোঝাটা আমার আর হাইডির ঘাড়ে বসিয়ে দিল। আমারাত হতবাক।

এর পরে ইশারায় যা বোঝাল তা হোলো আমাদের ছবি তুলতে বলল ওদের বোঝা নিয়ে। আমরাও ওদের আন্তরিকতায় মুগ্ধ !! ভাবলাম আহা কি ভালরে এরা !!!

ছবি তোলা হলে ওদের বোঝা ওদের ফিরেয়ে দিতেই বলে আনারস কিনতে হবে অথবা পয়সা দাও। ছবি তুলেছ এখন পয়সা দাও। আমারা কেউই আনারস খেতে চাইনা তখন। অগত্যা পয়সা দিয়ে ছাড়া পেলাম।

এভাবেই শুরু হলো দিনটা ... প্রথমেই ধরা। এর পর আমরা হেটে শহর দেখতে শুরু করলাম। গেলাম লেকের মাঝে এক টেম্পলে।

চমৎকার লাল রং এর ব্রিজ দিয়ে ভেতরে যাবার পথ।





ওদের দেশে সর্বত্র বন সাই দেখা যায়।

চমৎকার বন সাই দিয়ে টেম্পলের উঠোন ঘেরা। আমরা ভেতরে গিয়ে ছবি তুললাম।



এর পরে গেলাম পাপেট শো অডিটেরিয়ামে। ওরা পাপেট শোর জন্য বিক্ষাৎ আগেই বলেছি।

তবে শো দেখবার ইচ্ছে আমাদের তেমন ছিল না পিচ্চি দুটোকে নিয়ে। তাই আমরা হেটে শহর দেখা শুরু করলাম। প্রচুর পাপেটের দোকান।



চমৎকার সব ঘুড়ি।


গেলাম একটা মিউজিয়ামে যেখানে ওরা প্রদর্শন করছে আগেকার দিনে ওদের আইডল বাড়ি ঘর কেমন ছিল, কেমন ছিল গহনা আর তৈজস পত্র।





ওরা এমব্রয়ডারির জন্যও বিক্ষাত। চমৎকার করে ছবি আকা এমব্রয়ডারি করে।




গেলাম ওকানকার কাচা বাজারে।

খেলাম পথের ধারে বেচা চিংড়ি ভাজা কাচা পাতা দিয়ে ছাগলের মত করে :P




চমৎকার সব ট্রাইবাল পোশাকের দোকান।

সাবা বাসিরা ওগুলো পরে। আর রুপোর গহনা সত্যি অসাধারন। কোন নতুন ডিজাইন নয় সব এন্টিক শড় বছরের পুরোনো আদি বাসিদের ব্যবহার করা।

আর ওদের চমৎকার সব সিল্কের তৈরি জিনিস। কি যে নরম পিওর সিল্ক !! আমাদের দেশের কথা মনে পরে। আমদেরও চমৎকার সিল্ক আছে তবে আমরা ওদের মত তা কাজে লাগিয়ে এত রকম জিনিস বানিয়ে সেল করিনা।

রাস্তা ঘাটে সত্যিই খুব ভিড় আর লোক জনের চাপা চাপি। এর মধ্যে পুশ সেলিং আছে। এক এক জন ফেরি ওলা নাছোড় বান্দা। এর মাঝে এক লাইটার বিক্রেতা আমাকে ওর লাইটার নেবার জন্য পিড়া পিড়ি শুরু করল। আমারা ঐ ভিড়ের ভেতর দুই পিচ্চি নিয়ে যথেষ্ট নাজেহাল অবস্থায় আছি এর মধ্যে ফেড়িওলার চাপাচাপি। বললাম আমি লাইটরা চাইনা কারন আমি স্মোক করিনা। তবু সে ( একজন ২৫/২৬ বছর বয়সি ছেলে) আমার ঘাড় ধরে হাত ধরে টানা টানি শুরু করতে আমি বললাম " আই এম নট গনা বায় প্লিজ ডোন্ট টাচ মি।" সে বললে খুবই খরাপ ভাবে বলল "গো এওয়ে" আমি বললাম "হয়াট ডিড ইউ সে?" সে বলল 'আই সেইড কিস মি" আমি বললাম "রিয়েলি?" ঘুড়ে দাড়িয়ে ওর মুখের উপর কষে এক ঘুষি বসিয়ে দিলাম। সে হতবাক আর আমি উপরে আমি কঠিন মুখ করে ঘুরে হাটা দিলাম।:P

পরের দিন হালং বে যাবার জন্য প্যকেজ ট্যুরের টিকেট কাটলাম। ট্যুর এজেন্সি ছবি দেখাল চমৎকার ডিলাক্স ষ্টিমারের। এয়ারকন দেয়া বিশাল লাক্সারিয়াস রুম। আনন্দে লাফাতে লাগলাম আহা দুইদিন একরাত সাগরে ভাসব, কায়কিতে যাব, লাইম ষ্টোন মাউন্টেইন দেখব। আর চমৎকার সাব ভিয়েতনামি খাবার সাগরের উপর....। ভাড়াও খুব বেশি নয়। টাই টিকেট কেটে নিলাম। পরের দিনের খুব সকালে রওনা দেব। উত্তেজনায় চার জন ঘুমাতে পারছিনা পর্যন্ত!!!B-)

চ ল বে....।

সর্বশেষ এডিট : ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১:১৪
৩৭টি মন্তব্য ৩৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×