আমার প্রিয় পোস্ট

বুদ্ধিজীবী হত্যা:১৯৭২ সালের ৩০ শে জানুয়ারি জহির রায়হান মারা যাননি।

১৪ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:১৯

শেয়ারঃ
0 0 0

মহান মুক্তিযুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে দেশের নেতৃস্থানীয় বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করা হয়। গত ৩৮ বছরেও হত্যাকান্ডের রহস্য উদ্ঘাটিত হয় নি। বিজয়লগ্নে কে বা কারা বিশ্ব মানচিত্রের নতুন দেশটিকে মেধাশূণ্য করার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে গেছে তার কোন স্পষ্ট তথ্য বের হয়নি। তেমনি এই হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত কয়েকজন চিহ্নিত অভিযুক্ত ধরা ছোয়ার বাইরে রয়ে গেছে । একইভাবে বর্তমান সময়েও বাংলাদেশকে মেধাশূণ্য করতে একটি ঘাতক চক্র সক্রিয় রয়েছে।

তারা মূলত স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব,স্বাধীনতার ঘোষক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান,অধ্যাপক ড.হুমায়ুন আজা ও অধ্যাপক আফতাবসহ বুদ্ধিজীবি ও রাজনৈতিক নেতাদেরকে এখনো হত্যা করে যাচ্ছে। এ কাজে সব সময় দেশীয় দালালদেরকে ব্যবহার করছে তারা। ৭১ ও বর্তমান সময়ের ঘাতকদের সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি ঘনিষ্ট যোগাযোগ রয়েছে বলেও বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে এদেশের নাগরিক মহলে।
বাংলাদেশকে মেধাশূণ্য করে দেয়ার চক্রান্ত আরও অনেক গভীর। এ ব্যাপারে ১৯৭২ সালে ভারতের দি নিউ এইজ পত্রিকায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘গণহত্যা তদন্ত কমিটির সভাপতি চলচ্চিত্র পরিচালক জহির রায়হান আমাদের জানিয়েছেন, আল বদরদের কার্যকলাপ অনুসন্ধান করতে যেয়ে আমরা এক সাথেই অপরাধীদের প্রকৃত উদ্দেশ্য বুঝবার জন্য নানা প্রশ্নের উত্তর খুঁজছি।

স্বাধীনতা পরবর্তীকালে যখন নিহত বাবা ও ভাইয়ের দেহের অবশেষ ঢাকার বধ্যভূমিতে খুঁজে ফিরছিলেন তখন আমাদের ধারণা ছিল যে দখলদার পাকিস্তানী শাসকদের নিশ্চিত পরাজয় উপলব্ধি করে পশুরা ক্রোধান্ধিত হয়ে হত্যাকান্ডের মাধ্যমে প্রতিহিংসা বৃত্তি চরিতার্থ করেছে। কিন্তু পরে বুঝেছি ঘটনা তা ছিল না। কেননা এই হত্যাকান্ডের শিকার যারা হয়েছেন তারা বাঙ্গালী বুদ্ধিজীবীদের প্রতিনিধি। স্থানীয় এবং সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী মনোভাবের জন্য সুপরিচিত ছিলেন। আল বদর বাহিনীর লোকদের কাছে সব্ লেখক ও অধ্যাপকই এক রকম ছিলেন। জহির রায়হান বলেছিলেন এরা নির্ভূলভাবে বাংলাদেশের গণতন্ত্রমনা বুদ্ধিজীবীদের বাছাই করে আঘাত হেনেছে। ’ অন্যদিকে পুরো ঘটনা বিশ্লেষন করলে দেখা যাবে,্আমাদের দেশের বুদ্ধিজীবিদের মধ্যে দু’ধারা ছিলো।এ দের একটি রুশ পন্থি,অন্যটি চীন পন্থি। ঐদিন গণ হত্যার শিকার হয়েছিলো শুধু চীন পন্থি বুদ্ধিজীবিরা।

জহির রায়হানের এই মূল্যায়নের কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে জানা গেছে, ‘বুদ্ধিজীবী হত্যার নায়ক পাকিস্তানী জেনারেল রাও ফরমান আলীর ডায়েরীতে পাওয়া গেছে যে, ‘দু’ জন আমেরিকান নাগরিক ঢাকা সফরে এলেন। এরা হলেন হেইট ও ডুসপিক । এদের নামের পাশে ছোট ছোট অরে ইউএসএ ও ডি জি আই এস অর্থাৎ ডিরেক্টর জেনারেল অব ইন্টারন্যাশনাল।

অপর এক জায়গায় লেখা ছিলো এ দু’জন আমেরিকান পি-আই-এ’র বিশেষ বিমানে ব্যাংককের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করেন। হেইট ও ডুসপিক-এর পরিচয় খুঁজতে গিয়ে দৈনিকা বাংলায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, হেইট ১৯২৮ সালে জন্মগ্রহণ করেন।

জানা গেছে, জহির রায়হান নিখোজ হয়ে যান ১৯৭২ সালের ৩০ জানুয়ারি। তিনি মিরপুর ক্যান্টনমেন্টে তার ভাই শহিদুলাহ কায়সারের খুনের ব্যাপারে খোঁজ করতে গিয়ে নিখোঁজ হয়ে যান। এরপর তার হদিস সম্পর্কে এখন পর্যন্ত কিছুই জানা যায় নি। তবে ১৯৯২ সালের ১ মে বিখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক সত্যজিৎ রায় ও বিশিষ্ট সাংবাদিক বুদ্ধিজীবী শাহরিয়ার কবিরের এক সাক্ষাৎকার থেকে জানা যায়, ১৯৭২ সালের ৩০ শে জানুয়ারি দুর্ঘটনায় জিহির রায়হান হয়তো মারা যাননি। তারপরও দীর্ঘদিন তাকে বাঁচিয়ে রাখা হয়েছিল। মিরপুরে দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হলে গভীর ষড়যন্ত্র মনে করার কোন কারণ ছিল না। বুদ্ধিজীবীদের হত্যার তদন্ত করতে গিয়ে তিনি এমন কিছু তথ্য সংগ্রহ করেছিলেন যা অনেক রথী মহারথীর জন্যই বিপজ্জনক ছিল। যে জন্য তাকে সরিয়ে ফেলার প্রয়োজন হয়েছিল।

 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): বুদ্ধিজীবী হত্যা ;
বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ১৪ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১০:৪৯
একরামুল হক শামীম বলেছেন: গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় জানলাম।
১৪ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:৪৭

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

২. ১৪ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:০৩
নাঈম বলেছেন: দরকারী পোষ্ট.......
১৫ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ২:৩২

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

৩. ১৪ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:০৮
নীল ভোমরা বলেছেন: এই তথ্য জানা ছিলনা! ধন্যবাদ।
৪. ২৫ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১২:৪০
আইরিন সুলতানা বলেছেন: স্বাধীনতার ঘোষক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ....এটি তথ্য বিভ্রাট । লেখকের দৃষ্টি আশা করছি এই ভ্রান্তি সংশোধনের জন্য।
২৫ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৯:০৪

লেখক বলেছেন: পরামর্শের জন্য ধন্যবাদ
স্বাধীনতার ৩৮বছর পরে স্বাধীনতার ঘোষক নিয়ে বিতর্ক নতুন প্রজন্মকে কষ্ট দেয়।
কেনইবা আদালত দ্বারায় এক জনকে স্বাধীনতার ঘোষাক ঘোষনা করতে হবে?

৫. ২৫ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১২:৪৮
মুক্ত বয়ান বলেছেন: তো?? তাতে কি লাভ হল আমাদের?? জহির রায়হান ৩০শে জানুয়ারি নিহত হলেও যা, ২ মাস কিংবা ৫ বছর পরে নিহত হলেও তা। আমাদের কোন লাভ নেই। আমাদের বরং যেটা প্রয়োজন, তার সংগৃহীত তথ্যাবলী আর তার হত্যাকারীদের শাস্তি।
২৫ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৮:৫৮

লেখক বলেছেন: ভাই জহির রায়হানকে তো পাকিস্তানি হানাদাররা মারেনি।
বুদ্ধিজীবী হত্যাকান্ডের সাথে জডিত,এমন কেউ তাকে হত্যা করেছে।
মূলত জহির রায়হানের রিপোর্টটি প্রকাশ হলে হয়তো অনেক রাগব-বোয়ালরা ধরা পড়তো।
এজন্যই তাকে সরিয়ে পেলা হয়েছে।

৬. ২৫ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৯:১৮
জানজাবিদ বলেছেন: এই সব আবজাব তো অনেক দিন ধইরাই শুনতাছি। সলিড কোন প্রমাণ দেন। সলিড প্রমাণের উদাহরণ চাইলে 'অমি পিয়ালে'র ব্লগ দেইখা নিতে পারেন।
৮. ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০১০ রাত ৮:৪৭
পারভেজ আলম বলেছেন: শেষ প্যারাটার সোর্স কি?

 

মোট সময় লেগেছে ২.৭৭০০ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ি,সাংবাদিকতা করি
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই