কুষ্টিয়া সরকারি কলেজে ভর্তি নিয়ে ছাত্রলীগের জঙ্গিপনা শুরু করেছে। প্রকাশ্যে দেশী অস্ত্র প্রদর্শন করে নিজ দলের কর্মীদের উপর ঝাপিয়ে পড়েছে। ভর্তি কার্যক্রম বন্ধ এবং সাংবাদিকদের ওপর হামলার পর এবার ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আটকজন আহত হয়েছেন।
সোমবার সকালে কলেজ ক্যাম্পাসে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সমর্থক ছাত্রলীগের দুপক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এ সময় তারা পরস্পরের প্রতি ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে।
এক পর্যায়ে কলেজের সামনের সড়কেও সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে এবং দুটি হাতে তৈরি বোমার বিস্ফোরণ ঘটে বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে বলে জানিয়েছেন কুষ্টিয়া সদর থানার ওসি আসাদুজ্জামান।
তিনি সাংবাদিকদের জানান, সংঘর্ষের সময় কয়েকজন আহত হয়েছে শুনেছি। কিন্তু তাদের খুঁজে পাওয়া যায়নি। চিকিৎসার জন্য তারা হাসপাতাল বা ক্লিনিকে ভর্তি হয়নি। সম্ভবত ধরা পড়ার ভয়ে তারা গোপনে চিকিৎসা নিচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থীরা জানান, সকাল ১১ টার দিকে কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক নেতা এনাম হান্নান বিশ্বাস ও সাইফুল ইসলামের অনুসারীদের মধ্যে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে সংঘর্ষ বেধে যায়। এক পর্যায়ে সংঘর্ষকারীরা কলেজের সামনের সড়কে বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে শিক্ষার্থী ও পথচারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
তারা জানান, আহতদের উদ্ধার করে তাদের কর্মীরা নিয়ে গেছে। তবে তাদের পরিচয় কেউ জানাতে পারেনি।
সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে উভয় পক্ষকে বাধা দেওয়ার পরও তারা ইট পাটকেল ছোড়াছুড়ি চলতে থাকে।
কলেজ অধ্যক্ষ হাসানুজ্জামান জানান, স্নাতক প্রথমবর্ষে ছাত্র-ছাত্রী ভর্তির জন্য মৌখিক পরীক্ষা চলাকালে রোববার কিছু ছাত্র ভর্তি কার্যক্রমে বাধা দেয়। নিরাপত্তার স্বার্থে ভর্তি কার্যক্রম সাময়িক বন্ধ রয়েছে। আজ আবারো তারা কলেজে বিশৃঙ্খলা ঘটিয়েছে।
কলেজ ছাত্রলীগের নেতারা তাদের পছন্দের শিক্ষার্থী ভর্তির জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে দুশ' আসনের দাবি করে আসছে। কিন্তু কলেজ কর্তৃপক্ষ তাদের দাবি পূরণে অপারগতা প্রকাশ করে।
এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তারা ভর্তি কার্যক্রমে দু'বার বাধা দিয়েছে। এর মধ্যে রোববার ভর্তি কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়ার পর খবর সংগ্রহ করতে গেলে ছাত্রলীগ কর্মীরা দুই সাংবাদিককে মারধর করে।
উল্লেখ্য,এর আগেও ঢাকা কলেজসহ বেশ কয়েকটি কলেজে ভর্তি কার্যক্রমে বাধা দিয়েছে ছাত্রলীগ। গত বছরও ভর্তি নিয়ে অন্তত ২০টির মত সংঘর্ষ হয়েছিলো। আবার অনেক কলেজে ছাত্রলীগের সাথে সমজোতা করে ভর্তি করা হয়েছে। এ ধরণের প্রমাণ পাওয়ায় প্রায় ২হাজার শিক্ষার্থী রেজিস্টেশন এখনো ঝুলে আছে।
খবর: বিডি নিউজ২৪.কম
Click This Link

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



