দাদা বললেন "বলত আর কি আইটেম দেব ডিনারে? উমমম আর্ডার করেছি রোস্ট, খাসির মাংস......"। বললাম "দাদা আর কিছু লাগবেনা"। দাদা বললেন "তাই কি হয়?" "আচ্ছা বলত বিকেলে চায়ের সাথে টা কি দেব?" আমি বললাম "দাদা টা মা লাগবেনা, সাবাই এতো খাদক নয়। ঝামেলা কম করেন"। হাহঃ কে কার কথা শোনে!!
১৪/০৫/২০১০ তে বিকেল যখন তৈরী হচ্ছি দাদার ফোন এলো "কি রে তুই কোথায়, এতো দেরি কেন?" বললাম "এইতো দাদা বেরুচ্ছি"
পৌছে দেখি দাদা বাড়ি নেই কাকে যেন পথ দেখাতে নিচে গেছেন। শ্রাবন সন্ধ্যা
আর মিআমি আড্ডার উদ্বোধোন করে দিয়েছেন। আমিও তাতে যোগ দিয়ে জোড়ালো করলাম। শ্রাবনের চমৎকার লাল সবুজে শাড়ির রং টিতে ওকে যেন প্রানের উৎস মনে হলো। সাথে আমার ছোট্ট মিষ্টি মামোনি জাফনা সাদা ফ্রকে জেন ছোট্ট জল পরী।
দাদা ফিরেতেই আমরা উনার বিখ্যাত খোলা আকাশের নিচের ছাদে গেলাম আড্ডাটিকে আরো মধুর করতে
এসে গেলেন ক্যমেরাম্যান। অনেক দিন পর দেখা!!
এর পরে এলেন মেঘ তার সঙ্গিটিকে নিয়ে। গল্প জমে উঠল। এলেন পারভেজ তার সঙ্গিনীকে নিয়ে। অসাধারন যুটি!! দুজনের সাদা পোশাকে দুজনকে মানিয়েছে চমৎকার!!!
চাচা মিয়া চাচিকে নিয়ে হাজির হয়েই বললেন " আরে আরিয়ানা আপনি আবার এসেছেন?" যেন - কত বড় সাহস রে আবার এলি কেন রে, মেরে তোর ঠ্যাং ভাংব নাকি রে। বললাম "আচ্ছা আর আসবো না
এর পরে এলেন মুন্সিয়ানা। এই কমাসে উনার স্বাস্থ আরেকটু ভাল হয়েছে বলে মনে হলো তবে চুলে সাদা ছুয়ে গেছে আগের চাইতে এটু বেশি। উনার ফেরার সময় হয়েছে তাই দেশে থাকবার সুখের সময় উনার শেষ হলো।
এলেন তাজা কলম। উনাকে গতবারের আড্ডায় দেখেছিলাম। পড়ান উনি কম্পউটারের উপরে "এ আই ইউ বি" তে। দাদার ছাদ থেকেই উনার ভার্সিটিটা দেখা গেল। শান্ত শিষ্ট মানুষটি যে কত জোড়ালো লেখেন ব্লগে!!!
তনুজা এসেই আমাকে একটা ভেজা গালের আদর দিয়ে বলল "আপনি তো সৈকতের খালামনি তাই না?" বলি "হ্যা সৈকতকে আমি মানুষ করেছি মেরে পিটে
আমাদের আড্ডা জমে উঠলো েবশ জোরে সোড়ে। দাদার হাতে ক্যমেরা জ্বলে জ্বলে উঠতে থাকলো।
আমার ক্যামেরা টিও উনার হাতে তুলে দিলাম নিজেকে আড্ডা ছবির অংশবিশেষ করবার জন্য।
শ্রাবন তার প্রানবন্ত উপস্থিতি দিয়ে মজার মজার গল্পে আড্ডা জমিয়ে তুললেন। জাফনা মনি সাদা পরী হয়ে আমাদের চার পাশে ছুটো বেরাল।
মিআমি মাত্র দেশে ফিরলেন অনেক দিন প্রবাসি থাকবার পর। মাকে দেখাবার জন্য উনার চমৎকার মোবাইল দিয়েই ছবি তুলতে থাকলেন এদিক সেদিক ঘুরে।
গল্প হলো মেঘ ও তার সংগির সাথে। চমৎকার সহজ ও দৃঢ় মনের মানুষ সে। সে জানে সে কি চায় জীবনের কাছে, জানে সহজ ও সোজা পথে চলতে।
দ্বিধা করেনা সত্যি কথাটা বলতে। মিষ্টি মেয়েটা কে ভাল লেগে গেল।
তনুজার সাথেও প্রথম আলাপ। ভাল লাগলো ছোট্ট মিষ্টি মেয়েটিকে।
আমার ভাগ্নের বন্ধু। তাকেতো আমার কাছে এখনও ছোট্ট মেয়েটাই মনে হবে। তবে বেশ বুদ্ধি রাখে ঘাটে!!!
মেঘে ঢেকে যেতে থাকলো আকাশ। দাদার চায়ে র সাথে টা এসে গেল। আমার ক্লিফ কে ফোন করবার সময় হলো। বেচারা সেই সুদুর সাউথ আফ্রিকার গহীন বনে কয়লার ক্ষনিতে কঠিন পরিশ্রম করে যাচ্ছে গত ৩ সপ্তাহ। ফোন করে বললাম আমাদের আড্ডার কথা। বেচারর মন খারাপ যোগ দিতে না পারায় তবে সবাইকে হাই জানিয়েছে ওখান থেকে।
চমৎকার মেয়ে মেঘের একটা দুষ্টু বন্ধু আছে - সে হলো তার ব্যাক পেইন। দুষ্টু ব্যাক পেইনের জন্য বেচারা আর বসতে পারছেনা। ফেরার জন্য ব্যাস্ত হয়ে উঠলো। দাদার মন খারাপ ডিনার না করে যেতে দিতে মন চায় না তার। এমন সময় চাচা মিঞা মায়ের ফোন পেলেন। চাচা চাচি তাদের ছোট্ট সোনাটিকে মা'র কাছে রেখে এসেছেন। সোনাটা বাবা মা'কে খুজছে। উনারাও যাবার জন্য ব্যকুল হলেন। দাদার মন ভার ডিনার না করে যেতে দেবেন না কিছুতেই। কিন্তু যেতে হলোই এই দুই জুটির। আমি বললাম "দাদা কাঙ্গালের কথা বাসি হলেই ফলে" বার বার বললাম চা টা এর দরকার নেই সোজা আর্লি ডিনার দিয়েন" কে শোনে কার কথা!! এই অতিথি পরায়ন মানুষ দুটির তুলোনা হয়না।
বিধাতা যেন বুঝলেন আমাদের এই আড্ডায় চাটনি হিসেবে ঝড় বৃষ্টির দরকার। ধুলো ঝড় উঠলো। আমাদের চোখ ধুলোয় ঢেকে গেল। এর পর শুরু হলো বৃষ্টি। আমাদের ছাদের আড্ডা বন্ধ হলেও নিচে নেমে জোড়ে সোড়ে আবারও আড্ডা শুরু!!
সবার মজার মজার অভিঙ্গতা শেয়ার করা আর একে অন্যকে আরো বেশি করে জানা। বেশি করে বন্ধু হওয়া।
বের হলো শাফিন (মিসেস পারভেজ) ও শ্রাবন ছিলেন বন্ধু অনেক অনেক বছর আগে 'যখন আরবের লোকেরা নেংটি পরিত'। দুজন দুজন কে চিনতে পেরে সে কি আনন্দ!! আর তাদের আনন্দে আমরাও খুশি।
খিদেয় যখন পেটে ছুচো ছুটছে আমাদের ডাক পড়ল খাবার টেবিলে। আহঃ কত যে রকমের আইটেম.....
খাবার টেবিলে আরো জোর সোড় আড্ডা। বেচারা ভাবি তো আমাদের খাবার তুলে দিতে ব্যস্ত তার সাথে দাদাও কম যান না। যেন খাইয়ে মের ফেলবেন ভালবাসায় !!!
খাবার পরে আরো গল্প আর তার সাথে ছবি তোলা। বাইরে ভিষন ঝড় বৃষ্টি। যেন সোনায় সোহাগা!! আড্ডা আর ঝড়-বৃষ্টি!!
এক সময় যাবার সময় হলো। নিচে নেমে দেখি বৃষ্টি থামবার নাম নেই। কোন রিক্সা বা সি এন জি কিছুই নেই। দাদা আর মুন্সিয়ানা বৃষ্টি মাথায় নিয়েই সবার জন্য বাহন খুজতে বেড়িয়ে গেলেন। খুব কষ্ট হলো বাহন পেতে সবারই। তবে আড্ডার ভাললাগার রেশটুকু আর চমৎকার কিছু স্বৃতি নিয়ে আমরা যে যার ঘড়ে ফিরলাম। ভিষন ভাল লাগা....ভিষন ভাবে পাওয়া বন্ধু.....ভিষন মধুর সময়!!!! - এই আমাদের আড্ডা!!! কি হিংসে হচ্ছে
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই মে, ২০১০ রাত ১১:৫৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


