অনুসন্ধান:
cannot see bangla? সাধারণ প্রশ্ন উত্তর বাংলা লেখা শিখুন আপনার সমস্যা জানান ব্লগ ব্যাবহারের শর্তাবলী transparency report

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই

জনপ্রিয় মন্তব্যসমূহ

আমার প্রিয় পোস্ট

আরমান

বিডিআর বিদ্রোহ, ভারতের পুনর্জন্ম এবং একটি বই

০৯ ই মার্চ, ২০০৯ রাত ৮:০৪ |

শেয়ারঃ
0 0

গোলাপ মুনীর
২৫-২৬ ফেব্রুয়ারি ২০০৯-এ ঢাকার বিডিআর সদর দফতরে ঘটে গেল এক মহা ট্র্যাজেডি। এ ট্র্যাজেডির মাত্রা ও পরিধি সম্পর্কে ইতোমধ্যেই গণমাধ্যম সূত্রে দেশবাসী অনেক কিছু জেনেছে। অতএব এর বর্ণনায় কালক্ষেপণের সুযোগ আমাদের হাতে নেই। এখন সময় সেই সব প্রশ্নের সমাধান খোঁজা, যা এ ঘটনা সূত্রে আজ সবার মনে জন্ম নিয়েছে। এসব প্রশ্নের সমাধান পেতে হলে প্রয়োজন ঘটনার গভীর বিশ্লেষণ। বিশ্লেষিত হওয়া প্রয়োজন অন্য অনুষঙ্গগুলোও। একসূত্রে গাঁথা নানা ঘটনাও।
আমরা সবাই বলছি, নিছক কিছু দাবিদাওয়া আদায়ের নামে এ বিদ্রোহ সংঘটিত হয়নি। এর পেছনে নিহিত রয়েছে গভীর ষড়যন্ত্র। সরকারি দল এ ঘটনাকে সরকারবিরোধী এক ষড়যন্ত্র বলে বিষয়টিকে বৃত্তাবদ্ধ করার চেষ্টা করলেও গোটা জাতি কিন্তু একে রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র হিসেবেই ভাবছে। তাদের ভাবনায়, এ ষড়যন্ত্র আমাদের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও সামরিক বাহিনীকে দুর্বল করে জাতীয় অস্তিত্ব বিপন্ন করে দেয়ার এক ষড়যন্ত্র। জাতি মনে করে, এ ষড়যন্ত্রে হাত রয়েছে বিদেশীদেরও। শুধু সরকারি দল এর দায় বিরোধী দল বিএনপি ও জামায়াতের ওপর চাপাতে চাইলেও বাকি সব দল এতে ভিন্ন মত পোষণ করে। দশদলীয় বাম গণতান্ত্রিক জোটের কেন্দ্রীয় বৈঠকে এ ঘটনাকে আমাদের নিরাপত্তাবিনাশী এক ষড়যন্ত্র হিসেবে বর্ণনা করেছে এবং এর সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করে এ জোট তদন্তে এফবিআই’র মতো অন্যান্য বিদেশী গোয়েন্দা সংস্খার সংশ্লিষ্টতার বিরোধিতাও করেছে। সেই সাথে সরকারকে ভারত-মার্কিন নীলনকশা সম্পর্কে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে। পরামর্শ দিয়েছে দেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষারও। এ জোট ভারতের গণমাধ্যমে কাল্পনিক ও প্ররোচনামূলক খবরেরও প্রতিবাদ জানিয়েছে।
বাম গণতান্ত্রিক জোটের অনুধাবনের সাথে দ্বিমত প্রকাশের কি কোনো অবকাশ কারো আছে? এ ষড়যন্ত্র যে বাংলাদেশের সেনাবাহিনী ও বিডিআরকে ধ্বংস করে দিয়ে বাংলাদেশের নিরাপত্তা বিনাশ করার ষড়যন্ত্র, কে তা অস্বীকার করে? এভাবে বাংলাদেশকে দুর্বল করে একদিন অস্তিত্বহীন করে দেয়ার ষড়যন্ত্রই যে এটি, তা অস্বীকারের কি কোনো উপায় আছে? দেশী-বিদেশী বিভিন্ন মহলের তৎপরতা, ইন্ডিয়া ডকট্রিন, গুজরাল ডকট্রিন, অখণ্ড ভারততত্ত্ব তথা বিশাল ভারততত্ত্ব, ভারতের পুনর্জন্মতত্ত্ব ইত্যাদি বিবেচনায় আনলে এ ষড়যন্ত্রের সূত্র আর অস্পষ্ট থাকে না। এসব বিষয়ে যাওয়ার আগে সাম্প্রতিক কিছু ঘটনার উল্লেখ প্রয়োজন মনে করছি।
গত ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে আমাদের জাতীয় দৈনিকে খবর বেরিয়েছে বঙ্গসেনারা কলকাতায় পশ্চিমবঙ্গ-কেন্দ্রিক একটি প্রবাসী বঙ্গভূমি সরকার গঠনের প্রকাশ্য ঘোষণা দিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের নদিয়ার কুপার্স ক্যাম্পে বঙ্গসেনারা তাদের কেন্দ্রীয় কার্যালয় উদ্বোধন করেছে। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে þেöাগান ছিল­ বঙ্গভূমির দখল চাই। এই কেন্দ্রীয় কার্যালয় উদ্বোধনের খবর কলকাতার দৈনিক আজ বিকেল-এর ৩ ফেব্রুয়ারি সংখ্যায় প্রথম পাতায় ছাপা হয়। নবগঠিত বঙ্গসেনাদের বক্তব্য হচ্ছে­ ১৯৭১ সালের বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশে থাকতে না পেরে আড়াই কোটি হিন্দু ভারতে চলে গেছে। ওই হিন্দুদের স্খায়ী বসবাস ছিল বাংলাদেশের বৃহত্তর বরিশাল, ফরিদপুর, খুলনা, যশোর, পটুয়াখালী ও কুষ্টিয়া জেলায়। এ জেলাগুলো ভেঙে এখন আরো ১৩টি জেলা হয়েছে। এই ১৯টি জেলা নিয়ে গঠিত প্রবাসী বঙ্গভূমির রাষ্ট্রপতি হয়েছেন শিশির কুমার সরকার। সরকারের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন পাঞ্জাব বিশ্বাস। তারা রাষ্ট্রসঙ্ঘের ‘ডিক্লারেশন অব হিউম্যান রাইটস’-এর ৫০ ধারা অনুযায়ী আলাদা রাষ্ট্র গঠনের এ লড়াই শুরু করেছেন বলেও জানিয়েছেন। তারা ইতোমধ্যেই বঙ্গভূমির সংবিধানও রচনা করেছেন। এ সবই খোলাখুলিভাবে হচ্ছে ভারত সরকারের নাকের ডগায়। এ খবর আমাদের দেশের পত্রপত্রিকায় ছাপা হলেও ভারতে বাংলাদেশবিরোধী চলমান এসব তৎপরতার বিরুদ্ধে কোনো প্রতিবাদ আমাদের সরকার জানিয়েছে বলেও শোনা যায়নি। এ ধরনের তৎপরতা যে বাংলাদেশের নিরাপত্তা ও অস্তিত্বের প্রতি হুমকি­ তা অস্বীকার করার কোনো সুযোগ কি আছে?
এদিকে গত ১ ফেব্রুয়ারি ‘কলকাতা কনফারেন্স ২০০৯’ নামে কলকাতার সুভাষ ইনস্টিটিউটে বাংলাদেশের হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্যপরিষদের একটি অঙ্গসংগঠনের চতুর্থ বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়ে গেল। সম্মেলনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল বাংলাদেশে তৈরি কিছু তথ্যচিত্র। এ তথ্যচিত্রের ধারা বিবরণীতে সুস্পষ্টভাবে আমাদের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে বক্তব্য রয়েছে। এ ধারা বিবরণীতে বলা হয়, বাংলাদেশে সংঘটিত সব নির্যাতন-নিপীড়নের জন্য দায়ী হচ্ছে বর্বর রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম, সেনাবাহিনী ও এর গোয়েন্দা সংস্খা। ইসলাম ও সেনাবাহিনীকে উৎখাত করতে না পারলে এ সঙ্কটের সমাধান হবে না। এ ব্যাপারে ভারতসহ সব আন্তর্জাতিক শক্তির সহযোগতিা চাওয়া হয়।
স্বাধীনতা ও ভূখণ্ডগত সংহতির প্রতি হুমকি সৃষ্টি করার মতো নানা তৎপরতা দেশের ভেতরে ও বাইরে চলছে দীর্ঘদিন ধরেই। এসব তৎপরতা বাংলাদেশের যেকোনো মানুষকে উদ্বিগ্ন করে। ১৯৯১ সালের ২৯ ডিসেম্বর ঢাকার একটি রেস্তোরাঁয় সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয় ‘উপমহাদেশ পুনরুজ্জীবন আন্দোলন’-এর ব্যানারে। সেখানে অখণ্ড উপমহাদেশ পুনর্গঠনের ব্যাপারে আন্দোলন গড়ে তোলার কথা বলা হয়। এর দুই দিন পর একই গোষ্ঠীর ৩১ ডিসেম্বরে আয়োজিত এক সভায় বক্তব্য রাখেন ভারত থেকে আসা কংগ্রেসের এক পণ্ডিত। তিনি সেখানে ১৯৪৭ সালে ভারত বিভক্ত করার জন্য একমাত্র মোহাম্মদ আলি জিন্নাহকে দায়ী করেন। এরপর সাপ্তাহিক বিচিন্তা-য় একীভূত উপমহাদেশ গড়ার সামাজিক ও রাজনৈতিক আন্দোলন গড়ে তোলার বিষয় নিয়ে একটি প্রচ্ছদ প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়। উপমহাদেশ পুনরুজ্জীবন আন্দোলনের এক নেতা বলেন, ইউনাইটেড ইন্ডিয়া গড়ে তোলার প্রত্যাশা আজ নতুন নয়, এর সূচনা ১৯৪৭ সালে। এখানে উল্লেখ প্রয়োজন, তখন ‘অসাম্প্রদায়িক উপমহাদেশের ইশতেহার’ নামে একটি ইশতেহারও প্রকাশ করা হয়।
এ দিকে দক্ষিণ এশিয়া পতনের মুখে­ এই আভাস দিয়ে সম্প্রতি একটি নিবìধ প্রকাশ করেছে ব্রিটেনের টাইমস সাময়িকী। পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কায় উ?ভূত সাম্প্রতিক পরিস্খিতি পর্যবেক্ষণ করে ব্রিটেনের টাইমস অনলাইনে ‘ওয়ার্ল্ড অ্যাজেন্ডা : ইজ সাউথ এশিয়া ফলিং অ্যাপার্ট?’ শীর্ষক এক নিবìেধ ভারতের প্রতিবেশী এই তিনটি রাষ্ট্র তাদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে পারবে কি না, তা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। বলা হয়­ পাঞ্জাবে দাঙ্গা, বাংলাদেশে সামরিক বিদ্রোহ, শ্রীলঙ্কায় পত্রিকার সম্পাদকের গ্রেফতার­ এসব কিসের আলামত? দক্ষিণ এশিয়া কি পতনের মুখে? এক-তৃতীয়াংশ জনগোষ্ঠীর বাস যে দক্ষিণ এশিয়ায়, সেটাকে কি তাহলে অস্খিতিশীলতা গ্রাস করতে চাচ্ছে? নিবìেধ এসব প্রশ্ন তুলেছে টাইমস পত্রিকা। কিন্তু এর সাথে আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নও এখানে আসে­ এসবের সাথে অখণ্ড ভারত গড়ার সুপ্ত বাসনার কি কোনো গোপন যোগসূত্র রয়েছে? বাংলাদেশে বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনাও কি একই সূত্রে গাঁথা?
একটু আগেই উল্লেখ করা হয়েছে, উপমহাদেশ পুনরুজ্জীবন আন্দোলনের এক নেতা উল্লেখ করেছেন­ ইউনাইটেড ইন্ডিয়া গড়ে তোলার প্রত্যাশা নতুন নয়, এর সূচনা ১৯৪৭ সালে। তিনি মিথ্যে বলেননি। ১৯৪৭ সালে ভারত ভাগের পরক্ষণেই কংগ্রেস সভাপতি আচার্য কৃপানলি বলেছিলেন : 'Neither the Congress nor the nation has given up its claim of United India' কংগ্রেস কিংবা জাতি অখণ্ড ভারতের দাবি পরিত্যাগ করেনি।
তখনকার ভারতের প্রথম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সরদার বল্লভ ভাই প্যাটেল বলেছিলেন : 'Sooner than later, we shall again be united in common allegiance to our nation'ল্যাবি কলিন্স ও ডমিনিক লেপিয়ার লেখা বই মাউন্ট ব্যাটেন অ্যান্ড দ্য পার্টিশন অব ইন্ডিয়া-য় বলা হয়েছে, স্বাধীন বাংলার তখনকার দাবিতে হিন্দু মহাসভার আপত্তি সমর্থন করেছিলেন পণ্ডিত জওয়াহের লাল নেহরু। এ প্রসঙ্গে তার ধারণাসহ মাউন্ট ব্যাটেনে উল্লেখ করেন : Pundit Neheru has stated that he would not agree to Bengal being independent... In his opinion, East Bengal was likely to be a great embarrassment to Pakistan. Preasumably, Pundit Neheru considered East Bengal was bound sooner or later to rejoin India.' প্রশ্ন হচ্ছে যে অখণ্ড ভারত গড়ার প্রত্যয় ১৯৪৭ সালে ভারত বিভাগ-উত্তর পর্বে কংগ্রেস নেতারা ঘোষণা করেছিলেন, সেই নেতাদের দল কংগ্রেস আজ ভারতের রাষ্ট্রক্ষমতায়। আজকের কংগ্রেস নেতারা কি তাদের পূর্বসূরিদের ঘোষিত প্রত্যয়দীপ্ত অখণ্ড ভারত গড়ার স্বপ্নসাধ ভুলে গেছেন? তারা যে তা ভুলে যাননি, তার হাজারো জায়মান প্রমাণ আজ আমাদের সামনে সুস্পষ্ট। আজকের ইন্ডিয়া ডকট্রিন, গুজরাল ডকট্রিন তো তারই পরম্পরা।
ইন্ডিয়া ডকট্রিনের সারকথা হচ্ছে­ দক্ষিণ এশিয়া হচ্ছে একটা স্ট্র্যাটেজিক ইউনিট, যা নিয়ন্ত্রিত হবে ভারতের চাওয়া-পাওয়া অনুযায়ী। আর ভারত যৌক্তিক কারণেই এর জাতীয় স্বার্থের সাথে সামঞ্জস্য রেখে এ অঞ্চলের জন্য একটি আঞ্চলিক নীতি প্রণয়নের অধিকার রাখে। আমরা শুনছি গুজরাল ডকট্রিনের কথাও­ ভারত তার স্বার্থের প্রতি আঘাত সৃষ্টিকারী যেকোনো দেশের ওপর আক্রমণ চালানোর অধিকারও রাখে। এসব বিষয় ভারতের প্রতি প্রতিবেশী দেশগুলোর আস্খার পারদমাত্রার পতন ঘটাবে নিশ্চিতভাবে। আর বাংলাদেশের প্রশ্নটি তো একেবারেই আলাদা। কারণ, ভারতের খোলাখুলি অভিযোগ, বাংলাদেশ একটি অকৃতজ্ঞ রাষ্ট্র। এমন প্রেক্ষাপটে বিডিআর বিদ্রোহের পর ভারত থেকে বিডিআরকে অর্থসহায়তা দেয়া কিংবা বাংলাদেশে শান্তিরক্ষী পাঠানোর প্রস্তাব যখন আসে, তখন ভারতের প্রতি আমাদের সন্দেহের মাত্রা আরো অনেক গুণ বাড়ে। জাগে নানা প্রশ্ন।
সম্প্রতি একটি বই হাতে পেলাম। বইটির নাম Pakistan to Burma : Re-Birth of India, এর লেখক একজন ভারতীয়। লেখকের নাম ড. অরবিন্দ দয়াল। এটি একটি ইংরেজি উপন্যাস। এর প্রেক্ষাপট ২০১৫ খ্রিষ্টাব্দ। অর্থাৎ সে সময়ে কী ঘটবে না ঘটবে তা তার কল্পনায় তিনি সাজিয়েছেন। সেখানে একজন বিখ্যাত ভারতীয় সাংবাদিক তার সর্বশেষ নানা অ্যাসাইনমেন্ট রিপোর্ট করেন ইয়াংগুন থেকে, যেখানে ভারতীয় সামরিক বাহিনী মিয়ানমারের সামরিক জান্তাকে তাড়িয়ে দিয়ে বার্মা দখলের সফলতার বর্ণনা আছে। তার নানা ডেসপাচে ও ডায়েরিতে উপস্খাপিত অনাগত সে সময়ের আধুনিক ভারতকে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও মিয়ানমারসহ একীভূত এক বিশাল ভারতকে এক ‘ওয়ার্ল্ড ক্লাস’ রাষ্ট্র হিসেবে দেখানো হয়েছে। যে ভারতের দখলে এসেছে চারটি নতুন ভারতীয় রাজ্য : উত্তর-পশ্চিম ভারতীয় সিìধু রাজ্য, বেলুচিস্তান, সিমাস্তান (সাবেক পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশ) এবং পুনরেকীভূত পাঞ্জাব। বইটিতে ধৃষ্টতাপূর্ণভাবে দেখানো হয়েছে বাংলাদেশকে পশ্চিমবাংলার সাথে মিশিয়ে অখণ্ড বাংলা তথা অখণ্ড ভারতের সাথে একীভূত করার প্রস্তাব করার কথাও রয়েছে।
ভারতীয় নেতাদের অখণ্ড বিশাল ভারত গড়ার স্বপ্নপূরণকে এক ‘ফিউচার পারফেক্ট’ হিসেবে উপস্খাপন করেছেন এ লেখক। এ ধরনের বই বাংলাদেশের বাজারেও ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও মিয়ানমারকে অস্তিত্বহীন করে সেই অখণ্ড ভারত সৃষ্টির জন্য আমাদেরকে মানসিকভাবে প্রস্তুত করার মানসে কি না, জানি না। জানি না, এ ধরনের বই সম্পর্কে সরকারের যথাযথ কর্তৃপক্ষ অবহিত আছেন কি না? যা হোক, নয়াদিল্লির মানাস পাবলিকেশন্স থেকে প্রকাশিত এই বইটির প্রলগ থেকে এ উপন্যাসের সাংবাদিক নায়কের মাই ওয়ার ডায়েরি অংশ থেকে অংশবিশেষ তুলে ধরছি এ লেখকের ধৃষ্টতার মাত্রা সঠিকভাবে পাঠকদের অনুধাবনের সুযোগ করে দেয়ার জন্য।
'My War Diary, Yangoon (Rangoon), Myanmar (Burma), 6th June, 2005. Today India, that is Vishal Bharat, attains it historic destiny. The Indian tricolour was hoisted over Yangoon... And I was there to witness it. The General Commandant of the Eastern Command of Indian Army hoisted the tricolour. Present also were other senior Indian Army and Naval Commanders, who had specially flown from fortress from Andaman and from Dhaka. An honour guard of Indian sailors presented arms while a battalion battle weary soldiers ringed off the area around Government House, where the ceremony was held. American, British and Russian diplomats witnessed the occasion. India stretches now from the western borders of Thailand right up to the eastern borders of Iran and to the southern borders of Afghanistan. From the Indus to the Irrawady, along with Myanmar, it includes a country crafted by the departing colonial British, called India and another country called Pakistan, the latter having never lived up to this name, the 'land of pure', Pakistan has ceased to exist on more than a decade ago. The area it occupied consists today of the four new Indian states of Sindh, Baluchistan, Seemastan (formerly NWFP), and the reunited Panjab.উপন্যাসটিতে বহু ঘটনার বর্ণনা রয়েছে যা উল্লেখ করার মতো নয়। এতে আমাদের নেতা নেত্রীদের চরিত্র হননও করা হয়েছে।
এই বইটি যখন পড়ছিলাম, তখনই বাংলাদেশে ঘটল বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনা। তখন মনে হচ্ছিল এ ঘটনার সাথে কি ভারতের এই পুনর্জন্মের পরিকল্পনাটির কোনো যোগসূত্র আছে? ভারতের পুনর্জন্মের কথা শুধু উল্লিখিত বইয়ের লেখক অরবিন্দ দয়াল নন, আরো অনেকেই বলেছেন এবং বলে চলেছেন। দু-তিনটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের অস্তিত্বের বিলোপ করে ভারতের পুনর্জন্মের যে স্বপ্ন, তা এক মহাষড়যন্ত্রেরই নামান্তর

 

বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 


মন্তব্য দেখা না গেলে - CTRL+F5 বাট্ন চাপুন। অথবা ক্যাশ পরিষ্কার করুন। ক্যাশ পরিষ্কার করার জন্য এই লিঙ্ক গুলো দেখুন ফায়ারফক্স, ক্রোম, অপেরা, ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার

৫টি মন্তব্য

 

সকল পোস্ট     উপরে যান

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল‍্যাটফমর্। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...

 

© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি | বিজ্ঞাপন