‘
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আগমন উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে এভাবেই স্বাগত জানিয়ে মানপত্র রচনা করা হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত জাতির জনককে স্বাগত জানানোর সৌভাগ্য আর হয়ে ওঠেনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের। তার আগেই ১৫ আগস্ট ভোরে রচিত হয়ে যায় বাংলার ইতিহাসের কলঙ্কিত অধ্যায়। সপরিবারে হত্যা করা হয় জাতির জনককে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় চ্যান্সেলর হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনে আপনার এই প্রথম শুভাগমনে আমরা আনন্দিত। বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৪ বছরের ইতিহাসে আপনিই প্রথম চ্যান্সেলর, যিনি বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শনে এসেছেন - সেজন্য আমরা বিশেষভাবে গৌরবান্বিত। আপনাকে সর্বান্তকরণে স্বাগত জানাই।’ ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট রাষ্ট্রপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আগমন উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে এভাবেই স্বাগত জানিয়ে মানপত্র রচনা করা হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত জাতির জনককে স্বাগত জানানোর সৌভাগ্য আর হয়ে ওঠেনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের। তার আগেই ১৫ আগস্ট ভোরে রচিত হয়ে যায় বাংলার ইতিহাসের কলঙ্কিত অধ্যায়। সপরিবারে হত্যা করা হয় জাতির জনককে।
দীর্ঘ ৩৫ বছর পর বুধবার পাওয়া গেছে অপঠিত সেই মানপত্র। বিশ্ববিদ্যালয়ের সে সময়ের উপাচার্য আব্দুল মতিন চৌধুরীর সব শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী, ও শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে ওই মানপত্র পাঠ করার কথা ছিল। ওই মানপত্রের পাশাপাশি পাওয়া গেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগো সংবলিত ক্রেস্ট, বাসকেট, প্লেট ও চামড়ার রুমাল। যেগুলো প্রস্তুত করা হয়েছিল বঙ্গবন্ধুকে উপহার হিসেবে দেয়ার জন্য।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত উপ-রেজিস্ট্রার এ কে এম আমির হোসেন তার কাছে মানপত্রটি সম্প্রতি ভিসির কাছে হস্তান্তর করেন। কাউন্সিল শাখায় কিছু প্রয়োজনীয় কাগজপত্র খুঁজতে এসে ওই মানপত্রটি হাতে পান ওই কর্মকর্তা।
হাতে লেখা মানপত্রে সে সময়ের রাষ্ট্রপতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে জাতির জনক অভিহিত করে বলা হয়, ‘আজ আপনার আহ্বানে সমস্ত দেশে শুরু হয়েছে দ্বিতীয় বিপ্লবের শুভ কর্ম উদ্দীপনা। এই যুগান্তকারী দ্বিতীয় বিপ্লবের কর্মসূচি গ্রহণের জন্য আপনাকে অভিনন্দন জানাই। এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম বিপ্লবের মতো, এবারো আপনার ডাকে সারা দিয়ে দ্বিতীয় বিপ্লবের সকল কর্মসূচিকে সফল ও সার্থক করে তুলবে।’ এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরে বলা হয়, ‘এদেশের রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক জীববনধারা কিভাবে গড়ে ওঠবে তা অতীতের মতো ভবিষ্যতেও বহুলাংশে নির্ণীত হবে এই বিশ্ববিদ্যালয়েই। তাই এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি আপনার, আপনার সরকারের ও বাংলাদেশের জনগণের সুদৃষ্টি ও সহানুভুতি আমরা আশা করি।’ দ্বিতীয় বিপ্লবের সফলতা কামনা করে জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু, জয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বলে শেষ করা হয় মানপত্রের বক্তব্য।
১৫ আগস্ট রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধুর উদ্দেশ্য সেই মানপত্র
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
৭টি মন্তব্য ১টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।
শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন
মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪
মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।
মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন
শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিলেন মমতার দলকে?

শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিয়েছেন মমতা ব্যানার্জিকে। কিভাবে? দুই দফায় পানিচুক্তি হতে দেননি মমতা। কংগ্রেসের মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন এবং বিজেপির Narendra Modi প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন দুবার দুজনই বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন, দুবারই... ...বাকিটুকু পড়ুন
পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন
“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।