somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... বাংলাদেশ পুলিস> চিটাগাং এর কর্নফুলি থানা > সিডিএ এর ইঞ্জিনিয়ার হয়ে গেলেন টেম্পু ড্রাইভার পরোয়ানা নাই, কারন নাই, ইচ্ছা হইলো পুলিশ আপনারে ধইরা নিয়া গেলো! এমনি করেই আজ রাত দুইটায় ওনার বাবাকে পুলিশ ধরে নিয়ে গেছে। কেন কিভাবে কোথায় কিছুই বলতেছে না!

অবশ্য ওদের একটা জমি জবর দখল হয়ে ছিল আগে থেকে। যারা জবরদখল করেছিল তারাই বারবার নানা মামলা দিচ্ছিল ওদেরই নামে। আমাদের মহান বিচার ব্যবস্থার কল্যানে ওরাই আবার হয়রানির শিকার হচ্ছিল। আমাদের আইনের শাসনের মহান পুলিশও আইন রক্ষায় জবরদখলকারীদের লাঠিয়াল বাহিনী হিসাবে পুরা কর্নফুলি থানাকে নিয়োজিত করেছিল! এখন অবশ্য অনেক কষ্টে মামলা গুলো ওরা রফা করেছে। তো এমন অবস্থায় আবার ধরা! সন্দ হল নিশ্চয় নতুন কোনো মামলা দেবে!

চিটাগাং এর কর্ণফুলি থানা। ফোন দিলাম। যা ভাবছিলাম তা-ই। বলে টেম্পুর ড্রাইভার আর হেল্পার মিলে চুরি করতেছিল, ধরে নিয়ে আসছি। বলতে যাচ্ছিলাম-- সিডিএর ইঞ্জিনিয়ার কি রাতে দুইটার সময় তার গ্রামের বাড়ীর বেডরুমে টেম্পু নিয়া চুরি করতে ছিল। তার আগেই লাইন কাইটা দিল। এখন বন্ধ !]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/arju007/29335538 http://www.somewhereinblog.net/blog/arju007/29335538 2011-02-28 04:13:41
গ্রামীণ যা ছিল; দারিদ্র বিমোচনের নামে ব্যবসা- তা-ই আছে। এই প্রচারণা নতুন কিছুই প্রমাণ করে না খসড়া )


দেরিতে হইলেও ব্যাখ্যা দিল গ্রামীণ। আশা করি প্রথম আলোর কল্যানে কাল এর একখানা বাংলা পড়ার সুযোগ পাবে বাংলাদেশ।

যেনতেন প্রকারেন দুশমনকে-বিরুদ্ধমত-বিরুদ্ধবিষয়কে আক্রমন করার সুযোগ বাংলাব্লগজগত ছাড়তে পারে না। তা-ই দেখতেছি। যার ফলে এমন একটা অন্তসারশুন্য প্রচারণা এই 'ইউনুস বিরোধী'রা আকড়ে ধরেছে। অথচ এই প্রচারণা নতুন কিছুই জানায় না। গ্রামীণ যা ছিল; দারিদ্র বিমোচনের নামে ব্যবসা- দারিদ্র বিমোচনের নামে সামাজিক ব্যবসা করে কেবল নতুন কিছু ভোক্তা তৈরি করা- যারা ধারকর্জ করে ঘি খাবে!--- গ্রামীণ তা-ই আছে।
-------------------------------

মাইক্রো ক্রেডিটে দারিদ্র বিমোচন হচ্ছে না, কিম্বা এই ক্রেডিটের নামে ব্যবসা চলতেছে; এসব অনুসন্ধান মনে হয় এর আগে বাংলাদেশে হয় নাই ! এক আনু মোহাম্মদই ত অনেক লিখছে। নরওয়ের ও টিভি রিপোর্টেরও প্রধান বিষয় তা-ই। শুধু তথ্য আকারে তারা আদি প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ ব্যাংক থেকে তহবিল স্থানান্তর করে অন্য একটা প্রতিষ্ঠান গড়ার তথ্য দিয়েছে প্রাসঙ্গিকভাবে। গ্রামীণ কল্যাণ নামের ওই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমেই ইউনুস সামাজিক ব্যবসার কাজ শুরু করেন নানা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে।

সেই বিষয়টারে বিডি নিউজ গং লিখছে 'গ্রামীণ ব্যাংক থেকে সরানোর অভিযোগ উঠেছে মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে'। স্পষ্ট খবর জালিয়াতি। মনে হয় যেন ইউনুস টাকা সরাইয়া নিজের পকেটে ভরছে !

এই তহবিল স্থানান্তর ওই নরওয়েজিয়ান নিউজের প্রধান প্রসঙ্গ না। তারা আলোচনা করছে, দারিদ্র বিমোচনে এই মাইক্রো ক্রেডিটের অনিবার্য ব্যর্থতা নিয়া। অথচ বিডি নিউজ গং সেই সংবাদরে ম্যানিপুলেট কইরা কথিত টাকা 'সরানো'রে প্রধান কইরা তুলছে।

আরে ভাই, গ্রামীণের যাবতীয় কিছুর মালিক ত ইউনুস এবং অন্যান্য ছোট মালিকরাই। তো নিজের প্রতিষ্ঠানের মূলধন তো নিজেরই। প্রশ্ন হতে পারে বড়জোর এইটুকু যে, এই মূলধন গঠন ও স্থানান্তর দেশের ব্যবসাপাতির আইনসম্মত কি না।

এটা একটা ব্যবসা। ঋণের ব্যবসা। ফলে ব্যবসা চলে ব্যবসার মত। বর্তমান দুনিয়ার অর্থনীতিতে মানে বিশ্ব পুঁজির আদব কেতা হইল; ব্যবসার দরকারে আইন কানুন, আইন কানুনের দরকারে ব্যবসা না। বাংলাদেশের ব্যবসাপতি এনজিও ইত্যাদির আইন বিধান ফাকি দিয়া ইউনুস এক প্রতিষ্ঠানের তহবিল স্থানান্তর করে অন্য প্রতিষ্ঠান গড়ছেন। এতে করে তার 'ব্যবসা' খারাপ হইয়া যায় না হঠাৎ কইরা। যা ছিল তা-ই আছে। ঋণের ব্যবসা। যেই ব্যবসায়ের একমাত্র বিক্রয়যোগ্য পণ্য হইল 'দারিদ্র বিমোচন'।

যারা হালের চালু দুনিয়াদারীর ওপর রাজি খুশী, পুঁজির খোদায়ীর ওপর যাদের আপত্তি নাই, যারা দুনিয়ারে বাজার বইলা মাইনা নিছেন; সেই অধিকাংশ বাংলাদেশীরা এখন ইউনুসের নরওয়ে কেলেংকারীতে যে প্রতিক্রিয়া দেখাইতেছেন, সেটাই বরং বরাবরের মত লজ্জা ও আশংকার কথা। বাংলাদেশে অনেকানেক সক্রিয় মানুষই এর আগে মাইক্রো ক্রেডিটের নামে ব্যবসার বিষয়টা পরিস্কার করে দেখিয়েছেন। সেসবে এই প্রতিক্রিয়াশীলরা উল্টা সুশীল সেজেছেন। আর এখন সাদা চামড়াওয়ালারা যখন কইতেছেন, তখন এরা ঠিকই জ্বি হুজুর করছেন। অর্থাৎ নিজেদের ভালমন্দ যে নিজেরাই বোঝা সম্ভব, সেইটা বুঝার মত আক্কেলমান্দ এই ভেড়ার পাল এখনও হয় নাই। এদের এখনও সব 'উন্নত' বিষয়ের জন্য পশ্চিমের পানে তাকায়া থাকতে হয়।

(এই ইসুতে লজ্জার কিম্বা আশংকার কথা আরও হতে পারে অন্য বিষয়ে। সেইটা হইল, এক. বাংলাদেশের সাংবাদিকতার অসততা। দুই. ব্যবসা-পাতিরে এই প্রতিক্রিয়াশীলেরা একটা নিষ্কলুষ বিষয় মনে করেন, ব্যবসার মধ্যে নৈতিকতা তালাশ করেন।)

প্রিয় পাঠক, তাড়াহুড়া এবং বেয়াদবী মার্জনা করবেন !

-----------------------
সংযোজন: ১

দরকারি তথ্য:

নতুন গ্রামীণ কল্যানে তহবিল স্থানান্তর কে যে 'সরানো' বলে ক্যাম্পেইন করা হচ্ছে এই 'সরানোর' ডাক নাম হল 'এসপিভি' বা স্পেশাল পারপাস ভিয়েকল'। ব্যাংকিং-ফিনান্সিং-ইনভেস্টমেন্ট বিজনেসে এই এসপিভি বা 'বিশেষায়িত বিনিয়োগ' মাধ্যম হরহামেশা না হলেও প্রায়ই হয়। গ্রামীণে যা হইছিল তা সংক্ষেপে এমন; আগে গ্রামীণ ব্যাংকের মধ্যেই তার কর্মকর্তা কর্মচারীদের কল্যান তহবিল হিশাবে এই সোশ্যাল অ্যাডভান্সমেন্ট ফান্ড বা এসএএফ তৈরি করা হয় তারপর এই এসএএফ থেকে এসপিভি কোম্পানি আকারে নতুন কোম্পানি তৈরি করা হয়।

কিন্তু এমন এসপিভি নিজে যেহেতু নন-প্রফিটেবল প্রতিষ্ঠান হতে বাধ্য, ফলে মুনাফা অর্জনের লক্ষ্যে বানিজ্যিক উদ্যোগ আয়োজন করার সুযোগ নাই গ্রামীণ কল্যানের।

গ্রামীন কল্যানের কোন পরিচালকও এই উদ্যোগ থেকে টাকা আত্মসাত করার সুযোগ পাবেন না, কারন এই এসপিভিতে নগদ টাকা থাকে না। কারন স্থানান্তর করে আনা পুরো তহবিলটাই দিয়ে দেয়া হয়েছে আবার ওই গ্রামীণ ব্যাংকেই, অনির্ধারিত মেয়াদে এবং বিনা সুদে। এই এসপিভি কোম্পানির লাভ লোকসান বন্টনেরও সুযোগ নাই। পুরাটাই নির্দেশিত কল্যান তহবিলে ব্যবহার করতে হবে।

তো, এই প্রক্রিয়ার মধ্যে খুটিনাটি অনিয়ম হইলেই দারিদ্র বিমোচনের লক্ষ্যে মাইক্রো ক্রেডিট বা সামাজিক ব্যবসা নতুন কইরা ব্যর্থ হইয়া যায় না। এমন অনিয়ম হইলেও ব্যর্থ ছিল, আছে। অনিয়ম না হইলেও এটা দারিদ্র বিমোচনের জন্য ছিলনা, ব্যবাসায়ী প্রতিষ্ঠান ছিল থাকবে।

আমার কথা বলার জায়গা হইল;
মাইক্রো ক্রেডিট বা সামাজিক ব্যবসা যে দারিদ্র বিমোচন করে না, উল্টা কেবল ক্যাপিটালের বাড় বাড়ন্তে তা দেয় আরও তৃণমূল পর্যায়ে; এইটা বাংলাদেশে এর আগে ও অনেকানেক লোকে অনেকানেক ভাবে তুইলা ধরছে। তো, তখন কেন অনেকেই এইটারে 'বামদের ইর্ষান্বিত হৈ চৈ' বইলা সুশীল সাজছেন। কারন এই অনেকেরা নিজেদের ভালমন্দের জন্য নরওয়েজিয়ানদের মতন অন্যান্য সাদা চামড়ার মুখের দিকে তাকায়া থাকেন।

দ্বিতীয় কথা; আনু মোহাম্মদ সহ বাকীরা যখন লিখছে তখন গ্রামীন বা ইত্যাদি প্রতিষ্ঠান বা এদের কর্তাদের ব্যক্তিগত আক্রমন কইরা লেখে নাই। তারা বরং নিও লিবারাল ইকনমির এই মুখোশের- দারিদ্র বিমোচন ধারনার পর্যালোচনার জায়গা থেকে লেখছে যে এই ক্রেডিট শুধু ব্যবসাকে আরও তৃনমূলে নিয়া যায়। এরকম 'ঝামেলা' বাংলাদেশে মাইক্রো ক্রেডিটের সব কারবারীদের আছে। আছে পিকেএসএফের- যার সাবেক প্রধান ছিলেন ফখরুদ্দিন সাহেব, আছে বসুন্ধরা গং-এর নিকটজন খালেকজ্জুমান সাহেবদেরও। কিন্তু এখন নিউজ ম্যানিপুলেট কইরা এরা বিষয়টারে ইউনুসের ব্যক্তিগত দুর্নিতীর বিষয় বানানোর তালে আছে। অথচ এরকম অনিয়ম বাংলাদেশে সব ব্যবসায়ীরই আছে। এইটা ইউনুসের ক্ষেত্রে বিশেষ না। ফলে, এইটা স্পষ্ট যে, এদের মাথাব্যথা মাইক্রো ক্রেডিট না। বরং অন্য কোনো স্বার্থে এরা ইউনুসের পাবলিক ইমেজ খাটো করার কাজে নামছে।

সতর্কীকরন:

ইউনুস সাহেবের ইমেজের ভারে আমরা কখনোউ ভারগ্রস্ত ছিলাম না। দারিদ্র বিমোচেনের মুখোশে একজন মাইক্রো ক্রেডিট ব্যবসায়ীর কোনো পজিটিভ ইমেজই আমরা দেখি নাই। ফলে বসুন্ধরা গং- এর এই প্রচারণা আমাদের কাছে কোনো আবেদন রাখেনা।

এবং আমরা তার কাছে আমাদের ইজ্জতের ইজারাও কখনো দেই নাই যে, তার এই 'টাকা সরানো'তে আমাদের ইজ্জত হানি হবে দুনিয়ায়। যারা ইজারা দিছল তারাই এখন চিৎকার করতেছে।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/arju007/29282197 http://www.somewhereinblog.net/blog/arju007/29282197 2010-12-02 13:29:55
কাশ্মিরে স্বাধীনতাকামী সর্বশেষ গণবিস্ফোরন : বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তার প্রশ্ন
লক্ষ করার বিষয় হচ্ছে, ওই প্রতিবেদনটাতে তারা ‘জেএমবি হুমকি’কে আলোচনা করেছে মূলত দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা ঝুঁকির দিক থেকে। আরো বিষেশত ইনডিয়ার, এমনকি সরাসরি কাশ্মির ভিত্তিক ‘জিহাদী’ সংগঠনগুলার সাথে জেমমবি’র যোগাযোগ ও সম্পর্ক বাড়ানোর কথাও প্রচার করে তারা। বিশেষত, লস্কর-ই তাইয়েবা বাংলাদেশে সক্রিয় এবং এখান থেকে তারা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগিতা পাচ্ছে--এই অভিযোগও আনে প্রতিষ্ঠানটি। ইনডিয়ার নিরাপত্তা ভাবনার আলোকে বাংলাদেশকে কিভাবে সাজাতে হবে সেটাই হয়ে দাঁড়ায় ওই প্রতিবেদনের আসল লক্ষ্য। তাই বাংলাদেশকে পরামর্শ দেওয়া হয় ইনডিয়ার সাথে দ্বিপাক্ষিক নিরাপত্তা চুক্তি করতে।যেন আঞ্চলিক শক্তি হিশাবে ইনডিয়ার আধিপত্য প্রতিষ্ঠার পথে যা কিছুকে তারা বাধা মনে করে, সেগুলা সরানোই এখন থেকে বাংলাদেশের কাজ। দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য ছোট দেশগুলার জন্য যা এক বিপজ্জনক মাত্রা তৈরি করেছে। তবে আইসিজি যা দেখতে পায় নাই তা হল; এই উদ্যোগ কার্যত পরাশক্তি ও ইনডিয়ার চাহিদার বিপরীত ফলই বয়ে আনবে।

ইনডিয়ান ইউনিয়নভুক্ত নানা রাজ্যে স্বাধীনতা ও আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকারের দাবিতে বিভিন্ন সংগঠন ও মুক্তিকামী জনগোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে লড়াই করছে। এই মুক্তিকামী জনগোষ্ঠীগুলার বিরুদ্ধে ইনডিয়ার সামরিক এবং রাজনৈতিক দখলদারি ও দমন-পীড়ন কৌশলকে পরাশক্তির তরফে আইসিজি পরিস্কার অনুমোদন দিয়েছে। দক্ষিণ এশিয়াকে অস্থিতিশীল করার ক্ষেত্রে তাদের অবস্থান আবারো পরিষ্কার হল এই অনুমোদন থেকে। বাংলাদেশের জন্য বাড়তি উদ্বেগের বিষয় হল, সেই সামরিক পরিকল্পনায় বাংলাদেশকে ইনডিয়ার পক্ষভুক্ত করে নেয়ার রাস্তা বাতলানো এবং এর ন্যায্যতা দেয়ার ভিত্তি হিশাবে কাশ্মিরের সমস্যার সাথে বাংলাদেশকে যুক্ত করে দেখানো। পরাশক্তির স্বার্থ রক্ষার জন্য ইনডিয়াকে আঞ্চলিক সরদার বানাবার এককেন্দ্রিক প্রক্রিয়া শুরু করেছে তারা। ফলে এ অঞ্চলের অন্যান্য রাষ্ট্রগুলাকে ইনডিয়ার বলয়ের মধ্যে অধীন করে রাখার কৌশল নিয়েছে আইসিজি। কিন্তু ইনডিয়ার কেন্দ্রীয় শাসকগোষ্ঠীর সামরিক স্বার্থের প্রতি এমন নির্বিচার অনুমোদন দেয়ার পরিণতি মোটেই তাদের লক্ষ্য বাস্তবায়নের পক্ষে যাবে না। বাংলাদেশ এবং নেপালের মত ছোট রাষ্ট্রগুলা নিজেদের স্বাধীন অস্তিত্ব ও স্বার্থ রক্ষার তাগিদেই পাল্টা মেরুকরণের পথ ধরবে। ক্ষমতার ভারসাম্য নিশ্চিত করবার জন্য শক্তিসমাবেশ ঘটাবে। আখেরে তা ইনডিয়া বা আমেরিকার মিত্রজোট; কারও জন্যই সুখের হবে না। লক্ষ্য অর্জন তো দূরে থাক বরং তা বুমেরাং হয়ে ফিরে আসতে বাধ্য। কাশ্মিরের স্বাধীনতার দাবিকে ইনডিয়া গত দুই দশক ধরে ‘সীমান্তের বাইরে থেকে আসা সন্ত্রাসবাদ’ বলে আখ্যা দিয়ে আসছে। ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অনন্ত যুদ্ধে’র সূচনা লগ্নে আমেরিকাকে নিঃশর্তে সামরিক স্থাপনা সহ যাবতীয় সহায়তা দেয়ার ঘোষণা দিয়েছিল ইনডিয়া। দখলদারি ও দমনের শিকার সব জনগোষ্ঠীর প্রতিরোধ এবং সব অভ্যন্তরীণ ও আঞ্চলিক সমস্যাকে একচোটে ‘সন্ত্রাসবাদ’ আখ্যা দিয়ে আমেরিকাকেনিঃশর্তে সামরিক স্থাপনা সহ যাবতীয় সহায়তা দেয়ার ঘোষণা দিয়েছিল ইনডিয়া।

দখলদারি ও দমনের শিকার সব জনগোষ্ঠীর প্রতিরোধ এবং সব অভ্যন্তরীণ ও আঞ্চলিক সমস্যাকে একচোটে ‘সন্ত্রাসবাদ’ আখ্যা দিয়ে আমেরিকার যুদ্ধের সমীকরণে ফেলে দিতে ইনডিয়া মুখিয়ে ছিল। এ সব কিছুকে সন্ত্রাসবাদ ও সীমান্তের বাইরে থেকে করা নাশকতা বলে সন্ত্রাসবিরোধী অনন্ত যুদ্ধের খাপে পুরে দেয়ার প্রচেষ্টা শুরু করে তারা। এ লক্ষ্যে আগে থেকে চালানো প্রচারণার সাথে কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক শক্তির সমাবেশ ঘটানো হয়। তাতে অনেকটাই সফল হয় ইনডিয়া। বুশ প্রশাসনের প্রশ্রয়ে বেপরোয়া হয়ে ওঠে দেশটা। সামরিক সহযোগিতা এবং নিরাপত্তা চুক্তির বদৌলতে এক্ষেত্রে তাদের প্রধান সহায় হয় ইজরাইল। তাতে করে অন্যান্য মুক্তিকামী অঞ্চলের মত সাময়িকভাবে কাশ্মিরকে কিছুটা দমাতে পারলেও লাগাতার হত্যা, নির্যাতন, গ্রেফতার ও বর্বর নিপীড়নের সাথে বঞ্চনার ক্ষোভ আবারো গণবিস্ফোরণের দিকে ঠেলে দেয় দখলকৃত অঞ্চলটাকে।

ঠিক এরকম একটা সময়ে গত তেসরা জুন কাশ্মির নিয়ে সর্বশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করে আইসিজি। কাশ্মির বিষয়ে এর চার বছর আগে প্রকাশিত নিজেদের প্রতিবেদনটার মত আবারো ইনডিয়ার বয়ান এবং মূল সুরকে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে ‘আন্তর্জাতিক’ সমস্যা আকারে হাজির করে। ‘শান্তির জন্য পদক্ষেপ: কাশ্মিরিদের অগ্রাধিকারে রাখা’ (স্টেপ টুয়ার্ড পিস: পুটিং কাশ্মিরিজ ফার্স্ট) এই হল প্রতিবেদনটার শিরোনাম। আমরা সেই প্রতিবেদন যাচাই করলে দেখব, দখলকৃত কাশ্মিরের স্বাধীনতার লড়াইকে ইনডিয়ার সরকারি ভাষ্য মোতাবেক একটা অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত অনুন্নয়নের সমস্যায় পর্যবসিত করেছে আইসিজি। কাশ্মিরি জনগণের অগ্রাধিকারের কথা বলে তাদের স্বাধীনতার দাবি বা আন্দোলনকে বানিয়ে ফেলা হয়েছে আস্থা তৈরির পদক্ষেপ বা কনফিডেন্স বিল্ডিং মেজারস (সিবিএম)। নিয়ন্ত্রণ রেখার দুইভাগের মধ্যে চলাচল ও ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়ালে এবং গোয়েন্দা কড়াকড়ি শিথিল করলে অবস্থা ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে মত দেয় পরাশক্তির এই গবেষণা মুখপাত্রটি। স্বাধীনতার দাবি নিস্তেজ হয়ে গেলে, বিষয়টাকে অমীমাংসিত রেখেই ইনডিয়া তার উঠতি এবং বাড়তি খায়েশ মিটিয়ে নেয়ার সুযোগ পেয়ে যাবে--এ হল তাদের ধারণা। কিন্তু সেটা যে হচ্ছে না, তার প্রমাণ সম্প্রতি সেখানে ‘আজাদি’র দাবিতে গণবিষ্ফোরণের প্রবল মাত্রা। এখনো মাত্রার দিক থেকে নব্বইয়ের তেহরিক আন্দোলনকে ছাপিয়ে না গেলেও গুণগতভাবে ভিন্নতর এবং আরো বেশি শক্তিশালী এই গণবিস্ফোরণ।

কারণ, এবারের বিক্ষোভ স্বতঃস্ফূর্ত, রাজনৈতিকভাবে অসংগঠিত এবং নেতৃত্বহীনভাবে পরিচালিত--এই স্বীকারোক্তি খোদ কাশ্মির রাজ্যের কেন্দ্রীয় শাসনের মুখ্যমন্ত্রী ফারুক আবদুল্লাহ’র। জনগণের মধ্য থেকে উঠে আসা এবং ওই জনগণের শক্তিকে কেন্দ্র করে সর্বশেষ এই আন্দোলনের অন্যতম বিশেষ দিক হল--এবার কিশোর, তরুণ এবং বয়স্ক নারীরাও আপনাতেই ঘর থেকে বেরিয়ে আসছে; কারফিউর মধ্যে পুলিশ-আধাসামরিক সিআরপিএফ এবং সেনাবাহিনীর বুলেট-টিয়ার গ্যাস-লাঠি উপেক্ষা করে। ফিলিস্তিনের ইন্তিফাদার মত শিশু কিশোররাও ঢিল আর গুলতি ছুঁড়ছে দখলদার সামরিক ও আধাসামরিক বাহিনীর যুদ্ধংদেহী সদস্যদের ওপর। কিছুতেই তাদের মুখ থেকে ‘আজাদি... আজাদী ...’ শ্লোগান কেড়ে নেয়া যাচ্ছে না। আটচল্লিশ থেকে দীর্ঘ চার দশকের চরম দমন অভিযান শেষে গত দু’দশক ধরে ইনডিয়া প্রচার করে আসছে, কাশ্মিরে আসলে কোন স্বাধীনতার আন্দোলন নাই। কিছু বিছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী সীমান্তের বাইরের মদদে সেখানে সন্ত্রাস ছড়াচ্ছে। যাকিছু সমস্যা, সেসব নেহায়েতই অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত অনুন্নয়নের ফলে। আবার সেখানে উন্নয়ন প্রক্রিয়াও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে সেই সমস্ত ‘সন্ত্রাসবাদী’ অপতৎপরতার কারণে।

আফগানিস্তানে মার্কিন ও ন্যাটো জোটের যুদ্ধ শুরু হবার পর এমনিতেই পাকিস্তানকে চাপের মধ্যে থাকতে হয়েছে। কাশ্মির ভিত্তিক সংগঠনগুলাকে সন্ত্রাসবাদী সংগঠন হিশাবে ঘোষণা এবং তাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে আমেরিকা নানা সময়ই পাকিস্তানকে বাধ্য করেছে। সর্বশেষ ২০০৮ সালের মুম্বাই আক্রমণের পর জোরদার দমন অভিযান চালায় পাকিস্তান। নিয়মিত বিরূপ প্রচারণার মুখে, কাশ্মিরের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠনগুলার জন্য পাকিস্তানের প্রত্যক্ষ মদদ পাওয়া কঠিন হয়ে যায়। এবং পাকিস্তানে থাকা সহযোগী ও সমর্থক সংগঠনগুলার সাথে যোগাযোগ রক্ষা করাও বেশ কঠিন হয়ে পড়ে। তারওপর, প্রথমত; পারভেজ মোশাররফের দিল্লি সফরে কাশ্মির ইস্যুতে পাকিস্তানের বেনজির নমনীয়তা, দ্বিতীয়ত; তার পরে আসিফ আলি জারদারি আলোচনার টেবিল থেকে কাশ্মিরকে ছুড়ে ফেলায় এটা স্পষ্ট যে, কাশ্মির বিষয়ে সরকারি এবং রাজনৈতিকভাবে পাকিস্তান আর আগের জায়গায় নাই। গত ১১ জুন থেকে শুরু হওয়া গণবিক্ষোভের জবাবে সর্বশেষ সামরিক দমন অভিযানে প্রায় অর্ধশত কাশ্মিরি খুন হওয়ার পরও পাকিস্তানের নিরব ভূমিকায় সেটা আরো বেশি স্পষ্ট। কিন্তু ‘কাশ্মিরি সন্ত্রাসবাদ’ তত্ত্বের গুরুদের অবাক করে দিয়ে এই ‘পাকিস্তানি নিরবতা’ই প্রধান শক্তির জায়গা হয়ে উঠেছে কাশ্মিরিদের জন্য। পাকিস্তানের মদদে ‘সীমান্তের বাইরের সন্ত্রাসবাদ’ তত্ত্বকে উল্টে দিয়ে স্বতঃস্ফূর্ত গণবিদ্রোহে ফেটে পড়েছে কাশ্মিরি জনগণ। তবু পরাশক্তির টনক নড়ছে না। তাদের সংবাদ মাধ্যম এবং রাজনৈতিক এজেন্ডায় এখনো বিষয়টাকে ইনডিয়ার স্বার্র্থে চেপে রাখার দৃষ্টিভঙ্গি বহাল রেখেছে। যেন সামান্য আইন-শৃঙ্খলার অবনতির চেয়ে বেশি কোন কিছু সেখানে ঘটে নাই। এই ভুল ভূ-রাজনৈতিক কৌশলের সাথে অবশ্যই যোগ হবে আফগানিস্তান।

সাম্প্রতিক বছরগুলাতে এ অঞ্চলে আমেরিকান আগ্রাসন ও আগ্রাসন বিরোধী প্রতিরোধ যুদ্ধের ফলে আঞ্চলিক-ক্ষমতার ভারসাম্যে পরাশক্তির অবস্থানগত বদল ঘটেছে। আমেরিকা এবং তার মিত্রদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়েছে আফগানিস্তান। এর সাথে পুরা দক্ষিণ এশিয়ায় ক্ষমতা বিন্যাস এবং আঞ্চলিক শক্তি হিশাবে ইনডিয়ার উঠে আসার প্রশ্ন জড়িত। আর চিন তো ইতিমধ্যে নিজের জায়গা তৈরিতে অনেক এগিয়েছে। কিন্তু আমেরিকা বা ইওরোপিয় ইউনিয়নের ন্যূনতম চাহিদাও আফগানিস্তানে কোনদিন পূরণ হবে না, যদি না তারা কাশ্মির প্রশ্নে তাদের বর্তমান নীতি না বদলায়। অর্থাৎ ইনডিয়াকে মিত্র হিশাবে পাওয়ার জন্য সব কিছুতে চোখ বুজে থাকার--কিম্বা ইনডিয়ার ভাষ্যকেই নিজের ভাষ্য এবং পররাষ্ট্র নীতির অংশ করে নেয়ার চর্চার--নীতি থেকে তারা বের হয়ে না আসে। এ নীতি বদলাতে ব্যর্থ হলে এমন চড়া মূল্য দিতে হবে আমেরিকা ও ইওরোপিয় শক্তিগুলাকে যে মূল্য পরিশোধের সামর্থ্যও তাদের অবশিষ্ট থাকবে না। আফগানিস্তানে আগ্রাসনবিরোধী যুদ্ধে তালেবানরা যে অপরাজেয় তা এখন প্রমাণিত, নয় বছর পর অধিকাংশ ভূখন্ড এখন আবারো তাদের নিয়ন্ত্রণে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে; কখন তারা বিজয়ের কাছাকাছি পৌঁছাবে এবং কাবুলে তারা ক্ষমতা দখল করলে কি ঘটবে।

সম্প্রতি কাশ্মিরের বিষয়ে ইনডিয়ার প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং বলেছেন, ‘পাকিস্তানের উচিত জঙ্গিদের তার ভূখ- ব্যবহার করতে না দেয়া।’ সেটা ইনডিয়ার দিক থেকে হয়ত দরকার। কিন্তু নিজেই যে সে সমস্যার কেন্দ্রে আছে সেটা স্বীকার করতে ইনডিয়া কখনো রাজি না। নিজেদের দিক থেকে সমাধান প্রচেষ্টার চেয়েও তারা বেশি আগ্রহী অন্যদের ওপর দোষ আরোপ করতে। এবং তাদের যুদ্ধটা অন্যদের দিয়ে করিয়ে নিতে। ইনডিয়া চায়; অভ্যন্তরীণ প্রতিরোধযুদ্ধগুলা দমন, দখলদারি প্রতিষ্ঠা এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার বেশ কিছু দিক নিশ্চিত করার কাজগুলা প্রতিবেশী ছোট রাষ্ট্রগুলাকে দিয়া করিয়ে নিতে। একই সাথে এই প্রতিবেশীরা ইনডিয়ার আধিপত্য মেনে নিক--এটাও ইনডিয়ার কেন্দ্রীয় শাসকগোষ্ঠীর চাওয়া। ইনডিয়া চায়; উত্তরপূর্ব অঞ্চলের রাজ্যগুলাতে যে যুদ্ধ সে চালাচ্ছে সে যুদ্ধে বাংলাদেশ শরিক হোক। পাকিস্তানের কাছে ইনডিয়ার চাওয়া হচ্ছে; জম্মু-কাশ্মির থেকে হাত গুটিয়ে এবং আজাদ-কাশ্মিরের নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর সক্রিয় সংগঠনগুলার ঘাড় মটকিয়ে দেয়। যাতে আঞ্চলিক পরাশক্তি হবার পথে সবচেয়ে বড় বাধাগুলার অন্তত একটা সরানো যায়।

পাকিস্তান তার নিজের দক্ষিণ এশিয়া নীতি, বিশেষ করে এ বিষয়ক ভূরাজনৈতিক কৌশল বিবেচনা করে, যে কারণে আফগানিস্তানকে একটা কৌশলগত গভীরতা (Strategic depth) হিশাবে আঁকড়ে ধরে থাকতে চায়--সেই আঁকড়ে ধরার পেছনে থাকা অন্যতম প্রধান কারণও হচ্ছে কাশ্মির বিরোধে সুবিধাজনক অবস্থানে এগিয়ে থাকা। কারণ, এছাড়া তাদের হাতে আর কোন চাপ সৃষ্টির উপায় (Leverage) অবশিষ্ট নাই। আমেরিকা যতই চেষ্টা করুক কিম্বা পাকিস্তান যতই অস্বীকার করুক, আফগানিস্তানে তাদের দুই পক্ষের এই খেলা বন্ধ হবার বাস্তবসম্মত কোন কারণ নাই। আখেরে তা আমেরিকার জন্য বেরোবার রাস্তা বন্ধ করে পালিয়ে বাঁচার রাস্তাই তৈরি করবে। যাতে কোনভাবেই এ অঞ্চলে স্থিতিশীলতা আসবে না। একটা দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত এবং যুদ্ধের হুমকিকেই শুধু বাড়াবে।

মূল লেখা: চিন্তা সম্পাদনা বিভাগ ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/arju007/29263841 http://www.somewhereinblog.net/blog/arju007/29263841 2010-10-29 23:09:44
শিল্পচর্চা । সংগীতের প্লাবনে মুছে ফেলো বোধ শিল্পচর্চা । গুয়ানতানামো'র সংগীত-হাতিয়ার
------------------------------------------------------------------------------

সংগীতকে জুলুমের হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করার এই উপায় উদ্ভাবন করে সিআইএ, ১৯৬৩ সালে, ভিয়েতনাম আক্রমণের সময়। সিআইএ’র ম্যানুয়ালে উপায়টি সর্ম্পকে বলা হয়েছে, সংগীতের প্লাবনে বন্দির বোধ শক্তি ডুবিয়ে দেয়া অথবা তাকে বোধ শক্তির অনুভব থেকে বঞ্চিত করার উপায় এটি।

. . . . আসল ঘটনা হচ্ছে; আধুনিক সমাজের একজন তরুণ-যুবক হওয়া যে কষ্ট ও নিদারুন যন্ত্রণার, তা সংগীতের অন্য যে কোনো ধরনের চেয়ে মেটাল বা হেভি মেটাল সংগীতেই প্রকাশ করা সম্ভব। এ হচ্ছে আধুনিক যুবকের জীবন-নরকের থেকে সৃষ্ট এক শিল্প মাধ্যম। যেসব তরুণ-যুবক মেটাল সংগীতের পাঙ্খা, তাদের বেলায়- ‘আমরা সংগীতের ধকল সামাল দিতে পারি, তা যতই কর্কশ-বিশ্রী আর পীড়াদায়ক হোক, তাতে কিছু আসে যায়না!’- এটা প্রমান করার একটা রাস্তা হলো এসব কনসার্টে যাওয়া। জিজ্ঞাসাবাদের সময় স্রেফ এর উল্টোটা ঘটে মাত্র। . . . . .

** ছবি : জুলুমের হাতিয়ার হিসেবে সংগীত ব্যবহারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী গানের দল 'রেইজ এগেইনস্ট দ্য মেশিন' এর একটি স্টেজ শো'র ছবি। হাতেগোনা যে কয়েকজন গায়ক এবং গানের দল প্রতিবাদী হয়েছেন তাদের মধ্যে এরাই প্রধান।
----------------------------------------------------------------------------

দুই পর্ব একসাথে সহ বিস্তারিত পড়তে ক্লিক করুন এইখানে

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/arju007/29082743 http://www.somewhereinblog.net/blog/arju007/29082743 2010-01-21 09:26:32
শিল্পচর্চা । গুয়ানতানামো’র সংগীত-হাতিয়ার দুনিয়াজোড়া জনপ্রিয় যুক্তরাষ্ট্রের ভারি বাজনাওয়ালা (হেভি মেটাল) গায়কদল ‘মেটালিকা’র গায়ক জেমস হেটফিল্ড- এই গায়ক জানিয়েছেন ‘জুলুমের হাতিয়ার হিসাবে তার গান ব্যবহৃত হওয়ায় তিনি গর্বিত।’
-------------------------------------------------------------

আধুনিক ‍দুনিয়াদারির নেতৃত্বে থাকা যুক্তরাষ্ট্র প্রমাণ করেছে যে, সংগীত শুধু জীবনের ভাষা-ই নয়, একই সাথে মরন-যন্ত্রনার ও স্বাদ দিতে পারে সংগীত।

মে, ২০০৩; সেদিন গুয়ানতানামোর ডেল্টা বন্দিশালায় আটক রুহাল আহমেদকে জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষে নেয়া হয়েছিলো গান শোনানোর জন্য! একজন সামরিক পুলিশ এসে আহমেদকে তুলে নিয়ে গেলেন জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষে, তখনো আহমেদের জানা ছিল না যে ওই কক্ষে আজ তার জন্য অপেক্ষা করছে সংগীতায়োজন- নিত্যকার নির্যাতনের নির্ঘন্টে আজ নতুন মাত্রা পাবে। জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষের মেঝেতে লাগানো লোহার রিং এর সাথে তার পা আটকে দেয়া হলো, হাত দুটো একসাথে পিছমোড়া করে বেধে মেঝেতে লাগানো রিং এর সাথে জুড়ে দেয়া হলো। ওই অবস্থায় দাড়িয়ে থাকা সম্ভব না, আবার বসে পড়াও অসম্ভব এবং হাটু মুড়ে থাকাও সম্ভব না। আর এভাবে কিছুক্ষন থাকলে পরেই খিচুনি শুরু হয়ে যায়। এরকম নির্যাতনের সাথে ভালোই পরিচয় ছিলো তার, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহীনির জিজ্ঞাসাবাদের ‘মানসম্মত পরিচালন প্রক্রিয়ার’ অংশ এটা, বন্দি অবস্থায় প্রতিদিনের একটা বড় অংশ আহমেদদের এভাবেই কাটতো। এভাবে দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে তাকে একটা প্রশ্নই বারবার করা হয়েছিল- তিনি এবং তার বন্ধু ২০০১ এর শরতে আফগানিস্তানে কি করছিলেন?

সেদিনও একই প্রশ্ন অপেক্ষা করছে সেটা জানতেন তিনি। কিন্তু যা জানতেন না তা হলো- ছিয়াশি বর্গফুটের কক্ষটিতে সেদিন একটা দশাসই আকারের সাউন্ড বক্স ছিলো, ওপরে একটা সিডি প্লেয়ার। একজন সৈনিক ঢুকে প্লেয়ারে একটা সিডি ঢুকালো, প্লেয়ার চালু করে সর্বোচ্চ স্বরে উঠালো, এবং দরজা বন্ধ করে চলে গেলো। সিডিটা ছিলো যুক্তরাষ্ট্রে র্যানপ গায়ক এমিনেম-এর। আহমদ বলছেন, ‘আমি বুঝতে পারছিলাম না যে কি হচ্ছে। ভাবলাম, ওরা সাউন্ড বক্সের কথা ভুলে গেছে।’ সৈনিকটি যখন আবার ফিরলো আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, সে তাকালো ঠিকই আমার দিকে কিন্তু কিছু বললো না।

এরপর থেকে যতদিন তাকে জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষে নেয়া হতো, বারবারই নির্যাতনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হতো সংগীত। প্রতিদিন নিশ্চয় এমিনেম নয়। কোনোদিন রেইজ এগেইনস্ট দ্য মেশিনের রক গান আবার কখনো অন্য কোনো গায়কদলের ভারী বাজনাওয়ালা (হেভি মেটাল) গান ইত্যাদি। স্বরের মাত্রা ছিলো কানফাটানো, এভাবে তাকে ঘন্টার পর ঘন্টা গান শুনতে বাধ্য করা হতো, ওই ছিয়াশি বর্গফুটের কক্ষে- না দাড়ানো না বসা অবস্থায়। কখনো এক নাগাড়ে কয়েক দিন ওভাবে রাখা হতো। প্রায়ই তার মুখের ঠিক সামনে ফ্লাশলাইট জ্বালিয়ে রাখা হতো। বাদবাকি অন্ধকার। তিনি কিছু দেখতে পাচ্ছেন না, এবং কানের ঠিক কাছে চরম উচ্চস্বরে বাজছে ভারী বাজনাওয়ালা গান। আবার কখনো কক্ষের তাপমাত্রা একেবারেই কমিয়ে দেয়া হতো শীতাতপ নিয়ন্ত্রন করে। কনকনে বরফ ঠান্ডা, অন্ধকার, চোখের সামনে উজ্জ্বল বাতি, কানের কাছে কানফাটানো রক এন রোল! অসহ্য যন্ত্রনায় খিচুনি খেতে খেতে এভাবে আর কাদের কবে সংগীত উপভোগ করতে হয়েছে? গুয়ানতানামো ছাড়া?

অবশ্যে এরকম চরম সংগীতায়োজন না হলেও সংগীত হামলার আরো কিছু দৃষ্টান্ত আছে, যুক্তরাষ্ট্রের তরফেই। পানামার শাসন ম্যানুয়েল নরিগো যখন ১৯৮৯ সালে পানামাস্থ ভ্যাটিক্যান দূতাবাসে আশ্রয় নিয়েছিলেন, তখন যুক্তরাষ্ট্রের বাহীনি দূতাবাসে কয়েক দিন ধরে বোমা হামলার পাশাপাশি আরেক ধরনের হামলা চালিয়েছিল। রাস্তায় সাজোয়া গাড়ি ও আকাশে কপ্টার থেকে উচ্চস্বরে রক এন রোল হামলা করেছিল দূতাবাস লক্ষ্য করে। আবার যেমন ১৯৯৩ সালে টেক্সাসে একটি খামার বাড়ীতে আশ্রয় নেয়া একটা গোষ্ঠীকে বের করে আনার জন্য লাউড স্পিকারে সংগীত হামলা করেছিল। ন্যান্সি সিনাত্রা’র বাজার পাওয়া গান- দিজ বুটস ওয়ার মেইড ফর ওয়াকিং বাজিয়েছিল এফবআই এজেন্টরা। উদ্দেশ্য পরিস্কার- খামারবাড়ী থেকে বেরুবে না বলে পন করা ওই ভিন্নমতালম্বি নাগরিক গোষ্ঠীটিকে নৈতিকভাবে দুর্বল করে তোলা।

পাঠক! জানাচ্ছিলাম গুয়ানতানামোর সংগীত আয়োজনের কথা। রুহাল আহমেদ- সংগীত নির্যাতনের শিকার অগুনতি বন্দিদের একজন মাত্র। আহমেদের পরিবার মূলত বাংলাদেশ থেকে অভিবাসী হয়ে যুক্তরাজ্যে যায়। এখন তাদের বাস দেশটির বার্মিংহামের কাছের ছোট্ট শহরে- টিপটন। তিন বন্ধু ছিলেন গুয়ানতানামোয়। ছাড়া পাবার পর সংবাদ মাধ্যমে পরিচিত হয়েছেন টিপটন থ্রি নামে। ২০০১ এর সেপ্টেম্বরে কুড়ি বছর বয়সী আহমেদ আর দুই বন্ধু পাকিস্তানে গিয়েছিলেন এক বিয়েতে। ততদিনে ওদিকে আফগানিস্তানে শুরু হয়ে গেছে যুক্তরাষ্ট্রের দখলদারি। রোমান্ঞের তালাশে তিনি বন্ধু সীমান্ত পার হয়ে ঢুকে পড়েছিলেন আফগানিস্তানে। পাকিস্তানে ফেরার সময় যুক্তরাষ্ট্রের দালাল উত্তরাঞ্চলীয় জোট তাদের আটকে দেয়। তারা তিনজন ইংরেজিভাষী এবং মুসলিম, অথচ যুক্তরাষ্ট্র কিংবা তার মিত্র কিংবা তাদের দালালদের কারো হয়ে আসেন নি ২০০১ এর আফগানিস্তান; সুতরাং আল কায়দা না হয়ে উপায় নাই! তাদের দখলদার বাহিনীর হাতে তুলে দেয়া হয়। ২০০২ এর শুরুতে তাদের ডেল্টা বন্দিশালায় ঢোকানো হয়। ছাড়া পান ২০০৪ এর মার্চে। আহমদের বয়স এখন আটাশ।

টিপটনের নিম্নশ্রেনীর আবাসিক এলাকায় নিজের বাড়ির আঙিনায় দাড়িয়ে তিনি জার্মানির বিখ্যাত ম্যাগাজিন ডার স্পিগেলের প্রতিবেদককে বলছিলেন, ‘আমি যখন লোকজনকে বলি সংগীতও জুলুম হতে পারে তখন তারা ভাবে আমার স্ক্রু ঢিলা হয়ে গেছে। লোকজনকে এতো আনন্দ দেয় যে শিল্প সেটা আবার কিভাবে জুলুম হয়? কিন্তু আমার কথা সত্য। আপনি স্বাভাবিক জুলুম সামলে নিতে পারেন, কিন্তু সংগীতের জুলুম সহ্য করা সম্ভব না। জিজ্ঞাসাবাদকারীরা যা শুনতে চেয়েছে তার সবই আমি তাদের বলেছি; যে আমি বিন লাদেন ও মোল্লা ওমরের সাথে দেখা করেছি, আমি তাদের পরিকল্পনা সম্পর্কে জানি। আমি শুধু তাদের বলছিলাম গান থামাতে।’ শুধু গুয়ানতানামোয় না, আফগানিস্তান ইরাক সহ সারা দুনিয়াজুড়ে সিআইএ’র গোপন বন্দিশালাগুলোতে এমন সব শিল্প-অস্ত্র ব্যবহার করে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। পানিতে চুবিয়ে রেখে, ঘুমাতে না দিয়ে, কাঠের ছোট্ট বাক্সে ঢুকিয়ে, কানে ইয়ারফোন লাগিয়ে সর্বোচ্চ স্বরে রক এন রোল এবং হেভি মেটাল গান শুনতে বাধ্য করা হয়েছে বন্দিদের; যেমন বি গিজ গায়কদলের গান ‘স্যাটারডে নাইট ফিভার’।

যেসব গায়ক বা গায়কদলের গান জুলুমের হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করা হয়েছে তাদের খুব কমই এযাবত আপত্তি জানিয়েছেন। সবমিলিয়ে বিষয়টি জানাজানি হবার পর অবশ্য দেশটির ওইসব রক গায়কদের মোটেই বিচলিত মনে হয়নি। বরং অনেককেই মনে হয়েছে যে তারা বিষয়টি গুরুত্ব দেয়ার মতো কিছু মনে করেন না। শুধু একটা গায়কদল- রক গোষ্ঠী রেইজ এগেইনস্ট দ্য মেশিন এর পক্ষে গায়ক টম মোরেলো তাদের তীব্র প্রতিবাদের কথা জানিয়েছেন। অন্যদিকে রক গায়ক ট্রেন্ট রেজনর ও কান্ট্রি সং গায়ক রোজানে ক্যাশ আপত্তি জানিয়েছেন এবং জানতে চেয়েছেন ঠিক কিভাবে তাদের গানকে নির্যাতনের হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করা হয়েছে। অনেকেই আবার তাদের গর্বের কথা জানিয়েছেন। যেমন দুনিয়াজোড়া জনপ্রিয় যুক্তরাষ্ট্রের ভারি বাজনাওয়ালা (হেভি মেটাল) গায়কদল ‘মেটালিকা’র গায়ক জেমস হেটফিল্ড- এই গায়ক জানিয়েছেন ‘জুলুমের হাতিয়ার হিসাবে তার গান ব্যবহৃত হওয়ায় তিনি গর্বিত।’ তবে আরো যাদের গান ব্যবহৃত হয়েছে তাদের অধিকাংশ গায়ক এবং গায়কদল এখনো চুপচাপ। যেমন; এসি/ডিসি, ব্রিটনি স্পিয়ার্স ও নেইল ডায়মন্ড সহ অনেকে।
--------------------------------------------------------------------------------

শিল্পচর্চায় আরো আগ্রহ যাদের আছে
তারা এইখানে ক্লিক করতে পারেন
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/arju007/29081804 http://www.somewhereinblog.net/blog/arju007/29081804 2010-01-19 15:58:26
আপিল বিভাগ যেন এড়িয়ে না যান । ব্যারিস্টার আব্দুল হালিম - (২য় পর্ব) প্রথম পর্ব এইখানে
-----------------------------------------------------------------------------

ইটালিয়ান মার্বেল ওয়ার্কস লিমিটেড বনাম বাংলাদেশ মামলা*
হাইকোর্ট বিভাগের রায়ে বিচারিক নীতির সীমাবদ্ধতা ও সাংবিধানিক অসামঞ্জস্য
আপিল বিভাগ যেন এড়িয়ে না যান


রায়টিতে হাইকোর্ট বিভাগ যে গুরুত্বপূর্ণ মতবাদগুলোর ওপর ভিত্তি করেছেন তা হলো- অসাংবিধানিকতার নীতি, রাষ্ট্রের মৌল কাঠামো নীতি, সাংবিধানিক আলট্রা ভাইরিস তথা জুডিসিয়াল রিভিউ নীতি এবং সংবিধানের অধীনে বিচারপতিদের শপথ গ্রহণের নীতি। এ নীতিগুলোর আওতা, সীমা-পরিসীমা রয়েছে এবং ক্ষেত্র বিশেষে তাদের ব্যবহারে উপমহাদেশের বিচারকদের মধ্যে মতদ্বৈদতাও রয়েছে প্রচুর। রায়ে ব্যবহৃত নীতিগুলোর সীমাবদ্ধতা এবং সাংবিধানিক অসামঞ্জস্যতার খুব সামান্য অংশ আমরা গত সপ্তাহে তুলে ধরছি এই পর্যালোচনাটিতে (রিভিউ অফ জাজমেন্ট)।
আজ দ্বিতীয় পর্ব

লিখেছেন ব্যারিস্টার আব্দুল হালিম **

বিস্তারিত পড়বার জন্য এই লিংকে ক্লিক করুন

পরবর্তীতে মঙ্গলবারে একই সাইটে রায়টির আরো কিছু মৌলিক দুর্বলতা তুলে ধরা হবে।

-------------------------------------------------------------------------
* সংবাদ মাধ্যমের সুবাদে 'পঞ্চম সংশোধনী মামলা' হিসাবে খ্যাত।

**ব্যারিস্টার আব্দুল হালিম : সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এবং বাংলাদেশে ল জাস্টিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটসের ওপর ১৮ টির বেশি ইউনিভার্সিটি পর্যায়ের টেক্টটবুকের প্রণেতা। তিনি একই বই বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভাষায় লেখেন সাধারনত।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/arju007/29077054 http://www.somewhereinblog.net/blog/arju007/29077054 2010-01-12 15:37:31
আপিল বিভাগ যেন এড়িয়ে না যান । ব্যারিস্টার আব্দুল হালিম ইটালিয়ান মার্বেল ওয়ার্কস লিমিটেড বনাম বাংলাদেশ মামলা*
হাইকোর্ট বিভাগের রায়ে বিচারিক নীতির সীমাবদ্ধতা ও সাংবিধানিক অসামঞ্জস্য
আপিল বিভাগ যেন এড়িয়ে না যান

সন্দেহ নেই; রায়টিতে বহু গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক ইস্যু এবং মতবাদের আশ্রয় নেয়া হয়েছে যার চূড়ান্ত বিশ্লেষণ আপিল বিভাগ না করলে রায়টি অনেক ক্ষেত্রে সাংবিধানিক ভারসাম্যহীনতার সৃষ্টি করবে। রায়টির মাধ্যমে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট থেকে শুরু করে ১৯৭৯ সালের এপ্রিল পর্যন্ত বিচারপতি সায়েম, খন্দকার মোস্তাক এবং জিয়াউর রহমান কর্তৃক ঘোষিত মার্শাল ল’সহ অন্যান্য সব কর্মকান্ড অবৈধ ঘোষণা করা হয়। আবার অবৈধ ঘোষণা করার সঙ্গে সঙ্গে স্টেট নেসেসিটি মতবাদের আওতায় এনে তৎকালীন সময়ের কিছু কিছু কাজকে মার্জনা করা হয়েছে। ২৪২ পাতার রায়টিতে আদালত যে গুরুত্বপূর্ণ মতবাদগুলোর ওপর ভিত্তি করেছেন তা হলো, আমাদের পর্যবেক্ষন অনুযায়ি- অসাংবিধানিকতার নীতি, রাষ্ট্রের মৌল কাঠামো নীতি, সাংবিধানিক আলট্রা ভাইরিস তথা জুডিশিয়াল রিভিউ নীতি এবং সংবিধানের অধীনে বিচারপতিদের শপথ গ্রহণের নীতি। এ নীতিগুলোর আওতা, সীমা-পরিসীমা রয়েছে এবং ক্ষেত্র বিশেষে তাদের ব্যবহারে উপমহাদেশের বিচারকদের মধ্যে মতদ্বৈততাও রয়েছে প্রচুর। রায়টিতে ব্যবহৃত নীতিগুলোর সীমাবদ্ধতা এবং সাংবিধানিক অসামঞ্জস্যতা রয়েছে প্রচুর, তার খুব সামান্য অংশ তুলে ধরা হয়েছে এই পর্যালোচনাটিতে (রিভিউ অফ জাজমেন্ট)-

লিখেছেন ব্যারিস্টার আব্দুল হালিম **

বিস্তারিত পড়বার জন্য
পড়বার জন্য এই লিংকে ক্লিক করুন

পরবর্তীতে মঙ্গলবারে একই সাইটে রায়টির আরো কিছু মৌলিক দুর্বলতা তুলে ধরা হবে।

-------------------------------------------------------------------------
* সংবাদ মাধ্যমের সুবাদে 'পঞ্চম সংশোধনী মামলা' হিসাবে খ্যাত।

**ব্যারিস্টার আব্দুল হালিম : সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এবং বাংলাদেশে ল জাস্টিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটসের ওপর ১৮ টির বেশি ইউনিভার্সিটি পর্যায়ের টেক্টটবুকের প্রণেতা। তিনি একই বই বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভাষায় লেখেন সাধারনত।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/arju007/29072310 http://www.somewhereinblog.net/blog/arju007/29072310 2010-01-05 15:28:38
অবশেষে ন্যায়বিচার হইছে এবং সেইটা দেখাও যাইতেছে । আমরা সব রাষ্ট্রবিরোধী হত্যাকান্ডের ন্যায় বিচার চাই অবশেষে ন্যায়বিচার হইছে এবং সেইটা দেখাও যাইতেছে

এক.
ন্যায় বিচারের অনিবার্য খাসলত হইলো- বিচার শুধু হইলেই চলবো না, বিচার যে হইছে সেইটা দেখানও লাগবো। (জাস্টিস অলসো বি সিন দ্যাট জাস্টিস ইজ ডান।)
যতটুকুন বুঝছি- এই মামলার ক্ষেত্রে দুইটাই হইছে। গ্রেট জব।

দুই.
যে অভিযুক্ত তার জন্য ন্যায় বিচার হইলো; সে যে অভিযুক্ত না, এইটা প্রমানের জন্য তারে সব সুযোগ দিতে হইবো- সেইটা দেয়া হইছে।

তিন.
যে অপরাধের শিকার তার জন্য ন্যায় বিচার হইলো; যে প্রকৃত অপরাধী তাদের প্রত্যেকের অপরাধের পরিমান কিংবা তীব্রতা অনুযায়ি যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করা- সেইটা পুরোপুরি হইছে বইলা মনে হয় না।
মুশকিল যেইটা ঘটছে তা হইলো- (যাদের মৃত্যুদন্ডাদেশ বহাল রাখা হইছে তারা সবাই নিসন্দেহে 'অপরাধী' হিসেবে আদালতের কাছে 'প্রকৃত')। শাস্তিপ্রাপ্তরা ঘটনায় সরাসরি জড়িত। কিন্তু ঘটনার সার্বিক ঘটনে, সব সংগঠনকারীরা নিশ্চয় আইনের মধ্যে আসেন নাই।
তখনকার আর্মির দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা এই দন্ডার্হ্য নরহত্যার, কালাপাবল হোমিসাইডের দায়, এড়াতে পারেন না।


আমরা সব রাষ্ট্রবিরোধী হত্যাকান্ডের ন্যায় বিচার চাই

আমরা একাত্তরে নিজেগো রাষ্ট্র কায়েমের জন্য লড়ছি, স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র। যুদ্ধ জিতছি। রাষ্ট্রে আমরা সবাই নাগরিক হইছি। নিজেগো মইধ্যকার বিবাদ, এবং নিজেদেরই বানানো রাষ্ট্রের সাথে বিবাদ মেটানোর জন্য আদালত বানাইছি। যদি আপনে মনে করেন আমি আপনের ওপর অপরাধ করছি- তাইলে আদালতের কাছে যান, বিবাদ মেটানোর কাজ ওইখানে হয়, সেইটা আপনে নিজে করতে পারেন না। রাষ্ট্ররে দেখভাল করার দায়িত্ব যারে দিছি, সেই সরকার যদি মনে কারে আমি-আপনি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অপরাধ করছি, তাইলে সেও তার শাস্তি দিতে পারে না, আদালতের কাছে যাওয়া হইলো নিয়ম।

কিন্তু বাংলাদেশ, আমার দ্যাশ, শুরু থেইকাই এই নিয়ম মানে নাই। সে নিজেই আদালত হয়া উঠছে। আদালতের বিকল্প রক্ষীবাহীনি বানাইছে। হাজারে হাজারে আপনারে আমারে ধইরা মৃত্যুদন্ড দিয়া ফেলাইছে। রক্ষীবাহীনি যাওয়ার পর সেনারা আদালতের দায়িত্ব নিছে। পুলিশরেও এই দায়িত্ব দিছে। সবশেষে র‌্যাব বানাইছে। কিন্তু আদালত কিছু কয় নাই।

এক.
এই প্রথম দেখলাম আদালত কইছে, কাজ করছে। রক্ষীবাহীনি কর্তৃক হাজার হাজার হত্যাকান্ড দেইখা যে আদালত কিছু কয় নাই, বাংলাদেশের প্রথম সরকারপ্রধানরে দেশেরই সেনাবাহীনি হত্যা করার পরে যে আদালত অনুমোদন দিছে, বিচার আচারের জন্য আদালতে না আইনা মানুষ হত্যা করার অপরাধে সেনা-পুলিশ-র‌্যাবরে কখনো যেই আদালত কিছু কয় নাই, সেই আদালত গত ১৭ নভেম্বর কাজ করছে, আদালতের মতো কাজ!
১৫ তারিখ রাইতে মাদারীপুরে দুই ভাইরে গুলি কইরা মাইরা ফালাইছে র‌্যাব, আদালত র‌্যাব এর বিরুদ্ধে বিচার কাজ শুরু করছে, নিজে নিজেই। সুয়েমোটো রুল জারি কইরা হাইকোর্ট বিভাগ তাগোর কাছে জবাব চাইছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে এইটা প্রথম। আদালতরে আমরা বলতে চাই- আগায়া যান। আমার দ্যাশ যেভাবে নিজের ন্যায্যতা হারাইতাছে সেইটা কিছুটা হইলেও ঠেকান।

দুই.
এবং বাংলাদেশের ইতিহাসে আইজ, ১৯ নভেম্বর, আরেকটা প্রথম ঘটনা ঘটছে। বিচারবহির্ভূত তো বটেই, রাজনৈতিক হত্যাকান্ড প্রধানত, দেশের প্রধান রাজনৈতিক হত্যাকান্ডের বিচার হইছে। নাগরিক হিসাবে (যে নাগরিক রাষ্ট্র বানায় এবং বানায় পারস্পরিক এবং রাষ্ট্রের সাথে সম্র্পকিত- দুই ধরনের বিবাদ মেটানোর কাজ আদালতের হাতে সোপর্দ কইরা দিয়া) আজ আমার-আপনার মহা আনন্দের দিন, শুকরিয়ার দিন। আদালতরে আমরা শুকরিয়া জানাই। জানাই আইনজীবীদেরও।

তিন.
এখনো বাদ আছে রক্ষীবাহীনি আর র‌্যাব। মাঝখানে সেনা পুলিশের বিশাল হত্যাকান্ডের তালিকা তো আছেই। তখন আমারে আপনারে যেভাবে হাজারে হাজারে মারা হইছিল, যেসব বিচারবহির্ভূত এবং যেগুলোর অধিকাংশই রাজনৈতিক হত্যাকান্ড ঘটানো হইছিল সেগুলোরও ন্যায়বিচার চাই, মাননীয় আদালত!

কারন এমন বিচার বহির্ভূত এবং রাজনৈতিক হত্যাকান্ড যদি রাষ্ট্র নিজে ঘটায় তবে যে চুক্তি কইরা এই ভূখন্ড রাষ্ট্র হইছে আর আমি নাগরিক হইছি- সেইটা লংঘিত হয়। রাষ্ট্র অন্যায্য হইয়া যায়। আমরা সেইটা চাইনা।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/arju007/29046134 http://www.somewhereinblog.net/blog/arju007/29046134 2009-11-19 14:46:23
লালন ঘরের জ্যান্তে মরা ফকির আব্দুর রব, শিষ্যদের রব সাঁইজি আর ভক্তকূলের লবান শাহ এবং এই মুর্খের ‘মানুষ’ এর স্মরনে শিরোনামের মানুষটা মারা গেছেন। এইটা বললে মিথ্যা বলা হয়।
তাইলে কি বললে পরে আমরা; বাংলার ভাব-দর্শনের থেকে বহুদুরে বাস করা মানুষেরা বুঝবো।
সেইটা তালাশ করতেই আমার এক বন্ধু আমারে নিয়া গেছলেন নদিয়ায়। এর আগেও গেছলাম তবে অফিসের কাজে। বাংলালিংক কিংবা গ্রামীণফোনের বাউল উৎসবে। ছেউরিয়ায় সুতরাং অনেকবার যাওয়ার পরেও তখন লালনের নদিয়ায় যাওয়া হয় নাই।
এবারো গেছলাম আমরা নদিয়ায়। কি মহিমা করলেন গো সাঁইজি। বোঝা গেলনা। তবুও গেছলাম।
-----------------------------------------------------------------------------

সাধুর তিরোধানে আমার প্রথম যা স্মৃতিতে আসলো সেইটা হইলো-
‘তুই তো মুর্খ রে!’
আমার উৎসুক মুখের ওপর সাধুগুরুর ছুড়ে দেয়া মন্তব্য ছিল ওইটা। তখন তার সাক্ষাত নিতে প্রথমবারের মতো আমি তার সামনে বসছিলাম। গতবারের দোল উৎসবে।

আমার ভালো লাগে নাই। আমি ভাবছিলাম; উনি কথাবার্তা শুরু করার আগেই আমারে আমার নিজের কাছে খাটো কইরা রাখতে চান- যেহেতু উনি আমার চাইতে মহান মানুষ, সংসারত্যাগী মানুষ, তিনি অনেক সাধনা করছেন সেইটা মনে করাইয়া দিয়া আমারে অধমের অধমের তস্য মুর্খ বানাইয়া এইভাবে কথা শুরু করতে সুবিধা- আমি যাতে মনে মনে তার চরনে নত নাখান্দা নালায়েক ভক্ত হয়া কথা শুনি।

সুতরাং শুধু খারাপ লাগা না, সেই সাথে চুপসে যাওয়া মনটা নিয়া চুপ কইরা গেলাম। সাধু বলতেই থাকলেন- ‘মুখস্থ কইরা কইরা তোরা সব মুর্খ হচ্ছিস। বইতে কি জ্ঞান থাকেরে! জানারে কি জ্ঞান কয়রে! যার জ্ঞান চাস তার মধ্যে ডুব দিতে হবে’। সাথে তানিম ভাই ছিল। ভাইজান কি মনে কইরা মিটিমিটি হাসতাছিল। আমি চেহারা থেকে মন খারাপের ছাপ দূর কইরা একটা নির্বিকার চেহারা তৈয়ার করার চেষ্টা করতেছিলাম। পাশ থেকে সাধুর পূর্ব পরিচিত আমাদের বন্ধু একজন তানিম ভাইকে দেখাইয়া বললো- উনি কিন্তু অনেক জ্ঞানী মানুষ সাঁইজি, জার্মানি থেইকা অনেক পাসটাস কইরা আসছে। সাধু তানিম ভায়ের দিকে না তাকাইয়া কেবল আঙ্গুল তার দিকে উঠাইয়া কয়- তাইলে এদের মধ্যে তুই হইলি মহামুর্খ। দেখলাম, ভাইজানের মন খারাপ হয় নাই। বরং সে আরো বেশি হাসতাছে। তারপর তানিম ভায়ের সাথে সাধুর দীর্ঘক্ষন ধইরা দার্শনিক তর্ক হইলো। ম্যালা কথা, বিশাল কাহীনি। সেই কথা কইয়া কাজ নাই এইখানে।

আমারে মুর্খ বলার শানে নুযুল কই। আমি জিগাইছিলাম- ‘আচ্ছা আপনার কি মনে হয়, এই সময়ে আইসা কেউ একজন আপনার বয়সে সাধু হইতে চাইবে কেন? মানে আপনে যেই বয়সে দীক্ষা নিছিলেন।’ এই প্রশ্নের প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া হিশাবে আমার মুর্খতার ব্যাপারে নিশ্চয় ঘোষনা দিয়া তিনি কথা শুরু করলেন। স্মৃতি থেইকা যতটুকু মনে করতে পারি সেইগুলান ছিলো অনেকটা এরকম;
তোরে কি আমি সাধু হইতে কইছি? এমনকি তোরে কি আমি এহানে ডাইকা নিয়া আসছি? তুই আসছস ক্যা? (আখড়াবাড়ীর পাশে লালন একাডেমী ওরফে গ্রামীণ ফোনের মেলার দিকে আঙুল তুইলা) ডাকাডাকি তো করে ওরা। যা ওদিকে যা। বাউল দেইখা আয়। লালন দেখতে আসছিস, দ্যাখ। ওদের প্রশ্ন কর। দেখবি মজা পাবি। কত সাধন পথের কথা কইবো। তোরা তো ওগুলোতে মজা পাস। তাইলে এদিকে আসো ক্যান? জানলেই কি সাধু হওয়া যায়? নেংটি পড়লেই সাধন হয়? তাহলে আমি সত্তর বছর বসে রইলাম কেনো? জীবন দেখে দেখে তোরা জীবন মুখস্থ করিস। জীবনে তো ডুব দিতে জানিস তা। তাহলে কি হলো! সাধুর জীবন তো দূরের কথা। নিজের জীবনও পাবি না। যে যেই জীবন চায়, সেই জীবনের সন্ধানে ডুব দিতে হয়। আমি কি জানি আমি নিজেই পারলাম কি না!

আমি ধরতে পারলাম ততক্ষনে। আমার অজ্ঞানতার ঘোষনা দেয়ার জন্য নয়। আমার প্রশ্নের জবাব দেয়ার জন্যই সাধু তথ্য-জ্ঞান আর মুর্খতার বয়ান দিলেন। মুর্খ আমি নিজের ওপর তথ্যভারাক্রান্ততার স্বীকৃতি পাইয়া আনন্দিত হইলাম!

তারপর নিজের কথা বললেন জ্যান্তে মরা ফকির আব্দুর রব, শিষ্যদের রব সাঁইজি আর ভক্তকূলের লবান শাহ। পরের তিনদিনও আসরে গান আর আসরের পেছনে অনেক কথা হলো। তবে আমি আর কখনো প্রশ্ন করিনি। একবারও না। কেবল শুনেছি। এবার লালন তিরোধান উৎসবেও আমি শুধু শুনেছি। নিজের মরমের মধ্যে ধরতে পেরেছি কি না জানিনা। যে মানুষটি ছিয়াশি বছরের জীবনে সত্তর বছর কাটিয়ে দিলেন জ্যান্তে মরা হয়ে তারে আবার প্রশ্ন করতে হবে কেন? তিনি তার ডুব সাতারের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থেকে যেটুকু জল-ঝাপটা তুলে দেবেন আমাদের জন্য সেটুকুটুই যথেষ্ট। সাধুর এবং তার এক ছেলে’র (শিষ্য) কাছ থেকে নদিয়া আর তার ভাব-বিপ্লবের বয়ান শুনে মরমে ধরার চেষ্টা করছি শুধু। মানুষ-জীবন-পৃথিবী-জীবনের ওপারের জীবন সর্ম্পকে লোকপ্রিয় সব ধারণাকে নদিয়া’র নিত্যানন্দ থেকে লালন আর রব সাইজির মতো লালন শিষ্যরা যেভাবে বাতিল করেছেন তা অবাক করার মতো। অথচ সবই তারা করেছেন অসম্ভব লোকপ্রিয় সব প্রচলিত ধারণা আর কাহীনির আশ্রয় নিয়ে। সবচেয়ে বড়ো করে তুলেছেন মানুষকে। মানুষের ভেতরে যে পরম শুভ আছে, তারে প্রধান করে তোলার উপায় বাতলেছেন। মানুষের ওপরে থাকা আল্লাকে মানুষের ভেতরে নিয়ে এসেছেন। সবচেয়ে বড়ো কথা হলো- মানুষ আর প্রকৃতি আলাদা করেননি তারা। কথা আর জীবনাচারে ফারাক করেননি।

এবারের লালন তিরোধান উৎসবে শেষদিন আসরে তিনি সবশেষে কথা বলছিলেন, গান গাইছিলেন নবপ্রাণ আখড়াবাড়ীতে। আমি ভক্ত-শ্রোতাদের একদম পেছনে সেই ডুমুর গাছটির গোড়ায় বসছিলাম। বলছিলেন- আমি যদি আমার মধ্যে আমার পরম’রে না পাই তবে সাধনার কি হবে? আমি যদি আমার আল্লার সাথে এক হতে না পারি তবে সাধনায় কি ফল? আল্লা আর মানুষ মিলে এক না হলে তো শান্তি হবে না। সে চেষ্টাই তো করে যাচ্ছি।

সাধুর সেই চেষ্টা এবার আমাদের চোখের সামনে থেকে আড়াল হয়ে গেল। দশকের পর দশক জীবিত থেকেও যে পরম মানুষের জীবন যাপন করেছেন তার তিরোধান ঘটলো আমাদের সময়ের মধ্য থেকে।
-----------------------------------------------------------------------------

এই পোস্টটা আসলে নদিয়া-লালন-লালনের ঘরের সাধনা বিষয়ে আমার ব্যক্তিগত অনুভব-অভিজ্ঞতার অতি ক্ষুদ্রাংশ। কিছুই ব্যাখ্যা করতে পারি নাই।

যে কাজটা এইখানে একজন করেছেন চমৎকার ভাবে। দেখতে পারেন।

আমাদের আর বর্ণ ও অক্ষরের জ্ঞান পাওয়া হলো না: চলে গেলেন ভাবান্দোলনের উজ্বল সাধক লবান শাহ
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/arju007/29033963 http://www.somewhereinblog.net/blog/arju007/29033963 2009-10-29 13:00:22
একটি চিরায়ত পোস্ট : সামু যদি সরকার না হয় তাইলে পোস্ট গেলো কই আর সামু যদি সরকার হয় তাইলে সামু...
যে কোনো সিরিয়াস বিষয় নিয়া লিখতে গেলে তারমতে প্রথম লাইনখানা মহাগুরুত্বপূর্ন। প্রথম লাইনখানা যদি লাগসই হয় তবে পুরা লেখাই উতরাইয়া যায়। তখন আমরা নোট নিছিলাম যে, বারো রকম ভাবে নাকি প্রথম লাইন শুরু করন যায়। তার একটা হৈলো কৌতুক। কিন্তু আগেই যেমন কইছি- এর সুবিধার মতো বিপদও ভয়াবহ। পাঠক নাকি সিরিয়াস বিষয়ের শুরুতে জোকস টোকস দেইখা লেখকরে ননসেন্স কইয়া অন্য লেখায় মনোযোগ দিতে পারে। অথবা- দেখছো! কি সিরিয়াস বিষয় অথছ কি হালকা চালে শুরু কর্ছে- কইয়া লেখার মধ্যে ডুবতে পারে।

আমার এই পোস্টের বিষয় জননিরাপত্তা। সুতরাং অতীব সিরিয়াস বিষয়। কিন্তু আমি রিস্ক নিতে চাইনা। সুতরাং আমি কৌতুক দিয়া শুরু করুম না। তাছাড়া কৌতুকডা ভয়াবহরকমভাবে প্রাপ্তবয়স্ক। দুই অর্থে বহুত বয়স্ক মানে পুরানা কৌতুক আবার বয়স্ক লুকজন সাধারনত এইসব কৌতুক শুইনা আরাম বোধ করে। কিন্তু সামহোয়ারের এখনো আঠারো বছর বয়স হয় নাই। সুতরাং সামুরে উদ্দেশ্য কইরা এই কৌতুক কওন যাইতো না।

আমি বরং সিরিয়াস কতাডাই কই-
সরকার যা কিছু হুমকি মনে করে, নিষিদ্ধ করে; ব্লগও যদি সেইটারে হুমকি মনে কইরা নিষিদ্ধ করে তাইলে ব্লগটা গেলো কই?

সামু যদি সরকারি নীতিমালা-ই অনুসরন করবো তো তাইলে আর সামু কি কইরা সামু হয়?।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/arju007/29032169 http://www.somewhereinblog.net/blog/arju007/29032169 2009-10-26 14:44:21
দুই বিচারকের অবৈধ অপসারন: দায সরকারেরর তরফে প্রধানমন্ত্রী ও আইনমন্ত্রনালযের, নীলকন্ঠ সচিবের নয
যদিও অধঃস্তন আদালতের বিচারকরা নিজেদের দাবি-দাওয়া নিয়ে প্রধান বিচারপতির বদলে আইনমন্ত্রীর কাছে গিয়ে নিজেদের স্বাধীনতাবোধকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন, একইভাবে তারা অসাংবিধানিক ও অবৈধ আদেশের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আদালতে না গিয়ে আপস করে নিজেদের প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতার ওপর সুবিচার করেননি। (যদি প্রধানমন্ত্রীর দাওযাতে যমুনায যাওযার আগেও দুই বিচারকের একজন যমুনরাই পেছেনে অন্য আরেক বিচারকের সরকারি বাসভবনে বসে আমাকে বলেছিলেন যে তারা আদালতে যাবেন।) কিন্তু প্রধানমন্ত্রির সাথে দেখা হওযার পর তারা মত পাল্টালেন। সর্বোচ্চ আদালত হিসেবে সুপ্রিমকোর্ট নিজেও স্বেচ্ছাপ্রণোদিত প্রতিকারে উদ্যোগী হতে পারতো। কারণ, সর্বোচ্চ আদালতকে পাশ কাটিয়েই সরকার সিদ্ধান্তটি নিয়েছিল। তারাও সেটা করেনি। সুতরাং বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ওপর সরকারের একটি অবৈধ হস্তক্ষেপ আইনগত প্রতিকারবিহীন রয়ে গেল।

অবশ্য আইনসভার প্রতিষ্ঠান হিসেবে সংসদীয় কমিটি ঠিক কাজটি করতে পারতো, যেটি তারা করতে গিয়েও করেনি। বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে, আইন মন্ত্রণালয়ের সচিবের উদ্যোগে রাষ্ট্রপতি বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করার জন্য সংবিধান লঙ্ঘনের যে দুঃখজনক নজির স্থাপন করলেন সে বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের দায়-দায়িত্বের বিষয়ে জবাবদিহি করার জন্য সংশ্লিষ্ট তিনজনকে ডেকে পাঠানো হলো। মন্ত্রণালয়ের প্রধান হিসেবে যাকে জবাবদিহিতার মুখোমুখি করা সবচেয়ে স্বাভাবিক উদ্যোগ ছিল, সেই দায়িত্বপ্রাপ্ত আইনমন্ত্রীকে তলবীদের তালিকা থেকে বাদ দেয়া হলো। মনে রাখা জরুরি যে- আইনমন্ত্রনালেযর আনুষ্ঠানিক সম্মতিসুচক সিদ্ধান্ত ছাড়া প্রধানমন্ত্রী ওই মন্ত্রনালযের এমন কোনো আদেশই প্রজ্ঞাপন হিসেবে জারি করার জন্য রাষ্ট্রপতিকে 'পরামর্শ' (পড়ুন- নির্দেশ) দিতে পারেন না। এবং মন্ত্রনালয়ের প্রধান হলেন মন্ত্রী, সচিব নন। আইনমন্ত্রীর সম্মতিতেই সবকিছু হয়েছিল।
প্রকাশ্যেই মন্ত্রী ওই সিদ্ধান্তের সাফাই করে কথাবার্তা বলেছিলেন প্রচুর।
আইনমন্ত্রী দি পাবলিক সার্ভেন্ট রিটায়ারমেন্ট অ্যাক্ট ১৯৭৪ কিংবা বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (সার্ভিস গঠন, সার্ভিস পদে নিয়োগ এবং সাময়িক বরখাস্তকরণ, বরখাস্তকরণ ও অপসারণ) বিধিমালা ২০০৭-এর প্রসঙ্গে কিছু না বলে আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ আমাদের সামনে প্রজ্ঞাপনের উল্টো ব্যাখ্যা দিলেন। তিনি বললেন, এটা কোনো শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা নয়। তিনি বললেনÑ ‘সংবিধান সর্বোচ্চ আইন। রাষ্ট্রপতি সংবিধানের অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এ ব্যবস্থা নিয়েছেন। সংবিধান অনুযায়ী কোনো ব্যবস্থা নেয়া হলে অন্য আইন বা বিধিবিধানে যা কিছুই থাক না কেন, তা প্রযোজ্য হয় না। কারণ সংবিধান সবকিছুর ওপরে।’ সংবিধানকে সর্বোচ্চ, সবকিছুর ওপরে জায়গা দিতে এতো তড়িঘড়ি আগ্রহ যে আইনমন্ত্রীর তিনি সম্ভবত ভুলে গিয়েছিলেন যে, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে এরকম কোনো সুযোগ নেই যাতে রাষ্ট্রপতি চাইলেও কোনো বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তার ব্যাপারে একাই কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। অধঃস্তন আদালতসমূহের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা বিষয়ে রাষ্ট্রপতি যাই করুন না কেন তা সুপ্রিমকোর্টের সঙ্গে পরামর্শক্রমে করতে হবে। খুব সম্ভবত আইনমন্ত্রী ১৯৭৫-এ একদলীয় সরকার ব্যবস্থা চালুর সময়ে চতুর্থবারের মতো সংশোধিত সংবিধানের কথা মাথায় রেখে কথা বলছিলেন। বর্তমান সংবিধানে এরকম কোনো সুযোগ নেই।

অথচ প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং এমনতরো সিদ্ধান্ত নিতে আইন মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং রাষ্ট্রপতিকে দিয়ে প্রজ্ঞাপনে সই করিয়েছিলেন। ‘সরকারি সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সচিবালয়ে উপস্থিত ছিলেন। তিনি ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আইন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেন। (দৈনিক প্রথম আলো ৩১ জুলাই ২০০৯)।’ অর্থাত প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিলে পরে বিচার বিভাগের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিকভাবে দুই পাযে খাড়া বর্তমান আইনসচিব অপসারন করার কাগজপত্র তৈযার করে প্রধানমন্ত্রির কাছে পাঠিযেছিলেন। এবং পুরো প্রক্রিযার পেছন প্রত্যক্ষভাবে প্রধানমন্ত্রীর এক উপদেষ্টা ও সংস্থাপন সচিব ছিলেন। কিন্তু এর কোনোটিই মন্ত্রনালযের দাযিত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীর সম্মতি ছাড়া চুড়ান্ত হতে পারে না।

সুতরাং এইখানে যাদের তলব করে সংসদীয কমিটিতে শুনানি করা দরকার ছিল তাদের একজন হতে পারতেন আইন সচিব, কিন্তু হলেন একমাত্রজন । প্রধানমন্ত্রি ও আইনমন্ত্রীকে সংসদীয় কমিটি তো ডাকলোই না। বরং আইন সচিবের কাছ থেকে সব দায়ের স্বীকৃতি নিয়ে প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও সংস্থাপন সচিবকেও শুনানি থেকে রেহাই দেয়া হলো। বেচারা সচিব সব বিষ একাই পান করে নীলকন্ঠ হযে রইলেন।

এবং সরকার প্রধানের আরো একটি স্বেচ্ছাচারিতা প্রতিকারবিহীন হযে রইলো।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/arju007/29010967 http://www.somewhereinblog.net/blog/arju007/29010967 2009-09-15 17:13:44
চৈত্র সংক্রান্তি বাঁচলেই কেবল শুভ হবে পহেলা বৈশাখ । এবং পান্তার মঞ্চওয়ালারা চৈত্র সংক্রান্তি বাঁচাবে না। আমাদের বলতে দুর্ভাগ্যক্রমে আলাদা হয়ে যাওয়া দুই বাংলাকেই বোঝানো হচ্ছে) কোনো কালচার আছিলো না। তাহাদের মতে আমাদের আছিলো শুধু এগ্রিকালচার। ব্রিটিশ উপনিবেশী সাহেবদের দেখাদেখি ওইপাড়ে এবং এইপারেও বাবুদের কালচার চালু হইলো। এবং আমাদের এগ্রিকালচার এর ৩৬০ ডিগ্রী বিপরীত মেরুতে। এগ্রেরিয়ান কালচারের, কৃষি সংস্কৃতির বিপরীতে সাহেবদের চাকর-নফরদের নন্দনবাগান। সে যাউকগা, এখন আইজকার কথাই কই।
-------------------------------------------------------

আইজ চৈত্র সংক্রান্তি। সুতরাং কাইল পহেলা বৈশাখ কিংবা অন্য যা কিছুই হোক তাতে কিছু আসে যায় না। বাংলার নিজস্ব সংস্কৃতি, কৃষি সংস্কৃতি'র মধ্যে কৃষির জীবনযাত্রার মধ্যে চৈত্র সংক্রান্তি হইলো জীবনমানের মানদন্ড। এইটা মাপজোখ কইরা আমাগোরে জানান দেয় যে; তোমাদের জীবনমান ঠিক আছে। আগামী মাসের প্রথম দিনে, বিশাখা নক্ষত্রের রেখায়, রাশিতে যখন সূর্য তার জায়গা নিবো, সেই পহেলা বৈশাখের বর্ষ তোমাদের জন্য শুভ হইবো যদি আমি চৈত্র সংক্রান্তি আমার স্বরুপে থাকতে পারি, শুভাবস্থায় থাকতে পারি।

সুতরাং সংক্রান্তি নিজে কোনো উদযাপন এর দিন নয়। সংক্রান্তি উদযাপন এর লক্ষ্য। কৃষি-প্রাণ-প্রকৃতি আমাদের ঠিক আছে কি না, সেইটা খেয়াল কইরা আগামী বর্ষে প্রবেশের উদযাপন। এই ঠিক আছে কি না, সেইটা আমাদের কিভাবে বুঝায় চৈত্র সংক্রান্তি?

মোটামুটি সংক্রান্তি'র আচার ইত্যাদি সারাদেশে এইরকম; চৈত্র সংক্রান্তিতে সারা রাত্রি পাড়ায় পাড়ায় কীর্তন হতো। নগর কীর্তন। বাংলার দেবতা, অনার্য দেবতা শিব-পার্বতীরও বটে। ঘরদোর লেপা পোছা থাকতো। গোয়ালঘরও। সকালে গোয়াল থেকে গরুগুলোকে বের করে গোসল করানো হতো। দুপুরে রান্নাবান্না। আমিষ ছিলো নিষিদ্ধ। অবশ্য কেউ করলে শুধু জিয়ল মাছ যেমন কই-শিং-মাগুরের ঝোল করতো। নিরামিষ শাক সবজি’র সাথে সাততিতে রান্না করা হতো। সবচেয়ে অনিবার্য হইলো ব্রত পালন। সারা চৈত্র মাস জুইড়া নারী'রা ব্রত পালন করতো।(দু:খজনকভাবে বাংলাপিডিয়া এইটারে হিন্দুর উৎসব লেখছে)। কৃষিজীবনের নারীর নিজস্ব সংস্কৃতাচার এই ব্রত। আমিষ নিষিদ্ধ ব্রতকালীন সময়ে। স্বামী সংসারের কৃষির ব্যবসার শুভ কামনা করে ব্রত পালন। আলানে পালানে কুড়িয়ে পাওয়া শাক খাওয়া হইতো এই সময়। এই চাষ না করা, কুড়িয়ে পাওয়া শাক যদি আলানে পালানে ক্ষেতে বাগানে পাওয়া যায় তবে বুঝতে হবে সারা বছরের কৃষি ঠিক ছিলো। সারা বছরের কৃষি মানুষসহ সব প্রাণ এর, চারপাশের প্রকৃতির আপন ছিলো। সুতরাং আগামী বর্ষে প্রবেশ শুভ, পহেলা বৈশাখ শুভ।

আমাদের আগামী পহেলা বৈশাখ কি শুভ? না। কারন এখন আর চৈত্র সংক্রান্তির ব্রত পালনে নারীরা উপায় উপকরণ খুজে পায়না। আমরা ক্রমাগত ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফুড প্রডাকশনের বিষের দিকে যাচ্ছি, প্রাণ ও প্রকৃতির কৃষি ছেড়ে। আমাদের মাটি নষ্ট করে কেএফসি'র দিকে ঝুকছি। আমরা আমাদের সবই ছিলো কৃষিভিত্তিক জীবনযাত্রার সাথে সম্পৃক্ত। নানা ঋতুতে নানা রকম শষ্য-শাক-সবজি-ফল-মাছ ইত্যাদি। এবং এই বিভিন্ন রকম কৃষি ফসলাদি ও বিভিন্ন ঋতুর আবহাওয়া বৈশিষ্ট্যের ওপর ভর করে পাল্টে যেতো উৎসবাদিও ধরন, আচার-অনুষ্ঠান। হঠাৎ-ই সব পাল্টে যেতে লাগলো, খুব দ্রুত। দেশে অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠলো হাইব্রীড বীজ আর সবশেষে জিএম বীজ-শস্য। ঋতুর কোনো বাছবিচার নাই। যখন যা ইচ্ছা সে বীজ দেয়া হচ্ছে জমিতে, সাথে প্রাণবিনাশী সার কীটনাশক। এমনকি আগন্তুক সব শস্য ফল ফসল জোর করে গছিয়ে দেয়া হচ্ছে । এমনকি প্রাণ ও। হাইব্রীড পশু পাখি। নষ্ট হচ্ছে আমাদের চিরচেনা প্রকৃতি প্রাণ পরিবেশ। অথচ এসব যারা করছেন আধুনিক কৃষির নামে। খাদ্য নিরাপত্তার নামে। তারা’ই আবার পহেলা বৈশাখ পালনের ধূম করছেন। হৈ হুল্লোড়ের কনসার্ট করছেন। চাষাভূষোর দেশে রবীন্দ্র সংগীত করছেন। কৃষির গান আর পুথির জায়গা নাই। কোথাকার ভুয়োমি'র পান্তা ইলিশ আমদানী করছেন। বাচ্চা ইলিশ, জাটকা ইলিশের প্রাণবিনাশী উৎসব। কৃষির জীবনে সংক্রান্তির নিয়মে থাকা গাছের নিরামিষ এর জায়গা নাই, বাবু কালচারের বৈশাখে।

যে বাংলা দীর্ঘ কৃষি জীবনের ইতিহাসের মধ্যে থেকে উঠে এসেছে সে এসবের সাথে জুড়তে পারেনা নিজেকে। কারন এসবই প্রকৃতির সাথে মানুষের সম্পর্ককে অস্বীকার করে। যে সম্পর্কের আচার আমরা দেখি চৈত্র সংক্রান্তির আচার অনুষ্ঠানে। সুতরাং আমরা চাই পহেলা বৈশাখ এর হৈ হুল্লোড় নয় বরং চৈত্র সংক্রান্তি ফিরে আসুক। সেই কৃষি ফিরে আসুক যে কৃষি মানুষ আর প্রকৃতিকে আলাদা করে না। যে কৃষি এই বাংলাদেশের চিরচেনা শস্য আর পশু পাখিকে সাথে নিয়ে। সে কৃষি যদি বাচে তবে তার সাথে কৃষি জীবনের উৎসব চৈত্র সংক্রান্তিও বাচবে।
---------------------------------------

এবং পান্তা আমদানী করনেওয়ালারা আমাদের কৃষি বাঁচাবে না, তারা বরং কেএফসির শিল্পকারখানাজাত মুরগী এবং অন্যান্য ভাজির নতুন বিষ ছড়াবে। তারা আমাদের নিজস্ব উদ্ভিদ বাঁচাবে না। এই মঞ্চওয়লাদের হাতে আমাদের প্রাণ ও প্রকৃতি নিরাপদ নয়। আমরা আমাদের নিজস্ব কৃষি চাই। কৃষির গান চাই। যাতে চৈত্র সংক্রান্তি আবার ব্রত হয়ে উঠতে পারে। আমাদের জানান দিতে পারে- শুভ পহেলা বৈশাখ।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/arju007/28937503 http://www.somewhereinblog.net/blog/arju007/28937503 2009-04-13 14:37:46
স্মারক: রাষ্ট্রপতির সচিবালয়, গণভবন, ঢাকা, পত্র সংখ্যা-৩০/১২/৭৫-সাধারণ-৭২৯/৯(৪০০) তারিখ ১২ মার্চ ১৯৭৫। অফিসের কাজে রাষ্ট্রভাষা বাংলা ব্যবহারে রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশ

সরকারি দলিল ছাড়াও এটার মূল্য আচ্ছে আবেগের জায়গায়। এমনকি আদেশটির লেখাতেও বঙ্গবন্ধুর আবেগের ছোয়া দেখা যায়। দাফতরিক আর দশটা আদেশের মতো ভাষা নয় এটার।

১২ মার্চ ১৯৭৫ রাষ্ট্রপতি কতৃক জারিকৃত আদেশটি হুবহু তুলে দিচ্ছি এইখানে।
‘‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের রাষ্ট্রভাষা বাংলা। বাংলা আমাদের জাতীয় ভাষা। তবুও অত্যন্ত দুঃখের সাথে ল্য করছি যে, স্বাধীনতার তিন বছর পরেও অধিকাংশ অফিস আদালতে মাতৃভাষার পরিবর্তে বিজাতীয় ইংরেজী ভাষায় নথিপত্র লেখা হচ্ছে। মাতৃভাষার প্রতি যার ভালোবাসা নেই, দেশের প্রতি তার ভালোবাসা আছে এ কথা বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়। দীর্ঘ তিন বছর অপোর পরও বাংলাদেশের বাংগালী কর্মচারীরা ইংরেজী ভাষায় নথিপত্র লিখবেন সেটা অসহনীয়। এ সম্পর্কে আমার পূর্ববর্তী নির্দেশ সত্বেও এ ধরনের অনিয়ম চলছে। আর এ উচ্ছৃংখলতা চলতে দেয়া যেতে পারেনা। এ আদেশ জারী হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সকল সরকারী, স্বায়ত্বশাসিত সংস্থা ও আধা সরকারী অফিসসমূহে কেবলমাত্র বাংলার মাধ্যমে নথিপত্র ও চিঠিপত্র লেখা হবে। এ বিষয়ে কোনো অন্যথা হলে উক্ত বিধি লংঘনকারীকে আইনানুগ শাস্তি দেবার ব্যবস্থা করা হবে। বিভিন্ন অফিস আদালতের কর্তা ব্যক্তিগন সতর্কতার সাথে এ আদেশ কার্যকরী করবেন এবং আদেশ লংঘনকারীদেও বিরুদ্ধে শাস্তি বিধানের ব্যবস্থা করবেন। তবে বিদেশী সংস্থা বা সরকারের সাথে পত্রযোগাযোগ করার সময় বাংলার সাথে ইংরেজি অথবা সংশ্লিষ্ট ভাষার একটি প্রতিলিপি পাঠানো প্রয়োজন। তেমনিভাবে বিদেশের কোনো সরকার বা সংস্থার সাথে চুক্তি সম্পাদনের সময়াও বাংলার সাথে অনুমোদিত ইংরেজি বা সংশ্লিষ্ট ভাষায় প্রতিলিপি ব্যবহার করা চলবে।’’

রাষ্ট্রপতি লিখেছিলেন ‘‘ এ বিষয়ে কোনো অন্যথা হলে উক্ত বিধি লংঘনকারীকে আইনানুগ শাস্তি দেবার ব্যবস্থা করা হবে।’’ শাস্তি কেউ পেয়েছিলেন কি না সেটা আমার জানা নেই। বঙ্গবন্ধু লিখেছিলেন ‘‘দীর্ঘ তিন বছর অপোর পরও বাংলাদেশের বাংগালী কর্মচারীরা ইংরেজী ভাষায় নথিপত্র লিখবেন সেটা অসহনীয়।’’ এরপরও এই অসহনীয়তার সাথে বঙ্গবন্ধুকে থাকতে হয়েছে। তিনি লিখেছিলেন স্বাধীনতার তিন বছর পরে, আর এখন পেরিয়ে গেছে তিন সাত সাতত্রিশ বছর।

*ছবিতে ১৪ ডিসেম্বর ১৯৭২ সংবিধানের চুড়ান্ত কপি স্বাক্ষর করছেন বঙ্গবন্ধু। বাংলাদেশের সংবিধানে অনুচ্ছেদ ৩ অনুযায়ি বাংলাদেশের রাষ্ট্রভাষা বাংলা।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/arju007/28914290 http://www.somewhereinblog.net/blog/arju007/28914290 2009-02-21 16:12:09
সামহোয়ারইন নি:সন্দেহে 'ব্লগ'। মুশকিল হইলো 'মডারেটর'গো নিয়া। তারা প্রায়ই ভুইলা যান যে এইটা ব্লগ । তাই তারা অকারনে পোস্ট ডিলিট... ''যতবার হত্যা কর আবার জন্ম নেবো দারুন সূর্য হবো লিখবো নতুন ইতিহাস।''

আজ বটতলার কাছ দিয়ে আসতে আসতে এই লাইন দুইটা মনে পড়ছিলো। ছাত্র ফ্রন্টের আয়োজনে মাস্টারদা সূর্যসেনের ৭৫ তম ফাসি দিবস উপলক্ষে আলোচনা চলতাছিলো ওইখানে। বসছিলাম। বেশিক্ষন থাকতে পারি নাই। অফিস। তখন ভাবছিলাম সূর্যসেনরে নিয়া একটা পোস্ট দিমু। কিন্তু অফিস শেষে সামহোয়ারইনে আইসা বইসা আর পোস্ট দেয়া হইলো না। আমি প্রতিদিন ব্লগে বসে প্রথমেই আমার আগের করা মন্তব্যগুলানের অবস্থা দেইখা আসি। আজ তাই করতে গেলাম। দেখি- রিফাত হাসান এর সর্বশেষ পোস্টটাই নাই। আমার মন্তব্যও নাই।

জিগাইলাম। হে জানাইলো- তার ওই পোস্টটা মডারেটররা মুইছা দিছে এবং তারে সাধারন বানায়া রাখছে। অবাক হইনাই। সত্যি কইতাছি অবাক হইনাই। সবাক আছি এখনো। তাই লিখতাছি। তয় খুব আবেগী হইতাম পারুম না, অভিমান করতাম পারুম না, দাবীও তুলুম না। সোজাসুজি কয়টা কথা কই;

১.রিফাত পোস্ট দিছিলেন ফিলিস্তিনিদের ওপর চলমান গনহত্যা ও বাংলাদেশে একাত্তরে ঘটে যাওয়া যুদ্ধাপরাধ এবং গনহত্যা কিংবা যুদ্ধাপরাধের প্রতিবাদের ব্লগিয় এবং নন ব্লগিয় ধরন ধারন নিয়া। ওনার অভ্যাসমতো প্রশ্ন তুলছেন, নতুন বিন্দু থেকে কথা বলছেন, মন্তব্যকারিদের জন্য আলোচনার জায়গা রাখছেন নিজের ভাষার মধ্যে।
২.রিফাতের পোস্টের অনেক ব্যাপারেই আমি একমত ছিলাম না। সেইটা আমি তারে মন্তব্যে-ও কইছি। তারে কইছি-
আমি যে আপনার ওই পোস্টের সব ব্যাপারে একমত তা কিন্তু না। প্রথমত, আপনি যে অবস্থান থেকে লিখছেন দ্বিতীয়ত, আপনি যে সূত্রে ফিলিস্তিনের দখলমুক্তির আর বাংলাদেশের স্বাধীনতার সংগ্রামকে সম্পর্কযুক্ত করছেন তৃতীয়ত, আপনি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবীতে চলমান ক্যাম্পেইনরে যেই অবস্থান থেইকা সমালোচনা করছেন -----এইগুলানের ব্যাপারে আপত্তি জানায়া বিস্তারিত মন্তব্য করছিলাম। আশা করছিলাম জবাব পামু। এখন আমার সেই মন্তব্য গুলান কই পামু?
তয় তার ওই পোস্টটা মুছে দেওয়ায় এইসব কইতে অইছে তার আরেকটা পোস্টে। এই পোস্টে।

আমার মতো অনেকেই তার পোস্টের সব ব্যাপারে একমত ছিলো না। যতটুকু মনে পড়ছে হাসিব এবং ফিউশন ফাইভ ও আমার মতো টেক্সট ধইরা আপত্তি তুলছিলো। সেইটা হইতেই পারে। আমি আমার অবস্থান থেকে বাংলাদেশের ওপর করা যুদ্ধাপরাধের বিচার চাই। তাই ক্যাম্পাসে স্ব উদ্যোগে স্বাক্ষর সংগ্রহ করছি। সেই জায়গা থেকে রিফাত হাসানের সাথে আলোচনা করছি। মত অমতের কথা জানাইছি।
কিন্ত পোস্ট ডিলিট করলে সেই সুযোগ, ব্লগিং এর সুযোগ থাকবো ক্যামনে? যে পোস্টটা ডিলিট করা হইছে রিফাতের আমার যদ্দুর মনে পড়ে সেইখানে তিনি এমন কোনো কিছু লেখেন নাই, যা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে যায়। এমন লেখার ইতিহাস তার আগের কোনো পোস্টেও নাই। তিনি কারোরে গালি দেন নাই। আক্রমন করেন নাই। এরপরও যেহেতু পোস্ট ডিলিট করা হইছে তাহলে বলতে হয়- মডারেটররা কখনো কখনো ভুলে যান যে, সামহোয়ারইন একটা 'ব্লগ'।

ব্লগের উদ্যোগের সাথে আছি যতটা সম্ভব। সেই সাথে ব্লগের উদ্যোগকে যারা বুদ্ধিবৃত্তির জায়গায় দাড়িয়ে পর্যালোচনা করেন তাদের সাথেও আলোচানায় আছি। যেমন রিফাতের পোস্টে ছিলাম। তাই বলে বিনা কারনে পোস্ট ডিলিট করা আর সাধারন বানায়া দেয়ার মতো পলিটিকাল গুন্ডামীতে নাই। থাকুম না।

আবার এইটা মনে করার কারন নাই যে, ব্যান আনব্যান সেফ জেনারেল ইত্যাদিত দাবীতে আন্দোলনে নামুম। সেইটাও পারুম না। ব্লগরে দলবাজির জায়গা মনে করি না। নিজের মতো লিখুম। নিয়ম মাইনা লিখুম, যেমন আগে লিখছি। বাকিটা ব্লগ কতৃপক্ষের হাতে। মারন কাটন ওনাগো ইচ্ছা। তয় শেষে আইসা আবার এক কথায় কই স্রেফ কোনো পোস্ট মডারেটরগো পছন্দ হইলো না বইলা সেইটা ডিলিট কইরা দিয়া পোস্ট দাতারে সাধারন বানায়া রাখা আর যাই হোক ব্লগ মডারেট করা তারে বলা যায়না। এইটা হইলো গায়ের জোর।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/arju007/28896547 http://www.somewhereinblog.net/blog/arju007/28896547 2009-01-12 18:10:44
পৃথিবীর সবকটি সাদা কবুতর ইহুদী মেয়েরা রেধে পাঠিয়েছে মার্কিন জাহাজে। ( ইওরোপিয়ান জাহাজ ডুবছে তো!)
এইরকম এক চাড়া নাম বর্ণবাদ। ইওরোপের ইতিহাস অনেকাংশেই বর্ণবাদের ইতিহাস। উল্টো তারারা আমাগোরে বর্ণবাদবিরোধিতার সবক দিতে আসেন। তারা নিজেগো হিটলারের বিরোধিতা করেন। হিটলাররে নিন্দা করেন। তাগোর মতে এর পেছনে অনেক কারনের মধ্যে একটা হইলো- হিটলার ইহুদীগো মারছিলেন। ব্যাপক মারছিলেন। হলোকাস্ট। বাকস্বাধীনতা নিয়া ইওরোপীয় কইতররা এতো বাকবাকুম করে অথচ ওইখানে হলোকাস্টের ঐতিহাসিক পর্যালোচনাও করা যায়না।

হিটলারের এতো দোষ ইহুদী হত্যার দোষে! অথচ বাকি ইওরোপ করলো কি? তারা তো আরো বড় হিটলারি করলো। হিটলার চাইলো ইহুদের জার্মানি থেইকা তাড়াইতে, আর বাদবাকী ইওরোপ ইহুদীদের তাড়ায়া ইওরোপছাড়া করলো। তারা ইওরোপে থাকতো লোকালয়ের বাইরে, ঘেটো'তে। ভারতে যেমন দলিত সম্প্রদায়ের লোকজন গ্রামদেশের প্রান্তে বস্তিতে থাকে। সেইখান থেইকা ইওরোপ তাগোর পাঠাইলে আরব মুলুকে । একঢিলে দুই পাখি। ইহুদী তাড়ানো হইলো আবার মুসলমান খিচানোও হইলো।

তয় জারজ ইজরায়েলের জায়গা দিতে গিয়া মাঝখান থেইকা আরেক ঘেটোর জন্ম হইলো আরব মুলুকে । ফিলিস্তিন। বেচারা হিটলার! খালি খালি নিন্দিত হইছিলেন নিজের বোকামীতে। এই বুদ্ধি যদি তার হইতো! নোবেল পুরস্কার টুরুস্কার পাওয়ার চান্স ছিলো নির্ঘাত।

আইজ আর ইওরোপ আগের মতোন নাই। ক্ষমতা কমছে। এখন ইজরায়েল এর বাপ হইলো মার্কিন মুলুক। তাগোর আশ্রয় প্রশ্রয়ে ইহুদী রান্নাঘরে প্রতিদিন জবাই হইতেছে শান্তির কবুতরেরা। কবুতর যদি কসাইয়ের তীর আর ছুরি ধরা হাতে ঠোকর মারে তয় দুনিয়া কবুতররে সন্ত্রাসী কয়। আজব! দুনিয়া কয়- আলোচনা করো। নিজের ঘরে হামলে পড়া ডাকাইতের লগে আলোচনা! এটা কি পড়শীর সাথে বিরোধ যে আলোচনা কইরা সমাধান সম্ভব!

নিজের বিশ্বাসের কথা কই। কেবল মাত্র স্বশস্ত্র লড়াইয়ে ফিলিস্থিনিরা জবর দখল থেকে মুক্তি পাইতে পারে। যদি কিছু দেশ তাগোর সাহায্যে আগায়। নয়তো এইভাবেই চলবো। ইজরায়েলীদের হত্যাযজ্ঞ আর বাদবাকী দুনিয়ার আলোচনা-শান্তি বানিজ্য।

*পোস্টে ব্যবহৃত ছবিটি কিউবার আঁকিয়ে 'জুয়ান কার্লোস পেড্রেইরা'র আঁকা
*পোস্টের শিরোনামে ব্যবহৃত 'পৃথিবীর সবকটি সাদা কবুতর ইহুদী মেয়েরা রেধে পাঠিয়েছে মার্কিন জাহাজে' অংশটুকু আল মাহমুদের কবিতা থেকে নেয়া। কবিতার নামটা এখন মনে নেই।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/arju007/28894296 http://www.somewhereinblog.net/blog/arju007/28894296 2009-01-07 16:58:41
হত্যা ব্যাবসায়ী পাকিস্তান জাহান্নামে । বাংলাদেশ অনন্ত অক্ষত মূর্তি জাগে । ব্যবসায়িক অংশীদার হয়ে দেশটি তার রাষ্ট্রীয় অস্তিত্বের বিনাশের পথে অনেকদুর এগিয়েছে। মনে পড়ে গেল- কলেজে পড়ে আসা সেই কবিতাটির কথা। বাংলাদেশ। অমিয় কবিতায় বলছেন-
হত্যা-ব্যবসায়ী বাংলাদেশ-ধ্বংস-কাব্যে জানে না পৌছল জাহান্নামে এ জন্মেই

ভাবলাম পুরোটুকু তুলে দেই-

বাংলাদেশ
অমিয় চক্রবর্তী

কল্যানীর ধারাবাহী যে- মাধুরী বাংলা ভাষায় গড়েছে আত্মীয় পল্লী, যমুনা-পদ্মার তীরে তীরে রুপোলি জলের ধারে, আম-জাম-নারকেল ঘেরা আমন ধানের ক্ষেতে শ্রুতিময় তারি অন্তর্লীন বানী শোনো প্রাত্যহিক- বহু মিশ্র প্রাণের সংসারে সেই বাংলাদেশে ছিল সহস্রের একটি কাহিনী কোরানে পুরাণে শিল্পে, পালা-পার্বণের ঢাকে ঢোলে আউল বাউল নাচে; পুণ্যাহের সানাই রঞ্জিত রোদ্দুরে আকাশতলে দেখ কারা হাটে যায়, মাঝি পাল তোলে, তাঁতি বোনে, খড়ে-ছাওয়া ঘরের আঙনে মাঠে ঘাটে শ্রমসঙ্গী নানাজাতিধর্মের বসতি চিরদিন বাংলাদেশ- ওরা কারা বুনো দল ঢোকে এরি মধ্যে ( থামাও, থামাও), স্বর্ণশ্যাম বুক ছিঁড়ে অস্ত্র হাতে নামে সান্ত্রী কাপুরুষ, অধম রাষ্ট্রের রক্ত পতাকা তোলে, কোটি মানুষের সমবায়ী সভ্যতার ভাষা এরা রদ করবে ভাবে, মরু-পশু মারীর অন্ধতা ঝড়ে হানে অসহায় নরনারী অলভ্য জয়ের লোভে, জ্বালায় শহর, গ্রামে গ্রামে প্রাচীন সংহতি ভেঙে ভগ্নস্তুপে দূরের উল্লুক বাঁধে কেল্লা, (পারবে না, পারবে না,) পাপাশ্রয়ী পরজীবী যতই লুন্ঠন করে শস্য পাট পণ্য, ঘরে ঘরে ছড়ায় অমেয় শোক, ধর্মনাশ হত্যার ছায়ায় ঘেরে আর্ত গৃহস্থালি, চতুর্গুন হিন্দু মুসলমান বাংলার বাঙালি তত জানে জন্মমৃত্যুর বন্ধনে অভিন্ন আপন সত্বা, লক্ষ লক্ষ হা ঘরে দুর্গত ঘৃণ্য যম-দূত-সেনা এড়িয়ে সীমান্তপারে ছোটে, পথে পথে অনশনে অন্তিম যন্ত্রনা রোগে ত্রাসে সহস্রের অবসান, হন্তারক বারুদে বন্দুকে মূর্ছিত-মৃতের দেহ বিদ্ধ করে, হত্যা-ব্যাবসায়ী বাংলাদেশ-ধ্বংস-কাব্যে জানে না পৌছল জাহান্নামে এ জন্মেই; বাংলাদেশ অনন্ত অক্ষত মূর্তি জাগে।


কবিতার বিশেষনগুলো গুলো খেয়াল করুন প্রিয় ব্লগার!
বুনো দল/সান্ত্রী কাপুরুষ/মরু-পশু/দূরের উল্লুক/পাপাশ্রয়ী পরজীবী/যম-দূত-সেনা হত্যা-ব্যাবসায়ী । এইসবই কবি প্রয়োগ করেছিলেন পাকিস্তানী সেনাদের বিশেষায়িত করতে। যারা এখন নিজেদের দেশটাকে জাহান্নামে নিয়ে যাচ্ছে।
আর যে বাংলাদেশ- কল্যানীর ধারাবাহী/মিশ্র প্রাণের সংসার/নানাজাতিধর্মের বসতি, সেই বাংলাদেশ অনন্ত অক্ষত মূর্তি জাগেসমবায়ী সভ্যতার বাংলাদেশ।

*ছবি কৃতজ্ঞতা: উইকিমিডিয়া]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/arju007/28876516 http://www.somewhereinblog.net/blog/arju007/28876516 2008-12-01 00:19:38
কৌশিক বিশ্বাসের ভাষায় মুম্বই হামলা প্রসংগে সামহোয়ারের নাদান ব্লগাররা ''এক্সপার্ট বনে'' যায়! অথচ ... কৌশিক বিশ্বাসের ভাষায় সামহোয়ারের নাদান ব্লগাররা ''এক্সপার্ট বনে'' যায়!
তার মতে ব্লগাররা নাকি মুম্বই'র হামলা নিয়ে দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছে। সেই পোস্টটিতে আমি মন্তব্য করেছিলাম যে-
''উদাহরন সহ বর্ননা করেন জনাব কৌশিক বিশ্বাস। কোন কোন ব্লগাররা মুম্বই হামলা প্রসংগে আপনার ভাষায় ''এক্সপার্ট বনে'' গিয়ে পোস্ট দিয়েছেন। বা এইরকম এক্সপার্ট বনে গিয়ে দেয়া পোস্টের সংখ্যা কেমন? ঢালাও কথা বলবেন না। নির্দিষ্ট করে বলুন দয়া করে। ''
তিনি আমার জবাবে খোলাখুলি কিছু বললেন না। জবাব দিলেন যে তিনি নাকি ঐক্যের ইঙ্গিত দিচ্ছেন । এবং তারপর সবার মন্তব্যে তার দেয়া জবাব মুছে দিলেন।
আর আমি নেমে গেলাম এই বিষয়ে সর্ব সাম্প্রতিক পোস্ট গুলোর তালাশে। গত ২৮ তারিখ রাত ১২ টা থেকে এ পর্যন্ত মুম্বই হামলা নিয়ে সবগুলো পোস্টই এখনে লিংক আকারে দিলাম। প্রিয় ব্লগার! আপনারাই সিদ্ধান্ত নেন যে আসলে '' এক্সপার্ট '' বনে কে যেতে চায়!

২৮ তারিখ রাত ১২.০০ টায় দেয়া পোস্টটিতে 'কৌশিক' বলছেন-ইন্ডিয়ার বহিঃশত্রুর চেয়ে তাদের বড় থ্রেট অভ্যন্তরেই রয়েছে।

সুজনবাঙালী এর পোস্ট। যেখানে হামলার আন্র্তজাতিক প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করার পাশাপাশি ঘটনার মধ্য থেকে বেশ কিছু চিন্তাসুত্র ধরিয়ে দিয়েছেন তিনি।

সরপ তার পোস্টে বলেছেন যে তিনি কখনোই সন্ত্রাসীদের সমর্থন করেন না তবে তিনি দীর্ঘমেয়াদে আলোচনার মাধ্যমে এরকম হামলার কারন নির্মুল সমর্থন করেন।

আলী তার পোস্টে বলেছেন সন্ত্রাসের কোন ধর্ম নেই।ধর্মের নামে সন্ত্রাস বন্ধ হোক।

জাতেমাতাল এর পোস্ট। তিনি বলছেন-সাধারন নাগরিক হিসাবে আমি রাষ্ট্রের কাছে নিরাপত্তা চাই- ক্ষতিগ্রস্ত হলে বিচার চাই-যে আমার ক্ষতি করেছে তার শাস্তি চাই। আর এই চাওয়াটা আমার অধিকারের মধ্যে পড়ে- আমার মানবাধিকার। পোস্টে প্রশ্ন তোলা হয়েছে - আজকে মুম্বাই এ যে নৃশংশতা ঘটে গেল-তার জন্য দায়ী অপরাধীরা কবে ধরা পড়বে-কবে বিচার শুরু হবে আর তার কৃতকর্মের শাস্তি কার্যকর হয়েছে এটা দেখার জন্য একজন ক্ষতিগ্রস্ত নাগরিককে কত বছর অপেক্ষা করতে হবে?

জুয়েল হাসানের পোস্ট। যেখানে তিনি নিরেট পরিসংখ্যানে তুলে ধরেছেন যে, ভারতে ২০০১'র পর কোন বোমাবাজী ও হত্যার বিচার হয়নি। লজ্জার কথা !!


ইয়াহইয়া ফজলের পোস্ট। যেখানে তিনি দৈনিক সমকালের একটি মুম্বই হামলা সংক্রান্ত খবরের সমালোচনা করেছেন

আর মুম্বই ট্র্যাজেডির অবসানের পর ২৯ নভেম্বর সন্ধ্যায় প্রথম পোস্ট দিলেন 'অরণ্যচারী'। তার পোস্টে চারটি জরুরী পর্যবেক্ষণ রয়েছে । খুবই ঘটনা সংশ্লিষ্ট।

আর এ ব্যাপরে সর্বপ্রথম পোস্টটা ছিলো ''আহসান হাবীব শিমুল'' এর। ''ব্রেকিং নিউজ: মুম্বাইয়ে সন্ত্রাসী হামলায় হতাহত(সাময়িক পোষ্ট)''

তাছাড়া নিজস্ব স্টাইলে অনুভুতি প্রকাশ করেছেন অনেকেই। নিন্দা জানিয়েছেন-

শতকত

অতনু ব্যানার্জী

শ্রীমতি চৌধুরী

আতিকুল হক

ছড়া লিখে নিন্দা জানিয়েছেন ছড়াকার-
দিলু নাসের

(আরো কোনো পোস্ট হয়তো বাদ পড়ে যেতে পারে)

পোস্টগুলো একনজর দেখলে বোঝা যায় জনাব কৌশিক বিশ্বাস এর অভিযোগ কতটা হাস্যকর। 'মুনশিয়ানা'র ভাষায় বলি-মুম্বাইয়ের ঘটনার ব্যাখা বিশ্লেষন করার জন্য সা মো’র ব্লগারদের পুর্ব শর্ত হিসাবে কি কি যোগ্যতা থাকতে হবে তা জানালে ভাল করতেন কৌশিক বিশ্বাস।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/arju007/28875643 http://www.somewhereinblog.net/blog/arju007/28875643 2008-11-29 04:45:57
জেলহত্যা দিবসে জেলহত্যা মামলা'র দিকে তাকিয়ে কেবল দু:খই হচ্ছে . . . আজ জেলহত্যা দিবস। একটা রাষ্ট্র কতটা দায়িত্বহীন ( কিংবা অসৎ ) হতে পারে তার উদাহরণ এই হত্যাকান্ড। রাষ্ট্রের কারাগারে নিহত হন শীর্ষ রাজনৈতিক নেতারা! যেহেতু তারা রাজনৈতিক নেতা ছিলেন সুতরাং হত্যাকান্ডটিও রাজনৈতিক, সন্দেহ নেই। কিন্তু আইনে 'রাজনৈতিক হত্যাকান্ড' বলে কোন অপরাধ নেই। নৈতিক জায়গার বাইরে গিয়ে জেলহত্যাকে আইনের চোখেই কেবল গুরুত্বপুর্ন ভাবা হয়ে আসছে। সবাই শুধু এর ''বিচার''ই চান। কোন 'রাজনীতি' এই নেতাদের ঘাতক হলো সে প্রশ্ন আসে পরে, তাই দেখছি।

আমিও এখানে বলছি আইনী প্রকৃয়ার কথা।

হত্যাকান্ড ঘটে ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর। পরদিন ৪ নভেম্বর , ১৯৭৫ পুলিশের ডিআইজি প্রিজন মো. আবদুল আউয়াল লালবাগ থানায় মামলা দায়ের করেন ক্যাপ্টেন মোসলেম উদ্দিনসহ চারজনের বিরুদ্ধে । মামলা দায়েরের পরদিন অর্থাৎ ১৯৭৫ সালের ৫ নভেম্বর লালবাগ থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত ওসি এবিএম ফজলুল করিম মামলার তদন্তভার নেন । সে বছরই ২১ নভেম্বর মামলার তদন্তভার দেয়া হয় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের হাতে। ডিএসপি সাইফুদ্দিন আহমদ এর কাছে ।

কিন্তু একই সময়ে গঠন করা হয় বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি। সুপ্রিমকোর্টের তিন বিচারপতির সমন্বয়ে। সুতরাং ডিএসপি পুলিশের হয়ে আর তদন্ত করতে পারেননি। পরের বছর (১৯৭৬ সালে ) তদন্তের অনুমতি চেয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়। কিন্তু সাড়া পাওয়া যায়নি। এবং ১৯৭৬ থেকে ১৯৯৬ সাল ২৩ টি বছর মামলা নিয়ে রাষ্ট্রপক্ষের তরফ থেকে কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। আর কোনো তদন্ত হয়নি। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকারে এলে রাষ্ট্রের তরফ থেকে মামলাটি নিয়ে আবার সক্রিয়তা শুরু হয়। কর্নেল (অব.) সৈয়দ ফারুক হোসেন, লে. কর্নেল (অব.) সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খান ও মেজর (অব.) মো. খায়রুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্ত শেষ করে ১৫ অক্টোবর, ১৯৯৮ তারিখে চার্জশীট দেয়া হয়। ৬ বছর ধরে চলে মামলার বিচারকাজ।
নিম্ন আদালতে
বিচার শেষে ২০০৪ সালের ২০ অক্টোবর ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. মতিউর রহমান এ মামলার রায় দেন। রায়ে আদালত রিসালদার মোসলেমউদ্দিন খান, দফাদার মারফত আলী ও দফাদার আবুল হাসেম মৃধাকে মৃত্যুদন্ডাদেশ দেন। এছাড়া ১২ জনকে যাবজ্জীবন কারাদন্ডাদেশ দেয়া হয়। হত্যাকান্ডের প্রধান অভিযুক্ত মৃত কে এম ওবায়দুর রহমান (নিম্ন আদালতের রায়ের সময় জীবিত ছিলেন) , নুরুল ইসলাম মঞ্জুর, জাতীয় পার্টির নেতা শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, মেজর (অব.) খায়রুজ্জামান এবং তাহের উদ্দিন ঠাকুরকে খালাস দেয়া হয়। ষড়যন্ত্রের কোনো প্রমাণ না পাওয়ায় মামলায় আসামিদের সবাইকে ফৌজদারি কার্যবিধি ১২০(খ) ধারায় ষড়যন্ত্রের অভিযোগ হতে অব্যাহতি দেয়া হয়। রায়ের পরপরই দন্ডাদেশপ্রাপ্তরা আপিল করে। ল্যান্সার মহিউদ্দিনকে গত বছর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরত পাঠানোর পর তিনি জেল আপিল করেন।

হাইকোর্ট বিভাগে
অবশেষে এ বছরের ২৮ আগস্ট এ মামলায় বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি আতাউর রহমান খানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের বেঞ্চ ২৮ আগস্ট রায় ঘোষণা করেন। খালাস দেয়া হয় নিম্ন আদালতের রায়ে মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি দফাদার মারফত আলী ও দফাদার আবুল হাশেম মৃধাকে। কেবল পলাতক আসামি রিসালদার মোসলেমউদ্দিন খানের মৃত্যুদন্ড বহাল রাখা হয়। অন্যদিকে নিম্ন আদালতের রায়ে যাবজ্জীবন দন্ডাদেশপ্রাপ্ত ৪ আসামি লেফটেন্যান্ট কর্নেল সৈয়দ ফারুক রহমান, লেফটেন্যান্ট কর্নেল সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খান, অবসরপ্রাপ্ত মেজর বজলুল হুদা ও মেজর এ কে এম মহিউদ্দিন আহমেদকেও খালাস দিয়ে অব্যাহতি দেয়া হয়।

আপিল বিভাগে কবে যাবে?
মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল জানিয়েছেন, হাইকোর্ট বিভাগ আদেশ দেয়ার পরদিনই এ আদেশের কপির জন্য আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু এই কপি না পাওয়ায় আপিল করতে পারছে না রাষ্ট্রপক্ষ। হাইকোর্টের আদেশের কপি কবে পাবেন তাও জানেন না বলে জানিয়েছেন তিনি। সুতরাং চুড়ান্ত ফায়সালার জন্য আপিল বিভাগে যাওয়া অনিশ্চিত হয়ে যাচ্ছে। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর বক্তব্যে মনে হচ্ছে হয়তো আবারো চাপা পড়তে যাচ্ছে মামলাটির অগ্রগতি।

আমাদের কথা

একজনের ফাঁসি ও আটজনের যাবজ্জীবন কারাদন্ড বহাল রেখে আদালত মন্তব্য করেছিলেন, যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা আপিল করলে তারাও হাইকোর্টের রায়ে বেকসুর খালাসপ্রাপ্ত আসামিদের মতো সুবিধা পেতেন। হাইকোর্টের কাছে একজনকেই দোষী বলে মনে হয়েছে। কোর্টের মতে বাকিরা এ হত্যাকান্ড বা ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। আমাদের প্রশ্ন- যদি বাকি আসামিরা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত না থাকেন তবে এতো সংগঠিত একটি অপরাধ কিভাবে হলো? একজন আসামি জেলখানার মধ্যে গিয়ে কীভাবে চার জাতীয় নেতাকে হত্যা করলেন। জেলখানার ভেতরে তো নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা ছিলেন। তবে কি মামলা চলাকালে এসব প্রশ্ন রাষ্ট্রপক্ষ উত্থাপন করেননি?


এই দেশের বিচার ব্যবস্থায় মাননীয় বিচারকরা 'অ্যাডভাইজরিয়াল' ভূমিকা রাখতে বাধ্য। তারা রায় দেন দু'পক্ষের যুক্তি-তর্ক-প্রমানের ওপর ভিত্তি করে। নিজের 'ইনকিউজিটিরিয়াল' হতে পারেন আইনগত কারনেই। আর এ সুযোগে রাষ্ট্রপক্ষ দায়সারাভাবে মামলা চালায়, ভাবখানা এমন যে মামলায় জিতলে তো কারা অপরাধী তা প্রকাশ হয়ে যাবে! তাই রাষ্ট্রপক্ষ মামলায় জিততে চাননা।





]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/arju007/28864113 http://www.somewhereinblog.net/blog/arju007/28864113 2008-11-03 18:09:00
অরাতি ও বন্ধু : রচয়িতার নাম জানা নেই -
-
-
-
-
আপনার দোষ যদি চাহ জানিবার অরাতির কাছে করো সন্ধান তাহার তারা তব বন্ধু নয় যারা গুন গায় বন্ধু সেই সংশোধনে হয় যে সহায়

বাবার কাছাকাছি যতদিন ছিলাম ততদিন কবিতার মধ্যে ছিলাম, বই-পুথির মধ্যে ছিলাম, প্রকৃতির মধ্যে ছিলাম। বাবা প্রায়শই মুখে মুখে নানারকম গান-কবিতার কথা আওড়াতেন । শুনে শুনে আমারো মুখস্থ হয়ে গিয়েছিলো। আমার ছোট্ট মনে বেশ দাগ কাটতো ওগুলো। কিছু লিখে রেখেছিলাম। তারই একটা তুলে দিলাম। রচয়িতার নাম জানা নেই। বাবাকে কখনো জিজ্ঞাসা করিনি। অন্য কোথাও চোখেও পড়েনি।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/arju007/28826057 http://www.somewhereinblog.net/blog/arju007/28826057 2008-07-31 19:16:37