somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার কিছু কাজ – আমার দেশের নাম রাখবার জন্য !!!!

২৪ শে নভেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১:৩১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গত ৪ মাস প্রচন্ড কাজের চাপে একেবারে তলিয়ে গিয়েছিলাম। গত ৩ সপ্তাহ কোন কাজ হাতে নেইনি কিছুদিন রেস্ট করব বলে। ভাবলাম আমার কিছু কাজ আপানদের সাথে শেয়ার করি।

অনেকেই অনেক বার আমার কাজ দেখতে চেয়েছেন। এবার সিংগাপুর এসপ্লানেডের হয়ে কিছু কাজ করলাম। এসপ্লানেড এখানে সরকার চালিত এবং সিংপুরের একমাত্র আর্ট কালচারের কেন্দ্র বিন্দু যেখানে সব ধরনের পারফরমেন্স ও আর্ট ফেস্টিভাল বা আর্ট এক্সজিবিশন করা হয়। হাজার হাজার ট্যুরিস্ট আসেন এখানে পৃথিবীর নানান দেশ থেকে এই সব পারফরমেন্স ও ফেস্টিভালে যোগ দিতে বা দেখতে।

এসপ্লানেড থেকে ডাক এসেছিল আমার এবারের ইন্ডিয়ান আর্ট ফেস্টিভালের প্রমোশনের পুরো কাজটা করে দেবার জন্য। শুনেতো আমার খুশিতে মরে যাবার মত অবস্থা !!!!B-)B-)B-) আমি কোথাকার কোন বাংগালী যাকে কেউ চেনেনা সে কিনা এসপ্লানেডের হয়ে ইন্ডিয়ান আর্ট ফেস্টিভালের পুরো কাজটা করবে !!!! যেখানে প্বথিবী শত শত দেশের মানুষ এসে আমার কাজ দেখবে, ব্রসিয়ার দেখবে !!!! ভাবতেই আমার গা শিন শিন করে উঠল উত্তেজনায় !!!! আর শত শত ঝানু ডিজাইনাররা এখানে কাজ করে!!!! B-)B-)

কাজটা একার পক্ষে খুব বড় ছিল। ভাবছিলাম কি করে ম্যনেজ করব। কাজ শুরু হবে অগাস্ট এ আর শেষ করতে হবে অক্টোবরে। এর মাঝে আবার ঢাকা যাবার প্লান ছিল। সো ভাবলাম যে করেই হোক এই কাজটি আমার করতেই হবে সব কিছু বন্ধ করে হলেও। এটলিস্ট আমার দেশের নামটা রাখতে হবে। সবাই জানবে এক বাংগালীর করা কাজ....ভাবতেই চোখ পানি এসে যায়।

যাই হোক বিসমিল্লাহ বলে কাজ শুরু করলাম। এমনও দিন গেছে যখন একটানা ১৭/১৮ ঘন্টা কাজ করেছি গত তিনটা মাসে একটানা। দেশে যাবার প্লানটা ও বাতিল করতে ইচ্ছে করেনি। এর মাঝে ঢাকা গিয়ে আপনাদের সাথে সময় কাটালাম কিনতু ওখানে গিয়েও কাজ বন্ধ করতে পারিনি। দিনে আমার ক্লাস করতাম বিকেলে ব্লগের আড্ডায় গেছি আর রাতে রুমে বসে কাজ করেছি। ঢাকা থেকে কাজ করে ইন্টারনেটে ইউসেন্ডইট দিয়ে পাঠাতাম সিংগাপুরে প্রতিদিন। অনেকদিন কাজের চাপে আড্ডার আয়োজন করা হলেও যোগদিতে পারবনা বলে কালপুরুষ দা আড্ডা ক্যান্সেল করেছেন। খুবই দুঃখিত অনেককেই সময় দিতে পারিনি বলে। বিশেষ করে জানা'র সাথে কয়েকবার কথা বলে দেখা করতে চেয়েও সময় করে উঠতে পারিনি, নাজনিন আপার সাথে দেখা করার কথা দিয়েও পারলামনা আর শেষ মুহুর্তে পারভিন আপার বাড়ির দাওয়াত ক্যান্সেল করায় সত্যিই লজ্জিত !! আর যাদের ফোন ব্যাক করার কথা দিয়ে রাখতে পারিনি আশ করি আপনারা সবাই আমার অপারগতাকে ক্ষমার চোখে দেখবেন।

এবার আমার কাজের প্রসংগে আসি। এসপ্লানেডে গিয়ে আমার কাজ গুলোর ছবি তুলে এনেছিলাম। ছবি গুলো আপনাদের সাথে শেয়ার করছি। সাইজ বোঝাবের জন্য কোন কোন কাজের ছবি দুটো করে, ক্লোজ ভিউ ও ওয়াইড ভিউ। এনজয় দ্যা শো ......;)

এই সেই এসপ্লানেড – থিয়েটার অন দ্যা বে ......


যেখানে দিনে বা রাতে যখনই যাবেন সব সময় ট্যুরিস্টের ভির।




সামনে আসলেই রাস্তা থেকে চোখে পড়বে আমার ডিজাইন করা বিগ ওয়াল ব্যনার বুকে নিয়ে সগর্বে দাড়িয়ে আছে এসপ্লানেড! জানান দিচ্ছে ইন্ডিয়ান আর্ট ফেস্টিভাল চলছে!!!!


যেখানে শত শত মানুষ ভির করে আমার করা ইন্ডিয়ান আর্ট ফেস্টিভালের প্রোগ্রামের প্রোমো দেখছে।


মেইন রাস্তার গা ঘেসে দাড়িয়ে আছে আমার করা কমলা রং এর ১ম স্লিম কোর্ট ব্যনারটি, এখানকার নামি দামি অন্য ডিজাইনারদের করা অন্য ফেস্টিভালের কাজের পাশে। ভাবতেই আমার গা হিম হয়ে আসে !!!!B-)B-)B-)


রাতের আধারে তার রুপ বলায়.....


এসপ্লানেডে ঢুকতে প্রথমে পরে গ্লাস ডোর। যাখানে আমার ডিজাইন করা গ্লাস ডোর স্টিকার যাবাইকে স্বাগতম জানাচ্ছে।


আবার এক্সিটেও আপনি পাবেন বিদায় জানিয়ে ফেস্টিভালের শেষ ছোয়া টুকু দিতে গ্লাস ডোর ষ্টিকারটি....


ভেতরে পা দিতেই ফ্লোর স্টিকার আপনাকে মনে করিয়ে দেবে কোন ফেস্টিভাল চলছে আর সেখানেই পাবেন আমার ডিজাইন করা ফ্লোর স্টিকার....


পথ চলতে বা এস্কেলেটর থেকে নামতেই আপনাকে স্বাগত জানাবে আরো দু ধরনের ফ্লোর স্টিকার...




যা আপনাদের মনে করিয়া দেবে এশুধু মিউজিক নয় নাচ, নাটক আর কৌতুকে ভরা ফিস্টিভাল!!


কনকোর্সে পা দিতেই চোখে পড়বে ফেস্টিভালের বিশাল গেট আপনার জন্য অপেক্ষারত।


আর তার পাশেই পাবেন ফেস্টিভাল ক্যলেন্ডার জানবার জন্য কবে, কখন, কোথায়, কোন প্রোগ্রামটি আছে। ;);)


গেটের নিচে ডানে সবুজ রং এর আমার ডিজাইন করা "সুর সাঙ্গম" এর প্রোগ্রাম ইনফরমেশন সিনঙ্গল পোস্টার টি পাবেন প্রোগ্রামটির বিষয়ে বিস্তারিত জানবার জন্য।

এদের পাশ কাটিয়ে একটু এগোলেই দেখতে পাবেন সারি সারি পোস্টার দাড়িয়ে আছে বিভিন্ন প্রোগ্রামের ইনফরমেশন নিয়ে। আমার ডিজাইন করা পোস্টার গুলো বাম থেকে প্রথম ৪ টি এবং ডান থেকে প্রথম ২ টি।



এখানে ডান থেকে ১ম, ৩য়, ৬ষ্ঠ, ৭ম।


ডান থেকে ১ম,২য় ও ৪থ।


এস্কেলেটর দিয়ে নামতে গিয়ে চোখে পরবে আরো কিছু পোস্টার ....বাম থেকে ১ম, ২য়, ৪থ, ৫ম, ৬ষ্ঠ, ৭ম।

নিচে নেমে আবারও চোখে পরবে কিছু পোস্টার নানান প্রোগ্রামের।



আমার করা বাম থেকে ১ম, ২য়, ৪থ।


এখানে দুই পাশের দুটো পোস্টার আমার করা।


শেল্ভে অন্য প্রোগ্রামের ফ্লায়ার, ব্রসিওরের সাথে আমার ডিজাইন করা কমলা রং এর ইন্ডিয়ান আর্ট ফেস্টিভালের ব্রসিওর পাবেন বামে প্রথম সারিতে,

আর ডানে পাবেন "হ্যমলেট" এর জন্য করা ফ্লায়ার প্রথম সাড়ির প্রথম হলদে রং এর ফ্লায়ারটি।

এপ্লানেডের ভেতরের বড় ওয়ালে চোখ পরবে বিশাল ব্যনারটির দিকে যদি দোতলা থেকে ভতরের দিকে তাকান বা

ভেতরের চক টায় পা দেন।


অবশ্য ভেতরেও পাবেন একই ধরনের আরেকটা পোস্টার....




ভেতরের দেয়ালে আরেক বার চোখ পরবে ফেস্টিভাল ক্যলেন্ডারটি যাদি

আবারও ওতে চোখ বোলাতে চান সময় সুচি আর প্রোগ্রাম জানবার জন্য।

কাছে গিয়ে ভাল করে দেখুন কোন প্রোগ্রাম মিস করছেন কিনা।


নদির পাড়ে ফ্রি প্রোগ্রামের স্টেজ। আর তারই পাশে পোস্টার টি জানান দিচ্ছে কি কি

ফ্রি প্রোগ্রাম আপনি দেখবেন এখানে সময় ও তারিখ সহ আমার এই পোস্টার টিতে। আহা কোনটাই মিস করতে ইচ্ছে করেনা....সাবাই যে ইন্ডিয়ার নামি দামি আর্টিস্ট !!!!! :((:((:((


প্রচন্ড ব্ৃষ্টিতেও মানুষ গেছে প্রোগ্রাম দেখতে। আহা ব্্ষ্টির জন্য চকের মাঝে মেঝেতে আমার করা কমলা বিশাল ফ্লোর স্টিকারটা দেখতে মিস করবেন না কিন্তু। ঐ যে আবছায়া কমলা রং এর স্টিকার টি মেঝেতে দেখা যাচ্ছে কিন্তু একটু একটু !!!!;);)

পেছেনের বড় দেয়ালে আবারও পাবেন আরেকটি বিশাল পোস্টার আর্টিস্টদের ছবি দিয়ে যারা পারফরম করছেন এতে।

যদি মিস করে যান ভাববেন না বাস থেকেও দেখতে পাবেন পোস্টার টি এত বড়।

সাথেই তো লাগোয়া বাস স্টপ। বাসের অপেক্ষায় যখন বসে, এর মাঝে পোস্টার টির দিকে তাকিয়ে কিছুটা সময় পার করতে পারবেন। :)

প্রোগ্রাম শেষে বাড়ি ফেরার সময় চোখে পড়বে পানির উপর চমৎকার আলোর খেলা এসপ্লানেডের সামনের দিকটায়।


এই সব মিলিয়ে আমার করা প্রথম কাজ এসপ্লানেডের জন্য !!!!! চমৎকার অভিঙ্গতাটি আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম .... আমার দেশের জন্য করা সামান্য কিছু কাজ !!!!
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৮:০৩
১১৯টি মন্তব্য ১১৪টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×