বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী সব সময়ই বেশ চিত্তাকর্ষক কথা বলেন। ক্ষমতায় না যেতে পারলে অথবা ক্ষমতায় গিয়ে, ক্ষমতা হারিয়ে এবং ক্ষমতায় ফিরে এসে-সব অবস্হাতেই তিনি প্রায় নিয়মিত এমন কিছু না কিছু বলে থাকেন, যা নিয়ে দেশের মানুষ অনেক দিন পর্যন্ত বলাবলি করতে পারে। অর্থাৎ লোকে তাঁর কথা ধরে আলোচনা করার খোরাক পায় আর তিনি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকেন। তবে মাঝে মাঝে বেফাঁস কিছু কথা বলে ফেলেন তিনি। এগুলো এমনসব কথা, যা তিনি রাখতে পারেন না। এতে তিনি কতটুকু বিব্রত হন জানি না, তবে তাঁর দল এর ফলে মাঝে মাঝে বিপদে পড়েছে বৈকি।
২০০১ সালের প্রথমার্ধেই তিনি এরকম একটা কথা বলেছিলেন, যা তখন ‘পবিত্র মদিনা ঘোষণা’ নামে পরিচিতি পেয়েছিল। সেটা শেখ হাসিনার প্রথম শাসনামলের শেষ পর্যায়ে। তখন বহু কারণেই ওই সরকার দারুণভাবে সমালোচিত হচ্ছিল। ক্ষমতাসীন দলের মাস্তানদের সহিংসতা, পুলিশসহ সরকারি পেটোয়া বাহিনীর নির্যাতন, দ্রব্যমুল্যের ঊর্ধ্বগতি (সে সময়ের নিরিখে) এবং দুর্নীতির মাত্রা ও প্রসার দু’দিক থেকেই বাড়াবাড়ি রকম বেড়ে যাওয়ায় দেশের মানুষ সে সময়ের আওয়ামী লীগ শাসনকে ‘দুঃশাসন’ বলে আখ্যা দেয়। প্রথম দিকে তারা অবশ্য বলত ‘অপশাসন’।
এভাবে জনগণের ক্ষোভ বাড়তে থাকায় বিএনপি ও অন্য কিছু বিরোধী দল তখন আগাম নির্বাচন দাবি করতে থাকে। এ পরিস্হিতিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হজ্ব অথবা উমরাহ হজ্ব পালন উপলক্ষে সৌদি আরব গেলে মদিনা শহরে বাংলাদেশী সাংবাদিকরা তাঁকে দেশের রাজনৈতিক অবস্হা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন এবং এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, তিনি আগাম নির্বাচন দিতে রাজি আছেন। এ মন্তব্যই ‘শেখ হাসিনার মদিনা ঘোষণা’ বলে পরিচিতি পায়। তবে দেশে ফিরে কিছুদিনের ভেতর শেখ হাসিনা এবং তাঁর সাথে গলা মিলিয়ে আওয়ামী লীগের অন্য নেতৃবৃন্দ ঘোষণা করেন, তৎকালীন জাতীয় সংসদের পাঁচ বছরের মেয়াদ পুর্ণ হওয়ার একদিন আগেও তাঁরা ক্ষমতা ছাড়বেন না। এই দ্বিতীয় ঘোষণাটি তাঁরা অবশ্যই পালন করেছিলেন আর প্রথম ঘোষণাটি ভঙ্গ করতে তাঁরা অকৃপণ আচরণ করেছিলেন। এই ঘটনাটি মনে হয় জনগণের জন্য হয়ে গিয়েছিল ইংরেজি ভাষায় বললে, ’ড়হবঃড়ড় সঁপয’, যার বাংলা ভাবানুবাদ এক্ষেত্রে হতে পারে ‘মাত্রা অতিক্রমকারী বাড়াবাড়ি’। এর ফলে তিতবিরক্ত ভোটাররা ২০০১ সালের অক্টোবরে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জেতার মতো যথেষ্ট ভোট আওয়ামী লীগকে দিল না।
এবারো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের অন্য নেতারা, বিশেষ করে মন্ত্রীরা, অনেক কিছু বলছেন। একটু বেশিই বোধহয় বলছেন, যার দরুন এখনই প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের ঘটনা ঘটতে শুরু করেছে। ‘সঠিক নয়’ বা ‘অসত্য’ কথাও এসে যাচ্ছে। এরকম হওয়া অস্বস্তিকর।
যেমন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকারের পদ প্রসঙ্গ। সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে বিরোধী দলকে ডেপুটি স্পিকারের পদ দেয়া হবে এবং স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্দলীয় ভুমিকা রাখার স্বার্থে দলীয় পদ থেকে পদত্যাগ করবেন, এসব কথা ছিল বিএনপির ম্যানিফেষ্টোতে। আওয়ামী লীগের এরকম কোনো প্রতিশ্রুতি ছিল না। তবু নির্বাচনে জয়লাভের পর শেখ হাসিনার প্রথম সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিক তাঁকে প্রশ্ন করেন, আওয়ামী লীগ বিরোধী দলকে ডেপুটি স্পিকারের পদ দেবে কিনা। শেখ হাসিনা উত্তরে বলেন, ১৯৯৬-তে তাঁরা বিএনপিকে মন্ত্রিসভায় নিতে চেয়েছিলেন, এবার ডেপুটি স্পিকারের পদ দিতে রাজি আছেন। শেখ হাসিনা একথা তো বলে ফেললেন, কিন্তু সেটা রাখতে পারবেন কিনা তা বোধহয় সে সময় চিন্তা করেননি, অথবা ভেবেছিলেন, একথা না রাখলেই বা কি এসে যায়। হাজার হলেও বিরোধী দলের চেয়ে নিজের দল বড়। নিজেরটাকে আগে খুশি করতে হবে। গণতান্ত্রিক সৌহার্দে?80; পিয়াসী বেচারা সাংবাদিক! তিনি তো বুঝবেন না যে, ক্ষমতার জন্য প্রতিদ্বন্দ্বীর সঙ্গে সৌহার্দে?80; চেয়ে নিজের দল অনেক গুরুত্বপুর্ণ। তা না হয় হলো, তবে এক্ষেত্রে আর যেটা হলো তা হচ্ছে জনগণের হিসাবের খাতায় লেখা হয়ে গেল যে, শেখ হাসিনা একটি প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করলেন।
শেখ হাসিনা সেদিন বেশ উদারচিত্তে বলেছিলেন, ‘বিরোধী দলকে আমরা সংখ্যা দিয়ে বিচার করব না। সংসদীয় গণতন্ত্রে বিরোধী দলও রাষ্ট্র পরিচালনার অংশীদার।’ তাঁর ওই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ৩১ ডিসেম্বর। এর তিন দিন পর, ৩ জানুয়ারি, সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেয়া ও সংসদ নেতা নির্বাচিত হওয়ার পর সেদিনই সাংবাদিকদের তিনি আবারো বলেন, ‘বিরোধী দল যত ছোটই হোক, সংসদে তাদের গুরুত্ব অনেক বেশি। সংসদে তাদের একটা অবস্হান থাকবে।’ কিন্তু জাতীয় সংসদে বসার আসন ঠিক করার সময় দেখা গেল আওয়ামী লীগ ‘সংখ্যা’ ও ‘অনুপাত’ হিসাব করছে। স্পিকারের বাম পাশে সামনের সারিতে বিরোধী দলের আসন কমিয়ে দেয়ার প্রতিবাদে তারা ওয়াকআউট করে। শেখ হাসিনা সংসদেই এ সম্পর্কে মন্তব্য করেন যে, গত সংসদে আওয়ামী লীগের ৬২ জন সদস্য ছিলেন। তখন শুরুর দিকে সামনের সারিতে তাদের ৬টি আসন দেয়া হয়েছিল তবে পরে একটি বাড়িয়ে দেয়া হয়। এবার বিএনপির আছে ২৮ জন সংসদ সদস্য, আর তাদের জোটের ৩১টি। তাদেরকে ৪টি আসন দেয়া হয়েছে সামনের সারিতে। তবুও তারা কেন ওয়াকআউট করল বোঝা গেল না। এ বক্তব্যে শেখ হাসিনা নিজেকে নিয়ে গেলেন সংখ্যাতত্ত্বে। আর মাত্র ২৫ দিন আগের তাঁর সেই যে মন্তব্য, ‘বিরোধী দলকে আমরা সংখ্যা দিয়ে বিচার করবো না’ তা বেমালুম ভুলে গেলেন।
অবশ্য বিএনপি নেতা এমকে আনোয়ার সাংবাদিকদের এবং বিরোধী দলের চিফ হুইপ জয়নাল আবেদীন ফারুক চ্যানেল ওয়ান টেলিভিশনে গত পরশুই ব্যাখ্যা করে দেন যে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই হিসাব ভুল এবং মন্তব্যটি ভ্রান্ত। তাঁরা বলেছেন, গত সংসদে স্পিকারের বাম পাশে বিরোধী দলের প্রথম সারিতে যে দশটি আসন আছে তার দশটিই দেয়া হয়েছিল বিরোধীদের। সেই দশটির মধ্যে প্রথমে সাতটি, পরে একটি বাড়িয়ে আটটি দেয়া হয় আওয়ামী লীগকে, আর অন্য দুটি দেয়া হয় অপর দুই বিরোধী দলের নেতা বেগম রওশন এরশাদ ও আনোয়ার হোসেন মঞ্জুকে। এভাবে তাঁরা বিরোধীদলীয় আসনের প্রথমসারির দশটিই বিরোধীদের দিয়ে একটি ভালো রেওয়াজ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
এখন দেখা যাচ্ছে, আওয়ামী লীগ সেই রেওয়াজ মানতে রাজি নয় এবং দলনেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে ‘সংখ্যা’কে গুরুত্ব না দেবার কথা বলেছিলেন তিনি সেটিরই ধুয়া তুলে পুরনো রেওয়াজের কথা বিস্মৃতির অতলে পাঠিয়ে দেবার চেষ্টা করলেন। বস্তুতপক্ষে তিনি ২৮ জানুয়ারি তাঁর সংসদের বক্তব্যে রেওয়াজের কথা উল্লেখ পর্যন্ত করেননি। এতে তাঁর জন্য এই হলো যে, মানুষ দেখল দ্বিতীয়বারের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুরনো শেখ হাসিনাই রয়ে গেছেন। এখন জনগণ রুদ্ধশ্বাসে থাকবে কবে জানি তিনি সেই আগেরবারের মতো বলে ফেলেন, ‘জয়নাল হাজারীর মতো আরো কিছু নটিবয় আমার দরকার।’ হাজার হলেও সেই তিনিই তো বলেছিলেন, ‘জয়নাল হাজারী ছিল, জয়নাল হাজারী আছে, জয়নাল হাজারী থাকবে।’ অবশ্য ২৯ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশিত হতে থাকার সঙ্গে সঙ্গে এবং ২২ জানুয়ারি উপজেলা নির্বাচনের সময় ও পরে বিরোধী বিএনপির অনেক নেতা ও সমর্থক দেশজুড়ে ক্ষমতাসীনদের অনেক যমদুততুল্য নটিবয়দের সাক্ষাৎ পেয়ে গেছেন, যার দরুন তাঁরা এখন শরীরের ভাঙা হাড়গোড় নিয়ে হাসপাতালে সময় কাটাচ্ছেন।
আওয়ামী লীগ ও তার মহাজোট (মুলত স্বৈরাচারী সেনাশাসক লে. জেনারেল এরশাদকে নিয়ে) জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয় পাবার মুহুর্ত থেকেই লীগের পেশি-মালিকরা লাঠিয়াল কায়দায় চারদিকে ‘চর-দখল’ শুরু করে দেয়। ছাত্রদের হল-হোষ্টেল, হাটবাজারের চাঁদা তোলার জায়গা, লঞ্চঘাট, বাস টার্মিনাল, বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ পদ, ঠিকাদারি ইত্যাদি দখল করার জন্য তারা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেখ হাসিনার শপথ নেয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করেনি। তবে তখন থেকেই শোনা যাচ্ছিল বাংলাদেশ সরকারের সচিবালয় এবং অন্যান্য সরকারি অফিস দখল করার ব্যবস্হা হয়ে রয়েছে। সেজন্যই হোক অথবা অন্য কোনো কারণেই হোক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেন অনেকটা অভয় দেয়ার জন্যই ১১ জানুয়ারি (রোববার) সরকারের সচিবদের সঙ্গে তাঁর প্রথম বৈঠকে বললেন, ‘আমি আশ্বাস দিচ্ছি, আপনারা বাধাহীনভাবে কাজ করতে পারবেন। আপনাদের খেয়াল রাখতে হবে কেউ যেন পার্টিজান না হয় এবং কোনো কাজ করার সময় দলীয় পক্ষপাত না দেখান। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে তিনি সেদিন আরো বলেছিলেন, ‘আমরা যারা নির্বাচিত হয়ে এসেছি, তারা অস্হায়ী, কিন্তু আপনারা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা স্হায়ী। আপনাদের আইন অনুযায়ী নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করতে হবে। জনগণের সেবা নিশ্চিত করতে হবে।’ ২০২১ সালের মধ্যে দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত বাংলাদেশ গড়ার জন্য সবাইকে মেধা, যোগ্যতা ও দক্ষতা নিয়ে কাজ করার আহ্বানও জানান তিনি। এখানে স্মরণ করা যেতে পারে, আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ম্যানিফেষ্টোতেও বলা হয়েছিল, নিয়োগ ও পদোন্নতির ভিত্তি হবে মেধা, দক্ষতা, জ্যেষ্ঠতা, সততা এবং দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে প্রজাতন্ত্রের প্রতি আনুগত্য। সেদিন সচিবদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর আলোচনা শুনে মনে হতে পারে তিনি বলছেন যে, তাঁর দলের ম্যানিফেষ্টোতে যা আছে তা একদম সাচ্চা, একেবারে খাঁটি কথা। কিন্তু সচিবালয়ে এবং আরো অন্যান্য সরকারি অফিসে ইদানীং যে ছারপোকা বাছাই চলছে তাতে প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসবাণীর বা প্রতিশ্রুতির কতটুকু রক্ষিত হয়েছে? সরকারি কর্মচারীরাই বলছেন যে, গত ২৭ জানুয়ারি যে ৭২ জন যুগ্মসচিবকে পদোন্নতি দিয়ে অতিরিক্ত সচিব করা হলো তাতে অন্ততপক্ষে ৬৫ জন জ্যেষ্ঠ অফিসারকে ডিঙ্গানো হয়েছে। আর যাঁরা পদোন্নতি পেলেন তাঁদের দক্ষতা ও যোগ্যতা দেখার বা যাচাই-বাছাই করা হলো কখন এবং কার দ্বারা? সচিবালয় ও গুরুত্বপুর্ণ অন্য কটি দফতর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ২০০ জনকে ওএসডি বা শাস্তিমুলকভাবে বদলি করা হয়েছে। এঁরা কি জবাবদিহির কোনো সুযোগ পেয়েছিলেন? তাহলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিয়মনীতি মানার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তাকে এখানে কতটুকু সম্মান দেখানো হলো! সে সম্মান যদি না দেখানো হয়ে থাকে তাহলে তো বলতে হয়, শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে খুবই দুর্বল। সেজন্যই তার কথা শোনা হচ্ছে না। কিন্তু আমরা তো এও দেখছি যে, প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শেখ হাসিনার ক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে। সরকারের কর্মবিধি বা রুলস অব বিজনেস সংশোধন করা হয়েছে যাতে নাকি তিনি তাঁর ইচ্ছামতো উপদেষ্টা নিয়োগ করতে পারেন। ইতোমধ্যেই তিনি মন্ত্রী মর্যাদায় কয়েকজন সাবেক আমলাকে উপদেষ্টা পদে নিয়োগ দিয়েছেন যাঁদের মধ্যে বিতর্কিত ও দুর্নীতির অভিযোগযুক্ত ব্যক্তিরাও আছেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সচিবালয়ে গিয়ে যেসব কথা বলেছিলেন তাতে আমরা যৎকিঞ্চিত আশান্বিত হয়েছিলাম যে, এবার তিনি বোধহয় প্রশাসন পরিচালনায় পরিচ্ছন্নতা আনবেন। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা স্বস্তিতে জীবনযাপন করবেন। তা হলো না। বরঞ্চ তিনি বিদ্যুৎগতিতে আশাবাদীদের মাথায় হাত রাখতে বাধ্য করলেন।
একই সঙ্গে আরো দুটো বিষয় ঘটলো। একটি হলো, ২০০৮ সালের মাঝামাঝি শেখ হাসিনা অন্তরীণ অবস্হা থেকে নির্বাহী আদেশে মুক্তি পাওয়ার পর থেকেই শোনা যাচ্ছিল, সচিবালয় থেকে শুরু করে উপজেলা পর্যন্ত প্রশাসনের সর্বস্তরে রটিয়ে দেয়া হয়েছে যে, আওয়ামী লীগ সংসদ নির্বাচনে যোগ দেবে, জরুরি অবস্হা উঠুক বা না উঠুক এবং এ দলটি যাতে ক্ষমতায় আসে তা নিশ্চিত করা হবে। সরকারি কর্মচারীরা যেন এটা বুঝে কাজকর্ম করেন। সে সময় যারা এসব গুজবে কান দেয়নি, যাদের মধ্যে আমি একজন, তারাও এখন ভাবছেন যে সে কথাটা ঠিকই ছিল। দেখা যাচ্ছে যেসব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী সেই মোতাবেক কাজকর্ম করেছে তারা এখন পুরস্কৃত হচ্ছে আর যারা তা করেনি তারা শাস্তি পাচ্ছে। এর ফলে প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা-কর্মচারী তথা সরকারের স্হায়ী চাকুরেদের দলীয় ঝান্ডা নিয়ে চলতেই হবে। বাংলাদেশের এই ব্যাধি যে সারল না তা ভালোভাবেই বোঝা গেল।
অপর বিষয়টি হলো, দুর্নীতির বিষবৃক্ষ আরো কিছু ডালপালা বিস্তার করল। তা এ কারণে যে, দলীয় আনুগত্য দেখিয়ে বা পছন্দের দলের সঙ্গে ষড়যন্ত্র করে যারা এখন ভালো ভালো পদ দখল করল, তারা তো জানে যে পাঁচ বছর পর যদি পটপরিবর্তন হয়, তাহলে তাদেরকেও প্রশাসনিক বা ক্ষমতার ময়দানের পাশে রক্ষিত ডাষ্টবিনে নিক্ষেপ করা হবে, তাই তারা সময় থাকতে আখের গুছাবে। অর্থাৎ, তারা সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজেদের ধনদৌলত বাড়াবে। প্রশাসনে এখন যা হচ্ছে তাতে আমরা দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির সুচকে আরেকটি উল্লম্ফন দেখার জন্য তৈরি হতে পারি।
কেন যে শেখ হাসিনা অতীতের চেনা পথে হাঁটছেন.

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

