যাবার পথে ওদের সেই মজার রিক্সা নিলাম। ঐ মার্কেটায় মজার মজার জিনিস পাওয়া যায়। আর খুব সস্তা! চমৎকার পিওর লেদার প্রডাক্ট!! ২ নাম্বারি ব্রান্ডের জিনিস। কাঠের জুতো.....এটুকু দেখতেই জ্যমা তাড় স্বরে কান্না শুরু করল "আই এম হাঙ্গরি"
রাস্তার পাশে খোলা যায়গায় এক দোকানি বসে কি যেন এক খাবার বিক্রি করছে। ট্রায় করব ভেবে বসে পড়লাম ওর ছোট্ট টুলের উপর। ভাষা জানিনা ইশারায় বললাম খবারটা দিতে। জিনিসটা কোল্ড বিফ, বিট রুট বাদাম এর উপর এক ধরনের পাতলা টলটলে সস মত দিয়ে আমার হাতে প্লেট টা দিল সাথে এক বাটি কাচা পাতা।
এখন সেই জিনিস কাচা পাতা দিয়ে খেতে হবে। চপস্টিক দিয়ে জিনিস টা চোখ বন্ধ করে মুখে পুরে পাতা দিয়ে চিবোতে শুরু করলাম যা থাকে কপালে এই ভেবে....উমমমম নট ব্যড !!! ভালই লাগল তবে নিজেকে কিছুটা ছাগল ছাগল মনে হতে লাগল। ওরা কয়েক ধরনের কাচা পাতা ওদের অল মোস্ট সব খাবারের সাথে খায়। বড় হটেলে গেলেও দেখবেন পাতার সমাহার এক পাশে খাবার জন্য। আহ !!
হটেলে ফেরার পথে প্রচন্ড বৃষ্টি। রিক্সা ভুল হটেলের সামনে নামাতে আমরা ভাড়া দিয়ে হুর মুড় করে সামনে একটা হটেল পেয়ে তার দড়জায় গিয়ে দাড়ালাম বৃষ্টির হাত থেকে বাচার জন্য। হটেলের রিসেপশন এমন লুক দিল যাতে ওখানে দাড়ান যাবেনা ব্যপারটা বুঝে গেলাম। আমি আর হাইডি বাইরে দাড়িয়ে আধ ভেজা হতে থাকলাম। বাচ্চা দুটিকে বৃষ্টির পানি থেকে বাচাবার জন্য রিসেপশনের ছেলেটাকে অনুরোধ করলাম যাতে ওদের ভেতরে সোফায় বসতে দেয়। ৫ মিনিট পর রিসেপশনের ছেলেটা জ্যমা আর গ্রেস কে বের করে দিল বাইরে। হতবাক হয়ে গেলাম অমানবিকতা দেখে। এনি ওয়ে দুজন দুই পিচ্চিকে কোলে নিয়ে ঝুম ব্ৃষ্টির ভেতর দৌড় দিলাম আমদের হটেলে ওটা ৩ মিনিট দৌড়ের পথ ছিল হা হা হা কাক ভাজা হয়ে হটেলে ফিরে লাগেজ নিয়ে এয়ার পোর্টে রওনা।
এরার পোর্টে পৌছেই দুই পিচ্চির খিদে আর টয়লেট আবারও
প্লেনে উঠেই আমাদের চার জনেরই আবার খিদে...
রাত ৯।৩০টায় ল্যান্ড করলাম হানোই। ওরা বলল এয়ার পোর্ট থেকে শহর ১ ঘন্টার পথ। আহা ১ ঘন্টা .....সেই পথ যেন আর শেষ হয়না। রাত ১২।৩০ টায় হানোই শহরে আমরা দুজন দুই বাচ্চা নিয়ে পৌছালাম। কোন হটেল বুকিং দেয়া ছিল না। ট্যাক্সিওলা কে গাইড বই দেখে হাইডি এক হটেলে নিয়ে যেতে বলল। ভাষা একটা মহা সমস্যা হয়ে দাড়াল। ওরা বোঝে না ইংলিশ আমরা জানিনা ওদের ভাষা। যাই হোক যখন গিয়ে হটেলের সামনে পৌছালাম দেখি ওটা একটা প্রস পাড়া
দুজনেই তড়ি ঘড়ি করে ট্যাক্সি ঘুড়িয়ে অন্য পথে রওনা। ড্রাইভার কে ইশারায় বললাম আমদের ভাল কোন হটেলে নিয়ে যেতে ..সে ইংলিশ বোঝে না। অবশেষে ভাল একটা হোটেল পেলাম শহরের ভেতর মেইন রাস্তায়। চমৎকার রুম!! $১৮ মাত্র !! চমৎকার নরম বিছানা। আহা মনে হচ্ছিল বছর খানেক নরম বিছানায় ঘুমাইনি।
সরাদিনের পরে চার জনই বিচানায় পড়তেই মরা কাঠ। পরদিন সকালে আমার হানোই শহর দেখতে বের হলাম।
চমৎকার সব দোকান হাতের তৈরী জনিস পত্র। ওখানে সবাই গোল মত হ্যাট পরে রোদের কারনে। আমারও কিনে নিলাম।
হঠাৎ মিষ্ট দুটো আনারস বেচা মেয়ে এসে মিষ্টি হেসে আমাদের চুল নেড়ে চিবুক নেড়ে ওদের ঘাড়ের বোঝাটা আমার আর হাইডির ঘাড়ে বসিয়ে দিল। আমারাত হতবাক।
এর পরে ইশারায় যা বোঝাল তা হোলো আমাদের ছবি তুলতে বলল ওদের বোঝা নিয়ে। আমরাও ওদের আন্তরিকতায় মুগ্ধ !! ভাবলাম আহা কি ভালরে এরা !!!
ছবি তোলা হলে ওদের বোঝা ওদের ফিরেয়ে দিতেই বলে আনারস কিনতে হবে অথবা পয়সা দাও। ছবি তুলেছ এখন পয়সা দাও। আমারা কেউই আনারস খেতে চাইনা তখন। অগত্যা পয়সা দিয়ে ছাড়া পেলাম।
এভাবেই শুরু হলো দিনটা ... প্রথমেই ধরা। এর পর আমরা হেটে শহর দেখতে শুরু করলাম। গেলাম লেকের মাঝে এক টেম্পলে।
চমৎকার লাল রং এর ব্রিজ দিয়ে ভেতরে যাবার পথ।
ওদের দেশে সর্বত্র বন সাই দেখা যায়।
চমৎকার বন সাই দিয়ে টেম্পলের উঠোন ঘেরা। আমরা ভেতরে গিয়ে ছবি তুললাম।
এর পরে গেলাম পাপেট শো অডিটেরিয়ামে। ওরা পাপেট শোর জন্য বিক্ষাৎ আগেই বলেছি।
তবে শো দেখবার ইচ্ছে আমাদের তেমন ছিল না পিচ্চি দুটোকে নিয়ে। তাই আমরা হেটে শহর দেখা শুরু করলাম। প্রচুর পাপেটের দোকান।
চমৎকার সব ঘুড়ি।
গেলাম একটা মিউজিয়ামে যেখানে ওরা প্রদর্শন করছে আগেকার দিনে ওদের আইডল বাড়ি ঘর কেমন ছিল, কেমন ছিল গহনা আর তৈজস পত্র।
ওরা এমব্রয়ডারির জন্যও বিক্ষাত। চমৎকার করে ছবি আকা এমব্রয়ডারি করে।
গেলাম ওকানকার কাচা বাজারে।
খেলাম পথের ধারে বেচা চিংড়ি ভাজা কাচা পাতা দিয়ে ছাগলের মত করে
চমৎকার সব ট্রাইবাল পোশাকের দোকান।
সাবা বাসিরা ওগুলো পরে। আর রুপোর গহনা সত্যি অসাধারন। কোন নতুন ডিজাইন নয় সব এন্টিক শড় বছরের পুরোনো আদি বাসিদের ব্যবহার করা।
আর ওদের চমৎকার সব সিল্কের তৈরি জিনিস। কি যে নরম পিওর সিল্ক !! আমাদের দেশের কথা মনে পরে। আমদেরও চমৎকার সিল্ক আছে তবে আমরা ওদের মত তা কাজে লাগিয়ে এত রকম জিনিস বানিয়ে সেল করিনা।
রাস্তা ঘাটে সত্যিই খুব ভিড় আর লোক জনের চাপা চাপি। এর মধ্যে পুশ সেলিং আছে। এক এক জন ফেরি ওলা নাছোড় বান্দা। এর মাঝে এক লাইটার বিক্রেতা আমাকে ওর লাইটার নেবার জন্য পিড়া পিড়ি শুরু করল। আমারা ঐ ভিড়ের ভেতর দুই পিচ্চি নিয়ে যথেষ্ট নাজেহাল অবস্থায় আছি এর মধ্যে ফেড়িওলার চাপাচাপি। বললাম আমি লাইটরা চাইনা কারন আমি স্মোক করিনা। তবু সে ( একজন ২৫/২৬ বছর বয়সি ছেলে) আমার ঘাড় ধরে হাত ধরে টানা টানি শুরু করতে আমি বললাম " আই এম নট গনা বায় প্লিজ ডোন্ট টাচ মি।" সে বললে খুবই খরাপ ভাবে বলল "গো এওয়ে" আমি বললাম "হয়াট ডিড ইউ সে?" সে বলল 'আই সেইড কিস মি" আমি বললাম "রিয়েলি?" ঘুড়ে দাড়িয়ে ওর মুখের উপর কষে এক ঘুষি বসিয়ে দিলাম। সে হতবাক আর আমি উপরে আমি কঠিন মুখ করে ঘুরে হাটা দিলাম।
পরের দিন হালং বে যাবার জন্য প্যকেজ ট্যুরের টিকেট কাটলাম। ট্যুর এজেন্সি ছবি দেখাল চমৎকার ডিলাক্স ষ্টিমারের। এয়ারকন দেয়া বিশাল লাক্সারিয়াস রুম। আনন্দে লাফাতে লাগলাম আহা দুইদিন একরাত সাগরে ভাসব, কায়কিতে যাব, লাইম ষ্টোন মাউন্টেইন দেখব। আর চমৎকার সাব ভিয়েতনামি খাবার সাগরের উপর....। ভাড়াও খুব বেশি নয়। টাই টিকেট কেটে নিলাম। পরের দিনের খুব সকালে রওনা দেব। উত্তেজনায় চার জন ঘুমাতে পারছিনা পর্যন্ত!!!
চ ল বে....।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

