আমার প্রিয় পোস্ট

অতএব- লক্ষন যা, তাতে দুঃখ আর ক্ষোভই আমার কপালের লেখা।

শিল্পচর্চা সংগীতের প্লাবনে মুছে ফেলো বোধ

২১ শে জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ৯:২৬

শেয়ারঃ
0 0 0

আগের পর্ব এইখানে-
শিল্পচর্চা । গুয়ানতানামো'র সংগীত-হাতিয়ার
------------------------------------------------------------------------------

সংগীতকে জুলুমের হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করার এই উপায় উদ্ভাবন করে সিআইএ, ১৯৬৩ সালে, ভিয়েতনাম আক্রমণের সময়। সিআইএ’র ম্যানুয়ালে উপায়টি সর্ম্পকে বলা হয়েছে, সংগীতের প্লাবনে বন্দির বোধ শক্তি ডুবিয়ে দেয়া অথবা তাকে বোধ শক্তির অনুভব থেকে বঞ্চিত করার উপায় এটি।

. . . . আসল ঘটনা হচ্ছে; আধুনিক সমাজের একজন তরুণ-যুবক হওয়া যে কষ্ট ও নিদারুন যন্ত্রণার, তা সংগীতের অন্য যে কোনো ধরনের চেয়ে মেটাল বা হেভি মেটাল সংগীতেই প্রকাশ করা সম্ভব। এ হচ্ছে আধুনিক যুবকের জীবন-নরকের থেকে সৃষ্ট এক শিল্প মাধ্যম। যেসব তরুণ-যুবক মেটাল সংগীতের পাঙ্খা, তাদের বেলায়- ‘আমরা সংগীতের ধকল সামাল দিতে পারি, তা যতই কর্কশ-বিশ্রী আর পীড়াদায়ক হোক, তাতে কিছু আসে যায়না!’- এটা প্রমান করার একটা রাস্তা হলো এসব কনসার্টে যাওয়া। জিজ্ঞাসাবাদের সময় স্রেফ এর উল্টোটা ঘটে মাত্র। . . . . .

** ছবি : জুলুমের হাতিয়ার হিসেবে সংগীত ব্যবহারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী গানের দল 'রেইজ এগেইনস্ট দ্য মেশিন' এর একটি স্টেজ শো'র ছবি। হাতেগোনা যে কয়েকজন গায়ক এবং গানের দল প্রতিবাদী হয়েছেন তাদের মধ্যে এরাই প্রধান।
----------------------------------------------------------------------------

দুই পর্ব একসাথে সহ বিস্তারিত পড়তে ক্লিক করুন এইখানে

 

সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই নভেম্বর, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:১২ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ২১ শে জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ৯:৫৪
অলস ছেলে বলেছেন: গত কয়দিন আগে খবর দেখলাম, প্রাক্তন গুয়ান্তানামো বন্দী আর গার্ড আম্রিকা/ব্রিটেনে নিজ দেশে দেখা হইছে, অনেক খুশী, আরে, তুমিও তো আমার মতই মানুষ!!!!

আজব এই বিশ্বমোড়ল গুন্ডার দেশ। তার চাইতে আজব তাদের মিডিয়া। ঐখানে জুতায়া আইসা এইখানে সভ্যতা আর মানবতার জয়গান। ভন্ডগুলার চোখের কোন পর্দা নাই।
২১ শে জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ১০:২৬

লেখক বলেছেন: হ। এই আহমেদ এর সাথেই ব্রিটেনে দেখা করছে।

আর ভন্ডামী কন্য ক্যা? কোনো ভন্ডামীর ব্যাপার আছে বইলা তো আমার মনে লয়। জানেন তো, আম্রিকার মা বাপ- ইওরোপের 'আলো জ্বালাতনের' (এনলাইটমেন্টের) উৎপাদন যে মহান বুদ্ধিজীবীরাও কিন্তুক অ-ইওরোপীয়, অ-সাদাদের 'আধা-মানুষ' মানে সাব-হিউম্যান মনে করতো, দার্শনিকভাবেই।

তারপর (সাকীব ভাইয়ের সুবাদে এই গায়কদের একজনের মেটালিকার গায় হ্যাটফিল্ডের একটা ইন্টারভিউ দেখলাম), সেইখানে তারে জিজ্ঞেস করা হইছিল যে, আপনের গান যে জুলুমে ব্যবহার করা হইছে বইলা 'গুজব' আছে তাতে আপনার কি মনোভাব? জবাবে সে বাংলা ছবির ভিলেনের সামনে যখন নায়িকা কয়- ছেড়ে দে শয়তান, তখন ভিলেন যে হাসি দেয় সেইরম একটা হাসি দিয়া কয়-
. . . ইটস জাস্ট আ থিং , পার্ট অফ মি ইজ প্রাউড বিকজ দে (যুক্তরাষ্ট্র) চুজ দি মেটালিকা, ইটস ইটস স্ট্রং ইটস ইটস মিউজিক দ্যাট পাওয়ারফুল ইটস ইটস রেপ্রিজেন্টস সামথিং দ্যাট দে (বন্দিরা) ডোন্ট লাইক, মে বি ফ্রিডম, আগ্রেসন।
এইবার বুঝেন, যা পশ্চিমের জন্য ফ্রিডম তা-ই আপনের জন্য আগ্রাসন!

তারা তো অভন্ড'ই। সাফ কথা- হয় আপনে সাব-হিউম্যান থেইকা পশ্চিমের দাড়িপাল্লা অনুযায়ি হিউম্যান হইবেন, তাইলে পরে হিউম্যানিটি-হিউম্যান রাইটস সব আছে। নয়তো নাই। নয়তো তারা ফ্রিডমের জন্য ক্রুসেডে নামবো। আপনে সেইটারে আগ্রাসন কইলে কইতেও পারেন!

২. ২১ শে জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ১০:২৮
মেরিনার বলেছেন: এদের ব্যাপারেই যাযাবর বলেছিলেন: "বন্যরা বনে সুন্দর, আর শিশুরা মাতৃক্রোড়ে। ইংলন্ড অরণ্যের বাইরে ইংরেজদের দেখলে বোঝা যায় কথাটা কত সত্যি।" [অনেক আগের পড়া, এক আধটা শব্দ এদিক সেদিক হতে পারে - যদি হয়ে থাকে তবে দুঃখিত।] যাযাবর অবশ্য colony-গুলোতে সাদাচামড়া "বন্য-প্রাণীদের" আচরণ নিয়ে কথা বলছিলেন।
২১ শে জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ১১:২৩

লেখক বলেছেন: আসল ঘটনা হচ্ছে; আধুনিক সমাজের একজন তরুণ-যুবক হওয়া যে কষ্ট ও নিদারুন যন্ত্রণার, তা সংগীতের অন্য যে কোনো ধরনের চেয়ে মেটাল বা হেভি মেটাল সংগীতেই প্রকাশ করা সম্ভব। এ হচ্ছে আধুনিক যুবকের জীবন-নরকের থেকে সৃষ্ট এক শিল্প মাধ্যম। যেসব তরুণ-যুবক মেটাল সংগীতের পাঙ্খা, তাদের বেলায়- ‘আমরা সংগীতের ধকল সামাল দিতে পারি, তা যতই কর্কশ-বিশ্রী আর পীড়াদায়ক হোক, তাতে কিছু আসে যায়না!’

এই বিষয়ে যদি কিছু কইতেন মেরিনার।

৩. ২২ শে জানুয়ারি, ২০১০ রাত ৩:১১
খারেজি বলেছেন:
পুজিবাদ মনে হয ক্রুসেডে নামে না। আগ্রাসনটাই শেষ সত্য।

ক্রুসেড অর জেহাদ অর এনলাইটিঙ মনে হয় সাম্রাজ্য বিস্তারের একেকটা উদ্যোগের নাম,
২৩ শে জানুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৩:৩৩

লেখক বলেছেন: মনে লয় এইভাবে বলি-
পুজিবাদের আগের য়ুরোপিয় সামন্তরাও কিন্তু ক্রুসেডে নামে নাই, সাম্রাজ্যবিস্তারেই নামছিলো, আগ্রাসনে, ক্রুসেডের মধ্য দিয়া। কারন সামন্ত রাজা রাজড়ারা নিজেদের সফল প্রচারনায় ক্রুসেডি নাসারাধর্মরে লোকপ্রিয় কইরা তুলছিল, সুতরাং আগ্রাসন নিসন্দেহে মূল কথা, কিন্তু তখন ক্রুসেড রুপ ছাড়া সেইটা সম্ভব ছিল না।

সুতরাং আপনের কথা ঠিক- ক্রুসেড অর জেহাদ অর এনলাইটিঙ মনে হয় সাম্রাজ্য বিস্তারের একেকটা উদ্যোগের নাম

কিন্তু এখনো ক্রুসেডি জোস তৈয়ার করার প্রয়োজন ফুরায়া যায় নাই। কারন তীব্রতায় কম হইলে ওইখানে আধুনিক নাগরিকদের অনেকেই এখনো প‌্যাট রবার্টসনদের ভক্ত।

আর এরম সঙ্গীত বা অন্যান্য শিল্পরে যখন আলো জ্বালাতনের মধ্য দিয়া নতুনভাবে হাজির করা হইলো, তখন তো উদ্দেশ্য এইটাই ছিলো।

৪. ২২ শে জানুয়ারি, ২০১০ রাত ১১:২০
মেরিনার বলেছেন: যে কোন কিছু যা আপনাকে বাস্তবতা ভুলিয়ে রাখে - তাই অসত্য। তা আপনার চারিদিকে মিথ্যা মায়ার ইন্দ্রজাল তৈরী করে। আপনার ভিতর নিফাক বা hypocrisy-র জন্ম দেয়। মদ, গাজা, হেরোইন, এলএসডি এবং হ্যাঁ, সেই সাথে সংগীতও একধরনের "নেশা-দ্রব্য" - তরতম্যটা কেবল মাত্রার। একটা কথা শুনে বড় হয়েছি: "যারা ফুল ও সঙ্গীত ভালোবাসে না, তারা অনায়াসে মানুষ খুন করতে পারে।" বাস্তবে দেখেছি ঠিক তার উল্টো। জার্মানদের ও জাপানীদের দেখেছি ফুলের ও ক্ল্যাসিক্যাল মিউজিকের ভীষণ কদর করতে - অথচ এই দু'টো জাতের হাতেই নিষ্ঠুর হত্যাযজ্ঞের কলঙ্ক লেগে রয়েছে। তাছাড়া মদ, সিগারেট ও অস্ত্রের মতই সঙ্গীত একটা বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের ইন্ডাস্ট্রি - নির্বোধ মানুষকে শোষণের হাতিয়ারও বটে।
২৩ শে জানুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৩:৩৬

লেখক বলেছেন: সেইটাই।

দেখবেন এই দ্যাশেও যারা আলো জ্বালাতন মানে এনলাইটমেন্টের শিকার হইছে, তারাও বলে 'যারা ফুল ও সঙ্গীত ভালোবাসে না, তারা অনায়াসে মানুষ খুন করতে পারে।' আমি বলতেছিনা যে ফুল ও সঙ্গীত ভালোবাসলে মানুষ খুন করা সহজ হয়, যেইটা আপনেও বলেন নাই।

৫. ৩১ শে জানুয়ারি, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:৫৯
সাইফ শিশির বলেছেন: সংগীতকে জুলুমের হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করার এই উপায় উদ্ভাবন করে সিআইএ, ১৯৬৩ সালে, ভিয়েতনাম আক্রমণের সময় ক্রিয়েটিভ মার্কিন পোলাপান...সাবাঁশ... ;) ;)
০৫ ই মার্চ, ২০১০ রাত ৯:১৯

লেখক বলেছেন: B:-)

৬. ১০ ই এপ্রিল, ২০১০ দুপুর ১:৫৬
তারিক মাহমুদ (তারিক) বলেছেন:

এই লেখাটা আমি মেলা দিন আগেই পড়েছিলাম 'চিন্তা'য়। এবং পুরা বিষয়টাই র্মমান্তিক। আর 'হেটফিল্ড'এর এমন দাম্ভিক উচ্চারণ ভালো লাগে নাই যদিও মেটালিকার গান আমি অনেক শুনেছি, ভালোও লাগে অনেক গান। আমি জানিনা আপনি মেটালিকার গান কি পরিমান শুনেছেন, তাই একটা ওদের একটা মিউজিক ভিডিওর লিংক দিলাম- , সময় হলে দেখবেন।

এই মূহূর্তে আর বেশি কিছু লেখতে ইচ্ছা করছে না। কথা হবে। ব্লগে আপনার সাথে পরিচিত হয়ে ভালো লাগলো।
১১ ই এপ্রিল, ২০১০ দুপুর ১২:০১

লেখক বলেছেন: ওদের গান আসলে শুনলেই তো হয়না, দেখাও লাগে :)
বেশ কিছুই দেখছি।
কিন্তু আপনের লিংক তো আসে নাই।

আধুনিকতার কনজিউমার সোসাইটিতে বেড়ে ওঠা তরুনের যন্ত্রনার প্রকাশ কিভাবে গানে হয়, সেইটার জন্য মেটালিকা নজির হিসাবে খারাপ না।

৭. ১২ ই এপ্রিল, ২০১০ রাত ১২:১২
তারিক মাহমুদ (তারিক) বলেছেন:

ঠিক বলেছেন। আধুনিকতার কনজিউমার সোসাইটিতে বেড়ে ওঠা তরুনের যন্ত্রনার প্রকাশ। ভিডিও গানটার লিংকটা আবার দিতেছি। এই গানটা আমার পছন্দের একটা গান। আর ভিডিওটাও ভালো করেছে। দেখে আশা করি মন্তব্য করবে। তবে আমি ওদের মেউজিক ভিডিওগুলো তেমন একটা দেখিনা। ভালো লাগেনা। তবে আপনি এই ভিডিওটা সর্ম্পকে কি বলেন তা একটু শুনতে চাই।

Turn The Page By Metallica

জানিনা এইগানটা আপনি আগে শুনেছেন বা দেখেছেন কি না।

আর আমি একটা পোস্ট দিয়েছিলাম সমগীত-এর এলবাম 'হাওয়া' নিয়ে। সময় হলে দেখে আসবেন।

একটি পর্যালোচনা: সমগীতের এলবাম 'হাওয়া'

ধন্যবাদ।

৩০ শে এপ্রিল, ২০১০ বিকাল ৩:৫৬

লেখক বলেছেন: দেখমুনে। আইজ

 

মোট সময় লেগেছে ১.০১০১ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
ভূমিহীন মজুর একজন
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ