পরের দিন হোটেল থেকে একটা ট্যুর প্যাকেজ নিয়ে ব্যংককের কয়েকটা জায়গা দেখবার জন্য বেরোলাম। ট্যুর গাইড আমাদের সকাল ৬।৩০ টায় পিক করল। দেখলাম মাইক্রোবাসে আমাদের পেছনে যারা বসেছেন উনারা কলকাতার বাংগালী। আলাপ হলো উনাদের সাথে। কথা হলো চলতে চলতে। ট্যুর গাইড বললেন ব্যংককের আসল নাম পৃথিবীর সব চাইতে লম্বা রাজধানির নাম। উনি তখন নাম টার ইতিহাস ও নাম টা বললেন। নাম টা বলতে উনার পুরা ৭০ সেকেন্ড লেগেছে। দুঃখিত এত বড় নাম মনে রাখবার মত মাথা আমার নেই
প্রথমে গেলাম আমারা ফ্লোটিং মার্কেটে। একটা নদীর পাড় থেকে ডিংগিতে উঠলাম দুই জোড়া করে।
ডিংগি বেয়ে চলল দুপাশে ঘর বাড়ি আর অফিস আদালতের মাঝ দিয়ে।
পানির পাশে বাড়ি গুলো চমৎকার সব ফুলের গাছে সাজানো।
ছোট ছোট সিড়ি উঠে গেছে বাড়ি গুলোতে উঠবার জন্য। এমনটা না হলেও কিছুটা এরকম দেখেছি কেম্বডিয়ায়। আমার কেম্বডিয়ার গল্প গুলো তে নিশ্চই দেখেছেন আপনারাও।
আর শুধু বাড়ি ঘর ও অফিসই নয় চমৎকার রেস্ট্ুরেন্ট সাজানো পানির পাশে!!!
ফ্লটিং মার্কেটে পৌছেই সে কি এক রং এর বাহারের মধ্যে পরলাম মনে হলো। চারি দিকে রং এর ছড়াছড়ি।
নানান রং এর জিনিস নিয়ে নানান রং এর নৌকো গুলো নানান রং এর কাপড় পরা মানুষ গুলো কে নিয়ে কি সে জীবনের ব্যস্ততা। ব্যস্ত জীবন যে এত রঙ্গিন হতে পারে!!!
কেউ হ্যাটের নৌকা নিয়ে চলেছে, কেউ ফুলের সাজি সাজিয়ে চলেছে আবার কেউ দিয়েছে নানান রং এর হাতে বানানো ব্যগের দোকান।
কেউবা বিক্রি করছে নানান রং এর খাবার। নদির দুপাশে হরেক রকমের সস্তা রংগিন পণ্যে ভড়া।
সাধারন কর্ম ব্যস্ত জীবন যে এত রংএ এরা ধরে রেখেছে, সাজিয়েছে। কে বলে এই মানুষ গুলো গরীব। এরা বড় লোক এদের মনের সৌন্দর্যে!!
এত এত রং বেরং এর খাবার দেখে আমাদের খিদে না পেয়ে যায় কি করে
এক জায়গাতে দেখি এক ডিমের খোসা ঝুলছে সামনে পেছনে মাথা নিয়ে।
রং এখানেও লেগেছে
এর মাঝে আবার এক লোক সাপের খেলা দেখাচ্ছে। আস্ত দুই লম্বা সাপ এর ঘাড়ে ওর ঘাড়ে চাপিয়ে। কি যন্ত্রনা
এর পরে গেলাম উড কার্ভিং এর কারখানায়। কি চমৎকার কাঠের উপর কারুকাজ করছেন শিল্পিরা।
কাঠে উপর খোদাই করে বানানো পেইনটিং।
অসাধারন কাজ। মজার মজার ডিজাইনের সব টেবিল চেয়ার বানানো।
বিশাল বিশাল হাতি। এদের হাতি প্রিয়তা আছে বুঝলাম
নানান ভাবে বানানো বুদ্ধা মাথা। চমৎকার হাতের কাজ!!
ঝোলানো ল্যাম্প বানানো নারকেলের খোল দিয়ে!!
কাঠের সিংহাসন
সবই দেখবার মতন সুন্দর।
গেলাম হাতি বাগানে
হাতির পিঠে ৪৫ মিনিট কাটিয়ে এলাম ওখানে
এখান থেকে আমাদের নিয়ে যাওয়া হলো সাপের মিউজিয়ামে। আমার সবচাইতে অপছন্দের যায়গা।
যেখানে যেখানে সাপ যেন কিলবিলিয়ে আছে বা ফনা তুলে তাকিয়ে আছে পাথড় চোখে। আহ্ আমার গা ঘিনঘিনিয়ে উঠে।
সেখানে আবার সাপের খেলা দেখতে হলো। মন উসখুশ করে বের হয়ে আসবার জন্য। কিন্তু লজ্জায় পারিনা বলতে আমার মনে কি পরিমান ভয়!!
মনে হয় এই বুঝি আমার পায়ের নিচে একটা সাপ চাপা পরল বা গায়ের উপর ঝপাং করে পড়ল। এক ঘন্টার ঐ মহা ডেন্জারাস সাপের খেলা আমার দেখতে হলো দলের চাপে পড়ে। চোখ আর মনের উপর কি নির্যাতন রে বাবা!!
হায়রে সাপ দেখেও কত কিছু শিখলাম
এরা শুধু হাতি আর সাপ ফ্রিক নয় কুমিড়েও এদের যথেস্ট আগ্রহ দেখলাম
এর পরে গেলাম জেমস্টোনের কারখানায়। খনি থেকে আনা আস্ত জেমস্টোন থেকে শুরু করে কত রকমের মুল্যবান পাথড়ে ভড়া!! এমরেলড, ডায়মন্ড, এমেথিস্ট, রুবি....আরো কতো। কাট আনকাট সব আছে ওখানে। নানান রনকমে পাথড়ের গহনা। আর সস্তাও বটে বাইরের চাইতে। সব চাইতে মজা লাগল খনি থেকে তুলে আনা আস্ত পাথড়ের আনকাট দলা দেখতে। ছবি তোলা নিষেধ বলে কোন ছবি ওখানে তুলতে পারলাম না।
সেদিন ফিরে সন্ধ্যায় ব্যংককের বিক্ষাত নাইট মার্কেট প্যাডপং মার্কেটে গেলাম। হায়রে এমন কোন ব্রান্ড নেই যার ফেইক ওখানে পাওয়া যায়না
নেইল আর্টে দোকান গুলো সস্তায় ম্যনিকিওর প্যাডিকিওর করছে। আমিও আমার ম্যনিকিওর প্যায়ডিকিওর করিয়ে নিলাম। আর থাই বডি ম্যাসাজের তো তুলনাই নেই। সেটা একবার ট্রায় করতে কেউ ভুলবেন না।
পরের দিন সিংগাপুরে ফিরে এলাম আমরা। সে রাতটা হোটেলেই কাটালাম গৃহহীনের মতন মনে হলো নিজেদের। পরের দিন নিপার সাথে লাঞ আর আমাদর পুরোনো বাড়ি হ্যন্ডওভার করে দিন কাটল। আর তার পরের দিন সকালের ফ্লাইটে ব্রিসবেন চলে আসা।
আমার এই থাই ট্যুরের লেখা ও ছবি যারা থাইল্যান্ড যান নাই তাদের জন্যই বেশি । চেষ্টা - কিছুটা হলেও যদি আমার সাথে আপনাদের ব্যংকক ঘুড়িয়ে আনতে পারি
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে জানুয়ারি, ২০১১ সকাল ৯:৩০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


