দুপাশের ছোট ছোট বাগানে ঘেড়া একতলা দু'তলা সুন্দর সুন্দর বাড়ি গুলো দেখতে দেখতে ফুটপাথ দিয়ে হাঁটছিলাম। প্রতিটা বাড়ির সামনে চমৎকার সবুজ ঘাসে ঢাকা আর কিছু ফুলে ঘেড়া বাগান। চমৎকার এই নেইবারহুড!! আমাদের কন্ডোর পেছনের গেট দিয়ে বের হলেই এই নিরিবিলি রাস্তাটির দুপাশে চমৎকার বাড়ি গুলো নিয়ে এই নেইবারহুড।
দুপুর ১টার কাঠফাটা রোদে আমি লাল রং এর ছোট্ট ছাতা মাথায় হাটছি। পাগলে না কামড়ালে কেউ এই ভর দুপুরে হাটার কথা চিন্তা করে?
গরমে সব যেন পুড়ে যাচ্ছে। খেয়াল করলাম রাস্তার যে পাশে বেশি ছায়া সে পাশে না হেটে আমি যে পাশে কম ছায়া সেদিক দিয়েই হাটছি। সমস্যা টা কি আমার
জলির সাথে সকালে কথা হলো ওর সাথে দেখা হবে কাল.....ও হ্যা জলি.....মিস্টি সহজ মেয়েটার সাথে আলাপ হলো ব্যংকক এয়ার পোর্টে। আমারা একই প্লেনে ট্রাভেল করছিলাম। দুজনই সিংগাপুরে আসছি। দুজনই সিংগাপুরে থাকি ও কাজ করি, দুজনই ঢাকা থেকে আসছি!! ......ঢাকা!!.....চমৎকার সময় কাটলো ঢাকায় এবার ১২ দিনের ট্যুরে!! সবার ভালবাসা আর আন্তরিকতায় ভরে ছিলাম ক'দিন। দাদা রোজ সন্ধ্যায় উনার বাড়ি নিয়ে গিয়ে ডিনার করালেন চমৎকার সব বাংগালী খাবার দিয়ে। এই দাদা আর ভাবিকে যে কি বলে ধন্যবাদ দেব জানিনা। বন্ধু মিশু পারলে আমকে ঢাকার সব ভর্তার দোকানে নিয়ে গিয়ে ১২ দিনেই সব রকমের ভর্তা খাওয়ানোর চেষ্টা করেছে।
ভাই ও বোনের সাথে সুন্দর সময় কাটানো আর শপিংএ যাওয়া। কাজিন ও বন্ধুদের সাথে চমৎকার দিন কাটানো!! পুরেনো কলিগদের আয়োজনে গেট-টুগেদার পার্টিতে গিয়ে কত পুরোনো সহকর্মিদের চেনা মুখ গুলো আবারও দেখা....। চটপটি খাওয়া পথের পাশে দাড়িয়ে...
ঢাকায় ১২টা দিন কেমন করেই চলে গেল দেখতে দেখতে.......যাবার দিন চলে এলো ফরড়ুৎ করেই। ২০শে মে.....সকালেই ভাই বোনরা এল দেখা করতে সি অফ করতে। ঢাকার জ্যাম ঠেলে ওদের আর এয়ার পোর্টে যাবার ঝামেলা দিতে চাইলাম না। দাদা যাচ্ছেন আমার সাথে। তাছাড়া ওদের এয়ার পোর্টে ছাড়তে আরো বেশি খারাপ লাগবে।
বের হলাম সকাল ১০।৪৫ শে। সবার অনেক অনেক ভালবাসা আর প্রচুর উপহারে আমার লাগেজ ফুলে উঠেছে। ওভার ওয়েট চার্জের আশংকা হলো। শেষ মুহুর্তে আনা বোনের উপহার গুলো পরে ফেললাম কিছু আর হ্যন্ড ক্যারি। বের হবার আগ মুহুর্তে আমার প্রিয় কলিগ-বন্ধু পোলেন এলো হন্ত দন্ত হয়ে তার উপহারটি দেবার জন্য। ছেলেটার এই ভালবাসা দেখে চখে পানি চলে আসবার মত হলো। জলদি সানগ্লাসটি চোখে দিয়ে বিদায় জানালাম।
পথে মিষ্টি কিনলাম আর তার পরেই পরলাম জ্যামে। ঢাকার বিখ্যাত জ্যামে শেষ বারের মত
ইমিগ্রেশনে পৌছালাম। অফিসার আমাকে ফরেনার ভেবে গুড আফটারনুন বলে অভিবাদন জানাল। হেসে বললাম গুড আফটারনুন। আমার পাসপোর্ট দেখতে গিয়ে টের পেল আমি বাংগালী। কি করে টের পেল যে আমার হাসব্যান্ড ফরেনার। আমাকে জিঙ্গেস করলেন "কেমন ওদের ব্যবহার?" প্রথমে বুঝলামনা কি জিঙ্গেস করছেন। বললাম " মানে কি? কে কেমন ব্যবহার করে?" উনি বললেন "আপনার হাসব্যান্ড" অবাক হয়ে গেলাম এমন পার্সোনাল প্রশ্ন শুনে তাও আবার ইমিগ্রশনের অফিসারের কাছ থেকে। ঝামেলা এড়ানোর জন্য বললাম "ভাল"। উনি বললেন "আসলে আমার একজন গার্ল ফ্রেন্ড আছে ইটালিয়ান, ও আমাকে খুব চায়। তাই ভাবছি কি করব" আমার পেছনে লম্বা লাইন হয়ে যাচ্ছে ইমিগ্রেশনে। সেদিকে তাকিয়া বললাম " উম ভাল তো!! আমার হাসব্যান্ড খুবই ভাল মানুষ ( ঘটনা সত্যি ) আশা করি আপানার গার্লফ্রেন্ড ও খুবই ভালই হবেন" ইটালিয়ানরা যে মাফিয়া হতে পারে সেই আলোচনায় আর যাবার কথা ভাবতেও পারলামনা। তবে উনার কিন্তু অনেক সময় আমার সাথে কথা বলবার জন্য।
বোর্ডিং এ গিয়ে অফিসার আমার পাসপোর্ট তন্ন তন্ন করে ভিসা খুজতে লাগলেন। যা তাঁর করার কথা নয়। ইমিগ্রেশন পেরোলাম তবে কেন? উনার দেখবার কথা পাসপোর্ট ও বোর্ডিং পাস। আমার ভিসা তো পাসপোর্টে নয় আমার সিংগাপুর গ্রীন কার্ডেই আমার ভিসা। উনাকে সেটা দেখাবার পরেও উনি বোঝেন না। মনে হলো এসব অফিসার দের অন্তত একবারের জন্যও বিদেশ পাঠানো উচিৎ সরকারের, উনাদের শেখাবার জন্য ইমিগ্রেশনে ও বোর্ডিং এর সময় তাদের দ্বায়িত্ব টা আসলে কি।
প্লেনে উঠেই দেখলাম আমার সিট পরেছে এক বিশাল দাড়িওলা জামায়াত সাহেবের পাশে। হাই বলে বসলাম। আমাকে দেখেই সেই যে উনি চোখ বুজলেন আর খোলেননি। টেক অফ করবার পর দেখলাম অর্ধেকের বেশি প্লেনের সিট খালি। সিট বদলিয়ে সামনে চলে এলাম। ভালই ছিল ঢাকা ব্যংকক ফ্লাইট টা।
ব্যংকক এয়ার পোর্টে নেমে ৩ ঘন্টা ট্রানজিট। ওয়াশ রুমে দেখা জলির সাথে। দুজনে এর পর কথা বলতে বলতে এয়ারপোর্ট টা ঘুরে দেখলাম আর কিছু ডিউটি ফ্রি শপিং!!
চমৎকার মেয়েটি!! খুবই ফ্রেন্ডলি!! কন্টাক্ট দেয়া নেয়া করে কথা দিলাম বাড়ি ফিরে যোগাযোগ করব। দুজনে পাশা পাশি বসলাম ব্যংকক - সিংগাপুর ফ্লাইটে। প্রচুর কথা হলো দুজনে। সময়টা ভাল কাটল যদিও আমার অসহ্য মাথা ব্যথা ছিল শেষের দিকে। রাত ১২টায় বাড়ি পৌছালাম সেদিন....আহ্ কি শান্তি!!!!
এত সব ভাবতে ভাবতে দেখি রোদে পুরতে পুরতে গন্তব্যে পৌছে গেছি। কাজ সারবার পরে পেটে যেন ছুচো ছোটাছুটি করছে খিদেয়। পাশের ফুড কোর্টে ঢুকলাম। কি খাবো কি খাবো অবস্থা আমার তখন। ধান্দায় পরলাম চিকেন রাইস, না কাটোং লাক্সা, নাকি ইয়াং তোফু খাবো। লাক্সাই নিলাম তিন ডলারে। সাথে সুগার কেইন জুস। পেট পুজো সেরে আবার হাটা দিলাম। হঠাৎ মনে হলো আমার ছাতা আর ফোনটা কোথায় গেল। বুকটা ধরাস করে উঠল। পরি মরি করে খুজতে গিয়ে দেখলাম ওগুলো আমার ব্যগেরই ভেতর
হেনরি পার্ক পেরোতেই হেনরি পার্ক স্কুলের বাচ্চা গুলোকে ছুটি হয়ায় বের হতে দেখলাম পিল পিল করে স্কুল থেকে। ওদের পাশ কাটিয়ে আরো দশ মিনিট হেটে জেলিটায় পৌছালাম। ছোট খাটো কাজ গুলো সেরে বের হতেই দেখি আকাশ মেঘে ঢেকে গেছে। আর রোদের কড়া তাপ নেই। এখানে ও ঢাকার মত গরম তবে শব্দ ও ধুলো না থাকায় গরমটা ওভাবে কষ্ট দেয় না। বাড়ির পথে হাটা দিলাম। আজ হাটব ই অল দ্যা ওয়ে
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে মে, ২০১০ সকাল ৭:৩২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



